অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২২
শ্রাবণী ইয়াসমিন
রুমের ভেতর লালচে আলোয় আনায়ার উন্মুক্ত দেহ যেন ঝিকমিক করতে লাগলো যা জেভিয়ার কে চুম্বকের মত টানছে। তবে টানলে কি হবে, সে চেয়েও কিছু করতে পারছে না তার হাত যে বন্ধ। আর এই ব্যবস্থা সে নিজেই করেছে। তবে সে কি জানতো নাকি এই মেয়ে তাকে এইভাবে ভোগান্তিতে ফেলবে।
জেভিয়ার আবারও আনায়ার চোখের দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক যেন সে বিষয়টাকে বেশ উপভোগ করছে। জেভিয়ার শান্ত চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে, “তোমার খুলতে হবে না। নিজেই খুলে নিচ্ছি তবে এর শাস্তি হবে যন্ত্রণা দায়ক। আমাকে এতক্ষণ ভোগান্তির জন্য তোমাকে আমি সারারাত ভোগাবো।”
জেভিয়ার হঠাৎই হ্যান্ডকাফের লোহার বাঁধনে ঝাঁকুনি দিতে শুরু করল। প্রথমে ধীরে হলেও তারপর ক্রমশ উন্মাদনার মত জোরে জোরে ঝাকাতে লাগলো।
ধারালো লোহার প্রান্ত তার কব্জির চামড়া কেটে ফেলল, র*ক্ত গড়িয়ে পড়ছে খাটের চাদরে। কিন্তু যেন কিছুই টের পাচ্ছে না সে। ব্যথার বদলে তার চোখে জ্বলছে এক অদ্ভুত উন্মাদনা।
প্রতিটি আঘাতে হেডবোর্ড কেঁপে উঠছে। কাঠের অংশে কটকট শব্দ, যেন যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে। আনায়া নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে।
র*ক্তাক্ত কব্জি নিয়েও জেভিয়ারের একটাই লক্ষ্য শিকল ছিঁড়ে তাকে ছুঁতে হবে। তার গলা থেকে ফিসফিসি করে বেরিয়ে এলো,
“কতটা ভয়ংকর হতে পারি, তা আজ তোমাকে দেখাবো, লাভবার্ড।
হেডবোর্ডের একপাশ ইতিমধ্যেই নড়বড়ে হয়ে গেছে, যেন সামান্য ধাক্কাতেই খুলে যাবে। প্রতিবার ঝাঁকুনির সাথে কাঠের ভেতর থেকে কটকটে শব্দ বেরোচ্ছে।
আনায়ার চোখ হঠাৎ র*ক্তের ফোঁটা দেখতে পেয়ে আতঙ্কে বড় হয়ে গেল। কণ্ঠ কেঁপে উঠল, “থামো, রক্ত বেরোচ্ছে জেভিয়ার!”
জেভিয়ার ঠান্ডা অথচ কাঁপন ধরানো গলায় বলল,
“এর চেয়েও ভয়ংকর রক্তক্ষরণ আমার ভেতরে হচ্ছে।”
আনায়ার বুক ধড়ফড় করে উঠল। সে কাঁপা গলায় বলল,
“থামো! আমি… আমি খুলে দিচ্ছি।”
জেভিয়ারের ঠোঁট বাঁকা হলো এক হিংস্র হাসিতে।
“প্রয়োজন নেই… আমার হয়ে গেছে।”
এ কথা বলেই সে হঠাৎ প্রচণ্ড জোরে হাত টেনে মারল। মুহূর্তেই হেডবোর্ডের কাঠ ফেটে গিয়ে একপাশের অংশ ভেঙে খুলে পড়ল। র*ক্তমাখা হাত মুক্ত হলো শিকল থেকে, কিন্তু তার চোখে তখনও এক অদ্ভুত উন্মাদ ঝিলিক।
আনায়ার চোখ বিস্ফারিত হয়ে রইল জেভিয়ারের দিকে। র*ক্তমাখা কাঠ ভেঙে বেরিয়ে আসা সেই মুহূর্তটা তার কাছে অবিশ্বাস্য যেন কোনো দুঃস্বপ্ন হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে ঠোঁটে এক বাঁকা হাসি টেনে আনল। র*ক্তে ভেজা হ্যান্ডকাফওয়ালা হাত ওপরে তুলে মুহূর্তেই ঝাপটে ধরল আনায়াকে। এত দ্রুত, যে আনায়া সামলানোর সুযোগই পেল না।
আনায়া বুঝে গেল, এবার সে সত্যিই ধরা পড়েছে।
আনায়ার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। আজ সে শেষ।
জেভিয়ার আনায়াকে ধরে সরাসরি খাটের উপর ফেলে দিল। আধা ভরে তার ওপর বসে, তার শরীরের তাপ আর ওজন এমন একভাবে চাপ ফেলছে যে আনায়া নড়তে পারছে না।
হ্যান্ডকাফে বন্দি হাতের দিকে জেভিয়ার দৃষ্টি স্থির। ধীরে ধীরে সে আনায়ার হাত ধরল, শক্তভাবে, যেন কোনো পালাবার চেষ্টা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। জোর করে আনায়ার হাত থেকে চাবি ছিনিয়ে নিল।
চাবিটা হাতের মধ্যে থাকতেই সে তা মুখের কাছে টেনে নিয়ে গেল। নিঃশ্বাস থেমে গেল আনায়ার। জেভিয়ার ঠোঁট দিয়ে চাবি প্রবাহিত হল হ্যান্ডকাফের লক পর্যন্ত, এবং তুচ্ছ এক টানেই হ্যান্ডকাফের শিকল ছিঁড়ে খুলে গেল।
আনায়া এখন পুরোপুরি অসহায়, আর জেভিয়ার চোখে ঝিলিক এক ধরণের উন্মাদ তৃপ্তি, যে শুধুই নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির আনন্দ।
হালকা টান দিয়ে আনায়ার হাত ধরে সে আরও কাছে চলে এলো। জেভিয়ার ঠোঁটের বাঁকা হাসি আরও গভীর হলো।
আনায়ার চোখ বড় হয়ে গেল। হৃদয়ের ধড়ফড়ানো, রক্তের উষ্ণতা, এবং জেভিয়ারের কাছাকাছি আসার সাথে সাথেই অদ্ভুত এক উত্তেজনা ভয় আর আকর্ষণের মিশ্রণ।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে তার হাত ছোঁয়ায় আনায়ার শরীরে এক টানাপোড়েনের ঝোঁক তৈরি হলো। সে হালকা কাঁপল, কিন্তু একসাথে মনে হলো এই ভয়ের মধ্যেও যেন অদ্ভুত আকর্ষণ আছে। জেভিয়ার কণ্ঠে ফিসফিস—
“তোমার বডির প্রতিটা ইঞ্চির দহন আজ আমি মেটাবো।”
জেভিয়ার এর এমন গভীর কন্ঠ শুনে আমায়ার ছোট্ট দেহ টা কেপে ওঠে। আনায়া একটা ঢোক গিলে জেভিয়ার কে বলে, “ম….মানে?” জেভিয়ার আনায়ার কোমল উদরে চোখ নামিয়ে আনে।
সে এক দৃষ্টিতে আনায়ার নাভিকূপ এর দিকে তাকিয়ে থেকে সেইখানে ঝুকে ঠোঁট চেপে ধরে। তার শেভিং করা গালের হালকা খোচাখোচা দাড়ি আনায়ার পেটে বিধতে থাকে।
আনায়া চোখ খিচে বন্ধ করে ফেলে। সে জেভিয়ার কে এখন সরাতেও পারবে না। কারণ তার দুটো হাতই এখন জেভিয়ার এর হাতের মুষ্ঠিতে বন্দি। জেভিয়ার আনায়ার নাভিতে জিভ ছোয়ায়। আনায়ার শরীরের লোমকূপ যেন দাড়িয়ে পড়ে।
জেভিয়ার জিভ দিয়ে আনায়ার শরীরে খেলা করতে করতে বুকের মাঝে চলে আসে। আনায়া এখনো চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। তার ভালোলাগার পাশাপাশি অদ্ভুত ওক উন্মাদনা কাজ করছে। জেভিয়ার আনায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে, “ওপেন ইওর আইস, লাভবার্ড।”
আনায়া চোখ পিটপিট করে তাকায় সাথে সাথে। তার চোখের কোণা হালকা লালচে হয়ে আসছে। বুক দ্রুত গতিতে ওঠানামা করছে। জেভিয়ার কিছুক্ষণ আনায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকেই আনায়ার বুকের উচু স্তম্ভে মুখ গুজে দেয়।
আনায়ার চোখ বন্ধ হয়ে আসতে চায়। তবে কোনো এক অদ্ভুত কারণে সেও জেভিয়ার এর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন জেভিয়ার এর করা কাজগুলো সে বিশেষ ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জেভিয়ার আনায়ার হাত ছেড়ে দিয়ে এক হাত আনায়ার বুকে এবং আরেক হাত আনায়ার পায়ের মাঝে নিয়ে যায়। আনায়া চোখ বড় বড় করে ফেলে। সে মুখে কিছু বলতে চায় তবে তার আগেই জেভিয়ার তার ঠোঁট নিজের ঠোঁটে পুড়ে নেয়।
জেভিয়ার এর হাতের আঙুলের গতি বাড়তেই আনায়া ব্যাথায় কাকিয়ে ওঠে। আনায়া চোখ মুখ কুচকে বলে, “আহ্ জেভিয়ার লাগছে আমার!
জেভিয়ার আনায়ার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলে, ” লাগার জন্যই তো দিচ্ছি। সিংহ খাচামুক্ত হয়েছে এখন। এমনি এমনি শিকার ছেড়ে দিবে নাকি! আর আমি আগেই বলেছিলাম।যদি বাধন নিজের খুলতে হয় তাহলে কিছুদিন দাড়ানোর সক্ষমতা হারাবে তুমি।”
এই বলেই সে নিজেই আনায়ার পায়ের কাছে চলে আসে। সে আনায়ার পায়ের মাঝে ঝুকে আসতেই আনায়া পেছনে চলে যায়। জেভিয়ার বিরক্তিতে চ জাতীয় শব্দ উচ্চারণ করে। এরপর পা ধরেই টান দিয়ে আবার বিছানায় ফেলে দেয়। আনায়া অসহায় কণ্ঠে বলে, “নো প্লিজ জেভিয়ার।”
জেভিয়ার আনায়ার কোনো কথা পরোয়া না করেই আনায়ার পায়ের মাঝে মুখ গুজে দেয়।
আনায়া নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ বুজে নেয়। নিজের অজান্তেই জেভিয়ার মাথার চুল চেপে ধরে। জেভিয়ার এর উন্মাদনা যেন দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সে আনায়ার পাতলা কোমরের দুপাশ নিজের দুহাত দিতে চেপে ধরে আরও তার কাছে নামিয়ে আনে।
তবে কিছুক্ষণ পর হঠাৎই জেভিয়ার সোজা হয়ে বসে পড়ে এরপর আনায়ার দিকে তাকিয়ে ভ্রু উভিয়ে বলে,
” ঘুমিয়ে যাও। আজ এইটুকুই থাক।”
আনায়া ফ্যাল ফ্যাল করে একবার নিজের দিকে তো একবার আনায়ার দিকে তাকায়। জেভিয়ার আনায়ার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বিছানা থেকে নামতে নামতে বলে, “কি হয়েছে?তাকিয়ে আছো কেন এইভাবে?”
আনায়া লজ্জায় গুটিয়ে আছে চেয়েও কিছু বলতে পারছে না। জেভিয়ার উঠে কিছুক্ষণ পর হাতে একটা ট্রে নিয়ে এসে আনায়ার সামনে রাখে। আনায়া ট্রে-র দিকে তাকায় তাতে গোল গোল বলের মত চকোলেট রাখা।
“দিস ইজ চেরি চকোলেট। স্পেশালি মেড বাই মি, জাস্ট অনলি ফর ইউ।” জেভিয়ার খুবই শান্ত কন্ঠে বলল।
আনায়া গায়ে চাদর জরানো অবস্থায় ট্রে টার দিকে সামান্য এগিয়ে যায়। জেভিয়ার একটা চকোলেট উঠিয়ে আনায়ার সামনে ধরে। বিনা বাক্যে আনায়া সেইটা মুখে পুড়ে নেয়। প্রথম কামড় দিয়েই আনায়া বুঝতে পারে এইটা চেরি ফলের ওপর চকোলেট এর মোটা করে প্রলেপ লাগানো তবে স্পেশাল কিছুই নেই।
আনায়া চকোলেট চিবাতে চিবাতে বলে, “এইটা তো শুধু চেরি ফলের ওপর চকোলেট লাগানো। তো এইটা তোমার বানানো হলো কি করে?” জেভিয়ার ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে, “আগে বলো চকোলেট টা কেমন?”
আনায়া বলে, ” ভালোই খেতে খারাপ না। তুমি ট্রাই করছো না কেন?” জেভিয়ার ধীর কন্ঠে বলে,
“আমি ট্রাই করলে তোমাকে আস্ত খুজে পাওয়া যাবে না।”
আনায়া ভাবুক চেহারায় বলে, “মানে?” জেভিয়ার কৌতুক কন্ঠে বলে, ” তুমি জানো এইটা কি চকোলেট খেলে?” আনায়া আরেকটা চকোলেট মুখে নিয়ে চিবাতে চিবাতে অকপটে জবাব দেয়, “নাহ। কিসের চকোলেট?”
জেভিয়ার নেশালো কন্ঠে জবাব দেয়, “হর্ণি হওয়ার চকোলেট এইটা। আজ তুমি খেলা দেখাবে আর আমি খেলা দেখবো।”
আনায়া বিস্ময়ে হা হয়ে চেয়ে থাকবে। সে একবার চকোলেট এর দিকে তাকাচ্ছে তো একবার জেভিয়ার এর দিকে তাকাচ্ছে। জেভিয়ার সেখান থেকে উঠে যেতেই আনায়া চকোলেট এর ট্রে টা পাশে রেখে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে। বলা তো যায় না চকোলেট খেয়ে সে যদি সত্যি পাগলামি শুরু করে দেয়?
রাত কত তা আনুমানিক ভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। হয়ত খুব বেশি রাত হয়নি। তবে রুম টা এত অন্ধকার কেন? আনায়া অদ্ভুত এক শিহরণে জেগে উঠেছে। সে জানে না তার এমন কেন লাগছে।
তার শরীরে উত্তাপ অনুভূত হচ্ছে। সে তার হাত পা কচলাতে শুরু করে। আনায়া গায়ে চাদর পেচিয়েই রুম থেকে বেরোয়। বাহিরে শীত হলে ঘরে তা বোঝার জো নেই। পাশেই রুমে টিমটিমে আলো জ্বলছে।
আনায়া সেই রুমের বাহিরে গিয়ে উঁকি দেয়। জেভিয়ার কাউচে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে ল্যাপটপ কোলে নিয়ে। তার শরীর উন্মুক্ত পেশিবহুল ইস্পাত-দৃঢ়।
ফিটিং বডি চিকন কোমর সব কেমন যেন আনায়ার শরীর কে আরও উত্তপ্ত করে দিচ্ছে। আনায়া ধীর পায়ে এগিয়ে যায় জেভিয়ার এর সামনে। তার চোখে মুখে নেশালো ভাব স্পষ্ট।
জেভিয়ার চোখ তুলে তাকিয়ে আনায়াকে দেখে ভ্রু কুচকে বলে, ” কি হয়েছে এইখানে এসেছো কেন?” আনায়া জেভিয়ার এর কাছ ঘেষে দাঁড়ায়। তার শরীর হাত পা শিরশির করছে। কিছুক্ষণ পর আনায়া জেভিয়ার এর কোল থেকে ল্যাপটপ টা সরিয়ে খাটের ওপর রেখে সে জেভিয়ার এর কোলে বসে পড়ে।
জেভিয়ার এখনো ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। আনায়া জেভিয়ার এর স্পর্ষের জন্য উতলা হয়ে যাচ্ছে। সে তার গায়ের চাদর সরিয়ে জেভিয়ার এর বুকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে।
আনায়ার উন্মুক্ত বুকের স্পর্শ জেভিয়ার এর বুকে এসে লাগে। জেভিয়ার একটা শুকনো ঢোক গিলে আনায়ার চিবুক ধরে তার মাথা উচু করে। আজ আনায়ার চোখে মুখে অন্যরকম এক আভা। মুখ লালচে হয়ে আছে তার।
আনায়া জেভিয়ার এর গলা জড়িয়ে ধরে বলে, “রুমে চলো।” জেভিয়ার নিজের হাসিটা আটকে রেখে গম্ভীর কণ্ঠেই বলে, ” কেন?”
আনায়া চোখ নামিয়ে বলে, ” চলো না, আমার আজ চাই।”
জেভিয়ার চোখ সরু করে বলে, ” কি চাই?”
আনায়া যেন আজ লজ্জার মাথা খেয়ে ফেলেছে। সে সরাসরি জেভিয়ার এর নিচে হাত দিয়ে ধরে বলে, “এইটা চাই আজ আমি।”
জেভিয়ার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, “আমার মুড নেই আজ।”
“আমি মুড বানিয়ে নিবো চলো না।”
জেভিয়ার যেন তার হাসি চেপে রাখতে পারছেনা। সে আনায়ার পিঠে স্লাইড করতে করতে বলে,
“ভেবেছিলাম আজ তোমায় উন্মাদ পাগল বানিয়ে দেবো একটু স্পর্ষের আশায়। যেমন টা আমি অনুভব করেছি তেমন টা তোমাকেও ফিল করাবো। কিন্তু তা আর হতে দিচ্ছো কই। সেই উন্মাদ তো আমাকেই আবার বানাচ্ছো।”
এই বলেই জেভিয়ার উঠে দাঁড়ায় আনায়াকে কোলে নিয়েই। আনায়া জেভিয়ার এর গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে। জেভিয়ার ওপর দিয়ে আনায়ার গায়ে চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়ে বাহিরে বেরোয় রুমে যাওয়ার জন্য।
আনায়া যেন আজ লজ্জার মাথা খেয়ে ফেলেছে। সে সরাসরি জেভিয়ার এর নিচে হাত দিয়ে ধরে বলে, “এইটা চাই আজ আমি।”
জেভিয়ার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, “আমার মুড নেই আজ।”
“আমি মুড বানিয়ে নিবো চলো না।”
জেভিয়ার যেন তার হাসি চেপে রাখতে পারছেনা। সে আনায়ার পিঠে স্লাইড করতে করতে বলে,
“ভেবেছিলাম আজ তোমায় উন্মাদ পাগল বানিয়ে দেবো একটু স্পর্ষের আশায়। যেমন টা আমি অনুভব করেছি তেমন টা তোমাকেও ফিল করাবো। কিন্তু তা আর হতে দিচ্ছো কই। সেই উন্মাদ তো আমাকেই আবার বানাচ্ছো।”
এই বলেই জেভিয়ার উঠে দাঁড়ায় আনায়াকে কোলে নিয়েই। আনায়া জেভিয়ার এর গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে। জেভিয়ার ওপর দিয়ে আনায়ার গায়ে চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়ে বাহিরে বেরোয় রুমে যাওয়ার জন্য।
রুমে গিয়েই জেভিয়ার আনায়াকে খাটে ফেলে সাথে সাথেই উন্মাদের মত তার ঠোঁট আকড়ে ধরে। আনায়া তার সাথে তাল মেলাতে সক্ষম হচ্ছে না। জেভিয়ার আনায়ার গলায় জিভ ছুইয়ে তার স্বাদ গ্রহণ করতে থাকে। ছোট ছোট বাইটে তার সম্পূর্ণ গলা বুক লালচে করে দেয়।
জেভিয়ার আবার আনায়ার পায়ে চুম্বন করতে করতে মাঝে চলে যায়। সেইখানে ঠোঁট ছোয়াতেই আনায়ার পেট মোচড় দিয়ে উঠে। তার পেটে অদ্ভুত রকম ভাবে মোচড়াচ্ছে। আনায়া ফিসফিস করে বলে, ” ওঠো জেভিয়ার, আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
জেভিয়ার মাথা তুলে তাকায় তার দিকে। বাকা হেসে বলে, “মেইন কাজে যাওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছো কেন বেইবি? আজ তুমি আমাকে পাগল করেছো। আর পাগলের পাগলামি সহ্য করবে না তা কি করে হয় বলো?”
আনায়া চোখ বুজে নেয়। জেভিয়ার আনায়াকে কোলে বসিয়ে তার মাঝে ডুবে যেতে থাকে। আনায়াও তার ভালোবাসার দেওয়া সুখ টুকু অনুভব করছে।
” মিস্টার এরিক্স ড্রেভেন, আপনি তো আমাকে আগে বলেননি যে জেভিয়ার আয়ানাকে বিয়ে করেছে।”
” আমিই বা জানতাম নাকি ওদের ভেতর কি হয়েছে?”
” আপনারা বোধহয় ডেভিড মার্সার কে চিনতে পারেননি। সমস্যা নেই আমি চিনিয়ে দিবো। এইবার খেলাটা হবে সমানে সমানে।”
অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ২১
এই বলেই ডেভিড ফোন কেটে দেয়। এরপর তার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কে ডেকে বলে,
” জেভিয়ার ড্রেভেন এর সাথে আমার যে কন্ট্র্যাক্ট হয়েছিলো সেই পেপার রেডি করো। স্পেশাল কাওকে গিফট পাঠাতে হবে।”
