Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬ (২)

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬ (২)

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬ (২)
jannatul firdaus mithila

“ তোকে কাবু করার অধিকার শুধু আমার হবে, অন্যকারোর নয়! এমনকি সামান্য একটা অসুখেরও নয়।”
অবাকের শীর্ষে পৌঁছুলে থমকায় মুখো-অভিব্যাক্তি। তবে সপ্তদশীর নরম মুখখানা কেন যেন থমকায়নি আজ। সেথায় অদ্ভুতভাবে ভেসে উঠল এক পশলা তাচ্ছিল্যের ছাপ। রক্তিম অধরযুগলের নিখুঁত রেখায় আচমকা ফুটে উঠল তাচ্ছিল্যের হাসি। সপ্তদশী আগের ন্যায় নতমুখে দাঁড়িয়ে শান্ত কন্ঠে আওড়াল,
“ কাবু? সে আপনি ভালো পারবেন জানি। শত হলেও হার্টলেস বিস্ট বলে কথা! আধিপত্য বিস্তারে আপনার ঝোঁক যে বড্ড, তা অবশ্য আমার অজানা নয়। ”

আচানক ঘোর ভাঙল যুবকের। মুখাবয়ব থেকে মুহুর্তেই ছিটকে সরে গেল এতক্ষণের অজানা পাগলামো গুলো। তার ফর্সা মসৃণ ললাটে ভাঁজ পড়ল স্পষ্ট। মোটাসোটা ঘাড়টা আরেকটু বাঁকিয়ে আলগোছে তাকাল পেছনে। আগের ন্যায় দৃষ্টি করল তীক্ষ্ণ! পরক্ষণে বাদামী ঠোঁটজোড়া দাঁতের সনে পিষ্ট হলো রূঢ় মানবের। সপ্তদশীর নতমুখ পানে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে সে। যেন ঐ বাদামী চোখদুটো দিয়েই বলে যাবে হাজারো কথা। নিজ সুবুদ্ধিতে ফিরেই যুবক রূপ ধরল চিরচেনা। মস্তিষ্কে বেজে উঠল আগের সে-ই ক্রূরতা। সপ্তদশী মাথা তুলল না, অস্বস্তিতে হাত মোচড়াচ্ছে অনবরত। মুগ্ধের তখন কি হলো কে জানে! একহাতে ধরে রাখা মাহি’র নরম কব্জিসন্ধিতে তক্ষুনি বসালো এক হেঁচকা টান। মুহুর্তের ঘটনায় স্তম্ভিত মাহি! হতচকিত নেত্রে চোখ তুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করল রূঢ় মানবের প্রশস্ত বক্ষের বড্ড নিকটে। মাহি ঢোক গিলল সামান্য।

ভয়ার্ত দৃষ্টি একটুখানি ঘুরতেই হঠাৎ টের পেলো তার নরম-সরম ঘাড় বরাবর পাঁচটে রুক্ষ আঙুলের স্পর্শ। ধীরে ধীরে ঘাড়ের নরম ত্বক খামচে ধরছে সেই রুক্ষ আঙুলগুলো। সপ্তদশীর মুখাবয়বে পরিবর্তন নামছে ক্রমশ। মসৃণ ললাটে ভাঁজ পড়ছে ব্যাথাতুর! ঘাড় বরাবর আঙুলের জোর বাড়তেই তৎক্ষনাৎ ককিয়ে ওঠে মাহি। চোখমুখ খিঁচে হাত ঘুরিয়ে নেয় ঘাড়ের কাছে। এদিকে মুগ্ধ ভ্রুক্ষেপহীন! সরু দৃষ্টে সে-ই কখন থেকে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। সপ্তদশী ককিয়ে যাচ্ছে অথচ তার মধ্যে তেমন কোনো বিচলিত ভাবস্রোত নেই। উল্টো পিয়ার্সিং করা ঠোঁটের কোণে ঝুলছে বক্র হাসির রেশ। যুবক জোর বাড়াল হাতের। মুঠোভরতি সপ্তদশীর সিল্কি চুল, তা নিয়েই টান বসাচ্ছে নিচের দিকে। আহত মাহি ঠোঁট কামড়ে সহ্য করছে চুলের ব্যথা। ধীরে ধীরে ঘাড় কুঁচকায় তার। মুখটা হয়েছে সামান্য উঁচু! তক্ষুনি কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের কর্কশ কন্ঠ!

“ চোখ খোল বান্দীর মেয়ে!”
সহসা চোখের পর্দা সরালো মাহি। ঘোলাটে চোখদুটো মুহুর্তেই আটকালো যুবকের নিষ্প্রাণ বাদামী চোখদুটোর মাঝে। সুদর্শনের মুখখানা সে-কি গম্ভীর! চোয়াল ফুটেছে ব্লেডের ন্যায়। এখনও বোধহয় দাঁতে দাঁত চাপেনি মুগ্ধ। চাপলে নিশ্চয়ই কটমট শব্দ শুনতে পেত সপ্তদশী। মাহি যখন নিজ চাপা কষ্টে মত্ত ঠিক তখনি মুগ্ধ ঘটায় আরেক কান্ড! তক্ষুনি অন্যহাতে মাহি’র নরম গ্রীবাদেশ আঁকড়ে ধরে হিং স্র থাবায়। পরক্ষণে কেমন হিসহিসিয়ে বলে ওঠে,
“ ইউ্য নো হোয়াট বান্দীর মেয়ে? ইউ্য আর রাইট! আমার প্রতিটা জিনিস হোক সেটা আমার পছন্দের কিংবা অপছন্দের, তার প্রতি আমার আধিপত্য বিস্তারের ঝোঁক খুব বেশি। কজ — আই ডোন্ট লাইক টু শেয়ার এনিথিং উইথ এনিবডি। আমার রাজত্বের একমাত্র ভোগকারী আমি নিজেই!”
মাহি’র ছলছল চোখদুটোর কালো কুচকুচে মণি জোড়া থেমে গেল এক জায়গায়। দৃষ্টি হলো অনুভুতি শূন্য! মস্তিষ্ক বড্ড ফাঁকা এমুহূর্তে। মনের কোণে উত্থাপিত হয়েছে হাজারো প্রশ্ন। মাহি সময় নিয়ে ঢোক গিলল। সন্দিগ্ধ ভঙ্গিতে পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল মুগ্ধের পানে। যুবকের বাদামী চোখদুটোর ভাষা বড়ো জটিল! পড়তে গেলে হারিয়ে যাবার উপক্রম সপ্তদশীর নিজেরই। সে সময় নিলো খানিক! তিরতির করে কাঁপতে থাকা অধরযুগল সামান্য নড়ল তার। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরুলো —

“ কেনো করছেন এতকিছু?”
যুবক ঠোঁট বাকিঁয়ে হাসলো। প্রাণহীন ঠান্ডা সে হাসি! যার আদ্যপ্রান্তে কেবল কুটিলতা! মুগ্ধ তখন আলগোছে ছেড়ে দিলো মাহি’র নরম গ্রীবাদেশ। পরক্ষণে সপ্তদশীর চুলের ভাঁজে লুকায়িত নিজ রুক্ষ আঙুলগুলো ধীরেসুস্থে আলগা করতে করতে ক্রুর কন্ঠে জবাব দিলো —
“ কুরবানির আগে পশুকে সাজানো গোছানো হয় কেনো?”
বিহ্বলিত ছাপ ধরেছে মাহি’র ক্ষুদ্র মুখ। অবোধের ন্যায় যুবকের পানে তাকিয়ে থেকে হতবাক কন্ঠে প্রতিত্তোরে বলল,
“ কুরবানির উদ্দেশ্যে!”

তৎক্ষনাৎ রূঢ় মানবের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসির রেশ দৃশ্যমান হলো। সপ্তদশীর চুলের ভাঁজ থেকে সম্পূর্ণরূপে আলগা হলো তার রুক্ষ আঙুল। নিজ উদ্যোগে মধ্যকার দুরত্ব বাড়িয়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল মুগ্ধ। বলিষ্ঠ দেহখানা টানটান করে, হাত গুঁজল পকেটে। এদিকে তার ওমন বাঁকা হাসি দেখে দোটানায় পড়ল মাহি। চোখেমুখে লেপ্টে গেল একরাশ জিজ্ঞাসা। বোকা মানবী খানিকটা স্থির হয়ে নিজ প্রতিত্তোরে আবারও মনোযোগ টানলো। বিচক্ষণতার সঙ্গে একে একে দু মিলতেই চট করে বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে হড়বড়িয়ে তাকাল সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নির্দয় মানবের পানে। যার ক্রুর চাহনি আপাতত মাহি’তে নিবদ্ধ। মাহি ভড়কায়! থতমত চেহারা নিয়ে থেমে থেমে আওড়ায়,
“ তার মানে….আপনি আমাকেও মে’রে… ”

বাকিটা আর জিভ খসানোর ফুরসত হয়নি। তার আগেই মুগ্ধের কুটিল হাসি এবং ক্রুর চাহনি সবটা বুঝিয়ে দিলো বোকা সপ্তদশীকে। তবুও নরম দিলের মাহি! অবচেতন মনের কোণে কোথাও না কোথাও একটুখানি অবিশ্বাসের দানা এসে উঁকি – ঝুঁকি দিতেই সম্মুখ থেকে শোনা গেল মুগ্ধ নামক নির্দয় মানবের রাশভারি কুটিল কন্ঠ!
“ শত্রুর মেয়েকে বেশিদিন বাঁচিয়ে রেখে অন্ন ধ্বংস করার মতো দরদী আমি নই বান্দীর মেয়ে! তাই খুব তারাতাড়ি তোকে তোর শ্বশুরবাড়ি পাঠাব। এজন্যই না তোর ওতো খাতিরযত্ন করছি!”
সহসা ভ্রু গোছালো মাহি। সুশ্রী গৌরবর্ণা মুখখানায় দেখা মিললো এক আকাশসম সন্দিগ্ধতা। মায়াবিনীর চোখদুটো কেমন ছলছল হয়ে গেল দেখো! চিবুক নামালো গলার কাছে। সামান্য নাক টেনে টেনে মায়াবিনী মোটা কন্ঠে শুধালো,
“ সত্যি মে’রে ফেলবেন আমায়? তা কবে মা’রবেন শুনি?”

নতমুখে বাক্যটুকু আওড়ে থেমে গেল মাহি। চোখ তুলে মোটেও তাকালো না সম্মুখে। এদিকে একজোড়া দাম্ভিক কদম তখন গটগটিয়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো মাহি’র মুখোমুখি। অতঃপর কোনরূপ বলাকওয়া ছাড়াই রূঢ় মানব তক্ষুনি শক্তপোক্ত হাতের জোরে এক ঝটকায় কাঁধে তুলে নিলো সপ্তদশীকে। মাহি নির্বিকার! কাঁদছে বোধহয় নিরবে। এবার আর বাঁধ সাধেনি বোকা মানবী। নাকের পাটা ফুলিয়ে, চোখ থেকে দুয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়াতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের শান্ত অথচ রূঢ় কন্ঠ!
“ আগে তোকে সুস্থ করে নিই বান্দীর মেয়ে! তারপর নিজ হাতে নাহয় মা’রব তোকে।”

বিশালাকৃতির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের রাজকীয় মখমলি বিছানায় বসে আছে মাহি। তার নতমুখটায় বুঝি আমাবস্যা নেমেছে আজ! সে-ই সাথে রাজ্যসম বিরক্তিতে ছেয়ে গিয়েছে তনুমন। আপাতত তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার অর্ধশত বেস্ট ডক্টরস। কেউ কেউ সফেদ রঙা এপ্রোণ জড়িয়ে আছে গায়ে, তো আবার কেউ কেউ গায়ে জড়িয়ে রেখেছে সামান্য হুডি। কারো কারো ফর্সা গা উম্মুক্ত! কেউ আবার পরে আছে সামান্য স্যান্ডো গেঞ্জি। ওমন বলাকওয়া ছাড়া মাথার ওপর কালো মুখোশ জড়িয়ে, জোর করে তুলে আনলে এমন দশা তো হবেই! বেচারারা যা বেহাল দশায় পড়লো না! তাদের ওমন বেগতিক দশা দেখে লজ্জিত মাহি! পুতুলের ন্যায় মাথা নুইয়ে বসে আছে বিছানার ওপর, আর তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে একঘর ডাক্তার!

এদিকে, থরথর করে কাঁপছে ঘরভর্তি ডক্টরস। মনস্টারের হিডেন প্যালেসে পা পড়েছে তাদের, এবার এখান থেকে প্রাণ হাতে করে বাড়ি ফিরতে পারবে কি-না তা নিয়ে বড্ড শঙ্কিত সকলে। ঘরভর্তি মানুষজন যখন নিজেদের উৎকন্ঠায় মত্ত, ঠিক তখনি কামরার সুবিশাল দরজা দিয়ে হড়বড়িয়ে ঢুকল গোটাকতক অস্ত্রধারী গার্ডস। প্রত্যেকের বেশভূষা একই ধরনের। দেখতেও ভীষণ মজবুত প্রকৃতির। তাদের দেখেই ভয়ে তটস্থ ডাক্তাররা। জড়সড়ভাব নিয়ে দাঁড়ালেন সবাই। এরইমধ্যে দরজা দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘরে প্রবেশ করল এডউইন। বামহাতে তার বিশাল ব্যান্ডেজ, গলায় ঝুলছে আর্ম স্লিঙ্গ। ফর্সা ললাটপটের অর্ধেকটা ঢেকে গিয়েছে সফেদ রঙা মোটা ব্যান্ডেজের আড়ালে। যুবকের মুখাবয়বে একরাশ ক্লান্তি! ভিন্ন রঙা চোখদুটোতে ভর করেছে ঈষৎ লালাভ আবরণ। সারারাত না ঘুমিয়ে থাকার ফল আরকি। গম্ভীর মুখো এডউইন ঘরে ঢুকেই কেমন স্থির হয়ে দাঁড়াল। পরক্ষণেই কন্ঠে গাম্ভীর্যের ছাপ ফুটিয়ে কাঠকাঠ ভঙ্গিতে শুধালো,

“ পুট ইউ্যর হেড ডাউন এভরিওয়ান। মনস্তার ইজ কামিং।”
তৎক্ষনাৎ হুকুম তামিলে ব্যস্ত হলেন প্রত্যেকে। ঘাড় নুইয়ে নজর ঝোঁকালেন আলগোছে। এডউইনও বাদ যায়নি! গম্ভীর মুখে ঠিকই নুইয়ে নিলো ঘাড়। প্রায় মিনিট দুয়েক পর, কামরার সম্মুখ দুয়ার দিয়ে আগমন ঘটল একজোড়া শক্তপোক্ত দাম্ভিক কদমের। মার্বেলের মসৃণ তকতকে মেঝেতে ব্যুটজুতোর মোটা পাটাতনের ঠকঠক শব্দ তুলে এগোচ্ছে মনস্টার। তার প্রতিটি কদমের শব্দ যেন কাঁটা ধরিয়ে দিচ্ছে প্রত্যেকের গায়ে। শুধু তার জুতোর ঠকঠক শব্দ নয়, বরং মার্বেলের ফ্লোরের সঙ্গে আরো একটা ধাতব নলের চিড়বিড়ানো ঘর্ষণের শব্দ তীব্রভাবে কানে বাজছে সবার। তবে প্রাণের ভয়ে কেউই আর সম্মুখে চোখ তুলে তাকানোর দুঃসাধ্য দেখায়নি। মনস্টার আজ ফের আবির্ভূত হয়েছে নিজ চিরচেনা খোলসে। গায়ে জড়ানো কালো রঙা ওভার ক্লোক, হাতা দুটো সামান্য উঁচালেই প্রজাপতির ডানার ন্যায় স্পষ্ট সে রূপ। সুদর্শন মুখখানা ঢেকে আছে কালো রঙা ফুল মাস্কে, মাথায় বসেছে কালো রঙা বড় একখানা গোল টুপি। মনস্টারের ডানহাতের কব্জিসন্ধিতে ঝুলে আছে তারই সিগনেচার ব্রেসলেটটা। মাস্কের আড়ালেই ঠোঁটের কোণে গুঁজে রাখা জ্বলন্ত সিগার। ক্ষনে ক্ষনে তাতে ফুঁক বসাচ্ছেন যুবক। দাম্ভিক কদমের ধীরগতিতে ভর দিয়ে এগিয়ে গেল কামরার একপাশে সগৌরবে বিছিয়ে রাখা ডিভানের কাছে। সেথায় রয়েসয়ে গা এলিয়ে বসল মুগ্ধ। চট করে পায়ের ওপর পা তুলল নিজ আঙ্গিকে। এতক্ষণ বাহাতে থাকা বড়সড় স্নাইপার বন্দুকখানা ফ্লোরে ঠেকিয়ে রেখে, তার অগ্রভাগে হাত রাখলেন চেইন স্মোকার মনস্টার। রাজকীয় ভঙ্গিমায় সিগার ফুঁকতে ফুঁকতে ভারী কন্ঠে আদেশ ছুড়ঁল!

“ ওকে সুস্থ কর তারাতাড়ি। যেভাবেই হোক আমার সিগার শেষ হবার আগে ওর সুস্থ হয়ে উঠা চাই। নাহলে…. ”
বাকিটা আর বলতে হয়নি যুবকের। তার আগেই কাজ হলো। সম্মানিত ডাক্তারগণ চটজলদি এগিয়ে এসে ভীষণ ভালোভাবে পরোখ করতে লাগলেন মাহি’কে। মধ্য থেকে একজন হুট করেই সপ্তদশীকে জিজ্ঞেস করে উঠল,
“ আপনার কি সমস্যা মিস?”
ভীতু মাহি নতমস্তকে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে বারবার। হুট করে ওতো মানুষকে একসঙ্গে দেখে বড্ড অস্বস্তি হচ্ছে অন্তর্মুখী মানবীর। নিজ অজান্তেই তার চেহারায় ফুটে উঠেছে বড়ো হাসফাস ভাবস্রোত। তা আর কেউ দেখুক বা না দেখুক, অদূরে ডিভানের কোলে বসে থাকা মুগ্ধ ঠিকই দেখল। ছেলেটা তৎক্ষনাৎ ঠোঁট থেকে সিগার নামিয়ে কঠিন গলায় হুংকার ছুঁড়ে বলল,
“ দু’জন বাদে সবাই পেছনে যা! আমার প্রপার্টির অস্বস্তি হচ্ছে!”
ভড়কান সবাই! মাথা নাড়িয়ে একে-অপরের পানে চোখাচোখি করবার জো নেই তাদের। ফলে কে থাকবে, আর কে যাবে এ নিয়ে সকলে পড়ল বড়ো দোটানায়। এমতাবস্থায় সেকেন্ড ত্রিশেক কেটে যেতেই আচমকা সম্পূর্ণ কক্ষ কেঁপে উঠল মনস্টারের হিং স্র গর্জনে!

“ জাস্ট ডু ইট ফাস্ট বা’স্টার্ডস।”
সহসা কেঁপে ওঠে প্রত্যেকে। ভয়ে শুকনো ফাঁকা ঢোক গিলে প্রত্যেকে পা ঘোরালো উল্টোপথে। সামনে রইলেন কেবল দু’জন মেডিসিন স্পেশালিষ্ট। মধ্যবয়স্ক অভিজ্ঞ ডক্টর দু’জন মেয়েটার মলিন মুখখানা খানিক পরোখ করে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“ কাইন্ডলি আপনার সমস্যাটা বলবেন মিস? আপনার ঠিক কোথায়, কেমন কষ্ট হচ্ছে?”
সপ্তদশী চিবুক ঠেকিয়েছে গলার কাছে। ফাঁপা ঢোক গিলে মিনমিনে স্বরে কেবল শুধালো,
“ সর্দি লেগেছে। বৃষ্টি ভিজেছিলাম তাই!”
অদৃশ্য হোঁচট খেলেন ডাক্তার মহাশয়েরা। কয়েক মুহুর্ত কাটালেন হতভম্বতায়। কানে ভুল শুনলেন কি-না যাচাই করতে সম্মুখের মধ্যবয়স্ক কেমন ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“ মিস! আপনি কি সামান্য সর্দিকাশির কথা বললেন?”
সপ্তদশী তৎক্ষনাৎ ওপর নিচ নিঃশব্দে মাথা নাড়ায়। তবে তক্ষুনি ডিভানে বসে থাকা রূঢ় মানব কেমন দাঁত খিঁচে হুংকার ছুঁড়ে বলে ওঠে,

“ সকাল থেকে চারবার হাঁচি দিয়ে ফেলেছে, আর সেটা তুই সামান্য বলিস কোন স্পর্ধায় বা’স্টার্ড? তারাতাড়ি ওকে সুস্থ কর! নাহলে তোকে ইমার্জেন্সি লাইফ সাপোর্টে পাঠিয়ে দিব।”
মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে ডাক্তারের। একটা মানুষ সকাল থেকে চারবার হাঁচি দিয়েছে, সেটাও কি খুব বড় কিছু? আর এমন একটা সামান্য বিষয়ের জন্য কি-না তাদের মতো বেস্ট ডাক্তারদের ওমন হুলস্থুল কান্ড বাধিয়ে তুলে আনা হয়েছে? সিরিয়াসলি? মনে মনে বড়ো বিরক্ত ডাক্তার সাহেব। তবুও মুখাবয়বে মেকি গাম্ভীর্যের ছাপ ফুটিয়ে রেখে, গলার কাছে ঝুলে থাকা স্ট্যাথোস্কোপটা আলতো করে হাতে নিলেন। ডাক্তারি যন্ত্রটার দুপাশে থাকা দু’টো ইয়ারপিস কানে ঠেকিয়ে, চেস্টপিস মাহি’র বুকের কাছে এগিয়ে আনতেই আচমকা বেচারা ডক্টরের গালে সপাটে বসল এক চড়! চড়ের সে-কি তীব্রতা! বেচারা মধ্যবয়স্ক ফরেনার তক্ষুনি গাল বাকিয়ে ছিটকে পড়লেন মেঝেতে। চোখের সামনে সবটা কেমন ঝাপসা দেখাচ্ছে তার। কানের কাছে শব্দ হচ্ছে ভনভন। মুখগহ্বর ভরে যাচ্ছে উষ্ণ ক্ষারীয় স্বাদে! গালটা যা জ্বলছে না বেচারার। মনে হচ্ছে কেউ বুঝি একমুঠ মরিচের গুঁড়ো ইচ্ছে মতো ডলে দিয়েছে বেচারার গালে। ডাক্তার নিজেকে সামলে উঠতে পারেনি এখনো। এরইমধ্যে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে মনস্টারের বজ্র কন্ঠে,

“ হোয়াট দ্য ফা’ক আর ইউ্য গোয়িং টু ডু ব্লাডি এসহোল! তোর সাহস কি করে হলো ওকে স্পর্শ করতে যাওয়ার?”
এহেন বজ্র কন্ঠে কেঁপে ওঠে উপস্থিত সবাই। বেচারি ভীতু মাহি কাঁপছে থরথর করে। এদিকে মুগ্ধ বেপরোয়া! তার সামনেই কি-না তার প্রপার্টিতে হাত বাড়ানোর দুঃসাধ্য দেখিয়েছে কেউ! একি আর প্রাণে সয়? বেপরোয়া যুবক খেই হারালো নিজের। তক্ষুনি দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বাহাতে থাকা স্নাইপার বন্দুকখানা উঁচিয়ে লম্বাটে ধাতব নলের আগা তাক করল মেঝেতে পড়ে থাকা ডাক্তারের দিকে। এহেন দৃশ্য দেখমাত্রই আঁতকে ওঠে মাহি। ত্বরিত এক লাফে এগিয়ে এসে আঁকড়ে ধরল মনস্টারের দু’হাত। ভড়কানো কন্ঠে অনবরত অনুনয় জুড়ে বলল,
“ প্লিজ উনাকে কিছু করবেন না। উনার কোনো দোষ নেই! উনি তো ডাক্তার! এটা উনার ডিউটি।”

মাথার র ক্ত গুলো টগবগ করছে যুবকের। সর্বাঙ্গ জ্বলছে রাগে। ফলে সপ্তদশীর ওমন অনুনয় মোটেও কানে নিলো না বেপরোয়া পুরুষ। উল্টো এক ঝাঁকুনি দিয়ে মাহি’র হাতদুটো নিজ হাতের ওপর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে, স্নাইপারের ট্রিগার টানলো। এর ঠিক পরমুহূর্তেই বিকট শব্দে একের পর এক অগ্নিবর্ষী সীসা বৃষ্টির ন্যায় ঝরতে লাগল বেচারা নিরপরাধ ডাক্তারের সর্বাঙ্গে। এক নিমিষেই ঝাঁঝরা হয়ে গেল বেচারার আস্ত দেহ। মার্বেলের সম্পূর্ণ তকতকে মেঝেতে ছড়িয়ে গেল উষ্ণ তাজা লহু। কিছু কিছু ছিটেফোঁটা একইভাবে ভিজিয়ে দিচ্ছে মনস্টারের সর্বাঙ্গ। নেহাৎ গায়ে কালো রঙা কাপড় পরেছে বিধায় লাল রঞ্জক তরলের খুব একটা উপস্থিতি দৃশ্যমান নয়। অন্যদিকে এরূপ ভয়ংকর দৃশ্যে একদফা ভয়ার্ত শোরগোল পড়ে গেল উপস্থিত সকল ডক্টরদের মাঝে। কক্ষ জুড়ে চলছে প্রত্যেকের আত্ম চিৎকার। অথচ মুগ্ধ নামক বেপরোয়া যুবক থামছেনা মোটেও। স্নাইপারের সবগুলো অগ্নি সীসা সে বোধহয় আজ খালি করে ছাড়বেই। ওদিকে মাহি স্তব্ধ! চোখের সামনে ওমন এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখে প্রতিক্রিয়াহীন বেচারি। চোখদুটোর কোটর ভরে যাচ্ছে অতিদ্রুত। সম্মুখে সবটা কেমন ঝাপসা দেখাচ্ছে তার নিকট।

প্রায় মিনিট পাঁচেক পর থামল মুগ্ধ। ডাক্তারের অস্তিত্ব আর আস্ত নেই! দেহের অবস্থা বড্ড করুণ তার। কোথায় শরীরের কোন অংশ তা বোঝা মুশকিল। বেপরোয়া মনস্টার বড়ো বড়ো নিশ্বাস ফেলছে। রাগে কটমট শব্দ তুলছে চোয়াল! ঘরভর্তি ডক্টরস এখনো চিৎকার করছে বিধায় যুবক আলগোছে ঘাড় কাত করল সামান্য। বড়সড় গোলাকার টুপির ছত্রছায়ায় লুকিয়ে থাকা তার চোখদুটো দেখা যায়নি তেমন। কিন্তু এতেই বুঝি কাজ হলো। ডাক্তাররা সব কেমন সঙ্গে সঙ্গে কুলুপ আঁটলেন মুখে। মুগ্ধ হাসল ঠোঁট পিষে! তা অবশ্য লুকায়িত মাস্কের আড়ালে। পরক্ষণে সে কেমন আলতো করে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় আরেক পাশে। ভয়ার্ত মাহিকে বিছানার একপাশে ওমন স্তব্ধ আকারে গা বাঁকিয়ে বসে থাকতে দেখে বাঁকা হাসল নির্দয় মানব। হাতে থাকা স্নাইপার বন্দুকটা নিয়েই এগিয়ে এলো মেয়েটার নিকট। স্তম্ভিত মাহি এখনো তাকিয়ে আছে লহুতে ভেসে থাকা ফ্লোরের পানে। তার মস্তিষ্ক বোধহয় অচল এমুহূর্তে, নয়তো বেচারি মুগ্ধকে দেখে ঠিকই গা গুটিয়ে পালাতো এতক্ষণে। অথচ সে বসে আছে ঠায়, নির্জীব হয়ে। এদিকে মুগ্ধ ততক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে মাহি’র মুখোমুখি। অতঃপর কোনরূপ আগাম সতর্কসংকেত ছাড়াই রূঢ় মানব আচমকা এক হিং স্র থাবায় চেপে ধরল মাহি’র নরম তুলতুলে রাজহংসীর ন্যায় আকর্ষণীয় কন্ঠদেশ। হাতের জোর বাড়ালেও নির্বিকার মাহি! মুগ্ধ কেমন দাঁত কিড়মিড় করতে করতে সপ্তদশীর মুখটা খানিক উঁচুতে তুললো। মাহি’র ছলছল চোখে চোখ রেখে এক অদ্ভুত অধিকারবোধে চিড়বিড়িয়ে চাপা হুংকারে বলল,

“ ইউ্য নো না বি’চ! আ’ম নট আ গুড বয়। ইন ইউ্যর ওয়ার্ডস — আ’ম আ ব্লা’ডি বিস্ট। এন্ড ইয়াহ! আ’ম এক্সেপ্টিং দিস — আ’ম আ ব্লা’ডি বিস্ট। তোর দিকে যে হাত বাড়াবে তার পরিনতিটা ঠিক এমনি হবে, এমনকি তুই যার দিকে নিজে থেকে হাত বাড়াবি তার এবং তোর, দু’জনের পরিনতিটাও ঠিক একই হবে! ডু ইউ্য গেট মি বি’চ?”
সম্মুখের দৃশ্য ঘোলাটে হচ্ছে মাহি’র। ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের সকল নার্ভ কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। সেন্সলেস হবার প্রথম ধাপ এটা! বেচারি ভীতু মেয়ের সাফোকেশন শুরু হয়েছে আবারও। অতিরিক্ত ভয়ে কাঁপতে লাগল তার সর্বাঙ্গ। কাঁপতে কাঁপতে একটা সময় পুরোপুরি জ্ঞান হারালো মাহি। মুগ্ধ ভ্রু কুঁচকায় তা দেখে। তৎক্ষনাৎ মাহি’র কন্ঠা ছেড়ে দিতেই বেচারির নিস্তেজ দেহ লুটিয়ে পড়ল মখমলি বিছানার কোলে। মুগ্ধ তখন চোয়াল শক্ত করে গমগমে গলায় এডউইনকে আদেশ ছুড়ঁল,

“ ওদের সব-কয়টাকে টর্চার সেলে নিয়ে যা। আর আমার প্রাডাকে নিয়ে আয়।”
প্রাডার কথা শুনতেই ত্বরিত বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকায় এডউইন। গলায় খড়া নেমেছে তার। হতভম্বতায় কন্ঠস্বর বাকশূন্য! মনস্টার আবার প্রাডাকে আনতে বলল কেনো? রাগের মাথায় মেয়েটাকে না আবার মে’রে ফেলে। এডউইন পড়ল মহাবিপাকে। আহতাবস্থায় না পারছে মনস্টারকে থামাতে আর না পারছে অন্যকিছু করতে। ওদিকে মুগ্ধ তখন গটগটিয়ে প্রস্থান ঘটালো কক্ষ থেকে। প্রশস্ত করিডর দিয়ে দাম্ভিক কদমে হাঁটতে হাঁটতে যুবক কেমন চিবিয়ে চিবিয়ে বিড়বিড়াচ্ছে,
“ নাহ! তোকে আর বাঁচিয়ে রেখে লাভ নেই বান্দীর মেয়ে। আমার চোখের সামনে তোর দিকে অন্য কেউ হাত বাড়াবে তা আমার শানের খেলাফ, আর তুই আমাকে বাদে অন্য কারোর দিকে চোখ তুলে তাকবি সেটা আমি আমার সহ্য হবে না। সো! আজকের পর থেকে জাহান্নামে ভালো থাকবি।”

শূন্যতায় মোড়ানো কক্ষ! রাতের স্নিগ্ধতা এসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে সম্পূর্ণ কক্ষ জুড়ে। মাথার ওপর এন্টিক ফ্যানখানা বন্ধ! এসি চলছে দুর্বার গতিতে। মখমলি বিছানার কোলে লুটিয়ে আছে অচেতন সপ্তদশী।
রাত সাড়ে ন’টার কাছাকাছি। দাম্ভিক কদমে কক্ষে ঢুকল মুগ্ধ। তার ঠিক পাশে তার প্রিয় পোষ্য প্রাডা। খুশিতে লেজ নাড়াচ্ছে হিং স্র প্রাণী! আজ কতদিন পর মনমতো শিকার করবে সে। কচকচ করে চিবুবে সতেরো বছরের মানব শরীরের নরম হাড়। প্রাডার চোখেমুখে অদ্ভুত খুশির ঝলক স্পষ্ট! অন্যদিকে, নির্দয় মানব এগোচ্ছে ধীরপায়ে। তার বাহাতে একখানা রিভলবার, ডানহাতে ধরে রাখা রা-মের বোতল। ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে রাখা সিগার! যুবক বিছানার পানে এগোচ্ছে তবে তার দৃষ্টি মেঝেতে। সিগারে টান বসাতে বসাতে সে তার পোষ্যকে ইন্সট্রাকশন দিয়ে বলছে —
“ লিসেন প্রাডা! আমি ওর বুকে দু’টো গু লি করব। আর মাথায় একটা। গু লি করার পাঁচ মিনিট পর থেকে তুই ওকে খাওয়া শুরু করবি। ওর সবকিছু একা খাবিনা কিন্তু। ওর অন্ত্রগুলো সাইকির জন্য রাখবি, আর হাত পা একটা একটা করে ড্যানি হ্যালির জন্য রাখবি। স্যান্ডিকে মাথাটা দিয়ে দিস। তুই আমার গুড বয় রাইট?”

প্রাডা জিভ বের করে হুংকার ছুঁড়ল। তারমানে সে রাজি এহেন প্রস্তাবে। হিং স্র মনস্টার কেমন রূঢ় হেসে এগোয় সম্মুখে। তবে দৃষ্টি সামনে পড়তেই আচমকা পা থামল তার। বিছানার চারকোনায় ঝুলছে সফেদ রঙা পাতলা ফিনফিনে পর্দা! আশ্চর্য! এই পর্দাগুলো তো তখন ছিলো না। যুবক কেমন কপাল গোছালো এবার। ঠোঁটের ফাঁক থেকে এক থুকে সিগারটা ফেলে দিলো মেঝেতে। পরক্ষণে ধীর কদমে সম্মুখে এগিয়ে এসে, বন্দুক ধরে রাখা হাত দিয়ে পর্দা সরাতেই থমকায় সে! গোটানো কপালের চামড়া শিথিল হলো নিমিষেই। বাদামি চোখজোড়া থেকে তৎক্ষনাৎ সরে গেল সকল ক্রুরতা। সেথায় এবার ভর করল একরাশ চক্ষু শীতলতা।

বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছে মাহি। সিলিংয়ের ওপর নিবুনিবু আকারে জ্বলতে থাকা হলদে বাতির টিমটিমে আলোয় সে-কি রূপ বেরিয়েছে সপ্তদশীর! টানা ভ্রু-দ্বয় আজ বুঝি বড্ড নজরকাঁড়া ঠেকছে! ঠোঁট দুটোর নিখুঁত রেখা নজরে আটকাচ্ছে যুবকের। সপ্তদশী ঘুমন্ত! তার বুকের ওঠানামার গতি মৃদু। যুবক অদ্ভুত মোহনীয় দৃষ্টে তাকিয়ে রইল সেদিকে। পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাডা তখন ক্ষুধায় কাতরাচ্ছে। ভুলবশত হুংকার তুলতেই আচানক এক হিং স্র থাবায় তার ঘাড় চেপে ধরে রূঢ় মানব। তক্ষুনি মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে প্রাডার মুখের কাছে মুখ এনে চাপা হুংকার ছুঁড়ে বলল,

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬

“ হুঁশশ! মাই গার্ল ইজ স্লিপিং। আওয়াজ নিচু কর বাস্টা’র্ড। তোর হুংকারে ওর ঘুমে যদি একচুলও ব্যাঘাত ঘটে দ্যান আই সয়্যার — আজ রাতে বেসমেন্টের হাঙরদের নাস্তা হিসেবে তোকে সার্ভ করা হবে। মাইন্ড ইট!”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৭

4 COMMENTS

  1. আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি প্লিজ 🫶❤️❤️‍🔥💭💭

  2. Apu ato derite part dile apnr fan follower kome jabe..ato pore pore dile golpo porar e mood cole jay r rag hoy..tai taratari dio🥰

Comments are closed.