Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৯

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৯

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৯
jannatul firdaus mithila

“ কেন বে তাড়ছ্যাড়া হিউম্যান? আমার আম্মুর বুকে আমি যাব, তাতে তোর বাপের কী? তুই কি আমার বাপ লাগিস যে আমায় এভাবে ধমকাচ্ছিস? নিজে যেতে পারবি না আর আমি যাচ্ছি বলে জ্বলে তাই না?”
বোবা প্রাণীদের চিত্তে খই ফুটলেও জিভের ডগা শান্ত থাকাটাই যেন প্রকৃতির নিয়ম। ছোট্ট কিউটি তাকিয়ে আছে পিটপিট চোখে। দৃষ্টে তার এক আকাশসম সন্দিগ্ধতা। বিরক্তিতায় ছেয়ে গিয়েছে শুভ্র রঙা পশমি মুখশ্রী। আদুরে ছানা মোচড়াচ্ছে। রূঢ় মানবের রুক্ষ হাতের মুঠোয় গা নাচাচ্ছে ভীষণ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাঁতগুলো একে-অপরের সনে পিষ্ট করে কুটকুট শব্দ তুলছে বেচারা। তা দেখে মায়া হলো না মুগ্ধের। যুবক আগের ন্যায় অগ্নিদৃষ্টে তাকিয়ে আছে কিউটির পানে। তীক্ষ্ণ চোয়ালখানা তার ফুটে উঠেছে বেশ। ফর্সা ললাটপটে দৃশ্যমান গোটাকতক ক্ষোভের ভাঁজ। মুগ্ধ অনবরত হিসহিসিয়ে যাচ্ছে। সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করতে করতে চাপা ক্ষোভে দাঁত কিড়মিড় করে আওড়াল,
“ জাস্ট স্টে এওয়ে ফ্রম মা’ই প্রপার্টি ওকেই? ওকে ছোঁয়ার অধিকার কেবল আমার। আর আমি আমার অধিকারের ওপর অন্য কারো হস্তক্ষেপ মোটেও সহ্য করিনা।”

কিউটির চোখদুটোতে বোধগম্যহীনতার ছাপ স্পষ্ট। অবোধ দৃষ্টি আঁটকে আছে সম্মুখের সুদর্শন যুবকের পানে। লোকটার এতো রাগ হবার কারণটা কি? তাই হয়তো ভাবতে ভাবতে দিশেহারা বেচারা। এদিকে মুগ্ধের দাঁতকপাটির কটমট ধ্বনি পূর্বের তুলনায় কমেছে খানিক। শূন্যে তুলে রাখা শক্তপোক্ত হাতখানা পরক্ষণেই নামিয়ে আনলো রূঢ় মানব। মুখাবয়বে একরাশ বিরক্তি ফুটিয়ে তক্ষুনি পশমি কিউটিকে ছুঁড়ে মা’রল মখমলি বিছানার কোলে। এহেন হুটহাট কান্ডে নিজ ক্ষুদ্র দেহটা খানিক নাড়িয়ে চাড়িয়ে তৎক্ষনাৎ উঠে বসে কিউটি। ভাগ্যিস বিছানাটা নরম ছিলো, নয়তো বেচারা বোধহয় এক্ষুনি পটল তুলতো। ঐটুকুন কিউটি বড়ো সাহসী! সহসা মাথা তুলে তাকায় সম্মুখে। দু’পায়ে ভর দিয়ে শরীর সটান করে দাঁড়ানোর বৃথা প্রয়াসে মত্ত সে। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মুগ্ধ কেমন চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছে দেখো! পারছেনা ঐ চোখ দিয়েই গিলে খেতে কিউটিকে। ক্রমশ ফর্সা মুখশ্রীটা লাল হচ্ছে মুগ্ধের, গৌরবর্ণা কপালের চামড়ায় উপস্থিত দগদগে ক্ষতে বোধহয় আবারও নতুন করে আঁচড় লেগেছে। ললাটে ছেয়ে থাকা সিক্ত চুলগুলো পুনরায় সিক্ত হচ্ছে তাজা লোহুর উপস্থিতিতে। ডানহাতেরও যে বেহাল দশা! রুক্ষ হাতের তালু বরাবর গভীর ক্ষত। সে ক্ষত নিয়েই কি-না শ্যাডো মনস্টার মে’রে এসেছেন সাতজন অস্ত্রধারীকে।

সুদর্শনের মুখাবয়বে ব্যথাতুর ছাপ অনুপস্থিত। যেন কপালের এবং হাতের ওমন দগদগে ক্ষতগুলো মোটেও কাবু করতে পারছেনা তাকে। সে বড়ো বেখেয়ালি নিজের প্রতি! বেখেয়ালে ভুলে বসেছে নিজের সকল কাজ। মুখাবয়বে ফুটিয়েছে এক ভিত্তিহীন প্রতিহিংসার আগুন। যে আগুনের শীর্ষে আপাতত — ছোট্ট পশমির স্থান। যুবক চিড়বিড় করছে। দু’হাতে নিজ উম্মুক্ত কোমরের দু’পাশ আঁকড়ে এগোয় সম্মুখে। নিরবে বিছানার কাছে এগিয়ে এসে মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে ফের কিউটির দিকে ঝুঁকে দাঁড়ায় রূঢ় মানব। আগের ন্যায় কপাল গুছিয়ে ব্যাতিব্যস্ত চাপা কন্ঠে চিড়বিড়িয়ে বলে,
“ ডু ইউ্য থিংক — ইউ্য আর মোর হ্যান্ডসাম দ্যান মি? নো ওয়ে বাস্টার্ড — আ’ম মাচ হটার এন্ড সেক্সিয়ার দ্যান ইউ্য। তুই দেখতে যতই কিউট হোস না কেনো, আমার বান্দীর মেয়ে দিনশেষে ভয় পেলে সবার আগে আমার বুকেই ছুটে আসে। তাই বুঝতে পারছিস? তোর আর আমার পার্থক্যটা?”
মাথার সবগুলো স্নায়ুর চাপে পা গ ল হয়েছে দ্য গ্রেট রুশদী কিং ওরফে মাফিয়া শ্যাডো মনস্টার। নয়তো সামান্য একটা খরগোশের সঙ্গে প্রতিহিংসা দেখিয়ে এমনটা থোড়াই বলতো! উম্মাদ যুবক কেমন বাঁকা হাসছে দেখো। ছোট্ট কিউটির পানে ক্রুর দৃষ্টি লেপ্টে পা ঘোরালো উল্টোপথে। কিউটি ছনাাও কেমন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে! এ যেন এক অঘোষিত নিরব যুদ্ধ দু’জনার মধ্যে। যে যুদ্ধের পুরস্কার হিসেবে নাম লিখিয়েছে — স্বয়ং মাহি।

উদোম গা! ফর্সা পেটানো দেহখানায় ঘামের তীব্র উপস্থিতি স্পষ্ট। সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলে থাকা মোটা মোটা দু’টো কালো রঙা স্ট্র্যাপের সনে নিজ শক্তপোক্ত হাতদুটো আঁটকে শরীর শূন্যে ঝোলাচ্ছে মুগ্ধ। একবার উঠছে ওপরে, তো আবার পরক্ষণেই নেমে আসছে নিচে। কঠোর শারীরিক কসরতে দৈহিক সৌন্দর্য বাড়ছে জনাবের। ফর্সা উদোম দেহখানা শুষে নিচ্ছে জাগতিক সকল সৌন্দর্য। শক্ত দু-হাতের ফুলেফেঁপে থাকা মাসেলগুলো ফুলছে ভীষণ! প্রতিটি দোদুল্যমান আন্দোলনে পিঠের শক্ত মাংসল পেশীতে টান পড়তেই সেথায় আকার ধরেছে প্রজাপতির। মেদহীন পেটানো উদরের ছয়টি হাড় সুস্পষ্ট। যুবক যখন নিজ কার্যে বেজায় নিমগ্ন ঠিক তখনি ঘরের দরজায় কর্কশ শব্দে এলার্ম বেজে উঠল। একবার, দুবার পরপর তিনবার। এহেন কান্ডে সহসা ঘাড় বাঁকায় মুগ্ধ। ঝুলন্ত স্ট্র্যাপে হাত ঝুলিয়ে রেখে কপাল গোটায় বিরক্তিতায়। কাজের মাঝে ব্যাঘাত ঘটানো মোটেও পছন্দ নয় মাফিয়া মনস্টারের, তা-ও সে কাজ যদি হয় তার শারীরিক কসরত, তাহলে তো কথাই নেই! যুবক আবার নিজ হ্যান্ডসাম বডি নিয়ে বড্ড সিরিয়াস কি-না! মুগ্ধ তখনো ঝুলছে শূন্যে। সেকেন্ড দুয়েক পেরুনোর পর এলার্মের পুনরাবৃত্তি না হওয়ায় সে কেমন কপাল কুঁচকে চোয়ালের পেশি টানটান করে ফের শরীর উঠালো ওপরের দিকে। এরইমধ্যে এলার্ম বাজলো দুর্বার গতিতে। থামাথামির নাম নেই! যুবক চোয়াল ফোটালো এপর্যায়ে। মাথাভর্তি অদৃশ্য আগুন নিয়ে তক্ষুনি নেমে এলো নিচে। ফর্সা মুখখানায় এক পশলা রাগান্বিত ছাপ ফুটিয়ে, সে কেমন গটগট পায়ে এগিয়ে গেল সম্পূর্ণ কাঁচের তৈরী নন-ট্রান্সপারেন্ট স্লাইডিং দরজার পানে। অতঃপর এগিয়ে এসে দরজার গোলকাকার নবে হাত ঠেকিয়ে একটানে দরজাটা খুলতে খুলতে তীক্ষ্ম কর্কশ কন্ঠে বলে ওঠে,

“ হু দ্য ফাআআআআআআ……”
বাকিটা যুবকের শুকনো জিভের ডগা আঁটকে গিয়েছে হুট করে। কন্ঠে নেমেছে একরাশ হতবাকতা! বাদামী চোখদুটো বিস্ময়ে ছুঁয়েছে কপাল। ললাটস্পর্শী এলোমেলো শাইনি বাদামী চুলগুলো ঢেকে দিচ্ছে যুবকের বিস্মায়াবিষ্ট দৃষ্টি। চোয়ালটা কেমন আনমনেই খানিকটা নেমে এসেছে তার। তামাকে পোড়া শুকনো বাদামী ঠোঁটদুটো নড়ল বোধহয় খানিক। মুখগহ্বর দিয়ে অস্ফুটে বেরুলো —
“ তুই?”

দরজার নিকট দাঁড়িয়ে আছে সপ্তদশী! গায়ে একখানা লেভেন্ডার রঙা স্কিনি সিল্ক কাপড়ের ড্রেস। স্লিভলেস হওয়ায় সপ্তদশীর মাখনের ন্যায় ফর্সা মসৃণ হাতদুটো সুস্পষ্ট। বিদেশি ঢঙের আঁটসাঁট পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নারী কায়া যেন অনায়াসেই ধরা দিচ্ছে যুবকের বিস্মায়াবিষ্ট দৃষ্টে। গলার কাছটা উম্মুক্ত সপ্তদশীর। মসৃণ সুডৌল বক্ষদেশের আভাস মিলছে সহজেই। তার মেদহীন ক্ষীণকায় কোমরের গড়ন যেন বাঁকানো ধনুক। যুবকের বাদামী চোখদুটো বুঝি ধাঁধিয়ে গেল সপ্তদশীর আঙ্গিক সৌন্দর্যে। ঘরময় মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রা চললেও তার কন্ঠায় নামলো বিশাল আকারের খরা। শুকনো অধরজোড়া সিক্ত জিভ ঠেলে খানিক ভিজিয়ে নিচ্ছে মুগ্ধ, তবে কান্ড দেখো! আজ বোধহয় গরমটা বেশ বেড়ে গিয়েছে তার। যুবক ব্যর্থ চেষ্টায় নিজ অসভ্য চোখদুটোকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে আনতে চাইছে মেয়েটার ওপর থেকে। কিন্তু বালাইষাট! অসভ্য, অবাধ্য চোখদুটো যে আজ লাগামহীন। নিগূঢ় দৃষ্টে অবলোকন করে যাচ্ছে সপ্তদশীর বাঁকান কায়া। যুবক স্পষ্ট টের পাচ্ছে তার হৃদয় কাঁপছে! সে কি আর যেন-তেন কাঁপা? মুগ্ধ বড়ো বিরক্ত হলো নিজ অবস্থাতে। কপালের চামড়ায় গোটাকতক ভাঁজ ফেলে তক্ষুনি বাহাতে খামচে ধরল নিজ হৃৎপিণ্ডের অংশ। দাঁতে দাঁত চেপে কটমট ধ্বনিতে হিসহিসিয়ে বলল,

“ এ্যাই শালা থাম! ম্যারাথনে দৌড়াবি নাকি?”
কর্ণহীন হৃৎপিণ্ড আদৌও কথাটা শুনলো কিনা কে জানে! তবে সম্মুখে থাকা মায়াবিনী কেমন আবেদনময়ী আঙ্গিকে হেসে উঠল তা শুনে। তার হাসির শব্দে কেঁপে ওঠে রূঢ় মানবের বুক! থমকে যায় ক্রুর দৃষ্টি। নিশ্বাসের গতি কয়টা মিস হলো তা আপাতত তার ধারণার বাইরে। সে কেবল মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার পানে। সপ্তদশী হাসছে! সে-ই সঙ্গে হাসছে তার মায়াবী চোখদুটো। আজ সে চোখে চশমা অনুপস্থিত। ফলে ঘন পাপড়ি মিশ্রিত হরিণী চোখদুটো বড্ড টানছে নির্দয় মাফিয়া বসকে। যুবকের বিমুগ্ধ নয়ন মাহি’র ওপর স্থির থাকতেই আচমকা হাসি থামায় মাহি। মুখাবয়বে এক নিরবিচ্ছিন্ন আবেশি ভঙ্গিমা ঢেলে নিজ উদ্যোগে মধ্যকার দুরত্ব ঘুচিয়ে এগিয়ে এলো এক কদম। যুবকের মোহাচ্ছন্নতায় মুদে থাকা চোখদুটোতে আবেশি দৃষ্টে ডুব দিয়ে হুট করেই নিজের শীতল ডানহাতখানা উঠিয়ে এনে রাখল মুগ্ধের বুকের বাঁপাশে। তক্ষুনি সর্বাঙ্গ জুড়ে এক অদ্ভুত বিদ্যুৎ ঝলকানি অনুভত হলো নির্দয় মাফিয়া বসের। হৃদয়টা বুঝি এক্ষুণি ছুটে আসতে চাইছে বাইরে। নিশ্বাসের গতি তার বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। চোখদুটো আঁটকে গিয়েছে সম্মুখে। মাহি হাসলো! ঠোঁট কামড়ে সে-কি নিপুণ কৌশলে আবেদনী কায়দায় হাসলো সপ্তদশী। মাফিয়া মনস্টার দূর্বল হলো তা দেখে। গলার কাছে কঠিন বাক্যগুলো ভীড় জমিয়েছে, অনুমতির অভাবে ভীড় ঠেলে বেরুচ্ছে না তারা। ফলে যুবকের কন্ঠ হয়েছে বাকরুদ্ধ। এদিকে সপ্তদশী মুচকি হেসে অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় আওড়াল,

“ মাফিয়া বিস্ট! শেষমেশ এ কি হলো আপনার? আপনার বুকের খাঁচায় লুকায়িত অঙ্গটা আমার নামে দৌড়াচ্ছে কেনো? তবে কি আমি ধরে নিব, আপনি আমায় ভালোবেসে ফেলেছেন? দূর্বল হচ্ছেন আমার প্রতি?”
সহসা ঘোর ভাঙল যুবকের। কপালের চামড়ায় দেখা মিললো গোটাকতক ক্ষোভের ভাঁজ। সে তক্ষুনি এক ঝটকায় নিজ বুক হতে নামিয়ে দিলো মাহি’র নরম তুলতুলে হাতখানা। পায়ের গতি পেছনে ঠেলে বাজখাঁই কন্ঠে আওড়াল,
“ ওসব ভালোবাসা এন্ড অল দোস ফা’কিং বুলশিট আর জাস্ট ননসেন্সস। দ্য গ্রেট রুশদী কিংয়ের কোনো দূর্বলতা নেই। আগেও ছিলোনা, ভবিষ্যতেও থাকবেনা। নাও ফা’ক অফ এভরিথিং বান্দীর মেয়ে। সোজা ঘর থেকে বের হ।”
সপ্তদশী মানতে নারাজ। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো মুগ্ধের শক্তপোক্ত দেহের পেছনে। তার উপস্থিতি টের পেতেই ঘুরে দাঁড়ায় রূঢ় মানব। সহসা ভ্রু কুঁচকে শক্ত করল চোয়াল। কোমরের পিঠে দু’হাত চেপে গমগমে গলায় গর্জে বলল,

“ কথা কানে যায়নি তোর বান্দীর মেয়ে? ঘর থেকে বের হ বলছি।”
শুনলো মাহি। ঘাড়ের নরম মাংসল জায়গাটুকু কুঁচকে ঘাড় উঁচিয়ে তাকালো সম্মুখে। যুবকের ক্রুর দৃষ্টে ফের আচ্ছন্ন নয়নে তাকিয়ে থেকে হাসলো একটুখানি। এদিকে তার এহেন কান্ডে ফের স্থির হলো রূঢ় মানব। একমুহূর্তের জন্য নিজের সকল রূঢ়তা একপাশে ঠেলে দিয়ে মেয়েটার পানে তাকালো নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে। হুট করেই আনমনে বিড়বিড়িয়ে আওড়াল,

“ এভাবে তাকাস না বান্দীর মেয়ে! আমার সহ্য হচ্ছে না।”
সপ্তদশী কি বুঝল কে জানে! কোনরূপ আগাম সতর্কসংকেত ছাড়াই দু’হাতের শক্ত আক্রমণ বসালো যুবকের বুক বরাবর। আর ওমনি হুটহাট আক্রমণের শিকার মাফিয়া মনস্টার, নিজ শক্তপোক্ত দেহের তাল সামলাতে না পেরে সহসা গিয়ে পড়ল ডিভানের কোলে। ওতোবড় একটা পাহাড়সম মানুষ ডিভানের কোলে হঠাৎ গা এলিয়ে দিতেই ডিভানটা কেমন ঘেঁষে সরে গেল বেশকিছুটা দূরে। মুগ্ধ হতবাক! বলিষ্ঠ দেহখানা তার ছড়িয়ে আছে ডিভানে। হাতদুটোর অবস্থান ডিভানের গায়ে। সে কেমন বিস্ময়াবহ চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটার পানে। মাহি হাসছে মিটমিটিয়ে। তার আজ কি হলো কে জানে! সে তক্ষুনি ছুটে এসে কোনরূপ বলাকওয়া ছাড়াই একলাফে উঠে বসল মাফিয়া বিস্টের কোলে। সহসা হকচকিয়ে ওঠে মুগ্ধ! তড়িঘড়ি করে নড়েচড়ে উঠে বসতে গেলেই টান পড়ল অন্য কোথাও। যুবক অস্থির হলো পরক্ষণেই। অস্থিরতায় দাঁতের রুষ্ট চাপে ঠোঁটের পাতলা চামড়া আঁকড়ে ধরে ফোঁস ফোঁস করে কিছুক্ষণ। কিন্তু দৈহিক অবস্থা যেন ধীরে ধীরে লাগামহীন হচ্ছে তার। যুবক তৎক্ষনাৎ মুখাবয়বে কপট রাগ টানলো। দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করে বলল,

“ হোয়াট দ্য ফা’ক আর ইউ্য ডুয়িং বান্দীর মেয়ে? নাচতে নাচতে আমার কোলে উঠলি কেনো? এটা তোর বসার জায়গায় পেয়েছিস? এক্ষুনি কোল থেকে নাম বলছি নির্লজ্জ মেয়েছেলে!”
সপ্তদশীর মোহ-আবিষ্ট চোখদুটো অবাধ্য। ঠোঁটের কোণে ঝুলছে মিষ্টি হাসির রেশ। সে মোটেও কানে তুললো না যুবকের রূঢ় কন্ঠ। উল্টো মুচকি হেসে মাথা রাখল যুবকের প্রশস্ত বুকে। এহেন কান্ডে হাসফাস বাড়ল নির্দয় মানবের। পাহাড়সম দেহটা তার নড়ছে ভীষণ। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ! দাঁতের সনে দাঁত পিষে চোখ বুঁজেছে মুগ্ধ। বুকের মধ্যে আপাতত ঝড় বইছে তার। অপ্রিয়, অপছন্দীয় আবেদন ছড়িয়ে গিয়েছে শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে। বলিষ্ঠ দেহের কামনা বড়ো বিরক্ত করছে তাকে। মনের মধ্যিখানে কু- গাইছে কেউ। উত্থাপন করছে নানান উদ্ভট প্রস্তাব। তবে কোনো প্রস্তাবেই রাজি নয় মাফিয়া মনস্টার। তার বিচক্ষণ মস্তিষ্ক এখনো সজাগ হয়ে জানান দিচ্ছে —

“ শি ইজ ঠু ইয়াং! ও ব্যথা পাবে, ওর কষ্ট হবে। আই কান্ট ডু দিস উইথ হার। আই কান্ট!”
কন্ঠা শুকিয়ে কাঠ মুগ্ধের। অবচেতন মনের দ্বারা উত্থাপিত দুষ্কর্ম প্রস্তাব মানতে নারাজ সে। তাই তো কষ্ট বাড়ছে তার। শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বইছে ঝড়। নিশ্বাসের গতি জোরালো থেকে তীব্রতর হচ্ছে। উদোম পেটানো বক্ষের উঠানামার গতি ক্রমশঃ বাড়তেই, যুবকের বুক থেকে মাথা তোলে মাহি। ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী কন্ঠে বলে,
“ কি হয়েছে আপনার এমন করছেন কেনো?”
যুবক চোখ কুঁচকায় তৎক্ষনাৎ। দাঁতের রুক্ষ চাপায় পিষ্ট করে নেয় নিম্নাংশের বাদামী ঠোঁটখানা। এ মেয়েকে আর দেখবেনা সে। দেখলেই ঘটে যাবে বিপদ! এদিকে মুগ্ধের ওমন উদ্ভট কর্মে বিচলিত সপ্তদশী। নিজ ক্ষুদ্র বদনখানি সামান্য নাড়িয়ে চাড়িয়ে তৎক্ষনাৎ দু’হাতের নরম তুলতুলে আজলায় চেপে ধরল মুগ্ধের রুক্ষ গাল। তার এরূপ শরীর দোলানোতে তক্ষুনি ঠোঁটের চামড়ায় দাঁতের পিষ্টে ক্ষত হলো রূঢ় মানবের। অস্ফুটে গোঙালো,

“ ওহ ফা’ক!”
সপ্তদশী আরেকধাপ বিচলিত হলো। নিজ উদ্যোগে খানিকটা এগোতেই যুবকের সর্বাঙ্গ জুড়ে ঝংকার তুলল কেমন! সে কন্ঠ উঁচিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“ নাম নাম নাম! এক্ষুনি আমার কোল থেকে নাম বান্দীর মেয়ে। নয়তো ফায়ার হয়ে যাবে কিন্তু!”
অবোধ সপ্তদশী বোঝেনি রূঢ় মানবের বাক্য! সে কেমন অবোধের ন্যায় তাকিয়ে রইলো। কন্ঠে একরাশ মায়া ঢেলে আওড়াল,
“ আমার ভয় করছে! আমি আপনাকে একটু জড়িয়ে ধরি?”
সহসা চেঁচিয়ে ওঠে মুগ্ধ। গর্জে বলল,
“ নো নো নো! বান্দীর মেয়ে, ডোন্ট ডু দিস।”

কে শোনে কার কথা! অবাধ্য সপ্তদশী আচমকা দু’হাতে জড়িয়ে ধরল মুগ্ধের গলা। মুচকি হেসে মাথা রাখল যুবকের প্রশস্ত কাঁধে। আর তার এহেন অবাধ্য কান্ডে অবশেষে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল যুবকের। সর্বাঙ্গের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে কয়েক সেকেন্ডে ছড়িয়ে পড়ল তীব্র স্নায়বিক স্রোত। হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বেড়ে গেল বহুগুণ। নিশ্বাস ছুঁলো গভীরতা। পাহাড়সম বলিষ্ঠ দেহখানার কেন্দ্রীয় অংশের পেশিগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে কুঁচকে গেল কয়েকগুণ। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস সংকেত পেয়েছে বহুক্ষণ আগে। সে নিজ কর্মে ব্যস্ত! যুবকের চোয়াল শক্ত হলো। চোখদুটোয় নামলো দৃঢ়তা। শরীরের অনিয়ন্ত্রিত কম্পনে কেঁপে উঠল স্বয়ং নির্জীব ডিভান। অতঃপর.. অতঃপর কয়েক মুহুর্তের স্থায়ী তীব্র স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার পর অবশেষে ধীরে ধীরে শিথিল হলো মাফিয়া বিস্টের কম্পিত দেহ। মস্তিষ্ক ভর্তি অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার ঝড় থেমে সেথায় এবার ভর করল একরাশ নিরব প্রশান্তি। অবসাদমুক্ত হলো তার অবচেতন মন। নিশ্বাসের গতি খানিকটা শিথিল হয়ে জানান দিলো — যুবক এখন ক্লান্ত! বড্ড ক্লান্ত।
মুগ্ধ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। চোখদুটো নিবুনিবু তার। ঝাপসা দৃষ্টি সম্মুখে বুলাতেই আচমকা বিস্ফোরিত আকারে খুলে গেল যুবকের ক্লান্তিতে মুদে থাকা বাদামী নেত্র। সে তক্ষুনি উঠে বসল শোয়া ছেড়ে। হন্যে দুচোখ এদিক-ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগল কাঙ্খিত মুখ। তবে কান্ড দেখো! মাহি তো দূর, তার টিকিটা পর্যন্ত আশেপাশে কোত্থাও নেই। মুগ্ধ ভারী অবাক হলো। কপালের চামড়া গুটিয়ে গমগমে গলায় ডাকল,

“ চাশমিস? চাশমিস হোয়ার আর ইউ্য?”
শূন্য কামরার নিরব দেয়ালে এহেন বাক্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তা ফের কানে এসে ঠেকল মুগ্ধের কানের পর্দায়। মুগ্ধ বুঝল — চাশমিস কোথাও নেই। রূঢ় মানব তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে বসল। তবে বসতে গিয়েই বাঁধল আরেক বিপত্তি। মখমলি তুলতুলে বিছানাটা ওমন ভেজা ভেজা কেনো? মনের কোণে একরাশ সন্দিগ্ধতা লেপ্টে সহসা এক ঝটকায় গায়ের ওপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরায় রূঢ় মানব। তবে পরক্ষণেই বিছানার বেহাল দশা দেখে কপালে ক্ষোভের ভাঁজ ফুটল সুদর্শনের। চোয়াল হয়ে গেল কটমট! ব্রিটিশের ন্যায় তীক্ষ্ণ নাসারন্ধ্রের সরু ছিদ্র দিয়ে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে যুবক কেমন নিজের ওপরেই ক্ষোভ ঝেড়ে আওড়াল,
“ নো নো নো! হোয়াট দ্য ফা’ক আই হেভ ডান? হলি শিট!”
নাক সিটকচ্ছে মুগ্ধ! পরনের সফেদ রঙা ঢিলেঢালা ট্রাউজারের সম্মুখভাগ আপাতত নাজেহাল অবস্থায় আবর্তিত। যুবকের আর ধৈর্য্যে কুলোয়নি বসে থাকতে। সে তড়িঘড়ি করে পা নামায় বিছানা থেকে। দাঁতের চাপে ঠোঁট পিষে একপলক নিজের দিকে দৃষ্টি ফেলে সে আবারও নাক সিটকে আওড়ায়,
“ ইয়াক! নো হেল! কি করলাম আমি এটা? ইয়াক!”
নিজ কান্ডের প্রতি একরাশ ঘৃণা জন্মেছে রূঢ় মানবের। তার এমুহুর্তে ইচ্ছে করছে নিজের গালে নিজেই দু’টো কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে বলতে,
“ ঘটনা যখন ঘটারই ছিলো তাহলে অন্য কাউকে দেখে ঘটাতি! শুধু শুধু ঐ বান্দীর মেয়েকে দেখে ঘটাতে গেলি কেনো? ছিহ ছিহ ছিহ!”

সুদর্শন হাঁটছে। কদম টেনেছে ঘর সংলগ্ন সুইমিংপুলের দিকে। সম্মুখে কাঁচের স্লাইডিং দরজা। কাঁচের ওপাশে দৃশ্যমান বাইরের বেগতিক আবহাওয়া। রাত থেকে স্নোফল হচ্ছে, সঙ্গে বইছে ঠান্ডা ঝড়ো হাওয়া। সুইমিংপুলের উপরিভাগে ছেয়ে আছে বরফের পাতলা আবরণ। যুবক ওসব স্নোফলকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুয়ার খুলে বাইরে বেরুলো। অতঃপর গটগট পায়ে এগিয়ে এসে এক ঝটকায় ঝাপ দিলো বরফ ঠান্ডা পানির মাঝে। হাড় হিম করা শীতল পানি যুবকের ফর্সা ত্বক স্পর্শ করতেই লাল হয়ে গিয়েছে ত্বকের অনেকাংশ। অথচ মুগ্ধের কান্ড দেখো! ওমন একটা হাড় হিম করা ঠান্ডায় সে কেমন মাথা শুদ্ধ শরীর ডুবিয়ে সাঁতরাচ্ছে! সে যেন বিশাল মাপের এথলেটিকস। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে পৌঁছে গেল অপর কিনারায়। পানির ঘোলাটে আবরণ গা থেকে একপ্রকার ঝেড়েঝুড়ে পুল থেকে মাথা তুললো মুগ্ধ। ললাট ছুঁইয়ে নাকের উপরিভাগ স্পর্শ করা সিক্ত বাদামী চুলগুলো একহাতে পেছন দিকে ঠেলে দিয়ে, যুবক কেমন চিড়বিড়িয়ে বলল,

“ ঐটুকুন একটা বান্দীর মেয়ে আমার ৩০ বছরের যৌবন শেষ করে দিলো! বাপ দেয়নি শৈশবে শান্তি, মেয়ে দিচ্ছে না যৌবনে শান্তি। আ পিওর জানোয়ারের বাচ্চা দুইটা। উফফ! ফা’ক অফ ম্যান।”
শেষটুকু আওড়ে ফের উল্টো হয়ে পানিতে শরীর ডোবায় মুগ্ধ। ধুপধাপ পায়ের গতিতে উল্টো সাঁতার কাটছে মাফিয়া মনস্টার। সে শব্দে কেঁপে উঠছে সম্পূর্ণ পেন্ট হাউজের টপ ফ্লোর।
রাত তিনটে বেজে পঁচিশ মিনিট! টপ ফ্লোরের সাইবার রুমে ভুলবশত ঘুমিয়ে কাত হয়েছেন এডউইন। গতরাতে কিসব ফুটেজ চেক করতে করতে বেচারা কখন যে ঘুমিয়েছে সে খবর তার নিজের কাছেও নেই বোধহয়! তবে তার ওমন সাধের ঘুমটায় হুট করেই চিড় ধরল সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ভেসে আসা ধুপধাপ শব্দে। সহসা হকচকিয়ে ওঠে এডউইন! হড়বড়িয়ে তাকায় সিসিটিভির পর্দায়। কেউ একজন ওমন ভারী স্নোফলে ডুবচ্ছে। নিবুনিবু দৃষ্টে মুখ দেখছেনা এডউইন। এতে বুঝি সে নিজেও বিরক্ত হলো। তক্ষুনি তিতিবিরক্তিতায় উঠে দাঁড়ায়। ঘুমে ঢুলুঢুলু কদমে এগোয় কক্ষের বাইরে।
সম্পূর্ণ কাঁচের তৈরী প্রশস্ত করিডর। কয়েক কদম হাঁটতেই টপ ফ্লোরের দুয়ার। সেথায় দায়িত্বরত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন দু’জন গার্ড। মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। তন্দ্রায় মুদ এডউইন গটগটিয়ে এগুলো তাদের পানে। পায়ের গতি রুখে কন্ঠে একরাশ ঝাঁঝ ঢেলে তক্ষুনি বলে ওঠে,

“ রাত বাজে তিনটা। এতোরাতে কার এতো উত্তেজনা বেড়েছে শুনি যার জন্য ওমন বরফ পানিতে দাপড়াতে হচ্ছে! কে সাঁতরাচ্ছে পুলে?”
কন্ঠে সে-কি তেজ এডউইনের। জিভ খসে কথাটা বেরিয়েছে বোধহয় সেকেন্ড ত্রিশেক হবে। এরইমধ্যে একজোড়া ভেজা কদম কেমন ব্যগ্র গতিতে এগিয়ে এলো বেচারার নিকট। তন্দ্রা আচ্ছাদিত গম্ভীর মুখো এডউইনের ঘাড়ের পেশি শক্ত হাতে খামচে ধরে, বেচারাকে এক হেঁচকা টানে স্নোফলে আচ্ছাদিত টপ ফ্লোরের মেঝেতে ছিটকে ফেলল। এহেন ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকায় এডউইন। মুহুর্তেই তার চোখদুটো থেকে কেটে গেল সকল তন্দ্রার ছাপ। ঘুমন্ত মস্তিষ্ক সজাগ হবার পূর্বেই কন্ঠনালী বরাবর বসল এক শক্তপোক্ত হাতের হিং স্র থাবা। এডউইন ককিয়ে ওঠে তৎক্ষনাৎ। দুটো ভিন্ন চোখের ভড়কানো দৃষ্টি সম্মুখে ফেলবার আগেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো মাফিয়া বিস্টের চিড়বিড় কন্ঠ!

“ লুক হু ওয়াজ সুইমিং। তোর বাপ! দ্য শ্যাডো মনস্টার।”
ভয়ার্ত ঢোক গিলল এডউইন। সহসা ঝুঁকিয়ে নিলো নজর। কন্ঠে অপরাধীত্ব ঢেলে আওড়াল,
“ মাফ করবেন মনস্তার! আসলে..আমি মানে।”
বাকিটা বলার পূর্বেই বেচারা এডউইনের চোয়াল বরাবর পড়ল এক শক্ত ঘুষি। মুহুর্তেই গাল বেঁকে গেল বেচারা এডউইনের। ব্যথায় ভেঙে যাবার যোগাড় চোয়ালখানা। তবুও গম্ভীর মানব নিশ্চুপ রইলেন। পরক্ষণেই শুনতে পেলেন মাফিয়া বিস্টের হুংকার!
“ এ্যাই আমাকে ভয় লাগে না তোদের? ভয় লাগে না আমায়? যখন না তখন আমার শান্তিতে বাগড়া দেয়ার জন্য ওঁৎ পেতে থাকিস বাস্টার্ড’স! একজনের জন্য ঘুমিয়ে শান্তি নেই, আরেকজন আসছে আমার ডুবানো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। বলি ম’রার পাখনা গজিয়েছে তোদের? আমার হাতে ছিন্ন ভিন্ন না হওয়া অব্ধি শান্তি হবে না তোদের তাই না?”

আঁতকে উঠল এডউইন! আত্মাটুকু গলার কাছে এসে দাঁড়ালো তার। ভয়ে শুকনো ঢোক গিলবার পরিস্থিতি নেই। ওদিকে রূঢ় মানব ছেড়ে দিয়েছে তার কন্ঠা। দু-কদম সরে গিয়ে কটমট করছে সে। মাত্রাতিরিক্ত রাগে ঘাড় ডলছে অনবরত। এডউইন আড়দৃষ্টে দেখছে সব। জিভ ঠেলে শুকনো অধরজোড়া আলতো করে ভিজিয়ে নিয়ে যেইনা কিছু বলতে যাবে তার আগেই সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মাফিয়া মনস্টার কেমন হিসহিসিয়ে আলটিমেটাম ছুঁড়ে বলল,

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৮ (২)

“ লিসেন বাস্টার্ড! কাল থেকে ঐ বান্দীর মেয়েকে যথাসম্ভব আমার দৃষ্টি থেকে দূরে দূরে রাখবি। ভুলক্রমেও ও যদি আমার সামনে পড়ে দ্যান আই সয়্যার — আমি তোকে শূলে চড়াব। আই রিপিট আই উইল কিল ইউ্য বাস্টার্ড! ঐ বান্দীর মেয়ে যেন ভুলেও আমার চোখের সামনে না আসে।”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৯ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here