বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮
shanta moni
_“রোদ রাগি চোখে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..!”
রোদ: রাগ শালা যৌবনের কছম।” তোকে তো আজকে আমি সারাদিন সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ওয়াশ করবো।”
মেয়েদের গলায় ঝুঁলানো নাহ,,
_রোদ শুভ্রের গায়ে আবার সাবান মাখতে থাকে। আর বলে…!”
রোদ: আজকে জন্মের শিক্ষা দিব। বউ থাকতে অন্য মেয়ে কিভাবে তোর কাছে আসে।”
_শুভ্র কাঁদো কাঁদো অবস্থায় বলে…!”
শুভ্র: বউ আমি তো ডাকেনি রিয়া কে।”
_রোদ শুভ্রের মাথার চুল চেঁপে ধরে বলে..!”
রোদ: রিয়া কি হ্যা! ওই মেয়েকে এখন থেকে চাচি আম্মা বলে ডাকবি। নইলে তোকে আমি খুন করবো।”
_শুভ্র: হ্যা…হ্যা বউ রিয়া এখন থেকে আমার চাচি আম্মা। শুধু রিয়া না,দুনিয়ায় সব মেয়ে আমার চাচি। সাথে তুমিও আমার চা…”
রোদ দাঁত কটমট করে তাকায় শুভ্রের দিকে..!”
শুভ্র তুতলিয়ে বলে উঠে…!”
শুভ্র: না,,নাহ মা… মানে তুমি চাচি হতে যাবে কেনো, তুমি তো আমার বউ, একমাত্র, বউ তুমি আমার।”
_শুভ্র একটু থেমে আবার বলে উঠে…!”
শুভ্র: তুমি শুধু আমার বউ না। জান, সোনা,কলিজা, ময়না, টিয়া, ঘুঘু,হার্ট, কিডনি, লিবার, সব কিছু তুমি আমার।”
_রোদ: হইছে এতো দরদ এখন দেখাতে হবে না।”
শুভ্র রোদের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠে….!”
শুভ্র: এইবারের মতো মাফ করে দেন খালাম্মা।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_রোদ শুভ্র দিকে তাকাতেই শুভ্র চিৎকার দিয়ে বলে উঠে…!
শুভ্র: নাহহহহহহহহহহহহ, থুক্কু থুক্কু..!”
না মানে এই বারের মতো মাফ করে দাও বউ প্লিজ।”
_শুভ্র অলরেডি হাঁচি দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। রোদ শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…!
রোদ: আর যদি এই রকম করেন। তো বাড়ির পিছনে পচা ডোবায় চুবিয়ে খুন করবো।
শুভ্র রোদের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে…!
শুভ্র: জীবনে কোনো দিন নিজের কাছে কোনো মেয়েকে কাছে আসতে দিব না বউ। আমাকে মাফ করে দাও বউ।”
_রোদ আস্তে আস্তে শান্ত হয়। ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসে। তাঁরপর রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। এইদিকে শুভ্রের অবস্থা খারাপ, শরীর শীতে থর থর করে কাঁপছে, চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। বার বার হাঁচি দিচ্ছে। ওয়াশরুম থেকে কোনো রকম জামা কাপড় চেঞ্জ করে বের হয়।
_বার বার হাঁচি দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। আস্তে গিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে। কপালে একটা হাত দিয়ে,
শুভ্রের এখন একটা গান খুব করে গাইতে ইচ্ছে করছে। ওই যে একটা গান আছেনা।
~~ভালা মানুষ’ পাগল হইলাম~~
~বউ ঘরে আইনা’ বিয়া করিলাম~
~তো না জাইনা..~
_রাগে দুঃখে বউয়ের ভয়ে ইচ্ছে করছে। ফ্লোরে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাঁদছে। কিন্তু সে যদি এই রকম কাঁদে তো, বিশ্ব রের্কড ভেঙে যাবে। যে শুভ্র চৌধুরী কিনা বউয়ে ভয়ে কাঁদছে। নো নো কাঁদা যাবে না। কন্ট্রোল শুভ্র কন্ট্রোল।
_শুভ্র মাথা সামনে ঝুঁকে চুল চেঁপে ধরে বিড়বিড় করে বলে উঠে..!
শুভ্র: এই শুভ্র চৌধুরী কিনা, তার ওই ৪০০ গ্রাম বউকে ভয় পাচ্ছে। ছেহহহ শালার জিন্দেগী…!
_মানতে হবে বস পুঁটি মাছের মতো বউয়ের কথায় আমাকে চলতে হবে। তা না হলে তো বলা যায় না। সত্যি সত্যি যদি নরদমার পানিতে চুবায়।
_শুভ্র রোদের তখন কার কথা মনে পড়তেই, মাথা তুলে ঢোগ গিলে, আর বিড়বিড় করে বলে…!
_শুভ্র: নো নো নো, বউয়ের কথা শুনেই চলতে হবে। যদি না শুনি বউ আমাকে সত্যি সত্যি পচা পানিতে চুবাবে। আর সবাই যদি জানে আমার বউ আমাকে পানিতে চুবিয়েছে। তাহলে আর আমার ইজ্জত থাকবে।
_শুভ্র এই সব কথায় ভাবছিল। এমন সময় রুমের ভিতরে নিলয় ডুকে ফোনে হজ চালাতে চালাতে। হজ শুনে শুভ্রের কষ্ট যেনো আর দ্বিগুণ ভেরে যায়। নিলয়ের ফোনে তাহেরি হুজুরের হজ বলছে…!
_এই সমাজে নারী নির্যাতনের বিচার হয়।
কিন্তু আমরা পুরুষরা যে প্রতি নিয়ত বউয়ের হাতে নির্যাতন হয়। সেই বিচার হয়না। পুরুষরা, নারীদের থেকেও অসহায়। কারন বউ রাগ করে বাপের বাড়ি যেতে পারে। কিন্তু আমরা পুরুষরা, রাগ করে কোথাও যেতে পারিনা।
_আমাদের পুরুষরা, সব যায়গা নির্যাতনের শিকার। মানবতা আজ কোথায়, নিলয় বলে উঠে..!”
নিলয়: মানবতা আজ হাসু আমার কোলে।”
শুভ্র বসা থেকে দাঁড়িয়ে বলে…!
শুভ্র: ঠিক ঠিক, আমরা পুরুষরা সব যায়গা নির্যতনের শিকার।
_নিলয় শুভ্র দিকে তাকিয়ে ফোন বন্ধ করে বলে…!
নিলয়: ব্রো ঠিক বলেছো। আমাদের পুরুষদের কোনো স্বাধীনতা নাই!
শুভ্র: এতো দিনে একটা ঠিক কথা বলছিস ভাই।
_আস্তে আস্তে গাঁধা থেকে মানুষ হচ্ছিস।
_নিলয় শুভ্রের দিকে তাকায়, কে বুঝতে পারছে না। তার ভাই তার প্রশংসা করলো!” নাকি অপমান করলো।”
_কথাটা মাথা থেকে ঝেঁরে নিলয় বলে উঠে…!”
নিলয়: ভাই তোমার বউয়ের বান্ধবী আমাকে আজকে পুড়ো বাড়ি জুতা নিয়ে তারা করেছে।
_তুমি বলো ভাই, এটা কি ঠিক কাজ করছে।”
_“শুভ্র বিড়বিড় করে বলে..!”
শুভ্র: বউ যেমন তার বান্ধবী তো তেমনি হবে।
নিলয়: কিছু বললে ভাই…?”
শুভ্র: নাহ কিছু না…!
নিলয় শুভ্রের দিকে খেয়াল করে ভ্রু কুচকে তাকায় তারপর বলে..!
নিলয়: ভাই তোমার কি হয়েছে? চোখ মুখ এই রকম লাল কেনো?
শুভ্র: কিছু হয়নি, আগে বল তুই এখানে কেনো?
নিলয়: আমি বিচারের জন্য এসেছি!
শুভ্র: কিসের বিচার..?”
নিলয়: তোমার বউয়ের বান্ধবী মানে তোমার শা*লি আমার বিয়ান। আমাকে পুড়ো বাড়ি জুতা নিয়ে দৌড়ানি দিছে।
সেই বিচার চাই…!
”শুভ্র ভ্রু কুচতে তাকায় তারপর বলে..!”
শুভ্র: তোকে তো আর এমনি এমনি জুতা নিয়ে দৌড়ানি দেয়নি। আগে বল কি আকাম ঘটিয়েছিস।
_নিলয় কাচুমাচু করে বলে উঠে..!
নিলয়: আমি I love you বলেছিলাম।
ভাই এটা তো খারাপ কথা না। কিন্তু এই জন্য কি আমাকে জুতা নিয়ে দৌড়ানি দিবে বলো..!”
শুভ্র: এটা তো একদম উচিত করেনি। ভালোবাসার কথা বলা তো খারাপ কিছু না। কিন্তু তার জন্য কি জুতা নিয়ে দৌড়ানি দিবে।
নিলয়: সেটাই তো ভাই। আমি রোদ ভাবিতে বললাম ভাবি বলতে আছে ঠিক করছে। জুতা নিয়ে দৌড়ানি দিছে, আর সে যায়গা যদি সে থাকলে নাকি ঝাঁড়ু নিয়ে দৌড়ানি দিত।
শুভ্র: একদম ঠিক কথা বলছে তোর ভাবি” তোকে ঝাঁড়ু দিয়ে পিটানো উচিত ছিল। নীলা যে তোকে জুতা মারেনি। এটাই তো সাত কপাল..!”
_নিলয় চোখ বড় বড় করে তাকায় শুভ্রের দিকে, অবাক হয়ে বলে…!”
নিলয়: কি বলছো ভাই! এই মাত্র বললে
ঠিক করেনি। এখন বলতে আছো সব ঠিক করেছে। বাহ ভাই বাহহহ,..!
শুভ্র নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..!”
শুভ্র: আমার বউ যখন বলেছে তুই ঠিক করিসনি। মানে তুই ঠিক করিসনি। আমার বউ যেটা বলছে সেটাই সত্যি..! ”
নিলয় কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে…!
নিলয়: ভাই তুমিও…!
শুভ্র হতাস হয়ে বলে…!
শুভ্র: “হ্যা রে ভাই, বউ ছাড়া কোনো গতি নাই। বিয়ে কর তাহলে বুঝবি ভাইয়ের কষ্ট..!”
নিলয়: ভাই তোমাকেও কি ভাবি নির্যাতন করে..?”
শুভ্র: ভাই আর বলিস না। কি বলবো দুঃখের কথা, সকাল সকাল ওই রিয়া, না থুক্কু ওই চাচি আম্মা আমার গলায় এসে ঝুঁলে পড়ে। আর সেটা তোর ভাবি দেখে। চুল টেনে রিয়াকে রুম থেকে বের করে। আর আমাকে এই শীতে ৩/৪ ঘন্টা ধরে সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ইচ্ছে মতো ওয়াশ করিয়েছে। আর আমাকে এটাও বলছে, আর যদি কখনো এমন দেখে তো, আমাকে পচা নর্দমায় চুবাবে। আমাকে খুন করার হুমকি দিছে ভাই…!”
_নিলয় হাঁসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না।
নিলয় বলে উঠে…!”
নিলয়: ভাই চলো আমরা কদু থানায় গিয়ে কেচ করবো। তুমি করবে তোমার বউয়ের নামে। আমি করবো আমার বিয়ানের নামে।
_“শুভ্র: কি বলছিস তুই? পুরুষ নির্যাতনের বিচার হয়। তা নিয়ে কি কেচ লেখানো যায়।
নিলয়: যাবে না কেনো, অবশ্যই যাবে। বাংলাদেশে যদি নারী নির্যতনের বিচার হয়। তো পুরুষ নির্যতনের বিচার হবে। আর আমার ভাই দিনের পর দিন, নির্যতন হবে বউয়ের কাছে আর আমি ভাই হয়ে চুপচাপ দেখবো, সেটা আমি মানবো না, মানি না।
_শুভ্র: “ভাই তুই আমার কষ্ট টা বুঝলি।”
নিলয়: ভাই তুমি চলো৷ আমরা এখনি গিয়ে কেচ করে আসবো।”
_নিলয় শুভ্রের হাত ধরে দরজার সামনে নিয়ে যায়। শুভ্র থেমে গিয়ে বলে…!”
শুভ্র: এই গাঁধা আমরা যদি ফেইস দেখিয়ে যাই। তো প্রেস মিডিয়ার কাছে খবরটা গেলে৷ বেকিং নিউজ হবে। যে বাংলাদেশের টপ বিজনেস ম্যান শুভ্র চৌধুরী বউয়ের হাতে মার খায়।
নিলয়: সত্যি বলছো তো ভাই। কথাটা তো ভেবে দেখিনি। আচ্ছা চলো আমরা হুডি পড়ে মাক্স করে। তাঁরপর যাবো…!”
শুভ্র: ওকে চল…!”
_দুপুর ১১ টা, থানার সামনে মাথায় হুডি পড়ে, দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র আর নিলয়।
_থানার সামনে বোর্ডে লেখা…!
_“কদু থানা_
“নিলয় শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে…!
নিলয়: ভাই চলো,?”
শুভ্র: সমস্যা হবে নাতো।”
নিলয়: ব্রো আমি আছি তো, আজকে আমাদের পুরুষ নির্যতনের বিচার করতেই হবে। তা না হলে এই থানা আমি বোম দিয়ে উড়িয়ে দিব।
_শুভ্র বউয়ের ভয়ে কি করছে সে নিজেও জানেনা। বাড়ি থেকে এক রকম সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়ে আসে।
নিলয় শুভ্র থানার ভিতরে যায়।
_থানার অফিসারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
_“অফিসার একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে।
_নিলয় অফিসার দিকে তাকায়, অফিসারের এক হাতে ব্যান্ডেজ আর কপালেও ব্যান্ডেজ করা। নিলয় কাঁশি দিয়ে গলা পরিস্কার করে বলে…!
নিলয়: এই যে স্যার আছেন…? স্যার শুনতে পারছেন? স্যার,
অফিসারের কোনো সারা শব্দ নেই। শুভ্র জোরে টেবিলে থাপ্পড় মারে, অফিসার লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে, বলে…!
অফিসার: কে, কে কে…?
_সামনে তাকিয়ে দুই জন লোকে দেখে স্বাভাবিক হয়ে বলে উঠে…!”
অফিসার: কি হয়েছে কি চাই?
নিলয় তেতে উঠে বলে…!
নিলয়: থানায় মানুষ কিসের জন্য আসে। কেচ লেখাতে আসছি। কিন্তু আপনি তো দেখি থানায় বসে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছেন।
অফিসার: সরি স্যার, আসলে রাতে ঘুম হয়নি তো। এই জন্য ঘুমাচ্ছিলাম।
নিলয়: কেনো সারা রাত কি বউ আপনাকে পিটিয়েছে, সেই জন্য কি ঘুমাতে পারেনি।
অফিসারের মুখটা চুপসে যায়। আস্তে করে বলে…! ”
অফিসার: সরি স্যার, আর এমন হবে না। আপনারা বসুন, আর বলুন আপনাদের সমস্যা কি?
_নিলয় শুভ্র সামনে থাকা চেয়ারে বসে পড়ে। চেয়ারে বসে নিলয় বলে…!
নিলয়: আমরা একটা বিচারের জন্য এসেছি। আর একটা কেচ লেখাবো।
অফিসার: জ্বি স্যার বলুন। কি নিয়ে কেচ লেখাবেন।
নিলয়: আপনারা কি সঠিক বিচার করতে পারবেন?
অফিসার: কি যে বলেন স্যার এই কদু থানা সব দিক দিয়ে এগিয়ে। আপনি বলুন কাকে ধরতে হবে কাকে মারতে হবে।
_শুভ্র অফিসারের কথা শুনে নড়েচড়ে বসে। নিলয় শুভ্রের দিকে তাকায় তারপর বলে..!
নিলয়: ভাই বলো…!”
শুভ্র গলা খাকারি দিয়ে বলে উঠে..!”
শুভ্র: আসলে স্যার আমি পুরুষ নির্যতনের শিকার। আর বউ আমাকে মেরে ফেলাল হুমকি দিয়েছে।
আমি আমার বউয়ের নামে কেচ করতে চাই। আর সঠিক বিচার চাই..!”
তাঁর মধ্যে নিলয় বলে উঠে..!
নিলয়: আমার বিয়ান, মানে আমার বড় ভাইয়ের শালি, তাকে আমি ভালোবাসি। আমি তাকে আই লাভ ইউ বলেছিলাম। কিন্তু সে আমাকে জুতা নিয়ে দৌড়ানি দিছে। এর আগেই আমাকে অনেক মেরেছে। আমিও আমার বিয়ানের নামে, একটা কেচ করতে চাই। নিজের নিরাপত্তার জন্য হলেও।
_নিলয় একটু থেমে। ভাব নিয়ে বলে..!”
নিলয়: সেলিব্রিটি মানুষ বুঝেইন তো। কখন না জানি মেরে ফেলে আমাকে।
_“অফিসার চিৎকার করে বসা থেকে উঠে বলে…!”
অফিসার: নাহহহহহহহ,, এই কেচ আমি নিতে পারবো না..!”
‘নিলয় শুভ্র দুইজন দুইজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে। একসাথে বলে উঠে..! ”
_কেনো…..?
অফিসার: ভাই বউয়ের নামে কেচ আমি লিখতে পারবো না। মাফ করেন।
শুভ্র: এই আপনি এই মাত্র তো বললেন। সঠিক বিচার করবে। আপনাদের থানা সব দিক দিয়ে এগিয়ে তাহলে এখন কেনো পারবেন না।
অফিসার: ভাই কেচ করার জন্য আর মানুষ পেলেন না। বউয়ের নামেই কেচ করতে হবে।
নিলয় রাগী চোখে তাকিয়ে বলে উঠে..!
নিলয়: আপনি যদি কেচ না লিখেন তো। আমরা আপনার নামে কেচ লিখবো।
আফিসার কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে..!
অফিসার: তাই করুন, আমার নামেই কেচ লিখুন।
শুভ্র: আপনাকে কেচ লিখতেই হবে। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
অফিসার: আগে আপনারা আমার সাথে ন্যায় বিচার করেন।
নিলয়: মানে আপনার সাথে কি ন্যায় করবো..?”
অফিসার নিজের চেয়ার থেকে উঠে, শুভ্র আর নিলয়ের কাছে এসে, তাদের কাছে চেয়ার টেনে, ব্যান্ডেজ করা হাত নিয়ে আস্তে করে বসে। তাঁরপর বলে..!”
অফিসার: আপনারা যেই সমস্যায় ভুগছেন। আমিও সেই সমস্যাই ভুগছি।
নিলয় শুভ্র নিজের মুখের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে। তাঁরপর নিলয় বলে..!
নিলয়: আপনি আবার কি সমস্যায় ভুগছেন?
অফিসার: আমার দুঃখের কথা বলি,শুনেন..!”
নিলয়: এই অফিসার, আমরা কেচ লেখাতে আসছি। আপনি কেচ লিখুন। আপনার দুঃখের কথা শুনতে আসিনি।
অফিসার অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় শুভ্র নিলয়ের দিকে,
_শুভ্র বলে…নিলয় থাম, শোন আগে উনি কি বলতে চায়..!
_নিলয় চুপ হয়ে যায়। শুভ্র নিলয় অফিসারের দিকে তাকায়।
_আফিসের বাম হাতে ব্যান্ডেজ, ডান হাত দিয়ে পকেট দেখে রুমাল বের করে। মুখ মুছে, নিলয় শুভ্র দিকে তাকিয়ে, দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে উঠে..!”
অফিসার: ভাই বিয়ে করেছি আজ ২০ বছর। এখনো প্রতি রাতে বউয়ের হাতে পেদানি খাই৷
_নিলয় শুভ্র অবাক হয়ে তাকায়..!
অফিসার আবার বলে উঠে..!
অফিসার: অবাক হচ্ছে তাই তো, পুলিশ অফিসার হয়ে, বউয়ের হাতে মাইর খাই কেনো? শুধু খাইনা, সাথে গিলিও।
ভাই এই যে দেখতে আছেন। হাতে কপালে ব্যান্ডেজ এই সব কিছু বউয়ের দেওয়া ভালোবাসা।
_অফিসার একটু থেমে পুনরায় আবার বলে..! ”
অফিসার: কালকে সারা রাত ঝগড়া করছে। যার জন্য সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠি। সকালের নাস্তা করতে পারিনি। এই জন্য বউ রাগে ফুলদানি ছুরে মারে৷ আর কপাল ফেটে যায়।
_ভাই কপাল ফাঁটছে তাতে কোনো দুঃখ নাই। দুঃখ শুধু একটাই বউ গরম খুনতি দিয়ে হাত পুড়ে দিয়েছে।
_আর এই সব কিছুর কারার কারন হচ্ছে।
_বউয়ের সাথে একদিন তুমুল ঝগড়া হয়। তারপর একদিন বলেছিলাম। যে তোমার থেকে আমার Ex ভালো ছিল। সে খুবই কেয়ার করতো আমাকে। তুমি একটা দরজাল। আর সেইদিন থেকেই আমার উপরে নির্যতন শুরু। প্রতিদিন সকালে নাস্তা বানিয়ে অফিসে আসতে হয়। এমনকি বাসায় গিয়ে সব রান্না বান্না কাজ আমাকে করতে হয়।
_ভাই আজকেও এই পোড়া হাত দিয়ে বাসন মেজে আসছি।
_ভাই বউটা ভালোই ছিল। কিন্তু অন্য মেয়ের কথা বলে বিপদে পড়ছি।
_এখন যদি একটু জ্বর সর্দি কাশিও হয়। তো বউ বলে…!
_Ex চিন্তায় জ্বর এসেছে। সব যায়গা আমার Ex ex ex…!
কথা গুলো বলতে বলতে অফিসার কেঁদে দেয়।
_“নিলয় অফিসারকে শান্তনা দেয়।
_আর এইদিকে শুভ্র কল্পনায় ডুব দেয়।
_দেখে রোদ হাতে ঝাঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর শুভ্র বাসন বাজছে। কাজ থামালেই রোদ ঝাঁড়ু নিয়ে বারি দিচ্ছে।
শুভ্র চিৎকার দিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। আর বলে….!
শুভ্র: নিলয় গাঁধার বাচ্চা চল এখান থেকে।
নিলয়: কিন্তু ভাই কেচ..!
শুভ্র: রাখ গাঁধা তোর কেচ। বউ যদি আমার একবার জানতে পারে। আমি তার নামে কেচ করতে থানায় এসেছি।
তো আমি শেষ।
নিলয়: কিন্তু ভাই আমরা কি ন্যায় পাবো না!
শুভ্র: রাখ তোর ন্যায় এখন থেকে বউ যা বলবে তাই হবে..!”
নিলয় চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। শুভ্র অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলে..!
শুভ্র: শুভ কামনা স্যার। বিবহিত জীবনে সুখি হন।
_বলেই দুইজন থানা থেকে বেড়িয়ে আসে।
_নিলয় থানা থেকে বেড়িয়ে, শুভ্রকে বলে উঠে..!
নিলয়: কাজটা কি ঠিক হলো ভাই..?”
_শুভ্র হতাশ হয়ে বলে..!”
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৭ (৩)
শুভ্র: তুই কি চাস ভাই। তোর ভাবি তো ভাইকে দিয়ে থালা বাসন মাজাক। রান্না বান্না করাক। যদি না চাস তো কিচ্ছু বলিস না। চুপচাপ বাসায় চল। আর এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলিস না।
নিলয়: আজ পুরুষ বলে কোনো বিচার পেলাম না..!
শুভ্র: জীবনে কোনোদিন বিয়ে করিস না ভাই..!
নিলয় শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে শান্ততা দিতে থাকে।
