Home স্নিগ্ধবিষ স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৮

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৮

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৮
সানজিদা আক্তার মুন্নী

ওয়াসেম কে ফালাফালা করে দেয় তৃষ্ণার কণ্ঠস্বর। তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা তীক্ষ্ণ, তীরের মতো বিঁধে যাওয়া কথাগুলো শুনে মুহূর্তেই ওয়াসেমের চোয়ালের পেশিগুলো পাথরের মতো শক্ত হয়ে ওঠে। কপালের রগগুলো ফুলে ওঠে রাগে। পলকের নোটিশে, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে এক ঝটকায় তৃষ্ণার ছিপছিপে, কোমল বাহুটা নিজের ইস্পাতের মতো কঠিন হাতের মুঠোয় বন্দি করে ফেলে। দাঁতে দাঁত পিষে, প্রায় ফিসফিস করে অথচ হাড়হিম করা এক শীতল কণ্ঠে হিসহিসিয়ে ওঠে, “তোর জিব বড্ড বেশি লম্বা হয়ে গেছে ইদানীং, তাই না? আমার জিনিস আমি ছুঁব না তো কে ছোঁবে? আমি তোকে ছোঁব না তো কাকে ছোঁব?”

হাতের ওপর ওয়াসেমের আঙুলের নির্মম, নিষ্ঠুর চাপে ব্যথায় কুঁকড়ে যায় তৃষ্ণা। মনে হয় হাড়গুলো বুঝি গুঁড়িয়ে যাবে। তাও সে মাথা নত করেই থাকে, অবাধ্য চোখ দুটো তুলে একবারও তাকায় না সেই রাগান্বিত মুখের দিকে। দৃষ্টি মেঝের হিমশীতল টাইলসে নিবদ্ধ রেখেই, বুকের গহিনে জমে থাকা একরাশ অভিমান, ক্ষোভ আর তীব্র অবজ্ঞা নিয়ে সে ধীর অথচ দৃঢ় স্বরে উত্তর দেয়, “কেন, আপনার কি মেয়েদের খুব অভাব পড়েছে? যাকে পছন্দ, তাকেই গিয়ে স্পর্শ করুন না। বাধা তো দিইনি। আমি তো আপনাদের চোখে রাস্তার এঁটোকাটা খাওয়া কুকুরের চেয়ে বেশি কিছু নই, আমার মতো তুচ্ছ কাউকে কেন স্পর্শ করতে আসবেন?”

তৃষ্ণার এই অভিমানী, শ্লেষ মেশানো কথাগুলোর পেছনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ওয়াসেমের বুঝতে এতটুকুও বাকি থাকে না। অপমানে আর রাগে তার নাসারন্ধ্র লাল হয়ে ওঠে, চোখের মণি দুটো জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো লাল হয়ে যায়। সে আক্রোশে তৃষ্ণার গলার কাছে হাত রেখে তাকে একপ্রকার শূন্যে তুলে নিজের একেবারে খুব কাছে টেনে আনে। দুজনের মাঝে এখন শুধু কয়েক ইঞ্চির ব্যবধান, একে অপরের তপ্ত শ্বাস পড়ে মুখের ওপর। ওয়াসেম ফণা তোলা সাপের মতো হিসহিস করে ওঠে, “অন্য মেয়েদের তো আর আমি নিজের ঘরে এনে বসিয়ে খাওয়াচ্ছি না, তোকে খাওয়াচ্ছি। আমার অন্ন ধ্বংস করছিস তুই, তাই তোকেই ছোঁব। তুই আমার বিবাহিত বউ, তোকে ছোঁয়ার, তোর প্রতিটি ইঞ্চির ওপর আমার পূর্ণ অধিকার। আগামীকাল থেকে আমার এই নগ্ন দেহের নিচে চাপা পড়ে সারা রাত সজাগ থাকার দায়িত্বটাও তোর। আজ কেবল দয়া করে ছেড়ে দিলাম, কালকের জন্য নিজের শরীর আর মন দুটোই প্রস্তুত করে রাখিস।”

শব্দগুলো প্রায় বিষাক্ত তীরের মতো তৃষ্ণার কানে বিঁধে যায়। এমন নির্লজ্জ, পাশবিক আর রূঢ় কথা শুনে তার সমস্ত শরীর রী রী করে ওঠে, ঘৃণায় গা গুলিয়ে বমিভাব চলে আসে গলার কাছে। নিজেকে আজ বড্ড সস্তা মনে হয় তার। এখন কি তবে সে এক টুকরো রক্তমাংসের পিণ্ড? শুধুই এক পাশবিক চাহিদা পূরণের জড়বস্তু? অসহায়ত্ব আর অপমানে তার চোখের কোল ছাপিয়ে অবাধ্য উষ্ণ জলধারা গড়িয়ে পড়ে ফ্যাকাশে গাল বেয়ে। সেই অশ্রুসজল, জবা ফুলের মতো লালচে চোখ জোড়া তুলে সে প্রথমবারের মতো সোজাসুজি তাকায় ওয়াসেমের দিকে। কণ্ঠস্বর তার কান্নায় বুঁজে আসে, ভেঙে পড়া স্বরে সে আর্তনাদ করে ওঠে, “আপনি আমার প্রতি এত পাষাণ কেন? আমার সাথে কি একটুও রক্ত মাংসের মানুষের মতো ভালো ব্যবহার করা যায় না? আমি কি আপনার খুব বড় কোনো দুশমন!”
‘দুশমন’! শব্দটা ওয়াসেমের কানে পৌঁছানো মাত্রই তার ভেতরের সুপ্ত আদিম রাগটা আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার মতো বিস্ফোরিত হয়। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে, রাগে উন্মত্ত হয়ে সে তৃষ্ণাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পেছনের শক্ত দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। চার দেয়াল কাঁপিয়ে এক ভয়ংকর গর্জনে ফেটে পড়ে সে, “হ্যাঁ, তুই আমার দুশমন! তুই আমার জানের দুশমন! তোর জন্যই তো আমি এক মুহূর্তের জন্য শান্তি পাই না। তোকে চোখের সামনে না দেখলে আমার কলিজাটা ফাটতে থাকে। একটা ঘণ্টা তুই চোখের আড়াল হলে আমার মাথার শিরাগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে চায়। তোকে সামনে না পেলে আমার দমবন্ধ হয়ে আসে, মনে হয় কেউ আমার শ্বাসনালী চেপে ধরেছে। আমার এই জীবনের সমস্ত অশান্তি, সমস্ত যন্ত্রণার একমাত্র কারণ তুই! বুঝলি তুই? শুধু তুই!”

ওয়াসেমের হাতের দানবীয় চাপে তৃষ্ণার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। দমবন্ধ হয়ে আসা গলায় সে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে, ” আ আ আমাকে ছাড়ুন। আমার খুব ব্যথা লাগছে।”
“লাগলে লাগুক!তোর এই সামান্য শারীরিক ব্যথা? এটা তো কিছুই না! আর আমার ভেতরে, এই বুকের বাঁ পাশে যে সারাক্ষণ চিনচিনে ব্যথা হয়, রক্তক্ষরণ হয়, তার কী হবে? তোর জন্য যে আমি দু’চোখের পাতা এক করতে পারি না রাতের পর রাত! তোকে দেখার, তোকে পাওয়ার এই সর্বনাশা তৃষ্ণায় যে আমি তিলে তিলে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি। সারা রাত নির্ঘুম জেগে তোকে দেখতে দেখতে আমার ঘুম হারাম হয়ে গেছে, চোখের নিচে কালশিটে পড়ে যাচ্ছে। তুই বল, আমি কী করব আমার এই বুকফাটা যন্ত্রণার?”
তৃষ্ণার কান্নার বেগ এখন শ্রাবণের বাঁধভাঙা নদীর মতো। ভয়ে তার বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা হাতুড়ির মতো ধড়ফড় করে পিটতে থাকে। তার মনে হয়, উন্মাদ ওয়াসেম আজ তাকে সত্যি সত্যিই মেরেই ফেলবে, আর সে এই বদ্ধ ঘরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। তৃষ্ণাকে এভাবে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখে ওয়াসেমের ভেতরের অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। সে আরও জোরে ধমকে ওঠে, “এই, তুই কাঁদছিস কেন? কষ্ট আমার, দুঃখ আমার, যন্ত্রণা আমার কাঁদলে তো আমি কাঁদব! তুই এভাবে কাঁদছিস কেন?”

ভয়ে আড়ষ্ট, থরথর করে কাঁপতে থাকা তৃষ্ণা আমতা আমতা করে কোনোমতে ভাঙা গলায় বলে, “আ আমাকে মারবেন না প্লিজ। আমার গ গলা থেকে আপনার হাতটা সরান। আমি মরে যাব।”
ওর এই ভয়ার্ত, করুণ আকুতি শুনে ওয়াসেমের চোখের হিংস্রতা হঠাৎ করেই ভোরের কুয়াশার মতো উবে যায়। তার কঠিন মুখাবয়বে নেমে আসে প্রশান্তি। সে তৃষ্ণার গর্দান পেঁচিয়ে ধরে তাকে দেয়াল থেকে ছাড়িয়ে একেবারে নিজের চওড়া, উষ্ণ বুকের কাছে টেনে নেয়। এখন তাদের মাঝে আর একবিন্দুও দূরত্ব অবশিষ্ট নেই, একে অপরের দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের ওঠানামা স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। ওয়াসেম কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তৃষ্ণার শিশিরভেজা, নিরীহ হরিণীর মতো ভয়ার্ত আর নিষ্পাপ চোখের দিকে মোহগ্রস্তের মতো তাকিয়ে থাকে। তৃষ্ণাও ভয়, বিস্ময় আর ঘোরলাগা এক অজানা অনুভূতি নিয়ে কাঁপা কাঁপা পলকে চেয়ে থাকে ওয়াসেমের গভীর, রহস্যময় চোখের পানে। কিছুক্ষণ স্তব্ধ থেকে ওয়াসেম তার অন্য হাতটি আলতো করে বাড়িয়ে দেয়। রুক্ষ, পুরুষালি আঙুল দিয়ে তৃষ্ণার নরম গালের অশ্রুরেখা সযতনে মুছে দিতে দিতে স্বর একদম খাদে নামিয়ে সে জাদুকরের মতো ফিসফিস করে বলে, “কাঁদিস না তোকে আমি আর মারব না। ”

কথাটি শেষ করেই কোনোপ্রকার প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে ওয়াসেম নিজের উষ্ণ, ক্ষুধার্ত ঠোঁট জোড়া তৃষ্ণার কাঁপতে থাকা নরম ঠোঁটের ওপর গভীরভাবে চেপে দেয়। একটা আদিম, পাশবিক জোর খাটিয়ে সে তৃষ্ণার সমস্ত শ্বাস, সমস্ত সত্তা শুষে নিতে চায়। তৃষ্ণা প্রাণপণে তার দুর্বল হাত দিয়ে ওয়াসেমের বুকের শার্ট খামচে ধরে তাকে দূরে ঠেলে দিতে চায়, কিন্তু পাহাড়ের মতো শক্ত সেই শরীরের কাছে তার এই প্রতিরোধ বড্ড অসহায়, বড্ড তুচ্ছ। সে যত দূরে ঠেলতে চায়, ওয়াসেম তত শক্তভাবে, আরও নিবিড়ভাবে, একবুক তৃষ্ণা মেটানোর তাড়নায় তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজের সাথে লেপ্টে ধরে।
তৃষ্ণার দু’চোখ বেয়ে শ্রাবণের ধারার মতো অঝোরে জল ঝরতে থাকে। তার শূন্য মস্তিষ্কে একটাই ভাবনা হাতুড়ি পেটাতে থাকে ওয়াসেম সবসময় তাকে শুধু নিজের প্রয়োজনে, নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে চলেছে। আজ তার ভাইয়েরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মজা করেছে বলেই কি সে তাকে এভাবে কাছে টানছে? নিজের পুরুষালি অধিকার ফলাতে চাইছে? তৃষ্ণার অন্তরের পুঞ্জীভূত সমস্ত ঘৃণা আজ অসহায় অশ্রু হয়ে গাল বেয়ে ঝরে পড়ে। সে চায় না এই অধিকারহীন, জবরদস্তিমূলক স্পর্শ, একবিন্দুও চায় না! সে এখন আর ওয়াসেমের এই বিকৃত, বিষাক্ত ভালোবাসাও চায় না।
কারণ, তার চোখে ওয়াসেম একজন চরিত্রহীন পুরুষ। একজন নারী জীবনে শত কষ্ট, পাহাড়সম দারিদ্র্য আর পাহাড়প্রমাণ অবহেলা হাসিমুখে মেনে নিতে পারলেও, একজন চরিত্রহীন পুরুষকে সে কখনোই নিজের মন থেকে স্বামী হিসেবে, নিজের অস্তিত্বের অংশ হিসেবে মেনে নিতে পারে না। একজন নারী প্রয়োজনে পথের এক কপর্দকশূন্য, ছিন্নমূল ভিক্ষুকের সাথেও হেসেখেলে জীবন কাটাতে রাজি থাকে, কিন্তু একজন চরিত্রহীন পুরুষের সঙ্গে একই ছাদের নিচে এক মুহূর্তও নয়।

মাদুরাইয়ের তপ্ত বাতাস আর ধুলোর আস্তরণ গায়ে মেখে ছদ্মবেশে থানায় পা ওয়াসেম, তৌসির আর ইয়াদ।তাদের মূল গন্তব্য এখানকার থানা হলেও উদ্দেশ্য একজন বিশেষ মানুষের সাথে সাক্ষাৎ। থানায় পা রেখেই ইয়াদের তীক্ষ্ণ, হিংস্র দৃষ্টি চারপাশটা মেপে নেয়। চোয়ালের পেশি শক্ত করে, দাঁতে দাঁত চেপে সে বিড়বিড় করে ওঠে, “ঐ বারোয়াচ*দো অফিসার গেল কই!”
তৌসির একবার থানার থমথমে, নোংরা পরিবেশটার দিকে তাকায়। তারপর ইয়াদের দিকে ফিরে নিচু অথচ কড়া গলায় ধমক দেয়, “তুই চুপ থাক! বেশি কথা চুদাইস না, অফিসার এখানেই আছে।”
ওয়াসেম ওদের কথায় কান না দিয়ে ধীর, মাপা পায়ে সামনে এগিয়ে যায়। বর্তমান এসআই অংশু তাদের দেখতে পেয়ে নিজের চেয়ার ছেড়ে এগিয়ে আসে। মুখে এক ধূর্ত হাসি নিয়ে হাত মেলায় ওয়াসেমের সাথে। তারপর চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বলে, “তোমরা গিয়ে ওর সাথে দেখা করো। আমি সেল থেকে বের করার ব্যবস্থা করছি।”

ওয়াসেমের কণ্ঠ শান্ত কিন্তু বরফের মতো শীতল, “আলাদা করে ব্যবস্থা করো।”
“হ্যাঁ, করেছি। কিন্তু আমার টাকা?” অংশুর চোখে লোভের চকচকে ঝিলিক।
ইয়াদ তাচ্ছিল্যের সাথে পকেট থেকে আলগোছে একটা সোনার বার বের করে সোজা অংশুর পকেটে চালান করে দেয়। এদিক-ওদিক সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে তীব্র বিরক্তির সুরে বলে ওঠে, “শালা খান**! ধর তোর টাকা! নিয়ে যাচ্ছি নাকি আমরা?”
অংশু সন্তর্পণে পেছনের অন্ধকার করিডোরের দিকে ইশারা করে, “যাও, পেছনের তিন নাম্বার সেলে।”
ওরা তিনজন নিঃশব্দে, শিকারি কুকুরের মতো পা বাড়ায় সেলের দিকে। করিডোরের আবছা আলোয় ইয়াদের চোখ জ্বলজ্বল করে। সে আগেই সতর্ক করে দেয় দুজনকে, “খবরদার! কেউ আগে ওর গায়ে হাত দিবি না। সব খবর নেব, দ্যান যা করার হবে।”

তৌসির সশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ভেতরের ফুটতে থাকা রাগটা কোনোমতে চেপে রেখে বলে, “না, করব না।”
তিন নাম্বার সেলের লোহার গরাদের সামনে দাঁড়াতেই তাদের দৃষ্টি ভেতরে আটকে যায়। স্যাঁতস্যাঁতে, অন্ধকার প্রকোষ্ঠের এক কোণে বসে আছে চুল-দাড়ি পাকা এক বৃদ্ধ মানুষের রূপ ধরা এক আস্ত জানোয়ার। সেলে ঢুকেই তিনজন একে একে নিজেদের মুখের নকল গোঁফ আর দাড়ি টেনে খুলে ফেলে। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে তাদের আসল, ভয়ংকর রূপ। তাদের দেখে সেই বৃদ্ধ, নাম যার সেলিম, আক্ষরিক অর্থেই থরথর করে কেঁপে ওঠে। কোটরাগত রক্তবর্ণ চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তিনজনের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে, “শূয়োরের বাচ্চারা তোরা বেঁচে আছিস?”

তৌসিরের ঠোঁটের কোণে একটা ফিকে, হিমশীতল হাসি ফুটে ওঠে। ধীর পায়ে, যমদূতের মতো সেলিমের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সে। আর তারপরই কোনো পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে, প্রচণ্ড আক্রোশে সজোরে একটা চড় বসিয়ে দেয় সেলিমের গালে। ‘ঠাস’ করে ওঠা সেই শব্দের সাথে সাথেই ছিটকে পড়ে বৃদ্ধ সেলিমের দুটো দাঁত। ফাটা ঠোঁট আর মাড়ি বেয়ে কুলকুল করে কালচে রক্ত গড়িয়ে পড়ে চিবুকে।
তৌসিরের চোখে এখন খুনির নেশা। সে উন্মত্তের মতো হাসতে হাসতে বলে, “জানোয়ারের বাচ্চা! তোর কী মনে হয়, তুই আমাদের নির্বংশ করে দিয়েছিলি? মীরজাফরি করে কী পেলি তুই? না পেলি সুন্দর জীবন, না পেলি কিছু! উল্টো তোর বউ গিয়ে উঠল ওদের বিছানায়। ভাই নামের কলঙ্ক তুই! আমার বাবা কত বিশ্বাস করত তোকে। আপন ভাইয়ের মতো ভালোবাসত। তোকে আমরা ছোট আব্বা বলে ডাকতাম। আমার বোনরা তোকে বাবার মতো সম্মান করত, ভালোবাসত। আর সেই তুই… সেই তুই কী করে ঐদিন ওদের সাথে মিলে আমার বাবারই চোখের সামনে আমার বোনদের সমানতালে ধর্ষণ করতে পারলি? এই কুত্তার বাচ্চা!”

কথাগুলো শেষ করেই রাগে অন্ধ তৌসির সজোরে একটা লাথি বসিয়ে দেয় সেলিমের বুকে। পাঁজরের হাড় মড়মড় করে ওঠে যেন। ছিটকে উল্টে গিয়ে পেছনের নোংরা মেঝেতে আছড়ে পড়ে সেলিম। ওয়াসেম দ্রুত এগিয়ে এসে তৌসিরকে শান্ত করতে ওর বাহু শক্ত করে চেপে ধরে। চোয়াল শক্ত করে হিসহিসিয়ে বলে, “এখন মারিস না। আগে একে নিয়ে যাই। তারপর সব খবর বের করে জ্যান্ত কেটে পিস পিস করব।”
গুজরাট শহরের কোলাহল থেকে বহুদূরে, পরিত্যক্ত এক গোডাউনের ভূগর্ভস্থ সেলে সেলিম কে নিয়ে এসেছে তৌসির ইয়াদ ওয়াসেম। চারপাশের পরিবেশ গুমোট আর দমবন্ধ করা। স্যাঁতসেঁতে রুক্ষ দেয়ালের গা বেয়ে অনবরত কালচে জল চুইয়ে পড়ছে। বদ্ধ বাতাসে শেওলা, মরিচা আর কাঁচা রক্তের উৎকট গন্ধ মিলেমিশে ভারী হয়ে আছে। মাথার ওপর ঝুলতে থাকা একশ ওয়াটের হলদেটে বাল্বটা ভোল্টেজের ওঠানামায় বারবার কেঁপে উঠছে। আর সেই আলো-আঁধারির খেলায় ঘরের এবড়োখেবড়ো কংক্রিটের দেয়ালে তৈরি হচ্ছে যমদূতদের দীর্ঘ, বীভৎস ছায়া। সেই আলো-আঁধারির ঠিক মাঝখানে দেয়ালের ওপর এক অমানবিক দৃশ্য। বৃদ্ধ সেলিমকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে ক্রুশবিদ্ধ করার মতো দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার দুই হাতের কবজি এবং দুই পায়ের পাতা ভেদ করে কংক্রিটের দেয়ালে গেঁথে দেওয়া হয়েছে মর্চে ধরা, ছয় ইঞ্চি লম্বা মোটা লোহার পেরেক। পেরেকগুলোর চারপাশের চামড়া ফেটে কালচে মাংস হাঁ করে আছে। ক্ষতস্থানগুলো থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঘন রক্ত ঝরে মেঝের ধুলোয় মিশে ছোটখাটো একটা ডোবা তৈরি করছে। বৃদ্ধের শরীরটা নিথর। ফ্যাকাসে চামড়ার ওপর ফুটে থাকা পাঁজরের হাড়গুলো কেবল ধিকিধিকি ওঠানামা করছে। যন্ত্রণায় তার গলা দিয়ে এখন আর কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না, শুধু গোঙানির মতো একটা অস্ফুট, করুণ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তার সামনে ভারী লোহার হাতুড়ি হাত দাঁড়িয়ে আছে তৌসিররা। তৌসির প্রবলভাবে হাঁপাচ্ছে। কপাল বেয়ে নামা ঘাম আর ছিটকে আসা রক্তের দাগ মিলেমিশে একাকার তার মুখে। তৌসিরে চোখেমুখে জ্বলছে প্রতিশোধের এক আদিম, হিংস্র আগুন। সে চরম আক্রোশে সেলিমের পেটের নিচের দিকের হাড় লক্ষ্য করে হাতুড়িটা দিয়ে সজোরে এক কোপ বসায়। হাড় মটকে যাওয়ার একটা বমি-উদ্রেককারী শব্দের সাথে সাথে তৌসির জানোয়ারের মতো গর্জে ওঠে, “বল! ঐ দলিল কোথায়? কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস ঐ দলিল?”

বিগত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এভাবেই এমন নির্যাতন চলছে সেলিমের ওপর। কিন্তু সে বারংবার দলিলের কথা অস্বীকার করে আসছে। সর্বশেষ হাতুড়ির আঘাতে তার নিস্তেজ শরীরটা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কেঁপে ওঠে। যন্ত্রণায় চোখ উল্টে গিয়ে সে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে আর্তনাদ করে ওঠে, “আ… আমি জানি না! খোদার কসম আমি সত্যিই জানি না দলিল কোথায়! তোদের তিনজনের কাছেই তো তিনটে ছিল। ইরশাদ সর্দারকে জিজ্ঞেস কর ইরশাদই সব জানে!”
ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছনের অন্ধকার থেকে ভেসে আসে একটি গম্ভীর গলা,
“তোদের তো আগেই বলেছিলাম, তিন নম্বর দলিল এর কাছে নেই।”
ধীরপায়ে অন্ধকারের ভেতর থেকে আলোতে এসে দাঁড়ান ইরশাদ সর্দার ইয়াদের পালিত বাবা। তার পরনে কালো ওভারকোট। আঙুলের ফাঁকে জ্বলতে থাকা চুরুট থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে। তিনি সেলিমের ঝুলন্ত শরীরের দিকে একপলক তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলেন, “ঐ দলিলটা বাংলাদেশে।”

কথাটা শুনে তৌসির ইয়াদ ওয়াসেম চমকে পেছনে তাকায়। ইয়াদের হাতের মুঠি শক্ত হয়ে যায়, ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান ও রুক্ষ কণ্ঠে সে প্রশ্ন করে, “বাংলাদেশে? এত জায়গা থাকতে বাংলাদেশে? কার কাছে থাকবে ওখানে?”
ইরশাদ চুরুটে একটা লম্বা টান দিয়ে আরও দু-কদম এগিয়ে আসেন। ধোঁয়ার আড়াল থেকে শান্ত অথচ ছুরির মতো ধারালো স্বরে তিনি বলেন, “তোর মামির কাছে। তোকে আর মাইশাকে আমি তোর ভাগের দলিল দিয়েই বাংলাদেশে রেখে এসেছিলাম। তোরা তোদের সেই খানকিমাগি মামিকে খুঁজে বের কর, তাহলেই সব পেয়ে যাবি।”
রাগে তৌসিরের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। গলার শিরা-উপশিরাগুলো দড়ির মতো ফুলে ওঠে তার। হাতের ভারী হাতুড়িটা শক্ত করে চেপে ধরে সে সেলিমের পাঁজরে প্রচণ্ড জোরে শেষ একটি আঘাত করে, দাঁতে দাঁত চেপে ফেঁসে ওঠা গলায় বলে ওঠে, “সেই দলিল পরে পেলে পাব! কিন্তু আগে এই জানোয়ারটাকে মেরে ফেলি চাচ্চু! আমাকে শুধু একবার ওকে শেষ করে ফেলার অনুমতি দাও। ওর প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।”

ইরশাদ দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে তৌসিরের হাত চেপে ধরেন। সেলিমের কাছ থেকে তাকে একপ্রকার টেনে সরিয়ে কড়া গলায় ধমক দেন, “শোন তৌসির, পাগলামি করিস না! আবেগ দিয়ে কাজ হয় না। একে এখন মেরে ফেললে বাকি তথ্য কে দেবে? সরে আয় এখান থেকে। আর মাত্র দুটো দিন দুটো দিন অপেক্ষা কর।”
তৌসির চাচ্চুর আদেশের অবাধ্য হতে পারে না। অনিচ্ছাসত্ত্বেও হাতের ভারী হাতুড়িটা সশব্দে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে। লোহা আর কংক্রিটের ঘর্ষণে একটা তীক্ষ্ণ শব্দ প্রতিধ্বনিত হয় ঘরজুড়ে। কিন্তু তৌসিরের চোখদুটো রাগে তখনও জবা ফুলের মতো রক্তবর্ণ। সেলিমের মৃতপ্রায় শরীরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে হিসহিস করে সে বলে ওঠে,
“তিল তিল করে মরার জন্য তৈরি হয়ে থাক তুই! আমার গর্ভবতী বোনটার ওপর তোরা যে পাশবিক অত্যাচার করেছিস, ওর পেটের বাচ্চাটা বের করে নিয়েছিস। এই জঘন্য পাপের শাস্তি তোদের কড়ায় গণ্ডায় পেতেই হবে। মৃত্যু তোর জন্য আশীর্বাদ হবে, আর আমরা তোকে সেই আশীর্বাদ সহজে দেব না!”

শিকদার বাড়িতে 🦢
ইকরার লাগেজ গোছাচ্ছে। সে নিজের কাপড়চোপড় একে একে লাগেজে প্যাক করছে। এখান থেকে কয়েকদিনের জন্য চলে যাবে সে, আর এর জন্য খোদ বিবিজানের কাছ থেকেও অনুমতি পেয়ে গেছে। তাই আর কোনো চিন্তা নেই। তবে সে যে একেবারে যাচ্ছে না, বরং কিছুদিন দূরে থাকতে চাইছে, সেটা বাড়ির কেউ জানে না। ঠিক যেমন কেউ জানে না তার আর ধ্রুবর মাঝে স্বামী-স্ত্রীর কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক নেই পুরোটাই এক লোক দেখানো অভিনয়।
ঠিক তখনই নিঃশব্দে ইকরার পেছনে এসে দাঁড়ায় ধ্রুব। ইকরার পরনে এখন একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট আর ট্রাউজার। কাজের ব্যস্ততায় টি-শার্টের গলা এক কাঁধ থেকে বেশ খানিকটা সরে গেছে, যার কারণে ভেতরের ইনারের নীল রঙের ফিতেটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ধ্রুব সেই দিকে একঝলক তাকিয়েই গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে, “কী রে, তুই নাকি বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছিস?”

ইকরা ঘুরে তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করে না। নিজের কাজে পূর্ণ মনোযোগ রেখেই নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, চলে যাব। এখানে থেকে আর কী-ই বা করব?”
কথাটার ধরন শুনেই ধ্রুব তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। চড়া গলায় বলে, “কী করবি মানে? তুই কোথাও যাবি না, এটাই ফাইনাল! এর বাইরে আর কোনো কথা হবে না।”
ইকরা বিরক্তিতে ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। লাগেজের চেইনটা টেনে লাগাতে লাগাতে ঝাঁঝালো গলায় বলে, “তুমি তোমার ওই সাউয়া মার্কা কথাগুলো এখন বন্ধ রাখো তো! আমার মুখটা খারাপ করিয়ো না।”
এ কথা শুনে ধ্রুবর রাগ যেন আরও বেড়ে যায়। সে পা বাড়িয়ে একেবারে ইকরার গা ঘেঁষে পেছনে এসে দাঁড়ায়। তারপর কিছু না ভেবেই ইকরার কাঁধের কাছে স্পষ্ট হয়ে থাকা ইনারের ফিতেটা আঙুল দিয়ে খপ করে ধরে জোরে একটা টান দেয়। শক্ত গলায় বলে, “তুই এখানেই থাকবি, কোথাও যাবি না। এটা আমার কথা!”
আচমকা এমন টানে ইকরার বুকে বেশ ব্যথা লাগে। সে যন্ত্রণায় আর রাগে চেঁচিয়ে ওঠে, “কী হচ্ছে এসব? গতকালও তুমি ঠিক এভাবেই টান মেরে একটা ছিঁড়ে ফেলেছ, আজও আবার একই কাজ করছ! আজ যদি এটা ছিঁড়েছে, তাহলে কিন্তু তোমার এই বাইনচোদগিরি আমি আজ ছাড়িয়ে দেব বলে দিচ্ছি!”

ইকরার কথা শেষ হতে দেরি হয়, কিন্তু ধ্রুবর ফিতেটা ছিঁড়তে একটুও দেরি হয় না। টানের চোটে ফিতেটা পট করে ছিঁড়েই যায়। ইকরা রাগে চোখ বড় বড় করে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে ধ্রুবর দিকে ঘোরে। আর ধ্রুব একদম গা-ছাড়া উদাসীন ভঙ্গিতে বলে, “তুই তো আম্বানির চাচাতো বোন তাহলে এত কম দামি ব্র্যান্ডের জিনিস ইউজ করিস কেন? যে এক টানেই ছিঁড়ে যায়!”
ইকরা রাগে দাঁত চেপে হিসহিস করে বলে ওঠে, “দামি পরি আর কম দামি পরি, যা ইচ্ছে পরি! তাতে তোমার কী? তুমি এটা ধরে টানলে কেন?”
ধ্রুব পাল্টা জবাব দেয়, “তুই আমার সামনে এই কাঁধ আর ওই কাঁধের ফিতা দেখিয়ে দেখিয়ে হাঁটবি, আর আমি একটু টান দিলেই দোষ?”
ইকরা দ্রুত বিছানা থেকে একটা ওড়না টেনে নিয়ে নিজের গলা আর কাঁধ জড়িয়ে নেয়। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে, “তোমাকে তো আমি একটু ভালো মানুষ মনে করতাম। কিন্তু এখন তো দেখছি তুই শালা একটা চিরবদমাশ!”
ধ্রুব বাঁকা হেসে বলে, “বটে? তুই চাইলে সেটা আমি এখনই প্রুফ করে দিতে পারি। ইনারের ফিতা তো ছিঁড়লাম, আয় এবার তোর জার্সিটাও ছিঁড়ে বদমাশির আসল প্রুফ দিই!”
এই বলে ধ্রুব মজা করেই ইকরার দিকে হাত বাড়ায়। ইকরা রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে ধ্রুবর বুকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে ওকে সরিয়ে দেয়। আঙুল উঁচিয়ে শাসায়, “একদম হাত বাড়াবে না আমার শরীরের ন্যায়! হাত বাড়ালে কিন্তু হাত কেটে দেব!”

ধ্রুব এবার কপট ধমক দিয়ে ওঠে, “আরে দূর পাগল! আমি কি তোর শরীর ছুঁতে যাচ্ছি নাকি? আমার খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই? আমি তো শুধু তোর জার্সিটা খুলে দেখতে চাইছিলাম যে ফিতাটা ছিঁড়লাম, সেটা আসলে কেমন সুতোর বানানো। এত বাজে কোয়ালিটি! এসব সস্তা ব্র্যান্ডকে তো বয়কট করা উচিত। তাই আমি ভাবছি এটা নিয়ে সোজা মিডিয়ার সামনে গিয়ে ওদের এক্সপোজ করব। যাতে দেশের মা-বোনেরা সতর্ক হয়ে যায় আর ওই ব্র্যান্ডের জিনিস না কেনে। দে, ওটা আমাকে নিতে দে! তোর শরীরের প্রতি আমার ওতো লোভ-টোভ নেই, বুঝলি?”
ধ্রুবর এমন অবলীলায় বলা কথাগুলো ইকরার পক্ষে হজম করা একেবারে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সে রাগে তেড়ে যায় ধ্রুবর দিকে। কিন্তু চাইলেও সপাটে একটা থাপ্পড় বসাতে পারছে না, কারণ তাতে বাড়ির ভেতর নতুন করে সমস্যা তৈরি হবে। পরিস্থিতি অনুকূল নয় জেনে ইকরা চিৎকার করে ওঠে, “শালা মাতারি এবার বন্ধ করো নিজের মুখ! পরিবেশ পরিস্থিতি খারাপ বলে আমি চুপ আছি, নইলে এতক্ষণে আমি তোমার মুখ ফাটিয়ে দিতাম!”

ধ্রুব ইকরার এই রাগকে একটুও পাত্তা দেয় না। উলটে নিজের থুতনিতে আঙুল রেখে একটা ভ্রু নাচিয়ে অত্যন্ত কৌতূহলী দৃষ্টিতে ইকরার দিকে তাকিয়ে থাকে। ধ্রুবর এমন দৃষ্টি দেখে ইকরা অস্বস্তিতে চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করে, “কী দেখছো ওরকম ড্যাবড্যাব করে?”

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৭

ধ্রুব থুতনিতে আঙুল বোলাতে বোলাতেই নির্লজ্জের মতো বলে, “দেখছি আর ভাবছি, তোর তো এমনিতেই কিছু নাই-টাই। তাহলে খামোখা এসব কম দামি ব্র্যান্ডের জিনিস পরিসই বা কেন?”
কথাটা শোনামাত্রই ইকরার মাথায় রক্ত উঠে যায়। সে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে এবার সত্যি সত্যিই ধ্রুবকে থাপ্পড় মারার জন্য তার দিকে তেড়ে যায়।

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৯

1 COMMENT

  1. এতো দেরি করে পর্ব দেন কেনো ৪৯ নাম্বার পর্ব তারাতাড়ি দেন প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ 🥹🥹

Comments are closed.