ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৫
শানজানা আলম
ব্রেকফাস্ট টেবিলে এহসানের ভাবী ওর মা কে বলল, মা এহসান কিছু বলেছে?
এহসানের মা বললেন, ওরে জোরাজোরি কইরো না, একটা ধাক্কা খাইসে, একটু সামলায়ে নিক!
নীলার কথা কিছু বলে নি?
না, বিয়ে করতে চায় না এখানে!
তাইলে? কোথায় করবে- এহসানের বড় ভাই জানতে চাইল।
এহসানের মা বললেন, করবে সময় নিক।
এহসানের বড় ভাই বলল,
ভালো মেয়ে তো পাইতে হবে, একবার ডিভোর্স হইছে, পরের বার তো রিস্ক নেওয়া যাবে না! কেন যেন মনে কামড় দিতেছে, এহসান আপনাকে কিছু বলসে! কি বলসে আম্মা?
এহসানের আম্মা বললেন, বলসে ঐশির বোন অথৈকে বিয়ে করতে চায়।
আপনি কি বলসেন?
আমি বলসি, এইটা হবে না। অন্য কিছু ভাবতে।
ভালো করছেন, ওর জিদ চাপছে, আর কিছু না। অথৈ এর সাথে হয় বলেন তো আম্মা? মানুষ কি বলবে, আমার তো সমাজ আত্মীয় স্বজন আছে, নাকি!
এহসানের মা কিছু বললেন না।
আম্মা আপনি বলে দিয়েন, এইসব করলে আমাদের পাশে পাবে না- এহসানের ভাবী বলল।
এহসানের মা বললেন, ও তো এখানে আসে না, কারোটা খায়ও না, পরেও না, ওকে ছেড়ে দাও তোমরা, প্রেশার দিও না। নিজে নিজে থাকুক কিছুদিন। যখন বলবে মেয়ে দেখতে, দেইখো।
থার্সডে মিড নাইটে সুবহানা ঐশিকে নিয়ে এলো ব্লু লেগুন ক্লাবে। ঐশি ঝলমলে ডিজাইনার গাউনে সেজে এসেছে। তাকে দেখে নায়েব পাশা এগিয়ে এলো – হেইই….গর্জিয়াস
সুবাহানা ঐশিকে পেছন দিয়ে হালকা ধাক্কা দিলো, যা না! নায়েব এসে ঐশির হাত ধরে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেল। আস্তে আস্তে ভীড়ে মিলিয়ে গেল ঐশিকে নিয়ে৷ তবে ড্যান্স ফ্লোরে গেল না৷ পার্টির পাশেই একটা রুম, সম্ভবত মিটিং রুম, চারটা চেয়ার আর টেবিল দেওয়া।
বসো এখানে-
ঐশি বলল, এখানে কেন?
একটু উই টাইম পাস করি! মেকিং দ্য মোমেন্ট স্পেশাল! লিসেন, আমি জানি তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে, ইনফ্যাক্ট নাসির আমারও একসময়ের বন্ধু, এখন বিজনেস ইস্যুতে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে!
তো এজন্য কি তুমি আমি ভালো বন্ধু হতে পারি না!
ঐশি হেসে বলল, এত খোঁজ নিয়েছেন?
নিতেই হয়, এত লাইভলি, গর্জিয়াস প্রিটি লেডি, কার আঙিনা আলোকিত করছে, জানতে ইচ্ছে করতেই পারে, তাই না!
ঐশি পুরো ফুুলে ফেঁপে ব্লাস করতে লাগল!
নায়েব পাশা এমনি গল্প করল টুকটাক, কি করছে, ফিউচার প্ল্যানিং কি, বিজনেসে কতদূর এগুলো এসব নিয়ে কথা বলে ঐশিকে স্বাভাবিক করে তুললো।
বুঝেছেন, মিস, ভালো না, পার্টনার প্রয়োজন লাইফে!
যার সাথে সব শেয়ার করা যাবে। তোমাকে আমার তেমন মনে হয়েছে, নাসির ইজ সো লাকি! এজন্যই তোমাকে প্রিন্সেস করে রেখেছে, যাতে আর কেউ তোমাকে নিতে না পারে!
ঐশি কথায় কথায় জানতে চাইল, তোমার ওয়াইফ?
নায়েব পাশা বলল, বিয়ে করিনি।
ঐশি ড্রিংকে একটা চুমুক দিয়ে বলল, করতে চাও? নাকি পার্টনার খুঁজে বেড়াবে?
বিয়ে বিষয়টা পারিবারিক, একটা শান্ত ছিমছাম মেয়ে ঘরে থাকবে। কিন্তু বাইরের লাইফটা আলাদা
ঐশি একটু ভেবে বলল, আমার কাছে একটা মেয়ে আছে!
মেয়ে! আই মিন ঘটকালি করো নাকি?
ঐশি বলল, নাহ, ওয়েট, ছবি দেখাচ্ছি৷
ঐশি আর অথৈ এর একটা ছবি দেখালো। দুজনেই হলুদ শাড়ি পরে আছে, বসন্ত উৎসবে তুলেছিল। ঐশি ঝকঝকে, অথৈ শ্যামলা শান্ত স্নিগ্ধ। চেহারায় মিল আছে।
কে এই মেয়ে? তোমার কাজিন?
না, আমার বোন, অথৈ! মাস্টার্স শেষ করেছে! বাড়িতেই আছে। কিন্তু ও আমার মত নয়, ঘরে থাকতে পছন্দ করে, রান্না বান্না, গোছগাছ ওর পছন্দের কাজ। ও খুব ভালো বউ হবে আই থিংক!
কিন্তু আমি তোমাকে এমনিই দেখালাম। তোমার যে সোসাইটি বা যে ক্লাশ বিলং করো, আমার ফ্যামিলি এত হাই ক্লাশ না আর কি! ওরা একদমই সাধারণ!
তুমি তাহলে সাধারনের মধ্যে এত অসাধারণ হলে কি করে! নাসিরের কাছে পৌছালে কিভাবে?
ঐশি হেসে বলল, সবই ভাগ্য, আমি সিম্পল লাইফটা চাই না, সামনে এগিয়ে যেতে চাই! এই লাইফটা আমার পছন্দ, মাই লাইফ, মাই রুলস!
নায়েব পাশা বলল, তোমার বোনের ডিটেল আমাকে দিতে পারো। আমি আমার ফ্যামিলিতে দিই। কারন বিয়েটা আমি পারিবারিক ভাবেই করতে চাই। নিজের পছন্দে না।
সত্যি তুমি ইন্টারেস্টেড?
অভিয়াসলি! ইউ বোথ আর সো কিউট! তোমার বোন ঢাকায় আসে না?
নাহ, খুব কম, দুয়েকবার এসেছে আমার কাছেই।
ঐশি ছবিগুলো আর অথৈ এর বায়োডাটা নায়েবপাশার হোয়াটসঅ্যাপে সেন্ড করে দিলো।
পার্টি শেষে ঐশিকে ড্রপ করে দিলো নায়েব পাশা।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৪
বিল্ডিংয়ের সামনে এসে নায়েব পাশা বলল, তো, সময়টা ভালো কাটল, তুমি আমাকে বন্ধু হিসেবে একসেপ্ট করেছ, বিষয়টা আমার ভালো লেগেছে, না হলে বোনের কথা বলতে না, কথা হবে বেবি! সেই পর্যন্ত বাইই!!
ঐশি দেখল রাত আড়াইটা বাজে, বাসায় তো ফোন করা যাবে না৷ কাল সকালেই বলবে, অথৈকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতে, ওকে একটু ঝকঝকে তৈরি করে ফেলতে হবে, কিছু শপিংও করতে হবে। মন্ত্রীর ছেলে, সত্যিই যদি অথৈ এর সাথে বিয়েটা হয়, অথৈয়ের লাইফও সেটল হয়ে যাবে। নিজের ভালো পাগলেও বোঝে, অথৈ বুঝলে হয়!
