Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৪২

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪২

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪২
সুমাইয়া ইসলাম নূর

লন্ডনের আকাশে তখন গভীর রাত।
দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়ে অবশেষে বিমানবন্দর থেকে বের হলো ইনায়া আর পিয়াসা।
কিন্তু বের হয়েই তারা অবাক হয়ে গেল।
দুজনের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে কয়েকজন নারী নিরাপত্তাকর্মী দাঁড়িয়ে আছে।
তাদের দেখে একজন এগিয়ে এসে ভদ্রভাবে বলল ওয়েলকাম, ইনায়া ম্যাম। ওয়েলকাম, পিয়াসা ম্যাম।”
দুজন একে অপরের দিকে তাকালো।
কিছু বলার আগেই মেয়েরা তাদের লাগেজগুলো নিয়ে নিল।পাসপোর্ট, কাগজপত্র, গাড়ি—সবকিছু যেন আগে থেকেই প্রস্তুত।মনেই হচ্ছে না তারা নতুন দেশে এসেছে।বরং মনে হচ্ছে কেউ আগে থেকেই তাদের জন্য সব গুছিয়ে রেখে গেছে।

বিমানবন্দর থেকে বের হতেই ঠান্ডা বাতাস এসে গায়ে লাগল দুজনের ।
চারপাশে আলো ঝলমল করছে।
উঁচু উঁচু বিল্ডিং, ফাঁকা রাস্তা, দূরে চলতে থাকা গাড়ির সারি—সবকিছুই নতুন লাগছে দুজনের কাছে গাড়ির জানালার পাশে বসে ইনায়া মুগ্ধ চোখে বাইরের দৃশ্য দেখছিল।আর পিয়াসা?সে ক্লান্তিতে প্রায় ঢুলে পড়ছে।প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়িটা এসে থামল একটি সুন্দর তিনতলা বাড়ির সামনে।
বাড়িটার চারপাশে ছোট ছোট গার্ডেন লাইট জ্বলছে।
গেট খুলতেই ভেতরের সৌন্দর্য দেখে দুজনই মুগ্ধ হয়ে গেল।ভেতরে ঢুকে তারা আরও অবাক হলো।
ঘরের প্রতিটা জিনিস সুন্দর করে সাজানো।
কিচেন ভর্তি প্রয়োজনীয় সব জিনিস।
ফ্রিজে খাবার রাখা।স্টাডি টেবিলে নতুন বই আর স্টেশনারি।এমনকি আলমারিতেও প্রয়োজনীয় অনেক কিছু গুছিয়ে রাখা।পিয়াসা ধপ করে সোফায় বসে পড়ল।তারপর ইনায়ার কাঁধে মাথা রেখে ক্লান্ত গলায় বললো

—জানিস বেবি… আমি ভাবছিলাম আমরা দুইটা যে অগোছালো, এখানে এসে সব কিভাবে সামলাবো!
ইনায়া হেসে ফেলল।
পিয়াসা আবার বলল—
কিন্তু দেখ এখানে আসার পর থেকে আমাদের শুধু নিজের পায়ে হাঁটতে হচ্ছে। বাকি সব ওই মেয়েগুলাই করে দিচ্ছে। ইনায়া মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইনায়া বলল।বেবি, আমার ভাইয়া কল দিয়েছিল?।পিয়াসা সাথে সাথে হেসে ফেলল।হ্যাঁ একটু আগেই কথা হলো।”
— “তোকে দিছে?”
— হুম।
ইনায়া শান্ত গলায় বলল—
— দিছে। আমার সাথেও কথা হইছে।
তারপর কয়েক সেকেন্ড থেমে আবার বলল—
তোর ভাইয়া কথা বলছে?প্রশ্নটার অর্থ বুঝতে পিয়াসার এক সেকেন্ডও লাগল না।সে ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে বলল—
— “না।”
ইনায়ার বুকটা হঠাৎ কেমন খালি হয়ে গেল।
— “ও…”

পিয়াসা দ্রুত বলল হয়তো বিজি আছে। ফ্রি হলেই কল দিবে। ইনায়া জোর করে মাথা নেড়ে হাসল।
কিন্তু তার মনটা কেন জানি আরও খারাপ হয়ে গেল।সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বলল ভালো লাগতেছে না। আমি ঘুমাবো। পিয়াসাও হাই তুলে বলল আমিও। কাল থেকে তো ক্লাস শুরু। ইনায়া হাত বাড়িয়ে বলল—
— “রেডি?”
পিয়াসা হাই-ফাইভ দিয়ে বলল—অবশ্যই রেডি!”
ঠিক তখনই একজন নারী গার্ড এগিয়ে এলো।
ভদ্রভাবে বলল ইনায়া ম্যাম, এই রুমটা আপনার। আর পাশের রুমটা পিয়াসা ম্যামের।।পিয়াসা মাথা নেড়ে বললো।ঠিক আছে। থ্যাংক ইউ।”
মেয়েটি চলে যেতেই দুজন একবার একে অপরের দিকে তাকাল।
আর আগামীকাল থেকে শুরু হবে তাদের স্বপ্নের পথে নতুন অধ্যায়।
কিন্তু নিজের রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ইনায়ার বুকটা আবার কেমন করে উঠল।
কারণ হাজার মাইল দূরে চলে এলেও…
তার মনটা যেন এখনও পড়ে আছে বাংলাদেশের সেই ব্যালকনির দিকেই।

লন্ডনের সকালটা যেন ঢাকার সকাল থেকে একেবারেই আলাদা লাগছে ।
বড় বড় কাঁচের বিল্ডিংয়ের গায়ে ভোরের সোনালি রোদ এসে পড়েছে। রাস্তাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, কোথাও হালকা কুয়াশার আস্তরণ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। দূরে লাল রঙের ডাবল-ডেকার বাসগুলো নিয়ম মেনে চলাচল করছে। মানুষজন ব্যস্ত পায়ে নিজেদের গন্তব্যে ছুটছে।হালকা ঠান্ডা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলছে।
এদিকে ইনায়া আর পিয়াসার ঘুম ভাঙলো সকাল সকালই।নতুন শহর… নতুন পরিবেশ… নতুন জীবন.তাই দুজনের মধ্যেই একটা আলাদা উত্তেজনা কাজ করছে।ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসতেই সেই মহিলা গার্ডদের একজন হাসিমুখে বললগুড মর্নিং, ম্যাম। ব্রেকফাস্ট রেডি।”
টেবিলে আগে থেকেই সাজানো ছিল গরম কফি, টোস্ট, অমলেট, ফল আর জুস।
পিয়াসা অবাক হয়ে বলল বেবি, আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারতেছি না।”
ইনায়া হেসে বলল আমিও না। মনে হচ্ছে আমরা কোনো সিনেমার মধ্যে আছি।
নাস্তা শেষ করতেই গাড়ি প্রস্তুত ছিল।

কোনো ঝামেলা নেই। কোথায় যেতে হবে, কিভাবে যেতে হবে—সবকিছু আগেই ঠিক করা।
কিছুক্ষণ পর গাড়িটা শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে সেই প্রাইভেট বিজনেস ইনস্টিটিউটের সামনে এসে থামল।সামনে আধুনিক ডিজাইনের বিশাল ভবন।
কাঁচে ঘেরা পুরো বিল্ডিংটা সকালের রোদে ঝলমল করছে।চারপাশে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।কেউ ইংরেজিতে কথা বলছে, কেউ আবার অন্য ভাষায়।সবকিছুই নতুন লাগছে তাদের কাছে।ভেতরে ঢুকতেই একজন স্টাফ তাদের ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছে দিল।ক্লাসরুমটাও একদম আলাদা।
বড় বড় জানালা। সামনে ডিজিটাল স্ক্রিন। আরামদায়ক চেয়ার। পরিপাটি পরিবেশ।
ইনায়া আর পিয়াসা পাশাপাশি বসে চারপাশ দেখছিল।ঠিক তখনই প্রায় চল্লিশ বছর বয়সী একজন ভদ্রলোক ক্লাসরুমে ঢুকলেন।সবাই চুপ হয়ে গেল।ভদ্রলোক হাসিমুখে বললেন—

— “Good Morning Everyone.”
সাথে সাথে পুরো ক্লাস উত্তর দিল—
— “Good Morning Sir.”
স্যার নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন—
আমি আগামী চার মাস তোমাদের বিজনেস প্রোগ্রামের অন্যতম মেন্টর হিসেবে থাকব।”
তারপর তিনি প্রথম দিনের ওরিয়েন্টেশন শুরু করলেন।ডিজিটাল স্ক্রিনে কোর্সের পরিকল্পনা দেখিয়ে বললেন—এই চার মাসে শুধু বই পড়লেই হবে না। তোমাদের টিমওয়ার্ক, প্রেজেন্টেশন, বিজনেস কেস স্টাডি, লিডারশিপ স্কিল এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা নিয়েও কাজ করতে হবে।
পিয়াসা মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
ইনায়াও নোট নিচ্ছে।স্যার আবার বললেন—

এখানে কেউ কাউকে মুখস্থ বিদ্যার জন্য নম্বর দেয় না।আমরা দেখতে চাই তোমরা কীভাবে চিন্তা করো, কীভাবে সিদ্ধান্ত নাও এবং কীভাবে নিজের আইডিয়া উপস্থাপন করো।”
ক্লাসের অনেকেই মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
এরপর সবাইকে নিজেদের পরিচয় দিতে বলা হলো।
একে একে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় দিল।পিয়াসার পালা আসতেই সে একটু নার্ভাস হয়ে গেল।কিন্তু ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
সেই হাসিটুকুই যেন সাহস জোগালো।
পিয়াসা দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের পরিচয় দিল।এরপর ইনায়াও পরিচয় দিল।
বাংলাদেশের নাম শুনে কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী হাসিমুখে তাদের স্বাগত জানালো।ক্লাসরুমের বড় জানালা দিয়ে বাইরে লন্ডনের ব্যস্ত সকাল দেখা যাচ্ছে।আর সেই জানালার পাশে বসে ইনায়া হঠাৎ এক মুহূর্তের জন্য হারিয়ে গেল চিন্তায়।
নতুন শহর… নতুন স্বপ্ন… নতুন পথ…
কিন্তু এই নতুন পথের মাঝেও কেন যেন তার মনে পড়ে গেল একজন মানুষকে।
ইউভি।মেয়েটা অজান্তেই জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে আবার মনোযোগ দিল স্যারের কথায়।
কারণ আজ থেকে শুরু হচ্ছে তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়।স্যার ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন—আচ্ছা সবাই, আজকের জন্য এতটুকুই।”পুরো ক্লাসরুমের সবাই তখন একদম শান্ত।স্যার আবার বললেন—

— “তবে যাওয়ার আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখি।”সবাই মনোযোগ দিয়ে তার দিকে তাকালো।
—আগামীকাল থেকে তোমাদের নিয়মিত সেশন শুরু হবে।
ডিজিটাল স্ক্রিনে কিছু তথ্য দেখিয়ে তিনি বললেন—
আমার পাশাপাশি আরও দুইজন সিনিয়র ট্রেইনার তোমাদের ক্লাস নেবেন।।তোমাদের সঙ্গে আগামীকাল তাদের পরিচয় হবে।”
ক্লাসের অনেকেই আগ্রহ নিয়ে একে অপরের দিকে তাকালো।স্যার আবার বললেন—তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজনেস কনসালট্যান্ট। আশা করি তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখতে পারবে।”
স্যার আরও কিছু নিয়ম-কানুন বুঝিয়ে দিলেন।
কোর্স শিডিউল… প্রজেক্ট… গ্রুপ ওয়ার্ক… অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার নিয়ম…
সব বিস্তারিত বলার পর তিনি বললেন—
— “Welcome to your new journey.”
— “Best of luck everyone.”
কথাটা বলেই তিনি ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।

কিছুক্ষণ পর ক্লাস শেষ হয়ে গেল।
এক এক করে সবাই বের হতে শুরু করল।
ইনায়া আর পিয়াসাও নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে দুজনই চারপাশ দেখছিল।বড় বড় কাঁচের দেয়াল… আধুনিক সাজসজ্জা… বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত পদচারণা…সবকিছুই তাদের কাছে নতুন লাগছে।পিয়াসা হঠাৎ বলল জানিস, সকালে যতটা ভয় লাগছিল এখন আর ততটা লাগতেছে না।”
ইনায়া হেসে বলল আমারও তাই।
আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে মনে হয়।”
বিল্ডিংয়ের বাইরে বের হতেই তারা দেখল সেই একই গাড়ি অপেক্ষা করছে।আর সঙ্গে সেই মহিলা গার্ডরাও।তাদের একজন এগিয়ে এসে বলল—
Good Afternoon, Ma’am.”

গাড়ি প্রস্তুত আছে।পিয়াসা অবাক হয়ে মাথা নেড়ে বলল—থ্যাংক ইউ।
গাড়িতে উঠতেই ক্লান্তি যেন হঠাৎ করে টের পেল দুজন।সারাদিনের নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতায় মাথাটা একটু ভারী লাগছে।
লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলল।
জানালার বাইরে সারি সারি বিল্ডিং। রাস্তার পাশে ছোট ছোট ক্যাফে। হাঁটতে থাকা মানুষজন।
প্রায় চল্লিশ মিনিট পর গাড়িটা তাদের থাকার বাড়ির সামনে এসে থামল।
গেট খুলতেই ভেতরের পরিচিত পরিবেশ দেখে দুজনেরই ভালো লাগল।
মনে হলো বিদেশের শহরে এটুকুই এখন তাদের নিজের জায়গা।ভেতরে ঢুকতেই একজন স্টাফ ঠান্ডা জুস এনে দিল।পিয়াসা সোফায় বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—প্রথম দিন শেষ।”ইনায়া মুচকি হেসে জানালার বাইরে তাকালো।লন্ডনের বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে সন্ধ্যার দিকে ঝুঁকছে।
নতুন শহরে তাদের প্রথম ক্লাস শেষ হয়েছে।
আর আগামীকাল অপেক্ষা করছে আরও নতুন কিছু অভিজ্ঞতা, নতুন মানুষ আর নতুন গল্পের জন্য।

বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ইনায়া আর পিয়াসা ভিডিও কলে পরিবারের সবার সাথে কথা বলতে বসলো।
হলরুমে তখন প্রায় সবাই উপস্থিত। সন্ধ্যার নরম আলোয় জমে উঠেছে পারিবারিক আড্ডা। কেউ গল্প করছে, কেউ হাসছে, কেউ আবার একে অপরকে নিয়ে মজা করছে। ইনায়া আর পিয়াসা সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।কিন্তু এই ভিড়ের মাঝেও ইনায়ার চোখ শুধু একজনকেই খুঁজছে।ইউভি
বারবার সে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে। হয়তো এখন আসবে… হয়তো একটু পর দেখা যাবে…
কিন্তু পুরোটা সময় কেটে গেলেও ইউভিকে একবারের জন্যও দেখতে পেল না সে।
মেয়েটার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এলো।পরিবারের সবার সাথে কথা বলা শেষ হলে তুবার সাথে আরও কিছুক্ষণ গল্প করল দুজন অনেক কথা বলল।
কিন্তু মনটা যেন কোথাও আটকে আছে।
কথা শেষ করে ইনায়া ফোনটা বিছানার উপর রেখে চুপচাপ মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ল।তার মন খারাপের বিষয়টা পিয়াসার চোখ এড়ালো না।

পিয়াসার এখন নিজের ভাইয়ের প্রতিই ভীষণ রাগ হচ্ছে।এত দূরে এসেছে মেয়েটা যার জন্য সবচেয়ে বেশি মন খারাপ করছে, যার জন্য সেই মানুষ টা কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না।
রাগে গজগজ করতে করতে পিয়াসা ফোনটা হাতে নিল।তারপর ইনায়ার রুম থেকে বের হয়ে করিডোরে চলে এলো।সাথে সাথেই ইউভির নম্বরে কল দিল।ওপাশে তখন লন্ডনের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের একটি বিলাসবহুল কাঁচঘেরা ভবনের সর্বোচ্চ তলায় চলছিল শত কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস মিটিং।বিশাল কনফারেন্স রুমে বসে আছে কয়েকজন বিদেশি ইনভেস্টর।
টেবিলের মাঝখানে সাজানো ফাইল।
শুধু ইউভির সই করার অপেক্ষা।
কিন্তু বোনের কল দেখেই এক মুহূর্ত দেরি না করে রিসিভ করল সে।কল রিসিভ হতেই পিয়াসা শুরু করে দিল এই ভাইয়া! তুমি কি আমার বেবিটাকে ভুলে গেছো? তোমার সাথে একটু কথা বলার জন্য মেয়েটা কেমন পাগলামি করছে জানো? ইউভি কিছুক্ষণ চুপ থেকে শান্ত গলায় বলল—

— “বোনু, মিটিংয়ে আছি।”
— “ফ্রি হয়ে কল দিচ্ছি।”
পিয়াসা রাগী কণ্ঠে বলল—
— “লাগবে না!”
কথাটা বলেই সে ফোন কান থেকে নামিয়ে নিলো
হয়তো সে ভেবেছিল ইউভিও কল কেটে দিয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে ইউভি ফোনটা এখনও কানের কাছেই ধরে রেখেছিল
হঠাৎ ইনায়ার চিৎকার করে কান্না করার শব্দ ভেসে এলো।পিয়াসা আঁতকে উঠল।এক সেকেন্ডও দেরি না করে দৌড়ে চলে গেল ইনায়ার রুমে।
রুমে ঢুকেই দেখল—ইনায়া বিছানায় মুখ গুঁজে কাঁদছে।পুরো শরীরটা কাঁপছে কান্নায়।
পিয়াসাকে কাছে পেতেই সে হঠাৎ উঠে বসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে।
তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বলল—
— “পিহু…”
পিয়াসা দৌড়ে রুমে ঢুকতেই দেখল ইনায়া বিছানার উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
মুখট

— “বেবি…”
ইনায়া কিছু বলল না।
— “কি হইছে বেবি?”
তোর ভাই কি কোনদিন জানবে তার অজান্তে গোপনে অনুপস্থিতি কতো টা মায়া করে আমার,
আমি তাকে কতো টা ভালোবাসি কতো টা মিস করি
পিয়াসার নিজেরও খারাপ লাগতে শুরু করল।
সে মনে মনে ইউভির উপর বেশ রাগ করলো
এদিকে ফোনের ওপাশে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিল ইউভি।
মিটিং রুমের বড় কাঁচের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে সে একদম স্থির হয়ে গেল।
হাতে ধরা ফোনটা এখনও কানের কাছে।
ওপাশ থেকে ভেসে আসা ইনায়ার কান্নার শব্দ তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ব্যথা তৈরি করল।
মিটিং টেবিলে বসে থাকা বিদেশি পার্টনাররা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।কিন্তু এই মুহূর্তে সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
মুহূর্তের মধ্যেই ইউভির মুখের রঙ বদলে গেল।
তার বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড।
তারপর টেবিলের উপর থাকা কলমটা নামিয়ে রেখে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।মিটিং রুমে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
ইউভি সংক্ষিপ্ত গলায় বলল—

— “Excuse me, gentlemen.”
কথাটা বলেই দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
পেছন থেকে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট তন্ময় তাড়াতাড়ি উঠে বলল—স্যার! এই ডিলটা সাইন না করলে আজকের প্রসেস শেষ হবে না।”ইনভেস্টররা অপেক্ষা করছে, স্যার।”ইউভি একবারও পেছনে তাকালো না।
শুধু বলল—মিটিং তিন ঘণ্টা পিছিয়ে দাও।”
— “স্যার, কিন্তু—”
এবার ইউভি থেমে গেল।
ধীরে ধীরে তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে বলল—
জীবনে কিছু মানুষ থাকে যাদের একফোঁটা চোখের পানির দাম হাজারটা ডিলের চেয়েও বেশি।”
তন্ময় চুপ করে গেল।
ইউভি ফোনটা শক্ত করে ধরে দ্রুত বেরিয়ে এলো।
লিফটের ভেতর দাঁড়িয়ে তার মাথায় বারবার ঘুরছে একটাই কথা সে কি জানবে আমি তাকে কতটা মিস করি ইউভির ঠোঁটে কষ্টের হাসি ফুটে উঠল।
সে ফিসফিস করে বলল জানি, আদর.তুই ভাবার চেয়েও বেশি জানি।”
লিফট নিচে নামছে।
হঠাৎ ইইভি পিয়াসা কে আবার কল দিল।

..পিয়াসা অবাক হয়ে বলল কিন্তু ভাইয়া…”
ইউভি শান্ত গলায় বলল কোনো কিন্তু না, বোনু।”
আগামী এক-দুই ঘণ্টা তুই ইনায়ার কোনো খোঁজ নিবি না। পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে বলল—
— “কেন?”
ইউভির ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
কারণ এখন তোর ভাইয়ার কিছু জরুরি কাজ আছে। কী কাজ?”
— “সময় হলে বুঝতে পারবি।”পিয়াসা আরও কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
কারণ সে বুঝতে পারছে, ইউভি কিছু একটা লুকাচ্ছে। আচ্ছা ঠিক আছে। গুড গার্ল।”
কথাটা বলেই ইউভি কল কেটে দিল।
পিয়াসা ফোনের স্ক্রিনের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।
তারপর ফিসফিস করে বলল আল্লাহ মালুম, ভাইয়া আবার কী প্ল্যান করতেছে!”
মাথা নেড়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটতে হাঁটতে সে মনে মনে বলল—
— “কিছু একটা তো অবশ্যই আছে।”

রাত তখন আরও গভীর হয়েছে।
লন্ডন শহর যেন অন্য এক রূপে জেগে উঠেছে।
দূরে সারি সারি উঁচু বিল্ডিংয়ের জানালাগুলো তারার মতো ঝলমল করছে।
রাস্তায় এখনও গাড়ি চলছে, তবে দিনের তুলনায় অনেক শান্ত।হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে।
আকাশে মেঘের ফাঁক দিয়ে আধখানা চাঁদ উঁকি দিচ্ছে।শহরের আলো আর রাতের নীরবতা মিলে চারপাশে এক অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে।
বড় কাঁচের জানালাগুলো দিয়ে সেই আলো এসে পড়ছে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে।
এদিকে ইনায়া একা বসে আছে ব্যালকনিতে।
ব্যালকনির এক কোণায় রাখা নরম আরামদায়ক লাউঞ্জ সোফাটায় শরীর এলিয়ে দিয়েছে সে।
তার পরনে হালকা রঙের একটা টি শার্ট।
খোলা চুলগুলো বাতাসে বারবার উড়ে যাচ্ছে।
সামনের বিশাল শহরটা আলোয় ভাসছে।
কিন্তু এত সুন্দর দৃশ্যও আজ তার মন ভালো করতে পারছে না।ইনায়া হাঁটু জড়িয়ে বসে দূরের আলোগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত শহরেও মানুষ একা হতে পারে।খুব একা।
ইনায়া আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল—

— “আপনি কি একটুও মিস করেন না আমাকে, ইউভি ভাইয়া…?
প্রশ্নটা রাতের বাতাসে মিলিয়ে গেল।
কোনো উত্তর এলো না।
— “তোর মতো বেয়াদব ঘাড়তেরা কে মিস করে কী করবো? ইনায়া চমকে উঠল।পেছনে ফিরে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে বলল—
— “কে… কে? ইউভি রাগী গলায় বলল তোর বিয়ে করা ভাতার রে।ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে মুখ কুঁচকে ফেলল।ছি ছি! এইটা কোন ধরনের কথা-বার্তা? একদম অসহ্য! ইউভি ভ্রু কুঁচকে বলল—
তারপর চারপাশে একবার তাকিয়ে আবার বলল—
এত রাতে তোর রুমে অন্য কেউ আসবে বুঝি?
তার এত সাহস নাকি?
কথাটা বলে সে আরও এক ধাপ এগিয়ে এলো।
আর আমি কি মরে গেছি যে তোর রুমে কোনো পুরুষ মানুষ আসতে দিবো? ইনায়ার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।সে বিশ্বাসই করতে পারছে না।এতক্ষণ যাকে শুধু মনে মনে খুঁজছিল, সেই মানুষটাই এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইনায়া
এক পা..এক পা করে ধীরে ধীরে ইউভির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। তার চোখ দুটো অবিশ্বাস আর আনন্দে চকচক করছে।

— “সত্যি…?”
— “আমার ইউভি ভাইয়া?
অন্ধকারে ইউভির ঠোঁটের কোণে একটা মুচকি হাসি ফুটে উঠল।কিন্তু সেই হাসিটা ইনায়ার চোখে পড়ল না।পরের মুহূর্তেই ইউভি এক ঝটকায় ইনায়াকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল।
ইনায়া হকচকিয়ে গিয়ে দুহাতে ইউভির শার্ট আঁকড়ে ধরল।আর ইউভি নীরবে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
যেন বহুদিনের জমে থাকা অভিমান, অপেক্ষা আর মায়ার হিসাব আজ একসাথেই মিটিয়ে নেবে ইউভি ইনায়ার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
— “আমার একটাই তো তুমি… তোমাকে ছেড়ে যাব কোথায় বলো? আমি যে শুধু তোমাতেই সীমাবদ্ধ, আদর।
ইনায়া ইউভির মুখে তুমি ডাক টা শুনে আরও শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল ইউভি কে ।
— “ইউভি ভাইয়া…”
— “হুম?”
— “আর একটু শক্ত করে ধরেন না।বড্ড ক্লান্ত লাগছে। ইউভি মৃদু হেসে তাকে আরও যত্ন করে আগলে নিল।আমার আদরটা এতটাই ক্লান্ত?”
ইনায়া চোখ বন্ধ করেই মাথা নাড়ল।
— “হুম…”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল—
— “একটু এনার্জির প্রয়োজন।”
ইউভি হেসে বলল আমার কাছে আরও পাওয়ারফুল মেডিসিন আছে।”
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “কি মেডিসিন?”
আদর। যদি বলিস তো আমি এখনি দিতে রাজি আছি। ইনায়া মুচকি হেসে আবার মাথাটা ইউভির বুকের কাছে রেখে দিল।

— “এই মেডিসিনে কাজ হবে তো?”
ইউভি আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল—
— “অবশ্যই হবে।
লন্ডনের গভীর রাত নীরবে তাদের ঘিরে আছে।
দূরের আলো ঝিকমিক করছে, ঠান্ডা বাতাস বইছে।
আর সেই নীরবতার মাঝখানে ইউভি এক এক করে শার্ট এর বোতাম গুলো খুলতে লাগলো। ইনায়া আমতা আমতা করে বললো কি করছেন ইউভি ভাইয়া। ইউভি ইনায়ার দিকে এগোতে এগোতে শার্ট টা খুলে ছুরে মারলো বেলকনিতে তে। ইউভি ইনায়ার কথা না শুনার ভান করে আবারো এগোতে লাগলো ইনায়ার দিকে এক ঝটকায় নিজের কাছে নিয়ে আসলো ইনায়াকে।
আরো কাছে এনে ঘুরিয়ে ফেললো ইনায়ার পিঠ গিয়ে ঠেকলো ইউভির বুকে
ইউভি খুব যত্ন সহকারে ইনায়ার পিঠের চুল গুলো সরিয়ে ঘারে পিঠে গলাই আলতো করে ভালোবাসার পরশ একে দিল।ইনায়া যেন কেঁপে উঠল নিজের টি শার্ট খামচি দিয়ে ধরে আছে।
এই দিকে ইউভির চুমু গুলো ধিরে ধিরে গভীর হতে লাগলো।ইনায়া না পেরে নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করেছে। ইউভি ইনায়ার কে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো প্লিজ আদর নরিস না যদি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকিস তাহলে তোকে চকলেট কিনে দিবো যা।

এর পর ইউভি ইনায়ার পিঠের বা পাসের একটা লাল তিলে ঠৌট ছুয়ে দিয়ে বললো মারাত্মক মায়াবী আমার বউ টা।
তোর শরীরের প্রতি টা অংশ বড্ড মায়াবী।
ইনায়া ইউভির থেকে দূরে সরে গেল।একটু দূরে গিয়ে বললো যদি ভালোবাসি বলেন তাহলে আমি আজ শেহজাদ ইউভি চৌধরী কে সামলানোর দায়িত্ব নিবো।
ইউভি ঠোঁটের কোন দুষ্টু হাসি এনে বললো সুন্দর কথা গুলো যে সুন্দর সুন্দর মূহুর্তে বলতে হয় বিয়াদোব বউ।
এই বলে ইনায়া কে আবার ও বুকের মাঝে জরিয়ে ধরে হটাৎ ইনায়া কে কোলে তুলে নেই ইউভি আলতো করে লাউঞ্জ সোফাটায় ইনায়াকে শুইয়ে দিলো।
এলোমেলো চুল গুলো থেকে সুন্দর একটা সুভাষ ভেসে এলো ইউভির নাকে।
ইউভি এক ঝটকায় ইনায়ার শরীরের থেকে টি শার্ট খু*লে ছুরে ফেললো বেলকনিতে। চাঁদের আলোই মুগ্ধ হয়ে তার বিয়াদোব বউ টা কে মন ভরে দেখছে ইউভি। ইনায়া লজ্জাই ইউভির দিকে তাকাতে পারছে না পাশেই পরে ছিলো ইনায়ার বই সেইটা দিয়ে নিজেকে আরাল করার বৃথা চেষ্টা করছে ইনায়া।
ইউভি আবারো ইনায়াকে এক ঝটকায় নিজের কাছে নিয়ে আসলো কানের কাছে ফিসফিস করে বললো

” ভালোবাসি আদর বড্ড বেশি ভালোবাসি তোকে ভালোবাসার থেকে ও বেশি ভালোবাসি। ”
ইনায়ার ইউভির মুখ থেকে ভালোবাসি কথা টা শুনে ইউভির বুকে মুখ গুজে কান্না শুরু করে দিল।
এর পর ছোট্ট ছোট্ট চুমু একে দিল ইউভির কপালে মুখে ঠোঁটে যখনই ইনায়া ইউভির ঠোঁটে ঠোঁট ছুয়াই ইউভি সাথে সাথে ইনায়ার চুলের পিছনে হাত দিয়ে চুল গুলো মুঠ করে ধরে গভীর ভাবে চুম্বন শুরু করলো। কিছু সময় পর ইউভি ইনায়াকে ছেরে দিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো বাহহহ ভালোবাসি শব্দ টার এতো পাওয়ার আগে জানতাম না জান।
এর পর ইউভি আবারো ইনায়াকে এক প্রাকার ছুরে ফেলে দেই লাউঞ্জ সোফাটায়।বাইরে তখন গভীর রাত।
লন্ডন শহরটা যেন হাজারো আলোর চাদরে মোড়া। দূরের উঁচু উঁচু বিল্ডিংগুলোর জানালায় আলো জ্বলছে, কোথাও আবার রাত জাগা মানুষের ব্যস্ততা এখনও থামেনি।
হালকা ঠান্ডা বাতাস ব্যালকনির রেলিং ছুঁয়ে ভেতরে এসে মিলিয়ে যাচ্ছে।
আকাশে আধখানা চাঁদ।
চারপাশে এক অদ্ভুত শান্ত নীরবতা।

আর সেই নীরবতার মাঝেই ইউভি আর ইনায়া নিজেদের ছোট্ট একটা সুখের জগতে হারিয়ে আছে।
অনেক দিনের অভিমান, অপেক্ষা আর না বলা কথাগুলো যেন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।
ইনায়ার চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গরিয়ে পরলো।
ইউভি খুব যত্ন সহকারে ঠোঁট দিয়ে ছুয়ে দিলো ইনায়ার অশ্রু ভেজা চোখ দুটো।
আর এই দিকে ইউভি
মনে হচ্ছে তার বিয়াদোব বউ টার মধ্যে সত্যিকারের শান্তি খুঁজে পেয়েছে।
ইউভি মাঝে মাঝে ইনায়ার দিকে তাকাচ্ছে, আর মনের ভেতর অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব করছে।
কিছু মুহূর্ত এমন হয়, যেখানে কোনো কথার প্রয়োজন পড়ে না। ইউভি ইনায়ার কানের লতি তে কুটুস করে একটা কামর দিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো জাস্ট টুয়েন্টি মিনিট আদর।
ইনায়া কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো আপনি বড্ড স্বার্থপর স্বার্থের জন্য ভালোবাসি কথাটা বললেন।
না হলে কোনদিন বলতেন না।
ইনায়া আাবারো বললো আপনি অনেক খারাপ লোক আমাকে কষ্ট দেন শুধু। ইউভি নেশালো কন্ঠে বললো।ও রিয়েলি তাহলে আপনি আমার পিঠে ওইগুলো কি করছেন ম্যাডাম।
আদর তুই কথা দিয়েছিস আমাকে তুই সামলে নিবি। ইনয়া আবার কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল বুঝতে পারিনি আপনাকে সামলানো আমার জন্য এতটা কঠিন হয়ে যাবে। ইউভি চিন্তিত কন্ঠে বললো এই বেয়াদব কষ্ট হচ্ছে তোর?

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪১

কি হল বল? ইনায়া কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল হুম।
ইউভি বললো আদর জাস্ট কয়েকটা মিনিট সহ্য কর।ইনায়া পাল্টা উত্তর দিল ছাড়বেন না যখন শুনলেন কেন। ইউভি ঠোঁটের কনে কোণে দুষ্ট হাসি এনে বললো মানবতার খাতিরে এই টুকু শুনতে হয়
হাজার হোক বউটা তো আমারি।
সময় যেন ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে।
চারপাশে শুধু রাতের নীরবতা, ঠান্ডা বাতাস আর দুজন মানুষের মনের গভীরে জমে থাকা ভালোবাসার উষ্ণতা।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here