অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ৪
সাজিয়া জাহান সুবহা
রাতের আকাশে জ্বলজ্বল করতে থাকা তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে এক প্রশান্তির শ্বাস ফেললো নাজরাত। শীতল বাতাসে শীতল হয়ে উঠলো তার মন। তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে পূনরায় তাকালো নিজের হাতের দিকে। বা হাতের অনামিকা আঙুলে জ্বলজ্বল করছে সিম্পল ডিজাইনের ডায়মন্ড রিংটা। সেটা দেখা মাত্রই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুঠে উঠলো তার। মনে পড়ে সেই মুহূর্তটার কথা….
সাদিফের সাথে কথা বলে ছাদ থেকে নামার পর দুজনকে একই সোফায় বসতে হয়েছিলো। ড্রইংরুম ভর্তি মানুষগুলোর সামনে একই সোফায় সাদিফের পাশাপাশি বসে থাকতে ভীষণ অস্বস্তি লাগছিলো নাজরাতের। যদিও দুজনের মাঝে এক হাত দূরত্ব ছিলো। তবুই অদ্ভুত অনুভূতিতে গা কাটা দিচ্ছিলো তার। এসব কারসাজি ছিলো সাদিফের ভাবি নামক মানুষটার। সাদিফের মা,বাবা,ভাবি তিনজন মিলে অল্প কিছু গোপন আলাপ করে সাদিফের দিকে একটা বক্স এগিয়ে দিলো তার মা। সেটা হাতে নিয়ে সাদিফ হাত বাড়ালো নাজরাতের দিকে। নিম্ন কন্ঠে অনুমতি চেয়ে বললো — মে আই??
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
কোনোরূপ বাক্য ছাড়াই হাত এগিয়ে দিয়েছিলো নাজরাত। খুব সন্তর্পণে তার অনামিকা আঙুলে সিম্পল ডিজাইনের ডায়মন্ড রিংটা পরিয়ে দিয়েছিলো সাদিফ। এই সুন্দর মুহূর্তটা ক্যামেরা বন্ধি রাখলো সাদিফের ভাবি। একে একে দুই পরিবারের সবাই মিষ্টিমুখ করলো। হাসি আনন্দের মাঝে কেটে গেলো আরো অল্প কিছু মুহূর্ত। সবাই যখন নিজেদের মাঝে ব্যস্ত তখনই নাজরাত শুনতে পেলো তার কানে কাছে সাদিফের কন্ঠ। সে ফিসফিসিয়ে বললো
“কংগ্রেচুলেশনস”
নাজরাত লজ্জা পেলো। দুহাতে খামছে ধরলো নিজের পরণের শাড়ির অংশ। তার মিনিট খানিক পরেই বিদায় নিয়েছিলো সাদিফ এবং তার পরিবার।
মুহূর্তগুলো ভাবতে ভাবতেই রাত পার করে দিলো নাজরাত। কাল বন্ধুদের একশো এক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে তাকে। ফোন সুইচফ করে রেখেছে সন্ধ্যা থেকে। আপাতত বন্ধুদের বকবকানি শুনার মুডে নেই সে। যা হবার কাল হবে।
মাঠের এককোনায় বেড়ে উঠা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে সিমেন্ট দ্বারা বাধানো গোল জায়গাটাই গম্ভীরমুখ করে বসে রয়েছে নুহাশ, ফায়াজ, আয়ান ও তোহা। আর মিনিট পরেই ক্লাস শুরু হবে অথচ নাজরাতের আসার কোনো নাম গন্ধ নেই। সায়েরীকে নিয়ে আপাতত মাথাব্যথা নেই কারো। কারণ ওই ঘুমকাতুরে মেয়েটা বরাবরই লেট করে। নাজরাতের সাথে কাল যোগাযোগ করতে না পেরে ভেতরে ভেতরে ফ্রাসটেশন হচ্ছে সকলের। সারাটা রাত ঘুম হয়নি তাদের। ছেলেপক্ষ কি বলেছে তা না জেনে। সাফ্রিনের কাছ থেকেও বিশেষ কিছু জানা সম্ভব হয়নি। কারণ সে নিজেই কাল হতে নেটওয়ার্কের বাইরে। গেইট দিকে ঢুকা মাত্রই বন্ধুদের দেখতে পেলো নাজরাত। সে জানে এখন সেদিকে পা বাড়ানো মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। তাই চুপিচুপি ক্লাসের দিকে এগোতে থাকলো সে। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারলো না সে। ধরা পড়ে গেলো নুহাশের জাসুসি নজরে। নাজরাতকে দেখা মাত্রই কাধে ব্যাগ উঠিয়ে সৈন্যদের উদ্দ্যেশ করে চেঁচিয়ে উঠলো নুহাশ,
‘ আক্রম…ণণণণ!!!!!!!!! ‘
নুহাশের বলতে দেরী কিন্তু সৈন্যদের আক্রমণ করতে দেরি হলো না। ব্যাগ কাধে নিয়ে সবাই তেড়ে আসলো নাজরাতের দিকে। অমনি উল্টো পথে দৌড় লাগালো নাজরাত। মনে মনে যত দোয়া আছে সব পড়ে ফেললো এক নিঃশ্বাসে। আজ যে তার রক্ষা নেই সেটা জানা হয়ে গিয়েছে তার। গেইট দিয়ে সবে বের হতেই নিচ্ছিলো তখনই মরার উপর ক্ষরা হয়ে সামনে পড়লো সায়েরী। আর যাওয়ার পথ না পেয়ে হার মেনে নিলো নাজরাত। নুহাশরাও এসে হাপাতে লাগলো।
‘ জীবনে এই প্রথম একটা ভালো কাজ করছস তুই দোস্ত। এই মুহূর্তে যদি তুই না আসতি তবে অলিম্পিক রেসে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলতাম আমি। বাঁচিয়ে দিলি অলিম্পিয়ন্দের মান সম্মান। ‘
সায়েরী নুহাশের কথায় পাত্তা না দিয়ে বললো,
‘ তোর রেস তোর কাছেই রাখ। আপাতত এই হবে হবে নববধূটার খবর নিতে দে আমাকে। ‘
নাজরাত ভড়কে গেলো সকলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে। বললো,
‘ এ…মন ক..রে তাকাচ্ছিস কেনো আজব!! ‘
সায়েরী দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
‘ কেনো তুমি জানো না তুমি কি করেছো? হারামি, সন্ধ্যার পর থেকে সবাই অনলাইনে ওয়েট করছিলাম তোর জন্য। কিন্তু তুই তো মনে হয় বাতাসের সাথে চলে গিয়েছিলি সাদিফ ভাইয়ের পিছু পিছু। কত্তোবার ফোন দিয়েছি জানিস তুই!! ফুপিকে যখন রাতে ফোন দিলাম বললো নবাবজাদী রুমে থেকে বেরই হচ্ছে না। আর ফুপিকে কি বলেছিলি….কল ব্যাক করবি আমাকে। ওই কই তোর কল ব্যাক হুহ! বান্দরনি তোর কল ব্যাক করার আশায় আশায় আমি কতো রাত করে ঘুমিয়েছি জানিস তুই?? নিজে ফিটফাট হয়ে সকাল সকাল নাচতে নাচতে কলেজে এসে হাজির হয়েছে। অথচ আমার ঘুম হারাম করে ছেড়েছে। ইচ্ছে তো করছে তোকে…….
আয়ান দ্রুত সায়েরীকে সামলে নিয়ে বললো,
‘ ব্যাস ব্যাস ব্যাস আর এগোতে হবে না বইন। এবার একটু শ্বাস নে। বাচ্চাদের এতো হাইপার হতে হয়না। ‘
সায়েরী চোখ পাকিয়ে তাকালো।
‘ কি বললি তুই!! ‘
তোহা বলে উঠলো,
‘ কাজটা কিন্তু একদম ভালো করিসনি নাজরাত। আমরা কতো টেনশনে ছিলাম জানিস! ভাবলাম দু পরিবারের বনিবনা হতে কোনো ব্যাঘাত আসলো কিনা…পছন্দ অপছন্দ… কত্তো কিছু মাথায় ঘুরছিলো আর তুই!! ‘
‘ সরি দোস্ত! আমি জানতাম তোরা এসব জানতে চাইবি। আর মোবাইলে এতো কথা বলার মুডে ছিলাম না তাই অফ করে রেখেছিলাম মোবাইল। ‘
নুহাশ ফুঁসে উঠলো।
‘ দেশ দুনিয়া উদ্ধার করে ফেলেছেন একেবারে। হীরার নুবেল ছুড়ে ফেলতে মন চাইতেছে আমার। ‘
নাজরাত ভাব নিয়ে জবাব দিলো,
‘ চাইলে একটা হীরার নুবেল ছুড়ে ফেলতেই পারিস। তবে না ফেললেও প্রবলেম নেই। অলরেডি হীরার মালিক হয়ে গিয়েছি আমি….টান টা নাআআ ন!!! ‘
রিং পরিহিত হাতখানা সকলে দৃষ্টিগোচর হতে আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলো সবাই। তোহা ও সায়েরী লাফিয়ে উঠে জড়িয়ে ধরলো নাজরাতকে। সাথে যোগ দিলো ছেলেরাও। সকলে একত্র হয়ে গ্রুপ হাগ করলো।
নুহাশ ছটফট বলে উঠলো,
‘ এবার বল, ট্রিট দিচ্ছিস কবে? ‘
‘ আমি….. ‘
নাজরাতের কথায় পাত্তা না দিয়ে নুহাশ বলে উঠলো,
‘ আরে এখন না এখন না। আমরা জানি খুশিতে তুই রেস্টুরেন্ট আমাদের নামে লেখে দিতে রাজী। কিন্তু ওই দলিল দিয়ে আমার কাজ নেই। আপাতত ভরপেট খাওয়াইলে হবে যাহ!! লাঞ্চ টাইমে রেডি রাখিস তোর ক্যাশ,ক্রেডিট,বিকাশ। আমি আবার প্রচুর দরদী তাই বেশি কিছু চাইলাম না। এতুটুকু দিলেই হবে। ‘
নাজরাত দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
‘ তোরে লাঞ্চ না লঞ্চ থেকে লাত্থি মেরে পানিতে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে আমার। জীবনে প্রথম কোনো ছেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আর তুই কি করলি!! হারামজাদা, সুনামের নামে সুনামির মতো ঝড় তুলে দিলি উনার সামনে আমার। দাড়া তুই, তোরে আমি…….. ‘
নাজরাত তেড়ে আসছিলো নুহাশের দিকে এমন সময় বেল বেজে উঠলো। সময় নষ্ট না করে ক্লাসের দিকে এগুলো সবাই। যেতে যেতে দুহাত তুলে মোনাজাত করলো নুহাশ।
‘ আল্লাহ!! এই যাত্রায় তো বেঁচে গেলাম। আগামী যাত্রাতে ও রক্ষা কইরো। আমি আমার জন্য বলছি না। আমার কিছু হয়ে গেলে আমার বউটারে কে বিয়ে করবো বলো তো!! যদি বিয়েই না হয় তবে এই পৃথিবীতে এক দল ফুলবল টিম লগিন হতে পিছিয়ে পড়বে। তুমি কি দুনিয়াতে এই অবিচার মেনে নিবে বলো!! তাই বলছি….যা বলছি আমার বউ বাচ্চার জন্য বলছি। এই দিনরাত থুক্কু নাজরাতের কু-নজর, বদ নজর, শকুনি নজর, শাকচুন্নি নজর হতে আমাকে বাঁচায় দিয়ো আল্লাহ। আমিইইইইইইন। ‘
যথারীতি ৩টা ক্লাস শেষ করে রিহার্সালের জন্য বেরিয়ে পড়লো তোহা ও সায়েরী। ক্লাসে বোরিং ফিল করাই বাকিরাও রুমের বাইরে একজায়গায় বসলো আড্ডা জমাতে। ক্লাসে ঢুকে ডানে বামে তাকালো না সায়েরী। চুপচাপ গিয়ে দাড়ালো মিহাদের সামনে।
‘ আরে বাহ! পার্টনার তো দেখি খুব পানচুয়াল! আই লাইক ইট। দাঁড়িয়ে কেনো, বসো বসো। ‘
‘ ধন্যবাদ ভাইয়া। গান সিলেক্ট করা আছে শুনলাম। চলুন শুরু করি। ‘
‘ হ্যাঁ তুমি গিয়ে গিটার টা নিয়ে এ…..আচ্ছা আমিই আনছি। ‘
মিহাদের গমন পথের দিকে চোখ দিতেই না চাইতেও সাফওয়ানের উপর চোখ আবদ্ধ হলো সায়েরীর। ডীপ গ্রীন শার্টে বেশ সুন্দর লাগছে তাকে। হাতা ফোল্ড করা রাখায় লোমযুক্ত হাতজোড়া বেশ আকর্ষণ করছে। বরাবরের মতোই গম্ভীরমুখে গিটার কোলে নিয়ে তার উপর পেপার রেখে কিছু একটা আঁকিবুঁকি করছে সে।
‘ সাফওয়ান ইজ সো অ্যাক্ট্রাকটিভ না?? ‘
চমকে উঠলো সায়েরী। নীতিকে হাসতে দেখে থমথম খেয়ে গেলো সে।
‘ কেমন আছো আপু? ‘
‘ আরে আমাকে ছাড়ো। ওদিকে এতো কি দেখছিলে হুম?? ‘
‘ দেখছিলাম তোমার খচ্ছর বন্ধুকে। প্রথম দিনেই আমার সব ইম্প্রেশন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। দেখছিলাম আজ কি করার পরিকল্পনা করছে সে। ‘
‘ যা হয়েছে ভুলে যাও। সাফওয়ান কিন্তু ততোটা ও খারাপ না যতোটা তুমি ভাবো। ‘
‘ ঠিক বলেছো। তোমার বন্ধু আমার ভাবনার চেয়েও অধিক খারাপ। ‘
‘ না তুমি…….. ‘
নীতি’র কথা শেষ হওয়ার আগে মিহাদ চলে আসলো। নীতি’কে দেখে বললো,
‘ এই নীতি প্রীতি আমার পার্টনারের সাথে তোর কি কাজ রে। যা তোর প্রেমিকের কাছে। দেখ কেমন পাঙ্গাশ মাছের মতো করে তাকিয়ে আছে তোর দিকে। যা যা বেচারা কে একটু অক্সিজেন দিয়ে আয়। তুই পাশে না থাকলে সে এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়।,
মিহাদ ও সায়েরী একসঙ্গে হেসে উঠলো। নীতি রাগী চোখে তাকালো মিহাদের দিকে। কিন্তু লাভ বিশেষ হলো না। মিহাদ ইশারায় দেখালো দূর থেকে রায়ান তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। নীতি তেড়ে গেলো রায়ানের দিকে। মাথায় চাপড় মারলো বেশ জোরে। মুখ চুপসে গেলো রায়ানের। তাদের কান্ড দেখে আবারো উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো মিহাদ ও সায়েরী।
‘ মিহাদ!!!!! ‘
সাফওয়ানের হঠাৎ ধমক শুনে ভয়ে চমকে উঠলো সায়েরী। মনে মনে বললো, “ঘুমন্ত বাঘ জেগে উঠেছে। এবার আর থামবে না গর্জন।”
সাফওয়ানের এক ডাকেই নিরবতা ছেয়ে গেলো চারিদিকে। মিহাদ গিটারে সুর তুলে সায়েরীর সাথে একই সুরে গান গেয়ে উঠলো। পিনপিন নিরবতার মাঝে খুব মধুর শুনালো দুজনের কন্ঠ। রুমের বাইরে ভিতরে সকলের দৃষ্টিগোচর হলো তারা দুজন। সম্পূর্ণ গান চোখ বুজে গাইলো সায়েরী। গান শেষে চোখ মেলতেই নজর পড়লো রুমের বাইরে অবস্থারত বন্ধুদের উপর। সায়েরীর চোখে চোখ পড়তেই মিষ্টি হাসি উপহার দিলো সবাই। ফায়াজ হাতের ইশারায় বুঝালো ভীষণ ভালো হয়েছে। হাসলো সায়েরী। কিন্তু রুমের কর্ণারে চেয়ারে বসে থাকা সাফওয়ানের দিকে চোখ পড়তেই হাসি মিলিয়ে গেলো তার। যেখানে রুমের প্রতিটা মানুষ নিজের রিহার্সাল ফেলে মিহাদ আর সায়েরীর গান শুনতে বেশি আগ্রহী। সেখানে এই মানুষটা এখনো গম্ভীরমুখে নিজ মনে লিখালিখি করছে। তার এটেনশন না পেয়ে কোনো যায় আসলো না সায়েরীর। তবে মনে মনে আফসোস হলো, না জানি এই ছেলেটার ভবিষ্যত কোন অভাগীর সাথে লিখা! এই লোকটার মাঝে আবেগ অনুভূতি নামক কোনো ফোল্ডার নেই। এই ছেলের বউয়ের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারে ঘেরা তা যেনো এখন থেকেই আবাস পাচ্ছে সায়েরী।
ফোন বেজে উঠতেই জানলার কাছে দাড়িয়ে কথা বলতে লাগলো সাফওয়ান। সবাই নিজেদের কাজে মন দিলো।
‘ সাফওয়ান! ওহ…আই মিসড ইউ সোওও মাচ!! ‘
আচমকা ঝড়ের গতিতে এসে সাফওয়ানের বাহুতে ঢলে পড়লো ইপ্সিতা। সাফওয়ানের সাথে সাথে উপস্থিত সকলেই চমকে উঠলো ইপ্সিতার এমন কান্ডে। ব্যাপারখানা বোধগম্য হতেই এক ঝটকায় নিজের কাছ থেকে ইপ্সিতাকে ছাড়িয়ে নিলো সাফওয়ান। শক্ত কন্ঠে শাসিয়ে উঠলো তাকে।
‘ হোয়াট ইজ দিজ বিহেভিয়ার ইপ্সিতা!! হাজার বার বলেছি আমার সাথে এই ধরনের আচারণ করবে না। ডোন্ট ইউ গেট ইট?? ‘
লাইট ব্লু টপস সাথে টাইট জিন্স পড়া ধবধবে ফর্সা মেয়েটার উপর সাফওয়ানের কথার কোনো প্রভাব পড়লো কিনা জানা নেই। সে তার পিঠে ছড়িয়ে থাকা চুলের কিছু অংশ আঙুলে পেছিয়ে ন্যাকামি করে বললো,
‘ সো সরি! আসলে টু উইকস পরে তোমাকে দেখে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। ইউ নো না হাউ মাচ আ….. ‘
‘ জাস্ট শাট আপ!!ডোন্ট ক্রস ইউর লিমিটস ইপ্সিতা। ‘
সাফওয়ানের ধমক শুনেই মুখ চুপসে গেলো ইপ্সিতার। আরো কিছু বলতে নিচ্ছিলো কিন্তু তার আগেই বিরক্ত মুখ নিয়ে রুম ত্যাগ করলো সাফওয়ান। ইপ্সিতার গোমড়া মুখখানা দেখে মুখ টিপে হাসতে লাগলো সবাই। কিন্তু প্রকাশ্য কিছু বললো না কেউ। সায়েরীর পাশে থাকা মিহাদ,নীতি, রায়ান ও জিমন নিজেদের মাঝে হাসাহাসি করতে লাগলো ইপ্সিতার ন্যাকামি কান্ডগুলো নিয়ে।
মিহাদ বললো, ‘ ওহ বেইবি!! আই মিসড ইউ সোওও মাচ!! ‘
জিমন তাল মিলিয়ে বলে উঠলো,
‘ তুমি আমার ফোন কেনো রিসিভ করো নি বলো তো। তুমি জানো না তোমার সাথে কথা না বললে আমার ঘুম হয়না। ‘
নীতি সাফওয়ানের মতো করে জবাব দিলো,
‘ শাট আপ ইপ্সিতা। তোমার মাঝে কি কোনো সেল্ফ রেসপেক্ট নেই! কতোবার বলেছি আমার সাথে এই ধরনের আচরণ করবে না। আমি মোটেও তোমাকে নিয়ে এমন কিছু কখনো ভাবিনি না ভাবতে চাই।,
রায়ান ইপ্সিতাকে কপি করে বললো,
‘ বাট আই লাভ ইউ না!! তুমি কেনো মানতে চাইছো না বলোতো! কি নেই আমার মাঝে?? ‘
রায়ানের কথা শুনে নীতি হঠাৎ রাগী কন্ঠে বলে উঠলো,
‘ ওই তুই এই শাকচুন্নি টারে হুবহু নকল করলি ক্যামনে? এতো গভীর মনযোগ কে দিতে বলেছে তোকে? ‘
নীতির হঠাৎ পরিবর্তনে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো রায়ান সহ বাকিরা। এজন্যই বলে মেয়ে মানুষদের বেশি নাড়তে নেই। একবার তাদের মাথার তার উল্টে গেলেই হলো।
জিমন বললো,
‘ বাদ দে তোর প্রেমিকা গিরি। এই ড্রামাকুইন টা কবে সাফওয়ানের কাছ থেকে সরবে সেটা বল। ‘
‘ তোর মনে হয় এতো তাড়াতাড়ি সরবে? জানিস না আঙ্কেল (সাফওয়ানের বাবা) আর ইপ্সিতার বাবার কতো গভীর বন্ধুত্ব। বড়লোক্স বাপের ওয়েন অ্যান্ড অনলি প্রিন্সেস। সেই থেকেই তো লাই পেয়ে পেয়ে মাথায় উঠে নাচছে এই পেত্নী। ‘
মিহাদ নীতির কাঁধে হাত রেখে বললো,
‘ যাই বলিস না কেনো। ক্যাম্পাসের মোস্ট বিউটিফুল মেয়েদের মধ্যে এই সো কল্ড পেত্নীটাই টপ লেভেলে আছে। সি ইজ সো স্টানিং ইয়ার!! ‘
জিহান বাঁকা নজরে তাকালো মিহাদের দিকে। বললো,
‘ মনে রঙ লেগেছে মনে হচ্ছে!! ‘
মিহাদ চোখ টিপ দিয়ে বললো,
‘ লাগলে ক্ষতি কি? সিঙ্গেল মনে সবই লাগা জায়েজ আছে। ওয়েট…. হেই ইপ্সি!! ‘
হাত নেড়ে ইপ্সিতাকে ইশারা করে তার দিকে এগিয়ে গেলো মিহাদ। সেদিকে তাকিয়ে হতাশ শ্বাস ফেললো বাকিরা। আবারো নিজ নিজ কাজে ফিরে গেলো সকলে। গিটার কোলে নিয়ে টুংটাং শব্দ তুলে মিহাদের অপেক্ষায় বসে রইলো সায়েরী। ফাঁকে ফাঁকে অবজার্ভ করতে লাগলো ইপ্সিতাকে। মিহাদের কথাটা ভুল নই একেবারে। প্রায় পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি মতো লম্বা মেদহীন শরীরে আধুনিকতার ছোঁয়া ইপ্সিতার। চুলগুলো ছোট ছোট করে কেটে কাঁধের খানিক নিচ অবধি ছড়িয়ে রাখা। ফর্সা মুখশ্রী, টানা টানা দুটি চোখ। এমন একটা মেয়েকেই মানাবে সাফওয়ানের মতো সুদর্শন ছেলের সাথে। কিন্তু ওই সাফওয়ান নামক মানুষটা কেমন রসকষ বিহীন। সামনে থেকে এতো সুন্দর একটা মেয়ে তাকে গ্রীন সিগনাল দিচ্ছে কতো আগে থেকেই। অথচ এই ছেলে যেনো এসব গায়েই মাখছে না। উফফ্!! এই মানুষটাকে বুঝার কারোরই সাধ্য নেই। অযথা কেনো তাকে নিয়ে ভেবে নিজের মন মেজাজ খারাপ করছি! নিজেই নিজেকে শাসিয়ে সাফওয়ানের চিন্তা ঝেড়ে ফেলে গান মিলাতে মনযোগী হলো সায়েরী। দূর থেকে তাকে দেখে নিত্যদিনের মতো নিজের মনকে প্রশান্তি দিতে লাগলো কেউ একজন। যা সায়েরী কখনো জানতে পারেনি। হয়তো জানতে পারবেও না। কিংবা যেদিন সায়েরীকে জানাবে সেদিন সেই মানুষটা অনেক দেরী করে ফেলবে নিজের অনুভূতি প্রকাশে!!
কলেজ শেষে যে যার পথে রওনা দিলো। নাজরাত ও তোহা কিছু পথ একসাথে আসার পর তোহা বিদায় জানিয়ে চলে গেলো অন্য পথে। আনমনে হাটতে হাটতেই হঠাৎ থমকে গেলো নাজরাত। পরপর কয়েকবার চোখের পলক ঝাপটে সামনে তাকালো। নাহ!! ভুল দেখছে না সে। রাস্তার পাশে গাছের ছায়াতলে সাদা রঙের গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে সাদিফ। একহাত পকেটে গুজে অন্যটা দিয়ে ফোন স্ক্রল করছে সে। নাজরাতের দিকে চোখ পড়তেই মিষ্টি হাসি উপহার দিলো সে। যেটা দেখে ফাঁকা ঢোক গিললো নাজরাত। এমনিতেই প্রথম দেখাতে এই ছেলেটার উপর লাড্ডু হয়ে আছে সে। তারউপর এই হাসি!! ফোন পকেটে ঢুকিয়ে এগিয়ে আসলো সাদিফ।
— অবশেষে ক্লাস শেষ হলো আপনার!
— আপনি হঠাৎ!!
— গাড়িতে বসুন তারপর বলছি। বাইরে ভীষণ গরম।
নাজরাত লক্ষ্য করলো সাদিফ কপাল,ঘাড় ঘেমে-নেয়ে একাকার। এই গরমে এতোক্ষণ যাবত কি এখানে দাড়িয়ে নাজরাতের অপেক্ষায় ছিলো সে!! সাদিফের ডাকে হুশ ফিরলো নাজরাতের। বিনা কথায় এগিয়ে গেলো গাড়ির দিকে। সাদিফ নিজে দরজা খুলে দিলো বসার জন্য। নাজরাত বসতেই দরজা লাগিয়ে নিজে গিয়ে বসলো ড্রাইভিং সিটে। গাড়ি চলতে লাগলো নিজ গন্তব্যে।
— বলেননি তো, হঠাৎ এভাবে দেখা করতে আসলেন কেনো?
— কেনো আসতে কি বারন রয়েছে??
— ন..নাহ! মানে না জানিয়ে এভাবে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে আছেন। তাই জানতে চাইলাম!
— সারাজীবন ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে অন্যকিছুতে ফোকাস করতেই পারিনি। আর কিছুদিন পরেই তো আমার নামের পাশ থেকে সিঙ্গেল শব্দটা চিরতরে মুছে যাবে। তাই ভাবলাম…অবিবাহিত থাকা অবস্থায় একটু প্রেম করবো।
সাদিফের কথাটা শুনে বিষম খেলো নাজরাত। চোখজোড়া ইয়া বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো সাদিফের দিকে। নাজরাতের এমন চাহনি দেখে মৃদু শব্দে হেসে উঠলো সাদিফ। আস্বস্ত গলায় বললো—
— চিল! আ’ম জাস্ট কিডিং।
সাদিফের এমন হাস্যজ্জ্বল রূপ দেখে অবাক হলো নাজরাত। সে ভেবেছিলো সাদিফ গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু এখন দেখছে পুরোটাই তার কল্পনার বিপরীত। ভালোই হলো। সে নিজেও এতো সহজে কারো সাথে মিশে যেতে পারে না। সময় লাগে বেশ। এই যেমন সাদিফ নামক মানুষটাকে প্রথম দেখাতে ভীষণ মনে ধরেছে তার। তাকে নিয়ে বন্ধুদের সাথে কতো কথা বলেছে। কিন্তু যতোবারই সাদিফের সামনে আসে অদ্ভুত অস্বস্তিতে গুটিয়ে যায় যে। সাদিফের সাথে সহজ হয়ে আসতে আরো অনেক সময় লাগবে তার। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে জানলার দিকে মুখ করে বসে নাজরাত। ড্রাইভিং করার ফাঁকে ফাঁকে নাজরাতের দিকে তাকায় সাদিফ। দমকা হাওয়ার চোখে মুখে উড়ছে নাজরাতের ছোট ছোট চুল। চোখ বুজে সে উপভোগ করছে মুক্ত বাতাসগুলোকে। এই সামান্য মুহূর্তটা খুব বিশেষ বলে মনে হতে লাগলো সাদিফের। কারণ হিসেবে আছে তার পাশে অবস্থানরত এই মেয়েটি। মেয়েটি নিজেও জানে না সাদিফের মনে ঠিক কতোটা জুড়ে তার বসবাস!!
— আইস্ক্রিম খাবেন??
সাদিফের হঠাৎ প্রশ্নে চমকে উঠে নাজরাত। পূণরায় একই প্রশ্ন করলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো নাজরাত। তাকে গাড়িতে বসতে বলেই বেড়িয়ে পড়লো সাদিফ। আইস্ক্রিম পার্লার থেকে একটি ভ্যানিলা ও একটি চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম নিয়ে ফিরে আসলো।
— সরি! আমার জানা নেই আপনি কোন ফ্লেভারের আইসক্রিম খেতে পছন্দ করেন। মেয়েরা নরমালি চকলেট বেশি পছন্দ করে সো..
— থ্যাংক ইউ। চকলেট ফ্লেভার আমার খুব পছন্দ।
— মাই প্লেজার!
আইস্ক্রিম খেতে খেতে আবারো প্রশ্ন করলো নাজরাত।
— আপনি কি আইস্ক্রিম খাওয়াতে নিয়ে এসেছেন আমাকে? না অন্য কিছু বলার ছিলো??
— বলার ছিলো অবশ্য। তবে সেটা এখন নয়। ফেরার সময় বলবো।তবে আমি কিছু জানতে চাই আপনার কাছে।
— কি??
সাদিফ ফিরে তাকালো। সরাসরি দৃষ্টি গাঁথলো নাজরাতের চোখে। হঠাৎ এমন চাহনিতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেলো নাজরাত। খুব ধীর গলায় সাদিফ বললো—
— যদিও আপনার সাথে আমার কথা হয়েছিলো বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে। এখন ধরতে গেলে আপনি আমার বাগদত্তা। কিন্তু আপনাকে পুরোপুরি নিজের সাথে জড়ানোর আগে আমি আবারো জানতে চাইছি….আপনার কি কোনো সংশয়, কোনো দ্বিধা আছে এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে?
নাজরাত নিশ্চুপ। মাথা নিচু করে হাত কচলে যাচ্ছে সে অনবরত। তার নিরবতা ক্ষণে ক্ষণে বিষিয়ে তুলতে লাগলো সাদিফকে।
— নাজরাত! আপনি কি কোনো কিছু নিয়ে ভয় পাচ্ছেন? দেখুন পরিবার নিয়ে ভাবতে হবে না। ওসব আমি সামলে নিবো। কিন্তু আগে আপনি নিজের মতামত টুকু আমাকে জানিয়ে দিন। আমি চাইনা কোনোরূপ সংশয় নিয়ে নতুন কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে। আপনাকে আমার হতে হলে পুরোটা আমারই হতে হবে। না থাকতে পারবে কোনো দ্বিধা, না কোনো অন্য অস্তিত্ব আপনার মাঝে। আপনাকে ঘিরে যা থাকবে তা হলো শুধু এবং শুধুই আমার সত্তা। আপনাকে সম্পূর্ণরূপে আমার হতে হবে।
আগের মতোই নিরব রইলো নাজরাত। যেটা দেখে তপ্ত শ্বাস ফেললো সাদিফ। অথচ সে জানলোই না তার বলা প্রতিটা বাক্য কতোটা গভীরে গিয়ে দাগ কেটেছে নাজরাতের মনের। অতি আবেগে কথা বলতেই যেনো ভুলে গেলো সে। তার প্রতিক্রিয়া না দেখে মনক্ষুন্ন হলো সাদিফের। মলিন কন্ঠে বললো—
— সব নিরবতা সম্মতির লক্ষণ হয়না নাজরাত। আপনার আজকের নিরবতাকে আমি আমাদের গল্পের উপসংহার বলে ধরে নিলাম।
গাড়ি চলতে লাগলো নিজ গন্তব্যে। অথচ গাড়িতে অবস্থানরত দুই মানব মানবী পাশাপাশি থেকেও যেনো যোজন যোজন দূরত্ব তাদের মাঝে। নাজরাতের বাড়ির অনেকটা কাছাকাছি এসে গাড়ি থামালো সাদিফ। গেইটে গাড়ি থামালে অনেকেরই চোখে পড়বে তাই বাড়ি থেকে খানিক দূরে গাড়ি থামালো সে। তার মনে তখনো অল্প আশার আলো জ্বলছিলো নাজরাতের মুখ থেকে পজিটিভ কিছু শুনার। কিন্তু সেই আশায় বালি ছিটিয়ে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগলো। মুখ চুপসে গেলো সাদিফের। গাড়ির দরজা খুলে হঠাৎ পিছন ফিরে তাকালো নাজরাত। চোখ রাখলো সরাসরি সাদিফের চোখে। শান্ত কন্ঠে বললো—
— গল্পের সূচনাতেই উপসংহার শব্দটা ভীষণ বেমানান লাগে। আমি আপনার গল্পে উপসংহার অবধি থাকতে চায়। কিন্তু সূচনার পরে কখনো উপসংহার থাকে না জানেন তো! সূচনা আর উপসংহারের মধ্যবর্তী স্থানগুলো যে আপনাকে আর আমাকে ছাড়া ছন্নছাড়া হয়ে পড়বে! তাই আমি চাই আপনার গল্পের সূচনা থেকে শুরু করে প্রতি কদমে পাশাপাশি চলতে। দুজন মিলে একটি সুন্দর উপসংহার গড়তে!!
এক নিঃশ্বাসে সব কথা বলে বেরিয়ে গেলো নাজরাত। বুকের ভিতরটা এখনো ডিপডিপ করছে তার। এমন দুঃসাহসিক কাজ কিভাবে করে ফেললো সে!!
— নাজরাত!!!
সাদিফের ডাকে থমকে দাঁড়ায় নাজরাত। উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে আসলো সাদিফ। নাজরাতের কথাগুলো শুনে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো সে। যখন হুশ হলো তখন ইতিমধ্যে বেরিয়ে পড়েছিলো নাজরাত। নাজরাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সন্তুষ্টির হাসি হাসলো সাদিফ। যেটা দেখে লজ্জা পেলো নাজরাত।
— ধন্যবাদ আমাকে সুযোগটা দেওয়ার জন্য। যাইহোক, জানতে চেয়েছিলেন না কেনো হঠাৎ দেখা করতে এসেছি?
—হুম।
হুট করেই নাজরাতের দুহাত নিজের দুহাতের মাঝে আবদ্ধ করে ফেললো সাদিফ। চমকে উঠলো নাজরাত। সাদিফের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ পেয়ে কেঁপে উঠলো তার শরীর।
— ক…কি ক..করছেন আ…পনি!! রাস্তায় আ…আমরা কে..কেউ দেখে ফে..ফেলবে!!
— হুশ! হোল্ড অন অ্যা মিনিট।
নাজরাতের কথায় পাত্তা না দিয়ে তার দুহাতের কব্জি নিজের দুই হাতের মাঝে নিয়ে বেশ মনযোগ নিয়ে কিছু আয়ত্ত করলো সাদিফ। মিনিট পার হতেই হাত ছেড়ে দিলো সে। ভদ্র ছেলের মতো দুহাত পকেটে গুটিয়ে বললো—
— পারমিশন না নেওয়ার জন্য দুঃখিত। মা বলেছিলো তার বউমার হাতের সাইজ জেনে নিতে। তাই জেনে নিলাম।
চোখ ছোট ছোট করে সাদিফের দিকে তাকালো নাজরাত। এই লোকটাকে যতোটা নম্র, ভদ্র ভেবেছিলো ততোটাও না। বজ্জাত আছে কিছুটা। নাজরাতকে এভাবে তাকাতে দেখে বাঁকা হাসি দিলো সাদিফ। বেশ অনেককটা কাছাকাছি এসে নাজরাতের দিকে খানিক ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বললো —
অনুভূতি সব তোমায় ঘিরে পর্ব ৩
— বি প্রিপেয়ার্ড ফর ফ্রাইডে নাইট মিস নাজরাত। গোলাপ ফুলের মিষ্টি সুবাসের সাথে আপনাকে আমার করার আয়োজন শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার কিছুটা স্বার্থপর হয়ে আপনিও নিজেকে আমার সাথে জড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন!!
