অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ১৬
রিদিতা চৌধুরী
বক্সের ডালা খুলতেই ভেতরে রাখা বস্তুটির দিকে তাকিয়ে রিদির চোখের পলক যেন স্থির হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের জন্য সে রীতিমতো স্তব্ধ! তার মতো একজন পরিণত বয়সের মেয়েকে কি ভেবে তিনি এমন একটা উপহার দিলেন? সে কি ছোট বাচ্চা যে এখন তার টকিং টম নিয়ে খেলার বয়স আছে? রাগে রিদির শরীর রি রি করে উঠল। টকিং টম দিয়ে সে কী করবে? ঠিক তখনই তার নজর গেল বক্সের ভেতর রাখা রঙিন খামে মোড়ানো ছোট একটি চিরকুটের ওপর। কাঁপাকাঁপা হাতে সেটি খুলে দেখল, ছোট ছোট সুন্দর অক্ষরে লেখা:
“ইউ মিসেস হাপ ব্যাটারি আর্গুমেন্টেটিভ গার্ল, আই থিঙ্ক ইট ইজ দ্য বেস্ট গিফট ফর ইউ!”
ক্রোধে রিদির চেহারা যেন অগ্নিমূর্তি ধারণ করল। হাতে টকিং টমটি নিয়ে সে সোজা গিয়ে ঢুকল সৌহার্দ্যর রুমে। সৌহার্দ্য তখন ল্যাপটপে ভীষণ মনোযোগী। রিদির পায়ের আওয়াজ পেয়ে চোখ তুলে তাকাতেই সে দেখল রিদি ফণা তোলা সাপের মতো ফোসফোস করছে। বিরক্ত হয়েও সৌহার্দ্য শান্ত গলায় বলল, “হোয়াটস দ্য প্রবলেম? নাগিনের মতো এমন আচরণ করছো কেন?”
রিদি রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলল, “আপনি আমাকে এটা কেন দিয়েছেন? অসভ্য ডাক্তার!”
সৌহার্দ্য নির্বিকার ভঙ্গিতে ল্যাপটপে চোখ রেখেই বলল, “দুই দিনের জন্য তো আম্মুর মেয়ে হয়ে এসেছো, দুই দিন পর চলে যাবে। তখন কার সাথে মুখ চালাবে? ওখানে গিয়ে এটার সাথেই মুখ চালিও, স্টুপিড!”
এই কথা শুনে রিদির রাগ যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলল, “আপনি জীবনেও ভালো হবেন না, অসভ্য লোক একটা!”
সৌহার্দ্য এবার চরম বিরক্তি নিয়ে ল্যাপটপ থেকে মুখ তুলল। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলল, “স্টুপিড! ভালো না লাগলে ওটা বেবিদের জন্য রেখে দাও। বাট নাউ আই অ্যাম বিজি। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি। গেট আউট!”
সৌহার্দ্যর কথা শুনে রিদির মুখটা হাঁ হয়ে গেল। এই মানুষটা কি বলে এসব ? বিয়ের সম্পর্কটাকে সে মানে না, অথচ উল্টো বাচ্চাদের খেলনা রেখে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে! রিদি রাগে জ্বলে উঠলো। এই অসভ্য লোকের দ্বারা সবকিছুই সম্ভব! রিদি মনে মনে সৌহার্দ্য কে ইচ্ছেমতো গালিগালাজ করতে করতে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
রিদি চলে যেতেই সৌহার্দ্য একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, “স্টুপিড গার্ল!”
সকালের অ্যালার্মের মৃদু শব্দে রিদির ঘুম ভাঙল। শান্ত মনে ফজরের নামাজ শেষ করে সে চলে গেল বাড়ির ছাদে। এই বাড়িতে থাকাকালীন প্রতিদিনের রুটিন হিসেবে এই সময়টুকু তার ভীষণ প্রিয়। বাগানের গাছগুলোতে পরম মমতায় পানি দিতে দিতে রিদি একসময় ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়াল। আকাশটা আজ মেঘলা, ঘন কালো মেঘের আনাগোনা দেখে মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতিও আজ কিছুটা ভারাক্রান্ত। রিদি আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল—এই মেঘলা আকাশ, এই শীতল বাতাস যেন তার মনের ভেতরে জমে থাকা অস্থিরতাকেই যেন প্রতিফলিত করছে।
রিদি ছাদ থেকে নিচে নেমে রান্নাঘরে গিয়ে আমেনা খালাকে রান্নার প্রস্তুতি নিতে বলল। আজ শুক্রবার, বাড়ির পরিবেশটায় এক অদ্ভুত প্রশান্তি। নামাজের আগ পর্যন্ত বাড়ির পুরুষেরা কেউ বাইরে বের হন না, শুধু ব্যতিক্রম সৌহার্দ্য। ওর ব্যস্ত জীবনের কোনো নির্দিষ্ট রুটিন নেই; হসপিটালের জরুরি ওটি কিংবা সিরিয়াস কোনো রোগী—সব মিলিয়ে ওকে মুহূর্তেই ছুটতে হয়। রিদি ঠিক করল আজ খিচুড়ি আর গরুর মাংস ভুনা করবে। ঠান্ডার আমেজে ধোঁয়া ওঠা খাবারের ঘ্রাণে পুরো রান্নাঘরটা যেন প্রাণ ফিরে পেল।
রিদি যখন কাজে ব্যস্ত, তখন সাথী রান্না ঘরে ঢুকেই বকা দিয়ে বলল, “তুই এসব কী করছিস রিদি? তুই যা তো এখান থেকে! এতদিন পর এসেছিস, তুই কেন কষ্ট করবি? আমি আছি তো করে নিবো।”
রিদি আলতো করে হাসল। সাথীর কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বলল, “ভাবী, আজকে তুমি বরং একটু ছুটি নাও। আমি না থাকায় একা একা তো অনেক সামলেছ, আজ আমার হাতেই না হয় রান্না হোক। তুমি বরং বাচ্চাদের কাছে গিয়ে সময় কাটাও, আমি চলে গেলে তো আবার এসব তোমাকেই করতে হবে!” বলে অনেকটা জোরাজুরি করেই সে সাথীকে রান্নাঘর থেকে বের করে দিল।
রিদির মুখে ‘চলে যাওয়ার’ কথাটি শুনে সাথীর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। মেয়েটাকে নিজের বোনের মতোই ভালোবাসে সে। সৌহার্দ্যর জেদি স্বভাবের ওপর মাঝে মাঝে সাথীর ভীষণ রাগ হয়, কিন্তু সৌহার্দ্য তো সৌহার্দ্যই—কারোর কথায় সে বিন্দুমাত্র নড়চড় করে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাথী রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
সাথী চলে যেতেই রিভা এসে পেছন থেকে রিদিকে জড়িয়ে ধরল। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, “কী রান্না করছ ভাবী? গন্ধে তো পুরো বাড়ি ম ম করছে! সত্যি, তোমার হাতের রান্নার কোনো তুলনা হয় না।”
রিদি মিষ্টি হেসে রিভাকে সরিয়ে দিয়ে বলল, “হয়েছে, এখন তোষামোদ না করে আমাকে একটু সাহায্য কর তো!” বলে দুইজনে মিলে টেবিল সাজাতে সাজাতেই বাড়ির বাকি সবাই নিচে নেমে এল।
সারহান চৌধুরী রিদির মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে বললেন, “বাহ্! কতদিন পর আজ মায়ের হাতের রান্না খাব!” ওনার কথায় রিদির মুখে ফুটে উঠল এক চিলতে তৃপ্তির হাসি।
আরবান ডাইনিং টেবিলে বসেই খাবারের দিকে তাকিয়ে আহ্লাদিত হয়ে বলল, “ওহ রিদু বোন আমার! আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবারটা আজ রান্না করেছিস? অনেক ধন্যবাদ তোকে।” বলেই হাসিমুখে খেতে বসে গেছে!
কিন্তু সবার খাওয়ার মাঝেও রিদির চোখ বারবার সিঁড়ির পানে ছুটে যাচ্ছে। পুরো টেবিল জুড়ে সবাই শুধু সৌহার্দ্যই এখনো আসেনি।
সবার খাওয়া শেষ হতেই রিদি একটি প্লেটে গরম খিচুড়ি আর মাংস নিয়ে সৌহার্দ্যর রুমের দিকে পা বাড়াল। সৌহার্দ্য সাধারণত অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খুব একটা খায় না, তবুও এতদিন পর নিজের হাতে রান্না করেছে —এই ভেবে রিদির মনে এক অদ্ভুত আশা দানা বাঁধল হয়তো খাবে।
দরজা ঠেলে রিদি ভেতরে প্রবেশ করতেই থমকে গেল। এক মুহূর্তের জন্য যেন তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম! ঘরের ভেতর তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য। সৌহার্দ্য উন্মুক্ত গাত্রে, পরনে কেবল কোমরে জড়ানো একটি টাওয়াল, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরম নিস্পৃহতায় বডি স্প্রে করছে। পুরুষালী সেই দৃপ্ত দেহভঙ্গিমা দেখে রিদি লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেল। তড়িঘড়ি করে উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফিসফিস করে বলল, “অসভ্য লোক! গায়ে কিছু জড়ান তাড়াতাড়ি!”
রিদির কণ্ঠস্বর কানে যেতে সৌহার্দ্য স্থির হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে রিদিকে ওভাবে দেওয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কপালে বিরক্তিকর ভাঁজ ফেলল সে। আলমারি থেকে দ্রুত শার্ট বের করে গায়ে জড়াতে জড়াতে শীতল গলায় বলল, “কী চাই এখানে?”
রিদি নিজেকে সামলে নিয়ে একটু ঘুরে দাঁড়াল, কিন্তু চোখ তুলল না। আমতা আমতা করে বলল, “আপনার জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলাম। নিচে নামেননি তো, তাই…”
সৌহার্দ্য তখন হাতে ঘড়ি পরতে ব্যস্ত। রিদির দিকে না তাকিয়েই সে সোফার দিকে এগিয়ে গিয়ে বসল। খাবারের প্লেটটির দিকে এক পলক তাকিয়ে বিরক্তির সুরে বলল, “আমি এসব খাই না, তুমি জানো না?”
রিদি মনে মনে দমে গেল। কিছু না বলে প্লেট নিয়ে ফিরে যেতেই উদ্যত হলে, ঠিক তখনই সৌহার্দ্য গম্ভীর স্বরে বলল, “নিয়ে এসো।”
কথাটা কানে যেতেই রিদির হৃদপিণ্ডটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। মুখে কিছু না বললেও, ভেতরে ভেতরে সে এক অদ্ভুত আনন্দের জোয়ার অনুভব করল— তাকে পাত্তাই দেন না, তিনি অন্তত তার হাতের খাবারটা গ্রহণ করছেন!
রিদি ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সৌহার্দ্যর সামনে টেবিলের ওপর প্লেটটি রাখতে সৌহার্দ্য সোফায় হেলান দিয়ে বসে ভ্রু কুঁচকে বলল, “এগুলো খাওয়ার জন্য আমি এখন হাত নষ্ট করতে পারব না। খাওয়াতে ইচ্ছে হলে তুমিই খাইয়ে দাও।”
বলেই সে নাক-মুখ কুঁচকে নিল, যেন এটা তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর কোনো কিছু!
রিদির মনে মনে একটা ভেংচি কাটল। ‘অসভ্য লোক! সুন্দর করে বললেই তো হয়, শুধু নাটক!’ ওর এই চাপা বিরক্তি আর দ্বিধার মাঝেই সৌহার্দ্যর গমগমে স্বর ভেসে এল, “কী হলো? খাওয়াবে নাকি উঠে যাব? লেট হচ্ছে আমার, বের হতে হবে।”
রিদির হার্টবিট যেন মুহূর্তেই বেড়ে গেল। কাঁপা কাঁপা পায়ে গিয়ে বসল সৌহার্দ্যর পাশে। এই মানুষটার সান্নিধ্যে আসলেই কেন যে রিদির অনুভূতিগুলো ডানা মেলে উড়তে শুরু করে, তা সে নিজেও জানে না। প্রচণ্ড জড়তা আর কাঁপতে থাকা হাত নিয়ে সে এক লোকমা খিচুড়ি সৌহার্দ্যর মুখে তুলে ধরতেই রিদির এমন জড়তা দেখে সৌহার্দ্য হঠাৎ নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে রিদির কাঁপতে থাকা হাতটা আলতো করে টেনে নিল। সৌহার্দ্যর এমন হঠাৎ স্পর্শে রিদির পুরো শরীরে এক অদ্ভুত ঝংকার দিয়ে উঠলো কিন্তু সৌহার্দ্য সে দিকে পাত্তাই না দিয়ে তার হাতের সাহায্যেই রিদির বাড়ানো লোকমাটুকু মুখে পুরে নিলো, তাতে যেন রিদির লজ্জা আর আড়ষ্টতায় আরো কয়েক গুন বেড়ে গেল!
কোনোরকমে বাকি খাবারটুকু খাইয়ে দিয়ে রিদি যখন ঘর থেকে বের হতে যাবে, তখন আবার কিছু একটা ভেবে পিছন ফিরে মিনমিনে গলায় প্রশ্ন করে বলল, “কোথাও যাচ্ছেন?”
সৌহার্দ্য টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে খুব স্বাভাবিক বাধ্য ছেলের মত শান্ত গলায় উত্তর দিয়ে বলল, “হুম, একটু বের হবো।”
রিদি আমতা আমতা স্বরে, ইতস্তত বোধ করেই বলল, “বিকালের আগে… বাড়ি আসবেন না?”
সৌহার্দ্য ভ্রু কুঁচকে রিদির দিকে তাকায়ে রইল কিছুক্ষণ তারপর ওর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল, “কিছু বলবে?”
রিদি আমতা-আমতা করে বলল, “না, মানে… আমি বিকালে চলে যাব তো।” কথাটা বলে সে পলকহীন দৃষ্টিতে সৌহার্দ্যর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, কাঙ্খিত কোন উত্তরের আশায়।
সৌহার্দ্য কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর খুব শান্ত আর স্বাভাবিক স্বরে শুধু বলল, “ওকে।”
সৌহার্দ্যর মুখ থেকে উচ্চারিত এই ছোট্ট শব্দটা যেন রিদির বুকের ভেতরটা চিরে দিল। রিদির অবচেতন মন তীব্রভাবে চেয়েছিল, সৌহার্দ্য অন্তত একবার বলুক, ‘তুমি যেও না।’ তাহলে হয়তো আজ রিদি তার সব অভিমান আর জেদ ভুলে থেকে যেত। শুধু একটা কথার অপেক্ষায় সে এতক্ষণ ইনিয়ে-বিনিয়ে নিজের চলে যাওয়ার কথা বলছিল, যেন একবার সৌহার্দ্যর মুখ থেকে বের হয়, থেকে যাও, কিন্তু এই কঠিন হৃদয়হীন পুরুষ কিভাবে একটা ছোট শব্দে বুঝিয়ে দিলো সে চলে গেলে তার কোন সমস্যা নেই, রাগে অভিমানে বুকটা ফেটে যাচ্ছে,, কেন সে এমন একটা পুরুষকে ভালোবাসল যার কাছে সে মুল্যহীন? রিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টলমল চোখে একরাশ অভিমান বুকে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল!
রিদি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই সৌহার্দ্যর ধৈর্যের বাঁধ যেন ভেঙে গেল। রাগে ও ক্ষোভে সে নিজের পরনের শার্টটা খুলে দূরে ছুড়ে ফেলল। টেবিলের ওপর থাকা পানির গ্লাসটি সজোরে দেয়ালে আছড়ে ভেঙে চুরমার করে দিল সে। বিছানায় বসে দুহাতে নিজের চুলগুলো খামচে ধরল সৌহার্দ্য, যেন নিজের ভেতরকার এই অস্বাভাবিক, তীব্র অস্থিরতাকে কোনোমতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। চোখ দুটো আগুনের মতো রক্ত লাল হয়ে আছে! যেন এখুনি ফেটে রক্ত বের হবে! ইচ্ছে হচ্ছে সব ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিতে, হঠাৎ সৌহার্দ্য উঠে দাঁড়ালো, কার্বার্ড থেকে শার্ট প্যান্ট বের করে গায়ে জড়িয়ে নিজের অস্থিরতাকে প্রাধান্য না দিয়ে হাওয়ার বেগে বের হয়ে গেল!
দুপুর একটা বাজে বাড়ির পুরুষেরা সবাই মসজিদে জুমার নামাজে। রিদি দুপুরের রান্নার পাট চুকিয়ে গোসলের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পড়ল আরেক বিপাকে। আলমারি খুলে দেখল, তার পরার মতো কোনো জামা অবশিষ্ট নেই। চলে যাওয়ার সময় সে রাফ ইউজ করার সব জামা নিয়ে গিয়েছিল। যেগুলো বাকি আছে, সেগুলো কোনোভাবেই ঘরোয়া পরিবেশে পরার মতো নয়। হঠাৎ তার নজর পড়ল রায়েদা শেখের দেওয়া সেই দামী জামদানি শাড়িটার ওপর। অন্যগুলোর তুলনায় এটিই কিছুটা মানানসই মনে হলো। শাড়িটি নিয়ে বাথরুমে ঢুকে সে পড়ল আরেক বিপাকে—বাথরুমের কল দিয়ে এক ফোঁটা পানিও পড়ছে না! কলটা নষ্ট।
অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ১৫
উপায়ান্তর না দেখে রিদি ঠিক করল, সৌহার্দ্যর রুমে গিয়েই সে গোসলটা সেরে নেবে। সৌহার্দ্য এখন বাসায় নেই, যেহেতু বের হবে বলছে এখন বাড়ি ফিরার সম্ভাবনা নেই ,তাই নিশ্চিন্তে কাজটা করা যাবে ভেবে “সৌহার্দ্যর রুমের সাথে থাকা ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল।”
গোসল শেষে ভিজে চুলে রিদি যখন বের হয়ে এল, তখন শরীরজুড়ে এক শীতল সতেজতা। পরনে অগোছালো শাড়িটা ঠিক করে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার তোয়ালেটা খুলে চুলগুলো ঝাড়তে ঝাড়তে সে ঘাড় ফিরিয়ে পিছনে তাকাতে থমকে গেল……
