মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১১
Tahmina Akhter
আলোর কলেজ থেকে বাসায় ফিরতে দুপুর তিনটে বাজল। পেটের ক্ষুধায় আপাতত আলোর শরীর কাঁপছে। গত তিনদিন ধরে সিতারা বেগম আলোর সাথে কোনোরকম কথা বলছে না। কারণ, একটাই মাহরীনের দেয়া বিয়ের প্রস্তাব কেন সে ফিরিয়ে দিয়েছে?
সিতারা বেগমের মতে, তার মতো একটা মেয়েকে যে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, সেই তো সাত রাজার ভাগ্য! মেঘালয় কি খারাপ? মেঘালয় দেখতে ভাল। ডাক্তার ছেলে। ইত্যাদি আরোও অনেক কথা।
আলো সব শুনে। কিন্তু জবাব দেয় না। কি জবাব দিবে সে?
বাড়ির মূল দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই দেখা পেলো মেঘালয়কে। আলো থমকে যায়। আফসার সাহেব আলোকে দেখে হাসিমুখে বললেন,
–দেখে যা তোর সঙ্গে কে দেখা করতে এসেছে?
মেঘালয় আলোর দিকে ফিরল। আলো মাথা নিচু করে মেঘালয়কে সালাম দিলো।মেঘালয় সালামের জবাব দিয়ে বলল,
–আপনার কাছ থেকে একটু সময় চাই। আমার কিছু কথা ছিল আপনার সঙ্গে ।
আলো তার বাবার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল,
–কেন এখানে বললে কি সমস্যা?
আলোর কথা শেষ হতেই আফসার সাহেব প্রায় ধমকে বললেন,
— পাঁজি মেয়ে কোথাকার? কোথায় কি বলতে হয় বুঝিস না? ছেলেটা যেহেতু তোর সাথে একা কথা বলতে চাইছে নিশ্চয়ই কোন জরুরী কথা হবে।?
আলো দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার বাবা যে মেঘালয়ের উপরে যাদুগ্রস্থ হয়েছে উনার কথার শুনলে বোঝা যায় এখন।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
—আপনি শুধু ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। আমি গোসলটা সেরে আসছি আপনি বসুন।
কথাগুলো বলে আলো চলে গেল তার ঘরে। ঠিক দশ মিনিট পরে আলো ঘর থেকে বের হয়ে এলো। আলোকে দেখে আফসার সাহেব সেখান থেকে চলে গেলেন।
দুটো মানুষ তখন সেই ঘরের মধ্যে উপস্থিত । আলোকে এক প্রকার বাধ্য হয়ে মেঘালয়ের মুখোমুখি বসতে হয়েছে। মেঘালয় তখনও মাথা নিচু করে রেখেছে।এদিকে আলোর অস্বস্তি হচ্ছে। কারণ মানুষটার সাথে সেদিনকার ঘটনা ঘটার পর থেকে মেঘালয়কে দেখলে সে অস্বস্তি অনুভব করে ।
হুট করে মেঘালয় সোজা হয়ে বসলো।চেয়ারে গা এলিয়ে দিল। তারপর সরাসরি আলোর উপরে দৃষ্টি রাখল। কি যেন খুঁজছে আলোর মাঝে! মাহরিনের মত মানুষ কেন আলোর প্রতি আকষ্ট হলো? আসলেই তো আলোর পরিবার মেঘালয়দের পরিবারের সমান নয়। মেঘালয় অনেক কিছু ভাবে, ভাবতে ভাবতে এক সময় হেরে যাওয়ার মত ভান করে। তারপর, দুইহাত দিয়ে চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলা দিয়ে অসহায় গলায় বলল,
–আপনি জানেন আপনার কাছে আজ কেন আমি এসেছি ?
—হয়তো জানি হয়তো বা না। মাহরীন আন্টি এখন কেমন আছে? আমি আজ হসপিটালে যেতাম। কিন্তু কলেজে অ্যাটেনডেন্স এর কারণে যেতে পারলাম না ।
আলো মিথ্যা বলেছে। সে ইচ্ছে করে মাহরীনকে দেখতে যায়নি। কারণ মাহরীনকে দেখতে যাওয়া মানে মেঘালয়ের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া। মেঘালয়ের কথা শুনে এবার আলো ভাবনার জগত থেকে বের হয়ে এলো।
— মিস আলো, প্রথমবার আপনাকে আমার জন্য আপনার বাবার কাছে চেয়েছিল আমার মা। আপনি নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু আজ আমি অসহায়ের মত আপনার কাছে আবার এসেছি। আমাদের বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আপনি যদি আরো একবার ভাবতেন। মা মৃত্যু পথযাত্রী। মায়ের শেষ ইচ্ছা আপনাকে তার ছোট ছেলের বউ হিসেবে দেখার। আপনি কি আর একবার ভাববেন এই বিষয়টা নিয়ে?
আলো স্তব্ধ হয়ে যায় মেঘালয়ের কথা শুনে। আলো নিঁখুত নয়। সে কেন মেঘালয়ের মত একটা মানুষকে ঠকাতে চাইবে। এটা তো অন্যায় আবদার।
—আমার মাঝে হয়ত কোনো কমতি আছে। নয়ত আপনি কেন আমাকে রিজেক্ট করবেন? যদি কোন কমতি আমার মাঝে থেকে থাকে তাহলে আমি নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করব। কিন্তু আর একবার আপনি ভেবে দেখুন।
মেঘালয় নিজের মনের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করল। তারপর আলো যা বলল।
—মিস্টার মেঘালয়, আপনি একজন পারফেক্ট ম্যান, কোন সমস্যা নেই আপনার। সমস্যা আমার। আমি আপনাদের বাড়ির বউ হবার যোগ্য নই। এমনকি আমি কারো স্ত্রী হবার যোগ্য নই বিশেষ করে আপনার তো নয়ই।
—আপনাকে আমার মা, মাহরীন চেয়েছে। সেখানে যোগ্য অযোগ্যতার ব্যাপার আসবে কেন? যদি কোন কমতি থেকে থাকে তাহলে সেটা আমি ম্যানেজ করে নেব। পৃথিবীর কোন মানুষ পারফেক্ট না। সবারই কিছু না কিছু কমতি আছে।
আলো ভেতর ভেতর ভেঙে যাচ্ছে। আর কতক্ষণ শক্ত থাকতে পারবে সে বুঝতে পারছে না। এদিকে সেই মেঘালয়কে কোনো কিছু বলে টলাতে পারছে না। শেষমেষ এসে সিদ্ধান্ত নিল, এবার সব জানাবে মেঘালয়কে। সামনের দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নিজের অপূর্নতা সম্পর্কে আলো বলতে শুরু করল।
—ডাক্তার সাহেব, আমার একটা স্তন নেই। বহু বছর আগে ক্যান্সার আর্লি স্টেইজের শংকার কারনে একটা স্তন্ কেটে বাদ দেয় ডাক্তাররা। আপনার সঙ্গে আমার বিয়ের প্রস্তাবের আগে অসংখ্য বিয়ের প্রস্তাব এসেছে আমার জন্য এসেছে। আমি প্রতিবার তাদের সত্যি জানিয়েছি। তারা প্রত্যেকবার আমাকে রিজেক্ট করেছে।
মেঘালয় চমকে যায়। কেন যেন দ্বিতীয়বার আলোর দিকে চোখ তুলে তাকাতে ইচ্ছা করলো না! আচ্ছা এটা কি করুনা থেকে নাকি ঘৃণার কারণে? এবার যেন চোখে সরষে ফুল দেখছে সে, কি করবে এবার? আলো মেঘালয়ের দৃষ্টির মানে দেখে যা বোঝার বুঝে ফেলল। ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে মেঘালয়ে বলল,
—দেখেন আমার জন্য কষ্ট পেয়ে লাভ নেই। আমি এভাবেই অভ্যস্ত। গায়ে সয়ে গেছে মানুষের কাছ থেকে রিজেকশন পেতে পেতে। আপনি মাহরীন আন্টিকে বোঝান তিনি অবশ্যই বুঝবে। নিজের ছেলেকে আর যাই হোক একজন অপূর্ণ নারীর সঙ্গে তিনি বিয়ে দিতে চাইবেন না।
মেঘালয় আলোর কথাও জবাব দেয় না।থুতনিতে হাত রেখে কি যেন ভাবে! অনেক ভাবে। যতটা ভাবলে সদূর ভবিষ্যত অব্দি দেখা যেতে পারে।
—মিস আলো আমার মা একজন ক্যান্সারের পেশেন্ট।ব্লাড ক্যান্সার যাকে বলে। আজ সকালে ১১ টায় মার রিপোর্ট সব আসে। সেখানে ডাক্তার কনফার্ম করে যে মায়ের ব্লাড ক্যান্সার এখন স্টেজ ফোরে আছে। বড়জোর মা এখন আমাদের মাঝে তিন মাসের মত আছে। মায়ের শেষ ইচ্ছা আপনাকে আমার স্ত্রী হিসেবে দেখার।আমি ছেলে হিসেবে চাই আমার মা শেষ ইচ্ছা যেন পূর্ণ হয়। এছাড়া আমার মা আপনাকে মেয়ের মত জানে। মেয়ের মত ভালবাসে। আপনি চাইলে আমার মায়ের শেষ ইচ্ছাটুকু পূরন করতে পারবেন।
মেঘালয় এবার নিজে চিন্তা করল না। সে শুধু তার মায়ের দিকটা ভাবল। এদিকে আলো অবাক হয়ে যায় মেঘালয়ের কথা শুনে। একপ্রকার রেগেই বলে,
—আপনি একজন অন্ধ ভক্ত ছেলে। আপনার মা যা চাইছে আপনি তাই চাইছেন। বুঝতে পারছেন না যে, আসলে আপনার সাথে আমার ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো হবে না।
—মায়ের শেষ ইচ্ছাটুকু পূরণ করতে চাইছি বলে যদি আমি মা ভক্ত ছেলে হই তাহলে সেই অপবাদটুকু সই । আপনি হয়তো মানুষ বলে আপনাকে জোর করতে পারছি না। যদি মানুষ না হয়ে আপনি বাজারের কেনা পন্য হতেন। আমার হাতের নাগালের বাইরে দামও যদি থাকতো, যে কোন কিছুর বিনিময়ে হোক আমি জয় করে নিয়ে আসতাম।
কিন্তু আপনি মানুষ। চাইলেও আমি জোর করে আপনাকে নিয়ে মায়ের কাছে দিতে পারছি না। তাকে বলতে পারছি না যে, মা দেখো তোমার মেঘালয় তোমার পছন্দ করা মেয়েকে বউ বানিয়ে নিয়ে এসেছে।
আলো যেন কথার ভাষা হারিয়ে ফেলে মেঘালয়ের কথা শুনে। আলো এবার নিজেকে নিষ্ঠুর ভাবতে শুরু করল। মাহরিনের প্রতি স্বহৃদয় হতে গেলেই যে মেঘালয়ের প্রতি অন্যায় করা হবে ভেবেই, আলো বারবার পিছিয়ে গেছে।
মেঘালয় উঠে দাঁড়ালো তারপর। অস্থিরচিত্তে পায়চারি করতে করতে আলোকে উদ্দেশ্য করে বলল,
—আলো আরও একবার ভেবে দেখুন। আমি আমার মাকে কষ্ট দিতে চাইছি না।মাকে ছাড়া আমার কেউ নেই। পৃথিবীতে থেকে কেউ একবার বিদায় নিলে বারবার ফিরে আসে না। আমি চাইনা আমার মা অপূর্ণ কোনো ইচ্ছা পূরণের কষ্ট নিয়ে পৃথিবীতে থেকে বিদায় নেবে।
—আপনি নিজেকে ঠকাতে চাইছেন।
আলো হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো ভঙ্গিতে জবাব দেয়। মেঘালয় এবার আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলল,
—সেটা আমার ব্যাপার আপনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি কিনা সেটা বলেন?
— আপনি যদি আমাকে এভাবে মেনে নিতে পারেন তাহলে আমি রাজি। কারণ আমি মাহরীন আন্টির মেয়ে হতে চেয়েছিলাম। তার আত্মার আত্মীয় হতে চেয়েছিলাম।
আলোর কথা শুনে এবার যেন স্বস্তি পেলো মেঘালয়। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল তার। মাথা থেকে যেন দুশ্চিন্তার তার ভার কমে গেল।
— কিন্তু কখনো যদি মনে হয় আপনি আমার প্রতি অবহেলা করছেন। আপনি আমাকে পছন্দ করছেন না। তাহলে আমি আপনার সঙ্গে সংসার করবো না। আপনার পথ আর পথ আলাদা হয়ে যাবে।
আলোর কথাগুলো শুনে মেঘালয় কিছু একটা ভাবে। তারপর, আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
–একজন স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি যতটা লয়াল থাকে ঠিক ততটা লায়ল থাকব। কখনো আমি যদি আপনাকে কষ্ট দিয়ে ফেলি, তাহলে আমি চাইব আপনি যেন আমাকে মাফ করে দেন। আপনি যেহেতু স্টুডেন্ট আপনার লেখাপড়ার খরচ আমার। আপনি শুধু লেখাপড়া করবেন এবং আমার মায়ের যত্ন নিবেন। মা যতদিন বেঁচে আছেন। আমার জন্য আপনার দায়িত্ব পালন করার প্রয়োজন নেই। যেদিন আপনার মনে হবে আমার দায়িত্বটুকু আপনি নিতে পারবেন ঠিক সেদিন আপনি আমার দায়িত্ব নেবেন। আমি আপনাকে কোন প্রকার জোর করব না ।
কারন আমি জানি আপনার ইচ্ছা নেই আমাকে বিয়ে করার। একজন মৃত্যু পথযাত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে আপনি আমাকে সাহায্য করছেন।
ব্যাস এতটুকুই ছিল মেঘালয় আর আলোর কথোপকথন। মেঘালয় চলে যায় আলোদের বাড়ি থেকে। মেঘালয় চলে যাওয়ার পর আফসার সাহেব আলোর কাছ থেকে জানতে চায়, কি ব্যাপারে মেঘালয় তার সঙ্গে কথা বলতে এসেছে? তখন আলো সবটা জানায় যে, বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিল। এবং আলো রাজি হয়েছে বিয়ে করতে। সবটা শোনার পর আফসার সাহেব ভীষণ খুশি হলেন। সিতারা বেগমকে জানালেন। সিতারা বেগম খুব খুশি হলেন। এতটাই খুশি হলেন যে জীবনে প্রথমবারের মত আলোকে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
এত আনন্দের মাঝেও আলোর কোনো আনন্দ নেই। আলো সেদিন ঘুমাতে পারেনি সারারাত। অজানা আশঙ্কায় সে বারবার কুঁকড়ে যাচ্ছিল।
হসপিটাল থেকে মাহরীন রিলিজ পেল তিনদিন পর। হসপিটাল থেকে ফিরে তিনি মেঘালয় আর আলোর বিয়ের অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু করলেন। কাব্য এবং ইতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আরো ১৫ দিন পরে পোল্যান্ডে যাবে। মাশফি আর তানিয়া রয়ে গেছে। মেঘালয় সে আগের মতই আছে। হসপিটালে যাচ্ছে, বাড়িতে ফিরছে। সব আগের মতই আছে।
মাহরীন আগের থেকেও বেশী অসুস্থ।
তবুও যেন মনের জোর থেকে সে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছে। আত্মীয়-স্বজন সবাইকে কার্ড বিলি করে দাওয়াত দেওয়া হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে সব নিকট আত্মীয় বাড়িতে আসা শুরু করেছে। কারণ বিয়ে দুদিন পরে। আজ সবাই মিলে মার্কেটে যাবে বিয়ের কেনাকাটা করার জন্য । মেঘালয় জানিয়েছে সে যেতে পারবে না কারণ আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হসপিটালে আসবে। সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। মাহরীন কিছু বলল না। কিন্তু মাশফি এবং কাব্য কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।
আলোর জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন মাহরিন। আলোকে নিয়ে গাড়ি ফিরে এলো এক ঘন্টা পর। এবার সেই গাড়িতে করে মাশফি, আলো এবং তানিয়া রওনা হলো। কাব্য এবং ইতি কাব্যের বাইক নিয়ে রওনা হলো।
এত মানুষের মাঝে হুট করেই মনের অজান্তে আলো যেন মেঘালয়ের উপস্থিতি খুঁজে বেড়াচ্ছিল! কিন্তু কেন? বিয়ে এখনো হয়নি তাদের। অথচ মানুষটার অনুপস্থিতি যেন তার মাঝে পরিবর্তন এনেছে। পরক্ষণে আলোর মন খারাপ হয়ে যায়। মেঘালয় তো আর নিজ ইচ্ছে থেকে আলোকে বিয়ে করছে না? সে বিয়ে করছে তার মা’র পছন্দ কে।
প্রচুর কেনাকাটা হল আলোর জন্য। কিন্তু আলোর মন খারাপ হয়ে রইল। অথচ সে জানতো এমন কিছু হবে। কারণ তারা দুজন দুই মেরুর মানুষ। তারা একে অপরকে পছন্দ করে তো আর বিয়ে করছে না। দুজন দুজনকে বিয়ে করছে শুধুমাত্র মাহরিনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করার জন্য। তো সেখানে বাদ বাকি অন্য কোন কিছুর এক্সপেক্টেশন রাখাটাই তো বোকামি। আলো যেন নিজের কান্ডে নিজেই লজ্জা পেল। নিজেকে সংশোধন করার জন্য নিজেকেই বকা দিলো মনে মনে।
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১০
কেনাকাটা শেষ করার পর সবাই যখন বাড়িতে ফিরে আসে সিদ্ধান্ত নিলো। ঠিক তখনই মেঘালয় সেখানে উপস্থিত হলো। আলোর পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
— কেনাকাটা শেষ?
হুট করে মেঘালয় তার পাশে এসে দাঁড়ানোর মুহূর্তটুকু যেন আলোকে থমকে দাঁড় করালো। তার মতো একজন কালো মানুষের পাশে মেঘালয়ের মত একজন পুরুষকে দেখতে যেন, চাঁদের পাশে কালো মেঘের মত মনে হচ্ছিল।
