Home সমাপ্তির ওপাড়ে সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ১১ (২)

সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ১১ (২)

সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ১১ (২)
জাবিন ফোরকান

“ জায়দান? তুমি তোমার আম্মুকে কিছু বলবে প্লীজ? ”
কন্ঠস্বরটি কানে গেলেও জায়দান বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া করলোনা। বিছানার একপাশে বসে কার্পেটে পা রেখে সে জুতোর ফিতা বাঁধতে ব্যস্ত। পায়ে পায়ে কক্ষে প্রবেশ করলো সাবিন। ভ্রুজোড়া কুঁচকে আছে সামান্য, তাতে বিতৃষ্ণার ছাপ। পরনের শাড়িটা ভাঁজ খুলে খানিকটা অদ্ভুতুড়ে দেখাচ্ছে, রমণীর শাড়ি পড়ার অভিজ্ঞতা নেই স্পষ্ট।
স্বামীকে নির্লিপ্তভাবে ফিতা বাঁধায় মনোযোগী দেখে সাবিন সামনে এগোলো।
“ আমি কিছু বলেছি তোমাকে, শুনতে পাওনি?”
জায়দান মুখ তুলে তাকালোনা। শুধু সুস্থির প্রশ্ন করলো,

“ কি হয়েছে?”
“ তুমি জানোনা কি হয়েছে? বাসায় মেহমান, আর তোমার আম্মু সবার সামনে আমাকে ডাকছে সাবিনা বলে। মানছি, আমার নামটা একটু অদ্ভুত, আমার নিজেরও বিশেষ পছন্দ নয় কিন্তু তাই বলে আমার ড্যাডের শখ করে দেয়া নামটা পরিবর্তন করে দেবে? আবার বলছে সাবিন শুনলে হাস্যকর লাগে, জায়দান, আম্মু এমনিতে বাসায় এমন করত ইটস ফাইন, আমি চুপ ছিলাম কিন্তু মেহমানের সামনে কেন?”
কোনো উত্তর করলোনা জায়দান, শুধু নীরবে শুনে গেলো। সাবিন শাড়ির আঁচল টেনে সামনে এসে মুখ ভার করে জানালো,
“ উপরন্তু শাড়ি পরতে পারিনা বলে অপমান করেছে। আমি নাকি ব্যাটা মানুষের চেয়েও অধম। ”
“ ছোটখাট বিষয় শুধু শুধু গায়ে লাগাচ্ছ কেন?”
সাবিন স্তব্ধ হয়ে গেলো স্বামীর কথা শুনে। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো খানিকক্ষণ। তারপরই মুখটা সামান্য লাল বর্ণ ধারণ করলো তার,

“ ছোটখাট? জায়দান এসব তোমার কাছে ছোটখাট বিষয় মনে হচ্ছে? একটা জিনিস আমার পছন্দ নয়। তারপরও বারবার একজন মানুষ আমি মানা করা সত্ত্বেও করতে থাকবে, আর আমি শুধু গুরুজন বলে জ্বি ম্যাডাম বলে মুখ বুঁজে সব মেনে যাব? প্লীজ, আই অ্যাম নট ইওর টিপিক্যাল বোনলেস ওয়াইফ!”
জায়দান কোনো প্রতিক্রিয়া করলোনা। বিছানা ছেড়ে উঠে নিজের স্যুট জ্যাকেট তুলে গায়ে জড়ালো। পকেটে ওয়ালেট এবং রুমাল ঢুকিয়ে নিতে নিতে বলল,
“ গুরুজনেরা অনেক কিছুই বলে, সবকিছু নিজের গায়ে মাখতে নেই। ”
“ হেল উইথ গায়ে মাখতে নেই। আমি তোমার মতন না, আশ্চর্য্য! আমার গায়ে লাগে! বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে আমার শাড়ির কুচি ঠিক হয়নি বিধায় চোদ্দ কথা বললে আমার গায়ে লাগে! আমার ড্যাডের দেয়া শখের নাম বদলে ভিন্ন নামে ডাকলে আমার গায়ে লাগে! সারাটা সকাল খেটে রান্নাঘরে ইউটিউব দেখে পায়েস বানানোর পর সামান্য চিনি বেশি হওয়ার দরুণ কাউকে খেতে না দিয়ে ফেলে দিতে বললে আমার গায়ে লাগে জায়দান! ”
সাবিন কাঁপতে কাঁপতে বললো। দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে সে নিজের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে। জায়দান সদা নির্লিপ্ত। এবারেও খুব একটা ব্যতিক্রম ঘটলো না। ড্রেসিং টেবিল থেকে ‘ক্রিড আভেন্টাস’ পারফিউমের কালো বর্ণের বোতলটা তুলে হাতের কব্জি এবং ঘাড়ে খানিকটা স্প্রে করে সে বললো,

“ আম্মুর কথায় কষ্ট পেওনা। ”
সাবিন নির্বিকার স্বামীর পানে হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো। ভাবলো, একটা মানুষ এতটাও অনুভূতিহীন হয়? এটা কি স্রেফ উদাসীনতা নাকি উপেক্ষা? জায়দান বুঝি সাবিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব টের পেলো। তাই পায়ে পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়ালো স্ত্রীর সামনে। দুহাতে আলতো করে ধরলো তার মুখ।
“ তোমাকে শাড়িতে যথেষ্ট সুন্দর লাগছে। কারো কথায় কান দিতে হবেনা তোমায়। কেমন? ”
সাবিনের চোখজোড়া চিকচিক করে উঠলো অব্যক্ত অনুভূতির তোড়ে, জায়দানের হাতের উপর নিজের ছোট দুখানা হাত চেপে সে অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করলো,
“ তুমি এরপরও তোমার আম্মুকে কিছু বলবেনা, জায়দান?”
“ সে আমাদের গুরুজন। ”
“ গুরুজন সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। ”
জায়দান উত্তর না করে ঝুঁকে এলো। সাবিনের কপালে স্নেহের চুমু এঁকে দিয়ে নরম গলায় জানালো,
“ আজ আমি ভার্সিটি থেকে আসার সময় তোমার জন্য কাচ্চি নিয়ে আসবো, কেমন? বি গুড হোয়েন আই অ্যাম গন, মাই ওয়াইফ। ”
সাবিন আর কিছুই বললোনা। শুধু স্থির চেয়ে দেখলো জায়দানকে। বিদায় বিনিময় করে যে একেবারে নির্বিকার নিঃশব্দে ল্যাপটপের ব্যাগ হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।

বর্তমান।
রাত্রির গভীর নৈঃশব্দ্য চারপাশে। অদূর থেকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছে। আকাশটা মেঘে আচ্ছন্ন বোধ হয়। চাঁদের দেখা নেই। ডিসেম্বরের শীত গায়ে লাগছে ভীষনভাবে। তবুও বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে থাকা জায়দানের শুধুমাত্র একটা পাতলা টি শার্ট গায়ে থাকা সত্ত্বেও বিশেষ হেলদোল নেই। ডান হাতটার আঙুল এবং হাতের তালুর সংযোগস্থলজুড়ে ব্যান্ডেজ। বাঁধতে ব্যস্ত মিসির। চশমাহীন বাদামী দৃষ্টি মেলে সুস্থির দেখে যাচ্ছে জায়দান।
ব্যান্ডেজ প্যাঁচানো সমাপ্ত করে সোজা হয়ে বসে নিগূঢ় এক অভিমানী দৃষ্টিতে বন্ধুর দিকে তাকালো মিসির। তার গভীর কালো চোখের মাঝে ঘূর্ণিপাক খেলে যাওয়া অসংখ্য প্রশ্ন অনুধাবনে জায়দানকে হিসাব কষতে হলোনা। তবুও সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কোনো বালাই প্রকাশ করলোনা সে। বরং চেয়ারে হেলান দিয়ে নিজের কপালে আঙুল ঘষে ক্লান্ত চোখজোড়া বুঝে নিলো।
অসম্ভব নির্লিপ্ত আচরণে মিসির সত্যিই ক্ষেপে গেলো এবার। অযাচিত জোরালো আওয়াজে খেঁকিয়ে উঠলো,
“ ডেটিং করিস এক মেয়েকে, তার জন্য আবার প্রতি ডেটে ডেটে উপহার রেডি করতে বিনা মজুরিতে আমায় কামলা রেখেছিস, এখন আবার মাতাল এক্স ওয়াইফকে কোলে নিয়ে গভীর রাতে হাজির হয়েছিস। ব্রো! তোর অতিরিক্ত বুদ্ধিসম্পন্ন মাথার ভেতর কি চলছে সেটা যদি এই অধম বুদ্ধিহীনকে বোঝাতিস!”
“ এক কাপ কফি দিবি, প্লীজ? ”
“ না! নো কফি আন্টিল আই গেট মাই আনসার!”

জায়দান চেয়ারের প্রান্তে মাথা ঠেকিয়ে নীরবে বারান্দা দিয়ে নিকষ কালো আকাশের পানে চেয়ে রইলো। তাতে গজগজ করতে করতে উঠে গেলো মিসির। কিছুক্ষণ বাদে ফিরে এলো দুটি জিনিস নিয়ে। এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক কফি এবং একটা পাতলা ব্ল্যাংকেট। ব্ল্যাংকেট জায়দানের গায়ে ছুঁড়ে দিয়ে কফির মগ ঠাস করে ছোট টেবিলের উপর রেখে ধপাস শব্দ তুলে সে বসে পড়লো নিজের চেয়ারে। সদা নির্বিকার প্রফেসর কম্বলটি গায়ে জড়িয়ে ঝুঁকে কফির মগ হাতে নিলো। দীর্ঘ এক চুমুক দিলো নিঃশব্দে।
“ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, জায়দান। তোর এক্স ক্লাবে গিয়েছে বেশ করেছে। তাতে তোর কি যায় আসে? তুই এখনো কেন অতীত নিয়ে পড়ে আছিস? এদিকে আবার আন্টি যাকে দেখেছে, তাকেও হাতে রাখছিস। ইউ আর মুভিং অন, ইটস কমপ্লিটলি ফাইন। বাট হোয়াই দ্যা পাস্ট ম্যান?”
জায়দান নিশ্চুপ। কফির মগে চুমুক দিয়ে যাচ্ছে সে। মিসির খানিকটা সামনে ঝুঁকে এলো। অসম্ভব শান্ত গলায় শুধালো,

“ কিছুদিন পর তোর নতুনভাবে বিয়ে হয়ে গেলে তখনো কি সাবিনের কাছে এইভাবে ধরা দিবি? যার সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে, তার কাছে এত কিসের দায়িত্ববোধ তোর? ”
“ অপরাধবোধ। ”
একটা শব্দের নির্লিপ্ত জবাব। অনুভূতিহীন শুষ্ক কন্ঠস্বর। তবুও মিসির থমকালো। এই বন্ধুটিকে একদম ছোটবেলা থেকে চেনা তার। আর পাঁচটা মানুষের কাছে যা মনে হয় অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য, সেটাই তার কাছে ধরা দেয় অব্যক্ত অনুভূতি হয়ে। অবাক হলেও সত্য, জায়দান নামক মানুষটার অব্যক্ত অনুভব মিসির বুঝতে পারে। সেটাকে শব্দে রূপান্তরের দরকার হয়না। আর একমাত্র মিসিরই আছে, যার সামনে জায়দান নিজের ভাবনার দুটো কথা বেশি বলে। বন্ধুত্ব সম্পর্কটাই হয়ত তেমন ভরসার, তাইনা?
“ কিসের অপরাধবোধ? ডিভোর্স ও চেয়েছিল, তুই সেধে সেধে দিসনি। ”
জায়দান নিরুত্তর। মিসির চেয়ারে শিরদাঁড়া টানটান করে বসে আবারো বললো,
“ সাবিন যেভাবে চেয়েছে, সবকিছু সেভাবেই হয়েছে। তাহলে তোর এত গিল্টিনেস আসে কোথা থেকে? তুই তো সবসময় নির্বিকারই ছিলি। ”

“ যদি নির্বিকার না থাকতাম, তাহলে হয়ত সংসারটা টিকে থাকতো। ”
একটা বাক্য। খুবই সংক্ষিপ্ত জবাব। অথচ এই বাক্যের পিছনে থাকা অগাধ শব্দদের বুঝে নিতে বেগ পোহাতে হলোনা মিসিরকে।
জায়দান কফি শেষ করে মগ হাতে নিয়েই উঠে দাঁড়ালো। লম্বাটে অবয়বের প্রশস্ত কাঁধ বেয়ে কম্বল চেয়ারের উপর খসে পড়লো। চশমা ছাড়া তার চোখ দুটো অন্যরকম মায়াবী লাগছে। স্থির চেয়ে রইলো মিসির সেই পানে। ওই বাদামী দৃষ্টির আড়ালে লুকায়িত কতশত গল্প, অনুভূতি! যা দৃষ্টির বাহক বাদে গোটা পৃথিবীর অজানা।
“ সাবিন আমাকে মায়া করে, আমি ওকে দয়া করি। না থাকার মাঝে যদি এতটুকু থাকে, তবে ক্ষতি কি?”
উল্টো ঘুরল জায়দান। ধীরে ধীরে লম্বা পা ফেলে বেরিয়ে গেলো বারান্দা থেকে। সেথায় একা বসে রইলো মিসির। শনশন হাওয়া সমস্ত শরীরে কাটা খেলিয়ে দিলো। একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললো প্রফেসরের বন্ধু। আপনমনে অত্যন্ত হতাশা নিয়ে ভাবলো,
মস্ত বড় দুজন আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছে সে।

পরদিন সকাল।
গতকাল রাতের কথোপকথনের পর থেকে কেমন যেন ভাবুক দেখাচ্ছে মিসিরকে। ছেলেটা পেশায় আর্কিটেকচার হলেও মনোবিজ্ঞানের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। মাঝে মধ্যেই এমন ভাবুক হয়ে আকাশ কুসুম কি যেন কল্পনা করতে থাকে। আজও হয়ত তেমনি একটি দিন।
রাত্রিবেলায় একফোঁটা ঘুম না হওয়া সত্ত্বেও উভয় পুরুষ সাতটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কিচেনে হাজীর হলো। দুজনকেই কাজে যেতে হবে। দ্রুতহাতে জিঞ্জার ব্রেড আর ইনস্ট্যান্ট স্যুপ তৈরি করছে মিসির। জায়দান কফি মেশিনে নতুন করে কফি বিন দিয়ে কফি তৈরীতে ব্যস্ত। তখনি টেবিলের উপর পড়ে থাকা সাবিনের মোবাইল ফোনটা নজরে এলো তার। গত রাত থেকে ওটা বন্ধ, চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে। হুশজ্ঞান না থাকায় সাবিন জানেও না কিছু। জায়দান হাত বাড়িয়ে ফোনটা নেড়েচেড়ে দেখে মিসিরকে জিজ্ঞেস করলো,
“ চার্জার আছে এই মডেলের? ”
“ পাওয়ার ব্যাংক আছে ওই ড্রয়ারে, দেখ। ”
জায়দান হেঁটে গিয়ে একপাশের কেবিনেটের ড্রয়ার থেকে পাওয়ার ব্যাংক এবং ক্যাবল বের করে নিলো। সাবিনের ফোনটা চার্জে দিয়ে অন করে রাখলো কিচেন টেবিলের উপর। ততক্ষণে নাস্তা বেড়ে ফেলেছে মিসির। আড়চোখে সে গেস্ট স্পেসের দিকে তাকালো।

“ ওকে ডাকবি না? ”
চেয়ার টেনে বসে জায়দান মাথা নেড়ে জবাব দিলো,
“ আরেকটু ঘুমাক।”
মিসির চেয়ারে বসলো। উভয়ে নিঃশব্দে কিছু খেয়েছে কি খায়নি এমন মুহূর্তেই হঠাৎ করে রীতিমত রুম কাঁপানো সঙ্গীত।
সময় পাইলে টাংকি মারতে আইও ও বন্ধু গো~
টেবিলের উপরে তীব্র রিংটোনের শব্দে লাফিয়ে উঠলো ফোন। সদ্য কিচেন টেবিলে বসা উভয় পুরুষ তাতে জমে গেলো। জায়দানের হাতের ব্ল্যাক কফির মগ ঠোঁটের সামনে থেমে গেলো, মিসিরের হাতের কাঁটাচামচ মুখের বদলে শাই করে ঢুকে গেলো নাকের ভেতর। জোরালো হাঁচি দিয়ে উঠলো বান্দা। রিংটোন আরো জোরালোভাবে বেজে যাচ্ছে,
আমার যৌবন গাছে ফল ধইরাছে
মজা কইরা খাইও~
জায়দান ক্ষীপ্র হাত বাড়িয়ে ফোনটা ধরতে গেলো ঠিক তখনি,
“ ইয়া!!!!”

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের মতন আওয়াজ। ফ্লোর কাঁপানো দৌরাত্ম্য। টর্নেডোর গতিতে আবির্ভূত হলো সাবিন। গেস্ট স্পেসের দরজা খুলে রেসিং কারের গতিতে ছুটে এলো সে, আরেকটু হলে বুঝি দরজাটা উপড়েই ফেলত! দিগ্বিদিক জ্ঞান ভুলে উড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল সে টেবিলের উপর। জায়দানের হাতটা প্রবলভাবে খামচে ধরে নিজের ফোনটা বুকে চেপে ধরলো। অতঃপর মোক্ষম এক পিছল খেয়ে উল্টে পড়লো সে মেঝেতে।
ধপাস!
ফোনটা বাউন্স হয়ে পার্টস বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে গেলো মেঝেতে। আর মুখ থুবড়ে হাত পা মেলে মেঝেতে চিৎপটাং সাবিন। মিসির হাঁচি দিতে দিতে শেষ। তার মাঝেই কোনমতে বললো,

সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ১১

“ এটা…হ্যাচ্চু…কোন গ্রহের…হ্যাচ্চুহ… রিংটোন? ”
সাবিন মাথা চেপে ধরে ওই অবস্থাতেই শুধু একটি লজ্জাজনক নিঃশ্বাস ছাড়তে সক্ষম হলো।
“ মীরা একটা ঢিলা! ফোন দেয়ার আর টাইম পাসনি তুই শালীর ঝি! ”
গুঙিয়ে উঠলো সাবিন।
এতকিছুর মাঝে যা কেউ খেয়াল করলো না তা হলো গম্ভীর প্রফেসরের ঠোঁটজুড়ে প্রস্ফুটিত হওয়া এক ক্ষীণ হাসির রেখা। ঠিক যেমন করে আকাশে ভাসে একফালি চাঁদ, তেমন করে তার ঠোঁটে ভাসলো এক টুকরো অদেখা হাসি, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য।

সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here