Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৬

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৬

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৬
নওরিন কবির তিশা

—-‘নো পাপা, আমি বানি‌ আর তুমি দুজনের সাথেই ঘুমাতে চাই। প্লিজ পাপা প্লিজ…
নিস্তব্ধ রজনী ঘুমন্ত চারিধার।দ্যুলোকে একফালি চন্দ্রের আধিপত্য তবে কালচে মেঘের দস্যিপনায় তার উজ্জ্বল রোশনি বসুধায় আদৌ পৌঁছাচ্ছে কিনা বোঝা দায়। সবাই যখন তন্দ্রায় আভাসে প্রস্তুতি নিচ্ছে কিংবা গভীর নিদ্রায় মগ্ন হয়েছে ঠিক তখনই নিদ্রা পূর্ববর্তী টুইংকেল এর এমন অস্বস্তিকর আবদারে ‌আর্যর কপালে বিরক্তির ভাঁজ গভীরতর হলো।
এক ঝলক তৃষার দিকে তাকালো সে।তৃষার দীর্ঘ পল্লবগুলো এক সুপ্ত কম্পন। অস্বস্তিতে হাত পা কম্পিত হচ্ছে বারংবার। নিস্তব্ধ ঘরে ঘড়ির কাঁটার শব্দটাও এই মুহূর্তে তার কানে হাতুড়ির মতো বিঁধছে। অন্যদিকে ‌আর্যর বিরক্তিটা কেবল টুইংকেলের আবদারে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার অস্বস্তিটা ছিল আরও গভীর, আরও মনস্তাত্ত্বিক। তৃষার এই থরথর কম্পন আর কুঁকড়ে যাওয়া ভঙ্গিটা তার পৌরুষে কোথাও গিয়ে এক অদৃশ্য আঘাত হানছিল।
সে চাইছিলো রুম থেকেই বেরিয়ে যেতে শুধুমাত্র টুইংকালের অনবরত কান্নার ব্ল্যাকমেলিংয়ের আশঙ্কায় সে নিচু স্বরে বলল,,

—‘মাম্মাম, জেদ করো না। বানি নিশ্চয়ই অনেক টায়ার্ড। ওনি নিজের রুমে গিয়ে ঘুমাবে। আর পাপা তো আছেই তোমার পাশে।
টুইংকেল এবার তার ডাগর ডাগর নীলাভ আঁখিজোড়া পানিতে টইটুম্বুর করে চিৎকার করে উঠল,
—‘নো পাপা! আমি বানি আর তুমি দুজনের সাথেই ঘুমাতে চাই। প্লিজ পাপা প্লিজ… বানি না থাকলে আমার ভয় লাগে। আর তুমি তো পাপা, তুমি পাশে না থাকলে আমি ঘুমাতেই পারি না!
তৃষা দরজার একপাশে অস্বস্তি জনিত শঙ্কায় গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার অবস্থা তখন বাংলা ঐ প্রবাদ টার মত‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। সে কাঁপা গলায় বলল,,
—‘কিউটি পাই, আমি তো তোমার পাশের রুমেই আছি। ভয় কিসের? দরজা খোলাই থাকবে।
টুইংকেল এবার বিছানায় পা দাপিয়ে কান্না শুরু করল,,

—‘তোমরা দুজনেই পচা! কেউ আমায় ভালোবাসো না। বানি।
পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যেতে দেখে আর্য এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তার ভেতরের নেভি অফিসার সত্তাটি যেন পাঁচ বছরের এক পুতুলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো। সে বিছানা থেকে নেমে তৃষার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আর্যর উচ্চতা আর বলিষ্ঠ শরীরের ছায়ায় তৃষার ক্ষীণ কায়া যেন আরও ক্ষুদ্র হয়ে গেল।
আর্য ধীরলয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,,
—‘লুক তৃষা, আমি জানি এটা আপনার জন্য সুপার অকওয়ার্ড। আমার জন্যও তাই। কিন্তু এই ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল থেকে বাঁচার আর কোনো পথ আমি দেখছি না। ও একবার জেদ ধরলে সারারাত কাঁদবে। আপনি কি… আই মিন, জাস্ট ও ঘুমানো পর্যন্ত এখানে বসতে পারেন?
তৃষা মাথা নিচু করেই উত্তর দিল,,

—‘ইটস ওকে। ওর ঘুমের অভ্যেসটা আসলে আমার সাথেই হয়ে গিয়েছে। আপনি কিছু মনে না করলে আমি বরং সোফাটায় বসি?
—‘না, আপনি বেডেই বসুন। আমি ওপাশে আছি। জাস্ট মাঝখানে ও থাকবে। দ্যাটস ইট।
অগত্যা, সুখনীড়ের সেই বিশাল কিং সাইজ বেডে শুরু হলো এক অদ্ভুত সহাবস্থান। মাঝখানে টুইংকেল, ডানে আর্য আর বামে তৃষা। ঘরের নীলচে নাইট ল্যাম্পের আলোয় এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির শব্দে বাইরের পৃথিবীটা যেন আলাদা হয়ে গিয়েছে।
টুইংকেল দুজনের হাত এক জায়গায় এনে নিজের পেটের ওপর চেপে ধরল। তৃষা অনুভব করল আর্যর তপ্ত হাতটা তার হাতের ঠিক নিচেই। সে দ্রুত হাত সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু টুইংকেল ছাড়ল না।টুইংকেলের আবদার আজ যেন থামছেই না ও ঘুমাতে ঘুমাতেই ফের বলল,,

—‘পাপা, তুমি বানিকে একটা স্টোরি শোনাও তো!
আর্য খানিকটা ম্লান হেসে বলল,,
—‘পাপা তো শিপের গল্প জানে মাম্মাম।
টুইংকেল কিছুটা ভ্রু গুটিয়ে কি জানি ভাবলো অতঃপর তৃষার দিকে তাকিয়ে বলল,,—‘তাহলে বানি তুমি…
তার কথা বুঝে কথাটা শেষ করার আগেই তৃষাটাকে থামিয়েই বলল,—‘ওকে সুইটহার্ট। বাট তোমাকেও প্রমিস করতে হবে স্টোরি শোনার পরপরই তুমি ঘুমিয়ে পড়বে।
টুইংকেল কিছুটা চঞ্চল কণ্ঠে জবাব দিল,,—‘তোমরা এত বিজি কেন বলতো। আমি কি বলছি আমি তোমার কাছে স্টোরি শুনবো।
তৃষা রীতিমতো অবাকের চূড়ান্তে,,—‘তাহলে কি সুইট ক্যান্ডি?
টুইংকেল এবার তৃষার গলার কাছে ঝুলে পড়ে আদুরে গলায় আবদার করল,,

—‘বানি, তুমি বরং একটা গান গাও! পাপা তোমার গান শুনবে, আর আমিও ঘুমে দেব। প্লিইইজ বানি!
তৃষার বুকটা ধক করে উঠল। গান? এই পরিস্থিতিতে! পাশেই আর্য, যার উপস্থিতিতেই তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে আমতা আমতা করে বলল,,
—‘কিউটি পাই, এখন গান গাওয়ার সময় নয় তো। পাপা রাগ করবেন। আর আমার গলাও আজ খুব একটা ভালো নেই…
কিন্তু টুইংকেল ছাড়ার পাত্রী নয়। সে এবার চোখের কোণে জল জমিয়ে ফেলল,,

—‘কেউ আমার কথা শোনে না! পাপা তুমিও না, বানিও না। জাস্ট একটা গান… আমি না শুনলে একদম ঘুমাবো না!
তৃষা দেখল পরিস্থিতি সামলানো দায়। আর্যর দিকে একবার আড়চোখে চেয়ে দেখল সে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন এই জগতের কোনো কিছুর সাথেই তার সম্পর্ক নেই। তৃষা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। সে জানে, এই মুহূর্তে না গাইলে টুইংকেলকে শান্ত করা অসম্ভব।
—‘ঠিক আছে কিউটি পাই, কাঁদছো কেন? আমি গাইছি। কিন্তু কথা দাও, গান শেষ হলেই চোখ বন্ধ করবে?
টুইংকেল খুশিতে গদগদ হয়ে মাথা নাড়ল। মুহূর্ত কিছু অতিক্রান্ত হতেই তৃষা টুইংকেলের তুলতুলে শরীরে হাত বোলাতে বোলাতে হঠাৎ গুনগুন করে গাইতে শুরু করল এক শান্ত লোরি।

🎶চান্দা হ্যায় তু, মেরা সুরাজ হ্যায় তু…..
ও মেরি আঁখো কা তারা হ্যায় তু…..
জিতে হ্যায় ইস আশারে পে হাম…..
মেরে আন্ধেরো কা উজলা হ্যায় তু….🎶
তার কণ্ঠের সেই স্নিগ্ধ সুর যেন আর্যর ক্লান্তি মাখানো স্নায়ুগুলোকে আলতো করে মালিশ করে দিতে লাগল। আর্য আড়চোখে তৃষার দিকে তাকাল। জানালার পর্দা ভেদ করে আসা চাঁদের ম্লান আলো তৃষার মুখে পড়ে তাকে জান্নাতি হুরের ন্যায় সৌন্দর্যময়ী করে তুলেছে।
মিনিট দশেকের মধ্যে টুইংকেল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। তার শান্ত শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দে ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কিন্তু আর্য আর তৃষার চোখের পাতা এক হওয়া তো দূরের কথা, তাদের হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি যেন নীরবতার মাঝেও প্রতিধ্বনি তুলছে।
আর্য সন্তর্পণে ওঠার চেষ্টা করতেই তৃষা ফিসফিস করে বলল,,

—‘এখন উঠবেন না প্লিজ। ও হাত ধরে আছে। নড়াচড়া করলে আবার জেগে যাবে।
তৃষার কথা আর্য মেয়ের আদুরে মুখের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে বসে রইল। তার হাতটা এখনো টুইংকেলের পেটের ওপর, আর তার বলিষ্ঠ আঙুলগুলোর ঠিক পাশেই তৃষার নরম তুলতুলে আঙুলগুলো। যেন সামান্য সঞ্চালনেই জেগে যাবে ছোট্ট টুইংকেল।

নিস্তব্ধ রজনীর সেই মেঘমেদুর অন্ধকার কেটে গিয়ে প্রভাতের এক চিলতে স্নিগ্ধ সূর্য রশ্মি সুখনীড়ের বাতায়ন দিয়ে উঁকি মারছে, কাল রাতের একটানা ভারী বর্ষণে বাহিরের প্রকৃতি এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ধৌত হয়েছে। রাতের সেই আড়ষ্টতা আর অস্বস্তির কুয়াশা ভোরের কচি রৌদ্রে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
তৃষা যখন ঘুম থেকে উঠেছিলো, টুইংকেল তখনও আর্যর একখানা বলিষ্ঠ হাত আঁকড়িয়ে গভীর নিদ্রায় মগ্ন ছিলো। আর আর্যর নিমীলিত নেত্রপল্লবে সদ্য পতিত ভোরের আলো পড়ে এক অপার্থিব গাম্ভীর্য তৈরি করছিল। তৃষা অতি সন্তর্পণে, ধীরে ধীরে নেমেছিল বিছানা ছেড়ে।

বর্তমান রৌদ্রালোকিত সুখ নীড় মুখর কিছু পরিচিত মুখের উপস্থিতিতে তাদের কলতানে। হামিদা বেগমরা এসেছেন। তবে সাবরিনা মৃত্তিকার সঙ্গে আজ উপস্থিত এক অচেনা মুখ। আদ্রিয়ান এহসান। হামিদা বেগমের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং আর্যর বড় ভাই। পেশায় তিনি একজন প্রথিতযশা সার্জন। আর্য আর তৃষার বিয়ের সময় এক অতি জরুরি হার্ট সার্জারির কেস হাতে থাকায় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন; শত ইচ্ছা থাকলেও সেই শুভক্ষণে উপস্থিত হতে পারেননি। আজ তার আগমনে ঘরের আবহাওয়া যেন এক স্নিগ্ধ আভিজাত্যে ভরে উঠেছে।
আদ্রিয়ানের চশমার কাঁচের আড়ালে থাকা চোখ দুটিতে বুদ্ধিমত্তার দীপ্তি আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক চিলতে অমায়িক হাসি তার ব্যক্তিত্বকে অনন্য করে তুলেছে।তবে ‌আদ্রিয়ান একদম ঠিক আর্যর বিপরীত—চোখেমুখে দুষ্টুমি আর ঠোঁটে এক চিলতে অমায়িক হাসি। সে ড্রয়িংরুমের সোফায় আয়েশ করে বসে চা পান করছিল। তৃষাকে দেখেই সে একগাল হেসে উঠে দাঁড়াল।আদ্রিয়ান মডার্ন স্টাইলে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,,

—‘ওয়াও! সো ইউ আর দ্য মোস্ট টকড-অফ পারসন ইন দিস হাউজ! হাই ভাবি, আমি আদ্রিয়ান। আপনার দুর্ভাগ্যের অংশীদার আর কি, আই মিন—এই গম্ভীর বড় ভাইয়ের ছোট ভাই!
হামিদা বেগম আদ্রিয়ানের পিঠে এক মৃদু চড় মেরে বললেন,
—‘আহ্ আদ্র! একদম ইয়ার্কি নয়। মেয়েটা এমনিতেই নতুন সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ওকে আর অস্বস্তিতে ফেলিস না।
সাবরিনা আর মৃত্তিকা তৃষার হাত ধরে নিজেদের মাঝখানে বসিয়ে নিল। সাবরিনা উৎসুক কণ্ঠে বলল,,
—‘জানো ভাবি, আদ্র ভাইয়া কিন্তু পুরাই আর্য ভাইয়ের বিপরীত। কিছুক্ষণ থাকুক ফিল করতে পারবা।
মৃত্তিকা হেসে যোগ করল,,
—‘একদম! আর্য ভাইয়ার সেই হিমালয় সদৃশ গাম্ভীর্য যদি কেউ ভাঙতে পারে, তবে সেটা এই ডক্টর আদ্রিয়ান।
ঠিক সেই মুহূর্তে আর্য ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করল। তার পরনে নেভি ব্লু টি-শার্ট আর ট্রাউজার। আদ্রিয়ানকে দেখেই আর্যর ভ্রু জোড়া কিঞ্চিৎ কুঁচকে গেল, তবে চোখের কোণে এক চিলতে স্নেহের আভাস পাওয়া গেল।আদ্রিয়ান আর্যর দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলল,,

—‘কংগ্রাচুলেশনস বড় ভাই!বিয়ের শুভেচ্ছা আপনাকে।
আর্যর কপালে বিরক্তির রেখা ফুটে উঠল। সে তৃষার দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়ে আদ্রিয়ানকে ধমক দিয়ে বলল,,
—‘ডক্টর, তুমি না কি খুব বিজি ছিলে?
আদ্রিয়ান হো হো করে হেসে উঠল। সে তৃষার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,,
—‘দেখলেন তো ভাবি? এই ডাইনোসরটার সাথে সার্ভাইভ করা কিন্তু টাফ। তবে ডোন্ট ওয়ারি, আই অ্যাম অলওয়েজ অন ইওর টিম!
তৃষা মৃদু হাসল, তবে তার মনে পড়ে গেল কাল রাতের সেই তপ্ত অনুভূতির কথা। বাইরের রোদ ঝলমলে সকালটা যেন আজ এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই সিঁড়ি দিয়ে দুমদুম শব্দ করে নিচে নেমে এল টুইংকেল। ঘুম থেকে উঠে তার আলুথালু চুল আর ফোলা ফোলা গাল দেখে মনে হচ্ছে এক দলা সাদা তুলো এগিয়ে আসছে। ড্রয়িংরুমে অচেনা কিন্তু চেনা চেনা চেহারার আদ্রিয়ানকে দেখেই সে থমকে দাঁড়াল।
আদ্রিয়ান দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,,

—‘ওরে বাবা! এটা কে? এ তো দেখছি নীল সাগরের এক ছোট্ট জলপরী! কই দেখি, আমার ফেইরিটা কার কাছে আসবে?
টুইংকেল প্রথমে একটু লজ্জা পেলেও আদ্রিয়ানের অমায়িক হাসি দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে দৌড়ে গিয়ে আদ্রিয়ানের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আদ্রিয়ান তাকে শূন্যে তুলে ঘুরিয়ে তার তুলতুলে চোয়ালে এক লম্বা চুমু খেল।
টুইংকেল খিলখিল করে হেসে উঠে বলল, —‘পাপা দেখো, চাচু এসেছে! তুমি কেন আসোনি যখন বানি এসেছিলো?
আদ্রিয়ান ওকে সোফায় বসিয়ে নিজের চশমাটা টুইংকেলের নাকে পরিয়ে দিয়ে বলল,

—‘আরে মাম্মাম, আমি তো গিয়েছিলাম পরীদের দেশ থেকে তোমার জন্য জাদুর চকলেট আনতে। এই দেখো!
বলেই পকেট থেকে একটা বড় ডেইরি মিল্ক বের করল সে। টুইংকেলের চোখ দুটো চকচক করে উঠল। সে চকলেটের দিকে হাত বাড়িয়ে আবার আর্যর দিকে তাকালে আদ্রিয়ান ফিসফিস করে বলল,
—‘ভয় নেই, আজ পাপার পারমিশন লাগবে না। আজ এখানে শুধুই চাচু আর তার ফেইরির রাজত্ব!
টুইংকেল চকলেটে কামড় দিয়ে তৃষার দিকে তাকিয়ে আদ্রিয়ানকে বলল,
—‘চাচু, জানো বানি না খুব সুন্দর গান গায়। কাল রাতে পাপা আর বানি দুজনে মিলে আমায় ঘুম পাড়িয়েছে। তুমি তো ঘুমাওনি, তুমি কেন গান শোনোনি?
টুইংকেলের এই সরল স্বীকারোক্তিতে ড্রয়িংরুমে এক মুহূর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে এল। আর্য অস্বস্তিতে পড়ে চায়ের কাপে মনোযোগ দিল, আর তৃষার ফর্সা গাল দুটো মুহূর্তেই র”ক্ত বর্ণ ধারণ করলো।আদ্রিয়ান তৃষার দিকে একঝলক তাকিয়ে আর্যকে একটা টিপ্পনী কেটে বলল,,

—‘তাই নাকি? বাহ্! বড় ভাই তো দেখছি বেশ রোমান্টিক হয়ে উঠেছেন। নেভি অফিসাররা কি এখন গান শুনে ঘুমায় নাকি?
টুইংকেল আদ্রিয়ানের কলার টেনে ধরে গম্ভীর মুখে বলল,,
—‘তুমি পাপাকে বকা দিচ্ছ কেন চাচু? পাপা কিন্তু কাল অনেক ভালো ছিল। ও আমাকে আর বানিকে একদম জড়িয়ে ধরে বসে ছিল!
আর্য এবার আর সইতে না পেরে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,,

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৫

—‘আদ্র, ওকে বেশি মাথায় তুলিস না। মাম্মাম, চলো ফ্রেশ হবে চলো।
আদ্রিয়ান হাসতে হাসতে টুইংকেলকে কোলে নিয়ে বলল,,
—‘না পাপা, আজ ও আমার সাথে ব্রেকফাস্ট করবে। আর ভাবি, আপনার গানের গলা কিন্তু একদিন আমাকেও শোনাতে হবে, নয়তো আমি টুইংকেলের টিম থেকে আপনার টিমে ট্রান্সফার হতে পারছি না!

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৭