Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৪০

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪০

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪০
সুমাইয়া ইসলাম নূর

সন্ধ্যার নরম আলো ধীরে ধীরে রাতের আঁধারে মিলিয়ে যাচ্ছে। চৌধুরী বাড়ির চারপাশে ছোট ছোট লাইটগুলো জ্বলে উঠেছে অনেক আগেই। বারান্দা দিয়ে ভেসে আসছে বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। আজ বাড়িটার পরিবেশ অন্যরকম শান্ত। অনেকদিন পর সবাইকে একসাথে এতটা নির্ভার দেখা যাচ্ছে।
ইনায়া বেশ কিছুক্ষণ আগেই নিজের রুমে চলে গেছে। হয়তো নতুন জীবনের স্বপ্নগুলোকে গুছিয়ে নিতে। আর নিচের হলরুমে—

বড় সোফাগুলো ঘিরে বসে আছেন লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী, রবিউল চৌধুরী, রেশমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী।
একপাশে বসে আছে ইউভি, রেদোয়ান আর পিয়াসা।সবার হাতেই এক কাপ করে চা বা কফি। কথাবার্তা চলছে ধীর গতিতে।
হঠাৎ লিখন চৌধুরী গলা পরিষ্কার করে বললেন—রাতিব, কী বলিস তাহলে?”
সবাই তার দিকে তাকালো।
তিনি মুচকি হেসে আবার বললেন।
ইনায়ার সিদ্ধান্তটা আমার খুব ভালো লেগেছে।”
আমি সবসময়ই চাইতাম এই বাড়ির ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ব্যবসার দায়িত্ব সামলাক।”
একটু থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন লিখন চৌধুরী
কিন্তু রিমঝিমকে দিয়ে তো আর পারলাম না।ং
ইনায়া যখন নিজে থেকে চাইছে, তখন অবশ্যই হবে। ও আগে বিজনেস কোর্সটা শেষ করে আসুক।
তারপর রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন—
কী বলিস রেদোয়ান? রেদোয়ান হাসল।
আমি তো পুরোপুরি সাপোর্ট করি, চাচ্চু।
বোনু যা চাইবে, আমরা সবাই ওর পাশে আছি।
ঠিক তখনই রাতিব চৌধুরী শান্ত গলায় বললেন—
আমারও কোনো সমস্যা নেই, ভাইয়া।।তবে আমার একটা শর্ত আছে। সাথে সাথে সবাই কৌতূহলী হয়ে তার দিকে তাকালো।
রবিউল চৌধুরী ভ্রু তুলে বললেন—

— “কী শর্ত?”রাতিব চৌধুরীর ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল।আমি আমার মেয়েকে একা ছাড়বো না।
কথাটা শুনে সবাই একটু অবাক হলো।তিনি ধীরে ধীরে আবার বললেন শুধু এই বাড়ির এক মেয়ে না…এই বাড়ির দুই মেয়েই লন্ডনে পড়তে যাবে।
মুহূর্তের মধ্যেই পুরো হলরুমে নীরবতা নেমে এলো।
পিয়াসা প্রায় লাফিয়ে উঠে বলল—মানে???”
রেশমা চৌধুরী বিস্মিত চোখে তাকালেন।
পিয়াসাও যাবে? রাতিব চৌধুরী মাথা নাড়লেন।
হ্যাঁ। এত অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ইনায়ার সাথে পিয়াসাও যাবে। আমি দুটো মেয়েকেই প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই। তারপর লিখন চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললেন কী বলো ভাইয়া?”
লিখন চৌধুরীর মুখে ধীরে ধীরে গর্বের হাসি ফুটে উঠল।আমি তো এই কথাটাই শুনতে চেয়েছিলাম।”
আমাদের মেয়েরা কারও চেয়ে কম না। পিয়াসা তখনও হতভম্ব হয়ে বসে আছে।
রেদোয়ান কথাটা শুনেই প্রায় চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠল।

— “না! পুরো হলরুম এর সবাই একসাথে রেদোয়ান এর দিকে তাকালো।
রেদোয়ান আঙুল তুলে বলল—পিহু যাবে না।”
তারপর সরাসরি পিয়াসার দিকে তাকিয়ে বলল—
কী রে পিহু? তুই যাবি? পিয়াসা বেচারি এমনিতেই হঠাৎ পাওয়া খবরে কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
না পারছে রেদোয়ানকে কিছু বলতে না পারছে চাচ্চুদের সামনে মুখ খুলতে।
সে শুধু বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল।
রেদোয়ান আবার শুরু করল না, ও যাবে না।”
আর বোনুও একা যাবে না তো বোনুর ক্লাস নিবে তো ভা…”
ঠিক তখনই ইউভি বিদ্যুৎগতিতে উঠে রেদোয়ানের মুখ চেপে ধরল।সালা চুপ কর!”
রেদোয়ানের কথাগুলো বাকিটা গলায় আটকে গেল।ইউভি দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলল—সব কথা সব জায়গায় বলতে হয় না।আর আমার বোনকে নিয়ে তোর এত ভাবতে হবে না।”

— “কাপুরুষ কোথাকার!”
আগে শেহজাদা ইউভি চৌধুরীর মতো বীরপুরুষ হ।”
পিয়াসা মুখ নামিয়ে হাসি চাপতে লাগল।
ইউভি আবার ফিসফিস করে বলল—আর আমি তোর বোনের সাথে আমার বোনেরও admission করিয়ে দিব। এখন মুখ বন্ধ রাখ।এই বলে ইউভি ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে নিল।
রেদোয়ান সঙ্গে সঙ্গে গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলল।
— “আহ্ ভাইয়া! আমি তো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতেছিলাম!।হলরুমে জুরে সবার মুখে চাপা হাসি ছড়িয়ে পড়ল। ঠিক তখনই লিখন চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বললেনএইটা কী ধরনের বেয়াদবি, ইউভি?
ছেলেটাকে পুরো কথা শেষ করতে দিলে না কেন?”
ইউভি সোফার পেছনে হেলান দিয়ে মুচকি হাসল।

ও আমার সাজানো গুটি এলোমেলো করে দিচ্ছিল। তাই বলতে দিলাম না। কথাটা শুনে রাতিব চৌধুরী চুপ হয়ে গেলেন।গত কয়েক মাস ধরে তার মনে যে সন্দেহগুলো ঘুরছিল…
আজ যেন সেগুলোর কিছু উত্তর মিলতে শুরু করেছে।তার চোখ ধীরে ধীরে রেদোয়ান দিকে গেল।
নিজের ছেলের মুখের আত্মবিশ্বাস দেখে বুকটা গর্বে ভরে উঠল।মনে মনে বললেন—আমার ছেলে সত্যিই বড় হয়ে গেছে… ভাবতেই তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল রাতিব চৌধুরীর।
এদিকে ইউভি ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।সিঁড়ির মাঝখানে গিয়ে থেমে পিছনে তাকিয়ে বলল—ঠিক ৫ তারিখে বোনু আর আদর দুজনই লন্ডন যাবে। বাকিটা আমি রেডি করে রাখব।
কথাটা বলেই সে উপরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
আর নিচে..পিয়াসা কাঁদো কাঁদো মুখ করে রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।
চোখদুটোতে স্পষ্ট অসহায়তা।

মনে মনে বলল—কিছু একটা করো রে আমার ময়েন আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না…”
আর সত্যি বলতে কী…আমি তো পড়ালেখা করতেই চাই না!”
পিয়াসা এক কোণে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। আর রেদোয়ান বারবার তার দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে।
ঠিক তখনই রেশমা চৌধুরীর ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল— তিয়া রেশমা চৌধুরী হাসিমুখে কল রিসিভ করলেন।
— “হ্যালো মা, কেমন আছো?
তিয়া উত্তর দিলো আলহামদুলিল্লাহ ভালো বড় মা।
তারপর তিয়ার উদ্বিগ্ন কণ্ঠ ভেসে এলো—
বড় চাচি… ইনায়া কেমন আছে? আজ সারাদিন ওর কোন খোঁজ খবর নিতে পারি নি।
রেশমা চৌধুরীর চোখ নরম হয়ে গেল।
আজই তো মেয়েটাকে বাসায় নিয়ে আসলাম মা। অনেক কষ্ট পেয়েছে আমাদের নূর মা। তবে এখন অনেকটাই সুস্থ। তিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর আস্তে করে বলল বড় মা

আর… উভি কই?
ও আমার ফোন রিসিভ করছে না কেন?”
কথাটা শুনে রেশমা চৌধুরী হেসে ফেললেন।ওর আদর অসুস্থ ছিল মা। এই কয়দিন ছেলেটার মাথার ঠিক ছিল না।।আমার ছেলেটা তো একেবারে বউয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে। তবে অনেকদিন পর ওর মুখে হাসি দেখছি আমি মেয়েটা সুস্থ হয়ে বাড়ি আসাই আমারা সবাই ইউভির পাশাপাশি অনেক খুশি হয়েছি।
হলরুমে বসে থাকা সবাই হালকা হেসে ফেলল।
কিন্তু ফোনের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিয়ার মুখটা মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল।চোখের ভেতর হিংসা আর রাগ জমে উঠল।মনে মনে বলল—
না..আমি পারলাম না.এত কিছু করেও ওদের আলাদা করতে পারলাম না।।
কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে শয়তানি হাসি ফুটে উঠল।
— “No problem…উভি তো ৫ তারিখে লন্ডন আসছেই।এই চার মাসে আমি উভিকে পুরোপুরি নিজের করে নিবো।তারপর দেখবো ইনায়া কী করে..এদিকে রেশমা চৌধুরী আবার বলতে শুরু করলেন আচ্ছা মা, কিছুদিন পর তো নূর আর পিয়াসা দুইজনই লন্ডন যাচ্ছে।কথাটা শুনে তিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল—

— “মানে?
রেশমা চৌধুরী স্বাভাবিক গলায় বললেন—
ওরা বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ভর্তি হবে।চার মাসের স্পেশাল প্রোগ্রাম। তারপর ইন্টার্নশিপও করবে। তুমি তো ওখানেই আছো মা, একটু খেয়াল রাখবা ওদের। কথাগুলো শুনে তিয়ার মুখ থেকে হাসি এক মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল।
চোখ বড় বড় হয়ে গেল তার।মনে হলো যেন কেউ মাথার উপর ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়েছে।
মনে মনে ফিসফিস করে বলল—
— “কি…? ইনায়াও লন্ডন আসছে…?আর পিয়াসাও…?
তার বুকের ভেতর হঠাৎ অজানা অস্থিরতা শুরু হলো।কারণ সে খুব ভালো করেই জানে—
উভি আর ইনায়া যদি একই শহরে থাকে…
তাহলে তাদের মাঝখানে ঢোকা আগের চেয়ে হাজার গুণ কঠিন হয়ে যাবে।
তিয়া চুপ করে গেল।

এই দিকে তিয়া আর কিছু কথা বলে কল রেখে দিলো।
ইউভি রুমে গিয়ে ড্রয়ার থেকে একটা সিগারেট এর প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করলো। ইউভি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট এর দিকে মনোযোগ দিতেই মনে পড়লো। ইনায়ার বলা শেই কথা গুলো
*★ যে ঠোঁটে ঠোঁট রাখার অধিকার আমি রাখি সে ঠোঁটে সিগারেট নিষিদ্ধ *★
ইউভি মুচকি হেসে বললেো তাহলে যেইটা মানায় ওই টা নিয়ে আসি আদর বড্ড নেশা নেশা লাগছে আদর।
ইউভি এই বলে আর এক মূহুর্তো ও দেরি না করে নিজের রুম থেকে বের হয়ে করিডর দিয়ে হাঁটা শুরু করলো।
ইনায়ার রুমের সামনে গিয়ে
শব্দ করে রুমের দরজা খুলে আবার শব্দ করে বন্ধ করে দিলো।ইনায়া চমকে পিছনে দরজার দিকে তাকালে ইউভি কে দেখে আরো চমকে ওঠে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে ইউভি চৌধুরী আপনি এতো রাতে আমার রুমে কেন? কি চাই?
ইউভি ধিরে ধিরে শার্ট এর বোতাম একটা একটা করে খুলতে খুলতে ইনায়ার দিকে ধিরে ধিরে আগাই। ইনায়া ভয়ে এক পা এক পা করে ভয়ে ভয়ে পিছু হাটে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে কি করছেন আপনি ইউভি ভাইয়া।

ইউভি ইনায়া কে এক ঝটকায় নিজের দিকে টেনে আনে। জোর করে ইনায়ার ঠোঁটে ঠোঁট ছুয়াই ধিরে ধিরে চুম্বন শুরু করে। ইউভির চুম্বন এর গভীরতা এতোটাই গভীর হতে থাকে যে ইনায়া ব্যাথাই ডুকরে উঠে এ কোন ইউভি কে দেখছে ইনায়া এতো টা ব্যথা দায়ক চুম্বন ইনায়া আগে কখনো ইউভির থেকে পাই নি।
দশ মিনিট পর ইউভি নিজের রাগ জেদ ইনায়ার ঠোঁটের উপর মিটাই।
এর পর এক ঝটকায় ছুরে ফেলে দেই বিছানাই।ইনায়া ব্যাথাই ডুকরে কেঁদে ওঠে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে আপনি অনেক খারাপ ইউভি ভাইয়া আমাকে ভালোবাসেন না ঠিক আছে তবে এই ভাবে কষ্ট দিবেন না আমি যে ব্যথা সহ্য করতে পারি না।
ইউভি বিছানায় নিজের শার্ট ছুরে ফেলে দিয়ে ইনায়ার থুতনি শক্ত করে চেপে ধরে বললো কেন সহ্য করতে পারবি না তোকে সহ্য করতেই হবে। চাচির বেটি তোর জন্য ঠিক কতো টা কষ্ট পেয়েছি আমি জানিস তোর কোন ধারণা আছে।
এরপর
ইউভি ইনায়ার কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে ধীরে ধীরে বলল,তুই আমাকে ইগনোর করিস… তোর এত বড় সাহস? শুধু একটু ভালোবাসি বলে তোর এইসব বোকামি সহ্য করি আমি।ইনায়া যেন থমকে গেল। কাঁপা কাঁপা হাতে ইউভির শার্টের কাছে হাত রেখে নিচু গলায় বলল,

“ভালোবাসেন আমাকে…?
ইউভি হালকা হাসল, চোখে একটা অদ্ভুত গভীরতা এনে বললো ।
“না।”
এই একটা শব্দেই যেন ইনায়ার বুকটা কেঁপে উঠল।
ইনায়া ধরা গলায় বলল,এইমাত্র তো বললেন…”
ইউভি শান্ত গলায় বলল,
“তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছিস কেন?
ইনায়া মাথা নিচু করে ফেলল, চোখ ভিজে উঠল।
“আর একবার বলেন না ইউভি ভাইয়া
ইউভি এবার একটু থেমে গেল। তারপর ধীরে বলল এতো বার বলার কি আছে
“আমি আমার বাড়ির প্রতিটা মানুষকে ভালোবাসি… পিয়াসা, আয়াত, আতিকা, রিদ—সবাইকে। সবাই আমার আপন।”
ইনায়া ঠোঁট কামড়ে চোখ মুছল, কাঁদতে কাঁদতে বলল, আপনি বড্ড অসভ্য লোক
ইউভি ভাইয়া দেখেন একদিন জেন আফসোস না করতে হয় আপনাকে।
আপনি না ভালবাসলে কি হইছে আমাকেও একজন ভালোবাসে। সে লন্ডন থাকে দেখি লন্ডন গিয়ে তারপর প্রপোজ একসেপ্ট করে নিব ছেলেটা মোটামুটি ভালোই আমাদের রিলেটিভ। আমার তো ভালোই লাগে।
ইনায়া এই বলে মনে মনে বলল,আপনাকে জ্বালানোর জন্য হলেও আমি একটা ভাই জোগাড় করব লন্ডনে।
কথাটা বলেই সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু ইউভির মুখের পরিবর্তনটা তার চোখ এড়াল না।
কয়েক মুহূর্ত আগেও যার ঠোঁটে হাসি ছিল, সে এখন অদ্ভুত নীরব।

“তাই নাকি?”
ইউভি ধীর গলায় বলল।
ইনায়া ভান করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল।
“হ্যাঁ। কেন? আপনার কোনো সমস্যা আছে?
আমার সমস্যা কেন থাকবে? ইউভি বলল ঠিকই, কিন্তু তার কণ্ঠের গাম্ভীর্য অন্য কিছুই বলছিল।
ইনায়া এবার একটু সাহস পেয়ে বলল,
ছেলেটা কিন্তু অনেক ভালো। ভদ্র, শিক্ষিত, দেখতে সুন্দর। আমার খেয়ালও রাখে।
ইউভি চুপ করে আছে ।
আর সবচেয়ে বড় কথা, সে আমাকে ইগনোর করে না।
এইবার ইউভি ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।
অনেক কিছুই তো জেনে ফেলেছিস দেখছি।
ইনায়া ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
জানব না কেন? আমারও তো জীবন আছে।
ইউভি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে হঠাৎ বলল,
তাহলে চলে যা লন্ডনে।
কথাটা শুনে ইনায়ার বুকটা ধক করে উঠল।
সে ভেবেছিল ইউভি রাগ করবে, কিছু একটা বলবে। কিন্তু এভাবে নির্লিপ্ত হয়ে বলবে, তা ভাবেনি।
“যাব তো।” — জোর করে বলল সে।
ভালো।”

“খুব ভালো।”
“হুম।”
ইনায়া এবার সত্যিই কষ্ট পেল।
আপনি কি একটুও আটকাবেন না?
ইউভি তার দিকে তাকিয়ে রইল।
বারান্দার হালকা বাতাস রুমে আসছে আর সেই হাওয়াই ইনায়ার চুলগুলো উড়ছিল। চোখ দুটোও লাল হয়ে আছে কান্নায়।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইউভি বলল,
সব মানুষকে আটকানো যায় না, ইনায়া।
তাহলে আমাকেও যেতে দিবেন?
যদি যাওয়াতেই তোর সুখ থাকে তাহলে যা
কথাটা শেষ করতে গিয়েও যেন তার গলা আটকে গেল।
ইনায়া প্রথমবারের মতো বুঝল, ইউভির চোখের গভীরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলো হয়তো মুখের কথার চেয়ে অনেক বেশি সত্য।
কিন্তু দুজনের কেউই আর কিছু বলল না।
শুধু রাতের নরম বাতাস তাদের মাঝখানের না-বলা কথাগুলোকে আরও ভারী করে তুলল।
হঠাৎ ইনায়ার ফোন বেজে উঠল।
ইউভি ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
নাম্বারটা সেভ করা নেই কেন? দেখ তো, তোর ওই নাগর কল দিয়েছে নাকি? আমি আসি
ইনায়া রাগী চোখে ইউভির দিকে তাকিয়ে বলল,

— “দেখে যান কে কল দিয়েছে!”
বলেই সে কল রিসিভ করল।
আর এই দিকে ইউভি এক মূহুর্তে ও দাড়ালো না ইনায়ার রুমে কারণ সে যানে কে কল দিয়েছে।
ওপাশ থেকে তিয়ার চিৎকার ভেসে এলো,
— “তোকে তো পুরোই ধ্বংস করে দিয়েছি, ইনায়া নূর চৌধুরী! লন্ডন এসে ও কিছু করতে পারবি না!”
ইনায়া মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল।
— “কি ভেবেছিস? আমি ধ্বংস হয়ে গেছি? এই ইনায়া নূর চৌধুরীর রাজ্য ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা তোর মতো তিয়া চৌধুরীর কোনোদিন ছিল না, আর হবেও না!”
ইনায়া ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল,
“আমি ভেঙে গিয়েও নিজেকে সামলে নিতে পারি। আমাকে মচকানো সহজ, কিন্তু ধ্বংস করা অসম্ভব।”
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সে আবার বলল,

শেহেজাদার আদর পর্ব ৩৯

যা, তোকে ভিক্ষা দিলাম। শেহজাদা ইউভি চৌধুরীকে সামলে রাখিস। তারপর মৃদু হেসে যোগ করল,
যেভাবে ফুটো থালা নিয়ে আমার সামনে বসে আছিস, তাতে রাগের চেয়ে মায়াই বেশি লাগছে।
ইনায়ার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস আর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ স্পষ্ট।
নিজের জীবনটাই আগে সামলাতে শিখ, তিয়া। অন্যের রাজ্য দখলের স্বপ্ন পরে দেখিস।
আসছি আমি তোর থেকে আমার সবকিছু ছিনিয়ে নিবো
সরি বড় আপু।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪১