Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১০

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১০

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১০
মহাসিন

শাপলা ভয়ে আঁতকে উঠল। নিজের হাতের ধাক্কাতেই সিয়ামের ঠোঁট কে*টে গেছে—ভাবতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তার।
সিয়াম ঠোঁটের কোণ মুছে বলল, “আমার ঠোঁটের ব্য*থা জায়গায় একটা কি*স কর, তাহলেই ব্য*থা ভালো হয়ে যাবে।”
শাপলা কোমরে হাত দিয়ে চোখ পাকাল। “ও, তাই? আমার থেকে কিস নেওয়ার ধান্দা? ফাজিল ছেলে একটা! আমি তো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।”
সিয়াম এবার বাচ্চাদের মতো মুখ করে বলল, “সত্যি বলছি বউ, অনেক ব্য*থা করছে। একটা কিস কর, তাহলেই কমে যাবে। প্লিজ জান একটা কিস কর । এমন কেন করিস?”
শাপলা বলল, উফ্ চুপ করুন প্লিজ। আমি আপনার ঠোঁ*টে কিস করবো না ওকে।

সিয়াম শাপলার দিকে তাকিয়ে শুধাল, কেন? কিস করলে কি হবে হ্যাঁ। অন্য কাউকে তো আর কিস করতে বলছি না। তোর ভবিষ্যত হাসবেন্ড কে কিস কর।
শাপলা ভ্রু নাচিয়ে বলল, “আমি কিন্তু কিসের বদলে আপনার ঠোঁটে কা*মড়ে দেব।”
“তুই যদি আমার ঠোঁটে কিস না করে কামড়েও দিস, তাহলেও ওটা আমার কাছে কামড় না, কিসই মনে হবে,” সিয়াম দুষ্টু হাসল। “এখন তাড়াতাড়ি আমার ঠোঁটে কামড় দে।”
“সত্যি সত্যি কিন্তু কামড়ে দেব। তখন ব্যথা লাগলে কিছু বলতে পারবেন না। আমার দাঁত কিন্তু কালনাগিনীর দাঁতের চেয়েও বিষাক্ত,” শাপলা শাসাল।
সিয়াম এক পা এগিয়ে এল। “তোর দাঁত যতই বিষাক্ত হোক না কেন, আমি কামড় খেতে রাজি।”
এই বলে সিয়াম শাপলার দিকে ঝুঁকে এল।
শাপলা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। তারপর আলতো করে সিয়ামের কপালে একটা চুমু এঁকে দিল।
সাথে সাথে শাপলার হার্টবিট বেড়ে গেল কয়েকগুণ। লজ্জায় গাল দুটো টুকটুকে লাল হয়ে উঠল। ঠোঁট দুটো কাঁপছে, গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে।
সিয়াম শাপলার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকাল। “ঠোঁটে কিস করলি না কেন?”
শাপলা মাথা নিচু করে ফেলল। “আমার লজ্জা লাগে। আপনার কপালে কিস করেছি, এটাই অনেক।”
সিয়ামের চোখে দুষ্টুমি খেলে গেল। “তাহলে আমিই তোর ঠোঁটে কিস করি।”

কথাটা বলতে দেরি, কিন্তু ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতে দেরি করল না সিয়াম।
শাপলার মনে হলো, হার্টবিটটা বুঝি পাঁজর ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে। পুরো শরীর কেঁপে উঠল এক অচেনা শিহরণে। লজ্জায় এক পা পিছিয়ে গেল সে। রাতটা গভীর। ঘরের নরম আলোয় শাপলার মুখে বিরক্তি আর লজ্জা মাখামাখি।
সিয়াম ঝুঁকে এলো একটু, গলায় আদর মিশিয়ে বলল, “বল না, তোর কি ফোন লাগবে?”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে ফেলল। “উফ, আজব লোক তো আপনি! কতবার বলব, আমার কোনো ফোনের দরকার নেই।”
সিয়ামের ঠোঁটের কোণে সেই চেনা বাঁকা হাসি। “ঠিক আছে, তোকে বলতে হবে না। আমি নিজেই কাল আইফোন কিনে আনব। তোর হাতের মুঠোয় মানাবে দারুণ।”
শাপলা এবার সত্যি সত্যি রেগে গেল, গাল দুটো লাল। “আপনার মাথা পুরো খারাপ হয়ে গেছে! এত দামি ফোন দিয়ে আমি কী করব?”
সিয়াম আরও এক পা এগিয়ে এলো। দুজনের মাঝে দূরত্বটা নিঃশ্বাসের মতো কাছাকাছি। “তাহলে তুই-ই বল জান, কী ফোন আনব তোর জন্য?”
শাপলা চোখ নামিয়ে ফেলল। গলাটা হঠাৎ নরম, শান্ত। “আমি খুব সাধারণ একটা মেয়ে। আমি ওতো প্যাঁচগোছ বুঝি না। একদম কম দামের একটা ফোন হলেই আমার চলবে।”
সিয়াম হেসে শাপলার থুতনি ছুঁয়ে মুখটা তুলে ধরল। “কত টাকার মধ্যে চাস, বল তো আমার লজ্জাবতী?”

“দশ-বারো হাজার টাকার মধ্যে,” শাপলা ফিসফিস করে বলল। “বিশ্বাস করুন, এটাও আমার কাছে অনেক বেশি।”
সিয়াম এবার শব্দ করে হেসে উঠল। সেই হাসির ঝড়ে শাপলার বুক কেঁপে উঠল। “কী বললি? আমার ভবিষ্যৎ বউ, আমার শাপলা, এই সামান্য টাকার ফোন চালাবে? এটা ভাবতেই তো হাসি পাচ্ছে।”
শাপলা বলল, “আপনার কাছে হাস্যকর হলেও আমার কাছে এটা আকাশ ছোঁয়া। আপনি তো জন্ম থেকে সব পেয়ে এসেছেন। আমার মতো না পাওয়ার কষ্ট আপনি বুঝবেন না।”
সিয়াম কিছু বলতে যাবে, শাপলা তাকে থামিয়ে দিল। শাপলা দৃঢ় গলায় বলল, “আমি যা বলেছি, এর বাইরে এক টাকাও বেশি না। যদি না পারেন, তাহলে আমার ফোনের দরকার নেই।”
ঘরজুড়ে নিস্তব্ধতা। শুধু দুজনের ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ।
সিয়াম অনেকক্ষণ শাপলার চোখের গভীরে তাকিয়ে রইল। যেন সেই চোখের ভেতর ডুবে যাচ্ছে। তারপর খুব নরম করে, আদরে ভেজা গলায় বলল, “আচ্ছা পিচ্চি বউ, ঠিক আছে। তুই যা বলবি, তাই হবে। তোর খুশিটাই আমার কাছে দামি। এবার ঘুমিয়ে পড়, লক্ষ্মীটি। আমি গেলাম।”
সিয়াম ঘুরে দরজার বাইরে দিকে পা বাড়াতেই শাপলা ছুটে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল। দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করল। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন লাফিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
ধীরে ধীরে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল সে। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই সর্বনাশ। সিয়ামের সেই বাঁকা হাসি, তার গভীর চাহনি, কানের কাছে ফিসফিস করা গরম নিঃশ্বাস, আর আলতো ঠোঁটের ছোঁয়া—সব যেন শরীরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
অনেকক্ষণ পর শাপলা ঘুমিয়ে পরলো।

অনেক সময় চলে গেল।পরের দিন দুপুর বারোটা বাজে। শাপলাদের স্কুলে টিফিন পিরিয়ড চলছে।
স্কুলের পুরোনো বটগাছটার নিচে রাখা বেঞ্চে বসে খাবার খাচ্ছে শাপলা, দিপা আর কলি। মুখে হাসি, আর গল্পের ফোয়ারা।
কলি হঠাৎ দিপার দিকে ফিরে বলল, “কিরে, আজ রাজু স্কুলে আসল না কেন? কিছু জানিস?”
দিপা খাবার খেতে খেতে মাথা নাড়ল। “না রে, কিছু জানি না।” একটু থেমে সে শাপলার দিকে তাকাল, চোখে কৌতূহল। “শাপলা, রাজু তোর বিষয়ে আমাকে একটা কথা বলেছে।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে শুধাল, “কী বলেছে?”
দিপার শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল, “রাজু কথাটা বলার পর তো আমি পুরো অবাক! তুই আমাদের বান্ধবী মনে করিস না? এত কিছু লুকিয়ে রাখলি?”
শাপলা বিরক্ত হয়ে বলল, “আরে কী বলেছে সেটা তো বল।”
পাশ থেকে কলি তাড়া দিল, “এই দিপা, রাজু আবার তোকে কী বলল? তাড়াতাড়ি বল তো।”
দিপা এবার সরাসরি শাপলার চোখে চোখ রাখল। “তুই নাকি তোর খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রেম করিস!”
কথাটা শুনে কলি হাসতে হাসতে শাপলার পিঠে চাপড় মারল। “কিরে শাপলা, সত্যি নাকি?”
শাপলা বলল, “কিহ! আমি প্রেম করি? পাগল নাকি! আমি কেন প্রেম করতে যাব? আমি কোনো প্রেম-ট্রেম করি না। রাজু হয়তো তোর সাথে মজা করছে।”
দিপা বিশ্বাস করল না। “আমাদের সাথে মিথ্যা বলিস না। আমরা তো তোর বান্ধবী। বান্ধবীদের সাথে শেয়ার করলে সমস্যা কী?”

শাপলা ঝাঁঝিয়ে উঠল, “আজব তো! প্রেম করলে না শেয়ার করব।”
দিপা বলল, “রাজু তো আমাকে বলেছে, ওই দিন নাকি রাজুর সামনেই তোর খালাতো ভাই তোর ঠোঁটে কি*স করছে।”
কলি হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ল। “কিরে শাপলা, তলে তলে তাহলে এসব চলছে! আচ্ছা, তোর ঠোঁটে যখন কি*স করল তখন তোর কেমন লাগল? আচ্ছা, লিপ কি*স তিতা না মিঠা?”
শাপলার কান-মুখ লাল হয়ে গেল। “উফ! চুপ কর তো তোরা। পাগল হয়ে গেলি নাকি?আজেবাজে কথা বলা বন্ধ কর। আচ্ছা, যদি আমি প্রেম করেই থাকি, আমার খালাতো ভাই কিস করলে কি মানুষের সামনে এসব কবে?”
কলি থমকে গেল। “হ্যাঁ, তাই তো।” দিপার দিকে ফিরে বলল, “তার মানে রাজু তোকে বোকা বানিয়েছে।”
শাপলা এবার দিপার দিকে তাকিয়ে হতাশ গলায় বলল, “সমস্যা এইটুকুও তোর মাথায় ঢোকে না?”
দিপা একটু অপ্রস্তুত হলো। প্রসঙ্গ ঘোরাতে কলির দিকে কয়েকটা খাবারের ঠোঙা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “যা তো, এই ঠোঙা গুলো ডাস্টবিনে ফেলে আয়।”
কলি মুখ বাঁকাল। “পারব না। আমি কি তোদের চাকর নাকি?”
দিপা বলল, “খাওয়ার সময় তো তোকে দিয়ে খেয়েছি। এমন কেন করিস?”
শাপলা নরম গলায় বলল, “কলি, যা না।”
কলি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আচ্ছা ঠিক আছে।” এই বলে ঠোঙা হাতে নিয়ে ডাস্টবিনের দিকে হাঁটা দিল। ডাস্টবিনের দিকে এগোতেই পা দুটো থমকে গেল। ডাস্টবিনের ভেতর উঁকি দিতেই তার চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার জোগাড়। একটা মেয়ের কা*টা মা*থা পড়ে আছে। আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শ*রী*রের আরও কিছু খণ্ডিত অংশ।

মুহূর্তেই কলির গায়ের র*ক্ত হিম হয়ে গেল। ভয়ে শরীরের প্রতিটা লোম দাঁড়িয়ে গেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ, হাঁটু থরথর করে কাঁপছে। চিৎকার করার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে সে। তবুও বুকের ভেতর থেকে ঠেলে বেরিয়ে এলো একটা ভাঙা, করুণ আর্তনাদ, “লা… লা*শ!”
বেঞ্চে বসা দিপা আর শাপলার কানে ভেসে এলো সেই চিৎকার।
দিপা চমকে শাপলার দিকে তাকাল। “এই শাপলা, মনে হলো কলি চিৎকার করছে!”
শাপলা উঠে দাঁড়াল। “হ্যাঁ, তাই তো মনে হলো। চল তো, গিয়ে দেখি কেন চিৎকার করল।”
দুজনেই ডাস্টবিনের দিকে দৌড় দিল।
ওদিকে কলি পাগলের মতো ওদের দিকেই ছুটে আসছে। চোখে-মুখে ভয়। সারা শরীর কাঁপছে।
শাপলা ওকে ধরে ফেলল। “কিরে, তোর আবার কী হলো? এভাবে চিৎকার করলি কেন?”
কলি হাঁপাতে হাঁপাতে, ঘন ঘন শ্বাস ফেলে কোনোমতে বলল, “ডা… ডাস্টবিনে… মানুষের লা*শ… কা*টা মা*থা…”
দিপা আর শাপলা কথাটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল। বিশ্বাস করতে পারছে না।
দিপা সাহস করে ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে একবার উঁকি দিতেই তার গা গুলিয়ে উঠল। মুখ চেপে ধরে সে হড়হড় করে ব*মি করে দিল।
আর কলি জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদছে। সেই চিৎকারে মুহূর্তেই স্কুলের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ল। টিচার, স্টুডেন্ট—সবাই ছুটে এলো ঘটনাস্থলে। চারদিকে হইচই, কান্না, আতঙ্ক। কেউ কাঁপা হাতে পুলিশে ফোন করল। কয়েক মিনিটেই জায়গাটা মানুষের ভিড়ে ভরে গেল।
এই ভয়ংকর ভিড়ের মাঝেই হঠাৎ শাপলার চোখ আটকে গেল একজনের ওপর। নিরব আহমেদ।
আর কিছু ভাবতে পারল না সে। দৌড়ে গিয়ে নিরবকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তার পর শাপলা জ্ঞান হারিয়ে নিরবের বাহুতেই ঢলে পড়ল।

আরিফ নীলাঞ্জনার বান্ধবী লিমা যে ফ্ল্যাটে থাকে, সেখানে এসে হাজির হলো। বুকের ভেতর ঝড়, চোখে অস্থিরতা।
কলিং বেল চাপল। একবার, দুবার। ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। দরজা খুলছে না কেউ।
আরিফ অধৈর্য হয়ে আবার বেল বাজাল। পরপর কয়েকবার চাপ দিতেই অবশেষে দরজাটা খুলে গেল।
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে লিমা। চোখ দুটো বড় বড় করে সে তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “আপনি এখানে কেন এসেছেন? দেখছেন তো দরজা খুলছি না, তবুও কেন এভাবে বেল বাজাচ্ছেন?”
আরিফের গলায় আকুতি। “নীলাঞ্জনা কোথায়? ওকে ডাকুন।”
লিমা বিরক্ত মুখে বলল, “আপনাকে আমি আগেই বলেছি, নীলাঞ্জনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। নীলাঞ্জনা আমার এখানে নেই।”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৯

আরিফ চোয়াল শক্ত করে বলল, “আপনি মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। নীলাঞ্জনাকে ডেকে দিন।”
লিমা এবার রেগে গেল। “এই, আপনি এখান থেকে যান তো! আ*জব ফা*লতু লোক। বললাম তো, আমার এখানে নীলাঞ্জনা নেই।”
আরিফ আর কথা বাড়াল না। “ধ্যাত, আপনি সরুন তো” বলে লিমাকে পাশ কাটিয়ে সোজা ঘরের ভেতর ঢুকে গেল।
ঘরের ভেতরটা নিস্তব্ধ। আর ঠিক সেই নিস্তব্ধতার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে নীলাঞ্জনা।
নীলাঞ্জনাকে দেখামাত্রই আরিফের চোখের কোণ বেয়ে নেমে এলো নিঃশব্দ শ্রাবণ মেঘের অশ্রুধারা।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here