সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ৫৭
জাবিন ফোরকান
সাবিনের বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হলো আজ। পরিশ্রান্ত শরীর সামলে ভেতরে ঢুকতেই ন্যানির সঙ্গে দেখা হলো। মহিলা সময় ব্যয় না করেই জানালো,
“জারিন আজ অনেক কান্নাকাটি করেছে। স্যারের পাশে ঘুমিয়ে গিয়েছে। কিছু খাওয়াতে পারিনি।”
বুকের ভেতরে চাপা হাহাকার হলেও সাবিন ন্যানির সামনে সেটা প্রকাশ করলোনা। বললো,
“ঠিক আছে। আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি এখন আসতে পারেন।”
ন্যানি মাথা নেড়ে নিজের ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেলো। তার রুটিন অনুযায়ী সে আবার আগামীকাল সকালে আসবে এবং সাবিন ফেরা অবধি জারিনের সঙ্গে থাকবে।
সাবিন প্রথমটায় নিজের রুমে গিয়ে একটা গোসল সেরে পোশাক বদলে কিচেনে এলো। লম্বা চুলগুলো কাটা দিয়ে বাঁধতে বাঁধতে ওভেনে খাবার গরম করতে দিলো। সবকিছু হয়ে গেলে ট্রেতে সাজিয়ে নিয়ে নীরবে হেঁটে গিয়ে পৌঁছালো দুই তলায়। আজ কক্ষটির দরজা আধখোলা। সেখান থেকে অতি মৃদু যান্ত্রিক গুঞ্জরণ ভেসে আসছে। ভেতরে ঢুকতেই অসাধারণ দৃশ্যটি দেখতে পেলো সাবিন।
বিছানায় শুয়ে থাকা জায়দানের বুকের উপর চুপটি করে গুটিশুটি দিয়ে ঘুমের জগতে বিচরণ করছে জারিন। ছোট্ট শরীরটা তার পিতার সঙ্গে যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। দৃশ্যটা অসাধারণ ভালো লাগার। এতটাই আবেগী যে সাবিনের চোখে অশ্রু জমলো। সেই দিনটার কথা মনে পড়লো তার….
জারিনের বয়স আজ তিনদিন।
মীরা এবং একজন নার্সের সাহায্যে হেঁটে ধীরে ধীরে হাসপাতালের কেবিনে প্রবেশ করলো সাবিন। তার কোলে নবজাত অংশ। নরম কাপড়ে ছোট্ট শরীরটা মোড়ানো আছে।
হাসপাতালের কেবিনজুড়ে ঔষধের ঘ্রাণ। হার্টবিট মনিটর বিপ বিপ করে শব্দ করে যাচ্ছে। বিছানায় শুয়ে আছে জায়দান। মাথায় চুল প্রায় নেই বললেই চলে। যে মাথার চুলে হাত বুলিয়ে সাবিন দিন পার করেছে, তাই আজ হারিয়েছে জটিল চিকিৎসার কারণে। কন্ডিশনাল কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে জায়দানকে। এখনো শরীর ঠিকঠাক সেরে উঠতে পারেনি। ভগ্ন পুরুষটিকে গভীর ঘুমে ঐভাবে পরে থাকতে দেখে বুকের ভেতরটা সহস্রবারের মতন ভাঙলো সাবিনের। গোটা প্রেগন্যান্সি এবং ডেলিভারির সময়েও যে কষ্ট অনুভূত হয়নি, তাই বোধ হয় অনুভূত হচ্ছে এখন।
সাবিন সাবধানে এগিয়ে গেলো বিছানার কাছে। একজন নার্স জায়দানের অবস্থা মনিটরিং করছিল। সাবিনকে দেখে নরম গলায় সে জানালো,
“উনি হয়ত প্রতিক্রিয়া করছেন না, কিন্তু ওনার সেন্স আছে। আপনি চাইলে ওনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতে পারেন।”
সাবিনের সঙ্গে আসা নার্স এগিয়ে এসে সেই নার্সকে বললো,
“উনি ওনার সন্তানকে দেখাতে এসেছেন। আমি স্কিন টু স্কিন রেকমেন্ড করেছি। কিছুক্ষণ থাকলে সমস্যা আছে?”
“না। একদমই সমস্যা নেই।”
বলে নার্স জায়দানের দিকে এগোলো। সাবধানে তার পরনের হাসপাতালের পোশাকের বোতামগুলো খুলে বুক উন্মুক্ত করলো। সাবিন বিছানার একপাশে বসলো। তার কোলে জারিন ততক্ষণে নড়চড় করতে আরম্ভ করেছে। ছোট্ট মুখটা টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে। যেকোনো সময় তীক্ষ্ণ কান্না করার ধান্দায় আছে। নার্স সাবিনকে সাহায্য করলো,
“এইযে এভাবে। ওনার বুকে রাখুন। স্কিন টেম্পারেচার বাবুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। ত্বকের সংস্পর্শ নবজাতকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা তাদের পিতা মাতাকে চিনতে এবং বন্ডিং তৈরিতে খুব সাহায্য করে।”
সাবিন ধীরে ধীরে জারিনের ছোট্ট শরীরটা জায়দানের বুকের উপর রাখলো। সবেমাত্র কাঁদতে শুরু করা জারিন এবার নড়েচড়ে উঠলো। সাবিন তার পিঠে হাত চেপে ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বললো,
“হুশ, বেবি। এইযে দেখো, কোথায় আছো তুমি বলো তো? তোমার পাপ্পা, হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ। এইযে তোমার পাপ্পা, তার ত্বক কত উষ্ণ তাইনা? তার বুক অনেক নিরাপদ। শুধু তোমার, শুধু আমার। তোমার পাপ্পা শুধু আমাদের দুজনের।”
জারিন হঠাৎ করেই নড়াচড়া বন্ধ করে দিলো। জায়দানের বুকের উষ্ণতা তাকে শান্ত করে ফেললো সম্পূর্ণ। পিটপিট করে চোখ মেলল নবজাতক। বাদামী টলটলে দৃষ্টিতে যেন এক অভূতপূর্ব বিস্ময়। চুপটি করে পিতার বুকে লুকিয়ে সে তার হৃদস্পন্দন শুনতে লাগলো যেন। দৃশ্যটি এতটাই আবেগের যে অদূরে দাঁড়ানো মীরা আড়ালে নিজের চোখে জমা অশ্রু মুছে নিলো।
মেয়ে শান্ত হয়ে আসতেই সাবিন একটি হাত বাড়িয়ে জায়দানের কপাল ছুঁয়ে দিলো। অতি যত্নে সে হাত বোলাতে লাগলো স্বামীর শরীরজুড়ে। আবেগ জড়ানো গলায় বলতে লাগলো,
“মাই লাভ? শুনতে পাচ্ছো তুমি আমায়? অনুভব করতে পারছো? বলো তো, তোমার বুকে কে শুয়ে আছে? হুম, ঠিক ধরেছ। আমি জানি, তুমি সব টের পাচ্ছো। আমাদের অংশ এই পৃথিবীতে চলে এসেছে। জানো? ও একদম তোমার মতন দেখতে হয়েছে। ঠিক তোমার মতন নাক, তোমার মতন ঠোঁট, তোমার মতন বাদামী চোখ। একদম তোমার ফটোকপি ভার্সন।”
হালকা হাসলো সাবিন। ধীরলয়ে উঠানামা করছে জায়দানের বুক। সঙ্গে জারিনও। নাজুক শরীরটা গুটিশুটি দিয়ে লেপ্টে আছে জন্মদাতার সঙ্গে। যেন একই সত্তার অংশ সে।
“ওর নাম কি রেখেছি জানো? জারিন। জায়দান আর সাবিনের জারিন। সুন্দর না? দেখো। তোমার বুকে কেমন চুপটি করে পরে আছে ও! তোমার বুকে অনেক শান্তি জায়দান। তোমার আমার সন্তান সেই শান্তিতে মজেছে। ও বুঝে গিয়েছে, কার অংশ ও। কত নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে ও তোমার মাঝে! একবার চোখ খুলে দেখো? একটাবার ওকে ছুঁয়ে দেখো কি ভয়ানক নাড়ির টান!”
কোনো প্রতিক্রিয়া হলোনা। একদম নিথর এক অস্তিত্ব। শুধু নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে বুক ওঠানামা করছে জায়দানের। সাবিন এবার আর সইতে পারলোনা। তার দুচোখ বেয়ে নীরব অশ্রু গড়িয়ে টপটপ করে ঝরতে লাগলো জায়দানের গালের উপর। তার একটি হাত ধরে নিজের ঠোঁটে ছুঁয়ে সাবিন কেঁদে ফেললো,
“আমাদের সন্তানও আমার কাছে চলে এলো, তুমি কবে আসবে প্রিয়তম? তোমায় ছাড়া আজ কতগুলো দিন পেরিয়ে গিয়েছে! আমি সব পেয়েছি শুধু তোমায় ছাড়া! তুমি ছাড়া যে আমার একটুও চলবে না। এসো না তুমি, প্লীজ? আমার কাছে ফিরে এসো? আমি তোমায় আশায় পথ চেয়ে আছি কত দিন! তুমি তো জানো, তুমি ছাড়া আমি কেউ না! আমার সবকিছুই তো তুমি। আমার আশ্রয়, আমার সংসার, আমার পৃথিবী, তোমার আমার জন্য একটুও মায়া হয়না? ওঠো না, একবার? ফিরে এসো না আমার বুকে!”
হঠাৎ করে মনিটরের বিপ বিপ শব্দটা জোরে হতে লাগলো। সকলে চমকে উঠলো। নার্স দ্রুত মনিটর পর্যবেক্ষণ করে বললো,
“পেশেন্টের হার্টবিট বেড়ে গিয়েছে।”
ছলছল চোখে মহা বিস্ময় নিয়ে সাবিন দেখলো সেদিন, কীভাবে জারিনকে বুকে নিয়ে দ্রুতভাবে ছন্দিত হচ্ছিল জায়দানের হৃদযন্ত্র।
বর্তমানে ফিরে আসতেই সাবিনের বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস নির্গত হলো। জায়দান এরপরে বেশ কয়েকবারই প্রতিক্রিয়া করেছিল। কখনো তার আঙুল নড়তে দেখা যায়। সাবিন তাকে দুবার চোখ খুলতেও দেখেছে। কিন্তু চোখ খুললেও সেই চোখের মাঝের দৃষ্টি খুবই নিষ্প্রভ। কোনদিকে তাকায় না সে, কারোর উপস্থিতি টের পায়না। একনাগাড়ে নিষ্পলক চেয়ে থাকে সিলিংয়ের দিকে। চোখে কোনো ফোকাস থাকেনা। তারপর আবার আগের মতোই চোখ বুঁজে ফেলে সে। এটাই মিনিমাল কনশাস স্টেট। জায়দান সবার মাঝে থেকেও কোথাও নেই।
সাবিনকে দেখে নার্স একপাশের রকিং চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো।
“আপনি যান, বিশ্রাম নিন রুমে কিছুক্ষণ। আমি আছি আজ রাতে।”
নার্স সাবিনের কথা শুনে মাথা হেলিয়ে চলে গেলো। ভেতরে ঢুকে জায়দানের বুকে শুয়ে থাকা জারিনকে সামান্য ঠেলে তুললো সাবিন।
“মামণি? ঘুমিয়ে গিয়েছ? এইযে দেখো, মাম্মাম খাবার নিয়ে এসেছে। খাবে না তুমি?”
জারিন সামান্য নড়েচড়ে উঠে অতঃপর চোখ পিটপিট করে তাকালো। মুচকি হেসে মেয়ের দিকে এক বাহু বাড়িয়ে দিতেই জারিন তরতর করে সাবিনের কোলে উঠে গেলো। তার মাথায় চুমু খেয়ে সাবিন ফিসফিস করলো,
“এইতো, আমার ভালো বাচ্চাটা। আসো, তোমার মুখ ধুইয়ে দেই।”
বাথরুমে গিয়ে জারিনের মুখ ধুতে ধুতে সাবিন শুধালো,
“আজ আমার পাখিটা এত্ত কান্না করেছে কেন? কেউ তোমাকে বকেছে?”
জারিন মাথা নাড়লো। তারপর খলখলে গলায় বললো,
“জা-ইন তবাইকে বকেচে! আপ্পা কেলবে জা-ইনের সাতে। আপ্পা জা-ইনকে কুব বালোবাতে, তাইনা মাম্মাম?”
সাবিনের কেমন অনুভূতি হলো সে বোঝাতে পারবেনা। জারিনের মুখটা মুছিয়ে নিয়ে ঘরের ভেতর ফিরে আসতে আসতে সে বললো,
“একদম। আপ্পা জারিনকে খুব ভালোবাসে। জারিন আপ্পার বেবি না?”
জারিনকে পুনরায় বিছানায় বসিয়ে দিলো সাবিন। তারপর খাবারের প্লেট নিয়ে মেয়ের পাশে বসলো।
“এইযে দেখো। আপ্পা কি সুন্দর করে এখানে ঘুমিয়ে আছে। তুমি আপ্পার কাছে এসে ঘুমাও, তাকে জড়িয়ে ধরে থাকো, সারাক্ষণ তার মুখে চুমু দিতে থাকো, আপ্পা কখনো তোমায় বকেছে?”
খাবার খেতে খেতে জোরে শোরে মাথা নাড়ল জারিন।
“এইতো। আপ্পা তোমাকে অনেক ভালোবাসে। দেখবে, একদিন আপ্পা ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছে। সেদিন সারাক্ষণ তোমার সাথে খেলবে সে। তোমায় বুকে নিয়ে বসে থাকবে।”
জারিনকে এবার বেশ খুশি দেখালো। যেন মনে মনে ছক সাজাচ্ছে সে, তার পিতা জেগে উঠলে সে তার সঙ্গে কি কি করবে। একনজর জায়দানের বন্ধ চোখের পাতায় দৃষ্টি পড়লো সাবিনের। নতুন করে বিষাদ গ্রাস করলো তাকে। তবে মেয়ের সামনে সে বিষাদটুকু চাপা দিয়ে দিলো।
খাবার প্রায় শেষের দিকে জারিন হঠাৎ করে সাবিনের কাছে একটা অদ্ভূত প্রশ্ন করে বসলো।
“মাম্মাম। তুমি আপ্পাকে নিয়ে দাইলিতে কি লিকতো?”
জমে গেলো সাবিন। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো মেয়ের দিকে।
“ডায়েরী?”
“হু। জা-ইন দেকেতে, তোমাল লুমে, তেবিলের উপল।”
প্রথমটায় সাবিন কোনো প্রতিক্রিয়া করতে পারলোনা। পরমুহুর্তে মৃদু হেসে শুধালো,
“আচ্ছা। আমার সোনাটা দেখে ফেলেছে? কি দেখেছ তুমি? পড়তে পেরেছ কি লিখা আছে তাতে? কিভাবে বুঝলে আমি তোমার আপ্পাকে নিয়ে লিখেছি?”
ঠোঁট ফোলালো জারিন।
“আমি দেকেতি। জা-য়-লা-ন…. অক্কর চিলো!”
সাবিন বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়লো এবার।
“তুমি অক্ষর পড়তে জানো? আমি তো সব শেখাইনি এখনো!”
“তোমাল আল আপ্পালটা দানি!”
“কীভাবে?”
“কিবাবে? তেটা তো দানিনা!”
মাথা চুলকে দ্বিধায় পরে গেলো জারিন। সে কীভাবে নিজের পিতার নাম চিনতে পেরেছে, সেটা তার নিজের কাছেও রহস্য। সাবিন আর সইতে পারলোনা। সহসাই নিজের মেয়েকে কোলে তুলে বুকের মাঝে জাপটে ধরলো। অসংখ্য চুমু তার চেহারায় এঁকে দিতে দিতে বললো,
“মাই জিনিয়াস বেবি! জাস্ট লাইক ফাদার!”
“দিনিয়াত? জা-ইন দিনিয়াত?”
“হ্যাঁ। তোমার আপ্পার মতন। লিটল জিনিয়াস!”
খিলখিল করে হাসলো জারিন। সাবিনের গলা জড়িয়ে ধরে বললো,
“ওই দাইলিতা জা-ইন পলবে। পলে তোনাও না, মাম্মাম?”
সাবিন মেয়ের ছোট্ট শরীরটা আগলে রেখে ভরাট গলায় জানালো,
“ঠিক আছে। কিন্তু আমি তোমাকে পড়ে শোনাবো না। আমি ডায়েরিটা সম্পূর্ণ করে রাখবো। একদিন তুমি নিজে পড়বে নাহয়, পারবে না?”
উত্তেজিত হয়ে উঠলো জারিন।
“ইয়েত! জা-ইন পলবে! একদিন জা-ইন মাম্মামের দাইলি পলবে!”
কিছুক্ষণ বাদে জারিন জায়দানের গা ঘেঁষে শুয়ে পড়লো আবার। সাবিন তার পাশেই উঠে এলো। হাতে তার একটা স্টোরিবুক। প্রায় রাতে সে মেয়েকে গল্প পড়ে শোনায়। এভাবেই, নিজের স্বামীর শিয়রে বসে।
“আপ্পা আমাদেল তব কতা তুনতে পায়, তাইনা মাম্মাম?”
জারিনের প্রশ্নে সাবিন মোলায়েম হেসে মাথা দোলালো।
“হ্যাঁ সোনা। তোমার আপ্পা ঘুমিয়ে আছে ঠিকই, কিন্তু সে আমাদের সব কথা শুনতে পায়। তুমি সারাদিন তার সঙ্গে যত কথা বলো, সে সব শোনে।”
জারিন উল্টো হয়ে শুয়ে বুকে ভর দিয়ে জায়দানের দিকে তাকালো। ছোট্ট একটি হাত বাড়িয়ে পিতার গাল ছুঁয়ে দিতে দিতে বললো,
“আদল আপ্পা, জা-ইন তোমাকে আদল দিচ্চে। আপ্পা লাব ইউ, জা-ইন অলেক লাব ইউ। দানো, আপ্পা? মাম্মাম তোমাল দন্য গাল গাইবে। তুমি তুলবে। মাম্মাম অলেক বালো, কিন্ল্তু মাম্মাম মিশ ইউ! গাওলা, মাম্মাম?”
সাবিন মেয়ের আবদার ফেলতে পারলোনা। জায়দানের একপাশে শুয়ে সে ছোট্ট জারিনকে নিজেদের মাঝখানে শুইয়ে দিলো। রাত গভীর হলো। শুধুমাত্র ল্যাম্পের মৃদু আভা ঘরটাকে যেন ভাসিয়ে নিলো কোনো অনন্য সুন্দর কল্পনার রাজ্যে। জানালা গলে আসলো শীতল বাতাস। রাতের সেই হাজার তারা জ্বলা নীরবতার ভিড়ে সাবিন এক হাতে স্বামীর মাথায় এবং অন্য হাতে মেয়ের বুকে স্নেহ বোলাতে বোলাতে মায়াময়ী কন্ঠে গেয়ে উঠলো,
ওহে কি করিলে বলো, পাইবো তোমারে
রাখিবো আঁখিতে আঁখিতে
ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ
তোমারে হৃদয়ে রাখিতে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাই না?
পরদিন সকাল।
জারিনের ঘুম ভাঙলো সাবিনের ডাকে।
“বেবি? গুড মর্নিং, ওঠো। উঠবে না?”
চোখ কচলে জারিন তাকালো। জায়দান এবং তার উভয়ের শরীরেই কম্বল মুড়িয়ে দেয়া আছে। সাবিন ঝুঁকে প্রথমে নিজের মেয়ের কপালে, পরে জায়দানের কপালে চুমু এঁকে দিয়ে মিষ্টি হাসলো।
“গুড মর্নিং, মাই লাভ।”
পরবর্তীতে সে মেয়ের দিকে তাকালো,
সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ৫৬
”উঠে পড়ো। আজ কোনদিন মনে আছে? যাবেনা আমার সাথে?”
তড়াক করে উঠে বসে পড়ল জারিন। লাফিয়ে উঠলো হাততালি দিয়ে।
“দাবো দাবো! তাত্তুতে দেকতে দাবো!”
“হ্যাঁ সোনা। খেয়ে তৈরী হয়ে নাও। আমরা তোমার চাচ্চুকে দেখতে যাচ্ছি।”
