Home মেঘের ওপারে আলো মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৬

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৬

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৬
Tahmina Akhter

মেঘালয়কে পরপর দু’বার কল দেয়ার পরও যখন মেঘালয় কল রিসিভ করলো না। কাব্য হতাশ ভঙ্গিতে ইতিকে ইশারায় বোঝালো মেঘালয় কল রিসিভ করছে না। ইতি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
আলো ততক্ষণে নিজেকে সামলে ফেলেছে। চোখের জল ফুরিয়ে গেছে। মানুষটাকে বারবার ভুল বুঝেছে। মানুষটার ভালোবাসাকে করুণা ভেবে নিজেকে আত্মসমর্পণ করা থেকে বিরত রেখেছে। কিন্তু, অবচেতন মন তো বারবার চেয়েছে অন্তত ডাক্তার সাহেবের পায়ের কাছে তার ঠাঁই মিলুক। দুজন দুজনকে এতটা চাওয়ার পরও কেন এত দূরত্ব বেড়েছে? মনের কথা মনে দাবিয়ে রাখার ফলাফল যে খুব একটা আশানুরূপ হয় না তা হারে হারে টের পাচ্ছে।
সিতারা বেগম চুপচাপ বসে আছেন। ইচ্ছে করছে আলোর গালে ঠাটিয়ে থাপ্পড় মারতে।

বিয়ে দেয়ার পর, আফসার সাহেবের প্রয়াণের পর মেয়েকে বেশী মাথায় তুলে ফেলেছিলেন। তাই মেয়ের মাথা বিগড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোথাও না কোথাও মেয়ের দোষ একার না। মা হিসেবে তিনি ব্যর্থ৷ মেয়েটাকে তিনদিন বয়স থেকে পেলেপুষে বড় করলেন। মেয়েটা চোখের সামনে বয়ঃসন্ধি পাড় করে পরিণত তরুনী বয়সে উপনীত হবার আগে বিয়ের মতো একটা গুরত্বপূর্ণ সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। মেয়েটাকে একবারও জিজ্ঞেস করেননি, কি রে আলো তোর স্বামী কেমন? তোর সংসারে সব ঠিকঠাক? মেয়েটা সেদিন রাতে সিলেট যেতে চাইলো। সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। ভুলটা এখানে হয়েছে। মেয়ে রাগ করেছিল। রাগ কমার পরে মেয়েকে নিয়ে যদি আলোচনায় বসতেন তাহলে একটা সমাধান হতো।

কিন্তু, মেয়েকে সুযোগ দিয়েছেন তিনি। বলতে গেলে মেয়ের এতবছরের কষ্টের খরিদদার তিনি নিজেই। কেন তিনি এতবছর একবারের জন্য চট্টগ্রাম শহরে পা রাখলেন না? কেন তিনি আলোর কথামতো মেঘালয় এবং তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে রেখেছিলেন? তিল পরিমান অভিমান বাড়তে বাড়তে এভারেস্টের চূড়া অব্দি গিয়ে ঠেকেছে। অথচ, একজন মা নাকি সন্তানের পথপ্রদর্শক হয়? তিনি তো হতে পারলেন না। মেয়েটার সকল সুখ-দুঃখের সাক্ষী তিনি নিজেই। সৎ মা বলেই মেয়ের দুঃখের ভাগীদার হলেন? আলোর আপন মা যদি হতেন তাহলে কি আলোর পরিণতি আজ এমন হতো?
আলো বসে বসে অদূর ভবিষ্যত নিয়ে অনেকখানি পরিকল্পনা করে ফেলল। কাব্যের সঙ্গে আলাপ করতে যাবে ঠিক তখনি কাব্যের হোয়াটসঅ্যাপে কল এলো। ইতি আলোকে ইশারায় চুপ থাকতে বলল। আলো ভ্রু কুঁচকে ফেলল তৎক্ষণাৎ।

মেঘালয় মাত্রই হট শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে রুমে পা রেখেছে। তখনি রিনি দরজায় নক করে বলল,
— আসব?
— দুই মিনিট অপেক্ষা করো।
মেঘালয় তাড়াহুড়ো করে এ্যাশরঙা টিশার্ট এবং ডেনিমের জিন্স পরে টাওয়াল দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে রিনিকে উদ্দেশ্য করে বলল ভেতরে আসার জন্য।
রিনি দরজা খুলে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
— পাপা তোমাকে ডাকছে৷
— চাচ্চুকে বলো আমি কিছুক্ষণ পরে আসছি।
রিমি সায় জানিয়ে চলে যাচ্ছিল। এমন সময় কি মনে করে পেছনে ফিরে বলল,
— তোমাকে একদম রবার্ট প্যাটিনসনের মতো লাগছে।

কথাটি বলে ভৌ-দৌড় লাগালো রিনি। মেঘালয় বিরক্তিকর শ্বাস ছাড়ল। এই মেয়েটা মাঝে মাঝে বড্ড জ্বালাতন করে। সবকিছু জানার পরও এরকম করার কি প্রয়োজন? হাতের টাওয়াল ছুঁড়ে ফেলল খাটের পাশে রাখা বেতের চেয়ারের উপর। তারপর, রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল বাইরে।
বাড়িটা Tower Hamlets-এর ভেতরে চমৎকার একটা ডুপ্লেক্স হাউস। বাইরে থেকে দেখলে খুব একটা নজর কাড়ে না। ভেতরে ঢুকলে লম্বা একটা করিডর, ডান পাশে সিঁড়ি। দ্বিতীয় তলার একটি ঘর মেঘালয়ের। ঘরটা ছোট, কিন্তু, বেশ গুছানো। জানালার পাশে একটা টেবিল, তার ওপর ছড়িয়ে থাকা দু-একটা বই আর ফোন।
ঘর থেকে বেরিয়ে করিডর ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে সিঁড়ির দিকে আসে। কাঠের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হালকা শব্দ হয়। নীচে নামতেই ছোট চাচার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। সদ্য গোসল করার কারণে কপালের ওপর ভেজা চুল লেপ্টে আছে, সেখান থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। রিনি এই দৃশ্যটা দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বেহায়ার মতো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। রিনির গতিবিধি মেঘালয় টের পাচ্ছে। কিন্তু চাচ্চু এখন সামনে থাকায় কিছু বলা যাবে না। অগত্যা তাকে কারো দৃষ্টির বস্তু হিসেবে নিজেকে পদর্শিত করতে হচ্ছে।
মেঘালয়কে দেখে তৌহিদ সাহেব হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন,

— হাউ আর ইউ, ক্লাউড?
“ক্লাউড” শব্দটা শুনে মেঘালয় হেসে বলল,
— আমি এখন সেই ছোট মেঘালয় নই চাচ্চু! যাকে দেখলে আপনি ক্লাউড বলে সম্বোধন করে কাঁদাতে পারবেন!
তৌহিদ সাহেব হেসে বললেন,
— তা ঠিক। শোন না বাপ? আমার প্রেশারের ওষুধ নেই। একটা শপ থেকে এনে দিবি?
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিনি বলল,
— অনলাইনে অর্ডার করলে চল্লিশ মিনিটের মধ্যে চলে আসবে পাপা।
— কিন্তু ওষুধ আমার বিশ মিনিটের মধ্যে লাগবে।
রিনির দিকে কথাটা বলেই তৌহিদ সাহেব মেঘালয়ের দিকে তাকালেন।
— তুই যা তো বাপ।
মেঘালয় মাথা নাড়িয়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই রিনি,

— এক মিনিট।
বলে দৌড়ে চলে গেল।
দেড় মিনিটের মধ্যেই সে ফিরে এলো মেঘালয়ের লং ব্ল্যাক কোর্ট আর মানিব্যাগ নিয়ে। দুটো জিনিস তার দিকে বাড়িয়ে ধরল।
মেঘালয় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কোর্টটা গায়ে জড়িয়ে নেয়, মানিব্যাগটা হাতে নেয়। তারপর কিছু না বলে দরজার দিকে হাঁটা ধরল।
Tower Hamlets-এর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই আলোর কথা মনে পরল মেঘালয়ের। ঠিক কোনো কারণ ছাড়াই। হয়তো মার্চের এই ফ্যাকাশে আলোটাই দায়ী। লন্ডনের ঝকমকে আলো আলো নয় ; ছায়ার মতো। আর সেই ছায়ার ভেতরেই কোথাও আলো লুকিয়ে থাকে। যেমনটা আলো নিজেও ছিল।

ব্রিক লেনের এক কোণে দাঁড়িয়ে সে থেমে যায়। ভেজা ফুটপাথে স্ট্রিটলাইটের প্রতিফলন পড়ে, আর সেই আলোয় আলোর মুখটা ভেসে ওঠে তার চোখের সামনে। আলোকে শেষবারের মতো দেখা হয়েছে বহুবছর পেরিয়ে গেছে। অথচ, চোখের সামনে যখনি ধরা দেয় অসম্ভব স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। আলো হাসলে যেমন চোখের কোণটা আগে হাসত। সেই হাসি এখনও যতবারই চোখের সামনে ধরা পরে ঠিক ততবারই সেই অনূভুতি গিয়ে হৃদয়ে নামে।
মার্চে ঠান্ডা বাতাস শ্বাসের সঙ্গে বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে। মেঘালয় কোটের বোতাম আটকে নেয়। পরক্ষণেই অবচেতন মন বলে ওঠে, ঠিক এভাবে আলোর স্মৃতি আটকাতে পারে না কেন?
আলো কেমন করে কথা বলত? খুব ধীরে, যেন শব্দগুলো দেয়াল ভেঙে ওপারে না যায়। খুব করে জানতে ইচ্ছে করে। আলোর না বলা কথাগুলো। যে কথাগুলো সে তার মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে লুকিয়ে রেখেছিল।

তৌহিদ সাহেবের ঔষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে
থেমসের ধারে দাঁড়িয়ে মেঘালয় নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। পানির ওপর কুয়াশা। ঠিক যেমন আলোর চোখে থাকত। কুয়াশা দেখে যেমন ঠাওর করে কুয়াশার ওপারে পথের বিস্তৃত সঠিকভাবে নিয়ে বলা যায় না । ঠিক তেমনি আলোর কঠোরতার খোলস ভেদ করে আলোর হৃদয়ের গভীরতায় কার বসবাস তা নিয়ে রহস্য ভেদ করা যায় না।
সে ভাবে, আলোকে নিয়ে এই শহরে থাকলে কেমন হতো? বৃষ্টি নামে আবার। খুব হালকা। ফোঁটাগুলো গালে পড়ে ঠান্ডা লাগে, কিন্তু মেঘালয়ের চোখ জ্বালা করে ওঠে অন্য কারণে। আলোকে মনে পড়লে তার সবসময়ই এমন অনুভূতি হয়। বলা হয়নি এমন কথাগুলো বুকের মধ্যে হঠাৎ করে খুব ভারী হয়ে ওঠে।
স্ট্রিটলাইটের নিচে দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারে, Tower Hamlets-এর মার্চের শীত আর আলোর স্মৃতি একই রকম। দুটোই পুরোপুরি আসে না, পুরোপুরি যায়ও না। মাঝখানে ঝুলে থাকে।

বাড়িতে ফিরে আসার তৌহিদ সাহেবের হাতে ঔষধ দিয়ে নিজের ঘরে ফিরল মেঘালয়। কোর্ট খুলে বিছানায় ছুড়ে ফেলল। তারপর ব্লু রঙা জ্যাকেট পরল। মাশফিকে কল দেয়ার কথা মনে পরতেই বিছানার ওপর থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো বাংলাদেশ থেকে কাব্যর কল এসেছে। প্লেন জার্নি তারপর এতক্ষণ বাইরে থাকার কারণে শরীরটা বড্ড ক্লান্ত লাগছে। মেঘালয় টানটান হয়ে শুয়ে পরল বিছানায়। তারপর, ভিডিও কল করল কাব্যের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে।
কল রিসিভ করার পর কাব্যের শুকনো মুখ দেখে মেঘালয় খানিকটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

— কি হলো? পেঁচার মতো মুখ বানিয়ে রেখেছো কেন?
— তোর কি চাই? আমাকে একটু খুলে বলবি?
কাব্যের প্রশ্ন শুনে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে মেঘালয়। কারণ, কাব্যের প্রশ্নের পেছনের কারণ কি? এতবছর পর আলো এসেছিল তার খোঁজে। ইতি ভাবি কি করেছে? মেঘালয় হাজারবার মুখে না বলুক। তাই বলে তারা আলোকে আঁটকে রাখবে না! আর আলো কেমন? সে জোর করে তার অধিকারবোধ দেখিয়ে থাকতে পারল না কেন বাড়িতে? এদিকে কাব্য রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলছে,
– এভাবে তাকিয়ে থাকবি না, মেঘ। তুই যদি ভেবে থাকিস তুই এভাবে ছন্নছাড়া জীবন কাটিয়ে দিবি তাহলে পারিবারিক একটা মিটিং ডেকে তুই সবাইকে তোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দে। গত আটবছর ধরে তোর ট্যান্ট্রম সহ্য করছি। আর কত?

— হাঁপিয়ে ওঠলে? কিন্তু, কেন? তোমার কি হারিয়েছে?
— আমার কি হারিয়েছে মানে? তুই কে আমার? তুই আমার ভাই, মেঘ! তুই আর আমি মায়ের গর্ভে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। জন্ম নেয়ার পর থেকে, বুঝ হবার পর থেকে আমরা দুই ভাই ছিলাম একে অপরের বন্ধুর মতো। সেই তুই সামান্য একটা তুচ্ছ কারণে জীবনটাকে তুই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিস!
শেষের বাক্য বলার সময় কাব্য আড়চোখে তাকায় আলোর মুখের দিকে। আলোর নির্লিপ্ততা নিয়ে কাব্য প্রচন্ড হতাশ হয়েছে।

– তুচ্ছ কারণ হতে যাবে কেন? কাউকে ভালোবেসে নির্বাসন গ্রহণ করা কি অপরাধ? যাকে ভালোবাসলাম তাকে না পাওয়ার দুঃখ যদি ঠিকঠাক মতো দেখাতে না পারি তাহলে লোকে কি বলবে? বলবে, বউটা কালো ছিল ভুলে গেল!
তাছাড়া, আমার মিসেস তো আমাকে ছেড়ে চলে গেল তাকে ঠিকঠাক করে ভালোবাসা জাহির করতে পারিনি বলে। তাকে কতটা ভালোবাসি সেটা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি আমি। কিন্তু তাকে হারানোর ব্যাথায় আমি কতটা আহত এটাও কি ঠিকঠাক করে আমাকে প্রকাশ করতে দেবে না, ভাই?

মেঘালয়ের কথা শুনে ইতি এবং কাব্য স্তব্ধ হয়ে আছে। অপজিট সোফায় বসে থাকা আলো এবং সিতারা বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আলোর বুক ভেঙে আসছে। প্রথমবার ডাক্তার সাহেবের কন্ঠস্বর শুনে সে বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু, ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে তার এতদিনের অপেক্ষা, ধ্যান-ধারণা সবই এই একটা মানুষের দেখা পাওয়া, কন্ঠস্বরকে ঘিরে ছিল। আলো ভাবছে, ডাক্তার সাহেব হৃদয়ের ভেতরে এত এত ভালোবাসাকে দাবিয়ে রেখেছে! ডাক্তার সাহেবের ভালোবাসা এতটা কঠিন কেন? লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছে আলো। তার ভালোবাসার সামনে ডাক্তার সাহেবের ভালোবাসা ওজন করলে সমপরিমান হবে কতটুকু? আলোর ভালোবাসা তো ডাক্তার সাহেবের ভালোবাসার পাশে তলানিতে পরে থাকবে। এত অল্প ভালোবাসা নিয়ে সে এতবছর হা-হুতাশ করেছে! আর ডাক্তার সাহেব….সে তো নীরবে ভালোবাসার ভার বুকে বয়ে বেড়াচ্ছে। সে তো হৈ-হুল্লোড় করছে না। জনে জনে গিয়ে বলছে না আমি আলোক নামক একজন নিষ্ঠুর নারীকে ভালোবেসে মোটেও ক্লান্ত বোধ করছি না। তাদের দু’জনের ভালোবাসার ধরণ দু’রকম। কেউ কারো মতো করে ভালোবাসতে পারেনি।
আলো নিজের হাতদুটো কচলে যাচ্ছে। যখন ভীষণ নার্ভাস হয়ে পরে তখনই হাতদুটো অটোমেটিক কচলাতে শুরু করে। ডাক্তার সাহেবের কন্ঠস্বর শোনার পর থেকে তাকে দেখার পর লোভ শতগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু….
কাব্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— দুঃখ যাকে দেখাবি বলে আয়োজন করেছিস সে কি তোর দুঃখ দেখছে?
— তাকে দেখাতে চাই না ভাই। তাকে আমি আমার ভালোবাসা দেখাতে পারলাম না । দুঃখ দেখাতে যাব কেন?
— জীবনটাকে নিয়ে আরও একবার ভেবে দেখ, মেঘ। মানুষ বাঁচে ক’দিন?
— মানুষ স্বল্প দিন বেঁচে থাকে বলে পৃথিবীর অতি তুচ্ছ জিনিস মানুষকে মুগ্ধ করে।
— আমার প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই এটা নয়?

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৫

—তোমার প্রশ্নের উত্তর আমার জবাবে আছে। মানুষের স্বল্প জীবনে মানুষ একবার যে জিনিসের প্রতি মুগ্ধ হয় সে জিনিস যক্ষের ধনের মতো লুকিয়ে রাখে। যত্নে রাখে। সেখানে আমি তো আমার হৃদয় হারিয়ে ফেলেছি ভাই। আমার চোখদুটো দিয়ে আমি পুরো পৃথিবী দেখতে পারি। কিন্তু চোখদুটো মাঝেমধ্যে বড্ড বেইমানি করে। কোত্থেকে আলোকে নিয়ে আসে! আমার চোখের তাঁরায় আলোর চেহারা ভেসে ওঠে। আমার সকল মুগ্ধতা আলোর স্মৃতির গন্ডির ভেতরে ঢুকে পরে। আমি আলোর মুগ্ধতায় ডুবে থাকি। সেখান থেকে বের হবার পথ যে আমার জানা নেই ভাই।

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৭