Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৭

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৭

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৭
সুমাইয়া ইসলাম নূর

ম্যানশন থেকে অনেক দূরে, নিজের অ্যাপার্টমেন্টের অন্ধকার ঘরে একা বসে আছে তিয়া চৌধুরী।
তার সামনে টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে কিছু ফাইল, কয়েকটি ছবি আর একটি ল্যাপটপ।
আজকের অপমানের কথা মনে হতেই তার চোখে আবারও জ্বলে উঠল তীব্র ক্রোধ।কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সে ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভেসে থাকা একটি নামের দিকে তাকাল।তারপর ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
— “খেলা তো মাত্র শুরু হলো, ইনায়া নূর চৌধুরী..কথাটা বলেই সে একটি নম্বরে কল করল।
ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই তিয়া শান্ত গলায় বলল আমার তোমার সাহায্য দরকার।”
ওপাশের মানুষটা কী বলল, সেটা শোনা গেল না।
শুধু তিয়ার চোখের সেই অদ্ভুত হাসিটা আরও গভীর হয়ে উঠল।

গার্ডেন এ রাতের নরম বাতাসে ফুলের মিষ্টি সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে। ফোয়ারার পানির ছলছল শব্দ যেন পরিবেশটাকে আরও শান্ত করে তুলেছে।
ইউভি কফির মগটা টেবিলে রেখে পিয়াসার দিকে তাকাল।গম্ভীর অথচ স্নেহমাখা কণ্ঠে বলল—
— বোনু, এখন কিন্তু তোর অনেক দায়িত্ব।
পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— আমার দায়িত্ব?
ইউভি হালকা হেসে মাথা নেড়ে বলল—
— হ্যাঁ। ASU Company-র CEO-এর Personal Assistant তুই। এটা কোনো ছোট পদ না।
পিয়াসা কাঁচুমাচু মুখে বলল আমি তো এসব চাই না, ভাইয়া। আমি এত বড় দায়িত্ব সামলাতে পারব না।
কথাটা শুনে ইউভির চোখ নরম হয়ে এলো।
সে হাত বাড়িয়ে আদর করে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।শেহজাদ ইউভি চৌধুরীর একমাত্র বোন তুই। তোকে আমি একজন সফল Businesswoman হিসেবে দেখতে চাই।
তারপর রেদওয়ান আর ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল আমি আর রেদওয়ান নিজেদের কোম্পানি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব।

IVA-এর CEO হিসেবেও ইনায়ার দায়িত্ব বাড়বে। তাই ASU-এর দায়িত্ব ধীরে ধীরে তোকে নিতে হবে।
পিয়াসা চুপচাপ শুনতে লাগল।
ইউভি আবার বলল আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি তো আছিই। তোর ভাইয়া সবসময় তোর পাশে থাকবে।কথাগুলো শুনে পিয়াসার চোখ চিকচিক করে উঠল।সে মৃদু হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
এদিকে রেদওয়ান কফির শেষ চুমুক দিয়ে বলল—
— ভাইয়া, আমাকে কিন্তু কাল সকালেই বের হতে হবে।ইউভি তাকাল।
কেন?
— পরশু মালিথাদের সঙ্গে মিটিং আছে। বাবা আর চাচ্চুরা একা সামলাতে পারবে না।ইউভি মাথা নেড়ে বলল হ্যাঁ, সাবধানে যাস।
তারপর একটু থেমে শান্ত গলায় বললো
— আমিও আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরে যাচ্ছি।
আগামী সপ্তাহেই আমার ক্লাস নিয়া শেষ হয়ে যাবে।কথাটা শুনেই ইনায়ার বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।অদ্ভুত এক শূন্যতা যেন তাকে ঘিরে ধরল।তাহলে…

তিনি চলে যাবেন?ভাইয়া ও চলে যাবে?
তাহলে সে আর পিয়াসা দুজন কীভাবে সব সামলাবে?
মনের ভেতরের প্রশ্নগুলো কাউকে বলল না সে।
কিন্তু ঠিক তখনই ইউভি যেন তার মনের কথাই শুনে ফেলল সে পিয়াসার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল চিন্তা করিস না, বোনু। আমরা দূরে থাকলেও তোদের আগলে রাখব।তার কণ্ঠ আরও দৃঢ় হয়ে উঠল। তোদের গায়ে একটা ফুলের টোকাও লাগতে দেব না।ইনায়া বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
লোকটা কি সত্যিই তার মনের কথা বুঝে ফেলে?
নাকি..তার এই বালের শেহজাদা সত্যিই মনের ভাষা পড়তে পারে?
ইনায়ার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।আরও কিছুক্ষণ গল্প করার পর পিয়াসা উঠে দাঁড়াল।আমি রুমে যাচ্ছি ভাইয়া অনেক টায়ার্ড লাগছে আমার ইউভি মাথা নেড়ে হেসে বললো গুড নাইট, বোনু।
পিয়াসা বিদায় নিয়ে ম্যানশনের ভেতরে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর রেদওয়ানও উঠে দাঁড়াল।

— আমারও প্যাকিং করতে হবে। না হলে কাল সকালে বিপদে পড়ব। ঠিক আছে।
রেদওয়ান চলে যেতেই বিশাল গার্ডেনে রয়ে গেল শুধু দুজন।ইনায়া আর ইউভি ফোয়ারার শব্দ ছাড়া চারপাশে আর কোনো আওয়াজ নেই।
অদ্ভুত এক নীরবতা এ নীরবতার মাঝেই ইউভি এক দৃষ্টিতে ইনায়াকে মুগ্ধ হয়ে দেখছে এক সেকেন্ডের জন্য ও চোখের পলক খেলছে না।
ইনায়া বুঝতে পারছে না কী করবে উঠে চলে যাবে?
নাকি বসে থাকবে?
ঠিক তখনই ইউভি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল।
মনে মনে বলল যাক! উনিও তাহলে চলে যাচ্ছেন। এখন অন্তত একটু স্বাভাবিক হয়ে বসে থাকতে পারব।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।ইউভি টেবিলের উপর রাখা নিজের ল্যাপটপটা নিতে এগিয়ে গেল।তারপর হঠাৎ কী যেন মনে হলো।ঝুঁকে এসে এক মুহূর্তের জন্য ইনায়ার ঠোঁট ঠোঁট ছুঁয়ে দিল।ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে ইনায়া বুঝে উঠতেই পারল না।

সে বিস্ফারিত চোখে ইউভির দিকে তাকাল।
আর ইউভি?তার ঠোঁটের কোণে তখন দুষ্টু এক হাসি।ল্যাপটপ হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বললো নেক্সট টাইম থেকে আমার সামনে শার্টের একটা বোতামও খোলা থাকলে বাকি বোতামগুলো আমি নিজ দায়িত্বে খুলে দেব, মিসেস চৌধুরী।
কথাটা বলে সে হাঁটতে শুরু করল।
আর ইনায়া?সে কয়েক সেকেন্ড পাথরের মতো বসে রইল।তারপর হঠাৎ নিজের বুকের দিকে তাকাল।
সত্যিই শার্টের উপরের একটা বোতাম অসাবধানতাবশত খোলা ছিল।মুহূর্তেই তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল।আর পরের মুহূর্তেই মনে মনে হাজার টা গালি দিল।
অসভ্য,নির্লজ্জ, ফাজিল, বেহায়া বালের শেহজাদা একদমই অভদ্রলোক সবসময় সুযোগ খোঁজে!
আল্লাহ, এই মানুষটাকে আমি কীভাবে সহ্য করবো।
কিন্তু মজার বিষয় হলো—

মনে মনে যতই বকাবকি করুক না কেন…
তার ঠোঁটের কোণে তখনও লুকিয়ে ছিল একফোঁটা মিষ্টি হাসি।
ম্যানশনের চারপাশ তখন নিস্তব্ধ। আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য তারা, আর মৃদু চাঁদের আলো এসে পড়েছে ম্যানশনের বারান্দা আর বেলকনিগুলোতে।নিজের রুমের বেলকনিতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে পিয়াসা।
দূরের অন্ধকারে দৃষ্টি স্থির তার।মেয়েটার মন আজ ভীষণ খারাপ।সপ্তাহে মাত্র এক-দুদিন রেদওয়ানকে দেখতে পায়। বাকি সময়গুলো কেটে যায় ফোনে কথা বলে, অপেক্ষা করে আর দিন গুনে।
আর এখন রেদওয়ান চলে যাবে।
ভাবতেই বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠছে।
হঠাৎ পেছন থেকে একজোড়া শক্ত, পুরুষালি হাত এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।অপ্রস্তুত হয়ে কেঁপে উঠল পিয়াসা।পরের মুহূর্তেই পরিচিত সেই স্পর্শ অনুভব করে চোখ বন্ধ করে ফেলল।ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরতেই চোখে পানি জমে উঠল।কাঁদো কাঁদো গলায় বলল এখন কি আমাদের সম্পর্কটার একটা নাম দেওয়ার সময় হয়নি?রেদওয়ান নীরবে তার দিকে তাকিয়ে রইল তার প্রিয়তোমার দিকে।

পিয়াসা আবার বললো আর কতদিন এভাবে লুকোচুরি করে চলবে?একটু থেমে মৃদু স্বরে আবার বললো। ভাইয়া হয়তো সবই বোঝে। কিন্তু আমি নিজে মুখ ফুটে না বলা পর্যন্ত ভাইয়া আমার কাছ থেকে কিছু জানতে চাইবে না।
রেদওয়ানের চোখ নরম হয়ে এলো।
সে ধীরে ধীরে পিয়াসার দুই গাল নিজের হাতের মাঝে নিয়ে বলল খুব দ্রুত তোমার ইচ্ছে পূরণ করব, পিয়াসা জান্নাত চৌধুরী।পিয়াসা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল। রেদওয়ান মৃদু হেসে বলল—
— আমি চাই আমাদের ভালোবাসাটা খুব দ্রুত হালাল একটা নাম পাক।আমি চাই আমার পিহুকে সবার সামনে নিজের বলতে পারি। সবার সামনে ভালোবাসতে পারি,যত্ন করতে পারি, আগলে রাখতে পারি।গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে সে আবার বলল এত লুকোচুরি আর আমারও ভালো লাগে না, পিহু।
কথাগুলো শুনে পিয়াসা কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইল।তারপর আর কোনো দ্বিধা না করে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল রেদওয়ানকে।মাথাটা গুঁজে দিল তার বুকে।ভেজা কণ্ঠে বলল খুব মনে পড়বে তোমাকে…

রেদওয়ান হাসল।আদর করে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।আরে পাগলি, আগামী মাসেই তো তোমরা দেশে চলে আসবে।আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা।পিয়াসা কিছু বলল না।
শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে।
রেদওয়ানের বুকটা কেমন হাহাকার করে উঠল।
সে আলতো করে পিয়াসার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।তারপর বুকের সাথে আগলে নিয়ে ফিসফিস করে বলল আমার পিহু…
পিয়াসা চোখ বন্ধ করে রইল।এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাটা যেন রেদওয়ানের বুক।
আর দুজনেই মনে মনে একটাই প্রার্থনা করল—
আর যেন অপেক্ষা করতে না হয়।খুব শিগগিরই তাদের ভালোবাসা পাক এক সুন্দর, পবিত্র পরিচয়।

পরদিন সকাল।
ঢাকার আকাশটা আজ ঝকঝকে নীল। সকালের নরম রোদ ধীরে ধীরে ব্যস্ত শহরটাকে আলোকিত করে তুলছে।ঢাকার অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক হাসপাতালের আউটডোর বিভাগেও সকাল থেকেই রোগীদের ভিড়।কেউ রিপোর্ট হাতে বসে আছে।
কেউ ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষায়।
আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখে করিডোরে হাঁটাহাঁটি করছে।হাসপাতালের তৃতীয় তলার অপেক্ষাকক্ষে বসে আছেন নাতাশা এহসান।
তার মুখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ।
বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন তিনি।
ডাক্তার রাজিয়া সুলতানার আসার কথা ছিল সকাল নয়টায়।কিন্তু এখন প্রায় দশটা বাজতে চলেছে।অবশেষে বিরক্ত হয়ে তিনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নার্সকে বললেন—

— কী সমস্যা বলতে পারেন? ডাক্তার রাজিয়া সুলতানার আসার কথা ছিল সকাল নয়টায়।
এখন তো দশটা বাজতে চলেছে!আমার বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে বসে আছে, অথচ ডাক্তার এখনও এলেন না কেন?নার্স কিছু বলার আগেই করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল রাজ্য।হঠাৎ এতটা হৈচৈ শুনে সে কয়েক সেকেন্ড থেমে গেল।বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করল।তারপর ভদ্রভাবে এগিয়ে এসে বলল—
কোনো সমস্যা হয়েছে, ম্যাম?নাতাশা আহসান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—
দেখো না বাবা। ডাক্তার রাজিয়া সুলতানার আসার কথা ছিল নয়টায়।এখন দশটা বাজতে চলেছে।
আমার বাচ্চাটা খুব অসুস্থ। পেটের ব্যথায় সারারাত কষ্ট পেয়েছে।রাজ্য শান্ত কণ্ঠে বলল আপনি চিন্তা করবেন না, ম্যাম। হয়তো ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা কোনো জরুরি কাজে আটকে গেছেন।
তিনি নিশ্চয়ই খুব দ্রুত চলে আসবেন।এরপর একটু ইতস্তত করে বলল তবে একটা কথা…
আপনি তো বললেন আপনার বাচ্চা অসুস্থ।

— কিন্তু ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা তো গাইনি বিশেষজ্ঞ। তাহলে অন্য ডাক্তার দেখালে হয় না?
নাতাশা আহসান হালকা বিরক্ত হয়ে বললেন—
— না। আমি রাজিয়া সুলতানাকেই দেখাব।
তারপর হাত তুলে অপেক্ষাকক্ষের একপাশে বসে থাকা মেয়েটার দিকে ইশারা করলেন। ওই যে আমার বাচ্চা।রাজ্য অবাক হয়ে সেদিকে তাকাল।
আর পরের মুহূর্তেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।দূরের চেয়ারে বসে আছে তুবা আহসান।
মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে।এক হাত পেটের উপর চেপে ধরে বসে আছে মেয়েটা।মাঝে মাঝেই ব্যথায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে।
রাজ্যের বুকটা করে কেঁপে উঠল।মনে হলো মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশের সব শব্দ হারিয়ে গেছে।
তার দৃষ্টি শুধু তুবার উপর স্থির হয়ে রইল।
মনে মনে বলল আমার পিচ্চি অসুস্থ?

আর আমি কিছুই জানি না?এত কষ্ট পেয়েছে, অথচ একবারও আমাকে জানায়নি?অদ্ভুত এক অস্থিরতা গ্রাস করল তাকে।অজান্তেই তার পা দুটো
তুভা এখনো রাজ্যকে খেয়াল করেনি।
সে চুপচাপ চেয়ারে বসে আছে। এক হাত পেটের উপর চেপে ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে রাজ্যের বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠেছে।সকালে মেয়েটা তাকে বলেছিল সে ভালো আছে।কিন্তু এখন?এই অবস্থায় হাসপাতালে বসে আছে!রাজ্য আর এক মুহূর্ত দেরি করল না।
দ্রুত ফোন বের করে ডাক্তার রাজিয়া সুলতানাকে কল দিল।কয়েকবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ—

— “জি রাজ্য, কিছু বলবে?”
রাজ্য গম্ভীর স্বরে বলল—
— “আপনি কোথায় আছেন?
— “আমি হাসপাতালের কাছেই। আর পাঁচ মিনিট লাগবে।রাজ্য সঙ্গে সঙ্গে বলল—
— “দ্রুত চেম্বারে আসুন। একজন রোগী আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ইমারজেন্সি। ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা রাজ্যের কণ্ঠের গুরুত্ব বুঝতে পেরে আর কোনো প্রশ্ন করলেন না।
— “আমি আসছি।”
কল কেটে গেল।
কিছুক্ষণ পরই ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন।রাজ্য নাতাশা এহসানের কাছে গিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল আপনারা আগে ভেতরে যান। আমি বলে রেখেছিনাতাশা আহসান কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন।
আর রাজ্যর ভেতরে ভেতরে তার অভিমান বাড়তেই লাগল।মনে মনে বলল সকালে তো বলেছিলে তুমি ভালো আছো। তাহলে মিথ্যে বললে কেন, তিয়া?
আমাকে কি এতটাই পর ভাবো? তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা কষ্ট জমে উঠল।
বেশ কিছু সময় পর সব পরীক্ষার রিপোর্ট চলে এলো। রিপোর্টগুলো হাতে পেয়েই ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা রাজ্যকে ফোন দিলেন।

রাজ্য, একটু চেম্বারে আসবে?রিপোর্টগুলো দেখে যাও।রাজ্য দ্রুত চেম্বারের দিকে এগিয়ে গেল।
চেম্বারে ঢুকেই ডাক্তার রিপোর্টগুলো তার হাতে তুলে দিলেন।রাজ্য মনোযোগ দিয়ে একের পর এক রিপোর্ট দেখতে লাগল।কয়েক সেকেন্ড পর তার টানটান মুখটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এলো।
বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে।
— “আলহামদুলিল্লাহ. আমার পিচ্চির তেমন কিছু হয়নি। শুধু সামান্য একটা সমস্যা হয়েছে।
এরপর ডাক্তারকে বলল আপনি ঠিকমতো গাইডলাইন দিয়ে দিবেন। ও যেন নিজের যত্ন নেয়।”
ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা মুচকি হেসে বললেন—
— “মেয়েটা কে তোমার?”
প্রশ্নটা শুনে রাজ্যের ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।তার চোখে অদ্ভুত কোমলতা নেমে এলো।
কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল—

— “She is my happiness.”
সে আমার সুখ।”
কথাটা শুনে ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা মৃদু হেসে ফেললেন।রাজ্যও হেসে মাথা নিচু করল।
তবে তারা কেউই খেয়াল করেনি—
চেম্বারের কাঁচের দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা তুবা সবকিছুই দেখেছে। তুবা মনে মনে বলল—
“বাহ.. তাহলে এইসব চলছে
কিছুক্ষণ পর একজন নার্স এসে ডাক দিল—”মিস তুভা আহসান? ম্যাম ডাকছেন।।নাতাশা এহসান আর তুভা একসাথে চেম্বারের ভেতরে ঢুকলেন।
ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা রিপোর্টগুলো সামনে রেখে বললেন প ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
কথাটা শুনেই নাতাশা এহসান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।ডাক্তার আবার বললেনঅতিরিক্ত অনিয়ম, স্ট্রেস আর ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করার কারণেই এই সমস্যাটা হয়েছে।”
কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি।।সময়মতো খেতে হবে।”
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নিজের যত্ন নিতে হবে। কথাগুলো বলার সময় ডাক্তার অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে একবার তুবার দিকে তাকালেন।তুবা অপ্রস্তুত হয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল।

ডাক্তার রাজিয়া সুলতানার চেম্বার থেকে বের হওয়ার পরও রাজ্যের চোখ বারবার তুবার দিকেই চলে যাচ্ছিল।তবে ভদ্রতার খাতিরে সে আগে নাতাশা এহসানের কাছে এগিয়ে গেল।
মৃদু হেসে বলল আন্টি, এখন সব ঠিক আছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।নাতাশা আহসান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন—বাবা, তোমার মতো ডাক্তার আমি খুব কম দেখেছি।
রোগীকে নিজের পরিবারের মানুষের মতো যত্ন করো।পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তুবদ মনে মনে বলল—
“মা, বেশি মাথায় তুলো না।”
একবার মাথায় উঠলে আর নামতে চাইবে না এই মানুষটা!রাজ্য এবার তুবার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল— এখন কেমন লাগছে, তুবা?
তুবদ কিছু বলার আগেই নাতাশা এহসান অবাক হয়ে বললেন এক মিনিট!

— তুমি কি আমার মেয়েকে চেনো নাকি?
রাজ্য হেসে উত্তর দিল জি আন্টি আপনার মেয়েকে চিনি আর খুব ভালো করেই চিনি।
সে আমার কাজিন পিয়াসা আর ইনায়ার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
নাতাশা এহসান বিস্মিত হয়ে বললেন—
— কী বলো!
— আগে তো বলোনি!
তারপর তুবার দিকে তাকিয়ে বললেন—
তুইও তো কিছু বললি না!তুবা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।নাতাশা এহসান আবার রাজ্যের দিকে তাকিয়ে বললেন—
যাই হোক বাবা, তুমি সত্যিই অনেক ভালো।
তারপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন—
— তুবা ভালো করে দেখ।ভবিষ্যতে এমন একজন মানুষই হতে হবে তোকে।তুবা লজ্জায় চোখ বড় বড় করে ফেলল।আর রাজ্য?সে ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে তুবার দিকে তাকিয়ে বলল— ইন শা আল্লাহ, হবে আন্টি। আমি তো আছিই ওর পাশে… সবসময়।
কথাটা বলেই থেমে গেল সে।
নাতাশা আহসান ভ্রু কুঁচকে বললেন—

ঠিক বুঝলাম না বাবা!রাজ্য সঙ্গে সঙ্গে কাশতে কাশতে বলল না মানে.. আমি আছি তো, আন্টি।
ওর যদি কোনো সাহায্য লাগে, আমি হেল্প করব।
তুবা ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখল নাতাশা
এহসান মুচকি হেসে বললেন— একদিন আমাদের বাসায় এসো বাবা।রাজ্য ভদ্রভাবে মাথা নেড়ে বলল সময় হলেই আসব, আন্টি। খুব দ্রুতই আসব।
তুবা সঙ্গে সঙ্গে চোখ পাকাল।
চোখের ইশারাতেই বুঝিয়ে দিল—
একদম না।
আরও কিছুক্ষণ কথা বলার পর নাতাশা এহসান সামনে হাঁটতে শুরু করলেন। যাওয়ার সময় বললেন—
— আয় সোনা, চল।
কিন্তু তিনি কয়েক কদম দূরে যেতেই রাজ্য দ্রুত তুবার কাছে এগিয়ে এল।তারপর নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল আন্টির বাচ্চা…

— মিথ্যা কথা বললে কেন? সকালে বলেছিলে ভালো আছো!
আজ বাসায় যাও দেখো কী করি তোমাকে!
তুভা সঙ্গে সঙ্গে চোখ রাঙিয়ে বলল আগে নিজের খবর নিন, ডাক্তার সাহেব। সুন্দরী সুন্দরী রমণী দেখলেই তো খিকখিক করে হাসতে থাকেন!
সেখানেই যান।রাজ্য ভ্রু তুলে বলল—
— হুম…আন্টির বাচ্চা!
— আজ যদি তোমাকে বিয়ে দেই, কালকেই আমার বাচ্চার মা হয়ে যাবে।
— আর এখনো তোমার মা তোমাকে বাচ্চা বলে।
তুভা হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর ফিসফিস করে বলল—
— নির্লজ্জ!
— একদম নির্লজ্জ!
ঠিক তখনই সামনে থেকে নাতাশা এহসানের ডাক ভেসে এলো— তুবা আয় মা!
তুভা তড়িঘড়ি করে সেদিকে হাঁটতে শুরু করল।
যেতে যেতে পেছন ফিরে বলল লুচ্চামি বাদ দিয়ে ভালো মানুষ হন বলছি!রাজ্য হেসে ফেলল।
তারপর দু’হাত পকেটে ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বলল—

— যান, আন্টির বাচ্চা।
— আন্টি ডাকছে।
— আর যা বলার…
— ফোনেই বলব, আন্টির বাচ্চা!
তুবা মুখ গোমড়া করে চলে গেল।
কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসিটা রাজ্যের চোখ এড়াল না।
আর রাজ্য?সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেয়েটার চলে যাওয়া দেখল।মনে মনে শুধু একটাই কথা বলল—
“আমার পিচ্চিট।

রাত অনেকটাই নেমে এসেছে।
ঢাকার ব্যস্ত শহর ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে। দূরের উঁচু ভবনগুলোর জানালায় জ্বলছে অসংখ্য আলো। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে চারপাশে।
এহসান ভিলার সামনে রাস্তার একপাশে নিজের গাড়ির সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজ্য।
চোখ দুটো বারবার উঠে যাচ্ছে ভিলার দ্বিতীয় তলার একটি বারান্দার দিকে।সেখানেই আছে তার পিচ্চি।ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটিয়ে ফোন বের করল সে।কয়েকবার রিং হতেই ওপাশ থেকে তুবার কণ্ঠ ভেসে এলো—
— কী হয়েছে?
রাজ্য স্বাভাবিক গলায় বলল—
— পিচ্চি, নিচে আসো।তুবা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল—
— কেন?
তোমার শরীর ঠিক আছে কিনা দেখতে এসেছি।
তুবা বিরক্ত গলায় বলল আমি ঠিক আছি।

— আপনি বাসায় যান প্লিজ।রাজ্য মৃদু হেসে বলল—
— না পিচ্চি। একবার নিচে আসো।
না হলে আমি নিজেই ভেতরে চলে আসছি।
তুবা চোখ বড় বড় করে ফেলল।আপনি ভুলে ও এ সাহস করবেন না!রাজ্য দুষ্টু গলায় বলল—
— কেন করব না? আন্টি তো আজ নিজেই বলেছেন তাদের বাসায় আসতে।তাহলে কী বলো?
ভেতরে চলে আসব?
তুবা সঙ্গে সঙ্গে দাঁত চেপে বলল—
আপনি একটা সমস্যা!বিশাল বড় সমস্যা!
রাজ্য হাসতে হাসতে বলল পাঁচ মিনিট সময় দিলাম।
তারপর কিন্তু সত্যিই ভেতরে চলে আসব।
বলেই কল কেটে দিল।তুবা হতভম্ব হয়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।এই মানুষটার সঙ্গে তর্ক করে জেতা অসম্ভব।একদম অসম্ভব।
অবশেষে কোনো উপায় না চেঞ্জ করে সুন্দর একটা পারপেল কালারের গাউন পড়ে ধীরে ধীরে রুমের দরজা খুলল সে।নাতাশা এহসান তখন নিজের রুমে।সুযোগ বুঝে তুবা চুপিচুপি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।ভিলার প্রধান দরজা খুলতেই রাতের ঠান্ডা বাতাস এসে মুখে লাগল।আর কয়েক কদম সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজ্যকে দেখে বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।রাজ্য আজ কালো শার্ট আর কালো ট্রাউজারে দাঁড়িয়ে আছে।
দুই হাত পকেটে।মুখে সেই চিরচেনা হাসি।
তুবাকে দেখেই রাজ্যের চোখ জুড়ে যেন প্রশান্তি নেমে এলো।সে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এসে বলল—

— এই তো…
— আমার পিচ্চি।
তুবা চোখ রাঙিয়ে বলল আপনার পিচ্চি না।
— আমি তুবা এহসান।রাজ্য গম্ভীর হওয়ার ভান করে মাথা নেড়ে বলল— ও আচ্ছা।
— তাহলে তুবা এহসান ম্যাডাম, এখন কেমন আছেন?তুবা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল—
ভালো আছি।
— এখন সন্তুষ্ট?
রাজ্য কিছু না বলে কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর কপালের ওপর পড়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে নরম গলায় বলল এখন একটু ভালো লাগছে। কারণ নিজের চোখে দেখে নিশ্চিত হলাম তুমি সত্যিই ভালো আছো।
মুহূর্তেই তুবার সব রাগ যেন কোথাও মিলিয়ে গেল।
তবুও মুখে গম্ভীর ভাব ধরে রেখে বলল—
এত চিন্তা করতে হবে না।
রাজ্য হালকা হেসে উত্তর দিল সেটা তো আর আমার হাতে নেই, পিচ্চি। কিছু মানুষকে একটু বেশি চিন্তা করতে ইচ্ছে করে।

এর পর রাজ্য তোমার হাত ধরে নিয়ে গাড়ির পাশের ছিটে বসিয়ে ফিসফিস করে বললো জাস্ট দশ মিনিট চলো ঘুরে আসি পিচ্চি। মুহূর্তেই এমন ঘটনা ঘটে গেল যে তুবা কিছু বলতে পারল না
কিছু সময় পর তুবা গাড়ি থেকে নেমে চারপাশে তাকাল।তারপর অবাক হয়ে বলল—
— এখানে নিয়ে এলেন কেন?
রাজ্য হালকা হেসে বলল একটু খোলা বাতাসে বসা দরকার।
তুবা চোখ পাকিয়ে বলল মাঝরাতে কি ভূতে ধরছে? আর আপনি আমাকে খুব বেশি আদেশ দিচ্ছেন আজকাল।রাজ্য মুচকি হেসে পাশে হাঁটতে লাগল।ল্যাম্পপোস্টের আলো এসে পড়েছে তুবার মুখে।
মেয়েটাকে পারপেল কালারের গাউন এ আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।এক মুহূর্তের জন্য রাজ্য চুপ হয়ে গেল।
তুভা ভ্রু কুঁচকে বলল এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
রাজ্য দ্রুত চোখ সরিয়ে বলল কিছু না।
— ভাবছিলাম।আমার পিচ্চিটা বড় হয়ে গেছে।
তুবা সঙ্গে সঙ্গে হেসে ফেলল।আবার শুরু করেছেন!
দুজনেই ধীরে ধীরে পার্কের ভেতর হাঁটতে লাগল।
হঠাৎ তুবার পায়ের সামনে একটা শুকনো পাতা উড়ে এলো।সে শিশুর মতো পা দিয়ে পাতাটাকে সরিয়ে দিল।দৃশ্যটা দেখে রাজ্যের অজান্তেই হাসি চলে এলো।তুবা সন্দেহের চোখে তাকাল।
হাসছেন কেন?কিছু না।
এরপর দুজন একটি বেঞ্চে গিয়ে বসল। তুবা হাসতে হাসতে গল্প করছিল, আর রাজ্য মুগ্ধ হয়ে শুধু তুবাকেই দেখছিল।এমন সময় হঠাৎ রাজ্য তুবার দিকে এগিয়ে গেল। তুবা বুঝতে পেরে হেসে বলল—

— না, ডাক্তার সাহেব!
, ডাক্তার সাহেব!
রাজ্য বিস্ময়ের ভান করে বলল—
— কী না?
— আপনি খুব ভালো করেই জানেন আমি কী বলছি।
রাজ্য যখনই তুবাকে নিজের কাছে টানার জন্য কোমরে হাত দিল, তুবা আবার হেসে উঠল। আর যখন রাজ্য মুখটা তুবার মুখের খুব কাছে নিয়ে গেল, তুবা তখনও হাসি থামাতে পারল না।
এরপর রাজ্য একটু রেগে গিয়ে বলল—

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৬

— তোমাকে “পিচ্চি” বলার ফল এখন পাচ্ছি। তোমার মা ঠিকই বলে, তুমি সত্যিই একটা বাচ্চা।
কিছু বোঝো না দেখছি তুবা হাসতে হাসতে বললো তাই নাকি ঠিক তখনই রাজ্য তুবাকে নিজের কাছে টেনে নিলো আলতো করে কপালের ছোট চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে ছোট্ট একটা চুমু একে দিল কপালে।
কানের কাছে ফিসফিস করে বললো দ্রুত বড় হও আন্টির বাচ্চা। এখন নিজেকে সামলে নিয়েছি দ্বিতীয়বার হয়তো নাও পারি।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৪৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here