Home মিহি মিহি পর্ব ২৩+২৪

মিহি পর্ব ২৩+২৪

মিহি পর্ব ২৩+২৪
রুপন্তী সরকার

মিষ্টি কিছু না বলেই চলে গেলো। মিষ্টির যাওয়ার পানে অভ্র অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকলো।
পরেরদিন__
আজকে মিষ্টির বিয়ে। অনেক মানুষ এসেছে বাড়িতে। সন্ধ্যা ছয়টার লগ্নে বিয়ে।
অভ্র সকাল থেকে ছটফট করছে। মিষ্টি কে কাছেই পাচ্ছে না ও ভাবলো আবার মিষ্টি কে বোঝাবে। কিন্তু মিষ্টির দেখায় পাওয়া যাচ্ছে না। অভ্রর মনে হচ্ছে চিৎকার করে কান্না করতে পারলে ভালো লাগতো।
বিকেল বেলা…
মিহি খুব সুন্দর একটা নীল রংয়ের গাউন পড়ে। এরপর গুটি গুটি পায়ে রিদের কাছে গিয়ে
ওর পায়ের উপর দাড়ালো,
রিদ মিহি কে এতো কাছে দেখে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বললো

” এই মেয়েটা আমার এত কাছে কেন আসে? নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। ও এখনো বাচ্চা ভাই কন্ট্রোল”
রিদ মিহিকে নিজের থেকে একটু দূরে সরিয়ে দিয়ে বললো
“কি চাই? কোলে উঠে বসতে চাও? ”
মিহির কাছে রিদের ব্যবহারটা ভালো লাগলো না। কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে চলে গেলো।
রিদ মিহির পেছন পেছন গেলো।
মিহি বিয়ে বাড়ির এক কর্নারে গিয়ে দাঁড়ালো। চোখ ছলছল করছে। রিদ এসে মিহি কে জরিয়ে ধরে বললো
“তাকাও আমার দিকে”
মিহি মুখ ফুলিয়ে অন্য দিকে তাকালো। রিদ আবারও গম্ভীর গলায় বললো
“তাকাতে বলেছি আমি”
মিহি তাকালো। রিদ মিহির গালে নাক ঘষতে ঘষতে বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” কি করেছি আমি? প্রিন্সেসদের বুঝি অনেক রাগ? এতো রাগ করে না পাখি”
মিহি রিদের আদুরে কথা শুনে আহ্লাদে কেদেই ফেললো। রিদ মিহির কান্না দেখে বললো
“আচ্ছা সরি বাবা কান ধরছি। আমি আর কখনো তোমাকে দূরে সরিয়ে দেবো না। কান ধরে উঠ বস করবো? তুমি বললে করবো”
মিহি ফুপিয়ে উঠলো
” থাক কান ধরে উঠবস করো না”
রিদ বললো
” তাহলে চুমু দাও”
মিহি চুমু না দিয়ে মুখ বাঁকা করে চলে গেলো।
রিদ আজকে কাজে যায় নি কারণ রামপ্রসাদ বাবু মিষ্টির বিয়েতে রিদ অভ্রকে থাকতে বলেছে।
বরযাত্রী আসতে আর বেশি সময় নেই। অভ্র সুযোগ বুঝে মিষ্টির সাথে গেল দেখা করতে। মিষ্টির ঘরে তখন কেও ছিলো না! অভ্রকে দেখে মিষ্টি উঠে দাঁড়ালো। অভ্র গিয়ে মিষ্টিকে জড়িয়ে ধরে বললো

“চলো না মিষ্টি আমার সাথে? আমি মরে যাবো তোমাকে ছাড়া প্লিজ চলো”
মিষ্টি কোনো কথাই বললো না। এক পর্যায়ে অভ্র মিষ্টির পা ধরলো।
” তোমার পা ধরি মিষ্টি চলো আমার সাথে। আমাকে এভাবে ছেড়ে যেও না প্লিজ। এখনো সময় আছে চলো আমার সাথে। প্লিজ চলো, আমি মরে যাব মিষ্টি”
প্রায় পনের মিনিট অভ্র মিষ্টির পা ধরে কান্না করলো। অনেক করে বললো ওর সাথে যেতে। কিন্তু নিষ্ঠুর মিষ্টি গেলো না।
দেখতে দেখতে বিয়ে হয়ে গেলো। নিজের চোখে সামনে নিজের প্রিয় মানুষটিকে অন্য কারো হয়ে যেতে দেখলো। অভ্রর দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে।
বেশিক্ষণ সহ্য করতে না পেরে ঘরে চলে আসে। অভ্রর পেছন পেছন মিহি আর রিদ ও আসে। রিদ অভ্রকে জড়িয়ে ধরে বললো

“ভাই কার জন্য কান্না করছিস তুই? ওই মেয়ে তোর যোগ্যই না। ও কিন্তু চাইলেই পারতো তোর সাথে যেতে। আসলে ওর মন-ই নেই তোর উপর।”
অভ্র বললো
“আমি ওকে অনেক করে বললাম কিন্তু ও আমার সাথে গেলো না রিদ।আমি ওর পা অব্দি ধরেছি জানিস”
মিহি অভ্রর কাছে এসে বলে
“কান্না করো না অভ”
রিদ অভ্র কে বললো
” শোন তুই ঘরে থাক আমি ওদিক টা দেখে আসি। নাহলে আঙ্কেল খারাপ ভাববে”
মিহি বললো

” আমি অভর কাছে থাকবো?”
রিদ বললো
“থাকো কিন্তু ওকে জ্বালাবা না”
মিহি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো
রিদ চলে যাওয়ার পর মিহি অভ্রর কাছে এসে বসলো
অভ্র মিহির কাধে মাথা দিয়ে বললো
” টুইংকেল তোমার মিষ্টি আপু নিষ্ঠুর কেন?”
মিহি অভ্রর মাথায় হাত দিয়ে বলে
” দুঃখ পেয়ো না অভ। তুমি পুতুলের মতো মিত্তি বউ পাবা”
অভ্র মিহির কথাতে হালকা হাসলো

২ বছর পর
এখন মিহির বয়স ১০ বছর আর রিদের ২৪ বছর
অভ্র অনেক কষ্টের পর নিজেকে স্বাভাবিক করতে পেরেছে। তবে মেয়ে জাতের উপর রয়ে গেছে এক আকাশ পরিমাণের ঘৃণা। এখন কোন মেয়ের দিকে চেয়েও তাকায় না। এখন জীবনের একটাই লক্ষ্য টুইংকেলকে বড় করা আর নিজেকে স্টাবলিশ করা।
রিদ ও বাসা চেঞ্জ করেছে। কারণ অভ্র ওই বাড়িতে যেতে চাই না। মিষ্টিকে যখন অন্যের নামে শাখা সিঁদুর পড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখে তখন অভ্রর বুক ফেটে যায়। ও নিতে পারে না। মিষ্টির দিকে ঘৃণাতে তাকায় না।
রিদ বাড়ি চেঞ্জ করার সময় রামপ্রসাদ বাবু রিদকে ধরে অনেক কান্না করেছে। কিন্তু রিদ নিরুপায় হয়ে বাড়িটা চেঞ্জ করেছে!

রিদ অবশ্য রামপ্রসাদ বাবুকে বলেছে প্রতি শুক্রবারে রিদ আর মিহি উনার সাথে দেখা করতে আসবে।
রিদের নতুন বাড়ির মালিক বাসায় থাকে না। বাড়িটা খুব সুন্দর। রিদ এবার দুটো রুম ভাড়া নিয়েছে। মিহি আরেকটু বড়ো হলে ওকে অন্য রুমে রাখবে। কারণ মিহি ওর আশেপাশে থাকলেও ওর মাথা কাজ করে না। তার উপর মিহি এখন বড়ো হচ্ছে। ও চাই না কোনো অঘটন হক। তাই সব সময় মিহির থেকে দূরে দূরে থাকে। কিন্তু ছোট্ট মিহি ভাবে ওর পচাঁলোক ওকে আর আগের মতো ভালোবাসে না। এই নিয়ে মিহির অনেক অভিমান। মাঝে মাঝে রিদের সাথে ঝগড়া করে। অভিমান করে কথা বলে না। রিদ কিভাবে এই মেয়ে কে বুঝাবে এই মেয়ে ওর কাছাকাছি আসলে ওর পচাঁলোক উন্মাদ হয়ে যায়।

অভ্র আবার আগের মতো প্রতিদিন মিহির কাছে আসে ওকে স্কুলে নিয়ে যায়।
মিহির যতো আবদার ওর অভর কাছে। রিদ মিহিকে বকা দিলে অভর কাছে গিয়ে কেঁদে কেঁদে নালিশ দেই। অভ্র তখন মিছেমিছি ভাবে রিদকে গালি দেই।
যতো দিন যাচ্ছে মিহি জেদি হয়ে উঠছে। কিছু বললেই মুখ ফুলিয়ে নেই। যদি-ও রিদ যখন অনেক বেশি রেগে যায় তখন চুপ করে গিয়ে রিদের বুকে মুখ লুকাই ব্যাস রিদের রাগ গলে জল হয়ে যায়। রিদ মাঝে মাঝে ভাবে এই বাচ্চা সব জানে। কিভাবে রিদের রাগ ভাঙাতে হয়।
রিদ মিহি কে কড়া ভাবে নিষেধ করে দিয়েছে যদি কোনো ছেলের সাথে কথা বলে তাহলে মিহির চোখ খুলে লুডু খেলবে। এই ভয়ে মিহি স্কুলে কোনো ছেলের সাথে কথা বলে না কেও ওর সাথে কথা বলতে এলে রিদকে বলে দেই। পরেরদিন রিদ গিয়ে সেই ছেলেকে সাবধান করে আসে। দ্বিতীয়বার মুসলমানি হওয়ার ভয়ে সবাই মিহির থেকে দূরে থাকার-ই চেষ্টা করে…
মিহিকে নিয়ে রিদের চিন্তার শেষ নেই।

এভাবেই চলছে ওদের সংসার। এর মধ্যেই অভ্রর মা অসুস্থ হয় যার কারণে অভ্র ওর বাড়িতে চলে যায়। তাই রিদ মিহি কে একাই সামলাচ্ছে। ওকে স্কুলে দিয়ে আসা নিয়ে আসা। আবার কোচিং করানো। গানের ক্লাস করানো, নাচের ক্লাস করানো, সব সামলাতে গিয়ে রিদকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ অভ্র থাকলে ও মিহিকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে। রিদ কিছুদিনের জন্য কাজ থেকে ছুটি নিলো। যদিও মাস গেলে বেতন কাটবে। কিছু করার নেই কারণ মিহি কে একা ছাড়া যাবে না।
রিদ কিছু দিন কাজে যাবে না শুনে মিহির কি খুশি। কারণ পচাঁলোক মিহিকে ঠিক মতো সময় দেই না।
সন্ধ্যাবেলা…
রিদ মিহিকে পড়াতে বসেছে। প্রায় ৩০ মিনিট মিহি ভদ্র বাচ্চার মতো মন দিয়ে পড়লো। এরপর রিদ কে বললো

” শাড়ি পড়িয়ে দাও”
রিদ বললো
“সেদিন-ই পড়িয়ে দিয়েছি। এত শাড়ি পড়তে হবে কেন?যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাও তখন ব্যাথা কে পাবে? এমনিতেই তো বাঁদরের মতো সারাদিন লাফালাফি করো”
রিদের কথা টা বলতে দেড়ি নেই এদিকে মিহি চোখের জলে নাকের জলে করে ফেলেছে। এই হয়েছে এক জ্বালা কিছু বলা যায় না। রিদ বললো
“আমার প্রিন্সেস দিন দিন পচা হয়ে যাচ্ছে। যারা কান্না করে তারা পচা মেয়ে”
মিহি ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললো
“তুমি আমাকে আর ভালোবাসো না। আমার কোনো কথা শোনো না। আমি অভর কাছে চলে যাবো”
“মিহি চুপপপ। এক মিনিটের মধ্যে কান্না না থামালে আজকে সারারাত পড়াবো। কিছু বলি না বলে বেশি জেদি হয়ে গেছো তুমি।”

মিহি কান্না থামালো। কারণ মিহি জানে রিদ যখন রেগে যায় তখন শুধুমাত্র মিহি কে ❝ মিহি ❞ বলে সম্মোধন করে। নইলে সব সময় প্রিন্সেস বলেই ডাকে। মিহি চুপ করে রিদের কোলে গিয়ে বসে ওর গলায় মুখ লুকালো। এটাই ওর কাজ। যখন দেখে রিদ রেগে গেছে তখন এই রকম ঢং করে। ❝রিদ-মিহির❞ এরকম ন্যাকামু দেখে বেচারি মিকি ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। ও আবার এসব ন্যাকা কাহিনি লাইক করে না। যখনি ❝রিদ-মিহি❞এমন নাটক করে তখনি মিকি মুখ বাঁকা করে চলে যায়!
এইদিকে রিদ মিহির চুলে চুমু দিয়ে বললো
“শাড়ি নিয়ে আসো পড়িয়ে দেই”
মিহি খুশিতে রিদের গালে চুমু খেয়ে শাড়ি নিয়ে আসলো।৷ রিদ সুন্দর করে পড়িয়ে দিলো।
মিহি আয়নার সামনে গিয়ে নাটক করলো কিছুক্ষন। এটাই ওর কাজ। হুদাই শাড়ি পরে বউ সেজে আয়নার সামনে গিয়ে ঢং করা।

এর মধ্যেই ঝমঝম করে বৃষ্টি নামলো। এই অসময়ে বৃষ্টি দেখে রিদ অবাক হলো। এদিকে বৃষ্টি পড়া দেখে মিহির খুশি দেখে কে। বৃষ্টি ওর খুব পছন্দ। এক দৌড়ে বাহিরে চলে গেলো। রিদকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে। রিদ ও দৌড়ে গেলো। মিহি বৃষ্টির মধ্যে যাওয়ার আগেই ওকে কোলে নিয়ে ঘরে আসলো।
মিহি বললো
” ছাড়ো পঁচালোক আমি ভিজবো”
” একটা চুমু দিবো বেয়াদব মেয়ে ঠান্ডা লাগবে না?”
মিহি বললো
“লাগবে না একটু ভিজি”
রিদ মিহি কে এটা ওটা বুঝিয়ে যেতে দিলো না।

সকাল বেলা…
হুট করেই রিদের হার কাঁপানো জ্বর আসলো। মাথা তোলার মতো শক্তি পাচ্ছে না। মিহি ঘুম থেকে উঠে দেখছে রিদ তখনো ঘুমিয়ে আছে। আর ঘুমের ঘোরেই অস্পষ্ট ভাবে কিছু কথা বলছে মিহি শোনার জন্য রিদের মুখের কাছে যায়। রিদ ঠিক কি বলছে শোনা যাচ্ছে না।
মিহি বললো
” পঁচালোক উঠো?”
রিদের কোনো সারা শব্দ আসছে না। মিহি খুব ভয় পেয়ে যায়। মিহি ডাকলে পচালোক তো চুপ করে থাকে না তাহলে আজকে কেনো ওর ডাকে সারা দিচ্ছে না। মিহি এবার না পেরে কান্না শুরু করে। রিদ জ্বরের ঘোরে কোনো মতে চোখ খুললো। খুব কষ্ট করে হাত দিয়ে মিহির চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে খুব ধিরে বললো
“পঁচালোকের কি কিছু হয় নি। কাঁদে না পাখি”
মিহি রিদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
রিদ ও মিহি কে নিজের সাথে আঁকড়ে ধরলো। মিহি বললো

” তেমার শরীর এতো গরম কেনো পঁচালোক”
রিদ আস্তে করে বলে
“মনে হয় জ্বর এসেছে”
মিহি তখন ভাবলো সেদিন ও অভ্রর ফোনে একটা কার্টুন দেখেছিলো যেখানে শেয়ালের বাচ্চার অনেক জ্বর এসেছিলো আর শেয়াল মা ওর বাচ্চা কে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছিলো”
মিহি গুটি গুটি পায়ে একটা বাটিতে করে অল্প জল নিলো। আর রিদের একটা রুমাল ভিজিয়ে রিদের কপালে দিলো। রিদ জ্বরের ঘোরে মিহির কাণ্ড দেখে হালকা হাসলো। রিদ মিহিকে বললো
” এসবের প্রয়োজন নেই প্রিন্সেস। তুমি আমার কাছে শুয়ে থাকো। তাহলেই হবে। তুমিই আমার সব থেকে বড় মেডিসিন”

মিহি রিদের কোনো কথা শুনলো না। অনেকক্ষণ জলপট্টি দিয়ে দিলো। মিকি এসে রিদের বুকের উপর শুয়ে পড়লো। এই দেখে মিহির শরীর জ্বলে উঠলো মিহি তেড়ে মিকির কাছে গিয়ে বললো
” ওই তুই আমার পঁচালোকের কোলে উঠলি কেনো রে। মেরে তোর মুখ ভেঙে দেবো। নাম এখনি।”
মিহির গালি শুনে মিকি মুখ ফুলিয়ে বাহিরে চলে গেলো। ওগো এতো নাটক। ভাগ্যিস মিকি কথা বলতে পারেনা।
এদিকে জলপট্টি দেওয়াতে রিদের জ্বর অনেক টা কমে এসেছে। রিদ আস্তে আস্তে উঠলো। মিহি রিদ কে উঠতে দেখে ওর কাছে গেলো। রিদ মিহির দুই হাতে চুমু দিলো
মিহি রিদ কে বললো
” তুমি উঠো না পচা লোক। তোমার কি লাগবে বলো আমি এনে দিচ্ছি”
রিদ বললো
” আমার তোমাকে লাগবে”

৮ বছর পর….
মিহি এখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। রিদের পড়াশোনা অনেজ আগেই শেষ। রেস্টুরেন্টের কাজটার রিদ ছেড়ে দিয়েছে। অনেক দিন আগে একটা ভদ্রলোক রেস্টুরেন্টে এসেছিলো। এবং সেদিন লোকটার মানিব্যাগ কোনভাবে হারিয়ে গিয়েছিল যার কারণে খাবার খাওয়ার পর লোকটা বিল দিতে পারেনা। যার কারনে রেস্টুরেন্টের বাকি ওয়েটারগুলো লোকটার সাথে খুব মিসবিহেভ করছিলো সেদিন রিদ উনার হয়ে খাবারের বিল দিয়ে দিয়েছিলো। তখন লোকটার রিদকে খুব পছন্দ হয়। এতো ভালো একটা ছেলে। মন মানসিকতা অনেক ভালো। পরে অবশ্য লোকটা রিদকে সব টাকা পরিশোধ করে দেয়।
লোকটা তখন রিদকে বলে

মিহি পর্ব ২১+২২

“বাবা তুমি কিছু মনে না করলে তোমাকে একটা কথা বলি। তুমি আমার পার্সোনাল ড্রাইভার হবে? তুমি এখানে যা বেতন পাও তার থেকে অনেকগুন বেশি আমি দিবো”
রিদ তখন চিন্তা করে মিহি বড়ো হয়েছে ওর পড়াশোনার খরচ বেড়েছে। রেস্টুরেন্ট থেকে যে টাকা পায় সেই টাকা দিয়ে হয় না। অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর রিদ রাজি হয়ে যায়।
এরপর থেকে উনার ড্রাইভার হিসেবে রিদ কাজ করে। লোকটার নাম আমজাদ হোসাইন। উনিও বিজনেসম্যান। উনার একটা মেয়ে আছে নাম কল্পনা হোসাইন। মেয়েটা রিদ কে খুব পছন্দ করে।

মিহি পর্ব ২৫+২৬