হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪১
সাঞ্জেনা শাজ
“তোমার কি মনে হয় না, তুমি একটা ইউজলেস?” রায়হানের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো রায়হানের বাবা রুহুল আমিন খান। সম্পূর্ণ মুখশ্রী গম্ভীর। তার খান বংশে একেকটা কুলাঙ্গার হয়েছে। এক কালে বোনটা শত্রুর হাত ধরে মুখে চুনকালি মাখিয়েছে। যে-ই সে বাড়ির মেয়ে এনে নিজের দিকে ক্ষমতা টানতাম ওমনি ও বাড়ির বজ্জাত বেয়াদব ছেলেটা সব ভেস্তে দিয়েছে। এঁদের রক্তেয় দোষ। কাউকে কখনো সফল হতে দিবে না পন করে বসে থাকে। সেই ছেলের হাতে মার খেয়ে আসে। আবার একজন মেয়র হয়ে জেলের গেটও দর্শন করাতে পারে না। “তালুকদাররা ঠিক কতটা পাওয়ার নিয়ে বসে আছে আমাদের থেকেও বেশি তা আন্দাজ করতে পেড়েছো? ওরা ক্ষমতায় না থাকলেও ক্ষমতাই ওঁদের আশেপাশে ঘুরে। তোমাদের মতো না।” শেষের বাক্যগুলো আবারও ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে বলে পাইচারি করতে লাগলেন তিনি।
বাবার কটু কথায় রায়হানের ভিতরে আগুনের স্ফুলীঙ্গ বাড়ছে দাউদাউ করে। ওই তাশদীদ মেহরাদ তালুকদারের জন্য নিজের বাবার কাছে কটু কথা শুনছে সে। এক সপ্তাহ হাসপাতাল কাটিয়ে এসেছে। এই দিন সে এভাবে ভুলে যাবে? কক্ষনোই না৷ এর প্রতিশোধ ঠিক নবে সে। আঘাতের বদলি আঘাত করবে। রক্তের বদলে রক্ত ঝড়াবে৷
রিমা খান নত মস্তকে তাকিয়ে আছে ফ্লোরের দিকে। তার ভাই যে তাকে-ও অপমান করতে ছাড়েনি সেটা তার সুচের মতো বিধছে। তালুকদাররা খানদের শত্রু জেনেও সে মায়ায় আটকে গিয়েছিলো শায়ানের। তবে উদ্দেশ্য ছিলো শায়ানকে দূরে সড়িয়ে তালুকদার পরিবার ভেঙে দিবে। এই বংশ গৌরব মর্যাদা নিয়েই তো এতো অহংকার এদের! সেটাই ভিতর থেকে চুরমার করতে চেয়েছিলো সে। কিন্তু আফসোস সে নিজেই চুরমার হয়ে গিয়েছিলো এক কালে এদেরকে সাথে থাকতে থাকতে। ভাবা যতটা সহজ করা ততটাই কঠিন। তার ভাই তাদের সম্পর্ক এক সময় মেনে নিলেও গোপনে দু ভাই বোনের সন্ধি হয়েছিলো তারা তালুকদারদের তাদের বাড়িতে থেকেই ছিন্নভিন্ন করে দিবে। বংশ গরিমা ধুলোয় মিশিয়ে দিবে।
কিন্তু রিমা খান তাতেও ব্যর্থ হয়েছে। এঁদের একেক জনের প্রতি এতো টান, এতো বিশ্বাস ভরসা! রিমা খান চাইলেও কিছু করতে পাড়েনি। ইনিয়েবিনিয়ে কতো কিছু করতে চেয়েছিলো শায়ান তালুকদারের অগোচরে। কিন্তু আফসোস, কিছু লাভ হয়নি এতে। তার এই ব্যার্থ হওয়া দেখে রুহুল আমিন খান বোনকে এক প্রকার জোড় করেই দেশের বাইরে স্কলারশিপ দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর বোন ফিরে আসলো এক মেয়ে সন্তান নিয়ে। সে এতেও প্ল্যান করলো, তালুকদার বাড়ির মেয়ে এনে হাতের মুঠোয় রাখবে তাদের। কিন্তু তা-ও হলো না। উল্টো তার ছেলে ও বাড়ির ছেলের হাতে মার খেয়ে হাসপাতাল পরে রইলো দিনের পর দিন। এরকম ধ্বংস কেউ-ই মেনে নিবে না। তার ভাইও মানতে পাড়ছে না।
শক্ত এক ঢোক চেপে অপমান গুলো গিলে ফেলার চেষ্টা করলো রিমা খান। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হলো না। আবারও রুহুল আমিন খানের তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠ ভেসে আসলো,
“তুমি রিমা? তোমার মেয়ে জামাই নামক চাচাতো ভাইয়ের সাথে সেই চট্টগ্রাম চলে গিয়েছে, অথচ তুমি নাকি জানোই না! তোমার কতটুকু এহমিয়াত ওই বাড়িতে? তোমার নিজের মেয়ের কাছে? কোন মূল্য কি আদও আছে? শায়ান না জানালে তো জানতেও না। আর ও -অ তো জানিয়েছে মেয়ে সেদিকে যাওয়ার পর-ই। কই আগে তো জানালো না! ও কি জানতো না আগে? অবশ্যই জানতো। কিন্তু তোমায় জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। আদও কোন গুরত্ব কি আছে কারোও কাছে তোমার? তোমার থেকে তোমার মেয়ের গুরুত্ব বেশি সকলের কাছে। ”
রিমা খান আরও অপমানে জর্জরিত হলেন। শুরু থেকে শেষ এই পর্যন্ত এই মেয়েই তার কাল হয়েছে। এমনি এমনি এতো রাগ এতো ক্ষোভ এ মেয়ের প্রতি তার? তার ছেলেটাজে খেয়েছে। তার সব শেষ করছে। ছেলের কথা মনে হতেই মনে দুঃখ কষ্ট রাগ জেদ আওব একসাথে হানা দিলো। শুভ্রতা নামক মেয়েটাকে দুশমন মনে হলো দু’চোখের। এই মেয়েটার জন্য ওই অসভ্য বেয়াদব ছেলেটার কাছে তাকে ছোট হতে হয়েছে। বেয়াদব ছেলেটা তার মুখের উপর কথা বলার সাহস করে। হাটুর বয়সি ছেলেটা তাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলে। অথচ অথচ মেয়েটা…
“কোন কিছুই আপনার অজানা না ভাই। ওই মেয়ের কথা বলবেন না। আমাওর ছেলেটাকে মে/রেছে, আমায় ছোট করেছে। সকলের সামনে বছরের পর বছর আমায় অপরাধী করে রেখেছে। তা-ও কেন? অযথাই। আপনি বলেন আমার ছেলেটাকি পানিতে যেতো এই অসভ্য মেয়েটা যদি পানিতে না যেতো? না ওর কিছু হতো? এই মেয়েটাকে আনা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে ভাইজান। ” নিজের প্রতিই নিজে ক্ষুভ ঝেড়ে বললো রিমা খান।
“না, শুধু এটাই না রিমা। তোমার সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে তালুকদার বাড়ির ছেলের হাত ধরা৷ আর এটা তোমাকে সারাজীবন ভোগাবে। এখনো সময় আছে ভেবে দেখো। কিছুই নেই তোমার ওখানে। শায়ানের তুমি থাকায় না থাকায় কোন পার্থক্য হবে বলে মনে হয় না আমার। ওর কাছে মেয়েই সব। অথচ ওটা ওর কেউ না।” কথা গুলো তাচ্ছিল্য সহকারে ছুড়ে দিলো রিমা খানের দিকে তার ভাই। রায়হান অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। কি বলছে বাবা এসব? সে কিছুই বুঝতে পাড়লো না।
” শুভ্রতা কোথায় ফুপি? ও চট্টগ্রাম কি করে? কার সাথে গিয়েছে?”
রিমা খান চুপ করে রইলেন। রায়হান যা বুঝার বুখে নিলো। টগবগ করা রাগকে দমন করতে চাইলো। এই মেয়েটার প্রতি সে দুর্বলতা অনুভব করে। অথচ মেয়েটা হালাল হতে হতেও তার কাছে হারাম হয়ে গেলো। কারণ সে কারো স্ত্রী এখন। আর সেটা কার? তাশদীদ মেহরাদ তালুকদারের। উফফফফ! অসহ্যকর এ নামটা সাথে অসহ্যকর এ মানুষটা।
সে দম নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“কবে ফিরবে জানো? তোমার মেয়েটার প্রচুর সাহস ফুপি। আর ওই ছেলেটার জন্য সাহসটা ওর আকাশ ছুঁয়া।একদিন না ওই ছেলে থাকবে আর না ওই সাহস। ” বলেই গটগট পায়ে বেরিয়ে গেলো। রুহুল আমিন খান গম্ভীর মুখে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলেন ছেলের যাওয়ার পানে। তার ছেলেও কি ফুপির দেখানো পথে হাটবে না-কি? যা গেছে, গেছে। এতো টানাটানির কি গেলো এতে? ওই মেয়েটার সাথে না রক্তের সম্পর্ক আছে না কাগজের, এতো টানাটানির কি?
রিমা খান রায়হান যেতেই ভাইয়ের দিকে তাকালো। ভারী আওয়াজ তুলে বললো,
“যা হয়নি তা আর ভেবে লাভ হবে না ভাইজান। রায়হানের চোখে শুভ্রতাকে নিয়ে দুর্বলতা দেখি আমি। এটা কান্য নয়। ওই মেয়ে মরিচীকা ছাড়া কিছুই না। ও ধ্বংসের রানী। যেদিকে যায় ধ্বংসই করে। রায়হানকে আটকাও। ওর পিছু ছুটতে না করো। মেহরাদের সাথে পেড়ে উঠবে না। নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ওরা তো আর কোন ক্ষমতার লড়াইয়ে নেই এখন। তুমিও ভুলে যাও সব ভাইজান। আর সেই অদৃশ্য সত্যি যেন কেউ জানতে না পারে ভাইজান। তুমিইই আমার ভরসা। ”
” আমার ছেলের রক্তের দাম না নেওয়া পর্যন্ত আমি কিছুই ভুলবো না রিমা। সমানে সমানে সব হবে। তারপর ভুলা ভুলির নাম।আর মাথায় রেখো এটা, সত্য কোন দিন চাপা থাকে না। যুগ পেড়িয়ে গেলেও তা সামনে আসবেই। সেদিন যেদিনই হোক না কেন তোমার ভাই থাকবে তোমার পাশে। যেমন সবসময় ছিলো।”
শুভ্রতা দুপুরে সকালএর নাস্তা সেড়ে সেই যে ঘুম দিয়েছিলো বিকেল হতে উঠলো মেয়েটা। ঔষধ খেয়ে ঘুমানোয় ঘুমটা একটু বেশিই লেগেছিলো চোখে
। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে কিছুটা সুস্থই মনে হলো শুভ্রতার। শরীরটা তাপমাত্রা কিছুটা কম লাগছে। ব্যাথাও অনেকটা কম। আশেপাশে মেহরাদকে দেখলো না। কম্ফর্টার জড়িয়েই উঠে ওয়াশরুম ছুটলো আগে। গায়ে পোশাক জড়িয়ে রুম ছেড়ে ড্রয়িং এ এসে দেখলো মেহরাদ লেপটপে কাজ করছে। সে যেতেই তার দিকে তাকালো গম্ভীর চোখে। শুভ্রতা হকচকালো অযথাই এরকম দৃষ্টি দেখে। রুম থেকে বের হতে পাঞ্চ ক্লিপ নিয়ে বের হয়েছিলো সেটা চুলে পেচিয়ে অত্যাআধুনিক কিচেন রুমটার দিকে এগিয়ে গেলো। সেখানে একটা ছোট্ট বারও আছে। এই স্যুটটা বেশ পছন্দ হয়েছে তার। সব’ই আছে কি সুন্দর!
চুল পেচিয়ে মাথায় উঁচু করে বাধতেই শুভ্রতার গলা ঘারের কাধের লাল চিহ্ন গুলো উন্মুক্ত হলো। ফর্সা চামড়ায় এখনো কেমন জ্বলজ্বল করছে। ছোট্ট মোলায়েম মায়াবি চেহারাটা কেমন যেন পূর্নতার ছাপ ভাসছে। অদ্ভুত এ সুন্দর্য। মেহরাদের ঘোর লেগে যাচ্ছে। সিডিউসড হচ্ছে সে।শুভ্রতার থেকে চোখ সড়িয়ে আবারও লেপটপের দিকে নজর দিলো। রাশভারি স্বরে আদেশ ছুড়লো,
“ওড়না ভালো ভাবে জড়া।”
শুভ্রতা ভ্রু কুচকে চেয়ে রইলো। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওড়না তো ভালো করেই নেওয়া। আর কিভাবে নেবে? বুঝলো না সে। তবুও নেড়ে চেড়ে ছড়িয়ে সম্পূর্ণ নিজেকে ঢাকলো। মেহরাদকে জিজ্ঞেস করলো,
“কফি খাবেন?”
“তোকে খাবো।” শুভ্রতার ঘোরে বিভোর মেহরাদ অন্যমনস্ক হয়েই জবাব দিলো।
“কিহ?”
“কিছু না। ”
“কি বললেন তখন? কি খাবেন আপনি? কফি করবো না?”
মেহরাদ তাকালো শুভ্রতার দিকে। কেমন কেমন গিন্নি গিন্নি ভাব ধরছে তার সাথে! সে এক হাতে কপাল ঘষে চাপা হাসলো। একদিন নিজের দুর্বলতা দেখিয়ে কাছে কি টেনেছি নিজেকে হুকুমে মাল্লেকা ভাবছে মেহরাদের। অবশ্য ও-ই রাইট। বাট মেহরাদ তো তা বুঝতে দিবে না। তাই ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
“এটা কফি খাওয়ার টাইম? সকালের নাস্তা দুপুরে করেছিস। দুপুরের লান্চ রাতে করবি?”
“যেমন ইচ্ছে করে করেছি? ঘুমিয়ে ছিলাম দেখেই তো দেরি হলো।”
“তো এভাবে পরে পরে ঘুমানোর কারণ কি? খেয়ে ঘুমানো যেতো না আবার?”
শুভ্রতা ঠোঁট দুটো শক্ত করে চাপলো। কয়েকটা কথা চলে আসতে চাইছিলো বের হয়ে। তবুও আস্তেধীরে বলল,
“রাতে ঘুমোয়নি দেখেই তো সারাদিন ঘুমালাম। আবার… ”
“এক রাতেই এ অবস্থা! সারা জীবন? আমি তো কখনোই ছাড় দিবো না। ”
শুভ্রতা ঘুরে কফি কাপ বের করলো কেবিনেট থেকে। কফি ম্যাকার এ সব দিলো আস্তেধীরে। ভুলেও মেহরাদের দিকে তাকালো না। তাকাকেই তার রাতের কথা মনে পরে যাবে। সে আর এ লোকের সাথে কথাই বলতে পারবে না তাহলে। অথচ লোকটা কি রকম দেদারসে তাকে লজ্জায় ফেলে দিচ্ছে!
একটু পর কফি এনে মেহরাদের সামনে রাখলো শুভ্রতা। দু জনের জন্যই বানিয়েছে। নিজে বসলো পাশের কাউচে। বসতে একটু ব্যাথাই অনুভব করলো। সেকেন্ড খানেক চোখ খিচে আবারও স্বাভাবিক হয়ে কফিতে চুমুক দিলো। পাশে বসেছে মেহরাদ যেন তার দিকে না তাকায় সে বুদ্ধিতে। সামনে বসলে তো হুটহাট চোখে চোখ পরে যেত। এখন নিশ্চয় ঘুরে তার দিকে তাকাবে না? চোখ চোখ রেখে ভ্রু নাচিয়ে লজ্জা দিবে না?
কিন্তু শুভ্রতা সম্পূর্ণ ভুল। মেহরাদ সামনের লেপটপ দূরে ঠেলে আয়েস করে ঘুরে কাউচের সাইডের হাতলে হেলান দিয়ে শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে বসলো। শুভ্রতার দিকে চেয়েই কফিতে চুমুক দিলো। শুভ্রতা অবাক চোখে চাইলো এরকম করায়। আর চাইতেই মনে হলো লোকটা অত্যাধিক বাজে, মনে হলো কাপে না ঠোঁট দুটো….
সে আর ভাবতে চাইলো না। কান গাল গরম হয়ে আসছে। শরীর শিরশির করে উঠলো। হাতের তালু ঘেমে গিয়েছে ইতিমধ্যে। মেহরাদের সামনে দৃশ্যমান গাল বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ঢেকে শুধালো,
“আপনাদের না বিদেশি ক্লায়েন্ট আসার কথা আজ? আসে নি?”
“উঁহু। গতকালের আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট ডিলে হয়েছিলো। আসতে পাড়েনি। আগামীকাল আসবে।”
“ওহহহহহ” বলে শুভ্রতা এক হাতে অর্ধমুখ ঢেকে রাখলো। তার লাল হওয়া মুখ দেখে না আবার মেহরাদ তাকে লজ্জা দেওয়া শুরু করে!
“কফি না খেয়ে মুখ ঢেকে রাখার মানে কি? রাতে স্বামী অধিকার দিয়ে বিকেলে পর্দা শুরু করে দিয়েছিস আমার সামনে? আমার হাত দুটো আছে কি করতে? ”
শুভ্রতা ফট করেই উঠে দাড়ালো কফির মগ রেখে। অযাচিত কারণেই সে লজ্জায় দিক বেদিক ভুলে যাচ্ছে। আশ্চর্য! এ লজ্জা শেষ হবে কিবে?
মেহরাদ ওর হাত টেনে এনে কোলে বসালো ধপ করে। কোমর আকরালো শক্ত বাহুর বন্ধনে। শুভ্রতা চোখ মুখ খিচে নিলো। মেহরাদ কিছুটা দৃশ্যমান পিঠের লালচে দাগে ঠোঁট চেপে আওড়াল,
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪০
“এগুলো ঢাকতে বলে ছিলাম। অথচ মধু দেখিয়ে বাসা ঢাকছিস।”
শুভ্রতা পিছু ঘুরে মেহরাদকে দেখিতে চাইলো। লোকটার মুখ রেলগাড়ীর মতো ছুটছে। এই নির্লজ্জ চেহারাটা সে দেখতে চায়৷ কিন্তু মেহিরাদ দিলো না। তার হাতের কফির মগিটা শুভ্রতার ঠোঁটের সামনে ধরে বলল,
“ফিনিশ ইট। বেশি না অল্প সময় নিবো। আন্টিল মাই ক্রেভিংস গন….”
