Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (২)

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (২)

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (২)
shanta moni

_“দুপুর পেড়িয়ে বিকেল ৪ টা কি সাড়ে ৪ টা, ড্রয়িং রুমে আরাফ চৌধুরী হেনা বেগমের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে রুহি আর রোমান। রুহি কাঁদছে আরাফ চৌধুরী কিছু বলতে যাবে এমন সময় শুভ্র দরজার সামনে থেকে বলে উঠে…!”
শুভ্র: ড্যাড রোমান রুহিকে ভালোবাসে অনেক আগে থেকেই, আর সেটা আমি জানি। রুহি রোমানের সাথেই খুঁশি থাকবে ভালো থাকবে।

_আরাফ চৌধুরী: শুভ্র আমি মাত্র পক্ষকে কথা দিয়ে ফেলেছি। এখন তোমরা কি সব বলছো?
শুভ্র: ড্যাড তোমার কথা রাখতে গিয়ে তিন তিনটা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমি আমার বোনের সুখ চাই।
কারো কথা রাখতে গিয়ে আমার বোনের সারাজীবনের সুখ আমি নষ্ট করতে চাই না।
_“আরাফ চৌধুরী চুপ হয়ে যায়। সোফা থেকে উঠে নিজের রুমে চলে যায়।
শুভ্র হেনা বেগমের কাছে এসে বলেন..!
_শুভ্র: দাদি আমার বোন এইখানে সুখি থাকবে। আমি যেটা মনে করি। রোমান রুহি দুইজন দুজনকে ভালোবাসে। আর আমাদের উচিত ওদের চার হাত এক করে দেওয়া।
_হেনা বেমগ মুচকি হেঁসে বলে উঠে..!
হেনা বেগম: আমার তো রোমান দাদু ভাইকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ। ওরা যদি বলতো তাহলে আমরা কখনোই দ্বিমত করতাম না। আর হ্যা ওদের বিয়েতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

_রোমান রুহি গিয়ে হেনা বেগমকে জড়িয়ে ধরে। হেনা বেগম মুচকি হেঁসে দুইজন দুই হাত দিয়ে আগলে নেয়।
_হেনা বেগম শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..!
হেনা বেগম: শুভ্র আমি চাই অহনা আর রুহির বিয়ে এক সাথেই হোক। একই দিনে তুই সব কিছুর ব্যস্ততা কর।
শুভ্র: হুম….!
“হেনা বেগম একটু চুপ থেকে বলে উঠে..!
হেনা বেগম: শুভ্র শোন….?
শুভ্র নিজের রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে ছিল। দাদির ডাকে পা থেমে যায়। পিছন ফিরে প্রশ্ন সুইচ দৃষ্টিতে তাকায় হেনা বেগমের দিকে…!

_হেনা বেগম বলে উঠে…!”
হেনা বেগম: আমি চাই অহনা, রুহির বিয়ের সাথে সাথে তোর আর রোদের বিয়েটাও হোক অনুষ্ঠানিক ভাবে..!”
_শুভ্র কিছুক্ষণ হেনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…!”
শুভ্র: বিয়ে করা বউকে আর কতোবার বিয়ে করবো। দুইবার বিয়ে করেছি এটাই অনেক।
হেনা বেগম: আমি তোর কোনো কথা শুনতে চাই না। অনুষ্ঠান করে আমার তিন নাতি, নাতনির বিয়ে হবে।
_শুভ্র চুপচাপ হেনা বেগমের কথা শুনছে_
হেনা বেগম আবার বলে উঠে..!”
হেনা বেগম: আমি চাই তোদের বিয়ে, গ্রামের বাড়িতে হোক। আমাদের পুড়ানো জমিদার বাড়িতে।
শুভ্র : কিন্তু দাদি..?

হেনা বেগম : কোনো কিন্তু না! এটা মনে করবি, তোর দাদির মরার আগে শেষ ইচ্ছে।
_শুভ্র আর কোনো কথার উত্তর খুঁজে পায়না। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে উঠে..!
শুভ্র: তোমার যা ইচ্ছে করো..!
_কথা গুলো বলেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের রুমে চলে যায়।
_এইদিকে রোদ ড্রয়িং রুমের এক পাশে দাঁড়িয়ে সব কিছু শুনছিল। শুভ্র যেতেই রুহির কাছে গিয়ে ধিরিম ধিরিম কিল বসায় রুহির পিঠে। রুহি ব্যথায় কুকিয়ে ওঠে। রোদ রাগী চোখে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…!
রোদ: তলে তলে এতো কিছু আর আমি কিছুই জানিনা। আমাকে তুই বললি না পর্যন্ত।
_রুহি এক হাত দিয়ে পিঠ ডলতে ডলতে বলে উঠে..!
রুহি: ভাবিজী তুমি যা ভাবছো সে সব কিছুনা।
রোদ: আহারে তোমরা তলে তলে ট্যাম্পু চালাও, আমি বললেই হরতাল।
_রুহি রোদের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে কানে ধরে বলে উঠে..!”
রুহি: সরি আমার ভাবি জান। প্লিজ এইবারের মতো মাফ করে দাও!
রুহি আর রোদের খুঁনসুটি দেখে হেনা বেগম রোমান মুচকি হাঁসে।
“রোদ রুহিকে তুলে জড়িয়ে ধরে বলে..!
রোদ: এরপর যদি আমার থেকে কিছু লুকাস তো আর কিন্তু মাফ করবো না।
রুহি : আর এমন হবেনা ভাবি!

_ড্রয়িং রুমে বসে আর কিছু টুকটাক কথা বলে৷ সবাই চলে যায়।
_রোদ পা টিঁপে টিঁপে রুমের ভিতরে ডুকে।
_রুমে আসে পাশে চোখ ভুলায় কিন্তু কোথাও শুভ্র নেই। রোদের চোখ বেলকনিতে যায়। শুভ্র বেলকনিতো চেয়ারে বসে কি যেনো করছে ল্যাবটবে।
রোদ পা টিঁপে টিঁপে বেলকনিতে গিয়ে পিছন থেকে শুভ্রের গলা জড়িয়ে ধরে।
_রোদ ভেবেছিল শুভ্র ভয় পাবে, বা চমকে যাবে। কিন্তু শুভ্র স্বাভাবিক আছে।
রোদ শুভ্রের সামনে ঘুরে, শুভ্রের হাত থেকে ল্যাপটব নিয়ে টি-টেবিলে উপর রেখে। শুভ্রের কোলের উপর গলা জড়িয়ে ধরে বসে পড়ে..!
“শুভ্র এক হাতে রোদের কোমর চেঁপে ধরে বসে!

_“রোদ শুভ্রের গলা জড়িয়ে ধরে বলে উঠে..!”
রোদ: আমি আপনাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম। আপনি ভয় পেলেন না কেনো?
শুভ্র রোদের নাক টেনে বলে উঠে..!”
শুভ্র: তোমার মধ্যে ভয় পাওয়ার মতো কি আছে..?
রোদ চোখ মুখ ছোট ছোট করে তাকায়।
শুভ্র রোদের চোখের সামনে পড়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে বলে উঠে..!”
শুভ্র: তোমার জামাই যে সকাল থেকে বাসায় নেই। সেই খোঁজ খবর কি রাখো।
একটা ফোনও তো দাওনি৷
রোদ: আসলে আমি ফোন দিতে ভুলে গেছিলাম।
শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হতাশ হয়ে বলে..!
শুভ্র: হ্যা সেটাই তো। না জানি আমায় কোন দিন ভুলে যাও!
_রোদ শুভ্রের কথা শুনে, দুষ্ট হেঁসে শুভ্রের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
দুষ্টামি স্বরে গেয়ে উঠে…!

~ “কোথায় আছো, কেমন আছো”~
~ ~প্রানের দা*ম*ড়া রে ”~~
~আমি ভুলি নাই, ভুলি নাই তোমারে”~
_শুভ্র রোদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..!”
শুভ্র: হোয়াই? দা*মড়াকে?
“রোদ দাত কেলিয়ে হেঁসে বলে উঠে..!”
রোদ: কেনো আপনি..!”
শুভ্র: আমাকে কোন দিন দিয়ে তোমার দা*ম*ড়া মনে হয়।”
রোদ: সব দিক দিয়া মনে হয়।
_শুভ্র চোখ গরম করে রোদের দিকে তাকায়। রোদ হাঁসি হাঁসি মুখ করে বলে…!
রোদ: ওয়েট ওয়েট আপনি কি কোনো ভাবে নিজেকে দা*ম*ড়ি বলতে চাচ্ছেন।
শুভ্র: ৪০০ গ্রামের বাচ্চা তোকে তো আমি..?
“রোদকে আর পায়’কে শুভ্রের কোল থেকে উঠে দেয়, ভো দৌঁড়। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়’না। দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই শুভ্র গিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে উপরে তুলে ফেলে। রোদ চেচিয়ে বলে উঠে…!
রোদ: এই এই কি করছেন আপনি?পড়ে যাবো তো!
শুভ্র: ৪০০ গ্রামের বাচ্চা আজকে তো তোকে একটা আছার দিব।
রোদ: এই না প্লিজ! সামনে আমার বিয়ে এখন যদি আছার মেরে কোমড় ভেঙে দেন তো আমি আমার বিয়েতে নাচতে পারবো না।

_শুভ্র রোদের কথা শুনে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে বলে…!
শুভ্র: আসছে এই টুকু ৪০০ গ্রাম মেয়ে শুভ্র চৌধুরীকে বিয়ে করতে! এই তোর বয়স কতো?
রোদ মুখ ভাঙিয়ে বলে উঠে..!
রোদ: আহারে আসছে কুদ্দুস মিয়া আমার বয়স জানতে কতো সখ আবার বলে আমি নাকি ৪০০ গ্রাম।
শুভ্র : হোয়াট ইস দিস কুদ্দুস মিয়া। এই কুদ্দুস মিয়া কে?
রোদ: আপনি ছাড়া আর কে!
শুভ্র: বেশি বার বেড়েছিস নাহ! তোর মতো ৪০০ গ্রাম, পুঁটি মাছকে আমি বিয়ে করবো না।
_রোদ রাগী চোখে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…!”
রোদ: আহারে আসছে আমাকে বিয়ে করবেনা। ৪০০ গ্রাম বলে বলে বিয়ে মানি না বলে বলে, দুইবার বিয়ে তিন বার বাসর করে ফেলছেন। এখন আসছে বিয়ে করবেনা।
শুভ্র: করবো না এই পুঁটি মাছ কে বিয়ে। ধরতে গেলেই সেন্সলেস হয়ে যায়। সেই কটকটি সালে বিয়ে করছি। এতোদিনে ক্রিকেট টীম থাকার কথা। কিন্তু বউকে ধরতে গেলেই সেন্সলেস হয়ে যায় । ছেহহহহ বালের কপাল…!”

রোদ রাগী চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রের দিকে! শুভ্র রোদকে ব্যঙ্গ করে বলে..!
শুভ্র: আমাকে বিয়ে করতে হলে, হারবাল খেয়ে তাঁরপর বিয়ে করতে আসিস পুঁটি মাছ!
রোদ: আপনার মতো হাতিকে আমার মতো পুঁটি মাছ কেমনে সামলাবে বলেন।
আপনি একটা কাজ করেন। হাতির মতো শরীর কমিয়ে পুঁটি মাছের মতো হন। তাহলেই তো সমস্যা সমাধান।
শুভ্র: এই তুই কাকে হাতি বলছিস?
রোদ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে..!
রোদ: আজব তো এখানে কি আপনি ছাড়া অন্য কেউ আছে। যে তাকে আমি হাতি বলবো। অবশ্যই আপনাকেই বলছি।

_রোদ আবার বলে উঠে….!”
রোদ: আপনি সুধু হাতি না, জলহস্তি, কুমির,ভাল্লুক, মহিষ, গরু, ছাগল সব কিছু..!”
শুভ্র: দাঁড়া তোকে তো আমি..?
শুভ্র রোদকে ধরতে যাবে, কিন্তু রোদ ফুরুত করে দৌঁড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। এইবার আর শুভ্র রোদকে ধরতে পায়না। রোদ হাঁসতে হাঁসতে রুম থেকে দৌঁড়ে বেড়িয়ে হেনা বেগমের রুমে চলে যায়। আর শুভ্র হতাশ হয়ে সোফার উপর ঠাসস করে বসে পড়ে।
_নীলা কিছুক্ষণ আগেই চৌধুরী বাড়িতে এসেছে। যখন থেকে আসছে নিলয় নীলাকে যতবার দেখছে আর গান গাইছে গলা ছেড়ে…!
নিলয়: সখি গো তুমি আমার মনটা বুজলা নাহ।

_নীলা এক রকম বিরক্ত হয়েই হেনা বেগমের রুমে চলে আসে। হেনা বেগমের কাছে এসেই শুনতে পায়, আজকে ঘটে যাওয়া ঘটনা। তিনজনের এক সাথে বিয়ের কথা শুনে খুঁশি হলেও, রুহির উপর রাগ হচ্ছে। তলে তলে এতো কিছু হচ্ছে আর তারা টেরও পেলো না। হেনা বেগম আর নীলার কথার মধ্যে রোদ রুমে আসে। হেনা বেগম, নীলা, রোদ মিলে অনেক্ষন গল্প করে। আর হেনা বেগম এটাও জানান যে আজকে রাতের মধ্যে সব কিছুর সিদ্ধান্ত নিয়ে। দুই দিনের মধ্যে বিয়ের কেনাকাটা করে গ্রামের জন্য রওয়ানা দিবেন তারা সবাই।
_অহনা বিয়ে ঢাকাতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন যখন তিন জনের বিয়ে এক সাথে হচ্ছে তো। অহনা শুশুর বাড়ির লোকও গ্রামে যাবে। সবার বিয়ের আয়োজন গ্রামেই হবে। বিয়ে হয়ে গেলে, অহনাকে নিয়ে গ্রামে একদিন থেকে শশুর বাড়িতে নিয়ে আসবে। আর বিয়ে শেষ হলে, কয় একদিন তারা সবাই গ্রামে থেকে, আবার ঢাকাতে চলে আসবে। হেনা বেগম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেষ বয়সে তার নাতি নাতনির সুখটা সে দেখে যেতে চায়।
_এইদিকে অয়ন রেডি হয়ে বাহিরে উদ্দেশ্য বেড় হচ্ছিল। নিজের রুম পেড়িয়ে করিডোর দিয়ে। এমন সময় হাত টেনে দেয়ালে পিছনে আড়ালে নিয়ে যায়। অয়ন সামনে তাকাতেই জুঁইকে দেখে কপাল কুচকে তাকায়। বিরক্ত হয়ে বলে উঠে…!

অয়ন: এই মেয়ে সমস্যা কি তোমার হ্যা?
জুঁই অয়নকে দেয়ালের সাথে চেঁপে ধরে বলে..!
জুঁই: অনেক সমস্যা মেরিজান..?
_অয়ন নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে..!”
অয়ন: অসভ্য মেয়ে, ছাড়ো আমাকে!
এই রকম ব্যঙ্গের মতো ঝুঁলে আছো কেনো? ছাড়ো বলছি?
জুঁই: এইভাবে তো ছাড়ছি না জান। আগে বলো বিয়ে করবে কবে?
_অয়ন পড়েছে মহা বিপদে, এই মেয়ে যখন ইচ্ছে হচ্ছে এসে গলায় ঝুঁলে পড়ছে। কানের কাছে এসে ভালোবাসি ভালোবাসি করছে। না পারছে সহ্য করতে, না পারছে কিছু বলতে। কিছু বললেও কাজ হচ্ছে না। পড়ে ঠিকই অয়নের কাছে ছুঁটে আসছে। অয়ন বিরক্ত হয়ে বলে..!”
অয়ন: এই মেয়ে তুমি আমাকে ছাড়বে নাকি, বাড়ি সবাইকে ডেকে এনে বলবো।
তুমি কি সব অসভ্যতা করতে আছো।”

_“জুঁই ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে!”
জুঁই: সমস্যা নেই ডাকুন আপনি। তাহলে আমারি ভালো বাড়ির সবাই মিলে আমাদের বিয়ে’টা করিয়ে দিবে।
_অহনা আপু,রোদ, রুহি এদের সাথে বিয়ে টা হলে মন্দ হবেনা।
_প্লিজ গোমড়ামুখ ভাইয়া ডাকুন সবাইকে।
অয়ন ভ্রু কুচকে তাকায় জুঁইয়ের দিকে, তাঁরপর বলে..!”
অয়ন: রোদের বিয়ে মানে?
_জুঁই হেঁসে বিকালের ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বলে..!”
অয়ন প্রতি উত্তরে কিছুই বলে না।
_অয়নকে কথা বলতে না দেখে জুঁই বলে উঠে..!”
জুঁই: চলুন না প্লিজ আমারা আপুদের সাথে বিয়ে টা করে ফেলি।
_অয়ন এখন জুঁইয়ে হাত থেকে কিভাবে বাচবে সেই চিন্তা করছে। মাথায় একটা বুদ্ধি আসতেই আচমকা বলে উঠে..!”
অয়ন: আরে শুভ্র তুই এখানে..?

_জুঁই সাথে সাথে অয়নকে ছেড়ে পিছন ফিরে তাকায়। কিন্তু কই কোথাও শুভ্র নেই। সামনে ফিরে তাকাতেই দেখে অয়ন নেই। অয়ন এইদিকে দৌড়ে গিয়ে নিজের রুমের দরজা লাগায়। জুঁই অয়নের পিছু পিছু দৌড়ে যায়। দরজার সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতে দিতে বলে…!
জুঁই: এতো বড়ো ধোঁকা দিলেন। দরজা খুলুন বলছি?
অয়ন রুমে ভিতর থেকে বলে উঠে..!”
অয়ন: পাজি মেয়ে যাও এখান থেকে।
নইলে ঠ্যাং ভেঙে দিব।
জুঁই: ওকে আমি দেখবো কে কার ঠ্যাং ভাঙে। সুযোগ আমারো আসবে।

_কথা গুলো বলে জুঁই চলে যায়। আর অয়ন ভাবছে, যতটা সম্ভব এই মেয়ের থেকে দূরে থাকতে হবে৷ আজকে তো আর তার বাহিরে যাওয়া হলো না। কথা গুলো ভেবেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
_সন্ধ্যা গনিয়ে আসছে, চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। হাঁসি বেগম রিয়া, দরজা বন্ধ করে রুমে বসে আলোচনা করছে। রিয়া আজকে সকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা হাঁসি বেগমকে বলছে। কিন্তু হাঁসি বেগমের প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু রিয়ার গালে থাপ্পড়ের দাগ দেখে না চাইতেও বিশ্বাস করতে হয়। সে এটা ভেবে পাচ্ছে না, রোদের মতো ভীতু একটা মেয়ে কি করে রিয়ার গায়ে হাত তুলে৷ রিয়া এখনো কাঁদছে, কাঁদতে কাঁদতে বলে..!”
রিয়া: আমি কিছু জানিনা, খালামনি আমার যে করেই হোক শুভ্রকে আমার চাই। এই বিয়ে কোনো ভাবেই হতে দিবনা।

হাঁসি বেগম: আমার যেটা মনে হয়। শুভ্র বেঁচে থাকতে কোনো দিনই তোকে মানবে না।
রিয়া চোখের পানি মুছে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় তাঁরপর বলে..!”
রিয়া: শুভ্র যদি আমার না হয়, তো রোদের হবে না৷ রোদকে কখনো আমি সুখি হবে দিব না। ওদের সুখের সংসারে আমি আগুন জ্বালিয়ে ছাড়খার করে দিব।
_“হাঁসি বেগম রিয়ার কাছে এসে রিয়ার কাঁধে হাত রেখে, বলে উঠে..!”
হাঁসি বেগম: শুভ্র নামক কাঁটা অনেক আগেই শেষ করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু তোর জন্যই পারেনি। চেয়ে ছিলাম শুভ্রকে রোদের থেকে আলাদা করতে। কিন্তু রোদ/শুভ্রকে আলাদা করা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। তাই আমাদের সবার আগে শুভ্রকে পথ থেকে সরাতে হবে।
রিয়া: আমি ওই রোদকে মারতে চাই খালামনি। রোদ আমার শুভ্রকে কেরে নিছে।আমি শেষ করে দিব রোদকে নিজ হাতে খুন করবো।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮

_হাঁসি বেগম রিয়াকে শান্ত করে বলে..!”
হাঁসি বেগম: রোদের কিছু করা যাবে না এখন। আমাদের ছোট্ট একটা ভুল সব কিছু শেষ করে দিতে পারে। যা কিছু করতে হবে ভেবে চিন্তে।
রিয়া: আমি তোমার সব সুখ কেড়ে নিব রোদ। তোমার জীবন আমি নরক বানিয়ে দিব। তোমার জীবনে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৩)