Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৯

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৯

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৯
তামান্না ইসলাম শিমলা

দুপুরের কাঠ ফাটা রোদ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এ সময় লোক জন বেশি একটা বের হয় না। তবে ফাঁকা রাস্তা ধরে উচ্চ গতিতে বাইক চালাচ্ছে তেহরাব, উদ্দেশ্য কালিঘাট হাসপাতাল। তনয়ার বাড়ি গিয়েছিল সে, তবে বাড়িতে কাউকে পায়নি। অতঃপর পাশের বাড়ির একজনকে জিজ্ঞেস করলে বলে তনয়াকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছে তানিয়া, সাথে সেই বাড়ির কর্তা।
তেহরাবের মাথা আপাতত কাজ করছে না, রক্ত মাথায় উঠে গিয়েছে। হাসপাতালে কেন গিয়েছে, কি হয়েছে এসব নিয়ে বিন্দু মাত্র ভাবনা তার এই মুহূর্তে হচ্ছে না। মাথায় শুধু ঘুরছে তনয়া, ওকে সামনে পেলে একদম শেষ করে ফেলবে।

ভাবনার মাঝেই তেহরাব পৌঁছায় হাসপাতালের কাছে, বাইক কোনো রকম রেখে দৌড়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
ওদিকে তনয়ার জ্ঞান ফিরেছে অনেকক্ষণ, ডাক্তার বলেছে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া না করা ও চিন্তার ফলে এমন হয়েছে। তানিয়াকে কিছু ওষুধ আনতে বললে সে তনয়াকে রেখে ফার্মেসিতে চলে যায়। হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে ফার্মেসি, এদিকে শফিককে কল করেছিল, সেও হয়ত আসছে।
গ্রামের হাসপাতার হওয়ায় ডাক্তারও তেমন একটা নেই বললেই চলে, দু চার জন যা আছে তা দিয়ে চলে যায়।
তনয়া আধঁশোয়া হয়ে বসে আছে বেডে,মাথাটা এখনো ঝিম ধরে আছে। চোখ দুটো বারবার লেগে আসছে!
হঠাৎ কড়া শব্দে দরজা খোলার শব্দে চমকে উঠে তনয়া, দরজার দিকে ফিরে তাকানোর আগেই গালে এসে পরে শক্ত হাতের আঘাত। বুঝে উঠার আগেই পরে যায় তনয়া, এমনিতেই শরীর দুর্বল তার উপর শক্ত হাতের চড়!!
গালে হাত দিয়ে দিয়ে সামনে তাকাতেই হাত পা অসার হওয়ার যোগার। তার সামনে যে স্বয়ং তেহরাব দাঁড়িয়ে আছে, কি ভয়ংকর দেখাচ্ছে লোকটাকে। তনয়ার গলা শুকিয়ে আসল, তেহরাবের রক্তবর্ণ চোখ জোড়া তার আত্মা কাঁপিয়ে তুলছে।

তনয়াকে কিছু বলার সুযোগ দিল না তেহরাব, বাহ ধরে টেনে সোজা করে বসাল।। শক্ত করে চেপে ধরল তনয়া গাল, যা এই মুহূর্তে লাল হয়ে ফুলে উঠেছে তেহরাবের হাতের আঘাতে।
তেহরাব গর্জে উঠলো,
“কুত্ত*ার বা** তোর সাহস কি করে হলো বিয়েতে রাজি হওয়ার? কি ভেবেছিস কিচ্ছু জানতে পারব না আমি? এই তেহরাব সরকারকে তোর বলদ মনে হয়?”
তনয়ার ব্যথা লাগছে, ডুকরে কেঁদে উঠল সে। আমতা আমতা করে বলল,
“ল লাগছে,, লাগছে আমার!”
তেহরাব ছাড়ে না, উল্টো আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
“তোর জন্য আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি না, আর তুই কিনা বিয়ে করতে চাচ্ছিস? কাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলি হ্যাঁ? বল কাকে?”

তনয়া এবার আরো শব্দ করে কেঁদে উঠে, তেহরাব ছেড়ে দেয় তনয়াকে। বেডের সাথে টেবিলে কাঁচের গ্লাস ছিল, ফেলে দিল সেটা। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কিছুতেই, না পেরে দেয়ালে একনাগাড়ে আঘাত করতে থাকল। হাত ফেটে রক্ত ঝরছে, তনয়া ভয়ে হাত পা কাঁপছে। তেহরাব এবার বসে পরল নিচে, তনয়া স্পষ্ট দেখতে পেল তেহরাবের চোখের কোণায় জমা হওয়া অশ্রুবিন্দু।
“কুত্তার মতো তোর পিছু পিছু ঘুরেছি, তোকে ভালোবেসেছি, কি না করিনি আমি? তুই কেন বুঝিস না তনয়া? কি করলে বুঝবি? আমি কি পাপ করেছি বলতে পারবি, কেন আমাকে একা করে চলে যেতে চাইছিস?”
তনয়া অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল তেহরাবের দিকে, ছেলেটা কাঁদছে! তার জন্য কাঁদছে?

“আমি বেঁচে থাকতে তোকে অন্য কারো হতে দিতে পারব না, তোকে তো মারতে পারব না, এক কাজ করি আমিই মরে যাই! তোরও আর আমার জন্য বিরক্ত লাগবে না, যাকে ইচ্ছা বিয়ে করে নিবি। আমারো আর পুড়তে হবে না, বিশ্বাস কর জান আমি ক্লান্ত। এই তেহরাব সরকার এসবে ক্লান্ত, তোকে আমি আর কি করে বোঝাব বল না?”
বলতে বলতে নিচ থেকে কাঁচের টুকরো হাতে তুলে নেয় তেহরাব, নিজের হাতে আঘাত করতেই তনয়া বেড থেকে নেমে ছুটে আসে তনয়ার কাছে।
তেহরাবের হাত ধরে কাঁচটা ফেলার বৃথা চেষ্টা করে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“কি করছেন এসব, কেন পাগলামি করছেন।”
তেহরাব তনয়াকে ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দেয়,

“পাগলামি? হ্যাঁ পাগলামি করছি, আরো করব। তুই তো এটাই চাস আমি মরে যাই, তারপর তুই অন্য কাউকে বিয়ে করে সংসার করবি। তাইনা? তাহলে আমি মরেই যাই?”
বলেই আবারও আঘাত করে হাতে, অনর্গল রক্ত ঝরছে তেহরাবের হাত থেকে। তনয়ার নিজেরও পাগল পাগল লাগছে, কি করবে, কাকে ডাকবে বুঝতে পারছে না সে। কিছু বুঝতে না পেরে আবারও তেহরাবের কাছে আসে, জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
“এমন করবেন না প্লিজ, এমন করবেন না। আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না তেহরাব ভাই, আপনার পায়ে পরি এমন করবেন না।”
তেহরাব তনয়াকে আঁকড়ে ধরল, তনয়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“ছেড়ে যাস না, তোর দুটো পায়ে ধরি জান। আমার হয়ে যা না, আমি তোকে মাথায় করে রাখব। তুই যা বলবি তাই করব, তাও আমার হয়ে যা।”

তনয়ার গলা দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না, সে কি করবে। এই পাগল লোকটাকে সে কি করে বোঝাবে তার পাগলামি গুলো তনয়াকেও যন্ত্রণা দিচ্ছে!! তনয়া ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে,
“ প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন তেহরাব ভাই, আমি পারব না আপনার হতে।! আপনি প্লিজ ভুলে যান আমাকে, আপনার জীবনে নতুন কেউ আসবে যে আপনার ভালোবাসা বুঝবে। আমি খারাপ মেয়ে, আমি তো বুঝি না আপনাকে, ভুলে যান না।”
ব্যাস আবারও রক্ত মাথায় উঠে গেল তেহরাবের, তনয়াকে ছাড়িয়ে দুবাহু চেপে ধরল।
“কি বললি? আবার বল!”
তনয়া চোখ নামিয়ে নেয়,
“ভুলে যান, আমি আর এসব নিতে পারছি না!”
“কি নিতে পারছিস না? আমাকে সত্যি তোর বিরক্তিকর লাগে তনয়া? একটুও ভালোবাসিস না?”
তনয়া কেঁপে উঠে তেহরাবের শীতল গভীর কন্ঠে, শুকনো ঢোক গিলে।
“ঠিক আছে, বিয়ে করবি তাই না? কর, আজকেই করবি৷ আমার লাশ সামনে রেখে!”
দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলে তেহরাব, তনয়া দ্রুত তেহরাবের মুখে হাত রাখে।
“কি বলছেন এসব, কেন যন্ত্রণা দিচ্ছেন আমাকে? তেহরাব ভাই কেন এমন করেন আপনি? আমাকে যন্ত্রণা দিতে আপনার ভালো লাগে? ”

“ভালোবাসিস?”
তনয়া চোখ বন্ধ করে নেয়, তেহরাব জানে তনয়া তাকে ভালোবাসে। কিন্তু কেন বারবার এমন করে?
“জানি না আমি, আমি শুধু চাই আপনি বেঁচে থাকুন, ভালো ভাবে আমাকে ছাড়া বেঁচে থাকুন। প্লিজ আর যন্ত্রণা দেবেন না!“
তেহরাব ক্রুর হাসে, নিজের রক্তাক্ত হাত দিয়ে তনয়ার গাল চেপে ধরে। হিসহিসিয়ে বলে,
” যন্ত্রণা? তোকে আমি একটা যন্ত্রণায় পুড়িয়ে মারব, সেটা হলো আমার ভালোবাসার যন্ত্রনা। আমার ভালোবাসার স্পর্শ তোর উপর কঠিন ভাবে প্রভাব ফেলবে জান।”
তনয়া ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে,
“আহ লাগছে আমার!”
তেহরাবের হাসি গাঢ় হয়, সাথে হাতের বাঁধন৷ অপর হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে তনয়ার চুল, একটু বেশিই শক্ত করে। তনয়া কাঁদতে পারছে না,তবে চোখ ছলছল করছে তার, তেহরাব নিজের ঘাড়ের সাথে কান ঘষে চলে আসে তনয়ার আরো কাছে,

” লাগবে তো, আরো বেশি লাগবে। এই তেহরাবকে তুই মৃত্যু যন্ত্রণার থেকেও বেশি যন্ত্রণা দিয়েছিস, তোকে আমি ছেড়ে দেব জান? উহু, ভালোবাসার যন্ত্রণায় জর্জরিত করব তোকে! পথ তোর হাতে, তুই কি চাস? আমি মরে যায়?”.
তনয়া কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠে,
“আমার ভয় করছে, ছাড়ুন না আমায়!”
তেহরাব শব্দ করে হাসে, হিসহিসিয়ে বলে,
“আমারও ভয় করছে, তোকে হারানোর ভয়। তুই চলে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁচব? বল? আচ্ছা একটা ভুল করি জান? একটা? তাহলেই তো তুই আমার হতে বাধ্য! একটু ছুঁয়ে দেয়?”
তনয়ার এবার ভয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, তেহরাবকে তার স্বাভাবিক লাগছে না। কিছু সময় আগে নিজেকে শেষ করে দিতে চাওয়া তেহরাব এখন যেকোনো কিছুর বিনামূল্যে তনয়াকে চায়! হঠাৎ কি ভেবে তেহরাব নিজেই তনয়াকে ছেড়ে দিল, আবারও কেঁদে উঠল। নিজের শরীরটা ছেড়ে দিল দেওয়ালে,
“একটু দয়া কর জান, একটু! বাঁচতে চাই আমি, তোকে নিয়ে বাঁচতে চাই, হয়ে যা না আমার। খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে?”

তনয়া নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে, আজ খুব করে অনুভব করছে যে তার মন তেহরাবকে চাইছে।
“ক্ষতি? আসলেই তো কি এমন ক্ষতি হবে? ছেলেটাকে বাঁচতে দে, মরে গেলে ক্ষমা করতে পারবি তো??”
নিজের সামনে নিজের অবয়বে আরেকজনের অস্তিত্ব লক্ষ করল তনয়া, মেয়েটা হাসছে। তনয়া চেয়ে রইল, মেয়েটা আবার বলল,
“তুই বড্ড স্বার্থপর তনয়া, শুধু নিজের কথা ভাবছিস? তেহরাব ভাইয়ের কথা ভাবলি না একটাবারও? এতটা ভালোবাসা তুই ডিজার্ভ করিস না।”
বলেই মিলিয়ে গেল অবয়বটি, তনয়া নিজের কান চেপে ধরল। বিড়বিড় করল,
“” আমি স্বার্থপর না, আমি তো তার ভালোর জন্যই তাকে ছেড়ে যাচ্ছি। আমি স্বার্থপর না, আমি স্বার্থপর না।”
“তেহরাব, তনয়া!”
কারো উচ্চশব্দে চিল্লানোতে ঘোর কাটে তনয়া, সামনে তাকাতেই দেখে তেহরাব পরে আছে। লোকটার চোখ বন্ধ, হাত দিয়ে এখনো রক্ত ঝরছে। নিজের মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরল তনয়া, দরজার দিকে তাকাতেই দেখল নিজের বাবাকে।
তনয়ার আশেপাশে সব কিছু ঘুরছে, সব কিছু অস্পষ্ট হয়ে আসছে। নিজেই ঠাস করে পরে গেল, বিড়বিড় করল,

“আব্বু,, লোকটাকে বাঁচাও!”
চোখজোড়া বন্ধ হওয়ার আগে শেষ বারের মতো তেহরাবের শুভ্র মুখশ্রীটক দেখে নিল।কিছু বলতে চাইল, তবে পারল না। নিজেও জ্ঞান হারালো!!!

সাধারণ অটির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ইউসুফ আর শফিক, দুজনেই নিশ্চুপ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে।
তাদের পাশেই তানিয়া মুখে হাত দিয়ে কাঁদছে, যা এই মুহূর্তে মেজাজ খারাপ করছে শফিকের। শফিক আর তানিয়া একই সাথে কেবিনে এসেছিল, দুজনকে এভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সে অবাক হয়েছিল। কিছুই বুঝতে পারছিল না কি হয়েছে এখানে, ডাক্তারড়ের ডাকা হলে তারাও অবাক। পরবর্তীতে তেহরাবকে নিয়ে দ্রুত ওটিকে চলে গেছে।
পরে তানিয়া প্রথম থেকে সব বলে শফিককে, সেই থেকে শফিক তানিয়ার সাথে কথা বলছে না।
সে কখনোই তার মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করতে চায়নি, শফিক আগে জানলে কখনোই শিহাবের সাথে বিয়ে ঠিক করত না। যেখানে নিজের মেয়ে সুখেই থাকবে না, সেখানে কেন সে বিয়ে দেবে? রাগ হচ্ছে তানিয়ার উপর তার, সব জেনেও মেয়েটাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিল।
“এই তুমি কান্না থামাবে? মরা কান্না জুড়েছ কেন?”
শফিকের রাগীকন্ঠের ধমক খেয়ে তানিয়া আরো জোরে শব্দ করে কেঁদে দেয়, কি থেকে কি হয়ে গেল। এত কিছু হবে এসব কল্পনাতেও ভাবতে পারেনি সে, ওদিকে ইউসুফ একটা কথাও বলছে না। গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে, শফিক তার পাশে দাঁড়াল।

“ক্ষমা করবেন ভাই, আমি আগে জানলে আজ এমন কোনো পরিস্থিতিই হতো না। আপনাদের উচিত ছিল আগেই আমাকে বলা, তাহলে আজ তেহরাব বা তনয়া কাউকেই এমন পরিস্থিতিতে পরতে হতো না।”
ইউসুফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তার যে বুকটা ফেটে যাচ্ছে নিজের প্রাণপ্রিয় ছেলেটাকে এভাবে দেখে।. শফিকই তাকে কল করেছিল, নাহলে কোথায় কোথায় খুঁজত সে।
ইউসুফ বসল, বুকটা ব্যাথা করছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তাকে অসুস্থ হলে চলবে না, চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস নেয়।
“ আমার ছেলেটা যদি আপনাদের মেয়ের জন্য এতটা পাগল না হতো তাহলে কোনো দিনও আমি আপনাদের কাছে আসতাম না, তবে আমি আমার ছেলেটাকে খুব বেশি ভালোবাসি। ওর কিছু হয়ে গেলে…. আমার আগে বলা উচিত ছিল, তবে এখনও সময় শেষ হয়নি। তনয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে, বিয়ে তো হয়ে যায় নি। বিয়ে ভেঙে দিন, তনয়ার বিয়ে তেহরাবের সাথেই হবে!”

“এভাবে কিভাবে ভাঙা যায়?”
কথার মাঝে তানিয়ার গলা পেয়ে ক্ষেপে যায় শফিক,
“একটা কথাও বলবে না তুমি, আজ যদি আমার মেয়ের কিছু হয়েছে তো আমি ভুলে যাব তুমি কে?”
ধমক খেয়ে চুপ হয়ে যায় তানিয়া, ইউসুফ গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“দুজন দুজনকে ভালোবাসে, এর থেকে বেশি আর কি চান? ভালো মতো রাজি হলে ভালো, নাহলে আমিও দেখে নেব আপনাদের মেয়ের বিয়ে অন্য কারো সাথে কি করে হয়!”
শফিক কপাল কুঁচকায়, আজ নিজের প্রতিও তার রাগ হচ্ছে। সে কেন একবার তনয়ার সাথে কথা বলল না!!
“আমি দেখছি!”

শফিক উঠে চলে যায়, সালমার সাথে কথা বলতে হবে তাকে। হয়ত এ নিয়ে বোনের সাথে সম্পর্কটা কিছুটা খারাপ হবে, কিন্তু নিজের মেয়ের জীবনটা আগে। সে নিজের মেয়েকে এভাবে কষ্ট দিতে পারবে না!!
এদিকে তানিয়া কান্নাকাটি থামিয়ে বসে আছে এক গভীর ভাবনা নিয়ে, সব কিছু গুলিয়ে যাচ্ছে তার। নিজেকে শক্ত করল সে, বিড়বিড় করে বলল,
“তনয়ার সাথে আমার কথা বলতে হবে!”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৮

বলেই উঠে পরল সে, তনয়ার কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল। সেলাইন চলছে তার, জ্ঞান নেয়।ঘুমের ইনজেকশন দেওয়াও গভীর ঘুমে মগ্ন!
তানিয়া এসে তনয়ার মাথার কাছে বসল, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ভালো থাক তুই এটাই আমার চাওয়া, এর জন্য যা করতে হবে তাই করব।।””

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২০