Home স্নিগ্ধবিষ স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৭

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৭

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৭
সানজিদা আক্তার মুন্নী

বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দে হকচকিয়ে গিয়ে তালহা প্রায় পড়েই যাচ্ছিলেন, কিন্তু না, তিনি পড়ে যান না। ছাদের গার্ড ওয়ালের ওপাশে একজন মানুষের বসার মতো একটু চওড়া কার্নিশ আছে, সেটার বদৌলতেই তালহা বেশ অনায়াসেই সামলে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। তাকে সুরক্ষিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নাজহা বুকের ওপর হাত চেপে ধরে স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এরপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে দুজনেই দ্রুতপায়ে নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।

বিশাল এই তালুকদার বাড়িতে সদস্য সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই মূল ভবনের বাইরেও, বাগানের দিকে বা উঠোনের আনাচে-কানাচে একচালা বেশ কিছু ছোট ছোট ঘর রয়েছে। এমনই একটি ঘরে নিজের আস্তানা গেড়েছে নাজহার নবম পড়ুয়া চাচাতো ভাই রাইয়্যান। ছেলেটার বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক পাগলামির পর্যায়ে। মাস্টার চাচ্চু তাকে পইপই করে নিষেধ করেছিলেন উল্টোপাল্টা কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! অতিরিক্ত অকালপক্বতার ফলস্বরূপ আজ এক ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছে সে। নিজের মনগড়া কোনো এক এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে আস্ত ঘরটাই সে উড়িয়ে দিয়েছে। বিস্ফোরণের তোড়ে ঘরের একপাশের দেয়াল হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে, ভেতরের জিনিসপত্র সব তছনছ। আর এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে সামান্য আহত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং নিব্বি বিজ্ঞানী রাইয়্যান!

নিচে নেমে আসতেই এক লঙ্কাকাণ্ড দেখতে পায় নাজহা। রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে রাইয়্যানের বাবা হাতের জুতো খুলে ছেলেকে পেটাতে উদ্যত হয়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাজহা তড়িঘড়ি করে ভিড় ঠেলে এগিয়ে যায়। চাচ্চু আর রাইয়ানের মাঝখানে ঢালের মতো দাঁড়িয়ে পড়ে সে। শান্ত কণ্ঠে বলে, “বাদ দাও তো চাচ্চু! ওকে মেরে কী করবে? ছেলেটা তো নতুন কিছু শেখারই চেষ্টা করছিল।”
চাচ্চুকে থামিয়ে দিয়ে নাজহা উদ্বিগ্ন চোখে রাইয়্যানের দিকে তাকায়, “তোর খুব বেশি লাগেনি তো রে?”
ভয়ে জড়সড় রাইয়্যান দুদিকে মাথা নেড়ে জানায়, না।
ভাইঝির এমন প্রবল বাধার মুখে রাইয়ানের বাবা আর এগোতে পারেন না, নিরুপায় হয়ে সেখান থেকে সরে যান। তিনি চলে যেতেই উঠোনের গুমোট পরিবেশটা নিমেষেই বদলে যায়। উপস্থিত সবাই আর নিজেদের ধরে রাখতে পারে না, রীতিমতো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে হাসতে শুরু করে। মাস্টার চাচ্চু হাসতে হাসতেই বাড়ির অন্য বিজ্ঞান পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে ওঠেন, “তোরাও এমন নিব্বা এক্সপেরিমেন্ট করে এবার মূল বাড়িটাও ব্লাস্ট করা!”
চারপাশের এই হাসাহাসির মাঝে নাজহার মুখে কোনো হাসি নেই। সে পরম মমতায় নিজের সুতির ওড়নার খুঁট দিয়ে রাইয়্যানের মুখের কালিখাওয়া দাগগুলো মুছতে মুছতে উপস্থিত সবাইকে শাসায়, “অনেক হয়েছে! এবার থামো তো সবাই। আমার ভাইকে নিয়ে আর কেউ হাসবে না বলে দিলাম!”

সন্ধ্যার আবছায়া অন্ধকারে চারপাশটা কেমন থমথমে হয়ে আছে। তৃষ্ণা নিজের মনে ঘরের কাজ গোছাতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই ঘরে পা রাখে ওয়াসেম। তার চেহারায় একরাশ বিরক্তি আর কাঠিন্যতা। তৃষ্ণার দিকে একপলক তাকিয়েই রুক্ষ কণ্ঠে সে বলে ওঠে, “চা নিয়ে আয় সবার জন্য। আগে এক কাপ খেয়েছি, মন ভরেনি।”
তৃষ্ণা কোনো তর্ক করে না। অভ্যস্ত ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে শুধু বলে, “আচ্ছা।”
এদিকে নিচের লিভিং রুমে এক অন্যরকম পরিবেশ। তৌসির, ইয়াদ, রুদ্র আর নুহমান মিলে জমজমাট আড্ডায় মেতে আছে। আজ রাতে তাদের আর কোথাও বের হওয়ার তাড়া নেই। যে লোকটার তাদের গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার কথা, সে এখনো দিল্লি থেকে ফিরে আসেনি। তাই তাদের কাজ শুরু হবে আগামীকাল সকালে। এখন শুধুই অফুরন্ত অবসর। তৃষ্ণা চা বানানোর উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। ঠিক তার পিছু পিছু শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বেরিয়ে আসে ওয়াসেম। ইয়াদ শুয়ে আছে রুদ্রের উরুতে মাথা রেখে। তার ঠিক পায়ের কাছেই বসে আছে তৌসির। করিডরের দিকে হঠাৎ চোখ পড়তেই ইয়াদের চোখেমুখে দুষ্টুমির ঝিলিক খেলে যায়। সে পা দিয়ে তৌসিরকে আলতো লাথি মেরে ইশারায় করিডরের দিকে তাকাতে বলে। তারপর গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বলে ওঠে, “কী রে! কলার ঠিক করছে কেন? ভেতরে কিছু হলো নাকি?”

তৌসির করিডরের দিকে তৃষ্ণা আর ওয়াসেমের যাওয়ার পথের দিকে একনজর তাকায়। তারপর তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, “আরে নাহ! এত সাহস আর বুদ্ধি ওর নেই। নিজের ইগো বাঁচাইতে মেয়েটার সাথে ভালো করে দুটো কথাও তো বলে না, সে আবার কিছু করবে!”
কথাটা শুনে ইয়াদ চরম বিরক্ত হয়। চাপা ক্ষোভে বলে ওঠে, “বড় ভাইকে আজ ক্লাস করাতেই হবে। যখন আসছিই, তখন ওদের বাসর না করিয়ে আমি যাচ্ছি না। ও নিচে আসলেই তুই আমার সাথে নাটক শুরু করবি, বুঝলি?”
তৌসির ভ্রু কুঁচকে জানতে চায়, “কী নাটক?”
ওয়াসেম সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতেই ইয়াদ ধীরে ধীরে উঠে বসে। হাতের ফোনটা অকারণে স্ক্রল করতে করতে, ঠিক ওয়াসেমকে শুনিয়েই বেশ আক্ষেপের সুরে বলে ওঠে, “আহা রে! কত দিন বউকে দেখি না। শোকে কলিজাটা ফাইট্টা ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে একেবারে!”
তৌসির তাল মিলিয়ে বলে, “কতদিন আবার? এই তো এলি, এখনো একদিনও তো পার হলো না!”
ইয়াদ কৃত্রিম ধমকের সুরে বলে ওঠে, “ঐ একদিনই আমার কাছে যুগ যুগ মনে হচ্ছে রে!”
তৌসির হেসে ফেলে, “বাহ! বউয়ের জন্য এত মায়া তোর?”
ততক্ষণে ওয়াসেম এসে সোফায় বসে পড়েছে। ইয়াদ আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে আরও জোরালো গলায় বলে, “আমি তো আর মানুষ নামের গরু নই যে, বউকে কাছে পেয়েও পাত্তা দেব না! আমি ভাই যতক্ষণ ঘরে থাকি, বউয়ের আঁচলের নিচেই থাকি!”

নুহমানও পাশ থেকে ফোড়ন কাটে, “তৌসির ভাইও তো এমনই। ফ্রি হলেই ভাবিকে নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকেন।”
তৌসিরের কাঁধে হাত রেখে ইয়াদ বেশ বাহবা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে, “এই তো, গ্রেট! এমনটাই তো হওয়া উচিত।”
এরপর হঠাৎই সে ঘুরে তাকায় ওয়াসেমের দিকে। সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, “তুই তো বউকে বউই মানিস না! তারপরও বল, একটু আদর-টাদর তো নিশ্চয়ই করিস, তাই না?”
মুহূর্তেই ওয়াসেমের চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ আর রাগী হয়ে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলে, “লাথি মেরে তোর বউয়ের বড়াই করা ছুটিয়ে দেব আমি! আমি কি তোদের মতো সাধ করে বিয়ে করেছি নাকি? তোদের বউ আর ওর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। তোদের বউরা ভালো পরিবারের, রূপবতী, গুণবতী তারা সম্মানের যোগ্য। কিন্তু ও? ওর তো বাপ-মা-ই নেই! ও একটা লোভী মেয়ে দুমুঠো ভাতের লোভে পড়ে আছে এখানে। কাজের লোক, কাজ করে খায়!”
এই নির্মম কথাগুলো শুনে তৌসিরের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। সে তীব্র দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ওয়াসেমের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলে, “অবহেলা করছিস তো? কর। কিন্তু মনে রাখিস, এই মেয়ের যোগ্য তুই নোস। যেদিন ওকে হারাবি, সেদিন বুঝবি ও আসলে কী ছিল।”

ওয়াসেম চরম অবজ্ঞার সুরে উড়িয়ে দেয় কথাটা, “না, বুঝব না। তুড়ি মারলে ওর মতো একশোটা মেয়ে এসে পায়ে পড়বে। ওকে নিয়ে এত সাফাই গাওয়ার কিছু নেই। ও শুধু আমার কাজের লোক, এর বেশি কিছু না।”
ইয়াদ স্তব্ধ হয়ে ওয়াসেমের চোখের দিকে তাকায়, “তুই আস্ত একটা পশুর মতো কথা বলছিস ওয়াসেম!”
কথাটা শুনে ওয়াসেম হঠাৎ শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে হু হু করে হেসে ওঠে। সেই হাসিতে প্রাণের চেয়ে শূন্যতা আর হাহাকারই বেশি। “সেই দিনের পর থেকে আমি আর কারও প্রতি কোনো মায়া অনুভব করি না রে। হ্যাঁ, আমি একটা পশু। আমি সেটা স্বীকারও করি।”
মুহূর্তেই ঘরের পরিবেশ ভারী হয়ে আসে। ইয়াদ আর তৌসির একে অপরের দিকে তাকায়। তিনজনের মুখেই নিমেষে নেমে আসে ঘোর অমানিশার কালো মেঘ। চোখে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে দীর্ঘদিনের চাপা পড়ে থাকা প্রতিশোধের আগুন।
ইয়াদ ফিসফিস করে অথচ কঠিন স্বরে বলে ওঠে, “ওরা আমাদের বাঁচতে দেয়নি আমাদের বোনকে, বাবাকে, আমাদের পুরো রাজ্যকে, আমাদের অস্তিত্বকে ওরা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আমরা ওদের ছাড়ব না ওয়াসেম… আমি ওদের কাউকে ছাড়ব না।”

ঠিক সেই থমথমে মুহূর্তেই চায়ের ট্রে হাতে লিভিং রুমে এসে ঢোকে তৃষ্ণা। পরিবেশের ভারী ভাবটা সে হয়তো আঁচ করতে পারে না, বা করলেও না দেখার ভান করে চুপচাপ সবার সামনে ট্রে-টা নামিয়ে রেখে ফিরে যেতে উদ্যত হয়।
তৃষ্ণাকে ফিরে যেতে দেখেই তৌসির বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। পেছন থেকে শান্ত গলায় ডাক দেয়, “তৃষ্ণা, শোনো।”
তৃষ্ণা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। ধীরপায়ে পেছনে ফিরে, দৃষ্টি অবনত রেখেই বিনীত স্বরে বলে, “জি, বলুন।”
তৌসির ঠোঁটে স্নিগ্ধ একটি হাসি ফুটিয়ে বলে, “আমাদের সবাইকে নিয়ে হয়তো তোমার মনে অনেক সংশয় কাজ করছে। তাই পরিচয়টা দিয়ে নিই। আমি তৌসির, আর এ হলো ইয়াদ। ওই পাশে রুদ্র আর নুহমান। ওরা দুজন আমার ভাই। আর আমরা তিনজন আমি, ওয়াসেম আর ইয়াদ, আমরা আপন ভাই। সেই সম্পর্কে আমরা তোমার দেবর হই। তোমাকে ‘তুমি’ করেই বলছি, কারণ বয়সে তুমি আমার ছোটই হবে। আর তোমাকে আমি আমার ছোট বোনের নজরেই দেখি।”
তৌসিরের কথা শুনে তৃষ্ণা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা ঝাঁকায়। ওর চোখেমুখে তখনো একটা চাপা নার্ভাসনেস। শান্ত গলায় বলে, “জি, আমি বুঝতে পেরেছি ভাই।”
কথাটা বলেই সে একপ্রকার উড়ন্ত পায়ে রান্নাঘরের দিকে ছুটে যায়, যেন এখানে এক মুহূর্ত বেশি দাঁড়ালেই অস্বস্তিতে দমবন্ধ হয়ে আসবে তার। ড্রয়িংরুমের সোফায় আয়েশ করে বসে ইয়াদ ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে আলতো চুমুক দেয়। ঠোঁটের কোণে তার একটা দুষ্টু হাসির রেখা। ওয়াসেমের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে সে খোঁচা দিয়ে বলে ওঠে, “ধুর, বোন কেন বললি? ভাবি বলবি, ভাবি! আমার চাচাতো ভাইয়ের বউ বানাব ওকে, বড় ভাই তো আর রাখতে চায় না।”

ইয়াদের এই রসিকতায় ওয়াসেমের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। বুকের ভেতরটায় রাগের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। তার তো মন চাচ্ছে এই মুহূর্তেই ড্রয়ার থেকে পিস্তলটা বের করে ইয়াদকে গুলি করে টপকে দিতে। সে খুব ভালো করেই জানে ইয়াদ এসব নেহাতই মজা করে বলছে, তারপরও অদ্ভুত এক অধিকারবোধ আর তীব্র ঈর্ষায় তার রগ জ্বলতে থাকে। মন চাচ্ছে ইয়াদের জিভটা টেনে ছিঁড়ে নিতে। নিজেকে কোনোমতে সামলে, বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকে ওয়াসেম এবার মুখ খোলে, “দুনিয়াতে কি মেয়ের অভাব পড়ছে যে তুই কথায় কথায় ওকে টানস?”
ইয়াদ দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে আরো ফাইজলামি শুরু করে, চোখের দৃষ্টিতে প্রচ্ছন্ন মজা নিয়ে বলে, “হ্যাঁ, টানি। কারণ এমন সহজ-সরল মেয়ে আমি কখনোই দেখিনি। আমার বউয়ের পর এই মেয়েটাকেই আমার সবচেয়ে ভালো মনে হলো। আমার চাচাতো ভাই অনেক ভালো মানুষ, ওকে একেবারে বুকের ভেতর আগলে রাখবে।”
ওয়াসেমের ধৈর্যের বাঁধ এবার যেন চির ধরে যায়। হাতের মুঠো শক্ত করে সে প্রায় ফেটে পড়ে, “আমার বিয়ে করা বউকে তুই আরেকজনের বউ কেন বানাবি? ওকে ডিভোর্স দিলে তো তুই অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবি!”
এতক্ষণ চুপচাপ দুজনের কাণ্ড দেখছিল তৌসির। এবার সে আসল পয়েন্ট ধরে বসে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওয়াসেমের দিকে তাকিয়ে বলে, “কিরে বাইনচোদ, তুই না কইলি তুই বউ মানস না? তাইলে এখন এসব কথা মারাস ক্যা? তৃষ্ণাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবি, ব্যাস কেল্লা ফতে! তোর তো এতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।”

ওয়াসেম থতমত খেয়ে যায়। নিজের দুর্বলতা ঢাকতে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। চোখ অন্যদিকে ফিরিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে, “অসুবিধা অনেক হবে। আমার কাপড়-চোপড় ধোয়া, টাইমলি খাবার দেওয়া, মুখে তুলে খাওয়ানো, গা-গতর মুছে দেওয়া, সেবা করা, চা করে দেওয়া এসব কে করবে ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিলে?”
ওয়াসেমের এই খোঁড়া যুক্তি শুনে তৌসির তিক্ত হাসে। সে খুব ভালো করেই বোঝে, কাজের অজুহাতের আড়ালে ওয়াসেম আসলে মেয়েটাকে কতটা চায়। বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তৌসির ভারী গলায় বলে, “নিজের স্বার্থের জন্য হলেও তোর এই অসহায় মেয়েটাকে ভালোবাসা উচিত ওয়াসেম, হারিয়ে ফেলিস না।”
কথাটা বলেই তৌসির নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়। পকেটে থাকা ফোনটা বেশ কিছুক্ষণ ধরে একটানা বেজেই চলেছে। নাজহা বারবার কল দিচ্ছে। তৌসির নিজের রুমে ঢুকে দরজাটা চাপিয়ে ফোন রিসিভ করে। কল ধরতেই ওপাশ থেকে নাজহা রীতিমতো চিল্লিয়ে ওঠে, “কই ছিলেন আপনি?”
তৌসির বিরক্তি নিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে। নিজের স্বভাবসুলভ রুক্ষ টোনে বলে, “আরে কামে ছিলাম সাউয়া, এমনে চিল্লাস ক্যান?”

তৌসিরের এই অদ্ভুত গালি শুনে নাজহা জাদুর মতো শান্ত হয়ে যায়। গালি না খেলে ওর মনের শান্তিই আসে না! উত্তেজিত স্বরটা নামিয়ে এনে নাজহা বলে, “আপনি তাড়াতাড়ি চলে আসুন, আমার আপনাকে অনেক কথা বলার বাকি আছে!”
তৌসির প্যান্টের পকেটে এক হাত গুঁজে ক্যাজুয়ালি জিজ্ঞেস করে, “কী কথা?”
“আছে কত কথা।”
“ফোনেই বলো, শুনি।”
“না, এসব ফোনে বলতে পারব না। বাড়িতে আসুন, বলব। আর শুনুন, আজ আমার চাচাতো ভাই রাইয়্যান আছে না?”
তৌসির ভ্রু কুঁচকায়, “হ্যাঁ, ক্যান, কী হইছে?”
ওপাশ থেকে নাজহা প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, “আরে কী হয়েছে শুনুন বলি! ও সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে আমাদের একটা হলরুম উড়ায়ে ফেলছে!”

কথাটা শুনে তৌসির এক মুহূর্ত চুপ থাকে, তারপর হো হো করে হেসে ওঠে। হাসির মাঝেই তাচ্ছিল্য ভরা গলায় বলে, “নোবেলজয়ী গাদ্দারির হারাম টাকা দিয়া তোর বাপ-চাচা এসব বানাইছে তো, তাই এমনে উড়িয়া যাইতেছে! দেখিস, তোর বাপ-চাচার সাউয়া না কবে এমনে উইড়া যায়!”
কথাটা শুনেই নাজহার মেজাজ নিমেষে বিগড়ে যায়। ঝাঁঝালো গলায় সে বলে ওঠে, “হ্যাঁ, আমার বাপ-চাচাই তো শুধু হারাম টাকা কামায়! আর আপনি তো তাসবি আর জায়নামাজ বিক্রি করে এত টাকা কামান, তাই না? আমার বাপ-চাচা তো অন্তত খরচ করতে জানে, কিন্তু আপনি? ছিঃ! দুদিন পর যখন বাচ্চা-কাচ্চা হবে, তখন তারা যদি জিজ্ঞেস করে ‘আম্মা, তুমি কী করে এই কিপটের সংসার করলে? কীভাবে এই কিপটের সংসারে থেকে আমাদের জন্ম দিলে?’ তখন আমি কী উত্তর দেব শুনি?”
তৌসির ওপাশ থেকে মিটিমিটি হাসছে। তবে গলার স্বরটা একদম সহজ রেখেই রসিকতা করে, “তখন বলবি তোদের বাপ টাকা খরচ করে সেফটি না কিনে কিপ্টামি করেছে বলেই তোরা দুনিয়ার আলো দেখতে পাচ্ছিস!”
কথাটা শুনে নাজহা নাক-মুখ ছিটকায়। বিরক্তির চরম সীমায় পৌঁছে বলে, “ছিঃ! আমি বাচ্চাদের এসব বলব?”
তৌসিরের হাসি যেন আরও চওড়া হয়, “হ, বলবি। সমস্যা কী?”

হঠাৎ নাজহার মাথায় অন্য চিন্তা ভর করে। প্রসঙ্গ পাল্টে সে হঠাৎ বলে বসে, “এই তৌসির, আমাদের তো বাসর হয়ে গেছে, কিন্তু কয়টা বাচ্চা নেব, সেটা তো একবারও ভাবিনি!”
তৌসির সাথে সাথেই আপত্তি জানায়, “না, এখন বাচ্চা-টাচ্চার কোনো দরকার নেই।”
“কেন?” নাজহার কণ্ঠে রাজ্যের বিস্ময়।
“তুই নিজেই তো একটা বাচ্চা! বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে যদি মরে-টরে যাস, তখন তো তোর বাপ-চাচা আমার নামে উত্তেজনার মামলা ঠুকে দেবে।”
তৌসিরের কথা শুনে নাজহার অভিমান আর রাগ এক হয়ে যায়। ঠোঁট উল্টে বলে, “তাহলে এক কাজ করুন, মায়াকেই বিয়ে করে নিন। ও তো বেশ উপযুক্ত বয়সের আছে, বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে মরবেও না।”
তৌসির ভ্রু কুঁচকে বলে, “তোর আর আমার এই ভালা কথার মাঝখানে ওই কালনাগিনী আবার আসে কোথা থেকে?”
নাজহাও ছাড়ার পাত্রী নয়, “আপনিই তো বললেন আমায় বাচ্চার মা করবেন না! তার মানে তো ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে এটাই বোঝালেন যে আপনি আরেকটা বিয়ে করতে চান। আর কাকে করতে চান, সেটা তো পরিষ্কার অবশ্যই মায়াকে!”

তৌসির এবার একটু কড়া গলায়, অথচ আদরের ধমক দিয়ে বলে, “তুই খামোখা ত্যাড়া কথা চুদাইস না ছিনাল তোর দাদার মতো আমার কূয়া-ভরা উত্তেজনা নেই যে আমি একশোটা বিয়ে করতে যাব।”
দাদার কথায় নাজহা ফুঁসে ওঠে, “খবরদার! আমার দাদাকে একদম টানবেন না বলে দিচ্ছি। কথা হচ্ছে আমার আর আপনার মাঝে।”
“আমার টানতে ভালো লাগে, তাই টানব।”
“আপনার কি আমার সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া করার মুড থাকে? সবসময় শুধু ঝগড়া করেন! যান, আমি আর কোনো কথাই বলব না আপনার সাথে।”
“না বললে নাই! তুই বিয়ার কথা তুললি ক্যান? তুই দেখি বিশ্ব ছিনাল হয়ে গেছিস, ওই হারামজাদীর নাতিন তুই বিয়ের কথা তুলস ক্যান?”
​”তো তুলব না? আপনি কেন বললেন আমি বাচ্চা নিব না?”
​”আমি তো তোরে না করিনি, বলেছি এখন না।”
​নাজহা জেদ ধরে, “আপনার সাথে বিয়ে না হয়ে অন্য কারো সাথে হলে এতদিনে আমি দুই-তিন মাসের প্রেগন্যান্ট থাকতাম।”

​তৌসির অবাক হয়ে বলে, “কি কইলি আবার ক?”
​”বললাম, আমি মা হবো। আমি আপনার সন্তানের জননী হবো। আমি মা ডাক শুনতে চাই, চল্লিশ বছর হওয়ার আগে দশ-বারোটা বাচ্চার মা হতে চাই। শুনেছেন?”
​তৌসির দীর্ঘশ্বাস ফেলে, “হ শুনছি। এখন ঠান্ডা হ। মা হবি কেম্নে? ধরলেই তো কাকড়ার মতো চিল্লানি দিস, শেষ করবারই দিস না কিছু!”
​নাজহা লাজুক গলায় বলে, “তো করেন না কেন? আমি কি না করছি? জোর করে করবেন, ওই সময় আমি নিজের কষ্টের জন্য কাঁদি, আপনি বুঝিয়ে বলবেন।”
​তৌসির একটু অস্থির হয়ে বলে, “নাজহা উত্তেজিত করিস না, এমনিতেই অনেক কষ্টে সামলাচ্ছি নিজেকে।”
​নাজহা দুষ্টুমি করে বলে, “আমি কি করলাম? আমি তো শুধু মা হওয়ার কথা বললাম। আমি কি আপনার সাথে আগের রাতের বা পেটে দেওয়া কিসের কথা বলেছি?”
​”তুই ইচ্ছে কইরা আমায় এসব কইতাছিস, যাতে আমি মরে যাই!”
​নাজহা হেসে ফেলে, “হ্যাঁ, বললে বলতেছি! মেজাজ দেখানোর শাস্তি এটা।”
​তৌসির হুমকি দেয়, “হাতের কাছে যদি পাই তোরে, তাহলে তেঁতুল ভর্তা করে খামু। যেদিন বাড়িতে আসমু, সেদিন তোর দুইশো ডিগ্রি জ্বর উঠব।”

​”হ্যাঁ, অনেক দিতেন! যাক গে, চা খেয়েছেন?
​”হ খাইছি। তুই কি করস? তালহার লগে গল্প করা শেষ?”
​”হ্যাঁ, অনেকক্ষণ গল্প করলাম। আপনি আবার উল্টো পাল্টা ভাববেন না! ছোটবেলা থেকে তালহা ভাইয়ের থেকে গল্প শুনি, উনার কথা ভালো লাগে।”
​”না, কিছু মনে করতাছি না। তা কি গল্প করলি?”
​নাজহা হাসতে হাসতে বলে, “আমি বলছি যে, তালহা ভাই আমার জামাই তো মহা কিপ্টে। কিপ্টামির জাত ছাড়ানো! আপনি আমাকে টিপস দিন, এই কিপ্টামি বন্ধ করব কি করে।”
​তৌসির জানতে চায়, “তো তালহা কি কইলো?”
​”তালহা ভাই বলছেন, দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা যেন আপনারে মাইরের ওপর রাখি।”
​তৌসির হেসে ফেলে, “তালহা এসব জীবনেও কইবো না, তুই নিজেই বানিয়ে কইতাছোছ।”
​”হ্যাঁ, বানিয়েই বলছি! দেশে আসুন শুধু, দেখবেন কি করি।”
​”আমি কি করলাম? আমায় মারবি ক্যান?”
​নাজহা উত্তেজিত হয়ে বলে, “কিছু করেননি, এমনিই মারব। জানেন আমার বিগ ড্রিম কি?”

​”কি?”
​”মদ খেয়ে মাতাল হয়ে জামাই পিঠাবো! আই মিন আপনাকে ইচ্ছে মতো কেলাবো।”
​তৌসির বলে ওঠে, ” তাইলে আমিও তোমার সাউয়ায় দিমুনে কয়টা!”
​নাজহা আরও বলে, “আরো শুনুন। আমি মদ খেয়ে মাতালামি করব আর আপনাকে মেরে মেরে বলব ‘নাচ শালা!'”
​তৌসির হাসতে হাসতে বলে, “গুন্ডি হয়ে যাইতেছস দেখি তুই!”
তৃষ্ণা নিস্তব্ধ হয়ে ব্যালকনির রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। পাশের ঘর থেকে ভেসে আসছে তৌসির আর নাজহার উচ্ছল আলাপের রেশ, যা তার কানে বিঁধছে বিষণ্ণতার সুর হয়ে। আকাশের দূর নীলিমায় মেঘের আনাগোনা, সেদিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে তৃষ্ণা ভাবে, মানুষ তার স্ত্রীকে কতই না নিবিড়ভাবে ভালোবাসে! অথচ, তার এই পোড়া কপালে হয়তো এমন উষ্ণতা কোনোদিনই লেখা নেই। একটু আগেই ওয়াসেম আর তৌসিরের বলা প্রতিটি শব্দ সে শুনেছে। ওয়াসেমের কাছে সে কোনো স্ত্রী নয়, শুধুই একজন অবৈতনিক কাজের মানুষ। সত্যিই তো, সে তো এই সংসারের একজন দাসী। তৃষ্ণার ছলছল চোখের কোণ বেয়ে অঝোরে গড়িয়ে পড়ছে তপ্ত অশ্রু। এই অবহেলা আর বিষাদময় জীবনের সমাপ্তি কোথায়? কবে মুক্তি মিলবে এই দমবন্ধ করা খাঁচা থেকে?

ঠিক তখনই নিঃশব্দ পদক্ষেপে তৃষ্ণার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ায় ওয়াসেম। বাতাসে ভেসে আসা পরিচিত সুবাস আর একটা ভারী উপস্থিতিতে তৃষ্ণা চমকে ওঠে। তাড়াহুড়ো করে অত্যন্ত সাবধানে সে গালের ওপর লেপ্টে থাকা চোখের পানি মুছে নেয়। তারপর মাথা নিচু করে, নিজের ঘরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় সে। ওয়াসেমকে পাশ কাটিয়ে সন্তর্পণে চলে যাওয়ার সময় হঠাৎই ওয়াসেম তার বলিষ্ঠ, আলতো হাতে তৃষ্ণার ওড়নার প্রান্ত টেনে ধরে।
তৃষ্ণা থমকে দাঁড়ায় জায়গায়। বুকের ভেতরটা অজানা আতঙ্কে ধক করে ওঠে। তারপর ধীরে ধীরে পেছন ফিরে অত্যন্ত জড়তা আর কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, “আ আপ আপনার কি কিছু প্রয়োজন?”
ওয়াসেম স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। ওর চোখের দৃষ্টি আজ বড্ড অচেনা। তারপর হঠাৎ করেই এক ঝটকায় তৃষ্ণার একেবারে সামনে এসে দাঁড়ায় সে। দুজনের মাঝের দূরত্বটুকু নিমেষেই শূন্য হয়ে যায়। তৃষ্ণা ভয়ে দু’কদম পিছিয়ে যেতে চায়, কিন্তু ওয়াসেম তাকে সেই সুযোগটুকুও দেয় না। সে তার শক্ত দুই হাতে তৃষ্ণার ছিপছিপে কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের আরও কাছে টেনে নেয়। সরাসরি তার ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে ভারী গলায় প্রশ্ন করে, “,চোখের কোণে পানি কেন?”

কথাটা শুনে তৃষ্ণা আমতা আমতা করে, ঢোক গিলে মিথ্যের আশ্রয় নেয়, “এমনিই… মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল, তাই হয়তো পানি চলে এসেছে। আপনার কি কিছুর প্রয়োজন? আমাকে এভাবে আটকালেন যে!”
ওয়াসেমের কণ্ঠে এক অদ্ভুত ঘোর, “কেন? এমনিই কি আটকাতে পারি না?”
“আপনি তো এমনি আমার সাথে কখনো কথা বলেন না, তাই… তাই জিজ্ঞেস করেছি।” তৃষ্ণা অত্যন্ত আতঙ্কিত স্বরে কথাগুলো বলে দ্রুত মাথা নিচু করে নেয়। ওয়াসেমের এই রূপ তার কাছে বড্ড অচেনা, বড্ড ভয়ের।
ওয়াসেম তৃষ্ণার কোনো যুক্তির ধার ধারে না। তার তপ্ত নিঃশ্বাস এখন তৃষ্ণার গালে আছড়ে পড়ছে। তৃষ্ণার কাঁপতে থাকা গোলাপী ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে ওয়াসেম যেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এক অসহ্য তৃষ্ণা আর গভীর মোহে সে ধীরে ধীরে নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনে। কোনো বাক্যব্যয় না করেই সে তৃষ্ণার ওষ্ঠদ্বয় নিজের ঠোঁটের বন্ধনীতে আবদ্ধ করে নেয়।

​তীব্র এক আড়ষ্টতা আর ভালোলাগার আতঙ্কে তৃষ্ণার সারা শরীর অবশ হয়ে আসে। সে বুঝতে পারে না, এই মানুষটা কেন আজ এমন উন্মত্তের মতো আচরণ করছে। তৃষ্ণা তার ক্ষুদ্র হাত দুটো দিয়ে ওয়াসেমের পাথরের মতো শক্ত বুকে ধাক্কা দেয়, নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওয়াসেমের আলিঙ্গন আজ বজ্রের মতো কঠিন। সে এক হাতে তৃষ্ণার চুলের গোছা মুচড়ে ধরে আরও নিবিড়ভাবে, আরও তৃষ্ণার্ত ভঙ্গিতে তাকে চুম্বন করতে থাকে। তৃষ্ণা অনুভব করে, তার সমস্ত প্রতিবাদ এই আদিমতার কাছে নতি স্বীকার করছে।

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৬

​অবশেষে সমস্ত প্রাণশক্তি এক করে তৃষ্ণা তাকে ধাক্কা দিয়ে পিছিয়ে দেয়। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে, অবাধ্য অশ্রুরা এখন বাঁধভাঙা। ডুকরে কেঁদে উঠে সে বলে, “কেন করছেন এমন? আপনার চোখে তো আমি কেবলই কাজের লোক। একজন সামান্য দাসীর সাথে এমন আচরণ কি আপনার মতো মনিবের শোভা পায়?”

স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৪৮

6 COMMENTS

Comments are closed.