Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৮

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৮

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৮
Muntaha jahan

সময় কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না। খুব কাছের মানুষ গুলো ও আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেলেও আমাদের সময় কাটে। হয়তো মন খারাপে। তবুও সময় থেমে থাকে না।একটা সময় সময়ের সাথে সাথে এই মন খারাপ টাও চলে যায়।
এ্যাশকে যখন প্রথম দেখেছিলো তখন এ্যাশ কে,এ্যাশের পরিচয় কি,এ্যাশ কি করে,কোথায় থাকে এগুলো কিছুই জানতো না তাহা। আর না দ্বিতীয় বার কখনো এ্যাশকে দেখতে পেয়েছে। এ্যাশকে আবার ও দেখেছে তাহা আরাবীর বিয়েতে।তাও তার খালাতো ভাই হিসেবে। এটা জানতে পেরে অনেক অবাক হয়েছিলো তাহার।সাথে অনেক খুশি ও হয়েছিলো এ্যাশকে দেখে। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের অভিশপ্ত অতীত মনে পড়তেই এ্যাশকে মন থেকে দূরে সরিয়ে দিলো। এ্যাশকে কাছে পেয়ে ইগনোর করতো।কিন্তু দিনশেষে তারজন্য বালিশে মুখ গুজে কাঁদতো।অথচ সেগুলো কেউ জানতে পারতো না।সবটাই গোপন থাকতো তাহার কাছে।

বাইরের দুনিয়ায় সাথে তাহার পরিচয় খুবই কম।সে সব সময় তার পড়াশোনা নিয়েই ব্যাস্ত।সেরকম কোনো ছেলের সাথে ও মিশতো না।কাউকে ভালো ও লাগে নি তার কখনো।কিন্তু এ্যাশ ই প্রথম যাকে প্রথম দেখে ভালো লেগেছিলো তাহার।সময়ের সাথে সাথে সেটা ভালো বাসায় পরিনতি নিলো।পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এ্যাশকে নিয়ে কল্পনা করতো তাহা।কল্পনায়ই সংসার সাজাতো।জানতো এ্যাশকে কখনো পাবে না।তবুও তার ভালো লাগলো এ্যাশকে নিয়ে ভাবতে।একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে এ্যাশকে বেঁচে নিয়েছিলো। এ্যাশকে আরাবীর বিয়েতে দেখেছিলো তখন কতোটা খুশি হয়েছিলো সেই জানে। ভেবেছিলো এ্যাশকে নিজের মনের কথা বলে দিবে।কিন্তু নিজের অতীতের জন্য পিছিয়ে গেলো।এখনো পিছিয়ে আছে।এ্যাশকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই তাহার।সব সমস্যা তার নিজের। তার অতীত ই হলো তার সমস্যার কারণ। এ্যাশের থেকে দূরে থাকার কারণ। এ্যাশ এখন তাহার কাছে নেই। কোথায় আছে তাহা জানে না।কেউই জানে না।পালিয়ে আছে এ্যাশ।এ্যাশের এভাবে হারিয়ে যাওয়ার ভিষন কষ্ট পেয়েছিলো তাহা।প্রথম প্রথম মন খারাপ করে কাঁদতো কিন্তু ওই যে সময় কারো জন্য থেমে না। এ্যাশের জন্য ও কারো সময় থেমে থাকে নি।সবাই সবাইকে গুছিয়ে নিয়েছে। ভালো আছে সবাই। হয়তো তাহা ও। কিন্তু এটা সত্যি কি না এটা জানে না তাহা।

সেদিন তাহার ঘুম ভাঙে সকালে।তারপর এ্যাশের সাথে দিনটাও একসাথে থাকে তাহা। কোনো রকম রিয়েক্ট করে নি।এ্যাশের সাথে থাকা কালীন সময় গুলো ভালো লাগলেও এ্যাশের কাছে কখনো প্রকাশ করে নি। এ্যাশ পরেরদিন রাতেই তাহাকে ইহানের ফ্ল্যাটে দিয়ে যে উধাও হয়েছে তারপর আর কোনো খোঁজ নেই।
তাহা শুনেছে আমেরিকার পুলিশ গুলো এ্যাশকে খুঁজছে। এ্যাশের বিরুদ্ধে অনেক প্রমাণ তাদের হাতে পড়েছে। এরমধ্যে একটা খবর হলো এ্যাশ নাকি তার মামাকে ৫ বছর যাবত একটা হসপিটালে আঁটকে রেখেছে। অথচ সবার কাছে এ্যাশের মামাকে মৃত ঘোষণা দিয়েছিলো এ্যাশ। আমেরিকার একজন বিখ্যাত ডক্টর মি: তালুকদারকে বলেছে এ্যাশের মামার শরীলে প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রতঙ্গ বের করে তাকে দিতে।সেগুলো না দিলে তালুকদারের ছেলেকে মেরে ফেলছে এ্যাশ।এরকম কথা তিনি মিডিয়ার সামনে বলেছে। তারজন্য এ্যাশে খুঁজে চলেছে আমেরিকার পুলিশ। তার জনই হয়তো পলাতক এ্যাশ। কথা গুলো ভেবে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তাহার।চোখ ঘুরিয়ে আশেপাশে তাকালো। একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে এসেছে তাহা।সেখানেই ওয়েটিং রুমে বসে আছে। অনেক ছেলেমেয়ের ইন্টারভিউ দেওয়া শেষ। তিন চার জন আছে এখন।সবাই শেষে তাহার।
সবার ইন্টারভিউ নিচ্ছে ফাহাদ। একবার চোখ ঘুরিয়ে সি সি ক্যামেরায় দেখলো আর কয়জন আছে। সেখানে তাহাকে দেখে থমকে গেলো ফাহাদ।তাহা ও এখানে ইন্টারভিউ দিবে?

এ্যাশের আমেরিকার সমস্ত কিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাথে সিঙ্গাপুরের গুলো ও। এই কোম্পানি ফাহাদের নিজের। সে নিজে দাঁড় করিয়েছে এটা।তার আমেরিকায় তার কেনো কোম্পানি নেই। তার দুটো কোম্পানি। একটা বাংলাদেশে অন্যটা সুইজারল্যান্ড। সে সব দুটো আমেরিকায় বসেই সামলাতো।মাঝে মাঝে সে যেতো। আর বাকি সময় নিয়ে এ্যাশকে সাহায্য করতো। ফাহাদের একজন বিশস্ত এসিস্ট্যান্ট আছে। নিলয়। যাকে দিয়ে সে এতোদিন আরাবীর উপর নজর রাখিয়েছে। খুন করিয়েছে। সে ই ফাহাদের কোম্পানি গুলো সামলেছে।এবং এখন সুইজারল্যান্ডের টা সে সামলাচ্ছে। আরাবীর জন্য দেশে আছে ফাহাদ। যারজন্য আজকের ইন্টারভিউ টা সে নিচ্ছে। নয়তো অন্য কেউ নিতো। ফাহাদ পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখে দিলো। এবং বাকিদের বললো এরপরের সবার ইন্টারভিউ তাদের নিতে। গম্ভীর কন্ঠে কথাগুলো বলে চুপ করে বসে থাকলো ফাহাদ।
একে একে সবার শেষ হতেই তাহা আসলো। ফাহাদ একবার চোখ তুলে তাকালো। তাহার হাতগুলো কাঁপছে অথচ মুখটা সাভাবিক। যেনো সবাইকে বুঝাচ্ছে সে নার্ভাস নয়।একদম সাভাবিক।ফাহাদ মাস্কের নিচেই হাসলো। এবং তাকিয়ে রইলো তাহার দিকে। তাহার দৃঢ়তার সঙ্গে সব গুলো প্রশ্নের উওর দিলো। সবাই তাতে মুগ্ধ হলো। ইন্টারভিউ শেষে তাহা বের হয়ে গেলো। সাথে সাথে ফাহাদ গম্ভীর মুখে হেঁটে বের হয়ে গেলো তাহার পিছনে পিছনে।

জুলাই মাসের এক তারিখ আজ। সময় গড়িয়েছে দ্রুত। এতোদিন তাড়াতাড়ি ২ মাস চলে গেলো কেউ বুঝতে ও পারলো না। মাঝে মাঝে তাহার মনে হয় সময় ও তার বেইমানি করছে।অতিদ্রুত অতিক্রম করছে তা। নয়তো এতো তাড়াতাড়ি দুই মাস পাড় হয়?
ইন্টারভিউ শেষে রাস্তায় হাঁটছে তাহা। রোদের তাপটা আজকে অনেক বেশি। শরীলে জ্বালা তুলে দিচ্ছে একদম। এই কড়া রোদে হাটা দায়।তবুও হাঁটছে তাহা। টিউশনি বাদ দিয়ে দিয়েছে। হাতে টাকা কম।চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত এগুলো দিয়েই চলতে হবে। আত্মসম্মান অনেক বেশি তাহার।কারো কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নিতে লজ্জা লাগে তবুও নিতে হয়। পরিস্থিতির কারণে। আত্মসম্মানের কারনেই তাহা ডাক্তারী পড়ে নি।ডাক্তার পরতে অনেক খরচ। যা তখন তাহা বহন করতে পারতো না। ইহানের বহন করতে হতো। যা লজ্জাজনক তাহার কাছে। তাই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছে। এখন একটাই স্বপ্ন নিজের মতো বাঁচা। এই শহর ত্যাগ করা।

বাসার সামনে আসতেই সস্তির নিঃশ্বাস ফেললো তাহা। ওড়নার কোণা দিয়ে মুখটা মুছে নিলো।পুরো মুখ লাল টুকটকে হয়ে আছে। কলিং বেল চাপতেই নূর দরজা খুললো। গরমের ছুটি দিয়েছে স্কুল যারজন্য নূর এখন বাড়িতে। তাহাকে রোদে লাল হয়ে যেতে দেখে নূর দ্রুত দরজা আটকে তাহাকে ঠান্ডা পানি এনে দিলো। ফ্যানটা ছেড়ে দিয়ে তাহা গায়ে একটু ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দিলো। তাহা হাসলো নূরের পাগলামিতে।মেয়েটা তারজন্য পাগল।সারাক্ষণ তার সাথে পাগলামি করবে।বড় বোনের মতো সম্মান করবে।আয়েশা বেগমকে বুঝিয়ে আবার ও খান বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আপাতত সবকিছুই আগের মতো চলছে। সবকিছু ঠিক,আবার কিছুই ঠিক নেই।
নূর সোফায় মাথাটা এলিয়ে দিয়ে তাহার দিকে তাকিয়ে কাতর স্বরে বললো

—“আপু তুমি এতো কষ্ট কেনো করো বলতো?দেখো কেমন লাল হয়ে গেছো। তোমার ভাই কি তোমার খরচ বহগ করতে পারবে না?টাকা নেই তার কাছে?
—“কথাটা টাকার নয়। কথাটা আত্মসম্মানের। আমি কখনো হাত পেতে ইহান ভাইয়ের থেকে টাকা নিতে পারবো না।
—“কেনো?আগে তো নিতে?তাহলে এখন কোথায় সমস্যা?আমি?
—“না তুমি সমস্যা নয়।আমি তো বিবাহিত তাই। আমি বিবাহিত হয়ে অন্যের থেকে টাকা নিলে আমার স্বামীকে ছোট করা হবে।
—“তুমি ওই গুন্ডা টাকে স্বামী হিসেবে মানো?দেখো নি পুলিশ গুলো কি বললো?আর ওই ডাক্তার আঙ্কেল টা।
—“গুন্ডা বলছো?সম্পর্কে কিন্তু সে তোমার ভাসুর হয় নূর।
—“তাতে কি গুন্ডা তো?আমার তো তার নাম শুনলেই এখন ভয় লাগে। আমার সামনে কখনো না আসুক ওই গুন্ডা।
—“নূর মুখ সামলে বলছি না সে তোমার ভাসুর হয়?ভাসুরকে কেউ গুন্ডা বলে?বয়সে তোমার কতো বড় সেই খেয়াল আছে?
তাহাকে রাগতে দেখে চুপ করলো নূর। তাহার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময়।তারপর হঠাৎই বলে উঠলো
—“ভালোবাসো আমার ভাসুরকে?
—“জানি না
সোজা উওর তাহার। তারপর আর কিছু বললো না। উঠে চলে গেলো রুমে। আর নূর ঠোঁট উল্টে তাকিয়ে রইলো তাহার যাওয়ার দিকে।

ফাহাদ গিয়ে নিজের কেবিনে বসতেই দৌড়ে কেউ কেবিনে প্রবেশ করলো। ফাহাদ চোখ বন্ধ করে ছিলো বিদায় বুঝলো পারলো না। আগন্তুকটি ফাহাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।
এবার কারো উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ খুললো ফাহাদ। নিজের পাশে আরাবীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আরাবীর চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।ফাহাদ সেটা খেয়াল করেই উতলা হয়ে উঠলো।আরাবী অকারণে কাঁদে না এটা জানে ফাহাদ।এখন কি হলো তারজন্য এমন কাঁদছে সেটা ভেবেই আরাবীর কাছে গেলো।ওর গালে হাত রেখে চোখের পানি মুছে দিলো।তারপর নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো

—“কি হয়ে আরা কাঁদছ কেনো?
—“আজকে ২ মাস হয়ে গেছে ভাইয়ের খোঁজ নেই। আপনি বলেছেন তাড়াতাড়ি ভাইয়াকে খুঁজে দিবেন।তাহলে এখনো দিলেন না কেনো?
আরাবীর কান্না কারণ এবার বুঝলো ফাহাদ। ফাহাদ আবার ও চেয়ারে বসে পড়লো তারপর আরাবীকে বসালো কোলের উপর। ওর গাড়ে থুতনি রেখে ওর দিকে তাকালো। চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। ফাহাদ আবার ও নরম কন্ঠে বললো
—“আসবে তো এ্যাশ।এতো চিন্তা কেনো করছো?এ্যাশ ঠিক আছে।খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে। এবার বলো পরিক্ষা কেমন হলো?
ভার্সিটিতে পরিক্ষা চলছে আরাবীর।সেখান থেকেই সোজা এখানে এসেছে সে।ভার্সিটি থেকে পরিক্ষা দিয়ে বের হতেই সবার মুখে এ্যাশকে নিয়ে খারাপ কথা শুনছে সে।তার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।মরে গেছে এই।সে থেকেই কাঁদছে আরাবী।ভাইয়ের বিষয়ে সে বড্ড নরম।কোনো কিছু সহ্য হয় না ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
আরাবী নাক টেনে বললো
—“ভালো হয় নি।ফেইল করবো সিওর।
—“এভাবে বললে হয়?ফেল্টুস মেয়ে কিন্তু বিয়ে করবো না আমি।
আরাবী ঘাড় ঘুরিয়ে ফাহাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।তারপর ওকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো কর্কষ কন্ঠে বললো

—“আমাকে কি আপনার ১৬-১৭ বছরের মেয়ে মনে হয়?২২ বছর চলে আমার।তাই আমাকে এসব বলে ভাববেন না আমি আপনার এমন কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হবো। হু
—” তাই? বিয়ের বয়স তো বেরিয়ে যাচ্ছে। ২ দিন পর ৩০ এ পা দিয়ে দিবে।বুড়ি হয়ে যাচ্ছো। চলো বিয়ে করে নেই।
—“ভাইয়াকে খুঁজে বের করুন। ভাইয়াকে ছাড়া বিয়ে করবো না আমি।
বলেই রুমে থাকা সোফায় গিয়ে বসলো আরাবী। ফাহাদ ঠোঁট কামড়ে হেসে তাকিয়ে রইলো আরাবীর দিকে।
সেদিনের পর থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ফাহাদ আরাবীর। ফাহাদ যতটা আঁকড়ে ধরেছে আরাবীকে। আরাবী ও তেমন ভাবেই আকরে ধরেছে।আর সেটা হয়েছে এ্যাশকে হারিয়ে। এ্যাশ হারানোর পর থেকেই আরাবিকে সামলেছে ফাহাদ।যারজন্য আজ ফাহাদ আরাবির এতোটা আপন হয়েছে। মাঝে মাঝে অভিমান করে বসে থাকে। আর ফাহাদ সেই অভিমান সময় নিয়ে ভাঙায়। মাঝে মাঝে নিজেই নিজের উপর হাসে ফাহাদ। এই ফাহাদ আর এক বছর আগের ফাহাদ কি এক?দুজনের মধ্যেই এখন আকাশ পাতাল তফাত।

গোসল করে আয়নার সামনে বসে আছে তাহা।চোখ দুটো আয়নার মধ্যে দিয়ে তার গলার চেইনের উপর নিবন্ধ। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তাহার। তাহা সেগুলো মুছে চেইনের উপর হাত রাখলো।
চেইনটা এ্যাশ দিয়েছে। এ্যাশের দেওয়া প্রথম উপহার।
সেদিন এই চেইনটা পড়িয়ে দিয়ে আয়নায় তাহার দিকে তাকিয়ে এ্যাশ বলেছিলো
—“তোমার প্রতি এই অনুভূতি ভালোবাসা নাকি ভালোলাগা এটা আমি জানি না,হয়তো কখনো জানবো ও না,তবে আমার আসক্তি হয়ে গেছো তুমি,বড্ড জ্বালাচ্ছো আমায়। ঘুমাতে গেলেও এখন তোমার মুখটা ভাসে,তোমাকে চায় এই মন।আমাকে ছেড়ে যেও না,বিশ্বাস করো কখনো ভালো বাসতে না পারলেও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা অব্ধি তোমাকে ছাড়বো নাহ।
বড্ড কাতর স্বরে বলেছিলে এ্যাশ তাহাকে কথা গুলো।অথচ তাহা তা শুনে নি। চলে এসেছে এ্যাশের থেকে।আর এখন ডির্ভোসের পদ্ধতি নিচ্ছে। ডির্ভোস দিবে।এ্যাশের আকুতি ভরা কথা গুলো ও সে উপেক্ষা করবে।শুধুমাত্র তার অতীতের জন্য। মনটা শক্ত করে একটান দিয়ে চেইনটা খুলে ফেললো তাহা।তারপর সেটা তুলে রাখলো আলমারিতে। ক্লান্ত শরীলে বিছানায় যেতেই চোখ বেয়ে অঝরে পানি পড়লো।তাহা আর এখন সেটা লুকালে না।বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদে উঠলো শব্দ করে।সেই কান্নার কারণ অজানা তার।হয়তো কাউকে পেয়ে ও হারানোর কান্না এটা।

পরেরদিন গুলো খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলো এরমধ্যে কেটে গেলো আরো একটা মাস।তাহা ফাহাদের কোম্পানিতে চাকরী পেয়েছে। ফাহাদ কোনো সাহায্য করে নি সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় চাকরী পেয়েছে তাহা। দিনগুলো এখন তার ভালোই কাটছে। তাহার ভার্সিটির থাকার কারণে তাহা দুপুর ২ টা থেকে রাত ৮ অব্দি কাজ করে।দিনগুলো তার ব্যাস্ততায় যাচ্ছে। সারাদিন ভালো কাটলে ও রাত কাটে যন্ত্রণায়।রাত হতেই ঘুমের বদলে কান্না আসে।সারারাত ঘুমানোর বদলে কেঁদে কাঁটায় তাহা। এ্যাশের কোনো খোঁজ নেই। পুলিশ এখনো এ্যাশকে খুঁজে পায়নি। তবে খোঁজ চলছে খুব শীঘ্রই খুঁজে পাবে সবাইকে আশ্বাস দিচ্ছে। এ্যাশের পুরো কাহিনি জানার পর সবাই এখন আতংকে আছে।
ফাহাদ বাংলাদেশেই থাকে এখন।তবে নিল আর কেনায়া মাঝে মাঝে ঘুরতে আসে। এখন ওরা বাংলাদেশেই আছে। মোহনার সাথে এখন রিলেশনে আছে নিল। মোহনাকে তার ভালো লাগতো আগে থেকেই। কিন্তু মোহনা এ্যাশকে ভালো বাসায় বলতে পারতো না।কিন্তু আস্তে আস্তে সময় গড়াতে এখন মোহনার সাথে সম্পর্কে জরিয়েছে। আফরিনের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে আয়ানের।সামনের শুক্রবার ই ওদের বিয়ে। সবই ঠিকটাক। ভালো আছে সবাই ই।সবার সম্পর্ক ই সুন্দর হচ্ছে, শুধু সম্পর্কে অবনতি ঘটছে ইহান আর নূরের।সেটার কারণ নূরের ছেলে বন্ধ দিহান। তাকে সহ্য হয় না ইহানের।নূরকে ওর থেকে দূরে থাকতে বলে তবুও নূর শুনে না।দিহানের সাথে কথা বলে,ইহানের অবাধ্য হয়ে ঘুরাঘুরি করে দিহানের সাথে। যারজন্য নূরের গায়ে একদিন হাত তুলেছে ইহান। সেদিনের পর থেকেই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে।দুজন দূরে দূরে থাকছে এখন।ইহান এখন রাতে ও হসপিটালে পড়ে থাকে।২,৩দিন পর পর বাড়ি আসে।

রাত ৮ টা সোফায় বসে আছে নূর।শরীল তার ভালো নেই। ইদানীং কেমন অসুস্থ লাগে তার নিজেকে। বমি বমি পায় মাথা ঘুরায়। এখন ও মাথা ঘুমাচ্ছে তার।ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলো সে তখনই হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে উঠতেই সে সোফায় বসে পড়ে। আর সেই থেকে এখন ও বসে আছে। তাহাকে ডাকার শক্তি ও নেই।

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৭

নূর কোনো রকমে উঠে আবার ও ঘর ঝাড়ু দিতে গেলো। কিন্তু বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। মাথা ঘুরিয়ে নিচে পড়লো। একটু আগেই বাসায় এসেছে তাহা।আজকে তাড়াতাড়ি অফিস ছুটি দিয়েছে। তাই গোসল শেষে কাজ নিয়ে বসেছিলো রুমে।হঠাৎই কিছু পড়ার শব্দে দৌড়ে আসে ড্রয়িং রুমে।নূরকে পড়ে থাকতে দেখে কল দেয় ইহানকে। ইহান পাগল পাগল হয়ে আসে বাড়িতে।তাড়াতাড়ি করে নূরকে নেওয়া হয় হসপিটালে।।।।

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here