Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ৫৭

সাঁঝের মায়া পর্ব ৫৭

সাঁঝের মায়া পর্ব ৫৭
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

—’ দিনক্ষণ, সময় অসময়, স্থানকাল বোঝেন না আমাকে কাছে পেলে। বা*সর করতে উন্মাদের মতো করেন সর্বক্ষন । আবার জনসম্মুখে বউ পরিচয় দিতে এতো সমস্যা?
আজকে রাতে কাছে আসলে, আপনার একদিন কি আমার একদিন। এসেই দেখুন না কাছে। বিছানা থেকে ধাক্কা দিয়ে যদি ফেলে না দিয়েছি–তবে আমার নামও রেহনুমা আরশাদ তিতির না। যত্তসব ফালতু লোক!’
দাঁতে দাঁত পিষে মনে মনে কথাগুলো আউরালো তিতির। ঈচ্ছে তো হচ্ছে লোকটার শার্টের কলার চেপে সবার সামনে শাসিয়ে কথাগুলো বলে আসতে। তবে বর্তমানে সেটা করা যাচ্ছে না। সম্মান বলে তো একটা জিনিস আছে নাকি! দেওয়ান বাড়ির মেয়ে, বর্তমানে বড় বউ সে। স্বামীকে জনসম্মুখে মারধোর করছে, বিষয়টা খারাপ দেখায়। তবে ওনার মতো লোকের বউয়ের হাতে সকাল বিকাল পিটুনি খাওয়াই উচিত!

একা একাই কথাগুলো আউড়ে যাচ্ছে তিতির। অসহ্যকর পরিস্থিতি একটা। সঙের মতো এসে বসে আছে সে, সেই আসার পর থেকেই। নিজে দিব্যি আড্ডায় মেতেছে। গোল একটা টেবিলে বসা তারা । পুরো আয়োজনে ছেলে মেয়েদের বসার জায়গা আলাদা করা হয়েছে। ঠিক আলাদা করা হয়নি, অটোমেটিক আলাদা হয়ে গিয়েছে আরকি। তিতির আর নিশি বসা অনিমা আর রিতুর সাথে। ওদের আরও কয়েকজন মেয়ে বান্ধবীও আছে একইসাথে। সবাই টুকটাক গল্প করছে। তবে ঘুরেফিরে সবার আগ্রহ যে ঈশানেই গিয়ে আটকাচ্ছে, সেটা টের পেয়ে গিয়েছে তিতির। যেকোনো মেয়ের সাথেই, গল্প কোথা থেকে শুরু হলো সেটা ম্যাটার নয়, তবে সে আলোচনা শেষ হবে ঈশানের লাভ লাইফ নিয়ে। যা তা একটা অবস্থা!

তিতিরের টেবিল থেকে খানিক দূরের একটা স্কয়ার টেবিলে উল্টো হয়ে বসা ঈশান। অজানা কারণে ঘাড় ঘুরিয়ে বউটাকে দেখার সাহস অবধি হচ্ছে না। আগেই বোঝা উচিত ছিলো–কোথায় নিয়ে এসেছে বউকে। এরা সবাই তার ল্যাং’টা কালের বন্ধু বান্ধব। কত মেয়ে, কোন যুগে, কিভাবে প্রপোজ করেছিলো, সে-সবও যত্ন সহকারে মনে রেখেছে। এবং আজ তা অতি আগ্রহের সাথে শোনাচ্ছে। ঈশান আরশাদের বউ যে পাশেই বসা, সে খবর তো জানা নেই কারোরই। দীর্ঘশ্বাস ফেললো ঈশান। মনে মনে হা হুতাশ করলো একচোট। মেয়েটা যা জেদি,অভিমানি! কথাগুলো শুনে না জানি কি ভেবে বসে আছে!
এখানে যতটা নিরব পরিবেশ আশা করা হয়েছিলো ঠিক তার উল্টো। প্রচুর হৈ হট্টগোল হচ্ছে। যদিও ঈশান খানিকটা হলেও আন্দাজ করেছিলো। যেখানে ফাহিমের মতো ধনীর বখে যাওয়া দুলালরা থাকবে, সেখানকার পরিবেশ আর কতটা নিয়ন্ত্রণে আশা করা যায়! রিসোর্টের একপাশে উচ্চস্বরে গানবাজনা হচ্ছে। ড্রিংকস এর ব্যাবস্থাও করা আছে ওপাশেই। ওখানেও একগাদা ছেলেপেলের ভিরভাট্টা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সাজিদ এখনো এসে পৌছায়নি। জরুরি কোন কাজে নাকি আটকা পরেছে সে বেচারা।
নাঈম,নিয়াজ পাশাপাশি বসা ঈশানের। বাকিরা সব ক্যারিয়ারে কতটা প্রতিষ্ঠিত সে-সব গল্পে মগ্ন।

—’তোদের গ্রুপের মধ্যে এক সাজিদ আর অনিমা ছাড়া কেউ এখনো বিয়ে করিস নি! ব্যাচেলর গ্রুপ হয়ে আছিস! রহস্য কি এটার?’
ওদিক থেকে এক বন্ধুর প্রশ্নে ঈশানের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে একপেশে হাসলো নিয়াজ। হাত পা ছেড়ে দিয়ে আয়েশ করে বসে, বাঁকা কন্ঠেই বললো,
—’আমাদের মধ্যে কেউ বিয়ে করেছে, কি করিনি তোরা কি করে জানবি? হতেও তো পারে বিয়েশাদি করে ফেলেছি বহু আগে। হুটহাট বাচ্চার আকিকায় দাওয়াত দিয়ে জানালাম সবাইকে। আমাদের গ্রুপটাই ইউনিক। কি বলিস ঈশান?’
ঈশান জবাব দেয় না। চোরা চাউনি দিয়ে ধমক দেয় নিয়াজকে। ওপাশ থেকে তৎক্ষনাৎ আরেকটা আগ্রহী কন্ঠ শুনতে পাওয়া গেলো। ঈশানকে উদ্দেশ্য করে বললো,
—’ঈশান? রুষা কে তো বিয়ে করলি না। পরিকল্পনা কি এখন? প্রেম, বিয়ে এসব কি হবে না, তোর দ্বারা? ‘
ঈশান স্বাভাবিক মুখে ভ্রু উঁচিয়ে বলে,
—’কেনো হবে না?’

—’বয়স তো কম হলো না। কবে করবি। আমি এসেছি আমার বউ আর দুই মেয়েকে নিয়ে। তোরা শা*লা এখনো বিয়ে থাই করলি না। তোদের বিয়ে হতে হতে, আমার মেয়েদের বিয়ের সময় এসে যাবে।’
অট্টহাসিতে ফেটে পরলো সকলে। বলাবাহুল্য, ঈশানও হাসছে। ওদিকটায় চাইল্ড কর্ণারও আছে। অনেকের ছেলেমেয়েরাই খেলছে ওদিকটায়। ঈশান একনজর ওদিকে তাকালোও। সময় কত দ্রুত পার হয়ে যায়! সেদিনের সেই উশৃংখল ছেলেপেলে গুলোও বাপ হয়ে বসে আছে। এখন বউয়ের পাল্লায় পরে,একদম শৃঙ্খলায় এসেছে!
হাতে কাঁটাচামচ খানা প্লেটের মাংসের ওপর গেঁথে আছে তিতিরের। এইটা ঈশানের ঘাড়ে গাথতে পারলে বোধ-হয় খানিকটা হলেও মানসিক শান্তি পেতো! নিশি কে ইশারা করলো হৈ হট্টগোল থেকে একটু বাইরে যেতে চায় সে। এখানে আর একদন্ড থাকতে হলে ঈশানকে কিছু একটা করে বসবে সে! ঈশানের দিকে তাকিয়ে মুখ বাকালো তিতির। দাঁতে দাঁত পিষলো। আজকে ছেড়ে দেবে ভেবেছে। অতোই সোজা। সে-ই আসলে বোকা। এই লোকের ছুকছুকানি তে মোটেই সাড়া দেওয়া উচিত হয়নি। তখন কেনো সে-ও উন্মাদ হলো, সায় দিলো ছেলেটার এই উন্মাদনায়! বোঝা উচিত ছিলো আগেই। তবে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আর গলছে না সে। এবারে তাকে কাছে পাওয়া এতো সহজে হচ্ছে না ঈশানের। ধুমধামে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আর ছুঁতেও দেবে না। এই শাস্তি না দিলে হচ্ছে না লোকটার। তিতির নিশির হাত ধরে তেড়েফুঁড়ে চলে গেলো হোটেলের অন্য দিকটার টেবিলে। ওদিকটায় চিৎকার চেঁচামেচি, হট্টগোলের শব্দ খুব কম শোনা যায়।

বন্ধুদের করা একের পর এক প্রশ্নে জর্জরিত ঈশান। নিয়াজ অজানা কারণে বেঁচে যাচ্ছে বোধহয়। নাঈমও তাই। সবারই ঈশানকে নিয়ে এতোটা আগ্রহ, বাকি কারোর কথা সম্ভবত জিজ্ঞেস করার কথাই মনে থাকছে না কারোর। নিয়াজের বিষয়টা অবশ্য অন্য। ঈশান বাদে বাকি সবারই জানাশোনা আছে নিশির বিষয়ে। নিয়াজ আর নিশির সম্পর্কের বিষয়টায় অবগত প্রায় সবাই। আর নিশি যে ঈশানের বোন, এটা ভুললে চলবে না। সুতরাং, অকালে বন্ধুর প্রান যাক এটা কেউ-ই চাচ্ছে না। মুখ বন্ধ রেখে বন্ধুর এতটুকু উপকার তো করতেই পারে তারা? পুনরায় কেউ একজন একই জাতীয় প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই
ঈশান হাতের জুসের গ্লাস টা রাউন্ড ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,
—’ প্রেম, ভালোবাসা আমার হবে না মানে কি? আমি কি মানুষ নই? পুরুষমানুষ আমিও। আমারও ফিলিংস আছে।’

—’তা আছে। একটু বেশিই আছে। আমাদের সব্বার থেকে ডাবল রোমান্টিক তুই। সবদিক থেকেই এহেম এহেম…মানে অতি পারফেক্ট। তোর বউ কেমন হবে সেটা জানার জন্য মরিয়া আমরা, ভাই। বিশ্বাস কর। রুষা কে দেখে ভাবতাম, মেয়েটার সব ঠিকঠাক। কিন্তু তবুও,তোর সাথে যায়না। তোর যা পারসোনালিটি, রুষা উল্টো। ডোন্ট মাইন্ড। মেয়েদের অসম্মান করে বলছি না। তবুও,৷ রুষাকে ছ্যাচড়া লাগতো। তুই যে কখনো ভালোটালো বাসিসনি ওকে, সেটা আমরা বুঝতাম। পুরুষ মানুষ আমরা ,আরেকজন পুরুষের মন, নজর বেশ বোঝা যায়। রুষা তো কতো সিডিউস করতে চেয়েছে। তখন শুনতামও তোদের সম্পর্ক চলমান। তবুও ওকে কোনোদিন স্পর্শ করতে দেখিনি তোকে। আই মিন দেখে মনে হয়নি– ওর প্রতি তোর চাহিদা কাজ করে।’
ঈশান মৃদু হাসলো যেনো। বাকিরা সে-সব খেয়াল করলো কি-না বোঝা গেলো না। তবে তার দুই বন্ধু গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কি-না! তাদের নজর এড়ালো না মোটেই। ঈশান আচমকা যেনো এক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেললো। জুসের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে নির্বিকার কন্ঠে বলে বসলো,

—’ প্রেম আসবে না কেনো জীবনে! সঠিক নারী পেয়ে গেলে প্রেম, ভালোবাসা, চাহিদা সব কাজ করে একসাথে। আমিও তার ব্যাতিক্রম নই। আমারও মনে প্রেম আছে, ভালোবাসা আছে। সেই নারীকে গভীরে ছুঁয়ে দেওয়ার চাহিদাও আছে…ইয়াস, আই অ্যাম ইন লাভ।’
থমকালো টেবিলে উপস্থিত সকলেই। ঈশান মাত্রই একদমে যে কথাগুলো বলে গেলো, আদৌ তারা শুনলো কি এ-সব? নাকি ভুল শুনলো। প্রেমটেম নিয়ে গড়গড়িয়ে এতোগুলো কথা বলে দেওয়ার পাত্র ঈশান আরশাদ? মানা যায় সেটা! কেউ একজন চেঁচিয়ে উঠলো আশ্চর্যতায়।
—’হোয়াদ্দা হে*ল ম্যান! মেয়েটা কে? দেখাবি না?’
বাকিরাও বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ঈশানের পরবর্তী কথাগুলো শোনার জন্য। রুষার সাথে যতদিন কাহিনি চলতো বলে শুনেছে, কখনো ঈশানকে নিজ মুখ সেটা নিয়ে পজিটিভ রেসপন্স করতে শোনা যায়নি । যা শুনতো সবই রুষার মুখ থেকে। আচমকা আজকে ঈশানের নিজ মুখে এ ধরনের কথা শোনা মাত্র উপস্থিত জনতার মাঝে আগ্রহের সীমা রইলো না যেনো! আরও একজন অতি ব্যাস্ত হয়ে চেঁচিয়ে উঠলো একপ্রকারে।

—’ ভাগ্যবতীটা কে ভাই?’
ঈশান নির্বিকার। হাতের গ্লাস এখনো শূন্যে ঘুরাচ্ছে রাউন্ড করে। ভাবলেশহীন জবাব দিলো,
—’আমার বউ।’
সবার দম আটকে থাকা অবস্থা যেনো শিথিল হলো এবারে। দীর্ঘশ্বাস ফেললো জনে জনে। তারা আরও কোথায় ভেবেছিলো দেওয়ান সাহেব সত্যিই প্রেমে পরেছে। কিন্তু এ তো শুধু মজা নিলো তাদের সাথে!
নিয়াজের হাতের ফোনটা এরই মধ্যে রেকর্ড হচ্ছে। অনিমা, তিতির আর নিশিকে নিয়ে ওদিকটায় গিয়ে বসেছে। দেওয়ান সাহেবের এই অসম্ভব স্বীকারোক্তি তার বউ মিস করে যাবে,এটা কেমন কথা! একজন হতাশ কন্ঠে বললো,
—’দোস্ত, আমরা আরও ভাবলাম সত্যি প্রেমের কথা বলছিস।’
ঈশান নির্বিকার মুখেই উত্তর করলো।
—’সত্যিই।’
—’সে তো বউকে সবাই ভালোবাসে,বাসবো। এখনকার কথা বল। গার্লফ্রেন্ড? হুস দ্যা লাকি গার্ল?’
—’কিসের গার্লফ্রেন্ড! বললাম তো আমার বউ। এখন প্রেম করার বয়স? নাকি বিয়ের? হাইস্কুল,কলেজের ছেলেপেলেরা প্রেম করে আজকাল।’
কথাটা বলেই ঈশান তাকালো নিয়াজ আর নাঈমের দিকে। গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে জিজ্ঞাসু কন্ঠে বললো,
—’ এই বয়সটা কি আর প্রেমিকা নিয়ে ঘোরার? বউ নিয়ে ঘোরার। সত্যিকারের পুরুষমানুষের প্রেমিকা নয়, বউ থাকে। তাইনা নিয়াজ ? ‘

চোখের সীমানা অবধি ঢেকে রাখা কালো ক্যাপটা আলতো হাতে ঠেলে ওপরের দিকে তুললো রাহাত। এতো তীক্ষ্ণ গানবাজনা কোনো জন্মেই পছন্দ ছিলো না তার। অসহ্য লাগছে একপ্রকার। মাথা যন্ত্রণা করছে। সে-ই কখন থেকে এসে বসে আছে সে! ঢাকা থেকে সিলেট জার্নি করে আসা কি মুখের কথা! তাও এসে একদন্ড বিশ্রামের সময়টা অবধি পায়নি। তিতিরকে এক নজর দেখার লোভে ঠিক চলে এসেছে পিছু পিছু। ওইতো দেখা যাচ্ছে মেয়েটাকে। শরীরে শাড়ি জড়ানো না? তাই তো। বহুদিন পর তিতিরকে শাড়িতে দেখলো। তিতিরের গায়ের শাড়ির রঙটাও রাহাতের খুব পছন্দের রঙ। একপেশে হাসলো রাহাত। প্রিয় নারীর শরীরে শুধুমাত্র নিজের প্রিয় রঙের কাপড় দেখেই কতটা পুলকিত হচ্ছে তন-মন। অথচ আর ও কতভাবে দেখা হয়নি ওই নারীকে। সবেতে নিশ্চয় খুব সুন্দর লাগে!

সে সুযোগ খোদা তাকে দেননি! আচ্ছা,ঈশান দেখে তো মন দিয়ে? এইযে তিতির শাড়িটা পরেছে, ওরা এখানে এসে পৌছেছে প্রায় ঘন্টাখানেক। রাহাত এক বারের জন্যও তিতিরের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে অন্য নারীতে রাখেনি। ঈশানও কি এমন করে! জিজ্ঞেস করা হবে কি কখনো তিতিরকে। ঈশান ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল করে– বউকে সোহাগ করে কি-না! করা তো উচিত। ওরকম একটা পরীর বাচ্চা তার সংসার করতে এলে, মাথায় তুলে রাখতো তো সে।
নিয়তি! নিয়তি তার প্রতি এতোটা নিষ্ঠুর না হলে আজকের দিনটা অন্যরকম হতে পারতো। এইযে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রায়ই তিতিরকে দেখতে আসে, না আছে মেয়েটার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার অধিকার, না আছে মেয়েটার লাজুক গাল একটাবার ছুঁয়ে দেওয়ার অধিকার। কি আছে? কিচ্ছু নেই। তার পরীটাই তো আর তার নেই। অবচেতন মন ব্যাঙ্গ করে বসলো রাহাত কে। উচ্চস্বরে প্রশ্ন করে বসলো, ‘ মেয়েটা তোর ছিলো কবে? তোর তকদিরে খোদা ওকে লেখেননি। লিখেছে ঈশান আরশাদ দেওয়ানের তকদিরে।’

রাহাত হাসলো। কি দারুণ ভাগ্য হতে পারে একটা পুরুষমানুষের। ঈশানকে দেখুক কেউ। তার দীর্ঘ ছয় বছরের ভালোবাসা। চোখের সামনে ছোট্ট তিতির থেকে কিশোরী তিতির। অতঃপর যুবতী৷ সবভাবেই দেখেছে রাহাত। ভালোবাসি না বলেও সব ভাবে আগলে রেখেছে মেয়েটাকে। তিতির কে টের অবধি পেতে দেয়নি সে-সব। তবে মেয়েটা যতদিনে টের পেয়েছে, খোদা ততদিনে অন্যভাবে সাজিয়ে ফেলেছে ভাগ্য! রাহাতের ভাগ্যে, হালাল ভাবে তিতির কখনো ছিলো কি-না জানা যাবে না। সম্ভবত ছিলোই না। থাকলে ভাগ্যের খাতায় খোদা কাটাছেড়া নিশ্চয় করতেন না! এমন তো নয় –যে ঈশানের চাওয়ার শক্তি বেশি ছিলো। ভেঙেচুরে খোদার কাছে চেয়েছে ওই মেয়েটাকে। তা তো নয়। বরং রাহাত এই এক জীবনে তিতিরকে যতটা চেয়েছে , আর কেউ হয়তো চায়নি।
আজকাল ঈশানও চায় বুঝি! খুব যত্নে রাখে বুঝি! খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে রাহাতের।

আচ্ছা, সে কি পারে না এই মূহুর্তে একটা অনৈতিক কাজ করে বসতে। তিতিরের কাছে গিয়ে, মেয়েটিকে এক মূহুর্তের জন্য বুকের বাঁ পাশে চেপে ধরতে! মস্তিষ্ক প্রতিবাদ করে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে। ধিক্কার দিলো তাকে। ব্যাঙ্গ করে বলে উঠলো,’ পারিস না তুই। হারাম, পুরো হারাম। ওই নারী তো জন্য পুরোটাই হারাম। অন্যের সহধর্মিণী সে। অন্য পুরুষের ছোঁয়া বৈধ তার জন্য। তুই কে! কেউ না, কেউ না। ‘
হাহাকার করে উঠলো বুকটা। সেদিন ট্রেনে তিতিরকে বিদায় দেওয়ার সময় অস্থির লাগছিলো তার। দম বন্ধ হয়ে আসছিলে। অবচেতন মন সতর্ক করে দিচ্ছিলো বারংবার! হাসলে রাহাত। অনিমেষ চেয়ে রইলো তিতিরের দিকে। মুক্ত ঝড়া হাসি মেয়েটার! কি মিষ্টি, মায়াবী মুখখানা। ছটফট করে উঠলো শরীরটা।

মিনিট দশেক হলো ঈশানের ব্যাস্ত চোখ অস্থির হয়ে খুঁজে যাচ্ছে তিতিরকে। মেয়েটার ফোন বন্ধ বলছে। নিশিকে ফোন করে জেনেছে পাশের করিডরের ওদিকে আছে মেয়েরা। অনিমা, রিতু সাথে আছে মানে সম্পূর্ণ নিরাপদেই আছে তিতির। তারপরেও। মেয়েটাকে দেখে না অনেকক্ষণ হয়ে গেছে। গলা শুকিয়ে আসছে, তেষ্টা পাচ্ছে ভীষন।
নাঈম অনেকক্ষণ যাবৎই লক্ষ করে যাচ্ছে, ঈশানের এই ছটফটে অবস্থা। থাকতে না পেরে এবার প্রশ্ন করেই বসলো,

—’বউকে খুঁজছিস?’
স্বীকার করলো তৎক্ষনাৎ। ওপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
—’রিতুকে কল দিয়ে বল, এদিকটায় নিয়ে আসতে। আমাদের আশেপাশে থাকতে।’
নিয়াজ , নাঈম দু’জনেই হেসে ফেললো। ও নাকি বিয়ে করতে চায়নি। এই বউ পছন্দ হয়নি। এর সাথে সংসার করবে না! আর এখন! ছেলেটা বউকে চোখে হারাচ্ছে!
ওদিকে আরেক শকুনের দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ঈশানের ওপর। ছেলেটার সমস্ত গতিবিধি নজরে রাখছে তাহমিদ। আজকে এখানে আসার পরিকল্পনাই মূলত ঈশানকে অনুসরণ করা। উল্টো আরও একটা লাভই হয়ে গেলো। তিতিরকেও দেখতে পাচ্ছে। মেয়েটা পুতুল একটা। কাজের ওপর থেকে ডিসট্রাক্টেড হয়ে যাচ্ছে সে বারংবার, তিতিরের জন্য।
নাঈম কান থেকে ফোন নামিয়ে নাঈম ঈশানকে উদ্দেশ্য করে বললো,
—’ওয়াশরুম খুঁজছে তোর বউ। ওদিকটায় যাবে হয়তো। নিশির সাথে। ‘
নাঈমের কথা শেষ হওয়া মাত্র ঈশান উঠে দাড়ালো। নিয়াজকে সাথে আসতে বলে নিজে পায়ের গতি দ্রুত করলো।

—’ব্যাগটা রাখো। আমি শাড়িটা ঠিক করবো।’
তিতিরের হাত থেকে ফোন আর ব্যাগ নিলো নিশি। ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
—’পারবি একা?’
—’পারবো।’
ওয়াশরুমের এই দিকটা একদম ফাঁকা। সবাই নাচ-গানের ওখানে ব্যাস্ত। দু-এক জন আসছে কালেভদ্রে। শাড়ির অবস্থা বেহাল। কেউ একজন ভুলে আঁচলে পা দিয়ে ফেলেছিলো। পিন খুলে যা তা অবস্থা। জরজেট শাড়ি সামলাতে এমনিই হিমসিম খেয়ে যায় সে। শরীর ঠিকঠাক ঢেকে শাড়ি পরেছে কতটা সময় নিয়ে! সব এলোমেলো!
কাঁধের ওপর থেকে আধখোলা পিন টা খুলে রাখলো বিশাল আয়নার সামনে। পুরোটাই সম্ভবত খুলে ফেলতে হবে। নিশিকে ডাকাই উচিত। একহাতে শাড়ির অংশটুকু আকড়ে গুটিগুটি পায়ে দরজাটা সামান্য ফাঁক করে দাড়ালো তিতির। গলার স্বর নামিয়ে মিহি স্বরে ডাকলো নিশিকে। প্রথমবারে উত্তর আসলো না ওপাশ থেকে, দ্বিতীয় বার ডাকবে তার আগেই ভূতের মতোন সামনে এসে হাজির হলো কেউ একজন। আতঙ্কে একপ্রকার চিৎকার করে উঠেছে মেয়েটা। এলোমেলো শাড়িটা আতঙ্কিত হয়ে কোনোমতে চেপে ধরলো বুকের ওপরে। হুড়মুড়িয়ে পিছিয়ে গেলো। ছিটকিনি বন্ধ হলো ভিতর থেকে। ঈশান!
বুকে হাত রেখে তখনও হাপাচ্ছে মেয়েটা। ঈশান বুকের ওপর আড়াআড়ি হাত ভাজ করে দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে। অনিমেষ তাকিয়ে আছে তিতিরের দিকে। তিতিরের মুখের কথা যেনো আটকে গিয়েছে। চটলো ভীষন। উচ্চ গলায় বললো,

—’পাগল হয়ে গিয়েছেন? ফিমেল ওয়াশরুম এটা। এভাবে কেউ ঢোকে। আমি ভেবেছি কে না কে। কি অবস্থায় আছি! ছিহ্। অন্য কেউ যদি হতো, কি বাজে বিষয় হতো।’
ঈশান তীক্ষ্ণ চোখে পুরো পা থেকে মাথা অবধি অবলোকন করে গেলো তিতিরকে। কোমড়ে কোনোমতে জড়িয়ে আছে শাড়িটা। ওপরের অংশ দলা পাকিয়ে ধরে রাখা মেয়েটার হাতে। ভ্রু জোড়া কুঁচকে ফেললো ঈশান। এ অবস্থা কেনো শাড়ির! তিতির পুনরায় তেতে ওঠা কন্ঠে বললো,
—’দাঁড়িয়ে থাকবেন না। বাইরে যান। বড়পুকে ডেকে দিন একটু। দেখছেন না কি অবস্থা। যান।’
ঈশান যায়না। উল্টো কদম ফেলে দুরত্ব ঘোচায় তিতিরের সাথে। গম্ভীর মুখে বলে ওঠে,
—’শাড়ির এমন অবস্থা কেনো?’
—’পিন খুলে গিয়েছিলো। ভাবলাম ভালো করেই পরি আবার। তাই পুরোটা খুলে ফেলেছি। আপুকে ডেকে দিন যান। প্লিজ।’
ঈশানের মধ্যে বের হওয়ার কোনো আগ্রহই দেখতে পাওয়া গেলো না। এমনিতেই বউকে এতক্ষণ না দেখতে পেয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে ছিলো তার। এর মধ্যে মেয়েটাকে এমন এলোমেলো অবস্থায় দেখে তৃষ্ণা টা দ্বিগুণ হলো যেনো! শাড়ি খামচে ধরে থাকা তিতিরের হাতে নিজের শীতল হাত ছুঁয়িয়ে বললো,

—’ এনার্জি পাচ্ছি না শরীরে। এনার্জি সাপ্লাই কর। খারাপ লাগছে আমার।’
এলোমেলো শাড়ির আঁচল কোনোমতে শরীরে জড়িয়ে তিতির খানিকটা চিন্তিত সুরে বললো,
—’ কেমন খারাপ লাগছে? খাননি এখনো? কি সমস্যা হচ্ছে?’
ঈশান ঝুঁকে আসে খানিকটা। তিতিরের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট এগিয়ে হাস্কিস্বরে বলে উঠলো,
—’ তোকে এলোমেলো অবস্থায় দেখলে আরও একটু এলোমেলো করতে মন চায়। টায়ার্ড আমি খুব। সারাদিন না খেয়ে আছি। শরীর চলছে কোনোমতে, কিন্তু মনের অবস্থা বেহাল। সমাধান একটাই। তুই…’
তিতিরের এতক্ষণে বোধগম্য হলো ঈশানের কথার মানে। ছিটকে যে পিছিয়ে যাবে তার উপায়টা নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকলো। প্রায় ব্যাকলেস ব্লাউজের উন্মুক্ত অংশে দেয়ালের স্পর্শ লাগতেই শিউরে উঠলো মেয়েটা। ঠোঁট কামড়ে হড়বড়িয়ে বলে উঠলো,

—’ পাগলামি করার জায়গা পাননা, তাইনা? এটা অসভ্যতামি করার জায়গা? দয়া করে বের হন, যেকোনো সময়, যে কেউ চলে আসবে। কি একটা অবস্থায় আছি বলুন তো। ‘
ঈশান শক্তহাতে তিতিরের শাড়ির আলগা অংশ নিজের হাতের মুঠোতে নিলো। অন্য হাতে নগ্ন কোমড়টা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে বসালো বিশাল আয়নার সামনের ওই জায়গা টুকুতে। মেয়েটার শুকনো মুখ রক্তশূণ্য হওয়ার জোগাড়। বুকের ভিতর ড্রামস বাজতে শুরু করে দিয়েছে। ঈশানের এই দৃষ্টি সেই সর্বনাশা দৃষ্টি। এটার সাথে দুই রাত পরিচিত হয়েছে সে। দুই রাতের এর গভীরতা বুঝে গিয়েছে সে। ঈশান শাড়ির অংশসহ দু হাত তিতিরের দুপাশে ভর দেখে ঝুকে এলো ওর দিকে। হাস্কিস্বরে বললো,
—’আমি তোকে এখন একটু আদর করতে চাই। ‘
আতকে ওঠা কন্ঠে তিতির বললো,

—’খবরদার না। এটা বাড়ি? এখানে এমনটা না করলে চলছে না? ‘
কথাটা কেনোমতে শেষ করতেই ঈশানের শীতল ললাট এসে ঠেকলো তিতিরের তপ্ত ললাটে। চোখ বুঁজে আছে ঈশানের। হা করে শ্বাস ফেলছে।
—’বউ তুই আমার। যেখানে খুশি আদর করবো।’
এতক্ষণ ঈশানের উন্মাদনায় খেয়ালই ছিলো না কিছু কথা। সে তো শুধু চিন্তায় ছিলো বাইরের কেউ চলে আসছে নাকি। তবে ঈশানের এই কথায় হুট করে খেয়াল হলো আজকে গেট টুগেদারের কাহিনিগুলো। সবার সামনে বউ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না, অথচ অসভ্যের মতো ওয়াশরুমের মধ্যে! ছিহ্ ছিহ্। এক নিমিষে সকল লাজ, জড়তা কেটে গেলো মেয়েটার। দু’হাতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ঈশানকে। ঈশান হয়তো কাছে আসার তাড়নায় নিজের শক্তপোক্ত শরীরের ভার বেশ আলগা করেই দিয়েছিলো। তিতিরের ওইটুকু ধাক্কাতেই এলোমেলো ঢুলে পিছিয়ে গেলো বেশ খানিজটা। নিজেও অবাকই হলো। সামান্য ঘাড় বাঁকিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো,

—’করবো না আদর? দিবি না করতে?’
তিতির দাঁতে দাঁত পিষে জবাব দিলো,
—’যে লোক, জনসম্মুখে বউয়ের পরিচয় দিতে পারে না, সারাটা সময় জুড়ে বউয়ের সামনে অন্য নারীর গল্প হয়ে যায়। তবুও নূন্যতম সম্মান দেয় না আমাকে। লজ্জা করে না আপনার? নাচতে নাচতে ছোটলোকের মতো মেয়েদের ওয়াশরুমে চলে এসেছেন সেই পরিচয় না দেওয়া বউয়ের পিছুপিছু? নিজেকে হলিউডের হিরো ভাবেন? ওয়াশরুমে এসে নোংরামি করা লাগবে? এতো রোমান্স দরকার নেই আমার। একটা শশুর বাড়ি আছে। সেখানে স্বামী স্ত্রীর একটা ঘর আছে। তার মধ্যে বিশাল একটা বেড আছে। যা করার সেখানে করা যায়। রেস্টুরেন্টের বাথরুমে! ছিহ ছিহ্ আল্লাহ মাফ করুক।’
ঈশান আরশাদ দেওয়ান কে কেউ ছোটলোক বললো! কার এতো সাহস? তার একমাত্র বউ ছাড়া আর কার? এই মেয়ের সাহস বরাবরই এককাঠি ওপরে। ঈশান থমকায় এক মূহুর্তের জন্য। কতগুলো কথা শুনিয়ে দিলো এই মেয়েটা। সে কোথায় অন্য আদর করতে চেয়েছে? সেটা কখন বললো–বেডের আদর, ওয়াশরুমে করবে! এতটা তো ভাবেনি। বাঁকা হাসলো ঈশান। বাঁকা কন্ঠে বললো,

—’ যে আদরটার কথা ভেবেছিস, ওটার কথা তো ভাবিনি। মনে করিয়ে দিয়ে ভালোই করলি। মুড এসে গিয়েছে।’
বিরক্তিতে মুখ বাকায় তিতির। সে করলো অপমান। সে-সব গায়ে না মেখে ওই একটা কথা কানে গিয়েছে অসভ্যের।
—’আমি আরও অনেকগুলো কথা বলেছি। সে-সব কানে না নিয়ে… আমাকে স্পর্শ করলে আমি চিৎকার করে লোকজন ডাকবো।’
হেসে ফেললো ঈশান।
—’বউ তুই আমার।’
—’কবে? কখন থেকে? ‘
ঈশান পুনরায় দুরত্ব ঘুচিয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
—’কবুল বলেছিলি যেদিন থেকে।’
—’এখানে সেটা কে জানে? আমি তো আপনার কাজিন। আপনি পিওর অবিবাহিত। বউ পরিচয় দিতেও লজ্জা পান। সুতরাং চেঁচালে খুব একটা সুবিধা আপনার হবে না কিন্তু। ‘
ঈশান স্থির তাকিয়ে থাকে। মেয়েটা রেগে গেছে। অনিমারা ঠিকই বলেছিলো। অবশ্যই রাগারই কথা। কোনো স্বামী যদি তার বউয়ের পরিচয় না দেয় এতো এতো মানুষের সামনে, অসম্মান সেটা। তিতির যদি কখনো এমন করে ঈশানের সহ্য হবে? মোটেই না। ভাঙচুর করে ফেলবে। কিন্তু কি করে বোঝায় তার ভয়টা কোনখানে। ঈশান আদুরে কন্ঠে হুট করে বলে বসলো,

—’অ্যাম সরি।’
—’কেনো?’
—’আমি চেয়েছিলাম সবাইকে জানাতে।’
—’কি জানাবেন?’
—’তুই আমার কে।’
—’জানানোর কি আছে! আপনি চাননা। শুরু থেকেই খেয়াল করে এসেছি। আপনার অযুহাত দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত। সব মানি আপনার। শেষমেশ সব আপনার কথাই টেকে। আমি কে! সামান্য পরিচয় দিতেও এতো লজ্জা!’
ঈশানের বুকটা কেমন একটা কেঁপে উঠলো। সে বিয়ে করেছে এটা জানানোর উপায় বন্ধ তার। একে-তো কিছু একটায় পারমিশন লাগবে, তার ওপর এই আগাছা গুলো তো পিছুই ছাড়ে না। আজকে তো বলতই, ওই তাহমিদ এর কি উদ্দেশ্য না জানতে পারলে কি করে বুঝবে। শতভাগ নিশ্চিত তার পিছুই নিয়েছে। তাই যদি হয়, তবে তার সম্পর্কে সব তথ্য সংগ্রহে উঠে পড়ে লেগেছে। ছেলেটা পুলিশের তুখোড় অফিসার। র‍্যাংক সাজিদেরও আগে। ঈশান বিবাহিত এটা জানাজানি হলে…ঈশান ভাবনায় ইতি টানে। নরম অথচ অপরাধি কন্ঠে বলে ওঠে,
—’তোকে বলে ছিলাম। আমার লাইফস্টাইলেই সমস্যা আছে। আমি মানুষটাই সমস্যা হয়ে দাড়াবো তোর জন্য। এমন অনেক কিছুই আছে যা তুই যখন চাইবি, আমি ঠিক তক্ষুনি সেটা দিতে পারবনা। আমার একটু হলেও সময় লাগবে। আমার পরিস্থিতি অন্য রকম, তিতির। বলিনি বল?’

—’হ্যা। মেনেও নিয়েছি। ইউ হ্যাভ ইও্যর ওউন রিজন। যান এখন, আপুকে ডেকে দিন। শাড়িটা ধরতে হবে।’
—’আমি সাহায্য করি? নিশিকে ওদিকটায় রেখে এসেছি। ডাকতে গেলে অন্য কেউ চলে আসলে?’
—’আসুক। তবুও আপনি যান। রাগ হচ্ছে আমার আপনাকে দেখলে।’
—’ কি করলে রাগ ভাঙবে? সেটাই করবো, বল। সবার সামনে আমার স্ত্রী মর্যাদা দিলে? ‘
তিতির একপলক তাকালো ঈশানের দিকে। রাগ হয়েছে মানে, সে কি অবুঝ নাকি! ঈশানকে সে চেনে। মানুষ টা যাই করছে তার কোনো গুরুতর কারণ অবশ্যই আছে। সবদিক হেফাজতে রাখতে গিয়েই যে ঈশান চাইলেই যখন তখন যেকোনো কিছু করতে বা জানাতে পারে না, তা সে জানে,বোঝে। ঈশানের অসুবিধা হবো এমন কোনো কাজ সে কখনো করতে দেবেনা ঈশানকে। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
—’যা হওয়ার তা তো হয়েছেই। ওটার টপিক তুলবেন না। ভালো লাগছে না। ‘
ছেলেটার খসখসে আঙুল এসে ছুঁয়ে দিয়েছে তিতিরের নরম ঠোঁটে। সেদিকে ঘোলা চোখে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো ঈশান৷ হাস্কিস্বরে বললো,

—’আর হাতেগোনা কয়েকটা দিন। তারপর…বিশ্বার কর। গোটা দুনিয়াকে জানিয়ে তোকে আবার বউ করবো আমি। আর কয়টা দিন। সময় দেওয়া যায়না? হুম?’
—’না দিলেও বা কি! আপনার কাজ তো আটকে নেই। আপনি সময় ঠিকই নিয়ে নেবেন। ‘
—’তুই বললে ধ্বংসও হতে রাজি।’
—’আমাকে বউ পরিচয় দিলে ধ্বংস হওয়া লেখা আছে?’
শব্দ করে হেসে ফেললো ঈশান। মেয়েটার গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। নরম গালটা আলতো হাতে চেপে ধরে বললো,
—’তুই গোটাটাই ধ্বংস। ধ্বংসবতী নারী। ঈশান আরশাদ দেওয়ানের চিরাচরিত রাশভারি ইমেজ ধ্বংস করেছিস। তাকে উন্মাদ বানিয়েছিস। অসভ্য, নির্লজ্জ বানিয়েছিস। না হলে..।’
—’না হলে?’
ঈশান ঝুঁকে গিয়ে তিতিরের গালে ভেজা চুমু এঁকে ফিসফিসিয়ে বললো,
—’না হলে ঈশান আরশাদ কখনো বউয়ের পিছু পিছু বাথরুমে চলে আসে! হুম? নির্লজ্জের চূড়ান্ত হয়ে গেছি।’
—’কতক্ষণ আছি এখানে! ছিহ্। বাইরে হয়তো লাইন ধরে গিয়েছে। সবাই আসবে তো নাকি?’
—’সে ব্যবস্থা আমি করেই এসেছি।’
—’আপু কি ভাববে! ‘
—’কিছুই ভাববে না।’
—’অসহ্য লাগছে।’
—’আদর দেই?’
—’নাহ।’
—’দেই?
—’না বলেছি তো।’

—’বেশি কিছু করবো না। চুমু খাবো। জেন্টালও থাকবো। ঠোঁট কেটে ফেলবো না। সত্যি। ‘
তিতির ঠোঁট চেপে ধরলো নিজের। পায়ের তলা শিরশির করছে। তলপেট কেমন সুড়সুড়ি দিচ্ছে কেউ। তিতিরের জবাব না পেয়ে, আশকারাই মনে করলো ঈশান। নিজের শীতল হাতটা আলতো করে মেয়েটার কোমড় ছুঁয়ে দিতেই তিতির হাত চেপে ধরলো।
—’এখানে না।’
ঈশানের অধরজোড়ার স্পর্শ পেয়েছে তিতিরের কন্ঠদেশ। গলায় একটা ছোট্ট লকেট ঝুলছে। উচু হয়ে থাকা বিউটি বোনের ওপর ঠোঁট ছুয়িয়ে উতলা কন্ঠে বললো,
—’সারাদিন খুব কাজের চাপে ছিলাম। এসেও তোকে কাছে পাইনি। একটা চুমু খাবো। গলা শুকিয়ে গিয়েছে।’
তিতির ঠিক করেই নিয়েছে। ছুঁতে দেবে না মানে, দেবেই না। ঈশান বোধহয় টের পেলো সেটা। ভ্রু জোড়া কুচকে এলো তার।

—’ছুঁতে দিচ্ছিস না মানে? কি সর্বনাশের কথা। আমাকে তুই ছুঁতে দিচ্ছিস না কেনো? স্বামী ডাকলে আসতে হয়, তিতির। অন্য কিছু করবো না। আয়।’
—’মাথা নষ্ট আপনার। এটা ওয়াশরুম। একটা রেস্টুরেন্টের ওয়াশরুম।’
—’তো! ওয়াশরুম হলেও সমস্যা কি? বাড়িতে গিয়ে রাগ ভাঙাতে গেলে, রেগে এটমবোম হয়ে যাবি ততক্ষণে। এখনি রাগটুকু শুষে নেওয়া আমার কর্তব্য। না হলে তখন আবার আমাকে উপোষ রাখার পায়তারা জুড়বি। বউকে আদর করবো একটু। সেটা খোলা ময়দানেই কেনো না হয়! আদর তো আদরই। ছোট্ট চুমু খাবো। জেন্টালও থাকবো আজকে, কসম। করি আদর হ্যা?’
—’ আগে শাড়িটা পরতে সাহায্য করুন। দেবো।’
—’অনেকক্ষণ? ‘
তিতির লাজুক মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে মুখটিপে হাসলো। মিহি কন্ঠে বললো,
—’আচ্ছা। ‘

রাতের ডিনার করা হয়ে গিয়েছে সবার । এক টেবিলেই বসেছে ঈশান তিতির রা। যদিও ঈশানকে ডিঙিয়ে গিয়ে তিতির বসেছে নিয়াজের ওপাশে। দাঁতে দাঁত পিষে খাবার খেয়ে যাচ্ছে ঈশান। মেয়েটা তখন ওয়াশরুমে তার থেকে শাড়ি পড়ে নিয়ে ঠিক কায়দা করে বের হয়ে এসেছে। চুমু কেনো! আর ছুঁতে পর্যন্ত দেয়নি। মেয়েটা এতো চতুর! ভাবা যায়।

ফাহিমের অবাধ্য দৃষ্টি ঘোরাফেরা করছে এখানকার মেয়েগুলোর দিকে। কখনো নিশি, কখনো রিতু বা অন্যমেয়েদের দেখে যাচ্ছে অশ্লীল দৃষ্টিতে। তবে বেহায়া নজর আটকাচ্ছে বারবার ঈশানের ওই ছোট বোনটার দিকে। আজকেই প্রথম দেখছে। এতগুলো বছর এখানকার কলেজে পড়াশোনা করে গিয়েছে, তার আগে হাই স্কুল। কই কখনো তো চোখে পরেনি এই মেয়ে। আফসোসই হচ্ছে। যাকে বলা হৃদয় থমকানো সুন্দরী মেয়ে। নেশা চড়েছে ফাহিমের। উগ্র,বেপরোয়া বরাবরই সে। আজকে এতো এতো মেয়েদের দেখে খানিকটা বেশিই হয়ে গিয়েছে। ঈশান হাত ধুয়ে এসে বসে আছে। নিশি আর তিতিরের খাওয়াদাওয়া শেষ হলেই বাড়ি ফিরবে। আর দেরি করা উচিত হবো না। বেশ রাত হয়েছে। রাইসুল দেওয়ান এরইমাঝে ফোন করে ফিরতে বলেছেন। গানবাজনার আওয়াজ এখন বেশ ধীরে চলছে। খাওয়া দাওয়ার পর্ব মিটলে আরেকদফা হৈ হল্লা হবে হয়তো। ফোনের ভাইব্রেশনে তিতিরের থেকে দৃষ্টি সরলো ঈশান। অমিতের ফোন। এখানে কথা বলা যাবে না শান্তিতে! ঈশান উঠে যেতেই ফাহিম নড়েচড়ে বসলো। ঈশানের সামনে ওর বোনদের দিকে তাকানোও রিস্ক। মাতাল বেচারার খেয়াল হলো না এখন সে যা করতে চাচ্ছে তার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে। কিভাবে টের পেতো! সে তো হুশেই নেই। ফাহিম ঢুলতে ঢুলতে সর্বপ্রথম এসে ঝুকলো অন্য কিছু মেয়েদের দিকে। সবাই কারোর না কারোর গেস্ট হয়েই এসেছে প্রায়। নিয়াজ, নাঈম বন্ধুদের থেকে বিদায় নিতে গিয়েছে। সাজিদ আসেনি যেহেতু, আর ঈশানও চলে যাবে। তারাও আর থাকতে চাচ্ছে না। নিশি সবেই তিতিরকে নিয়ে সামান্য মজা নিচ্ছিলো, শাড়ি ঠিক করে দেওয়ার বিষয়টা নিয়ে। আচমকা শাড়ির আঁচলে টান পরলো পিছন থেকে। চমকে তাকালো তিতির। ফাহিম ছেলেটা প্রায় ঘেঁসে এসে দাড়িয়েঋে তার পিঠের সাথে। তিতির ঝট করে চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো। তখন থেকে দেখছিলো লোকটা ক্রমাগত মদ খেয়েই যাচ্ছে। ভকভক করে গন্ধ ছুটছে ওখান থেকেই। তিতির যথাসম্ভব নরম কন্ঠে বললো,

—’কিছু বলবেন ভাইয়া?’
ফাহিমের মুখ টকটকে লাল। ওভার ডোজ হয়ে গেছে। পুরো বেহেড হয়ে আছে। জড়ানো কন্ঠে বললো,
—’ ইউ আর সো হট, মাই গার্ল। সোওও হট! শাড়ির আঁচল টা ওভাবে ছেড়ে দিয়ে রেখেছো কেনো! একটু, এইযে একটু কাঁধের ওপর তুলে দাও। তোমার পাতলি কোমড় টা আমিও একটু দেখতে চাই। একটু দেখবো। ‘
আঙুলের ইশারায় “একটু ” বুঝিয়ে যাচ্ছে ছেলেটা। বেশিরভাগই ছেলেরাই অন্য পাশে। বিদায় নিতে ব্যাস্ত। তিতিরের সাথে ফাহিমের এই অসভ্যতামির সাক্ষী তারা কেউ হতে পারলো না। তবে একটা ছেলে দেখলো বুঝি। ঝড়ের বেগে ছুটে এলো। দু হাতে ফাহিমকে জড়িয়ে পিছিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যৎ হলো। নিশি এসে জড়িয়ে ধরেছে বোনকে। অনিমা, রিতুও এগিয়ে এসেছে। ওরা হাত ধুতে গিয়েছিলো। মাতালের শক্তি অন্যরকম। ফাহিম ঝটকা দিয়ে সরিয়ে ফেললো ছেলেটাকে। এলোমেলো ভঙিতে এগিয়ে এসে তিতিরের কোমড় স্পর্শ করবে তখনই সজোরে থাপ্পড় পরলো ফাহিমের গালে। চোখে অন্ধকার দেখলো ছেলেটা, পিছিয়ে তো গেলোই। টলে উঠলো বিশাল শরীরটা। ফর্শা গালটায় পাঁচ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠলো। মিউজিক বন্ধ হয়েছে। ফাহিমের কীর্তি ইতিমধ্যে পাঁচ কান হয়েছে। নিয়াজ, নাঈম ছুটে আসতে আসতে ফাহিমের অন্য গালে আরও একটা থাপ্পড় পরলো। বেচারা এবার বুঝি পরেই যাবে। তিতির দাঁতে দাঁত পিষে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

—’হট না? আমার ছোঁয়াও হট। পুড়িয়ে দিলাম তো? খুব ভালো লাগছে? ‘
তিতিরের থাপ্পড়ে হতভম্ব উপস্থিত সকলে। বুঝতে সময় লাগলো এক মূহুর্ত। ফাহিম কে থাপ্পড় মারলো ঈশানের বোন! নিয়াজ, নাঈম কিছু বলতে যাবে,তার আগেই ফাহিম হুমড়ি খেয়ে পরলো মেঝেতে।
—’কু’ত্তার বাচ্চা। কলিজা এতো বড় তোর? ‘
ঈশান! তিতির এবারে বোধহয় নরম হলো খানিকটা। আটকে রাখা শ্বাস ছাড়লো। হাত জ্বলে যাচ্ছে, এতোটা জোরে চড় মেরেছে। ফাহিমের হাঁটুর ওপর পা দিয়ে পিষে ধরলো ঈশান। মাতাল ছেলেটা নড়তে অবধি পারলো না। কেউ একজন ব্যাস্ত হয়ে এগিয়ে এলো ঈশানকে বাধা দিতে। উতলা কন্ঠে বললো,
—’ বন্ধু হয় তোর। ঈশান…ছেড়ে দে। মাতাল হয়ে আছে। না হলে তোর বোনকে…’
রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পরলো যেনো ঈশান। চেঁচিয়ে উঠলো একপ্রকারে।
—’ হারাম*খোড়…বোন না। বউ, বউ। কানে শুনলি। বউ হয় ওই মেয়ে আমার। বোন না। তিন কবুল পরা বউ আমার। ‘

বজ্রপাত হলো কি সবার মাথায়? হলো তো। কি বললো ঈশান? ভুল শুনলো কি? তিতির একমুহূর্তের জন্য বরফ হয়ে গেলো যেনো। নিশির সাথে চোখাচোখি হলো। অনিমা মুখ চেপে ধরলো নিজের। নিয়াজ খামচে ধরলো নাঈমের হাত। সজোরে ফাহিমের উরু বরাবর লাত্থি মারলো ঈশান। গুঙিয়ে উঠলো ফাহিম। চোখদিয়ে অগ্নিবর্ষন হলো যেনো। সে মোটেই অতটা মাতাল হয়নি। যতটা মাতাল হলে মানুষ চিনবে না। চিনেছিলো তো। ঈশানের বোন দুটো। সে কারনেই এগিয়েছিলো। ঈশানের সাথে নিঃশব্দের রেশারেশি তার বহু জনমের। নিশিকেই অ্যাটাক করতো, কিন্তু ওই মেয়েটাকে ননীর পুতুল মনে হয়েছিলো। কিন্তু না। বাঘের বংশ যেনো। কি জোরেই থাপ্পড় মারলো! মেয়ে মানুষের হাতে প্রথম থাপ্পড়। তাও দু’দুটো! এখন নাকি আবার শোনে ওটা বোন না। বউ! ঈশান আরশাদের বউ।
ঈশান এক দলা থুতু ওর পায়ের কাছে ছুড়ে হিসহিসিয়ে বললো,

—’ ক্ষমা চা, কুত্তার বাচ্চা। খুন করে ফেলার আগে ক্ষমা চা। ‘
ফাহিম টালমাটাল উঠে দাড়ালো। তাকে ধরলো পিছন থেকে কেউ। বাঁকা হাসি দিলো।
—’তোর বউ এটা? এই জিনিস পেলি কোথায়? খাসা জিনিস। আসমান থেকে হুরপরী জমিনে নেমে এসেছে।’
কথাটা বলতে দেরি হলো। ছেলেটার পুরুষ অঙ্গে ঈশানের পা চালাতে দেরি হলো না। নিজের বিশেষ অঙ্গ চেপে গুঙিয়ে উঠলো ছেলেটা। দাঁতে দাঁত পিষে চোখ বুজে ফেললো। ঈশান চিৎকার করে উঠলো,
—’ মেয়ে দেখলে হুশ থাকে না তাইনা। মেয়ে দেখলেই খাসা মাল লাগে? তোর মাল কেটে হাতে ধরিয়ে দেবো। সারাজীবন হাতে তালি দিয়ে পথে পথে চলবি। এটা কে? হ্যা? জানতে চাস এটা কে? বউ। বিয়ে করা বউ। সবাই কান খুলে শোনো। ও রেহনুমা আরশাদ তিতির। ঈশান আরশাদ দেওয়ানের বউ। এখানে এটা মিসেস ঈশান আরশাদ দেওয়ান দাড়িয়ে আছে। সি ইজ মাই উইমেন। নজরের হেফাজত কর , জবানে লাগাম টান। না হলে তোর চোখ আর জিব দুটোই আমার হাতে থাকবে। ক্ষমা চা ওর কাছে।৷ ছুঁয়েছিস ওকে? হু? ছোঁয়ার সাহস করেছিস? তোর হাত ভেঙে গুড়িয়ে দেবো আমি। ক্ষমা চা কু*ত্তার বাচ্চা। ক্ষমা চা। এখন, এই মূহুর্তে। না হলে…’
ফাহিম সম্ভবত এতো সহজে হার মানতো না। তবে উপস্থিত সবার চাপে মাফ চাইতেই হলো। তিতির প্রতিত্তোর করলো ন কোনো ধরনের। নিঃশব্দে ঈশানের পিছনে দাঁড়ালো। মুখে বিন্দুমাত্র সহানুভূতির ছাপ নেই। ঈশানের মুঠো করে রাখা কম্পিত হাতটায় স্পর্শ করলো আলতো হাতে। শিথিল হলো ঈশান। ছেলেটার পাঁচ আঙুলের ভাজে নিজের আঙুল গলিয়ে নরম কন্ঠে বললো,

সাঁঝের মায়া পর্ব ৫৬

—’শান্ত হন। ছুঁতে পারেনি আমাকে। আপনি আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছেন, আর কোনো পুরুষের অযাচিত স্পর্শ আমি গায়ে লাগতে দেবো? অসম্ভব। নিজেকে হেফাজত করতে মরতে হলে মরবো ,মারতে হলে মারবো। ভরসা রাখুন।’
ঈশান একহাতে জড়িয়ে নিলো তিতিরকে। ফাহিমকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হলরুম ভর্তি মানুষজন। সবার চোখ চকচক করছে এখন। শেষ মূহুর্তে কি সারপ্রাইজ ছিলো এটা! ঈশান আরশাদ বিবাহিত? আজকে সারাক্ষণ তাদের সাথে মিশে থাকা এই পুতুলটা ঈশানের বউ। এতো ভালোবাসা! মুগ্ধ হতে হলো এদের দুজনকে দেখে। ঈশান কাউকে ভালোবাসতে পারে? তাও এরকম ভেঙেচুরে! ভাবা যায়। প্রকাশ্যে তার কপালে আদর আঁকতেও দ্বিধা করছে না ছেলেটা! অবিশ্বাস্য…

সাঁঝের মায়া পর্ব ৫৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here