Home মিহি মিহি গল্পের লিংক || রুপন্তী সরকার

মিহি গল্পের লিংক || রুপন্তী সরকার

মিহি পর্ব ১+২
রুপন্তী সরকার

_”মামী আমাকে কিছু খেতে দাও না?”
_”এই যে অলক্ষ্মী চলে এলো সারাদিন শুধু খাওয়া খাওয়া করে, আর কতো খাবি? মা কে খেয়েছিস বাপ কে খেয়েছিস আর কি খাবি বল? ভর সন্ধ্যা বেলায় খিদে খিদে করিস না আমি খেতে দিতে পারবো না ,”
এই বলে মিহির মামী চলে গেলো !
মিহি মন খারাপ করে বাহিরে এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো

_”ও মা মিহি কি তোমায় খেয়ে ফেলেছে? মামি বললো মিহি নাকি তোমাকে খেয়ে ফেলেছে! মিহি তোমাকে কি করে খেয়ে ফেলেছে মা ? তুমি কি আর মিহির কাছে আসবে না? সবার মা আছে কিন্তু মিহির মা নেই কারণ মিহি তো ওর মাকে খেয়ে ফেলেছে”
এই বলে ছোট ৫ বছরের মিহি কান্না করে,
মিহির মাত্র ৫ বছর ! মিহি কে জন্ম দিয়ে ওর মা মারা গেছে, মিহির মা এর শক ভুলতে না পেরে মিহির জন্মের এক মাস পর ওর বাবা ও মারা যায়! এর পর থেকেই মিহি মামার বাড়িতে থাকে , মিহির মামী ওকে দুচোখে দেখতে পারে না ! আর মিহির মামা একটু ভালো মানুষ মিহি কে ভালোবাসে তবে তিনি এইখানে থাকে না! মিহির একটা মামাতো ভাই আছে , রাজ ওর বয়স ৮ বছর!
মিহির মামী সারাদিন মিহি কে জ্বালাই!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

_”আর কতদূর ভাই ? এই গ্রাম এতো অন্ধকার বাল সবাই কি সন্ধে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছে? তোর দাদুর বাড়ির চক্করে বাবার কাছে বকা শুনবো বাড়ি যাবো চল তাড়াতাড়ি”
_”রিদ রিল্যাক্স ইয়ার যাবো তো! আংকেল কিছু বলবে না! আর এই গ্রাম টা এমন ই সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে যায় কোনো মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয় না!
এই বলেই রিদ আর অভ্র হাটতে থাকে
আজকে শুক্রবার অভ্র রিদকে নিয়ে ওর দাদুর বাড়িতে এসেছিল ওদের গ্রামে , ওরা এখন বাড়িতে যাচ্ছে ,
গ্রামের রাস্তা অনেক খারাপ তার উপর আবার কালকে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল , রিদের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে , আলের রাস্তা টা আরো খারাপ!
রিদ বিরক্ত হয়ে অভ্র কে বলে

_”ভাই একটু বসবো পা ব্যাথা করছে”
_”আচ্ছা সামনে চল ওইখানে একটা গাছের ডাল আছে ওইখানে বসিস”
এই বলে আর রিদ আর অভ্র সামনে একটা গাছের ডালে বসলোমিহি খিদের জ্বালাই ছটপট করতে থাকে , বেচারী সকাল থেকে তেমন কিছু খাই নি !
ও বাহিরে চলে আসে , সবার বাড়িতে গিয়ে বলে
_”আমাকে একটু খেতে দাও তো”
কিন্তু কেও দরজা খুলে না ,
মিহি হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূরে চলে আসে! অন্ধকারের মধ্যে ও দেখতে পাই ২ টা ছেলে গাছের ডালে বসে আছে ! মিহি হেঁটে হেঁটে ওদের কাছে গেলো
অভ্র দেখতে পাই একটা বাচ্চা ওদের কাছে আসছে
বাচ্চা টা একটা গোলাপী রঙের বেবি শার্ট পড়েছে শার্ট টা হাঁটু অবধি আর ২ দিকে চুল জুটি করা! মেয়েটার চোখের মণি নীল রঙেরধবধবে ফর্সা, বয়সের তুলনায় চুল গুলো বেশিই বড় জ্বলজ্যান্ত একটা পুতুল সামনে দাঁড়িয়ে আছে!
অভ্র অজান্তেই বলে উঠে

_”মাশাআল্লাহ আল্লাহর সৃষ্টি কি সুন্দর”
অভ্রর হুট করেই মনে হয় এটা কোনো ভূত না তো? কারণ এই গ্রামে কোনো মেয়েই সন্ধ্যার পর বার হয় না তাহলে এই বাচ্চা এই সন্ধ্যা বেলা ঘুরছে কেনো?
অভ্র মিহি কে দেখে চিল্লিয়ে উঠলো করে উঠলো
_”রি রীদ ভূত ভূত”
রীদ অন্য দিকে তাকিয়ে সিগারেট খাচ্ছিল ও এইদিকে খেয়াল করে নি অভ্রর চিল্লানি শুনে ও ঘুরে বসলো
_”কি হয়েছে?”
_”দে দেখ মামা ওইখানে একটা ভূত দাঁড়িয়ে আছে”

রিদ খেয়াল করলো একটা পুতুলের মতো বাচ্চা রেগে দাঁড়িয়ে আছে দেখতে এতো এটাই মিষ্টি লাগছে যে বলার মতো ভাষা নেই!
অজান্তেই রিদ হেসে উঠলো
মিহি অনেকক্ষন ধরে অভ্রর কাণ্ড দেখছে সব ঠিক আছে কিন্তু ওকে ভূত বলছে কেনো?
মিহি মুখ ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করে
_”আমাকে ভূত বলছো কেনো? কি তরেছি? ঘাড় মোটকিয়ে দিয়েছি?”
ওর কথা শুনে অভ্র আর রিদ হেসে উঠে
অভ্র বলে

_”হুম তুমি তো ভূতই পিচ্ছি ভূত ”
মিহি আবারো মুখ ফুলিয়ে
_”না না তুমি ভূত”
রিদ চুপ করে তাকিয়ে আছে ওর কাছে মনে হচ্ছে একটা পুতুল দাঁড়িয়ে আছে!
অভ্র বলে
_”এই সময় বাহিরে এসেছো কেনো ভূত? যদি তোমাকে নিয়ে কেও পালিয়ে যায়?”
_”আমার খিদে পেয়েছে মামী খেতেই দিচ্ছে না ”
অভ্র আর রিদ কথাটা শুনে একটু অবাক হয়
_”কেনো কেনো?
_”জানি না তো”
অভ্র আর পকেট থেকে একটা চকলেট বের করলো ওর পকেটে সব সময় চকলেট থাকে , কারণ ওরা সিগারেট খাই আর সিগারেট খাওয়ার পরে একটা করে চকলেট খাই!
চকলেট টা মিহি কে দেই
মিহি বলে “এটা তো তোমার আমি কেনো নিবো?

_”নাও নাও এটা অনেক মজা ”
মিহি চকলেট টা নিয়ে ওদের মাঝখানে বসে , এর পর রিদকে বলে _”চকলেট টা খুলে দাও” রিদ খুলে দেই ও বসে বসে চকলেট খাচ্ছিল…..

মিহি আরামে চকলেট খাচ্ছিলো এর মধ্যেই ওর চোখে কিছু একটা পড়লো সাথে সাথে মিহি চিৎকার করে উঠলো রিদ আর অভ্র হকচকিয়ে উঠলো
মিহি কান্না করছে আর চোখ ডলছে
রিদ বলে দেখি আমার কাছে এসো কি হয়েছে চোখে?মিহি রীদের কাছে যায়
রিদ ওকে কোলে নিয়ে চোখে ফুঁ দিয়ে দেই আর চোখে পড়া ময়লা বের করে দেয়
মিহি খুশি হয়ে রিদ কে একটা চুমু দেই রিদ ও মিহি কে একটা চুমু দেই
দূরে কিছু লোক বসে জুয়া খেলছিলো ওরা বিষয় টা লক্ষ্য করে
আর একজন আর একজন কে বলে

_”ভাই দেখেন এই মাইয়া ওইখানে যাইয়া কি করতাছে”
_”চলেন যাইয়া হাতেনাতে ধরবো”
এই বলেই ওইখানে থাকা কিছু লোক মিহীদের কাছে গেলো
আর গিয়েই চিল্লিয়ে বলে
_”কি নষ্টামী হচ্ছে এইখানে ? ওই মেয়ের সাথে কি করতে যাচ্ছিলে?”
রিদ বলে
_”আজব মাথার প্রবলেম নাকি? কিসব উল্টা পাল্টা বলছেন?”
_”এই মেয়ে কে হয়?”
_”চিনি না ওকে”
_”চেনো না জানো না নষ্টামী করছো?”
অভ্র বলে

_”মাথা ঠিক আছে আপনাদের ওই একটা ৫ বছরের বাচ্চা ওর সাথে কি নষ্টামী করবো? আমরা বসে ছিলাম ওই জাস্ট এসে কথা বলছে বাচ্চা মানুষ তাই রিদ একটু চুমু দিয়েছে এতে খারাপ কি?”
_”বেশি ঘুরা বুজ আমাদের দিতে এসো না ছেলে! সন্ধ্যার পর এই গ্রামের কোনো মেয়ে বউ বাহিরে আসে না আর তোমরা এই সময় এই মেয়ে কে নিয়ে বসে আছো? এসব চলবে না এই গ্রামে”
_”ভাই বুজার চেষ্টা করুন ! ওকে চিনি না আমরা আর তাছাড়া ও তো একটা বাচ্চা মেয়ে!
মিহি চুপ করে চকলেট খাচ্ছে ও এসব কিছু বুজতে পারছে না!
একজন লোক বললো “এটা তো মিহি ওর মামী কে খবর দে বল যে এই মেয়ে কেমন নষ্ট ছিঃ ছোট থেকেই এমন ছেলে ঢোলানি একে এই গ্রামে রাখা যাবে না”
আর একটা লোক দৌড়ে গেলো মিহির মামীর কাছে উনাকে ডেকে নিয়ে আসলো
গ্রামে আরো লোক জড়ো হলো! গ্রামের মোড়ল আসলো
রিদ আর অভ্র সবাই কে বলছে যে ও একটা বাচ্চা ওর সাথে ওরা কোনো খারাপ কাজ করে নি! কিন্তু ওইখানে থাকা কিছু লোক ওদের কথা শুনতেই দিচ্ছে না ! অভ্র ওর দাদু বাড়িতে খবর দেই তারাও আসে
রিদ বললো

_”এখন আপনারা কি চাচ্ছেন?”
মোড়ল বলল
_”হয় ওই মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে যাও হয়তো ওকে আমরা আগুনে পুড়িয়ে মারবো!
রিদ এবার চিৎকার করে উঠে বললো
_”পাগল হয়ে গেছেন আপনারা পাগল ? ওই মেয়ে কি বুজে এসবের আর দেশে কি আইন কানুন নেই? আপনি একটা জলজ্যান্ত মানুষ কে পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন কোন সাহসে?”
মোড়ল বললো
_”দেখো বাছা তোমাদের আইন তোমাদের কাছে রাখো ! এটা আমাদের গ্রাম এইখানে আমাদের আইন চলে! বিয়ে করো ওকে!

_”আরে ভাই আপনারা এমন কেনো? ওর তো বিয়ের বয়স হয় নি! আমি কেমনে বিয়ে করবো? আমার অনেক ছোট ও ইভেন আমারও বিয়ের বয়স হয় নি! আমার সবে ১৯ বছর আমি কি করে ওকে বিয়ে করবো আপনারাই বলেন?
_”দেখো ওতো জানি না !কাবিন করে ওকে নিয়ে যাও!
এইদিকে মিহির মামী মিহি কে অনেক বকে ঠাস করে একটা থাপ্পর মারে ওর গালে সাথে সাথে ফর্সা গাল টা লাল হয়ে গেলো
_”অলক্ষ্মী এই ভাবে আমাদের মান ডুবালি? এখন এই ছেলে কে বিয়ে করে বিদায় হো!
মিহির মামী খুব খুশি মনে মনে আপদ বিদায় হচ্ছে!
মিহি কান্না করতে থাকে রিদ এসে মিহি কে ওর মামীর কাছ থেকে সরিয়ে নেয়!
আর ওর মামী কে বলে

_”মারছেন কেনো ওকে?”
_”এই ছেলে ওতো কথা বলবা না তোমার কি? এখন বিয়ে করো ওকে!
অভ্রর দাদুরা অনেক চেষ্টা করে বিয়ে আটকানোর কিন্তু কিছুতেই মোড়ল শুনছে না
রিদ ওর বাবা কে কল করে কিন্তু উনিও কল ধরে না
অবশেষে রিদ রাজি হয়
ওদের বিয়ে হয় না কিন্তু কাবিন করে রাখে , এর পর রিদ বলে
_”কাবিন করেছি এবার আমি যায়?”
মিহির মামী বলে

_”কই যাচ্ছো ওকে নিয়ে যাও এই আপদ আমাদের ঘরে রাখবো না!
_”ও যখন বড় হবে তখন আমি বিয়ে করব ওকে আপাতত আপনার কাছে রাখুন!
_”এটা তো হবে না বাছা তুমি নিয়ে যাও!
রিদ না পেরে মিহি কে নিয়ে যেতে রাজি হয়মিহি রিদের সাথে যেতে চাই না ওর মামী কে গিয়ে বলে
_”ও মামী আমি যাবো না! মিহি ওর এমন করবে না !
মিহির মামী আবার ওকে থাপ্পড় মারতে যায় যায় তখন রিদ এসে আটকাই
_”এই মহিলা আপনার সাহস হয় কি করে ওর গায়ে হাত তোলার? আমার হাতে ওকে দিয়েছেন না? তাহলে আমার জিনিসে হাত দেওয়ার মতো সাহস দেখাইয়েন না !
মিহির মামী মুখ বাকালো
অভ্র মিহি কে কোলে নেই আর বলে

_”কেঁদো না ভুত আমি তোমাকে চকলেট কিনে দিবো!
_”সত্যি কিনে দিবা?”
_”হ্যাঁ সত্তি কিনে দিবো! এখন আমাদের সাথে চলো!
মিহি চোখ মুছে আর রিদ আর অভ্রর সাথে চলে যায়…..

মিহি পর্ব ৩+৪