Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৪০

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৪০

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৪০
নওরিন কবির তিশা

শ্রাবণের উন্মাদ তাল বর্ষণ আবারো বাঁধ ভেঙেছে। আকস্মিক মেঘের গর্জনে নীলিমা বিদীর্ণ করে নামল ধারাস্নান হঠাৎ প্রকৃতির এই রুদ্র রোষে কিঞ্চিৎ সচকিত হয়ে উঠলো তৃষা ওর বাদামি চোখের মণিদ্বয় একরাশ শঙ্কা নিয়ে জানলার দিকে নিবদ্ধ। ঠিক তখনই আর্যর বলিষ্ঠ বাহুদ্বয় তৃষার মেদহীন কোমরখানা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। আকস্মিক এই নৈকট্যে তৃষার হৃৎপিণ্ডটা বক্ষপঞ্জরে অবাধ্য অশ্বের ন্যায় চঞ্চল হয়ে উঠলো। আর্য নিজের চিবুকটা তৃষার কাঁধে রেখে নিচু স্বরে ভরাট কণ্ঠে বলল,

​-‘ ভয় পাচ্ছো তৃষা?
​তৃষা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে বলল,,
​-‘ না! তৃষা নেওয়াজ ভয় পায় না।
আর্য বাম ভ্রুটা ঈষৎ নাচিয়ে বলল,-‘ সিরিয়াসলি?
তৃষা দৃঢ় কন্ঠে প্রত্যুত্তর দিল,-‘ হ্যাঁ !
-‘ সত্যি তো?
-‘ ছাড়ুন আমাকে।
-‘ প্রশ্ন করেছি উত্তর দাও।
-‘ আপনার উত্তর দিতে বাধ্য নই আমি।
-‘ অফকোর্স বাধ্য।
-‘ দেখুন ছাড়ুন আমায়। ফলাফল ভালো হবে না কিন্তু।
-‘ উমম… আমিও চাচ্ছি না ফলাফল ভালো হোক।
তৃষা রোষর’ক্ত নয়নে চাইল আর্যর দিকে। সঙ্গে সঙ্গে আর্যর মদিরাচ্ছন্ন দৃষ্টিতে কিঞ্চিত থমকালো ও;শত সহস্র বছরের ব্যাকুলতা মিশ্রিত তৃষ্ণার্ত এক দৃষ্টি।নিমেষেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরাচর গ্রাস করল নিশ্ছিদ্র তিমির। জানলার ওপাশে প্রলয়নাচনে মত্ত সৌদামিনীর তীব্র বিচ্ছুরণে পলকের তরে কক্ষটি আলোকিত হলেও পরক্ষণেই ঘুটঘুটে আঁধারে ডুবল চারপাশ।
ঠিক সেই মুহূর্তে এক কর্ণবিদারী বজ্রপাতে কেঁপে উঠল ধরণী। তৃষা ভয়ে শিউরে উঠে আর্যর প্রশস্ত বক্ষস্থলে মুখ লুকাল। আর্যর মৃদু হেসে তৃষার কাঁপতে থাকা তন্বী দেহখানি দুই বাহুর দুর্ভেদ্য আবেষ্টনীতে পিষ্ট করে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সত্তায় মিশিয়ে নিল। অতঃপর খানিক কৌতুকের স্বরে বলল,,

-‘ একটু আগে কে যেন বলছিল সে ভয় পায় না? নাকি আমিই ভুল শুনেছি?
তৃষার কর্ণকুহরে আর্যর পরিহাস মিশ্রিত কণ্ঠস্বরটা পৌঁছাতেই ওর তপ্ত ললাট আর্যর বক্ষপঞ্জর থেকে বিদ্যুৎবেগে সরে এল। এক মুহূর্তের বিমূঢ়তা কাটিয়ে উঠে ও সজোরে আর্যর বাহুডোর ছিন্ন করার প্রয়াস চালিয়ে বললো,,
-‘ আমি ভয় পাই না,এটা জাস্ট রিফ্লেক্স অ্যাকশন ছিল। আপনি কেন এখানে যেই থাকত আমি হয়তো তাকেই জড়িয়ে ধরতাম।
-‘ পারতে না।
আর্যর সরাসরি জবাবে তৃষা কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকে তাকালো,-‘ মানে?
আর্য এবার প্রসারিত হাসলো খানিক;আশেপাশের দৃষ্টি বুলিয়ে পরক্ষণেই তৃষার দিকে চাইলো, তৃষা তখনো আগ্রহী দৃষ্টি মেলে চেয়ে আছে ওর দিকে।ও ধীর লয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলল,,
-‘ ইউ্য নো তৃষা। মানুষ বিপদে পড়লে সেখানেই আশ্রয় নেয় যেখানে সে নিরাপত্তা খুঁজে পায়।
তৃষা কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে আর্যর চোখের দিকে চেয়ে রইল। কথাটার গভীরত্ব ওর অন্তরাত্মাকে স্পর্শ করলেও, মেকি গাম্ভীর্য বজায় রেখে ও মুখ ঘুরিয়ে নিল। ওষ্ঠাধরে এক চিলতে তাচ্ছিল্য ফুটিয়ে বলল,
-‘ আপনার এই ফিলোসফিক্যাল কথাগুলো দয়া করে নিজের কাছেই রাখুন ক্যাপ্টেন। আপনার নিরাপত্তা কিংবা আশ্রয় কোনোটারই প্রয়োজন আমার নেই। আর দয়া করে নিজের ওপর এত আত্মবিশ্বাস রাখবেন না যে, আমি শুধু আপনার কাছেই নিরাপদ বোধ করি।
আর্য তৃষাকে সামান্য দূরত্ব নিয়ে ওর দুই পাশে হাত রেখে ওকে দেয়ালের সাথে একপ্রকার বন্দি করে ফেলল। নিবিড় অন্ধকারেও আর্যর চোখের সেই তীব্র মদিরতা তৃষার শ্বাসপ্রশ্বাসকে ওলটপালট করে দিচ্ছিল। আর্য বড্ড নিচু স্বরে বলল,

-‘ আত্মবিশ্বাস নয় তৃষা, এটা অধিকার। তুমি মুখে যতই অস্বীকার করো না কেন, তোমার এই চঞ্চল হৃৎপিণ্ডটা কিন্তু অন্য কথাই বলছে। শুনবো নাকি ওটা কী বলছে?
তৃষার হৃদযন্ত্রের ধুকপুকানি মাত্রা ছাড়িয়েছে বহু পূর্বেই ও আর্তস্বরে বলল,
-‘ আপনি… আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন! সরুন বলছি!
আর্য সরার বদলে আরও ইঞ্চিখানেক ঝুঁকে এল তৃষার দিকে। ওর উষ্ণ নিশ্বাস এখন তৃষার ললাটে বিচরণ করছে। তৃষা ভয়ে আর আবেশে চোখ দুটো শক্ত করে বুজল। আর্যর বলিষ্ঠ অবয়ব যখন ওকে পুরোপুরি গ্রাস করে নিতে উদ্যত, তখনই থরথরিয়ে কম্পিত হলো তৃষার তন্বী দেহখানী ।
ও রুদ্ধ কণ্ঠে কিছু বলার আগেই আচমকা আর্য নিচু হয়ে তৃষার গ্রীবায়, ঠিক বিউটি বোর্নের ওপর নিজের তপ্ত ওষ্ঠাধর চেপে ধরল। সেই স্পর্শে ছিল না কোনো তৃষ্ণা, কোনো অধিকারত্ব। বরং এক নমনীয় প্রণয়ের চিহ্ন স্বরুপ ও নিজের অস্তিত্বের এক স্থায়ী মোহর অঙ্কিত করে দিল তৃষার শুভ্র ত্বকে। এক মুহূর্তের সেই তীব্র স্পর্শে তৃষার মুখ দিয়ে অস্ফুট এক আর্তনাদ বেরিয়ে এল, ওর আঙুলগুলো আর্যর শার্টের হাতা সজোরে আঁকড়ে ধরল।

কিন্তু ওর বিস্ময়ের সীমা চুড়ান্তে পৌঁছে পরক্ষণেই আর্য নিজেকে এক ঝটকায় সরিয়ে নিয়ে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। তৃষা তখনও সেই স্পর্শের ঘোরে আচ্ছন্ন, ওর বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে; ও ভেবেছিল আর্য হয়তো আজ সমস্ত দূরত্ব ঘুচিয়ে দেবে। ওর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক আদায় করবে স্বামীর অধিকার; নিবারণ করবে পুরুষত্বের তৃষ্ণা। আর্য অন্ধকারের মাঝেই তৃষার বিভ্রান্ত মুখশ্রীর দিকে চেয়ে এক চিলতে ম্লান হাসল। ভরাট কণ্ঠে বললো,,
-‘ অবাক হচ্ছো? আমি সেই স্তরের কাপুরুষ নই যে যে তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমার সাথে কিছু করব। শরীরের অধিকার পাওয়াটা বড্ড সহজ, কিন্তু আমি তোমার ওই পাথরের মতো শক্ত মনটার পূর্ণ আত্মসমর্পণ চাই।যেদিন তুমি পুরোপুরি আমাকে মেনে নিতে পারবে সেদিনই আমি তোমাকে চাইবো।তোমাকে আপন করে নিব–নিবিড়ভাবে। তার আগে নয়, নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।
বলেই কক্ষ ত্যাগ করলো আর্য। ওর ‌প্রস্থান পথের দিকে চেয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো তৃষা; চক্ষু কার্নিশ বেয়ে টুপটাপ গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোঁটা অশ্রুকণা,
-‘ কতো নীতি কথা শুনিয়ে গেলেন আমায় ক্যাপ্টেন। অথচ আপনি জানলেনই না এই বিচ্ছেদ আমাকে ঠিক কতটা পোড়াচ্ছ;ক্ষণে ক্ষণে কতটা ‌গভীরভাবে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

দীর্ঘ রজনীর ভারী বর্ষণের সমাপ্তি ঘটিয়ে নবপ্রভাতের আগমনে আলোকিত ধরিত্রী। এক অপার্থিব মৌনতায় মগ্ন ‌ প্রকৃতি ‌‌কদম পাতায় পাতায় জমে থাকা অবাধ্য বৃষ্টির অবশিষ্টাংশ টুপটাপ ঝরে পড়ছে ভিজে ঘাসের ওপর। মাটির সোঁদা গন্ধে ভারী হয়ে আছে গ্রামের নিস্তরঙ্গ বাতাস।
প্রাতঃরাশ সেরেছে কিছুক্ষণ আগে সবাই। বর্তমান সকলে মগ্ন গল্পগুজব আর আলাপচারিতায়। উঠোনের শিউলি তলায় আসর জমেছে বেশ। বাড়ির সকলে উপস্থিত সেখানে তবে অপরিচিতদের মধ্যে রয়েছে তৃষা বাড়ির পার্শ্ববর্তী ওর এক চাচার দুই মেয়ে। ইফরার জোরাজুরিতে শেষমেষ কক্ষ ছেড়ে বেরোলো তৃষা। বলা বাহুল্য টুইংকেলকেও কিঞ্চিত মিস করছিল সে কারণেই বের হওয়া।
সবে সিঁড়িতে এক পা রেখেছে কি রাখেনি হঠাৎ ওর দৃষ্টিগোচর হলো এক অপ্রীতিকর দৃশ্য। আর্যর ঠিক পাশ ঘেঁষে বসেছে ওই উটকো মেয়ে দুটো। বিশেষত ওদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ মেয়েটা নিছক গল্পের ছলে আর্যর বাহুর খুব কাছে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে চাইছে। তৃষার মেজাজ মুহূর্তেই সপ্তম চড়ল রাগে রি রি করে উঠল সর্বাঙ্গ। ও আর এক মুহূর্ত স্থির রইল না ওইখান থেকেই হাঁক ছাড়ল,,

-‘ ক্যাপ্টেন!
আকস্মিক তৃষার এমন সম্বোধনে আর্য কৌতূহলী দৃষ্টিতে তৃষার দিকে চাইলো। উপস্থিত সকলের ‌উৎসুক দৃষ্টিও নিবদ্ধ হলো ওর দিকেই; তবে তার তোয়াক্কা না করে তৃষা ফের বলল,
-‘ উপরে আসুন একবার আপনার ফোনে কেউ কল দিচ্ছে।
আর্য কিঞ্চিত ভ্রু কুঁচকে বলতেই যাচ্ছিল যে ফোন তো তার কাছেই। অথচ ওকে মাঝ রাস্তাতেই থামিয়ে দিয়ে তৃষা ফের বলল,,
-‘ ইমার্জেন্সি কল।
আর একটাও বাক্যব্যয় না করে ও গটগট পদক্ষেপে এগিয়ে গেল কক্ষের দিকে। আর্যর তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক তৃষার কথার প্রচ্ছন্ন অর্থ বুঝলো হয়তো। ও তৎক্ষণাৎ উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে সালাম জানিয়ে তৃষার পিছু পিছু গেলো।

কক্ষে এসেই কিঞ্চিৎ শব্দ করে কপাট লাগালো আর্য। তৃষা এসেই অবস্থান নিয়েছে জানলার ধারে।কক্ষে কারো উপস্থিতি অনুভূত হতেই তৃষা ক্ষিপ্ত মেজাজে পিছন ফিরল।ওর বুকের ওঠানামা আর রক্তিম কপোলদ্বয় আর্যর পৌরুষকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিচ্ছিল। তৃষা দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-‘ খুব এনজয় করছিলেন না মিস্টার ক্যাপ্টেন? সুন্দর সুন্দর ডানা কাটা পরীদের সঙ্গে বসে ছিলেন।আহারে! আমিই ব্যাঘাত ঘটালাম। ইস কষ্ট হচ্ছে না খুব? সুন্দরী সুন্দরী কিছু বেহায়াদের কাছ থেকে উঠে আসা লাগছে।
আর্য কোনো উত্তর না দিয়ে হাতদুটো পকেটে গুঁজে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তৃষা এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে এসে হাত নেড়ে বলতে শুরু করল,
-‘ সবাই খুব ভালো, না? যত নীতি-কথা আর আদর্শ তো শুধু আমার বেলাতেই খাটে! ‘তোমার পারমিশন ছাড়া তোমাকে ছোঁব না’, ‘আমি সেই স্তরের কাপুরুষ নই’ হুহ! কি নীতিবান রে শুদ্ধ পুরুষ আমার! আর বাইরের মেয়েদের বেলায়? অমন গায়েপড়ে গল্প করার সময় আপনার সেই সো-কল্ড আদর্শবোধ কোথায় যায়? আপনি কি ভুলে গেছেন ইউ আর আ ম্যারিড ম্যান?
আর্য তখনও নির্বাক; ঠোঁট চেপে মিটি মিটি হাসছে ও তৃষার এমন ঈর্ষান্বিত রূপ বেশ উপভোগ্য ঠেকছে ওর কাছে। এদিকে ওর এমন নিস্তব্ধতায় রাগের পারদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে তৃষার। ও একপ্রকার চেঁচিয়ে উঠলো,,

-‘ কি হলো কথা বলছেন না কেন?
আর্য এবার এক ধাপ এগিয়ে এলো ওর দিকে, তবে তৃষা নিজ অবস্থান থেকে অনড় এক চুলও নড়লো না ও।আর্য ঠিক তৃষার ঈষৎ বাদামি রঙা চক্ষু মনিদ্বয় বরাবর মদিরাচ্ছন্ন দৃষ্টি বিদ্ধ করে বলল,
-‘ অ্যাকচুয়ালি, আই অ্যাম এনজয়িং দিস ভিউ। তৃষা নেওয়াজকে এইভাবে পুড়তে দেখাটা যে কতটা স্যাটিসফাইং, তা হয়তো তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। সো, টেল মি মাই ডিয়ার ওয়াইফ… আর ইউ জ্যেলাস?
তৃষা মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় রুদ্ধশ্বাসে বলল,
-‘ জ্যেলাস? মাই ফুট! আমি কেন জ্যেলাস হতে যাব? আমি শুধু আপনার ইরেসপন্সিবল বিহেভিয়ার নিয়ে কথা বলছি।
আর্য এবার আরো খানিক এগিয়ে এলো,
-‘ ডোন্ট লাই টু মি, তৃষা।
এদিকে ওর এমন সান্নিধ্যে মুহূর্তেই সমস্ত রাগ ফুস করে মিলিয়ে গেলো তৃষার। এক অজানা কারণে দু কদম পিছালো ও,

-‘ দ-দ দেখুন!
আর্য বাঁকা হাসি মেলে বলল,,
-‘ হুম দেখছিই তো। আই থিঙ্ক আমার চোখে ইদানিং সমস্যা হয়েছে এজন্য ভালোভাবে দেখার জন্য তোমার কাছাকাছি যাচ্ছি। কিন্তু তুমি পিছাচ্ছো কেন?
-‘ দূরে সরুন, দূরে সরুন বলছি!
আর্য এগোতে লাগলো ওর দিকে; এদিকে পিছনেও আর কয়েক ইঞ্চি বাকি তারপরেই মস্ত দেয়াল। নড়বার জায়গাটুকু নেই। স্বভাবতই কিঞ্চিৎ ভয় পেলো তৃষা তবে মুখে তার লেশমাত্র বুঝতে দিলো না। এদিকে আর্য ওর দিকে এগোতেই আছে,তৃষা অস্থির চিত্তে সেখান থেকে পালাতে ব্যাকুল। অথচ আর্য যেন আজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তৃষাকে ও শেষ করেই ছাড়বে নিজের ইশারায়।
তৃষা ভয়ার্ত ভঙ্গিতে চোখ খিঁচে বলল,,
-‘ সরুন আমার কাছ থেকে। নাহলে, নাহলে খবর করে দিব কিন্তু আপনার।
আর্য ওষ্ঠাধর কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল,, -‘ কি খবর করবেন ম্যাডাম? খবর তো অলরেডি আপনার হয়ে যাচ্ছে,মনে হচ্ছে। তাই না ‘জানপাখিই’।
আর্যর মুখ থেকে শেষ শব্দটা বড্ড দীর্ঘায়িত হয়ে বেরিয়ে এল, তৃষার মনে হলো ওর শিরদাঁড়া বেয়ে এক তীব্র শিহরণের স্রোত বয়ে গেল। ওর অন্তরাত্মায় তখন প্লাবন বইছে, সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে চাইছে। ও মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই আর্য নিজের বাম হাতটাও অন্যপাশে দেওয়ালে রাখল। এখন তৃষা পুরোপুরি আর্যর বলিষ্ঠ বাহুডোরে বন্দি। আর্য বাঁকা হেসে শুধাল,

-‘ কী হলো? সামান্য একটা সম্বোধনেই এতটা থমকে গেলে? অথচ সেই তুমি চাও আমি তোমার কাছাকাছি আসি। সো, আর ইউ্য রেডি মাই লাভ?
তৃষা এবার জেদ ধরল। ও-ও হার মানার পাত্রী নয়। লোকটা যদি মায়ার জাল বুনতে জানে, তবে ও-ও জানে কীভাবে সেই জাল ছিন্ন করতে হয়। তৃষা হঠাৎ আর্যর চোখে চোখ রাখল। অতঃপর আর্যর কলারটা টেনে ধরে ওর মুখের খুব কাছাকাছি নিজের মুখটা নিয়ে গেল। আর্যর চোখের মণি বিস্ময়ে কিঞ্চিৎ সংকুচিত হতেই তৃষা বাঁকা হেসে বলল,,
-‘ আর আপনাকে পুরোপুরি শেষ করে দিতে আমার সামান্যতম বাক্য ব্যয় হবে না মিস্টার তুচ্ছ একটা ইশারাই যথেষ্ট।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৩৯

বলেই আর্যর শার্টের কলারটা আর সামান্য মুঠোয় টেনে নিয়ে তৃষা সশব্দে একটি চুম্বনপ্রস্তাবের ইশারা করল । তৃষার এমন অতর্কিত দুঃসাহসী আঁচড়ে আর্যর পুরুষালি দম্ভ মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল; ও প্রস্তরীভূত হয়ে স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রইল বিমূঢ়ের ন্যায়। তৃষা ওর বলিষ্ঠ বাহুর ওপর আলতো করে নিজের কোমল হাতের স্পর্শ বুলিয়ে এক অপার্থিব দাহ সৃষ্টি করে বীরদর্পে কক্ষ ত্যাগ করল। আর্য শুধু দেখল, ওর ‘বোকা মানবী’ আজ শিকারি সেজে বড্ড নিপুণভাবে তাকে পরাস্ত করে গেল।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৪১

4 COMMENTS

Comments are closed.