বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১৩
shanta moni
সকাল ৮:০০ বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছে। পুড়ো বাড়ি সাজানো হয়েছে। খুব সুন্দর করে নিলয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুড়ো বাড়ির ভিডিও করছে। নিলা সকাল সকাল এসে পড়ে রোদের বাসায়। উদ্দেশ্য তার রোদের রুম, নিলা ডয়িং রুম থেকে সিঁড়ি বেড়ে রোদের রুমের দিকে যাওয়া দেয়। এমন সময় হেনা বেগম সামনে পড়ে, হেনা বেগম বলে।
হেনা বেগম : নিলা তুমি একটু যাওতো দেখো রোদ কোথায়। এখনো ঘুম থেকে উঠলো না। নিলা হ্যা সুচক মাথা নেড়ে উপরের দিকে যায়। হেনা বেগম মেনে নিচ্ছেন যেখানে শুভ্র চায় না। সেখানে তাকে জোড় করে লাভ নেই। আর শুভ্র বিদেশ থেকে আসার পর থেকে তো রোদের সাথে কম বাজে ব্যাবহার করনি। এমন কি ছোটো ছোটো বিষয় গায়ে হাত তুলছে। হেনা বেগম মনে মনে বলে উঠে।
আজ যদি বড় বউমা থাকতেন তাহলে আজ রোদের বিয়ে অন্য কারো সাথে হতে দিতেন না।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন হেনা বেগম নিজের কাজে চলে যায়।
এইদিকে নিলা আসে রোদের রুমে দরজা হালকা চাপানো। রুমের ভিতর ডুকে দেখে বেড খালি। তাড়াতাড়ি বাথরুম যায়। সেখানেও নেই, বেলকনিতে দেখে তাঁরপর পুড়ো বাড়ি খুঁজে কিন্তু কোথাও কেউ নেই। নিলা হেনা বেগম জোরে জোরে ডাকতে থাকে। হেনা বেগম দৌড়ে রোদের রুমে আসে, নিলা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে।
নিলা: দা..দি রো..দ কে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমি পুড়ো বাড়ি খুঁজছি কিন্তু সে কোথাও নেই।
হেনা বেগম বেশ অবাক হয়। তাঁরপর বলে।
হেনা বেগম : কি বলছিস এই সব রোদ কোথায় যাবে। মাথা ঠিক আছে।
নিলা কেঁদে দেয়। তাঁরপর আবার বলে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নিলা: আমি সত্যি বলছি দাদি রোদকে কোথাও পাচ্ছি না।
হেনা বেগম এই বার কিছুটা ভয় পায়। রোদ তো এই শহরে সেরকম কিছু চেনে না, আর ওকে ভালো করে চিনে ও নিজে কোথাও যাবে না। হেনা বেগম দাঁড়ানো থেকে বসে পড়ে। কিচ্ছু ভাবতে পারছে না।
হেনা বেগম জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে আরাফ চৌধুরী ডাকেন। আরাফ চৌধুরী হাজির হয় রোদের রুমে। আরাফ চৌধুরী সব শুনে হতভম্ব হয়ে যায়৷
হেনা বেগম বলে: আমার রোদ কোথায় আরাফ। ওকে আমি কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। রাতে আমি নিজে রোদকে রুমে ঘুমাতে দেখে গেছি। আমার রোদ কোথায় আরাফ আমার রোদকে এনে দে।
আরাফ চৌধুরী হেনা বেগম শান্ত করে বলে।
আরাফ: মা তুমি টেনশন করো না। আমি খুঁজে বেড় করছি রোদকে। কিচ্ছু হবে না রোদের বলেই তাড়াতাড়ি রুম থেকে বেরিয়ে যায়। বাহিরের উদ্দেশ্য।
বাড়ির সবার মুখে চিন্তার ছাপ, কিন্তু নিলয় সে রকম কোনো ভাবান্তর নেই। এই সব ঘটনায়
নিলয় হেনা বেগম কাছে গিয়ে বলেন।
নিলয়: বেবি তুমি যেই ভাবে কান্না করছো মনে হচ্ছে না। এটা বিয়ে বাড়ি আরে বেবি চিল করো যার ব.. বলতে গিয়ে থেমে যায় নিলয়।
নিলা ভ্রু কুচকে তাকায় নিলয়ের দিকে। নিলা কেনো যানি মনে হচ্ছে এই হাদারামে রোদের হটাৎ উধাও হওয়ার বেপাড়ে সব জানে।
হেনা বেগম এখনো বসে বসে কাঁদে। নিলা নিলয় হাত টেনে ধরে রুম থেকে বেড় করে আনে। তাঁরপর বলে।
নিলা: এই রোদ কোথায় বলুন?
নিলয়: আমি কি জানি, কি সব বলেন।
নিলা: আপনি সব জানেন। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে, রোদের হটাৎ উধাও হওয়ার পেছনে আপনার হাত আছে।
নিলয় ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।
নিলয়: আমি এই সব বিষয়ে কিছুই জানি না খালাম্মা।
বলেই নিলার পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
এইদিকে আকাশের বাড়িতেও খবর পৌঁছে যায়। রোদকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। আকাশ সে কথা শুনে হন্তদন্ত হয়ে খুঁজছে রোদকে।
আরাফ চৌধুরী টেনশনে মাথা চেপে ধরে। কোথাও রোদকে খুঁজে পাচ্ছে না।
আর রোদের বিয়ের কয়দিন ধরে অয়ন কোনো খোঁজ নেই। কারো মাথায় কিচ্ছু ডুকছে না। একটা মানুষ রাতে নিজের রুম থেকে কিভাবে উদাও হতে পারে। সবাই যেনো চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছে৷
এই দিকে নিলয় সোফার উপরে পায়ের উপরে পা তুলে চিপস খাচ্ছে। নিলার যেনো কেনো সব কিছু গোলমাল লাগছে। এই গাঁধা কে দেখে। এই গাঁধা নিশ্চিত কিছু একটা জানে।
সকাল ১০:০০ টা
রোদ শুয়ে আছে, জানালা বেধ করে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই। নাক মুখ কুচকে ফেলে রোদ।পিটপিট করে চোখ খুলে। আসে পাশে তাকায় কিছুটা অবাক হয়। সে এখন কোথায় আছে। এটা তার রুম না। চোখের ঘুমের রেস টা এখনো কাটেনি। চোখ ডলে আবার তাকায় যখন বুঝতে পারে সে তার রুমে নেই। অন্য কোথাও ভয়ে সিঁটিয়ে যায়। দৌড়ে দরজা কাছে গিয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে। কিন্তু বাহির থেকে কোনো সারা শব্দ পাচ্ছে না।
এই দিকে নিলা রোদের রুমে হটাৎ পড়ার টেবিলে একটা কাগজ পায়। কিছু একটা লিখা আছে। লেখা গুলো পড়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় নিলার।
নিলা দৌড়ে হেনা বেগম রুমে যায়। হেনা বেগম রোদের টেনশনে বুকে ব্যাথা উঠে গেছে। সে বিছানায় শুয়ে আছে। এমন সময় নিলা দৌড়ে আসে। আর হেনা বেগম কাছে কাগজ টা দেয়। হেনা বেগম কাগজের লেখা গুলো পড়ে কিছুটা অবাক হয়। আবার তাকিয়ে আছে কাগজে লেখা গুলোর দিকে।🍁 আমার জিনিস আমি নিয়ে গেলাম দাদি। তুমি বেশি টেনশন করো না। সময় হলে চলে আসবো। হেনা বেগম শান্ত হলেও মনের ভিতর একটা ভয় হয়। না জানি কি করে
রোদ অনেকক্ষন ধরে দরজা ধাক্কায়। কিন্তু কারো সারা শব্দ পাচ্ছে না। বেডের উপর বসে মাথা নিচু করে কাঁদছে রোদ। এমন সময় দরজা খুলার আওয়াজ আসে। সামনের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অবাক হয় রোদ
ভয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে
রোদ: শুভ্র ভা…ই আ..প..নি এখানে
শুভ্র হাতে নাস্তার প্লেট নিয়ে রুমে প্রবেশ করে।
ট্রি টেবিলে উপর নাস্তা রেখে এসে রোদের সামনে দাঁড়ায়। রোদ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। শুভ্র কিচ্ছু বলছে না দেখে। রোদ রেগে উঠে দাঁড়ায়। দরজা দিকে যাওয়া দেয়। এমন সময় শুভ্র রোদের হাত টেনে ধরে নিজের সামনে দাঁড় করায়।
রোদ হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে।
রোদ: ছাড়ুন আমায় আমি বাসায় যাবো। আমাকে এখানে কেনো এনেছেন। আজকে আমার বিয়ে যেতে দিন আমায়।
শুভ্র রেগে গিয়ে নিজের সাথে রোদকে চেপে ধরে বলে।
শুভ্র: বাহ বাহ বিয়ের করার জন্য দেখি খুব লাফাচ্ছিস। আরো এতো তেজ কই থেকে আসলো হ্যা। আর বিয়ের তো দেখি রাতের ঘুম নেই।তা তোর তো বিয়ের সখ টা মেটাতে হয়।
রোদ শুভ্রকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলে।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ১২
রোদ: আপনার কি? আমার বিয়ে একটা না ১০০ টা করবো। লাফাবো না শুধু দরকার হলে নাচবো তাতে আপনার সমস্যা কি। আমাকে ছাড়ুন যেতে দিন। আমার হবু জামাই অপেক্ষা করছে।
শুভ্র যেনো রাগে পুড়ো শরীর রক্ত টগবগ করে ফুটছে।
রোদকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে গলা টিপে ধরে
তাঁরপর বলে।
শুভ্র: বাতার থাকতে অন্য বাতার কে বিয়ে করার অনেক সখ নাহ। তোকে তো আমি আজকে জানে মেরে দিব। না আর তুই থাকবি না আমাকে এই ভাবে পুড়াতে পারবি। আজকে তোর শেষ দিন।
