হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৫
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
পিচঢালা রাস্তার বুকে গর্জন তুলে সাই সাই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে একটি কালো বাইক। বাইকে বসা এক জোড়া কপোত কপোতীর নীরবতায় সেই গর্জন যেন আরো প্রকট হয়েছে। ভোর বেলা হওয়ায় পুরো শহর তখন শান্ত। মানবশূন্যতায় ভোগছে যেন রাস্তার প্রতিটা কোণা। সহসা নীরবতা চিরে ধ্বনিত হলো হুমায়রার রিনরিনে স্বর,
“ মিঠু কোথায়? ”
সেদিন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এক হাতে হুমায়রাকে ও অন্য হাতে মিঠুকে ব্যতীত আর কিচ্ছুটি সঙ্গে নিয়ে আসেনি কৃশান। এরপর থেকে মিঠু সবসময় তার সঙ্গেই থেকেছে। রবিদের সাথে যে ব্যাচালর রুমটায় সে থাকত সেখানেই আপাতত আছে মিঠু। কৃশান উত্তর করল,
“ আমার বন্ধুদের কাছে। নিয়ে আসব আজকে। ”
“ আপনারা যখন বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেন তখন ও কোথায় থাকত? ”
“ আমাদের সাথেই ক্যাফেতে নিয়ে আসতাম। ”
“ আমার কাছে দিয়ে আসলেই পারতেন? ”
“ হুম, পরদিনই তোর মামি আমার ভোলাটাকে নিয়ে নালায় ফেলে আসতো। ”
মুখটা চুপসে গেল হুমায়রার। অবশ্য কথা মিথ্যে নয়। যেখানে স্বার্থ ছাড়া মানুষই বাঁচতে পারেনা সেখানে পোষা প্রাণী তো দূরের কথা! সে আর কথা বাড়াল না। নির্বাক চিত্তে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। এর মাঝেই শুনতে পেল মানুষটার কণ্ঠ,
“ এই হুজুরনী? ”
“ হুম? ”
“ আমি যে তোকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করি এতে কি খারাপ লাগে তোর? সম্বোধন চেঞ্জ করতে হবে? ”
বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল হুমায়রা। প্রথম দিকে কৃশানের তুই সম্বোধনটা খারাপ লাগলেও এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যার দরুন মানুষটার মুখে অন্য সম্বোধন শুনতে বেমানান লাগে। কিন্তু লোকসমাজে স্ত্রীকে ‘তুই’ সম্বোধন করাটাও দৃষ্টিকটু! কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে মেয়েটা বিরস কণ্ঠে জবাব দিল,
“ আপনার যেটা ইচ্ছে ডাকুন। তবে ‘তুই’ শুনতে শুনতে এখন অন্য ডাক আপনার মুখে বেমানান লাগে। ”
“ হুম বুঝলাম। ভাবছি-এখন থেকে রিমিক্স সম্বোধন করব, যেখানে যেটা প্রয়োজন। কিন্তু পার্সোনালি ‘তুই’ ইজ পার্মানেন্ট! কারণ তোকে তুইতেই সবচেয়ে বেশি আমার আমার লাগে! ”
কিঞ্চিৎ হাসল হুমায়রা। অতঃপর বাকি রাস্তা নীরবেই শেষ করল। একটা নান্দনিক ক্যাফের সামনে এসে বাইক থামাল তাদের। বাইক থেকে নেমে দাঁড়াল হুমায়রা। সামনে তাকাতেই দৃষ্টিগোচর হলো ক্যাফের নেমপ্লেট, সেখানে গুটিগুটি অক্ষরে লিখা- “ কে.এইচ ক্যাফে ” মেয়েটার দৃষ্টি কিছুক্ষণ লেখাটাতেই স্থির হয়ে রইল। বাইক স্ট্যান্ড করে এগিয়ে এলো কৃশান। তার এক হাত মুঠোয় পুরে নিয়ে সামনে এগোতে এগোতে বলল,
“ চল। ”
একটা টেবিলে বসে চুপচাপ ক্যাফের ভিতরটা পর্যবেক্ষণ করছে হুমায়রা। চারপাশ লাইটিং করা, মরিচবাতির ভিন্ন ভিন্ন আলোয় কালারিং হয়ে আছে পুরো ক্যাফে। সে যখন সবকিছু পরখ করতে ব্যস্ত তখনি খাবারের মেন্যু নিয়ে তার সামনে হাজির হলো কৃশান। মেন্যু টা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে ওয়েটারের ন্যায় বলল,
“ এখান থেকে আপনি কি অর্ডার করতে চান ম্যাম? ”
হুমায়রা মেন্যুর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মানুষটার দিক চাইল। ভ্রূ কুঁচকে বলল,
“ আপনি কি এখানে সবার সাথে এভাবেই কথা বলেন? ”
প্রত্যাশিত প্রশ্নটা শুনতেই কৃশান হেসে ফেলল। উত্তরে বলল,
“ নো ম্যাম, ইটস অনলি ফর ইউ। ”
মেয়েটার ভ্রূ যুগল তখনও কিঞ্চিৎ কুঁচকানো। কৃশান এবার ওর পাশে বসল। বলল,
“ আমি ওয়েটারের কাজ করিনা। অভি ও সাইফুল করে এগুলো। তবে ওরাও এভাবে কথা বলেনা। নরমালি মেন্যু দিয়ে দেয় শুধু। ”
“ ও আচ্ছা! আপনি কি তাহলে খাবার মেক করেন? ”
“ হুম, এখন কি খাবেন বলুন মহারানী? আপনি চাইলে সবগুলোই আপনার জন্য বরাদ্দ করা হবে। ”
“ না কিছু খাব না। সকাল সকাল এসব খেতে ইচ্ছে করছে না। ”
“ তাহলে শুধু কফি করে দেই? ”
“ উহু, অন্যদিন। আজকে ইচ্ছে করছে না। ঘুম পাচ্ছে আমার বাসায় চলুন। ঘুমাব আমি। ”
কৃশান আর জোর করল না। স্ত্রীর কথা মোতাবেকই ক্যাফ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল দুজন। অতঃপর রওনা হলো বাড়ির উদ্দেশ্যে।
“ ক্যাফে কেমন লেগেছে? ”
সামনের দিক তাকিয়ে বাইক চালানোর মাঝেই প্রশ্ন ছুঁড়ল কৃশান। উত্তরে শোনা গেল হুমায়রার উৎফুল্ল স্বর,
“ অনেক সুন্দর! ”
“ কিছুদিন পর আরেক জায়গায় এমন আরেকটা ক্যাফে করা হবে ওটাতে অভি আর রবি থাকবে। এটাতে আমি আর সাইফুল। ”
হুমায়রা খানেক অবাক হলো। চিন্তিত কণ্ঠে শুধাল,
“ কষ্ট হয়ে যাবে না অনেক? ”
কিছুক্ষণ নীরব রইল পরিবেশ। পরপরই বাতাসের সাথে ভেসে আসলো মানুষটার ভরাট স্বর,
“ আমি পৃথিবীর সকল কষ্ট নির্দ্বিধায় সয়ে নেব, শুধু তোকে সুখী রাখার জন্য! ”
হুমায়রা থমকালো, হতবিহ্বল হলো তার দৃষ্টি। নিরুত্তুর হয়ে রইল মেয়েটা। হৃদয় ছুঁয়ে গেল ভালোলাগায়! এর মাঝেই বাড়ির গেইটে এসে পৌঁছাল তারা। নেমে পড়ল হুমায়রা। ফের শুনতে পায় মানুষটার গলা,
“ এই হুজুরনী? ”
“ হুম? ”
পকেট থেকে একটা নরমাল রেডমি সেট মোবাইল বের করল কৃশান। পরপর সেটা বাড়িয়ে দিল হুমায়রার দিকে। বলল,
“ এটাতে আমি সবকিছু সেট করে দিয়েছি। আমার নাম্বার ব্যতীত কারো নাম্বার যেন আর এড না হয় এখানে। ”
কারো নাম্বার বলতে যে কৃশান বাড়ির লোকদের কথা বুঝাচ্ছে সেটা বুঝতে পারল হুমায়রা। সে বাধ্যের ন্যায় উত্তর করল,
“ আচ্ছা। ”
“ এখন তাহলে আমি আসি। দরজা জানাল ঠিকঠাক লক করে ঘুমাবি। আমি দুপুরের মধ্যেই আবার আসব চিন্তা করিস না। ”
“ হুম ”
দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় ফিরল কৃশান। গেটের কাছ থেকেই হুমায়রা কে কল করে আদেশ ছুঁড়ল,
“ বারান্দা থেকে বেরোবি না! ”
পৃষ্ঠে মেয়েটাকে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগও দিল না। এর আগেই আঙুল চেপে কল কেটে দিল। হুমায়রা আহাম্মকের মতো কিছু সময় ফোনের দিক তাকিয়ে থেকে স্বামীর কথা মতোই কাজ করল। বেশ কজন ছেলেপুলে নিয়ে রুমে প্রবেশ করল কৃশান। ভিতর থেকে আসা শব্দে বুঝা যাচ্ছে কোনো মালপত্র নিয়ে এসেছে সে। একটা সময় শব্দ কমে গেল শুধু কয়েকটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে আসলো। তন্মধ্যে কৃশানের কণ্ঠটাই মনোযোগ দিয়ে শুনল হুমায়রা,
“ শুকরিয়া, কষ্ট দিলাম আপনাদেরকে! ”
“ আরে না কি যে বলোনা! আজ তাহলে আসি! ”
অতঃপর কিছু পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে কক্ষ হতে বিলীন হতে লাগল। তখনি ভেতর থেকে কৃশানের ডাক কর্ণকুহর হলো,
“ রুমে আয় হুজুরনী! ”
রুমে প্রবেশ করতেই হুমায়রা দেখল- একটা ওয়ারড্রপ, রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা, গ্যাস ও রান্নাবান্নার জিনিসপত্র সহ অনেককিছুই আনা হয়েছে। এতক্ষণ এগুলোই সেট করে দিয়ে গেছে কিছু লোক। অবশ্য এর জন্য টাকা দেয় হয়েছে তাঁদের। মেয়েটা মনোযোগ সহকারে সবকিছু পরখ করার মাঝেই তার হাতে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিল কৃশান। বলল,
“ খেয়ে নে তাড়াতাড়ি! আমার যেতে হবে এখুনি।”
প্যাকেট টার দিক তাকাল হুমায়রা। সেখান থেকে তিব্র সুঘ্রাণ নাকে পৌঁছাচ্ছে। বেশ সুস্বাদু খাবার বোধ হয়। এতক্ষণের ক্ষিদে টা মুহূর্তেই জেগে উঠল তার। মানুষটার দিক তাকিয়ে মোলায়েম কণ্ঠে জানতে চাইল,
“ আপনি খেয়েছেন? ”
“ আমার খাওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না তোর। আমি ক্যাফেতে যখন ইচ্ছা তখনি খাই! ”
“ আপনি না বলেছিলেন ওসব ভাঁজ পোড়া বাইরের খাবার আর খাবেন না? ”
“ এখন থেকে আর খাব না। তুই তো এসে গেছিস তোর হাতের রান্নাই খাব। তবে আজকে আর রাঁধতে হবে না। আগামীকাল থেকে একেবারে! চলবে? ”
“ হুম।”
“ আচ্ছা এখন তাহলে আমি ক্যাফেতে যাই। সকালটা এসব আনতে গিয়েই কাটিয়ে দিয়েছি! ”
“ রাতে তাড়াতাড়ি ফিরবেন। ”
“ আচ্ছা। ”
অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে বেশ তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরল কৃশান। রাত তখন প্রায় নটার কাছাকাছি। শহরের মানুষদের কাছে এটা কেবল রাতের শুরু বললেই চলে। রাতের বেলায় ক্যাফেতে ছেলেমেয়েদের ভিড় একটু বেশিই থাকে। যার দরুণ বেশ রাত অব্দিই ক্যাফে খোলা রাখতে হয়। আজকেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। তবে হুমায়রা একা বিদায় বন্ধুদের কাছে দায়িত্ব দিয়ে বাসায় চলে এসেছে কৃশান। দরজার করাঘাত করে হুমায়রাকে মৃদু স্বরে ডাকল সে,
” হুমায়রা? ”
কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কণ্ঠ কর্ণপাত হতেই তড়িৎ গতিতে এসে দরজা খুলে দিল হুমায়রা। যেন এতক্ষণ এরই অপেক্ষায় ছিল সে। কৃশানের কোলে মিঠুকে দেখতেই মুখে হাসি ফুটল রমণীর। হাত বাড়ানোর আগেই প্রাণীটিকে তার কোলে দিয়ে দিল কৃশান। পরপর পাঁচটি হাদিসের বইয়ের সাথে পাঁচটি ফুল তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে, কপালে গভীর চুমু খেল। চোখের পলকে এতগুলো ঝটকা সামলাতে গিয়ে একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল মেয়েটা। শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠল নিমিষেই। চোখ বড় বড় করে চাইল মানুষটার পানে। ওঁর হাল দেখে ঠোঁট চেপে হাসল কৃশান। দরজা লক করে খানেক ঝুঁকল মেয়েটার দিকে। ফুলগুলো দেখিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
” বলতো এগুলো কি ফুল? ”
সম্বিৎ ফিরল হুমায়রার। ঘন ঘন পল্লব ঝাপটে নিজেকে স্বাভাবিক করল। মিহি স্বরে জবাব দিল,
” চিনি না তো। ”
একটু থেমে বলল,
” টিউলিপ…? ”
” হুম ”
” মাশাআল্লাহ কি সুন্দর? এগুলোই তাহলে আপনার সবচেয়ে পছন্দের ফুল?”
” উহু, সবচেয়ে পছন্দের ফুল তো থাকে আমার মন গহীনে! সেই পবিত্র ফুলের সন্ধান আমি ব্যতীত কেউ পায়না! ”
” আমাকে বলুন আমি কাউকে বলব না। ”
” তোকে তো মোটেও বলা যাবেনা। ”
নাক টোকা মেরে বলল কৃশান। পরপর ঘর্মাক্ত শার্ট খুলে ফ্রেস হতে চলে গেল সে। হুমায়রা নাকে হাত দিয়ে চড়া গলায় জবাব দিল,
“ বলতে হবে না আপনার। বখাটে পুরুষ! ”
“ আমি কিন্তু এখন আর বখাটে নেই। তবে তুই চাইলে সারাজীবনই আমায় বখাটে বলতে পারিস হুজুরনী সমস্যা নেই। ”
রাতেও বাইরে থেকে আনা খাবারই খেল হুমায়রা ও কৃশান। খাবার খাওয়া শেষ হতেই হুমায়রার কোলে শুয়ে পড়ল ছেলেটা। বরাবরের মতোই মেয়েটার পেট জড়িয়ে ধরে আদেশ ছুঁড়ল,
“ চুলে হাত বুলা। ”
বিলম্বহীন চুলে হাত বুলাতে লাগল হুমায়রা। এর ফাঁকেই জিজ্ঞেস করল,
” ভার্সিটি যাবেন না আর? ”
” না। ”
” পরীক্ষা দিবেন না? ”
” হুম। আমার আর পরীক্ষা কি! ”
” কেন আমিতো ইকরার থেকে শুনেছি আপনি নাকি অনেক ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ছিলেন? ”
” ছিলাম। এখন আর নেই। ”
” ব্রেন তো আগেরটাই আছে কাজে লাগালেই হয়! ”
” ইচ্ছে নেই। ”
” ইচ্ছেরা কোথায় গেছে? ”
” মরে গেছে মানুষের কথার ভিড়ে! ”
” সব কথা কানে না নিলেই হয়! ”
” কিছু কথা বুকে গেঁথে যায়। চাইলেও সরানো যায়না। ”
” এরজন্য অন্যের কথায় নিজেকে ধ্বংস করে দিতে হবে? ”
” একদিনে ধ্বংস হয়নি আমি! প্রতিনিয়ত অবহেলায় আর কথার আঘাতে তিলে তিলে নিজেকে ধ্বংস করেছি! ”
কিছুক্ষণ নীরব রইল পরিবেশ। অতঃপর ফের ধ্বনিত হলো মানুষটার কণ্ঠ,
” মির্জা বাড়ির প্রথম সন্তান ছিল আলভি মির্জা। আর দুবছর পর দ্বিতীয় সন্তান হয়ে জন্ম হয় আমার। ছোটোবেলা থেকেই স্বভাবে আমার পুরো বিপরীত ছিল আলভি। আমি ছিলাম চঞ্চল, জেদি আর ও ছিল শান্ত, ভদ্র। আলভি আমার আম্মুরও প্রথম সন্তানের মতোই ছিল। আম্মু ওকে নিজের ছেলের মতোই মানুষ করেছে। যার দরুণ ওর স্বভাবেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল আম্মু। আমার জেদি, চঞ্চল স্বভাবটা হয়তো সেজন্যই পছন্দ হতো না আম্মুর। সবসময় আলভিকে দেখিয়ে আমায় কথা শুনাত। পড়ালেখার ক্ষেত্রে আমি ক্লাসে ফার্স্ট হলেও আলভির থেকে সবসময় কম মার্ক আসতো আমার। স্কুলে স্যার দের প্রশংসায় যতটা খুশি হতাম বাড়িতে এসে মায়ের গম্ভীর মুখ খানা দেখে ততটাই নিরাশ হতাম। কখনো মায়ের মুখ থেকে আমার প্রশংসা শুনতে পাইনি। এভাবেই দিন কাটে। একসময় আমি আলভির সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করি। একে একে ঘরের সবার সাথে।
নিজেকে গুটিয়ে নেই। যখন আমার এসএসসি রেজাল্ট আসে তখন থেকেই শুরু হয় আমার নতুন জীবনের। এসএসসি তে আমার কিছু নাম্বারের কারণে A+ মিস হয়ে যায়। আমার নিজেরও সেদিন খুব কষ্ট লেগেছিল। সাথে আম্মুর কথায় মেজাজ পুরো খারাপ হয়ে যায়। এখানেও আম্মু আলভি কে টানতে ভুলেনি। আমি জানি- সবকিছুর পেছনে তিনি আমার ভালোটাই চেয়েছেন। তবে সে চাওয়ার ধরণ আমাকে খারাপ করে দিয়েছে। তাই তার প্রতি কোনো অভিযোগ রাখিনি আমি। বরং সব অভিযোগ নিজেকে দিয়ে আমি নিজেই বদলে গেছি। সেদিন রাতে বাইরেই কাটিয়েছি। আর পরিচিত হয়েছি নিকোটিনের সাথে। এরপর থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নেই- ভালো যেহেতু কখনো হতেই পারব না তখন বিগড়ে যাব। বিগড়ে গিয়ে কথা শুনলেও গায়ে লাগবে না। অতঃপর নিজেকে বিগড়ে ফেলি আমি। কলেজে উঠে রবিদের সাথে বন্ধুত্ব হয়। ওদের সাথে থেকে নিজের মতো চলতে থাকি। তখন আম্মু আবার নতুন শুরু করে।
পড়ালেখা করি না বলে আমাকে কাজে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। কিন্তু আমার আর তখন কোনোকিছুই গায়ে লাগেনা। আমি নিজের মতোই ফুর্তি করতে থাকি। এভাবেই জীবনকে তুলে দেই অন্ধকার ভবিষ্যতের হাতে। যেখানে কোনো মায়া নেই, পিছুটান নেই, কারো চিন্তা নেই, কারো হুকুম নেই- শুধু বিন্দাস হয়ে চলব আর হুট করে একদিন দুনিয়া থেকে উধাও হয়ে যাব। কিন্তু এর মাঝেই তুই এলি। ভেবেছিলাম তোকেও সবার মতো নিজের জগৎ থেকে সরিয়ে রাখব। অথচ তুই কি করলি? আমার সকল নিয়মের উর্ধ্বে গিয়ে, সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, আমার অন্ধকার জীবনটাতে আলো হয়ে ঢুকে গেলি। যেই আলোকে হাজার চেয়েও আমি নিভাতে পারিনি বরং আমার অন্ধকার জীবনটাই হারিয়ে গেল সেই আলোতে! আর আমি হারিয়ে গেলাম তোর মাঝে!
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৪
” কিন্তু আমি যে আরেকজনের মাঝে হারিয়ে গেছি…! এখন এর শাস্তি কি হবে? ”
” কিহ……! ”
কণ্ঠ শৃঙ্গে উঠল কৃশানের। শোয়া থেকে সাথে সাথেই উঠে বসলো সে। ভয়ে মেয়েটা জমে গেল একদম!
