Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ১

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১

হৃৎস্পন্দন পর্ব ১
সাঞ্জেনা শাজ

তালুকদার বাড়িতে উৎসব মুখর পরিবেশ। রাত প্রায় এগারোটা বাজলেও তালুকদার বাড়ির সকলে আড্ডায় ব্যাস্ত। আজ তালুকদার বাড়ির বড় মেয়ে রোজা আর জামাই জাবের এসেছে কানাডা থেকে। সেই সাথে তালুকদার বাড়ির তিন গিন্নির বাবার বাড়ির আত্নীয়দেরও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
শুভ্রতা এ বাড়ির ছোট ছেলে শায়ন তালুকদারের একমাত্র মেয়ে। রোজা আপু হচ্ছে তার বড় জেঠু আলতাফ তালুকদারের মেয়ে। যে বিয়ের পর কানাডা চলে গিয়েছিল জাবের ভাইয়ার সাথে। জাবের ভাইয়ার আরও একটা পরিচয় আছে। তালুকদার বাড়ির মেয়ে জামাই হওয়ার আগেই তিনি তালুকদার বাড়ির বড় ছেলে ‘তাশদীদ মেহরাদ তালুকদারের ‘ বন্ধু ছিল। এখনো আবশ্য আছে৷

যার রুমে আপাতত বন্ধী শুভ্রতা।। কিছুক্ষণ আগেই খাওয়া দাওয়া শেষ করে সকলে আড্ডা দিতে ড্রয়িং রুমে বসলেও মেহরাদ ভাইয়া চলে এসেছিল তার রুমে। তিনি বরাবরিই এমন! গুমড়া মুখো একটা!
মুখটা গম্ভীর করে রাখলেও চেহারায় রাজ্যের মায়া। শুভ্রতাকে এত্তো টানে! অবশ্য সকল মেয়েদেরকেই নাকি টানে, এই তাশদীদ মেহরাদ তালুকদার।
সকলে বসে ড্রয়িং রুমে আড্ডা দেওয়ার সময় বড় জেঠিমা এসে বললো,
“এই তোরা কেউ গিয়ে মেহরাদকে জিজ্ঞেস করে আয়তো ওর কফি লাগবে কি-না। ছেলেটা খাবারও খেলনা ঠিক মতো। মাথা টাথা ধরেছে না-কি কে জানে! ”
চট করে উঠে দাড়ালো শুভ্রতা। মেহরাদ ভাই কখন খেতে বসেছে সে দেখেনি। ধরতে গেলে আজ সারাদিনই তেমন একটা খেয়াল হয়নি। আড্ডায় ব্যাস্ত ছিল সে।

আড্ডায় অবস্থিত সকলকে আসছি বলে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল শুভ্রতা। তালুকদার বাড়ির সবচেয়ে বিলাশ বহুল বড় রুমটায় থাকে মেহরাদ ভাই। সকলের চোখের মনি কি-না! আবার বংশের বড় ছেলে!
দরজায় নক করে ডাকলো শুভ্রতা। সাথে একটা শুস্ক ঢুক গিললো। আবারও ডাক দিবে তার আগেই দরজা খুলে এক প্রকার থাবা মেরে রুমে নিয়ে গেল তাকে।
অন্ধকার রুমে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে কিছু বলার আগেই ঠোঁট জোড়া দখল করে নিয়েছে।। সেই সাথে গভীর ভাবে চেপে ধরেছে বাকানো কোমড়ের খাজ।
শুভ্রতা আতংকিত হয়ে বলল,
“এমন করছেন কেন মেহরাদ ভাই? কষ্ট হচ্ছে আমার। ”
কথাটা বলতে দেরি মেহরাদের শুভ্রতার ঘারে কামড় দিতে দেরি করলো না। ব্যাথায় ‘আহহ’ শব্দ করে উঠলো শুভ্রতা।
কিছু বলবে তার আগেই রাগে হিসহিসিয়ে বললো মেহরাদ,
“কতো বার বলেছি, ভাই ডাকবিনা আমায়। ডাকবিনা ভাই! ভাইয়েরা কেউ বোনের সাথে এমন সম্পর্ক থাকে শুভ্রা? ”
সাথে সাথেই ডানে বামে মাথা নাড়াল শুভ্রতা। কিন্তু অন্ধকারে কিছুই দেখলনা মেহরাদ। সে নিজের মতো জিজ্ঞেস করলো ,

“ভাইয়েরা কেউ এভাবে চুমু খায় বোনকে? এভাবে ছোয়?”
কেপে উঠলো শুভ্রা। এবার মৃদু স্বরে উঁহু জানালো শুভ্রা।
এদিকে শুভ্রতার উঁহু শুনে যেন মেহরাদের রাগ আরও বাড়ল।
“তাহলে আমি কি তোর ভাই হই শুভ্রা? ”
“উঁহু। ”
“তাহলে কি হই? ”
সেকেন্ড খানিক চুপ করে থাকলো শুভ্রা। না বলা কথাটা গলায় আটকে আছে। বুকটা ডিপডিপ করছে। ঠোঁট দুটো নিশপিশ করছে শব্দটা উচ্চারণ করতে। কিন্তু বলতে পাড়ছেনা।
শুভ্রতার নীরবতা মেহরাদের রাগের পারদ আরও বাড়াল। এক হাতে খামচে ধরলো শুভ্রতার কোমর। চোখ খিচে বন্ধ করে নিল শুভ্রতা। খুব আস্তে ধীর স্বরে শিকারোক্তি দিল,

“স্বামী ”
“কার?”
“আমার ”
ব্যাস! আবারও দু’জোড়া ওষ্ঠের মিলন ঘটল তীব্রভাবে। শুভ্রতার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া তপ্ত নোনা জলও শুষে নিল মেহরাদ।
এভাবে আরও মিনিট দশেক পেড়েলো। দু’জনেই হাপিয়ে উঠেছে। শুভ্রতার অবস্থা আরও বেশিই নাজেহাল। পা টলমল করছে। ভেঙে আসতে চাইছে।
শুভ্রতার অবস্থা বুঝতে পেরে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো মেহরাদ শুভ্রতাকে।
” স্বামী থাকতে আরেক জনকে নিজেকে প্যাম্পার করতে দেখে ভালো লাগে খুব তাইনা শুভ্রা? ওকে পছন্দ? এই তাশদীদ মেহরাদ তালুকদের কে তাহলে? ”
ডানে বামে মাথা নাড়াল শুভ্রা অনবরত। মেহরাদের রাগ করার কারণ সে বুঝতে পারছেনা। কার কথা বলছে? এদিকে অনেকক্ষণ হয়ে গেল যে কেউ এসেও পড়তে পারে তাকে খুজতে। তাদের এই অবস্থায় দেখলে তান্ডব বয়ে যাবে তালুকদার বাড়িতে। তাদের এ সম্পর্ক যে অব্যক্ত!

নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে মেহরাদ। কিন্তু তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে তার জন্য এই মূহুর্তে। এই মেয়েটাকে সে কারো সাথে সহ্য করতে পারেনা। কক্ষনও না। সেটা কি ও বুঝেনা!
“তোর সকলের সাথে এতো ভাব জমিয়ে কথা বলতে হবে কেন? হোয়াই? আর কেউ নেই তোর চৌদ্ধ গুষ্ঠির খেয়াল রাখার? ” চিবিয়ে চিবিয়ে বললো মেহরাদ।
“আমি কিছু করিনিতো। ”
“হ্যাঁ, ঠিকি, তুই কোন সময়ই কিছু করিস না। অযথাই আমি রেগে যাই তাইনা! ”
“আমি সত্যিই বুঝতে পারছিনা কেন এমন করছেন আজ? আমি নিতে পারছিনা আপনার এ রুপ। ”
“কেন পাড়বিনা? এটুকুতেই হাপিয়ে গেলে চলবএ? এই তুকেই সব সামলাতে হবে। সব! ”
“আমার ভয় হয়। কেউ জানেনা আমাদের বিয়ের, কেউ মানবেনা এ বিয়ে। ” বলেই ঢুকরে উঠলো শুভ্রতা।
সকলের অজান্তে অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে এই ছোট্ট বয়সে। যার কারনে মানসিক টানাপোড়ানে ভুগছে। কি হবে তাদের ভবিষ্যৎ?
“মানতে হবেনা কারোর, আমি মানি তুই মানিস এই-ই যথেষ্ট। আমি আছিনা? পুরো দুনিয়া গোল্লায় যাক, তুই শুধু আমার হয়ে থাক। ”

নিশ্চুপ হয়ে আছে শুভ্রতা। নিজের শরীরের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিয়েছে মেহরাদের উপর। দু’হাতে আগলে ধরেছে মেহরাদ শুভ্রতাকে।
তাদের এ মন কষাকষি রাগ অনুরাগের পর্ব চললো কিছুক্ষণ। এর একটু পর বাহিরে মেহরাদের মা মিসেস জাহানারা বেগমের গলা শুনা গেল। শুভেতাকে ডাকতে ডাকতে আসছেন তিনি। ___ ‘সেই কখন মেয়েটাকে পাঠিয়েছে আসার খবর নেই। জানাবে তো কিছু! ‘

ছিটকে দূরে সড়ে যেতে চাইলো কিন্তু মেহরাদ আটকে দিল। । মুখ দ্বারা ‘ চ’ বর্গীয় শব্দ বের করে এয়াশরুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল। __ধূর! আরেকটু পড়ে আসা গেলনা!!
এদিকে অন্ধকার হাতরে ওরনাটা পেয়ে গায়ে জড়িয়ে নিল শুভ্রতা। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টায় দৌড়ে গিয়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিল। বড় জেঠিমা আসছেন এ রুমের দিকেই।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২