Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ৩৯

সে খলনায়ক পর্ব ৩৯

সে খলনায়ক পর্ব ৩৯
ফারহানা সানিয়াত

ওই আশ্রিতা মেয়ের সাথে তোমার সম্পর্ক কি ব্রো?
গেস্ট হাউসের দামিয়ান প্রবেশ করতেই আহানাফের প্রশ্নের সম্মুখীন।
আহানাফ ঝিলের দিক থেকে চোখ সরিয়ে পিছনে দামিয়ানের দিকে দৃষ্টি ফেলে।
দামিয়ান হাঁটা মাঝে দাঁড়িয়ে গেছে তবে চোখ মুখ একদম শান্ত এবং স্বাভাবিক।
আহানাফ হতাশার শ্বাস ফেলে, সে তার ভাই থেকে প্রশ্নের উত্তর পাবে কিনা জানে না তবুও সে আবার ও একই প্রশ্ন করতে নিলে।
দামিয়ান তার দিকে দৃষ্টি রেখে সোফার দিকে এগিয়ে সামনের টেবিলে রাখা গ্যাস লাইট আর সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে সোফায় আয়েস ভঙ্গিতে বসে।
আহানাফের কপালে সূক্ষ্ম কিঞ্চিৎ ভাজ।
দামিয়ান প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে দুই ঠোঁটের মাঝে চেপে গ্যাস লাইটের জ্বলন্ত আগুন দিয়ে জ্বালায়। আহানাফের প্রশ্ন প্রতিক্রিয়া আর দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থান দেখে এতটুকু সে বুঝতে পারছে আহানাফ সব দেখেছে যা পুলে তার আর প্রাণপ্রিয়ার মধ্যে হচ্ছিল।
আহানাফ দু কদম এগিয়ে আসে,

__ আমি দুঃখিত আবারো প্রশ্ন করার জন্য কিন্তু আমি যদি ভুল হয়ে না থাকি ওই আশ্রমের আশ্রিতা মেয়ের ওপর তোমার গভীর আগ্রহ আছে তাই না?
দামিয়ান ঝিলের দিকে দৃষ্টি ফেলে মুখ থেকে ধোয়া বাতাসে উড়িয়ে দেয়। সে এখনো শান্ত স্বাভাবিক প্রত্যুত্তর করার প্রয়োজন বোধ করছেনা।
আহানাফ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে কয়েক কদম পা আরো বাড়িয়ে দামিয়ানের বরাবর সোফায় বসে বলে,,
__ আমি নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছি না ব্রো, কেন সেই আশ্রিতা? কারো কানে যদি এই খবর পৌঁছায় তাহলে কোনো ধারণা আছে কি থেকে কি হতে পারে‌, আর সারা সে কি মানবে? অলরেডি তোমরা এনগেজড।
দামিয়ান ফিচেল হেসে আহানাফের দিকে তাকায়,,
__ আমার লাইফে আমি মানি এটাই কি যথেষ্ট নয়? তার এবার মুখ খুলে।
__ তোমার ফিয়ান্সে আছে ব্রো,
__ আমি অস্বীকার করছি না।
__ তাহলে কিভাবে ওই মেয়ের প্রতি তোমার আগ্রহ জাগতে পারে? আহানাফের এখনো অবিশ্বাস্য কন্ঠ,
দামিয়ান ফের সিগারেট ঠোঁটে চেপে ধরে এরপর কিছুটা ভারী স্বরে শুধায়,
__ বাগানের সবচেয়ে সুন্দর গোলাপের উপর অধিকার শুধু তার মালিকের হয় । আর আমি ওই আশ্রিতার মালিক তার ওপর অধিকার আমার হওয়ার উচিত।
আহানাফ কপাল কুঁচকে ফেলে,,

__ তুমি কি কোনভাবে সারা আর ওই মেয়েকে একসাথে রাখতে চাইছো ?
দামিয়ান তার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
আহানাফ জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মাথা নাড়িয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসে,
__ কোনো মেয়ে এটা মেনে নিতে পারবে না ব্রো, কারন এটা রাশিয়া না।
দামিয়ান বসা থেকে উঠে ধীর পায়ে ঝিলের কাছে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,,
__ যদি মেনে নিতে না পারে তাহলে তাকে আমার জীবন থেকে আউট করতে এক মুহূর্তের জন্য ভাববো না।
আহানাফ স্তব্ধ হয়ে তার দিকে তাকায়,
দামিয়ান ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে মনোযোগ দিয়ে জঙ্গলের দিকে দৃষ্টি স্থির করে,
__ তবে সে যদি মেনে থেকে যেতে চায় আমার কোনো সমস্যা নেই সমাজে আমি তাকে দেখাবো তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।

__ আর ওই মেয়ে, ওই মেয়েকে কি তুমি ভালোবাসো? আহানাফ জিজ্ঞেস করে,
দামিয়ান ভ্র যুগোল কুঁচকে তাচ্ছিল্য কন্ঠে বলে,,
__ এসব নরম অনুভূতি আমার জন্য না। আমি শুধু তাকে পেতে চাই কারণ সে আমার ,তার কাছ থেকে আমার অনেক কিছু পাওয়ার আছে,
দামিয়ান বিশ্রী একটা হাসি দিয়ে হাতের সিগারেট ঝিলে ফেলে দেয়।
আহানাফ বিস্মিত দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তার ভাইকে সে অনেক কাছ থেকে চেনে কিন্তু তার এই রূপ ছিল নতুন। কিভাবে তার সারা থাকা সত্ত্বেও ওই এতিম মেয়ের ওপর নজর পড়ল। হ্যাঁ এটা ঠিক মেয়েটি এ পূর্বাঞ্চলের সব থেকে সুন্দর আর আকর্ষণীয় মেয়েদের মধ্যে একজন তবে তার প্রতি করুনা আর দরদ ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু তার ভাই মেয়েটির কাছ থেকে অনেক কিছু পেতে চায়!
আহানাফ ঠোঁট কামড়ে ধরে। দামিয়ান ইঙ্গিতে কি বুঝিয়েছে সেটা স্পষ্ট। তাহলে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক সমাজের চোখে কি হতে পারে?

আজ দ্বিতীয়বারের মতো ডেলিভারির কাছ থেকে প্রানপ্রিয়া পার্সেল নিল। তবে পার্সলে কি আছে তার জানা নেই। সে কোনো কিছু অর্ডারও করেন নি। কিন্তু নাম এড্রেস তার লিখা, কি অদ্ভুত! এর মানে ভুলেও আসেনি তার ই এই পার্সেল।
প্রানপ্রিয়া মাঝারি সাইজের থেকেও ছোট লম্বা বক্সাটার দিকে তাকিয়ে হা করে শ্বাস ফেলে। এরপর আশ্রমের মেইন গেট থেকে সোজা হেঁটে নিজের ঘরে এসে বিছানায় বসে।
তার কৌতুহল দৃষ্টি বক্সটার মধ্যে, ধীরে ধীরে সে বক্সটা খোলা শুরু করে কিন্তু খুলতেই যে বিশাল বড় একটা চমক পাবে কে জানতো।
সাদা রংয়ের বক্সের ভেতর তার কালো রঙের চুলের কাঠি যেটা ছিল দামিয়ানের কাছে।
প্রানপ্রিয়া চোখ দুটো পিটপিট করে কাঠি টা নিজের হাতে নেয়। এরপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখা শুরু করে। কাঠিতে কিছুটা পরিবর্তন আছে আগে কালো রঙের কারু কাজ করা ছিল কিন্তু এখন নিচের দিক দিয়ে পাথর লাগানো যেটা বাহির থেকে আসা সকালের মিষ্টির রোদ্রে চকচক করছে।

প্রানপ্রিয়া সাথে সাথে কপালে ভাঁজ ফেলে দ্রুত আবার কাঠিটা বক্সে ঢুকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে। কে পাঠিয়েছে সে ভালো করেই বুঝতে পারছে তাই মুখে রুক্ষ ভেসে ওঠে তার। পেয়েছে টা কি ওই লোক? সমস্যা কি তার? তাকে অপমান অপদস্ত করার পরও কি মন ভরে না। ।
প্রানপ্রিয়া বিরক্ত ভঙ্গিতে বক্সটা ড্রেসিং টেবিলের উপর ছুড়ে মারে নিম্ন শ্রেণীর হতে পারে কিন্তু আত্মসম্মানবোধ আছে । চাই না তার এই খোপার কাঠি ।
প্রানপ্রিয়া বসা থেকে ওঠে দাঁড়ায়, মেজাজটাই বিগড়ে গেল। যাইহোক সে নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়,
দিন টা আজ বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটি আর দ্রুত ছুটির কারণে সকাল এগারোটা ই আজ সে বাসায়।
সে নিচে নেমে এসে সোজা রান্না ঘরে সেলিনা কে সাহায্য চলে আসে। রান্না ঘরে সেলিনা কাটাকুটি করছেন তিনি প্রাণপ্রিয়া কে আসতে দেখে চুলোর তরকারিতে নাড়া দিতে বলেন। প্রানপ্রিয়া সেলিনার সামনে মুখের বিরক্তি আর বিগড়ে যাওয়া মেজাজ ঠোঁটের হাসি দিয়ে ঢেকে তরকারি নাড়া শুরু করে।
আজকের দিনটা অনেকটা মেঘলা মেঘলা শীতল ভাব তাই চুলোর পাড়ে থেকেও গরমের কোনো ছিটেফোঁটা নেই।
সেলিনা তরকারি কাটার মাঝে হঠাৎ প্রানপ্রিয়াকে জিজ্ঞেস করেন,,

__ ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ করবে না?
প্রানপ্রিয়া হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়, করবো।
__ তা কবে? সময় তো শেষ হয়ে যাবে।
প্রানপ্রিয়া সেলিনার দিকে ঘুরে তাকায়,, কিছুদিনের মধ্যেই করবো সময় আরো ১৫ দিন আছে।
__ একা যাবে?
প্রাণপ্রিয়া মুখে হাসি টেনে ফের মাথা নাড়ায়, হুম।
সেলিনার মাথা তুলে তাকায় হাত থেমে গেছে তার। এতক্ষণ কাটা কুটির দিকে মনোযোগ দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন কিন্তু এবার,,
__ ইভান থাকলে হয়তো তোমার একা যাওয়া হতো না। পাগল ছেলে কোনো না কোনো বাহানায় নিজের সাথে তোমাকে নিয়ে ই যেত। খুব ছেলেটা ভালো ছিল ছোট থেকে দেখেছি কিন্তু কি থেকে কি হয়ে,,,,
প্রানপ্রিয়া হঠাৎ সেলিনা আন্টির মুখ থেকে ইভানের কথা শুনে আস্তে আস্তে ঠোঁটে টেনে রাখা হাসি টা সরে যায়।
সেলিনা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার তরকারি কাটতে কাটতে বলেন,,

__ নতুন করে আশে পাশের মানুষ বা সমাজকে নিয়ে বলার মত কিছুই নেই। তবে যা হয়েছে ভালোই হয়েছে আমাদের মত মানুষদের কিছু করার কিছু বলার নেই এর থেকে ভালো দূরে থাকা বা দূরে চলে যাওয়া।সম্মান হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তো আমাদেরও আছে।
প্রানপ্রিয়া চুপ, তার এসব কথা আর ভালো লাগেনা। আর কত তাই চুপ থাকাই শ্রেয় ভেবে খুন্তি নাড়াতে থাকে।
তবে আকম্মিক বাহিরে আশ্রমের সবগুলো ছেলে মেয়ে হই হই করে জঙ্গলের দিকে ছুটা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়া আর সেলিনা আকম্মিকতায় চমকে একে অপরের দিকে এক নজর দেখে কি হয়েছে জানার জন্য দ্রুত চুলো বন্ধ করে বাহিরে গিয়ে দেখে একজন ও নেই।
সেলিনা চিন্তায় পড়ে যায় মিস্টার রহমান ও আশ্রমে নেই হঠাৎ কি হলো ছেলেমেয়েদের!
প্রানপ্রিয়া সেলিনার হাত ধরে বলে চলুন আমরাও জঙ্গলের দিকে গিয়ে দেখি।

ঝিলের ধারে যেসব আম গাছগুলো কেটে বসার সুন্দর জায়গা তৈরি করার কথা ছিল আজ থেকে কাজ শুরু হবে । তাই মিস্টার হাবিব আবরার লোকদের সাথে কথা বলছেন তার পাশে দামিয়ান ও দাঁড়ানো।
প্রানপ্রিয়া আর সেলিনা হন্তদন্ত হয়ে এসে এই জায়গায় এত মানুষ দেখে কিছুটা অবাক হয়। তখনি আশ্রমের একজন কিশোরী দুজনকে দেখে খুব খুশি মনে প্রানপ্রিয়া কাছে এসে বলে,,
___ ছোট সাহেব গাছ কাটতে না বলেছেন প্রিয়া আপু, এর মানে তোমার হাতে প্রতি বছর আমের মোরব্বা খাওয়া একদম পাক্কা, তাই না?
প্রানপ্রিয়া চোখ দুটো পিটপিট করে। আশ্রমের বাকি বাচ্চারা ও তাদের দুজনকে দেখে এগিয়ে আসতেই সেলিনা কড়া কন্ঠে সবাইকে বকা শুরু করে কতটা দুশ্চিন্তে পড়ে গিয়েছিল তারা।
প্রানপ্রিয়া এক নজর সবাইকে দেখে এরপর সামনের আম গাছ গুলোর দেখে তার ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসির ফুটে ওঠে। কিন্তু মুহূর্তেই আবার সেটা গায়েব, যখন চোখে পড়ে তার আম গাছগুলোর একপাশ ফরমাল প্যান্টের সাথে হালকা আকাশী রং এর শার্ট হাতের দিকে কিছুটা ফোল্ড করে রাখা একজন সুদর্শন পুরুষ যার গম্ভীর্যতায় ওপর আকর্ষিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

প্রানপ্রিয়া ধীরে ধীরে চোখের পলক ফেলে আজ হঠাৎ প্রথম সে দামিয়ানকে খুটিয়ে দেখা শুরু করে। লোকটি নিষ্ঠুর নির্দয় হলেও মারাত্মক সুদর্শন তার হাইট, ফিটনেস‍, রং দেখতে ও অনেকটা বিদেশিদের মতো শুধু কালো চুল আর চোখের মনি! ওয়েট ওয়েট চোখের মনি?
দামিয়ান তার দিকে তাকিয়ে, প্রানপ্রিয়া থতমত খেয়ে যায় দ্রুত সে চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকায়।
লোকটি দেখছিল আমিও তার দিকে তাকিয়ে আছি! মনে নিজেকে গালি দিয়ে উঠে প্রানপ্রিয়া। ছি ছি শেষমেষ বাজে পাগল লোককে দেখছিলাম এভাবে ।
সেলিনা সবাইকে ধমকে আশ্রমে দিকে যাওয়া শুরু করছে। প্রানপ্রিয়া কানের পিছে চুল গুঁজে অদ্ভুত লাগছে তার এখনো কি চেয়ে আছে? কৌতুহল মন আবারো আড়চোখে দেখে,
দামিয়ানের ঠোঁটে এবার বাঁকা হাসি এখনো সে তাকিয়ে আছে। প্রানপ্রিয়া ঘাড়ে হাত রেখে দৃষ্টি নত করে, নিজেও সবার সাথে আশ্রমে ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়,
তবে সে বিড়বিড় করে ওঠে‍‍,,পাগল কোথাকার!
এদিকে দামিয়ান ঘাড় কাত করে প্রানপ্রিয়ার পিছনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে মনে মনে কিছু একটা ভেবে রহস্যময় হেসে লোকদের সাথে কথায় পুনরায় ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

সময়ের সাথে বেলা গড়িয়ে চারদিকে গভীর অন্ধকার ছেয়ে গেছে সূর্য ডুবেছে অনেকক্ষণ ধরে। শীতল মৃদু হাওয়ার বেগ আগের থেকে বেড়ে গেছে‍, এরমধ্যে বিকাল থেকে কারেন্ট নেই আশ্রমের লাইটগুলোর চার্জও শেষ তাই জায়গায় জায়গায় মোম জ্বালিয়ে রেখেছে।
প্রানপ্রিয়া নিজের ঘরে জানার কাছে দাঁড়ানো। মোমের টিমটিম আলোয় জানালা দিয়ে আসা বাতাসে মনে হচ্ছে এখনই নিবে যাবে।সে আকাশের দিকে তাকিয়ে গভীর শ্বাস ফেলে তার পড়নে প্লাজো লং টি-শার্ট সাথে গায়ে পাতলা উরনা জড়িয়ে রেখেছে। ছেড়ে রাখা ঢেউ খেলানো চুলগুলো বাতাসে মনের আনন্দে কেমন উড়ছে।
প্রানপ্রিয়া আবারো গভীর শ্বাস ফেলে, তাহলে তার কেনো মনে আনন্দ নেই? কেনো হঠাৎ মনটা খুদ খুদ করছে তার? নিজে নিজেকে প্রশ্ন করে একইভাবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে । অতঃপর হতাশ হয়ে জানালা লাগিয়ে টেবিলের উপর রাখা মোম হাতে নিয়ে নিচে বসার ঘরে চলে আসতেই মিসেস সেলিনা তাঁর ঘর থেকে বের হতে হতে বলেন,,

__ বাহিরে একটা চেয়ার নিয়ে রেখে আসো তো প্রিয়া।
প্রানপ্রিয়া কারন না জেনে বিরস মুখে মাথা নাড়িয়ে
হাতের মোম এক জায়গায় রেখে চেয়ার নিয়ে
অন্ধকারের মধ্যে বাহিরে চলে আসে।
আশ্রমের ডান পাশে জঙ্গলের রাস্তার পথ সেদিক দিয়ে উঠানের অনেকটা খালি জায়গা। প্রানপ্রিয়া চেয়ার টেনে সেখানে আশ্রমে দেয়ালের সাথেই চেয়ার টা রেখে কোমড়ে হাত দিয়ে হা করে শ্বাস ফেলে একটা চেয়ার টেনে ই হাঁপিয়ে গেছে। সে ঢোক গিলে, আশেপাশের ঘুটঘুটে অন্ধকারে চোখ বুলায় ।এরপর যাওয়ার জন্য পিছনে ঘুরতেই কেউ তার কোমড় জরিয়ে মুখ শক্ত চেপে ধরে আর এতটাই শক্ত করে ধরে যে মুখ দিয়ে শব্দ বের করা আর নড়াচড়া অসম্ভব। প্রানপ্রিয়া আকম্মিক আক্রমণে শূন্য মস্তিষ্কে ভয়ে থরথর করে কাঁপা শুরু করে। সে বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে তার সাথে আর কে এই,,, বাকি টা ভাবনার মাঝে তার কানে ফিসফিস ধীর কন্ঠ,,

__ হ্যালো little bird,
প্রানপ্রিয়ার শরীর সাথে সাথে ঝাকুনি দিয়ে ওঠে। কম্পন দ্বিগুণ বেড়ে অস্পষ্ট উম শব্দ মুখ দিয়ে বের হয় কিন্তু এক চুল নড়তে পারে না কারন দামিয়ান তার থেকে বেশি শক্তিশালী।
দামিয়ান তাকে শক্ত করে ধরা অবস্থায় কিছুটা টেনে আশ্রমের দেয়ালের সাথে চেপে ধরে।
প্রানপ্রিয়া নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে চোখের কোণে বেঁয়ে জল গড়িয়ে বের
হচ্ছে।
অন্ধকারে দুজন দুজনের মুখ দেখা যাচ্ছে না । তবে দামিয়ান বুঝতে পারছে তার পাখি কাবু হয়ে গেছে তাই মুখ থেকে হাত সরিয়ে চিবুক চেপে ধরে উঁচু করে তার বরাবর করে। প্রানপ্রিয়া জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে কিন্তু চিৎকার দেওয়ার আপাতত শক্তি নেই।
__ আমার স্পর্শের জন্য সে দিন ঠোঁট ঘষছিলে তাই না?
দামিয়ান প্রানপ্রিয়ার ঠোঁটের একদম কাছে এগিয়ে আসে,
__ তাহলে আজ কোন কোন জায়গা ঘষবে,
কথা টা বলেই সে তার ঠোঁট গভীর ভাবে আঁকড়ে ধরে।
প্রানপ্রিয়া ভয়ে দ্রুত তার হাত দিয়ে তাকে নিজের থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করে‌। কিন্তু তার শক্তির কাছে সে ব্যর্থ ছাড়া কিছু ই না। উল্টো আবার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এখন শরীর ছেড়ে দেওয়ার মতো সে পারছে না এই হিংস্র আক্রমণকারী থেকে নিজেকে বাঁচাতে।
দামিয়ান তার ঠোঁটের চুম্বনের সাথে জোরে জোরে কামড় দিচ্ছে। তার শরীর থেকে আত্মাটা যেন বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

সে খলনায়ক পর্ব ৩৮

তার শব্দহীন কান্না হাহাকার দুজনের ঠোঁটের ঘর্ষণের মাঝে চাপা পরছে। তবে দামিয়ান ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে সে তার টি-শার্ট ভেতর হাত ঢুকিয়ে তার বক্ষে চাপ দিচ্ছে।
প্রানপ্রিয়ার শরীর না চাইতে ও ভয় মিশ্রিত উত্তেজনায় কেঁপে ওঠে সে দামিয়ানের ঘাড়ে বুকে নখের আঁচড় দেওয়া শুরু করে ছাড় পাওয়ার জন্য।
কিন্তু দামিয়ান তার কন্ট্রোল তার হুশ জ্ঞান এতটাই হারিয়ে হিংস্র হয়েছে যে সে তার অন্তর্বাস খোলার জন্য টানাটানি শুরু করে।

সে খলনায়ক পর্ব ৩৯ (২)