বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৯
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
আদ্র হসপিটালে এসেছে মিনিট পনেরো হবে।তার বাবার খুব একটা ক্ষতি নাহলেও মাথায় আঘাত পেয়েছে হালকা। কপাল কেঁটেছে। অন্যদিকে এখানে আসার পর তার বাবার সাথে দেখা মিলল তার বাবার পার্সোনাল এসিস্ট্যান্টকেও। বয়সের দিক থেকে যে এখনে যুবতী। মেয়েটার হাতে অল্প চোট পেয়েছে। কিন্তু এখনে জ্ঞান ফেরেনি। বোধহয় চিকিৎসা হয়নি বলেই। কিন্তু তবুও আদ্রর বাবাকে বিচলিত দেখাল। আদ্রকে বলেকয়ে খুব শীঘ্রই সরকারি হাসপাতাল থেকে ভালো কোন হসপিটালে শিফট করাতে বললেন উনি। আদ্র বাবার এমন বিচলিত হওয়ার কারণ না বুঝে উঠলেও ব্যবস্থা করল। ভাবল একজন কর্মচারী বলেই এই চিন্তাটা করছেন উনি। এদিক সেদিক ছুটে শিফ্ট করানোর ব্যবস্থা করে পুণরায় হসপিটালে প্রবেশ করতেই দেখা মিলল একটা ক্রন্দনরত দম্পতির। আদ্র ভ্রু কুঁচকে তাকাল। বুঝার চেষ্টা করল যে কি হয়েছে।
ভালো করে তাকাতেই দেখা গেল তারই বয়সী ছেলেটার কোলে সাদা তোয়ালে জড়ানো সদ্য জম্মানো একটা শিশু বোধহয়। শিশুটার চোখ বুঝে রাখা। মেয়েটা বারবার ঝাপটে নিতে চাইছে বাচ্চাটাকে।আর আহাজারি করে কান্নাকাটি করছে। দেখে মনে হচ্ছে সে জীবনের খুব প্রিয় কিছু হারিয়ে ফেলেছে। খুব প্রিয় কিছু! অন্যদিকে ছেলেটার নিরবে কাঁদলেও চোখ ভিজে উঠেছে। আদ্রর মনে হলে এই ছেলেটা হৃদয় এই মুহুর্তে ভঙ্গুর অবস্থায় যেন। খুব করুণ ভাবেই বোধহয় কেউ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে গেছে তার হৃদয়টা।ঠিক যেমনটা মুহু করেছিল তার সাথে। ঠিক যেমনটা ওর পরিস্থিতি ছিল। সেও তো এভাবে কেঁদেছিল, এভাবে ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছিল। আদ্রর কেন জানি না একমুহুর্তের জন্য ছেলেটার অবস্থা দেখে কষ্ট হলো। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। কিছুটা এগিয়ে বুঝতে পারে কান্না করার কারণটা। সদ্য জম্মানে শিশুটা মৃত। মেয়েটা এই কারণেই আহাজারি করছে। বারবার আকুতি মিনতি করছে তার বাচ্চাটা যাতে চোখ মেলে। অথচ মেলছে না! অন্যদিকে ছেলেটা একদিকে তার মৃত বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অপরদিকে স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। বুঝানোর চেষ্টা করছে। আদ্র ছোটশ্বাস ফেলে। তার মনে পড়ে খুব ছোটবেলায় মায়ের বলা কিছু কথা। ছোটবেলায় তার আট বছর বয়সের জম্মদিনে তার মা তাকে কপালে চুমু দিয়ে বলেছিল,
“ আদ্র জানো? যেদিন তোমার উপস্থিতি টের পেয়েছিলাম সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম। খুব। একটা ছোট্ট প্রাণ আমার ভেতর বেড়ে উঠছে জানতেই আমি সেদিন প্রথমবার মা হওয়ার আনন্দে আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর তুমি জম্মালে। ছোট্ট একটা পুতুল, ছোট ছোট হাত পা। নরম তুলতুলে আঙ্গুল। ইশশশ! কি সুন্দর পুতুলের মতো। আমি প্রথমবার তোমায় কোলে নিয়ে আবারও কেঁদেছিলাম আদ্র। অফুরন্ত খুশিতে তোমায় কোলে নিয়ে ঐ ছোট্ট মুখটায় চুমু দিয়েছিলাম বারকয়েক। আর সে আদ্র? সে ছোট্ট পুতুলটার আজ আট বছর হয়ে গেল? এই তো মনে হচ্ছে মাঝরাতে কেঁদে উঠত আমার বাচ্চাটা। চুলগুলো মুঠোভর্তি করে টেনে ধরল পিচ্চি পিচ্চি হাতে। ”
আদ্রর কেন জানি কথাগুলো মনে করে এই সদ্য সন্তান হারানো দম্পতিটার জন্য কষ্ট হলো।আদ্র স্থির কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে থেকে হুট করে মনে হলো এমন একটা সন্তান তার ও দুনিয়ায় আসার ছিল। এমন একটা অস্তিত্ব সৃষ্টিকর্তা তার জন্যও উপহার পাঠিয়েছিলেন। এমন একটা সুন্দর পুতুল তার কোলেও থাকতে পারত যদি আদ্র সেদিন…
আদ্রর হুট করেই মনে হলো এই সময়টায় মিথি প্র্যাগনেন্ট থাকার কথা। হিসেব করলে আটমাস হবে হয়তো ওর প্র্যাগনেন্সির। কিন্তু,,,মিথিকে দেখে তো তা মনে হলো না। অল্প অসুস্থ লাগছিল ঠিক। হয়তো এই কারণেই হসপিটালে এসেছিল মিথি। আদ্র ভাবল। কিয়ৎক্ষন ভেবেই বিড়বিড় করল,
“ ও কি তাহলে সত্যি সত্যিই এবরশন করিয়েছিল? সত্যি সত্যিই কি বাচ্চাটাকে মেরে ফেলেছিল? ”
কথাগুলো বিড়বিড় করে আবার পরমুহুর্তেই থেমে যায়। ও নিজে বাবা হয়েই তো চাইছিল ওর সন্তান মরে যাক,দুনিয়ায় না আসুক। তাহলে? তাহলে মিথি সে সন্তানকে রাখেনি এটা ভাবার পর ওর কেমন লাগছে কেন? নিজের অংশ বলে কোথাও ইগো হার্ট হচ্ছে কি? আদ্র কিয়ৎক্ষন ভেবেই কেমন অস্থির অস্থির লাগল যেন। যার জন্য সে সদ্য টের পাওয়া অস্তিত্বটাকেও নিঃশেষ করার চেষ্টা করেছিল দিনশেষে সেই তো তাকে ঠকাল। সেই তো তাকে ছেড়ে গেল। এটা কি কোনভাবে আদ্রর শাস্তি ছিল?
মিথি, হিয়া আর দীপ্র সদ্য জম্মানো প্রাণটাকে নিয়ে উপস্থিত হলো হিয়াদের বাড়িতেই। আসার সময় অবশ্য বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও নিয়ে এসেছে। কিন্তু ছোট্ট বাচ্চাটা পালনের জন্য মিথি-হিয়া সবাই একদম আনাড়ি বলেই কোন কাঁথা ও সেলাই করা হয়নি আগে থেকে। বেকায়দায় পড়তে হলো এই নিয়ে। তেয়ালে গুলো ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার পর মিথির ওড়না গুলো দিয়েই ছোট্ট প্রাণটাকে জড়িয়ে কোলে নিল। বান্ধবীর বাড়িতে এর আগেও বহুবার এলেও আজ তার সংকোচ হচ্ছে। অস্বস্তি হচ্ছে। কোথাও গিয়ে লজ্জাও হচ্ছে এভাবে আসাতে। বাচ্চাকে দীপ্রই কোলে নিয়ে ভেতরে এল। দীপ্র ভেবেছিল হিয়ার মতো হিয়ার মা-ভাবীও খুব বেশি খুশি হবে এমন ছোট্ট অতিথির আগমণে। কিন্তু খুব একটা আনন্দে ছিটেফোটা দেখা গেল না ছোট্ট বাচ্চাটাকে দেখে। বরং দীপ্রকে দেখেই খুশি হলো যেন। প্রথমেই বলল,
“ দীপ্র নাকি? হিয়ার কাছে তো শুনি তোর কথা। তোর আম্মু কেমন আছে হুহ? কতদিনই তো যোগাযোগ হয় না।”
দীপ্র হেসে উত্তর করল। অতঃপর তার কোলে গুঁটিয়ে থাকা বাচ্চাটাকে নিয়ে একপাশে বসল। দীপ্র এর আগে কখনো এমন করে কোন বাচ্চাকে কোলে তুলে নি। অনেকটাই ভয়ই পেত নবজাতক শিশুকে কোলে তুলতে। তবে আজ ওর ভালোই লাগছে। মনে মনে খুব গর্ববোধও করছে যে সে এইটুকু বাচ্চাকে কোলে নিতে শিখে গেছে।
মিথির মা হওয়ার আনন্দটা ঠিক যতটুকু ঠিক ততটুকুই তার শারিরীক অসুবিধাও, যন্ত্রনাও। তবুও আনন্দটাই টের পাচ্ছে ও। শান্তি শান্তি লাগছে। মিথির পা ফেলতেও কষ্ট হচ্ছিল। যন্ত্রনা হচ্ছিল। গাড়ি থেকে নেমে হিয়ার সহযোগিতাতেই হিয়াদের ঘরে পৌঁছাল। অতঃপর হিয়ার পরিবারের সবার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলল। তবুও ভেতরে ভেতরে একঝাঁক লজ্জা, অস্বস্তি আর সংকোচে খচখচ করছিল। অথচ এর একটুখানি পরই তার বাবার বাড়ি। তারই বাড়ি ছিল একসময়ে। মিথি সে বাড়িটায় যদি আজ যেত তাহলে এতোটা সংকোচ হতো না। এতোটা লজ্জাও পেত না। অথচ ও বাড়িতে যাওয়ার ভরসা আর পায় না ও। একবার তো গিয়েছিল ভরসা করে। নিজের সর্বোচ্চ বিশ্বাস, ভরসা রেখে সে বাড়িতে গিয়ে পেয়েছিল অপমান আর অবহেলা! আজ বোধহয় মা বাবা থাকলে তার এমনকিছুই ফেইস করতে হতো না জীবনে।
তখন প্রায় রাত আটটা। মেয়ের সাথে সাথে মিথির নিজেরও ঘুম এসে গিয়েছিল। তবে ঘুম ভাঙ্গল হুট করেই। পাশের রুম থেকে কিছুটা ফিসফিস স্বর ভেসে এল। মিথি ঘুমঘুম চোখে না চাইতেও ওপাশ থেকে কারো চাপা স্বরে শুনতে পেল,
“ বন্ধুবান্ধবদের জন্য যে এত করছিস, তোর বিপদে কেউ তোর খোঁজ নিবে? কেউ তোরে একটি সান্ত্বনা দিতে আসবে? আমিও দেখব তো। কি দরকার ছিল শুধু উটকো ঝামেলা কাঁধে নেওয়ার। কোন প্রয়োজন ছিল? ও তো গ্রামেরই মেয়ে। গ্রামের মানুষ এইনিয়ে কতকিছু শোনাবে। তুই শুনবি এইগুলা? তুই তো চলে যাবি। ”
মিথির চোখজোড়ার ঘুমঘুম ভাব কেটে এল। আরেকটু শুনতেই হিয়ার গলা এল। বলল,
“ আস্তে বলো না আম্মু। শুনতে পাবে ও। এভাবে একজনের বিপদে এসব বলো কি করে তুমি? তাছাড়া মিথি আমার সাথে ছোটবেলা থেকে যেভাবে ছিল এটাই তো অনেক। অনেক না? ”
” হু অনেককক! এতই অনেক যে বিয়ের সময় ও তোরে বলে নাই। আর তুই? জানপ্রাণ দিয়ে ফেলতেছস।যেখানে ওর ভাই-ভাবীই ওরে দেখতেছে না। ”
মিথির গলা ভিজে এল যেন। শুকনে ঢোক গিলল ও। পরবর্তীতে হিয়া বলল,
“ আম্মু, আমার এখন মনে হচ্ছে ওরে এখানে এনেই ভুল করেছি। তুমি এমন করবে জানলে আনতামই না আমি। ”
“ আমি তো আনতে বলিনি। গ্রামভর্তি সমালোচনা হবে। এমনিই সমালোচনা হয়। শুধু শুধু সব জায়গায় সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে তো তোর ভালো লাগে। এই যে ওর জন্য মরিচ, তেল ছাড়া রান্না করছিস। বাড়িতে থাকতে পায়ের উপর পা তুলে খেতি। এখন ওখানে গিয়ে হয়তো রান্নাবান্না করস। আর ওর বাচ্চার কাঁথাকাপড় এসব? এসব কে ধুঁবে? এসবও তুই ধুঁয়ে দিবি হুহ? ”
মিথি নিরবে শুনল। এরপরে আর কোন কথা শোনা গেল না। তবে বুঝতে পারল হিয়ার আম্মু উপর দিয়ে তাকে হাসিমুখে ঘরে তুললেও ভেতরে যে খুশি নন তা স্পষ্টই বুঝা গেল। অবশ্য খুশি হওয়ার তো কথাও নয়। হুট করে ঝুড়ে আসা সমস্যা কার ভালো লাগে?
মিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু কষ্ট করে শোয়া থেকে উঠে বসে।দেখা গেল সে উঠতে না উঠতেই তার মেয়ে আওয়াজ তুলেই কেঁদে উঠেছে। ঘুম ভেঙ্গে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে কাঁদছে। মিথি ছোটশ্বাস টেনে মেয়েকে কোলে নিল। অতঃপর কোলে থাকা ছোট্ট মেয়েকে খাইয়ে ফের ঘুম পাড়াল। কপালে চুমু দিয়ে একপাশে শোঁয়াল। তারপর একদম আস্তে ধীরেই হাত সরিয়ে আনতে চাইল। অথচ তার মেয়ে বোধহয় মায়ের সান্নিধ্যে থাকতে এতোটায় পছন্দ করে যে একটু দূরত্বেই আবারও আওয়াজ তুলে কেঁদে উঠল। মিথি ফ্যালফ্যাল করে চাইল। আবারও সুন্দর করে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াল। ফের আবার সুন্দরভাবে শুঁইয়ে দিয়েই পাশে বালিশ দিল। মাথার বালিশটা হিয়ার মায়ই কাপড় দিয়ে বানিয়ে দিয়েছে গোল করে। বাচ্চাদের নাকি এমন বালিশে শোয়ালে মাথার গঠন সুন্দর গোল হয়।যদিও প্রচলিত ধারণা। মিথি নিচে তাকিয়ে দেখল তোয়ালে ওড়না প্রায় সবগুলারই স্তূপ পড়েছে। তার মেয়ের জন্য কয়েক সেট জামাকাপড় কেনা হলেও কাঁথা বানানো হয়নি। এই পর্যায়ে তোয়ালে বা ওড়না আর পরানোর জন্য নেইও। ও ব্যাগ খুলে হতাশ হলো। পরনের ওড়নাটাই উপর দিয়ে রাখল। হিয়া এল এর কিছুটা সময় পরই। প্রাণকে ঘুমাতে দেখে ছোট্ট ছোট্ট পাঁয়েই এল একদম। মিথিকে ফিসফিস করে বলল,
“ খাবার খাবি তো। উঠতে পারবি মিথি? কষ্ট হবে না? আচ্ছা আমি খাইয়ে দেই তোকে হুহ? তোকে তাহলে কষ্টও করতে হবে না। ”
মিথির চোখ টলমল করল হিয়ার এতোটা যত্ন দেখে। মিথিকে এতোটা ভালোবাসে কেন ও? এতোটা পাশে থাকে কেন? মায়ের বিরুদ্ধে গিয়েও পাশে আছে। মিথি কিছুটা মৃদু গলাতেই বলল,
“ হিয়া, আমি, আমি তোর এত যত্নের বদলে ফিরতি কিছু দিতে পারব কখনো? তুই আমার জন্য এতোটা করছিস…”
“ ফিরতি কিছু দিতে হবে কেন? আশ্চর্য! তোকে বলেছি ফিরতি কিছু দিতে? ”
মিথির চোখ টলমল করলেও কাঁদে না। হিয়ার হাত জড়িয়ে বলে,
“ ধন্যবাদ দিব না হিয়া কিন্তু তুই আমার জন্য যা করেছিস তা আমার ভাইও করেনি। ”
“ উহ! আমি তোর বোন তো। বোনেরা করে এমন বুঝলি? আর বাচ্চাটা তো আমার ও। আমার বাচ্চার জন্য আমি এইটুকু করব না? ”
মিথি হাসে। বলে,
“ হ্যাঁ। বাচ্চাটা তোরও। হিয়া জানিস? যদি ওর জম্মের সময় আমি মরেও যেতাম না? তবুও তোর উপর দায়িত্ব দিয়ে গেলে আমার আর আপসোস হতো না। জানতাম, এই পৃথিবীতে ওর কেউ না থাকলেও ওর মায়ের একটা বোন আছে।”
হিয়া চোখ রাঙ্গায় সঙ্গেই সঙ্গেই। বিড়বিড় করে বলে,
“ এসব কি ধরণের কথা হুহ? তুই মরে যেতি মানে? তোকে মরতে দিতাম বেয়াদব? ”
মিথি হাসল। হিয়া ফের বলল,
“ একটু পাশে বস। আমি খাবার আনছি। কোন প্রয়োজন হলে আমায় বলবি হুহ? কোন সংকোচ করবি না মিথি। হিয়া সবসময় তোর পাশে আছে বুঝলি? ”
মিথি মাথা দুলাল। হিয়া চলে গেল। একটু পরই ফিরে এল। একদম ঝাল-তেল কম দিয়ে রান্না করেছে সে।
হিমেলরা জ্যামে পড়ে ছিল অনেকটা সময়। অতঃপর যখন ফিরল বাসায় তখন রাত।আয়মান, হিমেল দুইজনই ফ্রেশ হয়ে ছাদে এল। হিমেল আকাশের দিকে স্থির কিয়ৎক্ষনি তাকিয়ে আয়মানকে বলল,
“ কল কর ফিজাকে। ”
আয়মান তাকাল। বার কয়েকই খোঁজ নিয়েছে এই নিয়ে মিথির। এবং এইবারও যে এই কারণেই মিথির খোঁজ নিতে কল করতে বলছে তা বুঝেই প্রশ্ন ছুড়ল,
“ আবার ও মিথির খোঁজ নিতে? ”
হিমেল গরম চোখে তাকাল। আয়মান বেচারা এমন বন্ধু নিয়ে বিরক্ত। সে জানত বন্ধু এতকাল প্রেমে পড়েনি। অথচ বন্ধু অনেক আগ থেকেই প্রেমে পড়ে আছে। শুধু যে প্রেমে পড়েছে এমনও নয়।প্রেম বিষয় কষ্ট দুঃখ সব সয়ে এসেছে নিরবে। অথচ কেউ টেরও পেল না। আয়মান কল করল ফিজাকে। শুধাল,
“ ফিজা, মিথি কেমন আছে? ”
“ হিয়ার সাথে তো আর কথা হয়নি। ভালোই থাকবে। কিন্তু কেন? তুমি এতবার জিজ্ঞেস করছো কেন? ”
আয়মান বোকা বোকা চোখে তাকাল। বলল,
“ কি আশ্চর্য! জানতে চাইব না? একটা ছোট্ট বাচ্চা দুনিয়ায় এসেছে। সে কেমন আছে, তার মা কেমন আছে জানতে চাইব না? আমার তো ছোট্ট বাচ্চাটাকে দেখার অনেক ইচ্ছে হচ্ছে।”
ওপাশ থেকে ফিজা বলল,
“ ছবি পাঠাচ্ছি তবুও এমন ঘন্টায় ঘন্টায় আপডেট চেয়ে বিরক্ত করবে না। আমরা নিজেরাও ঘন্টায় ঘন্টায় ওদের ফোন করে বিরক্ত করছি না আয়মান যতোটা তুমি করছো। ”
এইটুকু বলেই ফিজা কল রাখল। অতঃপর এর একমিনিটের মধ্যেই একটা পিচ্চির ছবি এল। আয়মান ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখতে লাগল। গোলগোল ফুলোফুলো মুখ। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে। আয়মান তাকাল। তাকিয়ে দেখতে দেখতেই বলল,
“ হিমেল, দেখ তোর মিথির মেয়ে। ”
হিমেল সঙ্গে সঙ্গেই ফোন নিল। তাকিয়ে দেখল। অতঃপর কিয়ৎক্ষন চেয়েই বলল,
“ এটাতো বাচ্চা মিথিফুল! ”
আয়মান হেসে ফেলল। বলল,
“ মিথিফুল? ”
হিমেল তখনও ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে। হেসে আনমনে বলে,
“ মিথির বাচ্চাকালের চেহারার মতো দেখতে। মিথিকে ছোটবেলায় মিথিফুল ডাকতাম আমি, পরে মুহিবও আমার থেকে শুনে শুনে ফুল বলে ডাকত বলে আমি রেগে আর ডাকতাম। সবসময়ই মিথির উপরই চাপা রাগ দেখাতাম। ”
আয়মান ফের বলে,
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ২৮
“ কিন্তু এইটুকু বাচ্চা যে মিথির মতো কেমনে বুঝলি? ”
হিমেল ভ্রু কুঁচকাল। বলল,
“ মিথিকে কি আমি দুইদিন হলো চিনছি যে ওর বাচ্চাকালের ফুলোফুলো চেহারা আমি বুঝব না?”
