Home সিকান্দার শাহ্ সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২৭

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২৭

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২৭
Raiha Zubair Ripti

সিকান্দারের একাধারে গগনবিহারী এক একটা ডাকে রীতিমত হুমড়ি খেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো সাইদা মির্জা আর সেলিম মির্জা। সেই ডাক গুলো ছিলো সেলিম মির্জা ও সাইদা মির্জার সরাসরি নাম ধরে। সিকান্দার তার এই ২৯ বছর বয়সে কখনো সেলিম মির্জা কে বাবা ডাকে নি। আর সাইদা মির্জা কে মা ডাকা তো দূরে থাক।
সেলিম মির্জা হুইলচেয়ার টা ঠেলে সিকান্দারের সামনে এসে তিক্তবিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো,

“ কি হয়েছে কি? এভাবে বেয়াদবের মতো চেচাচ্ছ কেনো? সমস্যা কি? ”
সিকান্দারের শার্টের উপরের একটা বোতাম টা খোলা। নিচে টাই পড়ে আছে। হাতা কনুই অব্দি গোটানো। শরীর অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। ছেলের এমন অবস্থা দেখে একটু ধারণা হলো কিছু তো হয়েছে। যার জন্য এই ছেলে এভাবে রেগে আছে। কিন্তু হয়েছে টা কি?
সিকান্দার ইশারায় রেণু কে মুনতাহার কাছে যেতে বললো। সাথে এ-ও বললো,জলপট্টি দিতে। আর ড্রয়ারে ঔষধ আছে৷ সেটা খাবার খাওয়ানোর পর খাইয়ে দিতে।
রেণু বাধ্য মেয়ের মতো প্লেটে খাবার নিয়ে চলে গেলো। সিকান্দার চায় না তার রাগ বাহিরের কাউকে দেখাতে। সে যতটা সম্ভব রাগ থেকে সচারাচর দূরে থাকে। শরীরে রাগ হানা দিলে বাসায়, লোকজনের আশেপাশে থাকে না। একাকী মসজিদে গিয়ে বসে থাকে।
কিন্তু এটা মোটেও সেই সমস্ত রাগ নয় যে মসজিদে গিয়ে বসে নিরালায়ে রাগ কমাবে। এই রাগ তার ভেতরের সব কিছুকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিচ্ছে। ফুঁসতে ফুঁসতে সাইদা মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ মুনতাহার হাত পুড়লো কি করে? ”
সাইদা মির্জা বিরক্ত হয়ে বলল,

“ আমাকে জিজ্ঞেস করে লাভ কি? আমি কি ওর পাশে ছিলাম? তোমার বাবার অফিসের কিছু লোক আসবে বলে রান্নার ব্যবস্থা করতে বলেছিলাম। কিন্তু তোমার বউ যদি রান্নাই না পারে, তাহলে আগে বলল না কেন? এখন হাত পুড়িয়ে শুয়ে আছে, দোষও আবার আমার!
“ আমি তো এখনো আপনার দোষ দেই নি। আর আপনি না রান্নার দায়িত্ব নিয়েছিলেন? তাহলে?
সাইদা মির্জা চোখ মুখ কুঁচকে ব্যাথা পাওয়ার মতো মুখ করে বলল,
“ আর বলো না,আমার তো পা টা মচকে গেছে। আমি তো অসুস্থ, হাঁটতে পারি না। সেজন্য মুনতাহাকে বলেছিলাম রান্নার কথা। ”
সিকান্দার সাথে সাথে হাত বাড়িয়ে টেবিল থেকে কাঁচের গ্লাস টা ফেলে দিলো। হুংকার দিয়ে বলল,
“ শাট আপ। জাস্ট শাট আপ। আর একটা যদি মিথ্যা কথা বলেছেন তো। কি সমস্যা আপনাদের,হু? বলুন,কি সমস্যা? কেনো আপনারা আমাকে শান্তি দিচ্ছেন না? আমি প্রথম দিনই বলে দিয়েছিলাম না মুনতাহা কোনো কাজের মেয়ে না। মুনতাহা আমার স্ত্রী। সে কোনো কাজ করবে না৷ রান্না ঘরে ঢুকবে না? বলিনি আমি? তারপরও কেনো আপনি মুনতাহা কে দিয়ে এত এত মানুষের রান্না করালেন। আপনাদের কি টাকা পয়সার কম পড়ে যাচ্ছিল যে এত এত লোক রাখতে পারছিলেন কিন্তু রান্নার জন্য লোক রাখতে পারছিলেন না৷ না পারলে আমাকে বলতেন ৷ আমি রেখে দিতাম৷ ”
সাইদা মির্জা চটে গেলেন। ফ্লোরে ভাঙা গ্লাস টার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“ এই ছেলে এই কাকে এসব শোনাচ্ছ তুমি? তোমার বউকে কি আমি জোর করেছি? নিজেই তো চলে গেলো নিজ থেকে রাধঁতে। আর রাধঁতে গিয়েই হাত পা পুড়িয়ে বসে আছে। ”
“ বলেছিলাম না আপনায় মিথ্যা কথা না বলতে? তারপরও আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে কন্টিনিউসলি মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন। ”
“ এই কি মিথ্যা বলছি আমি? ”
“ কাউন্ট করে করে বলবো? ওকে তাহলে শুরু করছি। আমার স্ত্রীর উপর সরাসরি অত্যাচার করতে পারছিলেন না বলে প্রথমে খাবারের কষ্ট দিতে লাগলেন৷ রান্না ঘর, গ্যাসের লাইন,ফ্রিজ সব লক করে রাখলেন। তাতেও কাজ হচ্ছিলো না বলে তারপর পা মচকানোর নাটক করলেন। ”
“ সিকান্দার!
“ আমি এখনো শেষ করিনি। শেষ করতে দিন৷ পা মচকানোর নাটক করে এত এত মানুষের রান্নার দায়িত্ব দিলেন। ইচ্ছে করে জুলি নামের অসভ্য মেয়েটাকে রান্না ঘরে পাঠিয়ে মুনতাহার শরীরে গরম মাড়,আর ভাত ফেলালেন কৌশলে । সন্ধ্যা থেকে মুনতাহার শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিলো। রেণুকে আসতে দেন নি মুনতাহার রুমে। ডক্টর ডাকতে দিন নি। আমাকে রেণু ফোন দিতে চেয়েছিল, সেটাও দিতে দেন নি। এসব কথা মিথ্যা? ”

“ মিথ্যা নয়তো কি? তোমাকে এসব কে বলেছে আমি ইচ্ছে করে করেছি? রেণু? এই রেণু এই,হতচ্ছাড়ি এদিকে আয় তুই। ”
“ খবরদার রেণু কে ডাকবেন না। রেণু কে ডেকে শাসালেই কি সত্যি টা মিথ্যা হয়ে যাবে? আমাকে আর কত ভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন আপনারা? ছোট থেকে তো আমাকে তিলেতিলে ধ্বংস করার চেষ্টাতেই আছেন। আর কত নিচে নামবেন আপনারা? ঘৃণা লাগে না আয়নায় যখন নিজেদের এই মুখ টা দেখেন তখন? ”
“ কোনো প্রমাণ আছে তোমার কাছে? প্রমাণ দিয়েই বিচার পাওয়া যায় না৷ আর তুমি কি না বিনা প্রমাণে আমায় দোষী সাব্যস্ত করছো! ”
সিকান্দার হাসলো এ কথা শুনে।
“ আমি তো কোনো বিচার চাইতে আসি নি আপনাদের কাছে৷ যার কাছে বিচার চাওয়ার দরকার তার কাছেই চেয়েছি। আর যার কাছে চেয়েছি তার নিকট কোনো বাহ্যিক প্রমাণের প্রয়োজন হয় না৷ সে অন্তর্যামী। কোনো ঘটনা, কোনো ছলচাতুরীই তার দৃষ্টিসীমার বাহিরে নয়। সে যখন বিচার করা শুরু করবে তখন আর এভাবে প্রমাণ খুঁজবেন না। আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর। তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বিচারক আর কেউ নেই। ”
সেলিম মির্জা মোটেও বউয়ের অপমান মুখ বুঁজে সহ্য করার মতো লোক নয়। স্ত্রী দোষ করুর আর না করুক। সে সর্বদা বউয়ের সাইডে দাঁড়ায়। আজও ব্যতিক্রম না৷ বউকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করে সে সিকান্দারের দিকে আঙুল তুলে বলল,

“ তখন থেকে তোমার অভদ্রতা আমি দেখে যাচ্ছি সিকান্দার। মায়ের সাথে কোন ছেলে এভাবে কথা বলে? তুমি না এতো ধার্মিক? ইসলাম মেনে চলো? তোমার ইসলাম বুঝি তোমায় মা বাবার সাথে অভদ্রতা করতে শিখিয়েছে? ”
সিকান্দার এই কথা শুনে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ কে মা? কে কার ছেলে? আমাদের সম্পর্ক টা কি ভুলে গেছেন আপনি? না উনি আমার মা। আর না আমি উনার ছেলে৷ আর হ্যাঁ শুকরিয়া আদায় করুন আমার ইসলাম আমাকে এই শিক্ষা টা দেয় নি। যদি দিত তাহলে আপনি সেলিম মির্জা আজ অব্দি যত অন্যায় অবিচার পাপ আমার সাথে করেছেন তার হিসেব নেওয়া শুরু করলে আপনাকে খুঁজেই পাওয়া যেত না। ছোট থেকে আমি কেবল ধৈর্য ধরে গেছি। আমি আমার এই ভাগ্যকে মেনে নিয়েছিলাম৷ ভেবেই নিয়েছিলাম,,সবার কপালে একজন আদর্শবান পিতা লেখা থাকে না। আমার কপালেও খোদা লিখেন নি। নিশ্চয়ই কোনো হিকমতের জন্যই এমন লিখেছেন। তারপরও যতই হোক জন্মদাতা পিতা ছিলেন তো৷ আপনার অধপতন আমাকে ভীষণ পীড়া দিত। সন্তান হিসেবে আমি আল্লাহর নিকট দু হাত তুলে সর্বদা আপনাদের হেদায়েত চেয়ে গেছি। ভেবেছি এক সময় হয়তো ভালো হয়ে যাবেন। কিন্তু নাহ্! দিন যত যাচ্ছে আপনারা ততই খারাপ হয়ে যাচ্ছেন। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছেন। আমার সুন্দর জীবনটাকে তচনচ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। কিন্তু আপনাদের জন্য দুঃখের বিষয় হলো আমি আর আপনাদের আমার জীবন নষ্ট করতে দিব না। আমি এই বাড়িতে ছিলাম কেবল দাদিজানের কথায়৷ তবে এখন আমার পক্ষে আর সম্ভব নয় থাকা। আমি আমার স্ত্রী কে নিয়ে চলে যাব এই বাড়ি ছেড়ে। ”

শেষের কথাটা শুনে চমকে উঠলো সেলিম মির্জা। কি বলছে কি এই ছেলে। এই ছেলেকে কাছে রাখার জন্য কি না কি করেছে সে।
“ খবরদার সিকান্দার বাড়ি ছাড়ার কথা বলবে না। বাড়ি ছাড়লে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। ”
“ খারাপ হওয়ার জন্য কি আরো কিছু বাকি আপনি রেখেছেন সেলিম মির্জা? বাবা হয়ে আপনি যা করেছেন,তা যদি পৃথিবী জানতো তাহলে খোদ পৃথিবী আপনাকে ভৎসনা দিতে শুরু করতো। আমি তো মির্জা বাড়ি ছাড়বোই। সাথে আপনার অফিসও। দেখি আপনি কি করতে পারেন।
“ খারাপ আমি এখনো সেভাবে হই নি। যদি হওয়া শুরু করি তাহলে তুমি সিকান্দার বেঁচেই থাকতে না এতদিন। আমার কথা শুনো। আমার কথা মতো চলো। দেখবে পৃথিবীর সব সুখ আমি সেলিম মির্জা তোমার পিতা,তোমার পায়ে এনে হাজির করবো। ”
“ খারাপ হন নি বলছেন? আমাকে খারাপ বানানোর জন্য কি না করেছেন আপনি? কালো যাদুর মতো নোংরা কাজটা অব্দি আপনি বাদ রাখেন নি। ”
সাইদা মির্জা আর সেলিম মির্জার মুখের রং পরিবর্তন হয়ে গেলো৷ তারা হয়তো ধারণাও করতে পারে নি সিকান্দার কালো যাদুর বিষয়ে জেনে গেছে।
“ কি,চমকে গেলেন তো? ভেবেছিলেন,আমি জানতে পারবো না তাই তো? বুঝতে পারবো না আপনাদের এই কুৎসিত চক্রান্তের বিষয়ে? এখন আবার আপনার স্ত্রীর মতো অস্বীকার করে প্রমাণ চাবেন না। আপনাদের হঠাৎ করে মুখের এমন বদলই প্রমাণ করে দিচ্ছে সবটা। ”
“ জেনেই গেছ তবে? তাহলে যাও অস্বীকার করলাম না এটা। করেছি কালোযাদু,বিপথগামী ছেলেকে পথে আনতে। ”

“ আমি বিপথগামী ছিলাম? ”
“ তা নয়তো কি? কোন কথা তুমি আমাদের শুনতে? ”
“ আপনাদের কথা শোনা মানে,আমার স্ত্রী কে ডিভোর্স দিয়ে জুলিকে বিয়ে করা৷ নামাজ কালাম ছেড়ে দিয়ে সারাদিন হাতে মদের বোতল নিয়ে বারে,ক্লাবে হোটেলে মেয়ে নিয়ে পড়ে থাকা। আধুনিকতার নামে অশ্লীল, খারাপ,বাজে কাজকর্ম করা তাই তো? দুঃখিত,আমি সিকান্দার শাহ্ ওমন ছেলে নই। আমাকে টাকা পয়সা,সুখের লোভ দেখিয়ে আমার রবের ছায়াতল থেকে সরানোর কখনোই সম্ভব না। আমার নিঃশ্বাস যতদিন চলবে ততদিন আমি কেবল আমার এক রবেরই গোলামী করে যাব। তার আদেশ নিষেধই মেনে চলবো। এর বাহিরে আর কারোরই না। আপনি কখনোই আমাকে সেই সুখ দিতে পারবেন যেই সুখ শান্তি আমার রব আমাকে দেন,আর না আমি কখনোই আপনার কথা মতো চলতে পারবো। ”
“ তাহলে কি সিদ্ধান্ত নিলে তুমি? বাড়ি ছাড়বে? ”
“ অবশ্যই। ”

সেলিম মির্জা ইশারায় স্ত্রী কে কিছু বললেন। তিনি সুরসুর করে উপরে চলে গেলেন। সিকান্দারের রুমে ঢুকলেন। মুনতাহা কে ততক্ষণে রেণু খাবার খাওয়া শেষে ঔষধ খাইয়ে এখন জলপট্টি দিচ্ছে । সাইদা মির্জা কে নিজের রুমে দেখে চমকালো।
সাইদা মির্জা সোজা আলমারির কাছে গিয়ে আলমারির পাল্লা খুলে মুনতাহার সকল গয়নাগাটি বের করে নিয়ে চলে গেলেন। ঘটনা টা এত চটজলদি হলো যে রুমে থাকা দুজন মানুষ ঠিক বুঝতে পারলো না৷ বোঝার আগেই রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন সাইদা মির্জা। মুনতাহা জিজ্ঞেস করলো রেণু কে,
“ উনি আমার গয়নাগাটি নিয়ে চলে গেলো কেনো রেণু? কিছু হয়েছে? ”
মুনতাহা মূলত কিছুই জানে না। নিচের কোনো শব্দই তার রুমে আসছিলো না দরজা বন্ধ থাকায়।
“ ভাইজানে নিচে ঝগড়া করতাছে স্যার আর ম্যাডামের লগে৷ আপনার হাত পা পুইড়া গেছে না? ম্যাডামে এগুলা ইচ্ছা কইরা করছে৷ এডি আবার আমি কইয়া দিছি ভাইজান রে। ভাইজান পুরা আগুনের লাহান হয়ে গেছে। নিচে সেই কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। ”
মুনতাহা ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে উঠে বসার চেষ্টা করলো। রেণু বাঁধা দিলেও শুনলো না। বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

“ আমাকে নিচে যেতে সাহায্য করো রেণু। ”
রেণু ধরে নিয়ে যেতে লাগলো৷ সেলিম মির্জা ছেলেকে তার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে দেখে বলল,
” তুমি ভেবেচিন্তে এই মির্জা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছ তো? ভুলে যেও না তুমি মির্জা বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে, তোমার একমাত্র অভিভাবক তোমার পিতাকে হারাবে। আর আমি তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী হলে, আমি সেলিম মির্জা তোমার জীবনটা জাস্ট জাহান্নাম বানিয়ে ছাড়বো। তোমার রিজিকের সব পথ আমি বন্ধ করে দিব। পথের ভিখারি বানাবো। বাংলাদেশের কোথাও তুমি চাকরি পাবে না জীবিকা নির্বাহ করার জন্য। মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। জানো তো তোমার বাবা একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ক্ষমতা কতদূর যেতে পারে।”
সেলিম মির্জার এই কথা শুনে সিকান্দার হেঁসে বলে উঠে-

“ ক্ষমতার দাপটে বোধহয় একেবারেই অন্ধ হয়ে গেছেন। তাই নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবছেন। তবে আপনার এই অল্প বিদ্যার ভয়ংকর চিন্তা ভাবনাকে সালাম জানিয়ে বলছি ফর ইয়্যুর কাইন্ড ইনফরমেশন সেলিম মির্জা , প্রথমত যেখানে স্বয়ং খোদা একমাত্র আমার রিজিক দাতা সেখানে আপনি সেলিম মির্জা কে আমার রিজিক বন্ধ করার ? দ্বিতীয়ত আমি আল্লাহ কে বলেছিলাম- আল্লাহ এই দুনিয়ায় আপনার গোলামের অভাব নেই। কিন্তু আপনি ছাড়া আমার আর কোনো অভিভাবক নেই। আল্লাহ রিপ্লাইড- আমি স্বয়ং খোদা তোমার অভিভাবক হলে তোমার আর কি লাগে? সুতরাং আমার একমাত্র অভিভাবক কেবল আমার আল্লাহ আপনি নন। তৃতীয়ত আমি একটা বইতে পড়েছিলাম। যেখানে লেখা ছিলো- নিজেকে এতটা উচ্চতায় নিয়ে যাও, যেন প্রতিটি নসিব লেখার আগে স্বয়ং খোদা তোমায় জিজ্ঞেস করে -বল বান্দা তোর কী প্রয়োজন? আর আমি সিকান্দার শাহ্ নিজেকে ঠিক সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছি। তাই আমাকে এসব বলে ভয় দেখাবেন না। আমার খোদা যদি আমার ভাগ্যে কষ্ট দূর্দশা লিখে রাখে তাহলে বুঝে নিবেন, আমি সিকান্দার শাহ্ তার থেকে এমন জীবনই চেয়ে নিয়েছি। আর আমি সেই জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট। ”

“ আমি কিন্তু তোমাকে সত্যি পথে বসিয়ে ছাড়ব। ”
“ আপনি একটা জিনিস বারবার ভুলে যাচ্ছেন। আপনি ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার মালিক হতে পারেন, কিন্তু তাকদীরের মালিক নন। ”
সেলিম মির্জার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
“ আমি তোমার বাবা। ”
“ এর বেশি আর কিছু না। ”
“ সিকান্দার! ”
“ সত্যি কথা শুনতে কষ্ট হচ্ছে? একজন বাবা সন্তানের জন্য ঢাল হয়। আপনি সারাজীবন আমার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন। একজন বাবা সন্তানের হাত ধরে সামনে এগিয়ে দেয়। আপনি সারাজীবন আমার পা টেনে ধরেছেন। একজন বাবা সন্তানের সুখে খুশি হয়। আপনি আমার প্রতিটা সুখ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাই আজ অন্তত বাবা শব্দটার অসম্মান করবেন না। ”
“ বেশ যাও আমি তোমাকে ত্যাজ্য করলাম৷ তোমার সাথে আমার যে একটা সম্পর্ক ছিলো তা আমি অস্বীকার করলাম। ভুলে গেলাম তুমি আমার ছেলে। আমি কেবল তোমাকে মনে রাখলাম আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। ”

“ খুবই উপকার করলেন আমার। স্বস্তি দিলেন। আমাকে এই সম্পর্ক থেকে মুক্ত দিয়ে অন্তত একটা ভালো কাজ করলেন। খুব ভারী ছিলো এই সম্পর্কের বোঝাটা আমার জন্য। আমার মাথার উপর থেকে এই বোঝা নেমে গেলো। তারজন্য আসলেই আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে। থ্যাংকিউ সো মাচ। তবে আপনি আমাকে ত্যাজ্য করার বহু আগেই আমি আপনাদের কাছে অনাথ হয়ে গিয়েছিলাম। ”
সেলিম মির্জা একথা শুনে আরো রেগে গেলো। সাপের মতো ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
“ আমিও দেখতে চাই তুমি সিকান্দার কিভাবে বাঁচতে পারো। আমি তোমাকে এই মির্জা বাড়ির দোরগোড়াতেই আবার এনে ছাড়বো ৷ তুমি হাত জোর করবে৷ পা ধরবে৷ ”
“ আমার মৃত দেহটাও আসবে না এই মির্জা বাড়ির ত্রিসীমানায়,জীবিত তো দূরের কথা। কথাটা বললাম মিলিয়ে নিবেন। আমি এই মির্জা বাড়ি ছাড়ছি আজীবনের জন্য। ”
“ আর একবার ভেবে নাও সিকান্দার। ভাবিয়া করিও কাজ। করিয়া ভাবিও না পরে। ”
“ ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমি একবার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার থেকে পিছু হাটি না। ”
মুনতাহার সিঁড়ির কাছটায় দাঁড়িয়ে কথা শুনছিলো তাদের। সিকান্দার একবার মুনতাহার মলিন ভঙ্গুর মুখটার দিকে তাকিয়ে রেণুকে বলল,

“ তোমাকে কি বলেছিলাম আমি রেণু? ”
“ ভাবিই হুনে নাই ভাইজান৷ জোর কইরা আইছে। ”
“ রুমে নিয়ে যাও। ”
সাইদা মির্জা বাঁধা দিয়ে বলল,
“ ওয়েট রুমে নিয়ে যাবে মানে? কিসের রুম? কার রুম? তুমি কিছুক্ষণ আগে কি বলেছিলে ভুলে গেছ? বলেছো বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। যাও,বেরিয়ে যাও মির্জা বাড়ি থেকে। ”
সিকান্দারের কপালে দু ভাজ পরলো।
“ আমি আমার জিনিসপত্র না নিয়েই চলে যাব? রুমে আমাদের কত জরুরী জিনিসপত্র আছে। সেগুলো নিব না? ”
“ না কিচ্ছু নিতে পারবে না। এ বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বেরিয়ে যাবে। তুমি মির্জা বাড়ি ছাড়তে চেয়েছো,আমরা ছাড়তে দিয়েছি। এই বাড়ি থেকে তুমি কি নিবে না নিবে তা ঠিক করবো কেবল আমরাই। ”
“ বেশ,তাহলে কেবল আমার স্ত্রীর জামাকাপড়, গয়নাগাটি বের করে দিন। চলে যাচ্ছি। ”
রেণু মুখ ফুটে বলে বসলো,

“ বড় ম্যাডামে তো ভাবির গয়নাগাটি সব নিয়া গেছে গা আলমারি খুইল্লা। ”
সিকান্দার চমকালো। সাইদা মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি কোন সাহসে আমার স্ত্রীর গয়নায় হাত দিয়েছেন? ওগুলো সব আমার টাকায় কেনা। শুধু গয়নাই নয়,ওই রুমের প্রতিটি জিনিস, প্রতিটি আসবাব, প্রতিটি প্রয়োজনীয় জিনিস আমার উপার্জনের টাকায় কেনা। সেগুলোর ওপর আপনাদের কোনো অধিকার নেই। তাহলে কেন নিয়েছেন?”
সাইদা মির্জা একটুও বিচলিত হলেন না। বরং সোফায় আরও আরাম করে হেলান দিয়ে ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বললেন,
“তুমি কি ভেবেছো, তোমাকে এমনি এমনি মির্জা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেব? একটা মূল্য তো চুকাতেই হবে। গয়না, জামাকাপড়, গাড়ি,কিছুই পাবে না। আর ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চয়ই তোমার ধারণা আছে? বেশি বাড়াবাড়ি করলে সোজা পুলিশ ডেকে জেলে ভরে রাখবো। তুমি কিচ্ছুটি করতে পারবে না৷ তখন তোমার মনের কি হবে? শান্তিতে বাঁচতে দিব আমরা? ”
শেষ কথাটা বলার সময় তার চোখেমুখে এমন এক নির্মমতা ফুটে উঠল, যা রক্তের সম্পর্ককেও লজ্জা দিতে পারে। ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সিকান্দার কিছুক্ষণ কোনো উত্তর দিল না। শুধু ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাল মুনতাহার দিকে। সিঁড়ির রেলিং আঁকড়ে ধরে রেণুর সাহায্যে নিচে নেমে এসেছে মুনতাহা। অসুস্থ শরীরটা কাঁপছে, মুখ ফ্যাকাশে, তবু চোখদুটো অদ্ভুতভাবে স্থির। সে এগিয়ে এসে সিকান্দারের পাশে দাঁড়াল। তারপর আস্তে করে সিকান্দারের হাতটা ধরে বলল,

“চলুন… আমরা চলে যাই।”
সিকান্দার তাকালো তার দিকে। মুনতাহা মৃদু কণ্ঠে বলল,
“আমার গয়না লাগবে না। কিছুই লাগবে না। আমার সবচেয়ে বড় অলংকার আপনি। আমার সবচেয়ে বড় সম্পদও আপনি। আমি আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে চাই না। আমাকে নিয়ে চলুন। যত দূরে সম্ভব নিয়ে চলুন।”
কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখ ভিজে উঠল।সিকান্দারের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। এই প্রথমবারের মতো নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হলো তার। এটা বলতে বাঁধা নেই। সেলিম মির্জার ক্ষমতার সামনে সিকান্দার আসলেই তুচ্ছ। তিনি চাইলেই বিনা কারনে সিকান্দার কে জেলে পাঠাতেই পারেন। কিন্তু সিকান্দার জেলে চলে গেলে মুনতার কি হবে? সেসব ভেবেই সিকান্দার গভীর একটা শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। তারপর শান্ত গলায় বলল,
“বেশ। আমরা এক কাপড়েই চলে যাব। আল্লাহ যেখানেই রাখবেন, সেখানেই থাকব। কিন্তু আমি আমার স্ত্রীকে বেপর্দায় নিয়ে যেতে পারব না। তার বোরকা আর নিকাবগুলো এনে দিন শুধু।”
সাইদা মির্জা বিরক্ত হয়ে চোখ উল্টালেন।

“রেণু, গিয়ে এনে দাও।”
রেণু দ্রুত উপরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর বোরকা-নিকাব নিয়ে ফিরে এলো। সিকান্দার মুনতাহার দিকে তাকিয়ে ইশারায় বলল,
“ রেণুর রুমে গিয়ে প্রস্তুত হয়ে আসুন।”
মুনতাহা মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। রেণুর সাহায্যে ধীরে ধীরে রেণুর রুমে চলে গেল সে।
মুনতাহা দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতেই সিকান্দার ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে সেলিম মির্জা আর সাইদা মির্জার দিকে তাকাল। এবার তার চোখে আর কোনো অসহায়ত্ব ছিল না।
“ একটা কথা মনে রাখবেন,ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। সম্পদও নয়। মানুষ যখন অন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেকে অজেয় ভাবে, তখনই তার পতনের শুরু হয়। আজ আমি খালি হাতে বেরি যাচ্ছি আমার অসুস্থ স্ত্রী কে নিয়ে এক কাপড়ে এই মির্জা বাড়ি থেকে। আমার রব সেসব দেখছেন। একজন মজলুমের দীর্ঘশ্বাস আর একজনের চোখের পানির হিসাব তিনি কখনো ভুলে যান না। আমি আপনাদের পতন আমার রবের হাতে ছেড়ে দিলাম। তিনি উত্তম ফয়সালাকারী। ”

“ শুভকামনা রইলো তোমার নতুন জীবনের জন্য। কথায় আছে এক গাছের ছাল অন্য গাছে লাগে না। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ তুমি সিকান্দার। ”
“ এগজ্যাক্টলী, এক গাছের ছাল অন্য গাছে লাগে না৷ সৎ মা সৎ মাই হয়। আপন মা হতে পারে না। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আপনার স্ত্রী । ”
“ ভদ্র ভাবে কথা বলো সিকান্দার। তুমি বোধহয় ভুলে গেছো তুমি আসলে কার সন্তান? আমার সন্তান হলে তোমার অন্তত এই করুণ দশা হতো না। ”
“ নাহ্ ভুলি নি। কিচ্ছু ভুলি নি। আমি সেই হুমায়রার সন্তান যাকে আপনার সন্তান হচ্ছিলো না বলে আপনার স্বামী সেলিম মির্জা ভালোবাসার নাম করে মিথ্যা বলে বিয়ে করেছিল।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যার কোল থেকে তার একদিনের শিশু কে কেঁড়ে নেওয়া হয়েছিল।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যাকে সন্তান জন্ম দেওয়ার দিনই ডিভোর্স দেওয়া হয়েছিল।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যে তার সন্তান কে একটিবার দেখার জন্য রোজ মির্জা বাড়ির গেটে আসতো আর তাকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দেওয়া হতো।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যে কি না তার জন্ম দেওয়া সন্তান কে কোনো দিন দেখতেই পারে নি।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যার সন্তানকে কি না মা থাকতেও মায়ের দুধ পান করতে দেওয়া হয় নি।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যে কি না টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ফ্ল্যাটে মরে পঁচে ছিলো একটি মাস।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যে কি না তার জন্ম দেওয়া সন্তানটাকে না দেখেই ৩ বছরের মাথায় পৃথিবী ছেড়েছিল।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান, যার কবরের উপর আপনার স্বামী সেলিম মির্জা ১০ তালার একটি বিল্ডিং গেঁথেছিল।
আমি সেই হুমায়রার সন্তান যে সন্তান মা’কে দেখা তো দূরে থাক। মায়ের কবরটা অব্দি আজও দেখতে পারে নি। আর আমি আজীবন সেই হুমায়রার সন্তান হয়ে,সেই এক পরিচয় নিয়েই বাঁচতে চাই। ”
মুনতাহা আসলো। সিকান্দার তার স্ত্রীর হাত টা ধরে রেণুর দিকে তাকিয়ে বলল,

“ দাদিজানের যত্ন নিও রেণু। বলে দিও আমি আর নেই। চলে গেছি। আর নিজেরও খেয়াল রেখো। কখনো দরকার হলে আমাকে একটা কল করো। বড় ভাই হিসেবে আমি সর্বদা তোমার সাথে আছি। ”
কথাটা বলে সিকান্দার মুনতাহা কে নিয়ে চলে যেতে নিলে সাইদা মির্জা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“ দাঁড়াও। ”
সিকান্দার দাঁড়িয়ে গেলো। সাইদা মির্জা এগিয়ে এসে মুনতাহার পুড়ে যাওয়া হাতটা থেকে হাত মোজা টেনে খুলে ফেললো। তারপর বা হাতের অনামিকা আঙুল থেকে ডায়মন্ডের আংটি টা টেনে খুলে বলল,
“ এটা নেওয়া হয় নি। নিয়ে নিলাম। এবার যেতে পারো। ”
আংটি টা টেনে খোলার কারনে পুড়ে যাওয়া চামড়া টা উঠে আসলো হাত থেকে। ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো। সিকান্দার হাতটা ধরে রাগী দৃষ্টি নিয়ে তাকালো৷ তার মানুষ খুন করার মতো রাগ ঘৃণা হচ্ছে। যেখানে সিকান্দার মুনতাহার হাতটা কখনো শক্ত করে চেপে ধরে না ব্যথা পাবে এই ভয়ে সেখানে তারা তার স্ত্রীর এই অবস্থা করে ছাড়লো। সিকান্দার পকেট থেকে রুমালটা বের করে মুনতাহার হাত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করার চেষ্টা করলো। সাইদা মির্জা দারোয়ান ডেকে বলল,

“ এরা চলে গেলে দরজা বন্ধ করে দিবে। যতসব ছোটলোক। ”
সিকান্দার আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ায় নি। সেই মধ্য রাতেই তার অসুস্থ স্ত্রী কে নিয়ে বেরিয়ে গেলো এক কাপড়ে মির্জা বাড়ি থেকে। ভিজে গেল মির্জা বাড়ির ফ্লোর স্ত্রীর হাতের রক্তে সিকান্দার আর মুনতাহার হাত গড়িয়ে টপটপ করে।
প্রধান ফটক পেরিয়ে তারা অন্ধকারে হারিয়ে যেতেই সেলিম মির্জা ধীরে ধীরে পকেট থেকে ফোন বের করলেন প্রথম নম্বরে কল দিয়ে বললেন,
“সিকান্দার শাহ্ আর মুনতাহা মুনের নামে যত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, ভোর হওয়ার আগেই সব অ্যাকাউন্ট গুলো ফ্রিজ করে দাও। একটা টাকাও যেন তুলতে না পারে। ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখাও। ”
দ্বিতীয় নম্বরে কল করলেন।
“ওর মায়ের নামে যে ফ্ল্যাটটা আছে… ওটা আমি কিনেছিলাম, তাই না? আজ থেকেই সেটা সরকারের নিরাপত্তা হেফাজতে যাবে। গুলশানের ফ্ল্যাটের দায়িত্বে যারা আছে তাদের বলে দাও, সিকান্দার যেন সেখানে পা রাখতে না পারে। ”

তৃতীয় কলটা সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল।
“ওদের সব পাসপোর্ট আর ট্রাভেল ডকুমেন্ট আটকে বাতিল করে দাও। ইমিগ্রেশনকে জানিয়ে দাও, সিকান্দার শাহ্ আর মুনতাহা মুন দুজনই হাই-রিস্ক ওয়াচলিস্ট এ। দেশের বাহিরে যেন এক পা-ও রাখতে না পারে। ”
ফোনটা কেটে কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে সেলিম মির্জা ঠান্ডা গলায় বললেন,

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২৬

“আজ থেকে সিকান্দার শাহ্ শুধু আমার অবাধ্য ছেলেই না। আজ থেকে সে আমার প্রতিপক্ষ। আর আমার প্রতিপক্ষের জীবন কতটা কঠিন হয়, সেটা তুমি বুঝে যাবে সিকান্দার। ”
সিকান্দার শাহ্ হয়তো ভাবছে সে শুধু মির্জা বাড়ি ছেড়েছে। অথচ সে জানে না, আজ রাত থেকেই পুরো পৃথিবী তার জন্য একটু একটু করে ছোট হয়ে আসছে। আর এই পৃথিবীতে তার বেঁচে থাকাটাকে ক্রমশ সংকুচিত করছে তারই জন্মদাতা পিতা৷

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here