Home অগ্নিশিখার অন্তরালে অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৪

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৪

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৪
YASH

ঝমঝম বৃষ্টির শব্দের মাঝেই ঘড়ির কাঁটা তখন রাত একটা ছুঁয়েছে। এতক্ষণ ধরে কিয়ারার ব্যাগের ভেতর নিরিবিলি এক কোণে পড়ে থাকা ফোনটাতে যে হাজারটা মিসড কল জমা হয়ে গেছে, সেদিকে ওর বিন্দুমাত্র নজর ছিল না। আবির মির্জা, ইনায়া, আদিল মির্জা থেকে শুরু করে ওর বান্ধবী রাহা সবাই।
এত বড় ঝামেলার মাঝে নিজের ফোনটার অস্তিত্বই ভুলে গিয়েছিল কিয়ারা। ঠিক তখনই বন্ধ দোকানের টিনের চালার নিচে কিয়ারার হাতব্যাগটা আচমকা, ভাইব্রেট করে উঠল ইয়াশ তখনো বাইরে ওই মুরুব্বি আর কাজি সাহেবের সাথে বিয়ের দেনমোহর আর পাওনা মেটানো নিয়ে কী একটা গুরুতর কথা বলছিল। সেই সুযোগে কিয়ারা চট করে ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে স্ক্রিনে তাকাল। নিজের পাপার নাম দেখামাত্রই ও এক সেকেন্ডও দেরি না করে রিসিভ করে কানে ধরল। ওপাশ থেকে আবির মির্জার অত্যন্ত চিন্তিত ও কাঁপা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, “মা? কই তুমি? এতক্ষণ ধরে ফোন ধরছ না কেন?”

কিয়ারা নিজের গলার কাঁপনটুকু চেপে, ইয়াশের দিকে এক নজর তাকিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বানিয়ে বানিয়ে বলল, “পাপা আমি রাহার বাড়িতেই আছি। আসলে বাইরে এত ঝড় শুরু হলো না? তাই ওর আম্মু আমাকে এই দুর্যোগের মধ্যে কিছুতেই একা ছাড়তে চাচ্ছিল না। জোরাজুরি করে রেখে দিল।”
আবির মির্জা ওপাশ থেকে এক বুক স্বস্তির শ্বাস ফেলে বললেন, “আচ্ছা, ভালো করেছ। এই ঝড়ে রাস্তায় বের হওয়ার কোনো দরকার নেই। সাবধানে থেকো ওখানেই। আমি কালকে সকালে ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দেবো তোমাকে নিয়ে আসার জন্য।”
কিয়ারা চোখের কোণের পানিটা শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে নিয়ে বলল, “শুদ্ধর কি খবর? কেমন আছে?”
আবির মির্জা বললেন “ভালো আছে ও হসপিটালে আমি এখনি বাসায় আসলাম, আবার ফরজের সময় যাবো, খেয়েছো মা?”
কিয়ারা বললো।”হ্যাঁ পাপা, তুমি খেয়েছো?”
আবির মির্জা ওপাশ থেকে মৃদু হেসে হ্যাঁ বলতেই কিয়ারা তড়িঘড়ি করে বলল, “আচ্ছা পাপা, আমি সকালে কথা বলব, রাখছি।”

ও আর এক সেকেন্ডও না ভেবে সাথে সাথে রাহাকে ডায়াল করল। ওপাশ থেকে রিং হতেই রাহা এক প্রকার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল, “ভাই! তুই কোথায় আছিস এখন? তুই জানিস তোর বড় চাচু আমাকে ফোন করেছিলেন? উনি বললেন তুই নাকি হসপিটালে যাসই নি! উনি আমাকে কড়া করে বলে দিলেন তোর পাপা যদি ফোন করে খোঁজ নেয়, আমি যেন ভুলেও সত্যিটা না বলি। আমি যেন বলি তুই আমার বাড়িতেই আছিস। আঙ্কেলের কথা শুনে আমি তোর বাবাকে ওটাই বলেছি যে তুই আমার কাছে ঘুমিয়ে পড়েছিস। ভাই… তুই সত্যি করে বল, তুই ঠিক আছিস তো? কোনো বিপদ হয়নি তো তোর?”

বাপির নামে এমন কথা শুনে কিয়ারার বুকের ভেতর কেমন করে উঠলো, বাপি ওকে নিয়ে চিন্তা করে না? কিয়ারার খুব খারাপ লাগলো কিন্তু তাও ও একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল, “শোন রাহা কালকে তোর বিয়ে, মনে আছে তো? নিজের শুভ দিনের কথা ভাব, আমার জন্য তোকে এত টেনশন করতে হবে না। আমি একদম ঠিক আছি ভাই। আমি কালকে সকাল সকাল তোর বিয়েতে গিয়ে হাজির হবো, তুই এখন সব চিন্তা বাদ দিয়ে চুপচাপ ঘুমা।”
রাহাকে শান্ত করে কিয়ারা এবার ডায়াল করল বড় বোন ইনায়ার নম্বরে। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই আটাশ ইনায়া কোনো হাই-হ্যালো না করে একদম জাঁদরেল উকিলের মতো একনাগাড়ে কথা শুনাতে লাগল, “কীরে কিয়ারা? তোর কি কোনো কাণ্ডজ্ঞান বলতে কিছু নেই? এই মাঝরাতে আমি এখন কার কাছে ঘুমাবো শুনি? তুই তোর বান্ধবীর আবদার রাখতে ওখানেই থেকে গেলি? কই, আমারও তো কত বান্ধবীর বিয়ে হয়, আমি কি এভাবে গিয়ে রাত কাটাই? আমি এখন তোকে ছাড়া একা ঘরে থাকবো কীভাবে? আমার তো একলা ঘুমই আসবে না”
ইনায়ার কথা গুলো শুনতে গিয়ে কিয়ারার কান গেল টিনের চালার বাইরে। বাইরে হুট করে বৃষ্টির শব্দের মাঝেই মানুষের জুতো আর জোরে কথা বলার শব্দ পাওয়া গেল। কাজি সাহেব আর মুরুব্বিরা বোধহয় খাতা-কলম গুছিয়ে ওদের দিকেই এগোচ্ছে। নিজের মস্ত বড় আইনি ফাঁদে পড়ার বিপদটা আঁচ করতে পেরে কিয়ারা ইনায়ার কথা মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল, “আপু… আচ্ছা শোন। আমি একটা ঝামেলার মধ্যে পড়েছি। মানে মস্ত বড় এক বিপদে পড়েছি! আমি তোকে ঠিক দুই মিনিট পর আবার কল দিচ্ছি। তুই প্লিজ ঘুমাস না, ফোনটা হাতের কাছেই রাখিস!”

কথাটা বলেই কিয়ারা ধড়ফড় করে কলটা কেটে দিয়ে চোরের মতো ইয়াশের দরজার দিকে তাকাল।
ঠিক তখনই টিনের নড়বড়ে দরজাটা ঠেলে ঘরের ভেতর ঢুকল ইয়াশ। ওর এক হাতে একটা প্লাস্টিকের থালা, আর তাতে অল্প কিছু খাবার-দাবার। বৃষ্টির ছাঁট লেগে ওর কালো শার্টটা তখনো ভেজা। ইয়াশ কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা এগিয়ে এলো বিছানার কাছে। থালাটা একপাশে রেখে বিছানার এক কোণে বসে কিয়ারার দিকে তাকাল। ওর সেই পাথরের মতো গম্ভীর মুখে কোনো নরম ভাব না এনেই নিজের ভারী গলায় ডাকল, “আমার কাছে এসো, মুরগির বাচ্চা।”

সন্ধ্যা থেকে এই ঝড়-ঝামেলার চক্করে পড়ে কিয়ারার পেটে এক দানা খাবারও পড়েনি। ক্ষিদের চোটে ওর ভেতরটা তখন রীতিমতো চুঁইচুঁই করছিল। তাই কোনো ত্যাড়ামি না করে, লাল শাড়ির কুঁচিটা এক হাতে চেপে ধরে ও গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে ইয়াশের মুখোমুখি বিছানায় বসল। ইয়াশ থালা থেকে একটু রুটি ছিড়ে তরকারিতে ডুবিয়ে কিয়ারার মুখের সামনে ধরল। কিয়ারাও বাধ্য মেয়ের মতো মুখ হা করে কামড় দিল।
ক্লান্তিতে কিয়ারার চোখ দুটো কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে, গাল দুটো শুকিয়ে চেরি ফলের মতো ছোট দেখাচ্ছে। নিজের বাটারফ্লাইয়ের এই পরিশ্রান্ত মুখটা খুব কাছ থেকে দেখে ইয়াশের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। ও নিজের ভেতরের সেই ব্যাকুলতাটুকু আড়াল করতে একটু কড়া গলায় ধমকে উঠে বলল, “তোর শরীরের এই অবস্থা কেন? খাবার খাস না ঠিকমতো?
কিয়ারা মুখে রুটি নিয়ে চিবোচ্ছিল, তাই হুট করে কোনো উত্তর দিতে পারল না। ও শুধু চোখ বড় বড় করে এই অদ্ভুত লোকটার কাণ্ড দেখছিল।

ইয়াশ কিয়ারার উত্তরের অপেক্ষা না করে আবার রুটি ওর মুখের সামনে ধরল। ও কিয়ারার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের ভেতরের জমানো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলল, “আমি তোকে ছোট রেখে গেলাম, আর এসে দেখছি তুই কতোটা বড় হয়ে গেছিস। তুই আমার পারমিশন না নিয়েই এত বড় হয়ে গেলি? তোর এত সাহস কোত্থেকে আসে বাটারফ্লাই? তুই কেনো আমার পারমিশন না নিয়েই বড় হয়ে গেলি বল?!”
রুটিটা গিলতেই কিয়ারা নিজের দুই চোখ ছোট ছোট করে এই আজব মানুষের দিকে তাকাল। ইয়াশের চোখ-মুখ তখন রাগে আর মাথায় থাকা স্নায়বিক ব্যথার চোটে একদম টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। কিয়ারা নিজের কপালে হাত দিয়ে এক প্রকার বিরক্ত হয়েই বলল, “মানে, আপনি কি পাগল-টাগল নাকি মিয়া? মানুষ কি সারাজীবন ছোট থাকে? আর আপনার পারমিশন কেন নিতে যাবো ? আমি কি আপনাকে চিনি নাকি যে আপনার পারমিশন নিয়ে আমাকে বড় হতে হবে?”

কিয়ারার এই ডাঁট মারা মুখের উত্তর শুনে ইয়াশ আর কিছু বলল না। ড্রাগসের রেশ কেটে যাওয়ার পর ওর মাথার ভেতরের পুরনো ব্যথাটা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, রগগুলো রিনরিন করে ছিঁড়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে তর্ক করার মতো শক্তি ওর শরীরে নেই। ও একদম চুপচাপ নিজের হাত দিয়ে থালার বাকি সবটুকু খাবার এক এক করে কিয়ারার মুখে তুলে দিতে লাগল। নিজের মুখে একটু খাবারও ও ছোঁয়াল না।
আসলে এই মফস্বল এলাকার এক মহিলা ইয়াশকে ভালো মনে এই খাবারটুকু দিয়ে গিয়েছিল। ইয়াশ চাইলে এক ফোন করে ওর গার্ডদের দিয়ে আনিয়ে নিতে পারত। কিন্তু ও ইচ্ছে করেই তা করেনি। ও চায়নি বাইরের কোনো বডিগার্ড এই মূহূর্তে ওদের এই বন্ধ ঘরের একান্তে এসে বিঘ্ন ঘটাক। ও এই গ্রামীণ আবহেই নিজের বাটারফ্লাইকে খাওয়াতে চাচ্ছিল।

থালার শেষ লোকমাটা মুখে পুরে দিয়ে ইয়াশ যখন পানির বোতলটা এগিয়ে দিল, তখন কিয়ারার মনটা নিজের অজান্তেই কেমন যেন নরম হয়ে গেল। লোকটা নিজে না খেয়ে পুরো খাবারটা ওকে খাইয়ে দিল? ও পানির বোতলটা হাতে নিয়ে মুখ ফস্কে বলেই ফেলল, “সব খাবার তো আমাকেই খাইয়ে দিলেন. আপনি নিজে কী খাবেন?”
ব্যাস, কিয়ারার মুখ ফস্কে বের হওয়া এই সাধারণ প্রশ্নটুকুতেই ইয়াশের পেটের সব ক্ষিদে যেন এক নিমেষে মিটে গেল। তার মুরগির বাচ্চা নিজে থেকে তার খাওয়ার খোঁজ নিয়েছে, এর চেয়ে বড় পাওনা ওর জীবনে আর কী-ই বা হতে পারে? ইয়াশের ভেতরের সব গম্ভীরতা আর জেদ এক মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না কিয়ারার গলার খাঁজে নিজের মুখটা গুঁজে দিলো
হুট করে এক অচেনা পুরুষের এমন আচমকা স্পর্শে কিয়ারা চমকে উঠে কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই ও থমকে গেল। ও অনুভব করল, ওর ঘাড়ে আর কাঁধের চামড়ায় কেমন যেন তীব্র গরম এক অনুভূতি হচ্ছে। প্রথমে ভাবল ইয়াশের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস, কিন্তু না! ইয়াশের চোখের তপ্ত জল টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে ওর ঘাড়ে। ইয়াশ কাঁদছে!

কিয়ারার বুকের ভেতরটা কেমন যেনো মোচড় দিয়ে উঠল। কেন জানি মনে হতে লাগল
এই মানুষটা ওর অনেক আপন, বড্ড চেনা! কিন্তু পরমুহূর্তেই নিজের মন বাধা দিল এই লোকটাকে তো ও চেনে না, তবে কেন এত চেনা লাগছে?
ঠিক তখনই কিয়ারা ইয়াশের শরীরের অস্বাভাবিক তাপমাত্রাটা টের পেল। লোকটার সারা গায়ে তখন প্রচণ্ড জ্বর এসেছে। তপ্ত চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। তার ওপর টিনের চালের ফুটো দিয়ে তখনো এক-আধবার বৃষ্টির ঠাণ্ডা পানি ওদের ওপর এসে পড়ছে। এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিজে ভিজে, কিয়ারাকে বাঁচাতে গিয়েই ইয়াশের শরীরের এই জরাজীর্ণ অবস্থা হয়েছে। কিয়ারা এই মুহূর্তে ঠিক কী করবে, কিছুই বুঝতে পারল না। ইয়াশ নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে কিয়ারাকে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কিয়ারা এবার আর ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা করল না, একদম শান্ত হয়ে রইল। ইয়াশ ওর কাঁধের ওপর মুখ রেখেই অত্যন্ত ভাঙা, অভিমানী আর ভারী গলায় ফিসফিস করে বলল, “তুই… তুই আমাকে কী করে ভুলে গেলি বাটারফ্লাই?”
কিয়ারা স্তব্ধ হয়ে রইল। কী উত্তর দেবে ও এই প্রশ্নের? ইয়াশ এক বুক হাহাকার নিয়ে আবার আওড়াল, “অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজিও হয়ে গেলি? একটা বারের জন্যও মনে পড়ল না আমাকে?”
কানাঘুষো করা বৃষ্টির শব্দের মাঝে কিয়ারার বুকের ভেতরটা তখন তীব্রভাবে ধড়ফড় করছিল। এ কেমন অদ্ভুত অনুভূতি? এই অচেনা মানুষটার কান্নায় ওর নিজের বুকের ভেতর এত কষ্ট হচ্ছে কেন? কেন চারপাশটা এত খারাপ লাগছে?

ইয়াশ যেন নিজের সমস্ত একাকীত্ব আজ উগরে দিতে চাইল। ও ধরা গলায় বলল, “এই দুনিয়ায় আমাকে কেউ ভালোবাসে না বাটারফ্লাই… আমার নিজের বলতে কেউ নেই। তুইও শেষমেশ আমার সাথে বেইমানি করলি?”
কিয়ারা কিছু বলার বা সান্ত্বনা দেওয়ার সুযোগটুকুও পেল না। ইয়াশ নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি হারিয়ে অবশ হয়ে বিছানার ওপর ধপ করে শুয়ে পড়ল। প্রচণ্ড জ্বরের ঘোরে ওর চোখ দুটো বুজে এসেছে। কিয়ারা তাকিয়ে দেখল, ইয়াশের শার্টটা বৃষ্টির পানিতে একদম লেপ্টে আছে, যা এই জ্বরের মধ্যে রাখলে নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে। নিজের সহজাত মানবিকতা আর বিবেকের তাগিদে কিয়ারা আর এক সেকেন্ডও দ্বিধা করল না। ও কাঁপতে থাকা হাত বাড়িয়ে ইয়াশের ভেজা শার্টের বোতামগুলো এক এক করে খুলে পুরো শার্টটা গা থেকে সরিয়ে দিল। লজ্জায় ও নিজের চোখ দুটো এক বারের জন্যও ইয়াশের উন্মুক্ত ফর্সা শরীরের দিকে তাকাল না, মাথাটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে ও কোনোমতে শার্টটা একপাশে রেখে দিল।

এইদিকে…
বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় দিয়ে মসজিদের সেই চশমা পরা মুরুব্বি নিজের ফোনটা কানে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই উনি বেশ বিনীত গলায় বললেন, “কী অবস্থা আদিল স্যার? কাজ তো আপনি যেভাবে বলছিলেন, ওইভাবেই হইছে। দুইডার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।”
আদিল মির্জা এক বুক স্বস্তির শ্বাস ফেললেন। এক বিজয়ী হাসি ফুটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “সব ঠিকঠাক তো? ইয়াশ কোনো ঝামেলা করে নাই তো?”
কাজি সাহেব নিজের চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে আমতা আমতা করে বললেন, “হ্যাঁ স্যার, সব ঠিকই আছে। কিন্তু… আপনার পোলাডা অনেক ঠোঁটকাটা! মুখের উপর এমুন সব কথা কয়, হুনলে শরমে কান লাল হইয়া যায়।”
ছেলের স্বভাব খুব ভালো করেই জানা আছে আদিল মির্জার। ওপাশ থেকে ওনার গম্ভীর গলার মস্ত বড় এক হাসির আওয়াজ ভেসে এলো, “হাহা! ও এমনই রগচটা।”

ঠিক তখনই কাজি সাহেবের পাশ থেকে সেই চড় খাওয়া অটোওয়ালাটা গালে হাত দিয়ে ব্যথায় ককিয়ে উঠে ফোনের লাউডস্পিকারের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “আরে আদিল স্যার! আপনার পোলা তো আমারে বিনা দোষে ঠাস ঠাস কইরা দুই গালে দুইটা থাপ্পড় বসাইয়া দিছে! মুখ তো এক্কেবারে গ্যাংগ্রিন বানাইয়া দিছে স্যার!”
আদিল মির্জা ওপাশ থেকে বিন্দুমাত্র সমবেদনা না দেখিয়ে বরফশীতল শান্ত গলায় জবাব দিলেন, “খুব ভালো করছে। ওর সামনে ত্যাড়ামি করলে ও এমনই করবে।”

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৩

কথাটা বলেই আদিল মির্জা লাইনটা কেটে দিলেন। তিনি মনে মনে খুশি যে, যে ছেলেকে পনেরো বছর ধরে দেশে ফেরানো যাচ্ছিল না, সে আজ নিজেই নিজের বাটারফ্লাইকে নিজের খাঁচায় বন্দি করে ফেলেছে।

অগ্নিশিখার অন্তরালে পর্ব ১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here