মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫১
Tahmina Akhter
প্রিয় ডাক্তার সাহেব,
আপনি খুব রেগে গেছেন দেখছি। এত রাগ ভালো নয়। হাই ব্লাড প্রেশার হয়ে যেতে পারে। একজন ডাক্তার হয়ে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবেন না?
আমি কিন্তু আপনাকে উত্যক্ত করছি না।
বরং আর একটা কথা বলতে এসেছি,,
আপনি যখন খুব রেগে যান, তখন আপনার ডান ভ্রুটা সামান্য কেঁপে ওঠে। সবাই সেটা খেয়াল করে না হয়তো। আমি করি। আমার নামে মামলা করবেন? করুন। তবে আমায় গ্রেফতার করতে এলে আগে আয়নায় একবার নিজের চোখে তাকাবেন। দেখতে পাবেন আপনি আসলে সেখানে কাকে খুঁজছেন?
ইতি,
অচেনা কেউ।
মেইলটা পড়ার পর মেঘালয় কিছুক্ষণ স্থির বসে রইল। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। ঘরের লাইটটা জ্বলছে, কিন্তু, তার মনে হচ্ছে তার চারপাশটা নিকষ কালো আঁধারে ছেয়ে গেছে। কেবল চোখের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ই-মেইল এর লেখাগুলো গোটা গোটা আকারে চোখের সামনে ভেসে আছে। সে ওয়াশরুমে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল বেশ কয়েক সেকেন্ড। ডান ভ্রুটা…সে ইচ্ছে করে কুঁচকাল। হালকা কাঁপল ডানচোখের ভ্র’টা। আচমকা তার বুকের ভেতরে ধক করে উঠল।
ব্যাপারটা কাকতালীয় কিনা!! নিজেকেই বোঝানোর চেষ্টা করল সে। কিন্তু সমস্যা হলো, তার জীবনের এই বিষয়টা খুব কম মানুষ খেয়াল করেছে কিংবা করে। খুবই কম।
মেঘালয়ের দৃষ্টি ধীরে ধীরে নিজের চোখে গিয়ে থামল। হুট করে মনে পড়ল ওই লেখাগুলো।
“তবে আমায় গ্রেফতার করতে এলে আগে আয়নায় একবার নিজের চোখে তাকাবেন। দেখতে পাবেন আপনি আসলে সেখানে কাকে খুঁজছেন?”
মেঘালয় সত্যি সত্যিই ভাবতে শুরু করল… সে কাকে খুঁজছে?
মেঘালয়ের রাগটা আর আগের মতো ধারালো নেই। রাগের জায়গা দখলে নিয়েছে অস্বস্তি।
আর অজানা ভয়।
শেষমেষ মেঘালয় উপায়ন্তর না পেয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ কল করলো। দুই ভাইয়ের সঙ্গে এই ব্যাপারটা নিয়ে আলাপ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু বলা হয়ে উঠছে না তো! প্রথমে গ্রুপ কলে এলো কাব্য তারপর এলো মাশফি। মাশফি মেঘালয়কে দেখে মৃদু হেসে বলল।,
—ব্যাপার কি তোকে এত আপসেট দেখাচ্ছে কেন?
এবার মনে হলো এই ব্যাপারটা নিয়ে তার ভাইদের সঙ্গে আলাপ করা অনুচিত। মেঘালয় ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রাতের ঝকঝকে তারার আসর বসানো আকাশের পানে তাকিয়ে বলল,
— কিছু কিছু কথা সবাইকে প্রকাশ করে করে বলা যায় না।
মেঘালয় কল কেটে দিলো ঠাসস করে। মাশফি এবং কাব্য বোকার মত বেশ কিছুক্ষণ ফোনের স্ক্রীণের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর, বেশ কয়েকবার কাব্য এবং মাশফি মিলে মেঘালয়ের সঙ্গে কানেক্ট করার চেষ্টা করলো। কিন্তু, মেঘালয়….
মেঘালয় গার্ডেনের ঘাসের ওপর বসে, আনমনে ঘাস ছিঁড়তে ছিঁড়তে বিড়বিড় করে বলল,,
—ভীষণ পাজি একটা মেয়ের পাল্লায় পড়েছি, ভাই। কিসব ছাইপাঁশ লিখছে! আমি পুরুষটা ভীষণ শক্ত হৃদয়ের বলে কিনা তার কঠিন এবং নরম ভাষার মিষ্টি আদুরে ভঙ্গিতে লেখা শব্দের মোহজালে আটকা পড়ছি না! অন্য কেউ হলে নিশ্চিত সেই ভার্চুয়াল চিঠিগুলো পড়েই প্রেমে পড়ে যেত… এই “পত্রলেখা”-র প্রেমে।
কথাগুলো বলতে বলতে থমকে গেল মেঘালয়। “পত্রলেখা” নামটা বারবার উচ্চারণ করলো। অভাবনীয় কান্ড! তার জীবনের আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো সে আলোকে কেবল ভিন্ন ভিন্ন নামে ডেকেছে। কিন্তু আলোকে বাদ দিয়ে আজ কিনা অন্য এক অজানা নারীর জন্য, নিজেই একটা নাম ঠিক করে ফেলল!
“পত্রলেখা”!
ভারী আশ্চর্য তো!!!
নিজের চূড়ান্ত অধঃপতন দেখতে দেখতে মেঘালয় গভীর নিঃশ্বাস নিল। তারপর ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে ল্যাপটপ খুলল। কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। আঙুল কীবোর্ডের ওপর থেমে আছে। তারপর টাইপ করা শুরু করল।
রহস্যময়ী,
আপনি কে? আমার ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কে এতটুকু জানলেন কীভাবে?
যা বলছেন তা যদি কাকতালীয় হয়, তাহলে এটা শুধুমাত্রই আপনার অসুস্থ রসিকতা। আর যদি কাকতালীয় না হয়, তাহলে বিষয়টা সিরিয়াস।
আমি শেষবার জিজ্ঞেস করছি। আপনি কে?
ইতি,
ডা. মেঘালয় ইমতিয়াজ আহমেদ
মেইল পাঠিয়ে মেঘালয় চেয়ারে হেলান দিল।
এই প্রথমবার সে রহস্যময়ীকে হুমকি দিল না।
সে উত্তর চাইছে কেবল। ওদিকে স্ক্রিনের কোণে “Message Sent” লেখা জ্বলজ্বল করছে।
কিন্তু মেঘালয়ের মস্তিষ্কের ভেতরে এখন একটাই প্রশ্ন,
“সে কি সত্যিই…?”
বাকিটা ভাবতে সাহস হলো না তার। বেশ অনেকটা সময় অতিক্রম হবার পরও যখন রিপ্লাই এলো না তখন মেঘালয় চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে থাকা অবস্থা থেকে সোজা হয়ে উঠে বসল।
স্ক্রীণে চোখ রাখতেই দেখল, কিছুই নেই।
সে ইনবক্স রিফ্রেশ করল। কিছু নেই। আবার রিফ্রেশ। কিছু নেই। মেঘালয় নিজেকে বোঝালো
“অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই দেবে না। কেউ তো ২৪ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকে না।”
তবুও মেঘালয়ের হাত আবার মাউসের দিকে গেল। রিফ্রেশ করলো । কিন্তু রেজাল্ট এলো শূন্য।
আকস্মিকভাবে ঘরের ভেতর অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুক্ষণ আগে যে মানুষটা সেই রহস্যময়ীকে হুমকি দিচ্ছিল, এখন সেই মানুষটাই রহস্যময়ীর রিপ্লাই এর অপেক্ষা করছে।
মেঘালয় উঠে জানালার কাছে গেল। বাইরের আকাশে রাত নেমে গেছে। রাস্তার আলো ঝাপসা লাগছে তার চোখে। মোবাইলটা হাতে তুলে নিল।
স্ক্রিন অফ। আবার অন করল। মেইল অ্যাপ খুলল। নতুন কিছু নেই। মেঘালয় বিরক্ত হয়ে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে দিল।
“ এটা একটা খেলা। তাকে বিভ্রান্ত্র করার গেইম”
নিজেকেই বলল মেঘালয় । কিন্তু তার ভেতরের আরেকটা কণ্ঠ ফিসফিস করে উঠল,,
“যদি খেলা না হয়, তো?”
কি যেন মনে পড়তেই মেঘালয়ের তাড়াহুড়ো করে এসে বিছানায় বসে আবারও ল্যাপটপ খুলল। এবার নতুন মেইল নয়, পুরোনো ইনবক্স স্ক্রল করতে লাগল। কোনো পুরনো পরিচিত নাম?
কোনো পুরনো ইমেইল? না। সবকিছু স্বাভাবিক।
শুধু তার ভেতরটায় অস্বাভাবিক গতিতে সব চলছে এখন।
এরইফাঁকে সময় কেটে গেল। রাত প্রায় দেড়টা।
মেঘালয় সিদ্ধান্ত নিল ঘুমাবে। লাইট অফ করল।
কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই সেই লাইনটা ভেসে উঠছে,
“দেখবেন সেখানে কাকে খুঁজছেন।”
মেঘালয় বিরক্ত হয়ে উঠে বসল। মোবাইলটা আবার হাতে নিল। ঠিক তখনই স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠল। “1 New Mail.”
মেঘালয়ের বুকের ভেতর কেমন যেন শব্দ হলো।
সে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। ওপেন করবে… না করবে না? শেষমেশ আঙুল এগিয়ে গেল। স্ক্রিনে শুধু সাবজেক্ট লাইনটা ভেসে উঠল,
“Subject: আয়নায় যা দেখলেন, তা কি চিনতে পেরেছেন?”
মেঘালয়ের নিঃশ্বাস আটকে গেল। মেইল এখনো সম্পূর্ণ খোলা হয়নি। ঘরের অন্ধকারে স্ক্রিনের আলো মেঘালয়ের চোখে পড়ছে। উজ্জ্বল স্ক্রীণের দিকে তাকিয়ে সে ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল, — কে তুমি?
ডাক্তার সাহেব,
এত রাত পর্যন্ত জেগে থাকা আপনার অভ্যাস নয়। রাত একটা পেরোলেই সাধারণত আপনি ল্যাপটপ বন্ধ করে দেন। আজ করলেন না কেন?
অপেক্ষা করছিলেন? রাগের ভেতরেও মানুষ অপেক্ষা করে যখন সে উত্তর চায়। আপনি জানতে চেয়েছেন, আমি কে? আমি আমার নাম বললে আপনি বিশ্বাস করবেন? নাকি নাম শোনার পর প্রমাণ চাইবেন? আপনি কি এখনো কফি খান না? নাকি কাপ হাতে নিয়ে শুধু ঠান্ডা হতে দেন…
তারপর অর্ধেক রেখে উঠে যান। আপনার অভ্যাস বদলায়নি নাকি এখনও সেই আগের মতোই আছেন? তবে একটা জিনিস বদলেছে হয়তো। আমি খেয়াল করেছি। আগে আপনি এত প্রশ্ন করতেন না। এখন করছেন। ভালো লাগছে আমার কাছে । আমার নামে মামলা করবেন? করুন। তবে চার্জশিট লেখার আগে নিজের হৃদয়ের সাক্ষ্যটা নেবেন। ওখানে আমার বিরুদ্ধে কিছু পাবেন কি না, জানি না।
ইতি,
যে আপনার রাগের ভেতরেও অপেক্ষা দেখতে পায়।
মেইল পড়া শেষ হতেই মেঘালয়ের হাত স্থির হয়ে গেল।
১.রাত একটা…
২.কফি…
৩.অর্ধেক রেখে ওঠা…
এই বিষয়গুলো সে কাউকে বলে না। কেউ খেয়ালও করে না। কারণ, এই ব্যাপারগুলো কেবল কাছের মানুষেরা জানে। তারাই লক্ষ্য করে।
মেঘালয়ের গলা শুকিয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে রান্নাঘরের দিকে গেল। টেবিলের ওপর সত্যিই অর্ধেক ভর্তি কফির কাপ পড়ে আছে। যা কিনা সে লাইব্রেরি থেকে ফেরার পর পান করেছিল। মেঘালয় স্থির দাঁড়িয়ে রইল। এখন তার মাথার ভেতর যেন অচেনা, অদ্ভুত শব্দ হচ্ছে।
“ এটা কাকতালীয় না।” প্রথমবারের মতো মেঘালয় স্বীকার করল। মেঘালয় আবারও ঘরে ফিরে এল। চেয়ারে বসে পড়ল। ল্যাপটপের স্ক্রিনে সেই মেইলটা খোলা। তার আঙুল কীবোর্ডের ওপর ভাসছে। এবার তার রাগ নেই। শুধু অস্থিরতা। সে ধীরে ধীরে টাইপ করল,
“আপনি যদি আমাকে চিনে থাকেন, তাহলে সামনে এসে দাঁড়ান। লুকিয়ে কথা বলার মানে কী?”
কিন্তু… সেন্ড বাটনের ওপর আঙুল গিয়ে থেমে গেল। সে থেমে গেল। ডিলিট করল পুরো লাইনটা। তার বদলে লিখল,
“আপনি কী চান?”
এই তিনটা শব্দ সেন্ড করলো। স্ক্রিনে আবার ভেসে উঠল , Message Sent. মেঘালয় এবার আর চেয়ারে হেলান দিল না। সে সামনে ঝুঁকে বসে রইল। যেন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
মেইল পাঠানোর পর মেঘালয় চুপ করে বসে রইল। স্ক্রিনে কোনো নতুন নোটিফিকেশন নেই।
কিন্তু তার মাথার ভেতর একটার পর একটা নোটিফিকেশন বাজছে। “আপনি কী চান?”
এই তিনটা শব্দ পাঠানোর পর থেকেই সে অস্বস্তিতে আছে। এটা প্রশ্ন নাকি এটা রহস্যময়ীর সামনে আত্মসমর্পণের শুরু কিনা, সে নিজেই বুঝতে পারছে না। সে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।
ঘরের ভেতর পায়চারি করছে।
— এটা কেউ ইচ্ছা করে করছে?
— কেউ আমাকে অবজার্ভ করছে?
— কেউ খুব কাছ থেকে জানে আমার অতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র বিষয়গুলো?
মেঘালয়ের কপালে ঘাম জমেছে। সে হাত দিয়ে মুছে ফেলল। হঠাৎ মনে হলো, “সে কি সত্যিই একা? এই কয়েকদিনে কারা কারা তার আশেপাশে ছিল? রিনি? ভার্সিটি? হাসপাতাল?
না… এগুলো তো সাম্প্রতিক। কিন্তু যে কথা মেইলে লেখা, ওগুলো তার পুরোনো অভ্যাস। খুব ব্যক্তিগত তথ্য।”
এসব ভাবতে গিয়ে মেঘালয়ের বুকের ভেতর চাপ তৈরি হচ্ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে না, কিন্তু স্বস্তিও পাচ্ছে না। সে হঠাৎ ল্যাপটপ বন্ধ করে দিল।
যেন স্ক্রিন বন্ধ করলেই চিন্তাও বন্ধ হয়ে যাবে।
কিন্তু চিন্তা বন্ধ হলো না।
মেঘালয় বিছানায় বসে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরল। চোখ বন্ধ করল। যেন তার ভেতরে দুইটা কণ্ঠ কথা বলছে,
প্রথম কণ্ঠ: “এটা আলো না।অন্য কেউ গেম খেলছে।”
দ্বিতীয় কণ্ঠ: “যদি হয়?
এসব উদ্ভট কথা ভাবতে ভাবতেই মেঘালয় দাঁতে দাঁত চেপে ফেলে বলল,
— না। এটা হতে পারে না।
কিন্তু মনের গভীরে যে জায়গাটা এত বছর ধরে ফাঁকা, সেই জায়গায় আজ একটা শব্দ যেন হয়েছে। সেই শব্দের নাম “আশা”। এই শব্দটাই তাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। কারণ “আশা” করা মানেই আবারও ভেঙে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা।
মেঘালয় আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল আবার।
নিজের চোখের দিকে তাকাল। চোখ দুটো লাল।
রাগে নয় বরং আলোর অপেক্ষায় থেকে এমন হয়েছে। মেঘালয় ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল,
— সত্যি যদি তুমি হও… তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে?
কথাটা বলেই সে থেমে গেল। সে তো এখনো নিশ্চিত না। কিন্তু, অবচেতন মনেই প্রশ্নটা বেরিয়ে গেছে। তার ভেতরের শক্ত, নিয়ন্ত্রিত, স্থির মানুষটা আজ অস্থির দোলাচলে কাঁপছে।
রাত বাড়ছে। নতুন মেইল নেই। কিন্তু এবার সে রিফ্রেশ করছে না। সে অপেক্ষা করছে।
মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫০
মেঘালয়কে ই-মেইল সেন্ড করার পর আলো যখন দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো ঠিক তখনি আলোর মনে পরলো, হসপিটালে যেতে হবে। দুপুর গড়িয়ে এখন বিকেল হতে চলল। মেঘালয়ের সঙ্গে তার কথোপকথনের ফাঁকে যে কখন সময় এতদূর গড়িয়ে গেছে খেয়াল অব্দি করতে পারেনি। ঘর থেকে বের হয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে আগে গোসল শেষ করলো। তারপর, একটা নীল রঙা জামদানি শাড়ি এবং সাদা ব্লাউজে নিজেকে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আপাদমস্তক দেখতে দেখতে আনমন হয়ে আচমকা আয়নায় তাকাতেই আশ্চর্য হয়ে গেল আলো। কারণ, তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে…..
