ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৪
শানজানা আলম
ঐশি বেশ কিছুদিন নাসিরের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখে নি। তার মনে হচ্ছিল বিষয়টা নাসিরকে জানানো প্রয়োজন। তবে পুরোপুরি ভরসা সে করতে পারছিল না। আবার নাসিরের আগে নায়েব পাশাকে জানানো ঠিক হবে না বলে মনে হচ্ছে।
ঐশি অনেক দ্বিধা কাটিয়ে নাসিরকে ফোন করল।
নাসির ফোন রিসিভ করল না। বেশ কিছুক্ষণ পরে নাসির ফোন ব্যাক করল।
কি খবর সুইটি- কেমন আছ?
ঐশি বলল, ভালো। তোমার কি খবর?
নাসির বলল,আমার খবর বেশ ভালো। কাল টার্কি যাচ্ছি। ওখান থেকে ইউকে হয়ে ফিরব। বেশ কিছুদিনের ট্যুর। তুমি কবে ফিরবে?
আচ্ছা। আমার একটা কথা বলার ছিল।
হ্যা বলো।
আমি সাইকেল মিস করেছি, চেক করে দেখলাম, ইটস পজেটিভ!
নাসির হালকা ভাবে বলল, ইটস নাথিং সিরিয়াস বেবি! তুমি ফিরে এসে নক করো, আমি ব্যবস্থা করে রাখতে বলব!
ব্যবস্থা মানে?
ব্যবস্থা মানে তোমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে? তুমি একটা ডিভোর্সি মেয়ে, এই সময়ে প্রেগন্যান্ট হলে, মানুষ কি বলবে! এনিওয়ে, এটা কোনো ইস্যুই না।
ঐশি যা বোঝার বুঝে গেল।
নাসির বাচ্চাটা তোমার!
নাসির বলল, হোয়াটএভার! আমি সব সময় তোমাকে কনশাচ থাকতে বলেছি, তুমি তোমার গাফেলতির জন্য এই সমস্যায় পড়েছ! লাইফে ফান করবে না মানুষ, সব সময় পেট বাঁধিয়ে বসে থাকবে!
ঐশির ভীষণ নোংরা লাগল নাসিরের কথা গুলো।
নাসির বলল, তোমাকে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। ঢাকায় ফিরে এসো, সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
নাসির, আমি যদি বাচ্চাটা রাখতে চাই?
নাসির বলল,সেটা সম্ভব না। কোনো আনওয়ান্টেড ঝামেলার রেসপনসেবলিটি আমি নিব না৷ কাম অন ঐশি, তুমি চমৎকার স্মার্ট একটা মেয়ে, এখন এসব কি বলছ তুমি!
সিম্পলি বিষয়টা ইগনোর করো। জাস্ট হাফ এন আওয়ারের মামলা। এখনো নিশ্চয়ই দেরী হয়ে যায় নি!
ঝামেলা বাড়িও না।
ঐশি বলল, দেন ওকে, রাখছি।
নাসির বলল, থ্যাংকস, তুমি ন্যাকা ন্যাকা কোনো এটিচুড করো নি, এটলিস্ট! শোনো, লাইফটা অনেক বড়, এরকম দুয়েকটা এক্সিডেন্ট হবে, সেটা নিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। আমি ঘুরে আসি, তুমি এই ফাঁকে এবর্শন করিয়ে ফেলো। ফিরে এসে তোমাকে নিয়ে মরিশাস ঘুরে আসব। এখন রাখছি, বাইই!
ঐশি ফোন রাখল। কান্না পাচ্ছে না। চোখ থেকে এমনিই অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। এত সহজে তো সে হেরে যাবে না।
দেখা যাক, কি হয়! নায়েব পাশাকে ঢাকায় ফিরে ফোন করবে। আপাতত অথৈ আর এহসান ঘুরে যাক।
একজন ডাক্তারের সাথে অনলাইনে এপয়েনমেন্ট
নিয়ে নিলো ঐশি। তাকে কয়েকটা দিন শক্ত থাকতে হবে। তারপরে যা হয় দেখা যাবে।
এহসানের ভাইয়া ভাবী, বাচ্চারা, মা সহ সবাইকে নিয়ে বাড়িতে এসে পৌছেছে এহসান।
সারাদিন লেগেছে, পথে জ্যাম ছিল৷ অথৈ এমনিতে ভালোই ছিল। বাড়িতে আসার পর থেকে কেমন যেন মাথা ঘোরাচ্ছে। খিদে ছিল না, পথে হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে খাওয়া হয়েছে। তবু বাড়িতে আয়োজন তো হয়েছে। অথৈ খেতে পারল না কিছুই। ক্লান্তিতে অবসন্ন লাগছিল। এরকম আগে কখনো হয় নি।
এই বারের বাড়ি আসা নিয়ে এহসান খুবই আগ্রহী ছিল, বিশেষ করে পরিবারের সবার সাথে অথৈ এর আলাপ হবে এজন্য। অথৈ সেরকম কথা বলতে পারল না কারো সাথে।
ওর অস্বস্তি দেখে এহসানের ভাবী আড়ালে ডেকে জানতে চাইলেন, কি হয়েছে? কোনো সমস্যা?
অথৈ বলল, বুঝতে পারছি না ভাবী, এরকম আগে কখনো হয় নি। খুব ক্লান্ত লাগছে। মনে হচ্ছে পুরো শরীর ব্যাথা হয়ে আছে৷ আর গ্যাস ফর্ম করেছে মনে হয়, বমি বমি লাগছে।
তেমন কিছু তো খেলেও না।
না, খিদে ছিল না।
অথৈ, আমি এহসানকে বলে একটা কিট আনিয়ে সকালে টেস্ট করে দেখো তো।
অথৈ চমকে উঠল। এরকম কিছু সে এক্সপেক্ট করে নি তবে হওয়াই তো স্বাভাবিক! এহসানকে কিভাবে বলবে সে! একটু লজ্জা তো লাগছেই।
অসুস্থতার পাশাপাশি একটা অদ্ভুত ভালো লাগা তৈরি হলো।
এহসানকে ভাবী ঘরে পাঠিয়ে দিলেন।
এহসান এসে বলল, কি ব্যপার অথৈ, এখানে এসে বসে আছ, ভাবী আমাকে পাঠালেন।
অথৈ বলল, আমার ভীষণ টায়ার্ড লাগছে, বমিও আসছে। ভেবেছিলাম গ্যাস ফর্ম করেছে।ভাবী বললেন, একটা কিট এনে টেস্ট করাতে।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬৩
এহসান বলল,এসিডিটি চেক করার কিট পাওয়া যায় নাকি, জানতাম না তো, আগে বললে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা যেত, আচ্ছা দেখছি!
অথৈ হেসে ফেলল। এহসান ওর দিকে তাকিয়ে রইল, বুঝে উঠতে কিছুক্ষণ লাগল।
শিট! আমি কি আউট অফ মাইন্ড হয়ে আছি নাকি- এত সময় লাগল বুঝতে! অথৈ কে কাছে টেনে ওর কপালে চুমু খেয়ে এহসান বলল, আমি এখনি নিয়ে আসছি, চিন্তা করো না। রেস্ট নাও। ভয় নেই, সবাই আছে তোমার পাশে।
অথৈ এর একটু হালকা লাগল, নির্ভার, নিশ্চিন্ত!
