সে খলনায়ক পর্ব ৩৫
ফারহানা সানিয়াত
বেশ কিছুদিন পর। আবরার ম্যানশনের সদর দরজার কাছে বাড়ির সকলে দাঁড়িয়ে, হুমায়ুন আবরার দু মাসের জন্য চায়নাতে যাচ্ছেন চিকিৎসার ক্ষেত্রে। আজকাল তার শরীরের অবস্থা বেশ একটা ভালো থাকে না বয়সের সাথে সাথে শরীরের অসুস্থের বাসা বাঁধেছে। তবে সুস্থ কে না থাকতে চায় তাই ডক্টরদের পরামর্শ নিয়ে আজ ই তিনি চায়না চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন । তাকে বিদায় জানানোর জন্য আপাতত সকলে দাঁড়িয়ে। হুমায়ুন এক এক করে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সবশেষে দামিয়ান জরিয়ে ধরেন। দামিয়ান ও তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে,
__ চিন্তিত কর না আমি খেয়াল রাখবো।
হুমায়ূন তপ্ত শ্বাস ফেলে ছেলে কে ছেঁড়ে দাঁড়ান। দুই মাস তার অনুপস্থিতিতে ব্যবসার কিছু দায়িত্ব দামিয়ানকে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাকি গুলো হাবিব সামলে নিবে তবুও পুরোপুরি ব্যবসা থেকে সরে আরেক জায়গায় যাওয়া ভেতরে কেমন খুঁতখুত লাগছে তার কাছে তবে বিশ্বাস আছে তার ছেলে ,ভাই সামলে নিবে।
__ কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই আমাকে জানাবে।
পাশ থেকে হাবিব আশ্বস্ত করে বলেন,,
__ অবশ্যই ভাইজান আপনি চিন্তা মুক্ত হয়ে যান আমি আছি ,
হুমায়ূন বিপরীতে দুর্বল হাসেন এরপর আবারো সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে বসেন এরপর রওনা হন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে।
হুমায়ূন চলে যেতে রাইমা সারা আর আহানাফ ভেতরে চলে যায়।
হাবিব দামিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন,
__ দু মাস তোমার ওপর একটু চাপ পড়ে যাবে। নিজের ব্যবসা আমাদের ব্যবসা সামলানো নিয়ে দুঃখীত এর জন্য তবে চিন্তা করো না আমি বাহিরের এক্সপোর্ট ইমপোর্টের যেসব আছে সেদিকে খেয়াল রাখবো। তুমি শুধু ফ্যাক্টরের দিকগুলো দেখো নিলয় তোমাকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে দিবে।
হাবিব কথাগুলো বলতে বলতে তাদের থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নিলয়ের দিকে তাকায়,
নিলয় দৃষ্টি নত করে।
দামিয়ান মাথা নাড়ায় ঠিক আছে।
হাবিব স্বচ্ছ হেসে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ান তবে কিছু একটা মনে পড়তেই থেমে বলে ওঠেন।
__ আশ্রমের দায়িত্বটাও তোমার, দেশে বেশি একটা আমার থাকা হবে না তাই দায়িত্ব এই তোমাকে নিতে হবে।
দামিয়ান ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটিয়ে ফের নাড়ায়। হাবিব চলে যায়, তিনি চলে যেতে ই
দামিয়ান ডেকে ওঠে,
__ নিলয়!
নিলয় দৃষ্টি তুলে তাকায়,
__ জি স্যার,
গেস্ট হাউসে দিকে কেউ যাতে না আসে আমি মিটিং এটেন্ড করব ।
এখান থেকে দামিয়ানের নিজের ব্যবসার কিছু ইম্পর্টেন্ট মিটিং এটেন্ড করতে হয়।
নিলয় মাথা নাড়ায় ওকে স্যার।
দামিয়ান আর কিছু বলে না সোজা গার্ডেনের দিকে দৃষ্টি রেখে ধীর পায়ে গেস্ট হাউজের দিকে হাটা ধরে।
সকালের মিষ্টি রোদ গার্ডেন চারপাশে ছড়িয়ে নানান রংবেরঙের ফুল ফুটে আছে। দামিয়ান গার্ডিনের সরু রাস্তা দিয়ে পিছে দু হাত বেঁধে হাঁটছে তার দৃষ্টি আশেপাশে তবে রংবেরঙের ফুল আর তাদের সুবাস তাকে বিরক্ত করেছে।
দাঁড়িয়ে যায় দামিয়ান ।
সরু রাস্তার একপাশে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের বাগান যেখানে তার সাদা গোলাপের কোনো অস্তিত্ব নেই । দামিয়ান হাত বাড়িয়ে একটা চন্দ্রমল্লিকা দুমড়ে মুছরে ছিঁড়ে ফেলে। তার মুখ শান্ত শীতল থাকলেও তার মন ছিল অশান্ত অস্থির।
সে ফের হাঁটা শুরু করে তার হাঁটার গতি রুক্ষ।
শেষ প্রানপ্রিয়াকে দেখা গিয়েছিল এই বাসায় তার পেন্টিং এর কাজের সময় এরপর আর তার দেখা নেই। অবশ্যই এটা তার নিজ ইচ্ছেতে কিন্তু এবার!!!
শরতের শেষে হেমন্তের আগমন সূর্যের গারো রশ্নির সাথে মৃদু শীতল হাওয়া প্রানপ্রিয়া খুব পছন্দের একটা কাল। সে খুশিমনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে পরনে লাল রঙের চুড়িদার কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো স্কুল থেকে ফিরছে সে । তার দৃষ্টি রাস্তার দুপাশে মেহগনি গাছের দিকে যেখানে পাখিরা কিচিরমিচির শব্দ করছে। প্রানপ্রিয়া ভাবে এমন পরিবেশে বসবাস করলে কারো মন ই বিষন্ন হয়ে থাকে না। তাই তো এই আশ্রমে আসার পর থেকে সে হাসিখুশি প্রাণোচ্ছল ছিল এবং এখনো তাকে মন খারাপ থাকতে দেয় না। প্রানপ্রিয়া ভেবে হা করে শ্বাস ফেলে এরজন্য সব খারাপ সময়ের পর দিনগুলো তার এখন ভালো ই কাটছে। তবে হ্যাঁ একজনকে সে সবসময় খুব মিস করে। যার সাথে খারাপ স্মৃতি গুলো মুছে ভালো স্মৃতি গুলো সে মনে করে। প্রানপ্রিয়া মৃদু হাসে অবশ্যই ভালো সময় খারাপ সময় মিলিয়ে ই জীবন যেখানে অনেক কিছু হারিয়ে যাবে আবার নতুন করে জীবনে অনেক কিছু যুক্ত হবে।
আশ্রমের গেট দিয়ে প্রবেশ করে প্রানপ্রিয়া। সেলিনা সদর দরজার কাছে বসে কাঁথা সেলাই করছেন পাশে মিসেস সুফিয়া ও আছেন প্রানপ্রিয়া এগিয়ে যায়।
__ কেমন আছেন আন্টি, প্রানপ্রিয়া মুখে হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করে।
বসে থাকা সেলিনা আর সুফিয়ার কথা বলার মাঝে মিষ্টি কন্ঠস্বর শুনে দুজনেই তাদের সামনে দিকে তাকায়।
__ আরে টিচার প্রাণপ্রিয়া নাকি, সুফিয়া স্বচ্ছ হেসে বলে ওঠেন।
প্রানপ্রিয়া কিছুটা লজ্জা পায় আজকাল যে কেনো তাকে সবাই এভাবে ডাকে।
__ তোমাকে আমি শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলাম। তবে তুমি স্কুলে বলে ভেবেছিলাম হয়তো দেখা হবে না কিন্তু দেখা হয়ে ই গেল।
প্রানপ্রিয়া লজ্জা কাটিয়ে তার দিকে তাকায়,
__ শুভেচ্ছা? তার কপালে ভাঁজ
সুফিয়া হেসে তার পাশ থেকে একটা বক্স বের করে তার দিকে দিয়ে বলেন।
__ হুম তাও দুটো কারণে প্রথম স্কুলে চাকরি পার্মানেন্ট পাওয়ার জন্য আর এত ভালো রেজাল্ট যে করেছো কি ভুলে গেছো?
প্রানপ্রিয়া চোখ দুটো পিটপিট করে। তার দুদিন আগে এইচএসসির রেজাল্ট দিয়েছিল। এ প্লাস পেয়েছে সে,
প্রানপ্রিয়া মেকি হেসে ওঠে, ওওওওওও আচ্ছা
সেলিনা সুফিয়া দুজনেই হেসে ওঠেন।
সুফিয়া বলেন,
__ এখন নাও, তোমার জন্য পছন্দের মিষ্টি এনেছি, ভালো খবরের মিষ্টি না খেলে কি হয় ?
প্রানপ্রিয়া সুফিয়ার হাতের সাদা রঙের মাঝারি সাইজের বক্সের দিকে তাকায় । অতঃপর মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে হাত বাড়িয়ে বক্সটা নেয়।
__ অনেক অনেক ধন্যবাদ আন্টি,
সুফিয়া বসা থেকে উঠে দাঁড়ান। তাকে দাঁড়াতে দেখে সেলিনা ব্যস্ত কন্ঠে বলে ওঠেন,,
__ কোথায় যাচ্ছ আমি চা নিয়ে আসি বসো।
সুফিয়ার নাকচ কন্ঠ, আরে না না যেতে হবে আমার কাজ আছে তোমাকে তো বলেছি কেনো এসেছি,
কথাটা বলেই সুফিয়া প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকান।
প্রাণপ্রিয়া দুজনের দিকে কৌতুহল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে,
__ শুভেচ্ছা জানানোর সাথে আমি একটা খবর দিতেও এসেছিলাম। ছোট সাহেব যেতে বলেছে প্রিয়া। আশ্রমে প্রথম কোনো মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে এত ভালো রেজাল্ট করেছে তাই তিনি চাইছেন তুমি তার সাথে দেখা করো।
সুফিয়ার বলা কথাগুলো প্রাণপ্রিয়া খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিল কিন্তু ছোট সাহেব টা কে কাকে বুঝিয়েছে মাথায় ঢুকতেই প্রাণপ্রিয়া তড়িৎ গতিতে বলে ওঠে,
__ না,
সেলিনার সুফিয়ার কপালে মুহূর্তে ভাঁজ,,
__ না মানে, দুজন একসাথে বলে ওঠেন ।
প্রানপ্রিয়া চোখ মুখ শক্ত করে দৃষ্টি এদিক ওদিক ঘুরিয়ে কিছুটা আমতা আমতা করা শুরু করে।
পেন্টিং এর কাজ শেষ হওয়ার পর সে ওই আবরার ম্যানশনের আশেপাশে ও ঘেঁষে নি । জঙ্গলে যাওয়া এখন অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। নিজে ভাবনার মত প্রাণপণ দিয়ে চেষ্টা করছে যেন কোনো ভাবে ওই লোকটা সামনে না পড়ে কিন্তু কেনো! কেনো! এমন পরিস্থিতি হয় যে পাগল অশ্লীল লোকটার কাছে তার যেতে হয়।
__ কি হলো চুপ হয়ে আছো কেনো?
সেলিনা জিজ্ঞেস করেন,
প্রানপ্রিয়া জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়,
__ না,,, না মানে কেন যাব।
সুফিয়া মুখে হাত দিয়ে বলেন, কেন যাব মানে তাদের আশ্রমের কোনো মেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তাও ভালো রেজাল্ট করে অবশ্যই হয়তো কোনো সুযোগ সুবিধা পুরস্কার কিছু তো একটা দিবে।
প্রানপ্রিয়ার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম সে ভালো করেই জানে এমন যে কিছুই না তাকে অপমান করার সুযোগ পেয়েছে ওই পাগল।
__ আমার কিছু দরকার নেই, সে বলে ওঠে।
সেলিনা কিছুটা সন্দেহ কন্ঠে বলেন,,
__ কেনো কি হয়েছে ?
সুফিয়ার বিরক্ত মাখা কন্ঠ, কি হবে স্বাভাবিক একটা ব্যাপার মিস্টার আবরারের আদেশ এটা ছোট সাহেব পালন করছেন। সে কতটা দয়ালু তার দায়িত্বের সাথে খবর পাঠিয়েছেন। এখন যদি প্রাণপ্রিয়া না যায় তাহলে কি হবে বুঝতে পারছ,
সুফিয়ার কথায় সেলিনার সন্দেহ কেটে যায় প্রানপ্রিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে।
সুফিয়া প্রাণপ্রিয়ার কাঁধে হাত রাখেন,, আমি জানি না তোমার কি সমস্যা তবে তোমার দেখা করা উচিত। তাদের কত দয়া তোমাদের উপর তারমধ্যে তুমি যে স্কুলে চাকরি সেটা তো তাদেরই আমার মনে হয় তোমার চাকরি পার্মানেন্ট হওয়ার পেছনে অবশ্যই মিস্টার আবরার আছেন।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে,
তাদের স্কুল!! সে মনে মনে বিস্মিত কারন আগে এটা জানতো না সে ।
সেলিনা মাথা নাড়ায়, তুমি ঠিক বলেছ সুফিয়া তাদের মত দয়ালু মানুষ হয় না। আর ছোট সাহেব একদম বড় সাহেবের মত খুব দয়ালু হয়েছে। দোয়া করি আল্লাহ তার সকল ইচ্ছা পূরণ করুক।
সেলিনা আর সুফিয়া কথায় প্রানপ্রিয়া মুখ কালো করে নাক মুখ ছিটকে অন্য দিকে ঘুরে। বিকৃত মস্তিষ্ক লোকের ইচ্ছা পূরণ!!
সেলিনা প্রাণপ্রিয়াকে বলে ওঠেন,, তুমি যাও প্রিয়া নাহলে তাদের অসম্মান করা হবে এটা অবশ্যই ঠিক হবে না তুমি জানো।
প্রানপ্রিয়ার তার দিকে তাকায়, তাহলে আপনি আমার সাথে চলুন আন্টি।
এক হাতে সিগারেট অন্য হাতে ফ্যাক্টরির কিছু কাগজপত্র নিয়ে পায়ের ওপর তুলে বসে আছে দামিয়ান। তার পাশে নিলয় ফ্যাক্টরির ছোট থেকে ছোট ইনফরমেশন তাকে দিচ্ছে। দামিয়ান হাতের সিগারেট ঠোঁটে চেপে ধরে। বাইরের দেশের ব্যবসা আর এখানকার ব্যবসার মধ্যে অনেক পার্থক্য তবে হুমায়ুন মাঝে মধ্যে তার সাথে ব্যবসা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন তাই তার ধারনা আছে এবং পার্টনারদের সাথে চেনা পরিচিত ও।
দামিয়ান ঠোঁট সিগারেট সরিয়ে বাতাসে দোয়া ছেড়ে কাগজপত্র সামনের টেবিলের উপর রাখে। নিলয় টেবিল থেকে কাগজ হাতে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
__ তাহলে কি স্যার কাল আপনি ফ্যাক্টরিতে যাবেন?
দামিয়ান ঝিলের স্বচ্ছ পানি আর জঙ্গলের দিকে দৃষ্টি ফেলে, হুম যাব।
__ ঠিক আছে আমি ম্যানেজারকে জানাবো আপনি কাল ফ্যাক্টরিতে যাচ্ছেন।
দামিয়ান হাতের সিগারেটের শেষ অংশ টেবিলের উপর রাখা ছোট একটা চিনা মাটির পাত্রে চেপে ধরে,
__ তোমাকে যা কাজ দিয়েছিলাম সেটা করেছো?
নিলয় মাথা নাড়ায়, জি স্যার আমি খবর পাঠিয়েছি হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবে।
দামিয়ানের ঠোঁটে কোণে হাসি ফুটে ওঠে সে সোজা হয়ে বসে।
__ সময় সুযোগকে পায়ের নিচে নিয়ে আসে আর সুযোগের সৎ ব্যবহার দামিয়ান আবরার এখন থেকে অতি কৌশলে নিবে।
জঙ্গলের রাস্তা পাড় হয়ে প্রানপ্রিয়া আবরার ম্যানশনের গার্ডেন পা রেখেই প্রথম গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে এরপর তার পাশে তাকায়। ছোট শখ তার হাত ধরে গোল গোল চোখে গার্ডেনে চারপাশে সৌন্দর্য দেখছে। সে কখনো এ বাড়িতে আসেনি আজ প্রথম এসেছে।
প্রানপ্রিয়া আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকে নিয়ে হাঁটা শুরু করে।
তবে এখানে কথা হলো সে তো মিসেস সেলিনা কে বলেছিল নিজের সাথে আসতে বলেছিল তাহলে!!
প্রানপ্রিয়া হাঁটতে হাঁটতে আশ্রমের তখনকার কিছু কথপোকথন মনে করে,
সেলিনা কে যখন সে বলেছিল তাহলে আপনি আমার সাথে চলুন আন্টি। সেলিনা মুহূর্তে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। সেও চোখ বন্ধ করে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছিল কিন্তু যখন সুফিয়া মনে করিয়ে দেন আপাতত আশ্রমে সে সেলিনা আর ছোট্ট শখ ছাড়া কেউ নেই।
তখন আর কি করার সেও একা আসবেনা না। তাই না পারতে ছোট্ট শখ কে নিজের সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে।
__ প্রিয়া আপু, প্রিয়া আপু এটা কি ফুলের রাজ্য? চারপাশে চোখ বুলিয়ে মিষ্টি হেসে শখ জিজ্ঞেস করে ওঠে।
প্রানপ্রিয়া ভাবনার মাঝে চুপসানো মুখে মৃদু হাসে,
__ না শোনা এটা এই ম্যানশনের বাগান।
শখ খিল খিল শব্দ হেসে বলে,,
__ তাহলে আমি এখানে খেলতে চাই আপু,
প্রানপ্রিয়া ভ্র যুগোল কুঁচকে তার দিকে তাকায়,
__ তুমি কি ভুলে গেছো আমার সাথে তোমার সারাক্ষণ থাকতে হবে, কিছুটা কড়া কন্ঠে বলে ।
সাথে সাথে শখের মুখ চুপসে মনে খারাপ করে আশেপাশে তাকিয়ে হাঁটতে থাকে।
অতঃপর,
নিলয় দামিয়ানের সাথে ব্যবসা নিয়ে কথা বলার শেষ করে কাগজপত্র নিয়ে গেস্ট হাউসের সদর দরজা দিয়ে বের হতেই দেখা হয় প্রানপ্রিয়ার সাথে।
__ হ্যালো মিস প্রাণপ্রিয়া,
প্রানপ্রিয়া দৃষ্টি নত করে ঠোঁটে হালকা হাসির রেখা টানে।
__ স্যার ভেতরে আছে,
নিলয় বলেই তার পাশ কেটে চলে যায়।
প্রানপ্রিয়া তার যাওয়ার পথের দিকে এক নজর তাকিয়ে ঢোক গিলে । অতঃপর মনের ভারী যত অস্বস্তি ভয় তা বাহিরে ফেলা শুরু করে। সে ওই লোকে সামনে যাওয়ার আগে নিজের মধ্যে যা ওই পাগল লোক চায় কিছু রাখবে না । সে বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে মনে ভেতর সহজ সঞ্চয় করে এরপর !!
দামিয়ান তার সামনের টেবিলের ওপর দু পা আড়াআড়ি করে রেখে ফোনে মনোযোগ দিয়ে কিছু করছিল হঠাৎ কারো হেঁটে আসার শব্দ সে চোখ তুলে তাকায়।
__ মিস প্রানপ্রিয়া,
সে হাসে, তার নাম ধরে ডাকে যেন সুরের সাথে গুনগুন করলো।
প্রানপ্রিয়ার পা থেমে যায় সে শখের হাত ধরে জোড়সোড়ো হয়ে হাঁটছিল কিন্তু লোকটি মুখে প্রথম এভাবে তার নাম উচ্চারণ শরীরের শিহরণ খেলে গেল।
__ আহ ব্যাথা! হঠাৎ ছোট শখের মিন মিন কণ্ঠ,
প্রানপ্রিয়া চমকে পাশে তাকায় অজান্তে সে শখের হাত কিছুটা শক্ত করে ধরে ফেলেছে,
__ দুঃখিত , দুঃখিত সোনা ,
প্রানপ্রিয়া শখের হাত ছেড়ে দেয়।
দামিয়ান তার হাতের ফোন পাশে রেখে ধীর গতিতে টেবিলের উপর থেকে তার পা নিচে নামায়। প্রানপ্রিয়া শখের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দামিয়ানের দিকে দৃষ্টি ফেলে।
সে খলনায়ক পর্ব ৩৪
__ কংগ্রাচুলেশন মিস প্রাণপ্রিয়া, তার আবারো একই গুনগুন কন্ঠ।
প্রানপ্রিয়া আশ্চর্যের সপ্তম চূড়ায় ,, লোকটির মুখে অমায়িক হাসি।
এটা কি কল্পনা!
