রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬৮ (২)
মহাসিন
বাড়িটা কিছুক্ষণ আগেও নিস্তব্ধ ছিলো। এখন সবাই একে একে ফিরে আসায় চারপাশে একটা চাপা গুঞ্জন। শাপলা আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। পায়ের শব্দও যেন আজ ভারী লাগছে। ওর বুকের ভেতর ধুকপুক করছে।ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে কবিতা। চোখ দুটো
শি কা রী বিড়ালের মতো। একদৃষ্টিতে শাপলার যাওয়ার দিকে তাকানো। ঠোঁট নড়ছে, কিন্তু আওয়াজ নেই। একা একাই বিড়বিড় করছে,
“শাপলা… তুই আমাদের নিয়ে হঠাৎ অনাথ আশ্রমে গেলি? নিশ্চয়ই কোনো মতলব আছে তোর। তুই তো কখনো সবাইকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার কথা বলিস না। নিশ্চয়ই কিছু লুকাচ্ছিস।”
কবিতাও উঠে দাঁড়ালো। ধীর পায়ে নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো। এসিটা ছেড়ে দিয়ে বিছানার এক কোণে বসলো। রাগে তার দাঁত কিড়মিড় করছে।
“শাপলা… তুই যে সিরাজকে আটকে রেখেছিস, সেটা আমি খুব তাড়াতাড়ি সিয়ামকে বলে দিবো। তারপর দেখবো তুই কী করিস।”
একটু থেমে আবার নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো সে,
“কিন্তু সিয়াম কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? ও তো আবার শাপলার অ’ন্ধ ভক্ত।”
পরমুহূর্তেই ঠোঁটে একটা বাঁকা হাসি খেলে গেল।
“যদি সিয়াম নিজের চোখে দেখে? নিজের কানে শোনে? হ্যাঁ… এমন ব্যবস্থাই করতে হবে। যাতে সিয়াম নিজেই সব দেখে।
তাহলে তো শাপলা গে ল!”
বলে কবিতা শব্দ করে হেসে উঠলো। এই হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই।
সময় গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে। ড্রয়িং রুমে চারজন বসে আছে কবিতা, নীলাঞ্জনা, শাপলা আর কলি। বাইরে রোদের তাপ, ভেতরে তার চেয়েও বেশি দমবন্ধ করা পরিবেশ।
শাপলা আর কলি দুজনেই চুপচাপ। ওদের চোখে মুখে অজানা ভয়। বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে।
কবিতা অবশ্য বেশ ফুরফুরে। পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। অধীর আগ্রহে বারবার ঘড়ি দেখছে। কখন মা, বাবা আর আলো আসবে।
কলি ভ’য়ে ভ’য়ে নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“ভাবী… তারা আসলে কি হবে?”
নীলাঞ্জনা ওর হাত ধরে সান্ত্বনা দিয়ে বললো,
“ভ’য় নেই কলি। কিছু হবে না।”
“আমার খুব ভ’য় লাগছে ভাবী।”
“কিচ্ছু হবে না। আমি আছি তো।”
গুরুত্বপূর্ণ কথা:
বলেছিলাম “রোমান্টিক ভাইয়া” উপন্যাসটা ৫ পর্বেই শেষ কবো। কিন্তু ৫ পর্বে শেষ করলে এটা স্যাড এন্ডিং হয়ে যাবে। আর আপনারা তো সবাই হ্যাপি এন্ডিং চান ।
তাই আরো পর্ব বাড়াতে হবে। সত্যি বলতে আমার এখন আর এই উপন্যাসটা লিখতে ভালো লাগছে না। বোরিং ফিল করছি। তাই এটাকে তাড়াতাড়ি শেষ করে নতুন একটা উপন্যাস শুরু করবো।
নতুন গল্পটা হবে একদম ভিন্ন স্বাদের। নায়ক হবে বড়লোক বাপের একরোখা ছেলে, মানে যা ইচ্ছা তাই করে কারো কথা শুনে না । প্রচুর রাগী। আর নায়িকার চরিত্রটা অনেক সুন্দর হবে এরকম নায়িকা নিয়ে আগে হয় তো কোনো উপন্যাস লেখা হয় নায়। অনেক দিন ধরে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম খুব তাড়াতাড়ি শুরু করবো। আপাতত আর কিছু বলছি না, একটা টুইস্ট থাকবে। প্রচ্ছদ দেখলেই বুঝতে পারবেন।
আর যারা “রোমান্টিক ভাইয়া” বড় করার কথা বলছিলেন তাদের জন্য সুখবর। সিয়াম আর শাপলার ছেলে মেয়েকে নিয়েই এই উপন্যাস টা শুরু করবো। নাকি অন্য নতুন সব চরিত্র নিয়ে শুরু করবো। তো সবাই কমেন্টে আপনাদের মতামত জানাবেন। সিয়ামের ছেলে মেয়ে কে নিয়ে নাকি একদম আলাদা চরিত্র নিয়ে। আর হ্যাঁ উপন্যাস টা কিন্তু একদম অন্যরকম নতুন নামে নতুন কাহিনীতে হবে।
আপনাদের সবার মতামত শুনে তার পর লিখবো।
প্লি’জ যারা যারা উপন্যাস পড়েন সবাই মতামত জানাবেন।
যাই হোক, কথা বাড়াচ্ছি না। এবার উপন্যাস পড়ুন।
কথা শেষ না হতেই টিং টং… করে শব্দ হলো।
কলিং বেল বেজে উঠলো।সাথে সাথেই নীলাঞ্জনা আর কবিতার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আর ওপাশে শাপলা আর কলির মুখ যেন এক নিমিষে শুকিয়ে গেছে।কবিতা লাফ দিয়ে উঠে এসে সদর দরজা খুলে দিলো।
দরজা খুলতেই ঘরে ঢুকলেন সায়েক আহমেদ, মহুয়া আর ছোট্ট আলো। কতদিন পর মাকে দেখে আলো দৌড়ে এসে নীলাঞ্জনাকে জ ড়ি য়ে ধরলো।
“মা… মা…মা…মা…”
নীলাঞ্জনাও মেয়েকে বু কে র মধ্যে শক্ত করে
জ ড়ি য়ে নিলো। গালে, কপালে পাগলের মতো
চু মু খে তে লাগলো। কতদিন পর মেয়েকে কাছে পেয়েছে।
মহুয়ার চোখ এখন কলির উপর। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার দে খ লো। তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
“ও… এই তাহলে বিরাজের বউ?”
কলি কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে এসে সালাম করতে যাবে, মহুয়া এক পা পিছিয়ে গেলেন।
চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“একদম না। তোমাকে… আর শাপলাকে… আমি কখনো এই বাড়ির বউ হিসেবে মা ন বো না।”
মুহূর্তেই ওর পৃথিবীটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। চোখের পানি টলটল করছে, কিন্তু ফেলতে পারছে না।
সায়েক আহমেদও কারো সাথে একটা কথাও বললেন না। গম্ভীর মুখে সিঁড়ি বেয়ে সোজা উপরে উঠে গেলেন।
ঘরটার ভেতর কেমন যেন দ’ম’ব’ন্ধ ক’রা নিস্তব্ধতা। জানালার ফাঁক গলে আসা ফ্যাকাশে আলো পড়েছে মেঝেতে। বাতাসে শুধু সিরাজের নিঃশ্বাসের শব্দ।
সিরাজ বাঁ’ ‘ধা অবস্থায় একটা পুরোনো কাঠের চেয়ারে বসে আছে। হাত পা শক্ত করে বাঁ’ ‘ধা। চোখ দুটো লাল। চুল উস্কো খুস্কো। ক্লান্তিতে, অনুশোচনায় মানুষটা যেন ভে’ঙে পড়েছে।
দরজার আওয়াজ হলো। ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকলো দীপা। ওর চোখে ঘুম নেই, চোখের নিচে কালি। কিন্তু চোখে রাগ।
দীপা এক পা এক পা করে সিরাজের দিকে এগিয়ে এলো। বুকের ভেতর ঝ’ড়। হঠাৎ সমস্ত রাগ, অভিমান, কষ্ট একসাথে ফে’টে পড়লো।
চিৎকার করে উঠলো,
“সব সত্যি বলে দিন! শিখা আপু কোথায়? তাকে কোথায় আ’ ‘ট’ ‘কে রাখা হইছে? বলুন!”
ওর চিৎকারে ঘরের দেয়াল কেঁ’পে উঠলো।
সিরাজ মাথা তুললো। ঠোঁট কাঁপছে। সেও চিৎকার করে উঠলো, গলা ফে’ ‘টে যাচ্ছে,
“আমি জানি না! কতবার বলবো আমি না জানি না! হ্যাঁ, আমি ওদের সাথে ছিলাম। ওদের সব
নোং’ ‘রা কাজে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু শিখা… শিখার ব্যাপারে আমি সত্যিই কিছু জানি না।”
একটু থেমে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
“এভাবে বেঁ’ ‘ধে রেখে ক’ষ্ট দিও না দীপা। আমাকে একেবারে শে’ ‘ষ ক’রে দা’ও। একদম
শে’ ‘ষ ক’রে দাও। আমার আর বাঁ’ ‘চ ‘তে ইচ্ছে করছে না।”
দীপা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।
“না। আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি সব জানেন। আপনি ইচ্ছে করে কিছু বলছেন না।”
সিরাজ মাথা নাড়লো।
“আমি জানি না শিখা এখন কোথায় আছে, কি অবস্থায় আছে। আল্লাহর কসম।”
তারপর একটু চুপ করে থেকে ফিসফিস করে বললো,
“তবে… তবে আমি আন্দাজ করতে পারি ওকে কোথায় রাখা হতে পারে।”
একটু থেমে চোখে পানি নিয়ে বললো,
“তুমি আমাকে ছে’ড়ে দাও দীপা। আমি তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবো। নিজে খুঁজে বের করবো।”
দীপা এক পা পিছিয়ে গেছে। চোখ সরু হয়ে গেছে।
“আপনাকে ছে’ড়ে দিই? তারপর আপনি পালিয়ে যান, তাই তো? আমাকে কি বোকা পেয়েছেন?”
সিরাজ হাসলো। এই হাসিতে কোনো দুষ্টুমি নেই। আছে শুধু ক্লান্তি।
“সত্যি বলছি আমি পালাবো না। আমি অনেক ভুল করেছি দীপা। অনেক খা রা প কা জ করেছি। রাতের পর রাত ঘুমাতে পারি না। এবার আমি মুক্তি চা ই। এই পা পে র জীবন থেকে মু ক্তি চাই।”
দীপা শক্ত গলায় বললো,
“আমি আপনাকে বিশ্বাস করতে পারবো না।”
সিরাজ হঠাৎ কেঁপে উঠলো। চেয়ারে বসেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো।
“তাহলে আমাকে একটা সত্যি কথা বলো। প্লি’জ বলো।”
“কি?”
“তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? একটুও? আমার জন্য কি তোমার বুকে একটুও টান লাগে?”
দীপা স্তব্ধ হয়ে গেল। ওর বুকের ভেতর হাজারটা ঢেউ আছড়ে পড়ছে। কিন্তু মুখে একটা কথাও এলো না। সে চুপ করে রইলো।
সিরাজ ওর চুপ থাকা দেখে নিজেই উত্তর দিয়ে দিলো।
“তুমি চুপ করে আছো… তার মানে তুমি আমাকে ভালোবাসো। তাই না?”
দীপা হঠাৎ ফে’ ‘টে পড়লো। চোখে পানি, মুখে কান্না।
“ভালোবাসি? আপনার মতো একটা জ ঘ ন্য, নোং রা, ইত র মানুষকে? যার হৃদয় বলে কিছু নেই? শাপলার সাথে আপনি কি করতে চেয়েছিলেন ভুলে গেছেন? এত তাড়াতাড়ি?”
সিরাজ চোখ বন্ধ করে ফেললো। দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো।
“হ্যাঁ মনে আছে। সব মনে আছে। আমি অনুতপ্ত দীপা। আমি প শু র মতো কাজ করেছি। আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না।”
দীপা মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
“আমি আপনাকে বিশ্বাস করবো না। কখনো না।”
সিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
“ঠিক আছে। তাহলে শাপলাকে একটা কল দাও। ওকে এখানে আসতে বলো। আমার ওকে কিছু বলার আছে।”
দীপা সন্দেহের চোখে তাকালো।
“কি বলতে চান আমাকে বলুন।”
“না। যা বলার আমি শাপলাকেই বলবো। প্লি’জ কল দাও।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও দীপা ফোন বের করে শাপলার নাম্বারে ডায়াল করলো। রিং হচ্ছে… রিং হচ্ছে…
ওপাশ থেকে শাপলার গলা, “হ্যালো? কি বলবি দীপা?”
দীপা গলা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো।
“এখন একবার এখানে আসতে পারবি?”
“এখন? কেন? কি হয়েছে?”
“সিরাজ তোর সাথে কথা বলতে চায়। কিছু বলবে।”
শাপলা একটু চুপ করে রইলো। তারপর বললো,
“তুই ওর কথা শুনে আমাকে পরে বলিস। আমি এখন আসতে পারবো না।”
দীপা চাপা গলায় বললো,
“সিরাজ আমাকে বলবে না। ও শুধু তোকেই বলবে।”
শাপলা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
“আচ্ছা ঠিক আছে। আমি কাল আসবো। আজ সম্ভব না।”
বলে ফোন রেখে দিলো।
সিরাজ মাথা নিচু করে বসে রইলো। আর দীপা দরজার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো… সত্যিই কি এই মানুষটাকে বিশ্বাস করা যায়? নাকি এটা ওর নতুন কোনো চাল?
সময় গড়িয়ে গেছে। জানালার কাঁচে রাতের অন্ধকার লেগেছে। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে এখন রাত ৮টা।
বাড়ির ভেতরটা নিস্তব্ধ। ড্রয়িং রুমে টিভির হালকা আওয়াজ, রান্নাঘর থেকে বাসন ধোয়ার শব্দ। এর মাঝেই কবিতা পা টিপে টিপে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো।
সিয়ামের রুমের দরজা হালকা ভেজানো। ভেতর থেকে ল্যাপটপের কিবোর্ডের খটখট শব্দ আসছে। সিয়ামের চোখ মুখ শক্ত করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করছে। পাশের চেয়ারে বসে আছে শাপলা। হাতে এক কাপ চা। ক্লান্ত মুখে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।
কবিতা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিলো।
“ভাই… একবার এদিকে আয় তো। মা ডাকতেছে।”
সিয়াম বিরক্ত হয়ে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরালো না।
“কিসের জন্য?”
“আমি জানি না। তুই আয় তো একবার। জরুরি কথা আছে নাকি।”
সিয়াম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ল্যাপটপ বন্ধ করলো। শাপলার দিকে তাকিয়ে বললো,
“আসছি।”
তারপর কবিতার সাথে বেরিয়ে এলো।
করিডোরটা অন্ধকার। শুধু দেয়ালের নাইট ল্যাম্পের আবছা আলো। দুজন পাশাপাশি হাঁটছে। হঠাৎ কবিতা থেমে গেল।
“মা তোকে ডাকছে না।”
সিয়াম ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
“তাহলে মিথ্যা বলে ডেকে আনলি কেন?”
কবিতার ঠোঁটে একটা রহস্যময় হাসি।
“কারণ তোর সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে। এমন কথা… যা শুধু ছাদেই বলা যায়।”
কথা না বাড়িয়ে দুজন সোজা ছাদে চলে এলো। রাতের বাতাসে শীতলতা। চারপাশে নিস্তব্ধতা। শুধু দূরে কোথাও কুকুরের ডাক।
সিয়াম রেলিং ধরে দাঁড়ালো। বিরক্ত গলায় বললো,
“কি এমন জরুরি কথা যে এই রাতের বেলা ছাদে টেনে আনলি? তাড়াতাড়ি বল। আমার কাজ আছে।”
কবিতা সিয়ামের পাশে এসে দাঁড়ালো। আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললো,
“এমন কথা বলবো ভাই… যা শুনলে তোর পায়ের নিচ থেকে ছাদ স রে যাবে। তোর পুরো দুনিয়া ওলট পালট হয়ে যাবে।”
সিয়াম কপাল কুঁচকালো।
“ধাঁধা বাদ দে। যা বলার সোজা বল।”
কবিতা ঘুরে সিয়ামের চোখে চোখ রাখলো।
“আচ্ছা ভাই, একটা কথা বল তো। যেদিন সিরাজ শাপলাকে নিয়ে গেছিলো… সেদিন তুই শাপলাকে কোথায় পেয়েছিলি?”
সিয়াম চমকে উঠলো।
“হঠাৎ এসব কথা কেন? তুই আমাকে এজন্য ডেকেছিস?”
“আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দে।”
সিয়াম একটু চুপ করে থেকে বললো,
“রাস্তায়।”
“তারপর? শাপলা কি বলেছিল?”
“বলেছিল সিরাজের কাছ থেকে কোনোভাবে পালিয়ে আসছে।”
কবিতা হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠলো। এই হাসি রাতের নিস্তব্ধতা চি’রে দিলো।
“সব মিথ্যা ভাই! সব মিথ্যা!”
সিয়াম কঠিন গলায় বললো,
“কি বলছিস তুই?”
কবিতা ফিসফিস করে বললো,
“শাপলা মিথ্যা বলছে। ও নিজেই সিরাজকে কোথাও আটকে রেখেছে। ওর প্ল্যানেই সব হচ্ছে।”
“প্রমাণ দে?”
“প্রমাণ লাগবে? আচ্ছা ভাব তো… এতদিন হয়ে গেল, পুলিশ এখনো সিরাজকে ধরতে পারলো না কেন? শাপলা নিজের কাছে লুকিয়ে রেখেছে।”
সিয়ামের মুখ শক্ত হয়ে গেল। ও কিছু বলতে যাবে, কবিতা ওকে থামিয়ে দিলো।
“আমি জানি তুই শাপলাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করিস। কিন্তু একবার নিজের চোখে দেখবি ভাই। নিজের কানে শুনবি। তারপর সিদ্ধান্ত নিবি।”
ছাদের বাতাসে কবিতার কথাগুলো ছড়িয়ে পড়তে লাগলো।
সিয়াম রেলিং শক্ত করে চে পে ধরলো। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মনে হাজারটা প্রশ্ন। আর কবিতা? সে আড়চোখে সিয়ামের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে শয়তানি হাসি হাসলো। ছাদের ঠান্ডা বাতাসে সিয়ামের রাগ মাথায় উঠে গেল।
সে কবিতার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললো,
“তোর মাথা ঠিক আছে তো আপু? কি সব আবোল তাবোল বলছিস?”
কবিতা একটুও ঘাবড়ালো না। বরং ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়ে বললো,
“আমার মাথা একদম ঠিক আছে ভাই। ঠিক নেই তোদের। তোরা সবাই শাপলার মিষ্টি কথায় ভুলে আছিস।”
একটু থেমে আবার বলতে লাগলো,
“আরে শাপলা সবাইকে মিথ্যা বলছে। ও যে মাঝে মাঝে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়… ও যায় সিরাজের কাছে। হ্যাঁ, সিরাজকে ও নিজেই কোথাও আটকে রেখেছে। আর ওর কাছ থেকে কি যেন জানার চেষ্টা করছে।”
সিয়াম কপাল কুঁচকে তাকালো।
“আচ্ছা। তোর প্রতিটা কথা আমি বিশ্বাস করবো। কিন্তু শর্ত একটা। প্রমাণ দে।”
“প্রমাণ চাই? আমি নিজের কানে শুনেছি। শাপলা ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছিল। বলছিল কালকে সেখানে যাবে।”
চোখ ছোট করে বললো,
“তুই বরং কাল শাপলাকে ফলো কর। নিজের চোখে দেখে আয় ও কোথায় যায়, কার সাথে দেখা করে। তারপর বুঝবি আমি সত্যি বলছি নাকি মিথ্যা।”
কথা শেষ করেই কবিতা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। বিজয়ীর মতো হেঁটে ছাদ থেকে নেমে গেল।
সিয়াম একা দাঁড়িয়ে আছে। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে একা একাই বিড়বিড় করতে লাগলো,
“ধরে নিলাম আপু সত্যি বলছে… কিন্তু শাপলা সিরাজকে আ ট কে রেখে করবেটা কি? ওর তো কোনো লাভ নেই। আর বড় কথা হলো… ও একটা মেয়ে। একা একা এত বড় রিস্ক কিভাবে নেবে?”
আবার নিজেকেই প্রশ্ন করলো,
“আর আপুই বা কেন মিথ্যা বলবে? ওর তো কোনো স্বার্থ দেখছি না।”
মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে সিয়ামও ধীরে ধীরে ছাদ থেকে নেমে যেতে লাগলো।
অন্যদিকে কবিতা অনেক আগেই নিজের রুমে চলে এসেছে।
ঘরের আলো নিভানো। শুধু ড্রেসিং টেবিলের উপর ছোট ল্যাম্পটা জ্বলছে। কবিতা একা একাই শয়তানি হাসি হাসছে।
“শাপলা… এবার তোর খেলা শে ষ। সিয়াম যখন নিজের চোখে সব দেখবে, নিজের কানে সব শুনবে… উফ ভাবতেই কি শান্তি লাগছে।”
কলি দরজার কাছে চলে এলো,
“আপু… আসবো?”
“আয়।”
কলি ভেতরে এসে আমতা আমতা করে বললো,
“আপনার কাছে নাকি মাথা ব্য থা র ওষুধ আছে? খুব মাথা ধরেছে।”
কবিতা ড্রয়ার খুলে ওষুধ বের করে দিলো।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬৮
“এই নে। পানি দিয়ে খেয়ে নে।”
কলি ওষুধটা হাতে নিয়ে বললো,
“আপনি একা একা কি বলছিলেন আপু?”
কবিতা এক সেকেন্ডের জন্য থতমত খেলো। তারপর হেসে উড়িয়ে দিলো।
“আরে না। একটা ড্রামা সিরিজ দেখছিলাম। ওটার ডায়লগ। একা একা রিপিট করছিলাম আর কি।”
কলি আর কিছু না বলে “ধন্যবাদ আপু” বলে গুটি গুটি পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ হতেই কবিতার মুখে আবার সেই হাসি ফিরে এলো।
