হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২৪ (২)
সাবা খান
হাসপাতালের সেই ভিআইপি ইমারজেন্সি কক্ষটা অদ্ভুত এক নীরবতায় ডুবে আছে। মাঝে মধ্যে শোনা যাচ্ছে মেশিনের মনিটরে ক্ষীণ শব্দ টিক…টিক…টিক, প্রতিটা শব্দ যেন জীবনের হিসাব গুনছে। এক পাশে ঝুলছে স্যালাইনের ব্যাগ, তার মধ্যে থাকা স্বচ্ছ তরল ধীরে ধীরে নামছে যেন সময় গলছে ফোঁটা ফোঁটা করে। কক্ষের মাঝখানে থাকা বিছানায় শুয়ে আছে যন্ত্রমানব। তার শরীরের প্রায় প্রতিটা অংশ ব্যান্ডেজে ঢাকা, মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো আর তাকে জড়িয়ে ধরে তার চওড়া বুকে মুখ গুঁজে আছে ইবেলিনা।
রাজস্থানী রমণীর থামার কোন নাম নেই সে একাধারে অঝোরে কেঁদেই চলছে। যার কারণে তার সুশ্রী আদল লাল আভা হয়ে ওঠেছে। সামনের মানবের শার্ট পুরো ভিজে গেছে তার গড়িয়ে পড়া অশ্রুতে। সে বারবার ফিসফিস করছে,
–“জ্যাক, শুনতে পারছেন? প্লিজ উঠুন”
না তার কান্না থামছে, আর না তার ফিসফিসানি। হঠাৎ জ্যাকের নেত্রপল্লব হালকা কেঁপে ওঠে। ধীরে ধীরে তা খুলে যায়। চোখ খুলেই সে ভ্রু কুঁচকে মাথা নাড়িয়ে নিজের বুকের উপর তাকায় তারপর একটা বিরক্তি মাখা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে ইবেলিনার কানে,
–“এত চোখের পানি তোমার আসে কোথা থেকে?”
নিস্তব্ধ কক্ষে তার বলা বাক্য টুকু শ্রবণ হতেই রমণী চমকে উঠে। সে তড়িৎ গতিতে বুক থেকে মুখ তুলে নিজের ঘন নেত্রপল্লবে ডাকা বিস্মিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সামনের মানবে। জ্যাক এখনো বলছে,
–“আমি আর পাঁচ মিনিট বেশি অজ্ঞান থাকলে তো তোমার চোখের পানিতে গোসল করে নিতে হতো মনে হচ্ছে। হসপিটাল কে নদী বানানোর প্ল্যান ছিল নাকি?
এভাবে কাঁদলে ডাক্তাররা আমাকে না, তোমাকেই অ্যাডমিট করে ফেলবে”
ইবেলিনা এখনো স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে। জ্যাক বিরক্ত মুখে অক্সিজেন মাস্কটা খুলতে থাকে। তার জ্ঞান আরও পাঁচ মিনিট আগেই ফিরেছে কিন্তু রমণীর মুখে এমন স্বীকারোক্তি শুনে তার ভালোই লাগছিল কিন্তু এই মেয়ে যা শুরু করে দিয়েছে তাতে এখন না সাড়া দিলে অশ্রুতে পুরো বেড ভাসিয়ে ফেলতো। জ্যাক একপল তার দিকে তাকিয়ে আদেশের সুরে বলে,
–“এখন কাছে আসো”
জ্যাকের বলা বাক্যটা শেষ হওয়ার আগেই ইবেলিনা যেন বাস্তবে ফিরে আসে। সে এতক্ষণ ভেবেছিল হয়তো সে কল্পনা করছে। কণ্ঠ থেকে ফিসফিস করে বের হয়,
–“জ্যাক…”
আর এক ন্যানো সেকেন্ড দেরি না করে সে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে জ্যাকের গ্রীবায় মুখ গুঁজে পুনরায় কাঁদতে শুরু করে। এবার কান্নার বেগ আগের থেকেও বেশি। রমণীর উষ্ণ অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে যন্ত্রমানবের সারা কণ্ঠদেশে। বিপরীতে জ্যাক এক মুহূর্ত চুপ থেকে তারপর ধীরে তার ক্যানোলা লাগানো হাতটা তুলে ইবেলিনার পিঠে আলতো করে চাপড় দেয়। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবে,
“তার মানে সত্যিই তদর প্রেয়সী ভালোবাসা নামক পাপ করে ফেলেছে”। কিন্তু ইবেলিনা যখন তার জন্ম পরিচয় শুনবে তখন কী এইরকমমই থাকবে সবকিছু এমনই থাকবে নাকি….
হঠাৎ তার বিভ্রম ছুটিয়ে ইবেলিনা মুখ তোলে তারদিকে তাকায়, তার চোখ হালকা রক্তিম, এখনো নাক টানছে, অতিরিক্ত কান্নার দরুন গাল গুলো পর্যন্ত লাল হয়ে এসেছে। রমণী কোনো কথা না বলে জ্যাকের মুখের উপর ঝুঁকে পড়ে একের পর এক চুমু দিতে থাকে আর মুখে বলতে থাকে,
–” আপনি ঠিক আছেন?”
–“আমি ভেবেছিলাম… আমি আপনাকে হারিয়ে ফেলবো”
তার প্রত্যুত্তরে জ্যাক কিছু না বলে শুধু তাকিয়ে থাকে রমণীর এই পাগলামি, এই ভালোবাসার দিকে। কিয়ৎকাল পর জ্যাক ধীরে উঠে বসার চেষ্টা করে। সাথে সাথে ব্যথায় তার মুখ কুঁচকে যায়। ইবেলিনা বুঝে তাড়াতাড়ি তাকে ধরে বিচলিত কণ্ঠে শুধালো,
–“সাবধানে, প্লিজ”
জ্যাক ধীরে ধীরে উঠে বসে ইবেলিনার সাহায্য নিয়ে। সে বসে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ধীরে ধীরে তার হাতটা এগিয়ে দিয়ে রাখে ইবেলিনার উদরে। সে চোখ তুলে তাকায় ইবেলিনার দিকে। ইবেলিনা তার সেই প্রশ্নাত্মক দৃষ্টি বুঝে নিঃশব্দে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝায়। সাথে সাথে জ্যাকের হাত কেঁপে ওঠে। এই প্রথম এই মানুষটার হাত কাঁপছে। সে হাতটা একটু শক্ত করে চেপে ধরে। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে অদ্ভুত একটা শান্তির হাসি ফুটে ওঠে। ইবেলিনা স্থির হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেই হাসির দিকে। কেননা বিয়ের আগে বা পড়ে সে কখনো জ্যাককে হাসতে দেখেনি।
জ্যাক ধীরে ধীরে ইবেলিনাকে নিজের দিকে টেনে আনে। এতে একটু কষ্ট হচ্ছে বটে, ব্যথায় তার বুক টনটন করছে তবুও সে তাকে শক্ত করে নিজের বলিষ্ঠ দুই হাতে জড়িয়ে ধরে। ইবেলিনা বিন্দুমাত্র বাধা দেয় না বরং তার আরও কাছে সরে আসে। স্বামীর বক্ষস্থলে মুখ গুঁজে একটা বিড়াল ছানার মতো গুটিশুটি মেরে থাকে। জ্যাকের হাত তুলে ধীরে ধীরে তার চুলে বিলি কেটে দেয়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গম্ভীর স্বরে ডেকে ওঠে,
–“লিনা….”
সাথে সাথে রমণী তাকে থামিয়ে নরম স্বরে বলে,
–“আপনার মুখে অনেক দিন মোরনি জান শুনি না, ওই নামে ডাকুন”
জ্যাকের ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসির রেখা ফুটে ওঠে আবার সাথে সাথে তা মিলিয়ে যায়। সে ফের ডাকে,
–“মোরনি জান”
–“হুম”
–“এখানে কেন এসেছ?”
–“আপনার জন্য”
–“আমি ভালো মানুষ না, লিনা”
–“আমি কখনো বলেছি আপনি ভালো?”
–“তাহলে?”
ইবেলিনা জোর দাবির সাথে জানায়,
–“আমি শুধু বলছি… আপনি আমার”
তারপর আর কথা হলো না। জ্যাকের ঠোঁটের কোণের হাসিটা আবারও ফিরে আসে। সে আরও শক্ত করে চেপে ধরে রমণীকে এমন মনে হচ্ছে হাড় বেদ করে বুক পিঞ্জরে ঢুকিয়ে ফেলবে। ইবেলিনাও একদম লেপ্টে রইল তার বুকের সাথে। কক্ষে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে শুধু দুই কপোত-কপোতীর শ্বাসের ছন্দের শব্দ।
কোর্টরুমের ভেতরে ব্যক্তিগণ আজ যেন নিঃশ্বাস আটকে বসে আছে। উঁচু ছাদের নিচে সারি সারি বেঞ্চ, চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বলয় দ্বারা বেষ্টিত, দেয়ালের ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করছে, কিন্তু সেই শব্দটাও যেন আজ অস্বাভাবিক জোরে শোনা যাচ্ছে।
সবাই নিস্তব্ধ। মিডিয়া, আইনজীবী, সাধারণ মানুষ সবার দৃষ্টি একযোগে আটকে আছে একদম সামনে কাঠগড়ার দিকে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সোফিয়া জাওয়ান।
বিপরীতে তার মুখে কোনো ভয় নেই, কোনো অনুশোচনা নেই। সে একদম নির্বিকার। চোখে এক অদ্ভুত স্থিরতা যেন সে এখানে বিচার পেতে আসেনি, বরং এই বিচারকেই বিচার করছে। অন্যদিকে ভিআইপি সারিতে বসে আছে আরজে তার পাশে বসে আছে সানা। সানার হাত দুটো শক্ত করে জোড়া করা, তার বুক দ্রুত উঠানামা করছে। চিন্তায় তার মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম, কী না কী হয়।
সারহাদ বসে আছে সামান্য ঝুঁকে। তার চোয়াল শক্ত, হাত জোড়া শক্ত করে মুষ্টি বদ্ধ করে রাখা। আজকের এই রায়, তার বাবার রক্তের প্রতিশোধের একটা অংশ। মিসেস দিলরুবা খানম চোখ নামিয়ে বসে আছেন। তার মুখে কঠোরতা আছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কোথাও একটা অস্বস্তি নাড়া দিচ্ছে, যে খেলার মধ্যে তিনি নিজেও জড়িয়ে ছিলেন।
সবাই অপেক্ষা করছে একটা রায় শোনার জন্য। হঠাৎ সবার কানে ভেসে আসে বিচারকের কণ্ঠস্বর,
–“অর্ডার, অর্ডার ইন দ্য কোর্ট”
সবাই একদম সোজা হয়ে বসে। বিচারক ধীরে ধীরে সামনে ঝুঁকে ঠান্ডা স্বরে আওড়ান,
–“আজকের এই আদালত এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। অভিযুক্ত সোফিয়া জাওয়ান আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো…”
এটুকু বলে তিনি চশমাটা একটু মধ্যমা দিয়ে ঠেলে একে একে পড়তে শুরু করেন,
–“মানব পাচার, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং, শিশু নির্যাতন ও জৈবিক পরীক্ষা, হত্যা, ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ…”
কোর্টরুমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, সবাই ফিসফিস করা শুরু করে দিয়েছে। বিচারক হাত তুলে সবাইকে চুপ করান। তারপর বলেন,
–“এই আদালত প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে
আপনি শুধু একজন অপরাধী নন… আপনি একটি সুসংগঠিত অন্ধকার সাম্রাজ্যের নির্মাতা। সুতরাং এই আদালত আপনাকে দণ্ডবিধির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করছে”
এক সেকেন্ডের জন্য যেন সময় থেমে যায়। উপস্থিত সবাই নিস্তব্ধ হয়ে মনোযোগ সহকারে শুনছে। বিচারক নিজের রায় শুনান,
–“আপনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো,
ফাঁসির মাধ্যমে, যতক্ষণ না মৃত্যু নিশ্চিত হয়। তবে সেটা দন্ডায়িত হবে, একমাস পর। ততদিন আপনাকে আপনার বানানো কক্ষ গুলোতে রাখার ব্যবস্থা করা হবে”
এক ঝটকায় পুরো কোর্টরুমে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়ে আসে। বিচারক না থেমে ফের বলেন,
–“আপনার সাথে যুক্ত সকল সহযোগী মন্ত্রী, কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংযোগ প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই রায় মানবতার পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা”
বিচারক গ্যাভেল আঘাত করে শেষ বাক্যটা বলেন,
–“Court adjourned”
মুহূর্তেই কোর্টরুমে যেন বিস্ফোরণ ঘটে, কারো চোখে পানি, কারো মুখে স্বস্তি, কারো মুখে বিস্ময়। সানা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে চোখ বুজে ফেলে। তার চোখের কোণ ভিজে ওঠে অজান্তেই। সারহাদও চোখ বন্ধ করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে। যেন বছরের পর বছর জমে থাকা বুকের ভেতরের আগুনটা একটু নিভলো। তার থেকে অদূরে বসা সিতারার চোখে পানি টলমল করছে, কিন্তু ঠোঁটে একটুখানি শান্তি। তার পাশে বসা দিলরুবা খানম মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকেন।
কিন্তু যার এতবড় শাস্তি হলো, যার জন্য আজ এত বড় আয়োজন, এত বড় বিস্ফোরণ সেই সোফিয়া জাওয়ান দাঁড়িয়ে আছেন এখনো একইভাবে নির্বিকার চিত্তে। তার চোখে কোনো পরিবর্তন নেই, যেন এই রায় তার জন্য কিছুই না। আর আরজে, সে নড়ছে না। দৃষ্টি স্থির তার মায়ের উপর কিন্তু সেই দৃষ্টিতে কী আছে তা বুঝা বড়ই মুসকিল। হঠাৎ মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে ছোটবেলার হাজারো স্মৃতি।
একটা ছোট ছেলে যে মায়ের হাত ধরে হাঁটছে। আর তার মা তাকে বলছে,
–“রনো, কাউকে বিশ্বাস করবে না”
–“পৃথিবীকে কেউ তোমার আপন না তাই নিজের হাতে নিতে শিখ”
তারপর ভেসে ওঠছে, অন্ধকার ঘর, কঠোর প্রশিক্ষণ, নিষ্ঠুর শিক্ষা, ভালোবাসার জায়গায় বসানো হয় ক্ষমতা। তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য পানি চিকচিক করে ওঠে কিন্তু সাথে সাথে সে সেটা লুকিয়ে ফেলে। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শুধু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীর দিকে।
বিচারকের গ্যাভেলের শেষ আঘাতটা দিয়ে তারপর তিনি ধীরে ধীরে পদক্ষেপ ফেলে কোর্টরুম ছেড়ে বেরিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই যেন জমে থাকা নিস্তব্ধতা ভেঙে পড়ে। মুহুর্তে চারপাশে ফিসফাস শুরু হয়ে যায়। কারো চোখে স্বস্তি, কারো মুখে স্তব্ধতা।
এদিকে কাঠগড়ার চারদিকটা ইন্টারপোল অফিসাররা ঘিরে ফেলে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সোফিয়া জাওয়ান, তার দুই হাতে ঠাণ্ডা ধাতব হাতকড়া।চারপাশে কালো পোশাকে সশস্ত্র অফিসার, প্রত্যেকের দৃষ্টি সতর্ক। যে নারী একসময় ঘিরে থাকতো নিজের প্রাইভেট আর্মি, নিজের নিরাপত্তা বলয়, আজ তার চারপাশে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে আইনের রক্ষীরা।
ভিআইপি সারির থেকে উঠে দাঁড়ায় আরজে। সে একবার সানার দিকে তাকিয়ে চোখে নিঃশব্দ ইশারা করে। কাইলিন মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝাতেই আরজে নিঃশব্দে বেড়িয়ে পড়ে। সানা এখনো বসে আছে দুই হাতে মুখ ডেকে। কাইলিন এগিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়ায়।
আরজে নিজের মায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে দূর থেকে তাকিয়ে থাকে তার মায়ের দিকে। আজ তার চোখে যে দৃশ্যটা ধরা পড়ছে এটা সে কোনোদিন কল্পনাও করেনি। সে জন্ম থেকে দেখে এসেছে তার মায়ের চারপাশে সবসময় ক্ষমতার প্রাচীর ছিল, আজ তার হাতে হাতকড়া পরা। কেমন নিঃসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরজের পা থেমে যায় এক মুহূর্তের জন্য। তার বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে ওঠে। তারপর সে আবার এগিয়ে যায়। কিছু ইন্টারপোল অফিসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে,
–“স্যার…”
জিহবা খসে বাকি বাক্যটুকু বের হওয়ার আগেই পেছন থেকে এগিয়ে আসেন রাশেদ মাহবুব। তার একটুখানি দৃষ্টি, আর অফিসাররা সাথে সাথে সরে দাঁড়ায়। আরজে সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ঠিক তার মায়ের সামনে। দুই মা ছেলের চোখাচোখি হয় কিয়ৎকাল। সেই চোখের ভেতরে জমে আছে বহু বছরের গল্প, ক্ষমতা, রক্ত, শিক্ষা, ভাঙন। সোফিয়া এক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে তারপর ধীরে হাত তুলে ছেলের গালে রাখে। তারপর শান্ত স্বরে আওড়ায়,
–“রনো, আমি জানি, তুমি খুব ভালো করেই জানো ইকবাল কোথায়?
সে ভালো আছে তো, শুধু এটুকু বলো”
তার প্রত্যুত্তরে আরজে নিশ্চুপ। কয়েক পল এভাবে কেটে যায়। সোফিয়া ছেলের চোখে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়। তারপর সে ধীরে মায়ের হাতটা গাল থেকে নামিয়ে দেয়। নিজের হাতে ধরে শক্ত করে চেপে ধরে নিচু স্বরে বলে,
–“মম, ওই রাশেদ মাহবুব আমার লোক”
সোফিয়ার চোখে ক্ষণিকের বিস্ময় ফুটে ওঠে। আরজে বলতে থাকে,
–“ওর সব অপকীর্তির ভিডিও আমার কাছে আছে। সাথে দিলরুবা খানমেরটাও। লেটস গো। আমি তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবো, অনেক দূরে। যেখানে তুমি একটা স্বাভাবিক জীবন পাবে, যেখানে এই অন্ধকার তোমাকে ছুঁতে পারবে না, যেখানে লরেন্সের সেই দুঃস্বপ্ন থাকবে না, কোনো অত্যাচার থাকবে না, কোনো সেই রাতগুলো থাকবে না, যেখানে ড্যাডের মতো মানুষ থাকবে না, যেখানে তুমি তোমার মায়ের চিৎকার গুলো শুনবে না…”
সোফিয়া হঠাৎ তাকে থামিয়ে মাথা নাড়াতে থাকে। তার চোখে মুখে আতঙ্কের রেখা ঝলকে উঠে। সে তড়িঘড়ি করে বলতে থাকে,
–“না, না, না, রনো, তুমি কি আমাকে আবার ওখানে পাঠাতে চাও?
সেই জায়গায় যেখানে আমাকে পাগল বানিয়ে রেখেছিল, যেখান থেকে ইকবাল আমাকে বের করে এনেছিল”
সে মাথা নাড়িয়ে উন্মাদের মতো এক নিশ্বাসে বলতে থাকে,
–“না… আমি আর সেখানে ফিরতে চাই না, আমি কোথাও যাব না…”
আরজে দ্রুত এগিয়ে এসে দুই হাতে তার মুখটা আলতো করে আজলে ভরে বলে,
–“নো, মম…এইবারটা আলাদা। এইবার, সেখানে কেউ থাকবে না। না লরেন্স, না কোনো জানোয়ার, না মার্কান, না এলেনা, না ফ্লোজা, আর না হেনরি। এইবার তুমি শুধু মানুষ হয়ে বাঁচবে”
তার বলা বাক্যটুকু শ্রবণ হতেই সোফিয়া হঠাৎ হেসে ওঠে, একটা ক্লান্ত, ভাঙা হাসি। তারপর হাসি থামিয়ে ডাকে,
–“আরজে…”
তার মুখ থেকে এই ডাকটা শুনতেই আরজে থমকে যায়। তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে ওঠে। কেননা তার মা তাকে কখনো “আরজে” বলে ডাকেনি। সবসময় ‘রনো’ বলে ডাকে। সে তাকিয়ে থাকে। সোফিয়া তার বাদামী চোখে চোখ রেখে বলে,
–“আমি এখানেই থামতে চাই। জীবনটা, আমি নিজের মতো করে কাটাইনি কখনো। সবসময় কেউ না কেউ, আমাকে চালিয়েছে। এইবার… অন্তত শেষটা, আমার মতো হোক। মৃত্যুটাও, আমি আমার মতো করে চাই, কোনো পাগলাগারদ না, কোনো বন্দিত্ব না, শুধু শেষ”
সে আলতো করে ছেলের হাত ছাড়িয়ে দিয়ে বলে,
–“তুমি বেঁচে থাকো, আরজে। যেভাবে আমি পারিনি। আর একবার আরভিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। ডোন্ট ওয়ারি ওকে রাখবো না আমি”
তারপর নীরবতা, কয়েক পলক চোখাচোখি হয় দুই মা ছেলের। তারপর সোফিয়া ইন্টারপোল অফিসারদের দিকে ইশারা করে। অফিসাররা এগিয়ে এসে তাকে নিয়ে যেতে শুরু করে। আরজে এখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আর তার সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।
কোর্টরুমের বিশাল দরজাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবাই একে একে বেরিয়ে যাচ্ছে। কেউ তাড়াহুড়ো করে, কেউ থমকে দাঁড়িয়ে। কিন্তু একটা জায়গায় যেন সময় থেমে আছে। সেখানে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে আরজে এখনো স্থির হয়ে। তার চোখ এখনো সেই দিকেই যেদিক দিয়ে একটু আগেই চলে গেল সোফিয়া জাওয়ান। হঠাৎ তার চোখের কার্নিশ বেয়ে এক ফোঁটা জল নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে তার গাল বেয়ে।
ঠিক তখনই তার কাঁধে অনুভূত হয় নরম একটা হাতের চাপ। আরজে হালকা করে ঘাড় কাত করে পিছনে তাকায় নজরে আসে সানা দাঁড়িয়ে আছে। এক সেকেন্ডের জন্য তার বুক ধক করে ওঠে। মনে মনে জেগে ওঠেছে একটা শঙ্কা, কোথাও ডানা তার আর তার মায়ের কথোপকথন শুনে ফেলেনি তো। কিন্তু বিপরীতে রমণী তার শঙ্কা দূর করে ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে বলে,
–“রানভীর, আপনি এখানে দাঁড়িয়ে কি করছেন?”
আরজে ভেতরে ভেতরে একটা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে। চোখ নামিয়ে আবার সামলে নিয়ে বলে,
–“না… এমনিতেই”
সানা ধীরে এগিয়ে এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে
আলতো করে হাত বাড়িয়ে আরজের গালে ছুঁয়ে নরম স্বরে জিজ্ঞেস করে,
–“রানভীর… আর ইউ অলরাইট?”
আরজে সরাসরি তার চোখে চোখ গেঁথে বলে,
–“হোয়াট ডু ইউ থিঙ্ক?”
–“আই থিঙ্ক, আপনি ঠিক নেই। আর ঠিক থাকার অভিনয় করছেন”
আরজে ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে ভিতরের সবটা চাপিয়ে আওড়ায়,
–“তুমি ডাক্তার হয়ে গেছো কবে থেকে?”
–“যেদিন থেকে আপনাকে পড়তে শিখেছি’
–“ওহ, আচ্ছা। তাহলে আমার রিপোর্ট কি বলছে, ডক্টর ওয়াইফি”
–“পেসেন্ট খুব জেদি, ভেতরে ভেঙে পড়ছে, বাইরে হাসছে”
–“আর মেডিসিন?”
সানা একটু ভাবার ভান করে বলে,
–“মেডিসিন… একটু কম একা থাকা”
–“তাহলে ম্যাডাম আপনি চব্বিশ ঘণ্টা আপনার স্বামীর সাথেই থাকুন”
সানা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আরও কাছে এগিয়ে এসে তাদের মাঝের দূরত্ব টুকু কম করে বলে,
–“আই নো, উনি আপনার মা। সবাই বাইরে থেকে যাই বলুক, যাই মেনে নিক, ভেতরে ভেতরে কষ্টটা আপনারই হবে'”
তার আঙুলটা হালকা করে আরজের গালে বুলিয়ে যায় আর বিপক্ষে মানব এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার ওয়াইফির দিকে। হঠাৎ মেয়েটা কেমম বড়দের মতো কথা বলছে। সানা বলতে থাকে,
–“কিছু সম্পর্ক যতই ভেঙে যাক পুরোপুরি শেষ হয় না। ওগুলো বুকের কোথাও থেকে যায়। আপনি স্ট্রং আমি জানি। কিন্তু স্ট্রং মানে এই না যে আপনি কষ্ট পাবেন না। যদি কখনো খুব বেশি ভারী লাগে, তাহলে একা বহন করবেন না। আমি আছি তো”
আরজে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখে এক মুহূর্তের জন্য নরমতা ফুটে ওঠে। তারপর হালকা হেসে বলে,
–“তুমি এত সিরিয়াস হয়ে গেলে কবে থেকে?”
–“আপনি কি আমাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না?”
আরজে একটু ঝুঁকে এসে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে আওড়ায়,
–“আমি তো সবসময়ই তোমাকে সিরিয়াসলি নিই, খুব সিরিয়াসলি”
সানা সরু চোখে তার দিকে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারে আরজে ঠাট্টার সুরে বলছে। সানা আলগোছে তার কাঁধে হাত রেখে বলে,
–“মিস্টার জাওয়ান…এত পাট না নিয়ে নিজের কথাও একটু ভাবুন। জাস্ট রিমেম্বার, আমার কাছে অপরাধ মানে অপরাধই, আর অপরাধী মানে অপরাধীই। কোর্টে আমি আপনার নাম বলিনি, সেটা আমার সিদ্ধান্ত কিন্তু, স্বামী হিসেবেও আমি কাউকে ছাড় দিবো না”
এক সেকেন্ডের নীরবতা নেমে আসে দুজনের মধ্যে। তারপর আরজের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। হঠাৎ সে সানার কোমর ধরে একটানে আরো কাছে নিয়ে আসে। যার জন্য সানা একদম প্রস্তুত ছিল না। সে কিছু বলার আগেই আরজে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
–“ছাড় দিবে না…প্লিজ… বেডে একদম ছাড় দিবে না। আমি বললেও না, সুইটহার্ট”
–“কি?”
সানা সাথে সাথে তার বুকে দু’হাতে জোরে ধাক্কা মেরে সরিয়ে তার দিকে কটমট দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,
–“কুত্তা, অসভ্য, নির্লজ্জ”
এই বলে সে দ্রুত সামনে হাঁটা শুরু করে। রাগে তার গাল লাল হয়ে গেছে। আরজে হালকা হেসে নিজের চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করে।তারপর ধীর পায়ে সানার পিছু পিছু হাঁটা শুরু করে।
কোর্ট ভবনের বাইরে আজ যেন এক অগ্নিগর্ভ পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে জনতার ঢলে ভরে ওঠেছে। সবার মুখে চিৎকার, শ্লোগান, ক্ষোভ, ঘৃণা। চারদিকের জনতা একযোগে চিৎকার করছে,
–“ফাঁ*সি চাই, ফাঁ*সি চাই
সোফিয়ার ফাঁ*সি চাই,
–“ওকে আমাদের হাতে চাই”
বিক্ষুব্ধ জনতার বারবার ধাক্কায় পুলিশের ব্যারিকেড কাঁপছে। যেন এক ঝড় সবকিছু ভেঙে ফেলতে চাইছে। এই উত্তাল জনসমুদ্রের মাঝেই ধীরে ধীরে বের করে আনা হয়
“সোফিয়া জাওয়ানকে”
তার চারপাশে ইন্টারপোল অফিসার, সশস্ত্র নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী। তার হাতে হাতকড়া কিন্তু তার গাড়ো বাদামী চোখ জোড়া নির্ভীক। এতে কোনো ভয় নেই। জনতা পাগলের মতো চিৎকার গিলো তার কানে ভেসে আসছে। কিন্তু এসব তার মাঝে এক মুহূর্তের জন্যও আতঙ্ক ফুটিয়ে তুলতে পারে না। সামনের জনতা কেউ থুথু ছুঁড়ছে, কেউ গালাগালি করছে তাকে। শব্দগুলো যেন বিষ হয়ে উড়ে আসছে তার দিকে। কিন্তু এতেও সোফিয়ার হাবভাবের কোনরূপ পরিবর্তন হলো না। সে একবার ধীরে মাথা তুলে তাকিয়ে সবকিছু দেখে। তারপর তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি। ঠিক তখনই মিডিয়ার লোকেরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। মাইক্রোফোনগুলো তার মুখের সামনে ধরে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়তে থাকে,
–“মিসেস সোফিয়া, আপনি কেন এমন করেছেন?”
–“কেন এত মানুষকে ধ্বংস করেছেন?”
সোফিয়া কিয়ৎকাল নীরব থেকে তারপর হাতকড়া বাঁধা হাতেই একটা মাইক তুলে নিয়ে জনতার দিকে তাকিয়ে বলে,
–“কেননা, আমি এই পৃথিবীর মানুষদের ঘৃণা করি”
তার বাক্যটুকু ছড়িয়ে পড়তেই চারপাশের সব শব্দ থেমে যায়। সবাই একযোগে নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে তারদিকে। সোফিয়া ধীরে চারপাশে তাকায়। তার ঠোঁটে ফুটে ওঠে তিক্ত হাসি। তারপর বলে,
–“হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, ঘৃণা করি। ঘৃণা, ঘেন্না, বিতৃষ্ণা সব একসাথে। তোমরা যা দেখো, তাই বিশ্বাস করো। যা দেখানো হয়, সেটাকেই সত্যি ভাবো। আর আড়ালের জিনিসটা দেখার সাহস তোমাদের নেই। তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে বিচার চাইছো?
আর বাড়ি গিয়ে, নিজের স্ত্রীকে মারধর করো।
তোমরা ন্যায়ের কথা বলো?
আর তোমরাই অন্ধকার ঘরে দরজা বন্ধ করে নিজের নোংরামি ঢেকে রাখো?
আর আজ তোমরাই দাঁড়িয়ে আছো বিচারক হয়ে?
কী মজার তাই না?
এই পৃথিবী ভণ্ডে ভরা। মুখে ন্যায়, ভেতরে পচন। তোমরা সবাই ‘ভালো মানুষ’ যতক্ষণ না কেউ তোমাদের মুখোশ খুলে দেয়। আমি মানুষ ছিলাম হয়তো এক সময়। তারপর এই পৃথিবী আমাকে শেখালো, কিভাবে দানব হতে হয়। তোমাদের হাতেই সোফিয়া তৈরি, তোমরা সবাই দোষী, এই পৃথিবী দোষী।
এই পৃথিবীতে আমার মতো হাজার হাজার মানুষ আছে। যাদের তোমরাই তৈরি করছো প্রতিদিন। আর একদিন, ওরাই তোমাদের সামনে দাঁড়াবে, আমার মতোই”
তারপর ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,
–“হয়তো… আমার থেকেও ভয়ংকর হয়ে”
জনতার ঢলে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। যে মানুষগুলো একটু আগে তাকে ছিঁড়ে ফেলতে চাইছিল তারা এখন শুধু তাকিয়ে আছে। কারো মুখ থেকে টু শব্দটি বের হচ্ছে না। সোফিয়া ধীরে মাইকটাকে নামিয়ে তারপর হঠাৎ সে মাইকটা দূরে ছুড়ে ফেলে নিজে একাই নেমে পড়ে ।ইন্টারপোল অফিসাররা থমকে যায়। সে তাদের পাশ কাটিয়ে একাই হাঁটা শুরু করে। সোজা জনতার মাঝখান দিয়ে। কেউ তাকে ছোঁয় না, কেউ থামায় না। বরং মানুষগুলো সরে যায়। সোফিয়া ধীরে ধীরে গিয়ে দাঁড়ায় গাড়ির সামনে।
হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২৪
দুজন অফিসার দৌড়ে এসে দরজা খুলে দেয়। সে একবার থেমে পেছনে তাকায়। দৃষ্টি আটকায় সেই বিশাল জনতার দিকে। তার ঠোঁটে আবার সেই হাসি অদ্ভুত রহস্যময় হাসি ফুটে ওঠে। সে গাড়ির ভিতরে বসে পড়েতেই মুহূর্তেই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ইন্টারপোল অফিসার, সশস্ত্র গার্ড, নিরাপত্তা বলয়, উপরে হেলিকপ্টার। গাড়ির দরজা বন্ধ হয়। ধীরে ধীরে কালো কাচটাও উঠে যায়। গাড়ির কনভয় ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। পেছনে পড়ে থাকে
নিঃশব্দ জনতা আর এক অন্ধকার ইতিহাসের সমাপ্তি।
