সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৫
Raiha Zubair Ripti
রাত এখন বাজে তিনটে। স্বামী স্ত্রীর মিলনের পর সাথে সাথে গোসল করে নেওয়া উত্তম, তবে কোনো কারণে দেরি হলে শুধু ওজু করে নেওয়া মুস্তাহাব এবং ওজু করে পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো টা উত্তম। সিকান্দার কাভার্ড থেকে জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে গেলো। গোসল করে একেবারে ওজু করে বের হলো। দরজা খোলার শব্দ শুনে মুনতাহা চাদর থেকে মুখটা বের করে তার দিকে তাকালো। অলস মুনতাহা সিকান্দার কে দেখে অলস ভঙ্গিতে বলল-
“ আমার জামাকাপড় গুলো একটু ওয়াশরুমে রেখে আসুন না কাভার্ড থেকে বের করে। ”
সিকান্দার তার ভেজা টাওয়াল টা বেলকনিতে মেলে দিয়ে কাভার্ড থেকে মুনতাহার জন্য পিংক কালারের সেলোয়ার-কামিজ বের করে ওয়াশরুমে রেখে আসলো। মুনতাহা ধীর পায়ে হেঁটে ওয়াশরুমে ঢুকে সময় নিয়ে গোসল করলো। গোসল শেষে ভেজা জামাকাপড় গুলো বেলকনিতে মেলে দিয়ে টাওয়াল দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে রুমে আসলো। রুমে আসতেই সিকান্দার তাকে টেনে বিছানায় বসিয়ে ড্রেসিং টেবিল থেকে হেয়ার ড্রায়ার টা নিয়ে ভেজা চুল গুলো যত্ন সহকারে শুঁকিয়ে দিলো। মুনতাহা লজ্জায় একবারও তাকাচ্ছে না সিকান্দারের দিকে। সিকান্দার বেশ খেয়াল করলো সেটা ভালোভাবেই। রুমের ভেতর রাখা খাবার টার ঢাকনা উঠিয়ে দেখলো খাবারটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। সিকান্দার প্লেট টা নিয়ে নিচে রান্না ঘরে চলে গেলো। খাবার গুলো ওভেনে দিয়ে গরম করে রুমে নিয়ে আসলো। রুমে এসে মুনতাহা কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে খাবার টা সামনে রেখে বলল-
“ রাতে কিন্তু খাবার টা খান নি। এখন হা করুন তো। খেয়ে নিবেন। খাওয়া শেষে পেইন কিলার দিব। ”
মুনতাহা হা করলো। সিকান্দার তাকে খাইয়ে দিলো। মুনতাহা তাকেও খেতে বললো। সিকান্দার ও খেলো। খাওয়া শেষে সে মুনতাহা কে পেইন কিলার দিলো। মুনতাহা সেটা খেতেই সিকান্দার তাকে শুইয়ে পড়তে বলে নামাজ ঘরের দিকে যেতে নিলে মুনতাহা তার হাত ধরে বলল-
“ কোথায় যাচ্ছেন? ”
সিকান্দার পেছন ফিরে বলল-
“ আপনি ঘুমান মন। আমি তাহাজ্জুদের নামাজ টা পড়ে এসেই ঘুমাচ্ছি। ”
মুনতাহা উঠে বসলো।
“ একাই পড়বেন? আমিও পড়বো। ”
“ আচ্ছা তাহলে ওজু করে আসুন। ”
মুনতাহা উঠে গিয়ে ওজু করে আসলো। সিকান্দার আর মুনতাহা এক সাথে তাহাজ্জুদের নামাজ টা আদায় করে ঘুমিয়ে পরলো।
ভোরের আজান কানে আসতেই সর্বপ্রথম ঘুম ভাঙলো সিকান্দারের। তার প্রতিদিন এই টাইম টাতেই ঘুম ভাঙে। একটুও দেরি হয় না। সে চোখ মেলে পাশ ফিরে তাকালো। মুনতাহা গুটিশুটি হয়ে ঘুমিয়ে আছে তার বুকে। ঘুমটা ভাঙাতে ইচ্ছে করলো না। তবে নামাজ টা পড়াও জরুরি ঘুমের চেয়েও। সে বা হাত টা আস্তে করে মুনতাহার গালে রাখলো। তারপর কপালে চুমু খেয়ে নরম সুরে ডাকলো-
“ মন উঠুন। আজান দিচ্ছে। নামাজ পড়বেন না? উঠুন। ”
মুনতাহা নড়েচড়ে উঠলো। ঘুমঘুম কন্ঠে বলল-
“ আর একটু ঘুমাই না। ঘুম হয় নি আমার। ঘুমাতে দেন নি অর্ধেক রাত আমাকে। ”
সিকান্দার আশেপাশে তাকালো। তারপর মুনতাহাকে জড়িয়ে ধরেই উঠে বসলো। মুনতাহা তার সমস্ত ভার ছেড়ে দিয়েছে তার উপর। সিকান্দার তার চোখ মুখে আসে চুল গুলো যত্ন সহকারে কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে বলল-
“ নামাজ পড়ে ঘুমাবেন। কেউ ডিস্টার্ব করবে না আর। আমিও না। ”
মুনতাহা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো। তারপর ফের বিছানায় শুয়ে বলল-
“ আপনি আগে ওজু করে আসেন। শুধু ততক্ষণই ঘুমাবো প্রমিজ। আপনি বের হয়ে ডাক দিবেন। ”
সিকান্দার তাই করলো। ওজু করে বের হয়ে মুনতাহাকে ডেকে ওজু করতে পাঠিয়ে সিকান্দার নামাজ ঘরে গিয়ে নামাজে দাঁড়ায়। তার নামাজ শেষ হতে হতে মুনতাহা এসে নামাজে দাঁড়ায়।
সিকান্দার নামাজ শেষ করে প্রতিদিনের মতো কয়েকটা সূরা পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীর মাসাহ করে নেয়। মুনতাহার নামাজ শেষ হলে সিকান্দার সেই সেম সূরা গুলো ঠোঁটের কোণে উচ্চারণ করে মুনতাহার শরীরে ফুঁ দেয়।
মুনতাহা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো-
“ কি করলেন এটা? আমাকে বশে রাখার জন্য ঝাড়ফুঁক দিলেন নাকি?”
সিকান্দার হেসে ফেলল। তারপর ধীরে করে মুনতাহার কপালে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিয়ে বলল-
“ আমার স্ত্রীর দিকে শুধু শয়তান কেনো, কোনো বদনজরও যেন চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায় সেজন্য আপনার শরীরে দোয়া পড়ে ফুঁ দিলাম। আর এটা ঝাড়ফুঁক না, সুন্নাহ। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর আগে কিছু সূরা পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন। মানুষের নজর খুব ভয়ংকর জিনিস, মন। সব নজর ভালো হয় না। কিছু নজর সুখ সহ্য করতে পারে না, কিছু নজর ভালোবাসা সহ্য করতে পারে না। তাই আমি চাই, আপনাকে সবসময় আল্লাহর হেফাজতে রাখতে।”
মুনতাহার বুকের ভেতরটা হঠাৎ নরম হয়ে এলো। সে নিচু স্বরে বলল-
“ তাহলে কোন কোন সূরা পড়েন? ”
“ সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস… কখনো আয়াতুল কুরসিও। এগুলো সুরক্ষার জন্য পড়া হয়।”
“ আজীবন আগলে রাখবেন আমাকে এভাবে কেমন? ক্লান্ত হবেন না কিন্তু। আমি ভীষণ ভুলো মনের মানুষ। ”
সিকান্দার মুনতাহার এ কথা শুনে মুনতাহার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল-
“ দুনিয়াতে যদি কাউকে আগলে রাখার অধিকার আল্লাহ আমাকে দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা কেবল আপনি । তাই আপনার জন্য দোয়া করতে আপনার ভালো মন্দ নিয়ে ভাবতে গিয়ে কখনো ক্লান্ত হবো না আমি। ”
মুনতাহা ধীরে করে সিকান্দারের কাঁধে মাথা রাখল। আর সিকান্দার মনে মনে শুধু একটা দোয়াই করলো রবের নিকট –
“ ইয়া আল্লাহ… আমার এই আমানতকে আপনি নিজের হেফাজতে রাখুন সবসময়। ”
সিকান্দার রুমে এসে দু মগ কফি বানিয়ে নেয়। মুনতাহার দিকে এক মগ এগিয়ে দিতেই মুনতাহা সেটায় চুমুক বসিয়ে বলল-
“ আমি না একটা জিনিস দেখে অবাক হয়েছি। ”
সিকান্দার জিজ্ঞেস করলো-
“ কি? ”
“ আপনার এই নামাজ ঘরে সব আছে। কিন্তু তসবিহ নেই একটাও। অদ্ভুত লাগার মতো না বিষয়টা? ”
“ তসবিহ দিয়ে কি করবো আমি? ”
“ সে কি তসবিহ দিয়ে তো আল্লাহর জিকির গণনা করা হয়। ”
“ যিনি আমাকে চাওয়া মাত্রই সব দিয়ে গেছেন তাকে কেনো আমি গুনে গুনে ডাকবো মন? তসবিহ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক না। হাতের আঙুল দিয়েও যিকির করা যায়, এবং সেটাই সুন্নাহ অনুযায়ী বেশি উত্তম বলে অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন। তসবিহ ইবাদতের মূল অংশ না, বরং এটা সহায়ক উপকরণ। সেজন্য আমি তসবিহ ব্যবহার করি না। এজন্য কিনিও নি। ”
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। মুনতাহার কানে এসেছে সে কথা। ইলা ফোন করে বলেছে নিউজ টা। ইলা এই বন্ধে কদিনের জন্য ঘুরতে যাবে বান্দরবান। তাদের গ্রামের বাড়ি ওখানেই।
মুনতাহারও ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে হলো খুব। সে সেই যে ঐ বাড়ি থেকে এসেছে আর যায় নি। ময়না বেগম ফোন অব্দি করে নি। একদিন সালমান মির্জা অবশ্য ফোন করেছিল। যাওয়ার কথা বলেছিল। মুনতাহা হ্যাঁ না কিছুই বলে নি। সে আর যেতে চায় না ও বাড়িতে। মায়ের সংসারে মা এখন শান্তিতে থাকুক। কম তো অশান্তি দিলো না মুনতাহা জন্মের পর থেকে।
নাদিম দের অফিস থেকে তারা ক’জন ছেলে কর্মচারী মিলে বান্দরবান যাওয়ার প্ল্যান করলো। সিকান্দার কে ফোন করে বললো সে যাবে কি না। সিকান্দার না জানালো। নাদিম বসুন্ধরা আসলো কিছু কেনাকাটা করার জন্য। দুটো শার্ট আর দুটো থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট আর এক জোড়া বুট কিনে বাড়ি ফিরলো।
ময়না বেগম দুপুরে আজ রান্না করে নি। সকাল থেকে আচমকা শরীরে জ্বর এসেছে। নাদিম সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালো। খুলছে না দরজা। পাক্কা ১০ মিনিট সে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালো। তারপরও খুলছে না দেখে বিরক্তির চরম পর্যায়ে তার কপালে রাগ ফুটে উঠলো। দরজায় থাপড়াতে থাপড়াতে বলল-
“ কি আশ্চর্য দরজা খুলছেন না কেনো? ”
নাদিম পকেট থেকে ফোনটা বের করে ময়না বেগমের নম্বরে কল দিতে যাবে এমন সময় ময়না বেগম দরজা খুলে দিলো। নাদিম একবার তাকালো তার দিকে। বিরক্তি গলায় বলল-
“ কতক্ষণ ধরে আমি বেল বাজাচ্ছি। কোথায় ছিলেন আপনি? ”
ময়না বেগম দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে বলল-
“ শুনতে পাই নি। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝতে পারি নি। ”
নাদিম চলে গেলো রুমে। ময়না বেগম রান্না ঘরের দিকে যেতে নিলে পেছন থেকে নাদিম বলে-
“ আমি খেয়ে এসেছি বাহির থেকে। আর আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো? শরীর ঠিক আছে আপনার? ”
“ একটু জ্বর এসেছে। ”
নাদিম রুমে গিয়ে জ্বরের ঔষধ এনে টেবিলের উপর রেখে বলল-
“ কিছু খেয়ে ঔষধ টা খেয়ে নিন। জ্বর কমে যাবে। না কমলে বাবা কে বলবেন। তিনি ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবে। আর আমি সন্ধ্যার পর বান্দরবান যাচ্ছি। ফিরবো এক সপ্তাহ পর। ”
নাদিম চলে গেলো। ময়না বেগম ঔষধ টার দিকে তাকিয়ে রইলো। মুনতাহা থাকলে এখন কি করতো? রান্না ঘরে গিয়ে খাবার বানাত। টেবিলে রেখে বলতো-
“ খাবার টা খেয়ে নাও আম্মু। ঔষধ না খেলে জ্বর কমবে না। তুমি ঔষধ খেয়ে একটু রেস্ট নাও। আমি সব কাজ করে দিব চিন্তা করো না। ”
ময়না বেগম বিস্কুট এর বৈয়াম থেকে দুটো বিস্কুট বের করে খেয়ে ঔষধ টা খেয়ে রুমে এসে শুয়ে পরলো।
সিকান্দার আজ দুপুরে একটু ব্যাংকে গিয়েছিল। মুনতাহার নামে অ্যাকাউন্ট করেছে। তার কাবিনের সমস্ত টাকাটা মুনতাহার ব্যাংকে রেখে এসেছে। ব্যাংক থেকে বের হতেই সিকান্দারের মামা ফোন করেছে আজ সিকান্দার কে। সিকান্দার যে তাদের বললো সময় করে আসবে,সেই সময় আর কবে হবে? সিকান্দার এবার আর না করলো না। মুনতাহারও ভার্সিটি বন্ধ সিকান্দার ও তিন দিনের জন্য ছুটি নিয়ে একটু ঘুরে আসবে। গ্রামীণ পরিবেশে মুনতাহারও ভালো লাগবে। সেজন্য বললো এই সপ্তাহের মধ্যেই যাবে তারা। সিকান্দারের মামা সেই অপেক্ষাতেই রইলো।
সন্ধ্যার পর সিকান্দার বাড়ি ফিরে গাড়িটা পার্কিং এরিয়াতে সাইট করে গাড়ি থেকে নেমে বাগান দিয়ে হেঁটে আসার সময় অদ্ভুত এক ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো তার শরীর দিয়ে। ভ্রু তে তর্জনী আঙুল ঠেকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটার সময় তার চোখ গিয়ে থামলো কিছুটা দূরে এক ঝোপের দিকে। একটা কালো কুচকুচে বিড়াল অদ্ভুত এক রাগী দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। থেকে থেকে কিভাবে ফুঁসে উঠছে। সিকান্দার পশুপাখি ভালোবাসে অনেক। তবে এই বিড়ালটা দেখে তার মনের মধ্যে একটুও ভালো লাগা কাজ করলো না। উল্টো ভ্রু কুঁচকে আসলো তার। দ্বিতীয় বার আর ফিরেও তাকালো না।
হেঁটে বাড়ির সদর দরজায় পা রাখতেই দেখলো সেলিম মির্জা মিষ্টি নিয়ে এসেছেন। টেবিলে মিষ্টি আর কিছু তরল জাতীয় ড্রিংকস। সিকান্দার কে দেখেই সেলিম মির্জা এগিয়ে আসলো। কাঁধে হাত রেখে বলল-
“ আজ আমি অনেক খুশি সিকান্দার। ”
সিকান্দার ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো-
“ খুশির কারন? ”
“ তোমার কারনে আমার বিজনেস টা আরো লাভের মুখ দেখেছে আগের থেকে। সেই খুশিতে আমি আজ মিষ্টি নিয়ে এসেছি। সেলিব্রেশন করা উচিত না বলো? ”
“ রবের নিকট শুকরিয়া আদায় করে সেলিব্রেশন করুন। ”
সেলিম মির্জার মুখটা কুঁচকে গেলো বিরক্তিতে এ কথা শুনে। কথায় কথায় এ ছেলের শুধু ধার্মিক জ্ঞান দেওয়া ফরজ।
“ আমাদের হয়ে তুমি করো শুকরিয়া আদায় । ”
সিকান্দার আশেপাশে তাকালো। বাড়ির সবাই আছে। নেই কেবল মুনতাহা। ডাকে নি নিশ্চয়ই তাকে। সিকান্দার পা বাড়িয়ে রুমের দিকে হাঁটা ধরলে সেলিম মির্জা তার হাত টেনে ধরে।
“ মিষ্টি খাবে না? ”
“ আমি মিষ্টি খাই না। ”
“ একটা তো খাও। দেখো মিষ্টি ছাড়াও অনেক কিছু আছে,কাচ্চি, ঠান্ডা, দই। কিছু তো খাও। ”
“ আমাকে আগে রুমে যেতে দিন। ফ্রেশ হবো। নামাজ পরবো। ”
“ খেয়ে যাও আগে একটা। তারপর উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে বউ কে সাথে নিয়ে এসো। ”
সিকান্দার অনেকটাই বিরক্ত হলো। এগিয়ে এসে একটা মিষ্টির একটু অংশ ভেঙে নিতে চাইলে সেলিম মির্জা এগিয়ে এসে বললো-
“ আমার হাত থেকে নাও। এটা খাও। ছানার মিষ্টি এটা। ভালো লাগবে খেতে। ”
সিকান্দার একটু খানি ভেঙে মুখে নিয়ে চলে গেলো। সেলিম মির্জা বিরক্ত হলো। খেতে বলেছিল পুরোটা। এ ছেলে তো একটু খেয়েছে।
সিকান্দার রুমে এসে মুনতাহা কে শুয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“ শরীর খারাপ এখনো?”
মুনতাহা উঠে বসে বলল-
“ না। ”
“ তবে?”
“ আমাদের একটু ঘুরতে যাওয়া উচিত দূরে কোথাও। সমুদ্র বা পাহাড়ে? ”
“ আজ মামাজান ফোন দিয়েছিল। আমি বলেছি এ সপ্তাহে যাব। আগে সেখানে যাই? ”
“ সত্যি যাব আমরা ? ”
“ হুমম। ”
“ খুশি খুশি লাগছে আমার ভীষণ। ”
“ আপনার এই খুশির জন্য আমি সিকান্দার সব করতে রাজি ম্যাডাম। ”
সিকান্দার ফ্রেশ হয়ে নামাজ শেষ করতেই রেণু এসে ডেকে গেলো তাদের। সেলিম মির্জা ডেকেছেন। সিকান্দার মুনতাহা কে নিয়ে গেলো নিচে। খাবার টেবিল পুরোটা খাবার দিয়ে সাজানো। ক্ষুধাও লেগেছে তাদের। সিকান্দার মুনতাহা কে নিয়ে বসলো। অর্নব সিকান্দার আর মুনতাহা কে দেখেই চলে গেছে। সে সোফায় বসে খাবে। ভাইয়ের হাতে আর চ’ড় খেতে রাজি নয়। সিকান্দার বলে দিয়েছে মুনতাহার সামনেও যেন তাকে না দেখা যায়।
সেলিম মির্জা নিজে প্যাকেট থেকে কাচ্চি বের করে সিকান্দারের প্লেটে ঢেলে দিচ্ছে। মুনতাহার প্লেটেও দিলেন। তবে আলাদা প্যাকেট থেকে। নইলে বলা তো যায় না ছেলে আবার নিজের প্লেট থেকেই দিয়ে দিলো।
সিকান্দার অবাক হচ্ছে বটে সেলিম মির্জার এমন ব্যবহারে। এত আদর আপ্যায়ন। অবাক হওয়াটা স্বাভাবিকই।
সিকান্দার বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করলো। সেলিম মির্জা গ্লাসে পানি না দিয়ে কোকাকোলা দিলেন। সিকান্দার চোখ মুখ কুঁচকে বলল-
“ আপনি জানেন না আমি ইসরায়েল প্রডাক্ট ছুঁয়ে অব্দি দেখি না। পানি কোথায় টেবিলে? ”
সেলিম মির্জা পানির বোতল থেকে পানি ঢেলে দিলেন গ্লাসে। সিকান্দার পানিটা খেয়ে বাকি খাবার টা খেয়ে নিলেন। খাওয়া শেষে আবার মিষ্টি দিলেন সেলিম মির্জা সিকান্দারের প্লেটে।
“ আবার মিষ্টি! বলেছি না আমি মিষ্টি খাই না। ”
সেলিম মির্জা মুনতাহার প্লেটেও দিলেন। মুনতাহা চুপচাপ খেলো। সেলিম মির্জা বললেন-
“ একটা মিষ্টিই তো দিয়েছি। খেয়ে নাও। ”
সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৪
মুনতাহাও খেয়ে নিতে বলল। সিকান্দার মিষ্টি টা খেয়ে হাত ধুয়ে চলে গেলো মুনতাহাকে নিয়ে রুমে। সিকান্দার চলে যাওয়ার পর মনোয়ারা বেগম, সিমরান, অর্নব সবাই চলে গেলো ঘুমাতে। বসার ঘরে বসে রইলো সাইদা মির্জা আর সেলিম মির্জা। তাদের মুখে অদ্ভুত এক হাসি। মিষ্টি খাবার পানি সব কিছুতেই তান্ত্রিক ঝাড়ফুঁক দিয়ে দিয়েছিলেন। আর সিকান্দার কে কৌশলে তা সবই খাওয়ানো হয়েছে। এবার দেখার পালা এটার প্রভাব সিকান্দারের উপর পড়ে কি না।
