অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২
রিদিতা চৌধুরী
“হেই ঘোমটাওলি দেড় ব্যাটারি! দাঁড়াও…”
গমগমে পুরুষালি কণ্ঠের আচমকা আওয়াজটা কানে আসতেই রিদির পা দুটো যেন মেঝেতে লেপ্টে গেল। বুকটা ধক করে উঠল তার। থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। সৌহার্দ্য এক পা এক পা করে এগিয়ে এসে রিদির মুখোমুখি দাঁড়াল, তবে বজায় রাখল কিছুটা দূরত্ব। কপাল কুঁচকে, তীক্ষ্ণ চোখে রিদির আপাদমস্তক দেখে নিয়ে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
“সারভেন্ট?”
ঘোমটার নিচে রিদির ঠোঁটের কোণে একটা বিষাদময়, ব্যথাতুর হাসি ফুটে উঠল। নিজের বিবাহিত জীবনের প্রথম বার, নিজের বৈধ স্বামীর মুখ থেকে পাওয়া প্রথম উপাধিটা তবে ‘কাজের লোক’! বুকটা এক পলকের জন্য চাবুকের মতোন কেঁপে উঠলেও সে নিজেকে সামলে নিল। এই প্রথম স্বামীর বাড়িতে স্বামীর মুখ থেকে কিছু তো শুনলো—তাতে খুশি হওয়া উচিত নাকি ভাগ্যকে দোষ দিয়ে কাঁদা উচিত, তা রিদি বুঝে উঠতে পারল না। সে নিস্পৃহ, নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল।
নিজের প্রশ্নের কোনো উত্তর না পেয়ে সৌহার্দ্যর বিরক্তি আরও এক ধাপ বাড়ল। বেশ কিছুক্ষণ কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে সে খিটখিটে গলায় বলল,
“হেই গ্যাল, ডোন্ট ইউ নো হাউ টু টক?”
রিদি একটা শব্দ উচ্চারণ করল না। অহেতুক কথা বাড়িয়ে লাভ নেই আর সে এই লোকের সাথে কথা বলতে ও চায় না তাই সে যখন চলে যেতে উদ্যত হলো, সৌহার্দ্য পেছন থেকে আবার ডেকে উঠল,
“হেই ঘোমটাওলি দেড় ব্যাটারি! এক কাপ কফি নিয়ে এসো, উইদাউট সুগার।”
রিদি পেছনের দিকে না তাকিয়েই দুদিকে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটা দিল। আর সৌহার্দ্য ওর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল গভীর এক জোড়া কুঁচকানো ভ্রু নিয়ে। মেয়েটার আচরণে কেমন যেন একটা অদ্ভুত রহস্য আছে!
নিচে নামতেই ডাইনিং রুমের দিক থেকে রিমা চৌধুরীর চিলচিৎকার ভেসে এল। রিদিকে দেখেই তিনি খেঁকিয়ে উঠলেন,
“বাহ রে নবাবজাদী! আজকে দেখছি সাপের পাঁচ পা দেখছ? তা জামাই তো গোনেও না, আসি মাত্রই ডিভোর্সের কাগজ ধরায় দিচ্ছে, তবুও এত তেল কেমনে আসে?”
রিমা চৌধুরী হলেন সারহান চৌধুরীর ছোট ভাই সারবান চৌধুরীর স্ত্রী। ভীষণ খিটখিটে আর কুটিল স্বভাবের এই মহিলা শুরু থেকেই রিদিতাকে দুচোখে সহ্য করতে পারেন না। এতগুলো কটু কথার জবাবেও রিদি কোনো প্রত্যুত্তর করল না। প্রতিবাদ করার ভাষা সে হারিয়ে ফেলেছে বহু আগেই। এই বাড়িতে একটা জড়বস্তুর মতো, কিংবা একটা অবৈতনিক কাজের মেয়ের মতো থাকাটাই এখন তার নিয়তি। একা একটা মেয়ে মানুষ এই সমাজের কিছু হায়নাদের কাছে নিরাপদ না বলেই মুখ বুজে পড়ে থাকা!
সে চুপচাপ রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একটু পরেই বাড়ির সবাই একে একে ঘুম থেকে উঠে পড়বে, তার আগেই সব কাজ শেষ করতে হবে। নয়তো আজ মেডিকেল কলেজের ক্লাস মিস হয়ে যাবে। এই বাড়ির বড় বউ, অর্থাৎ রিদির শাশুড়ি শাহেদা চৌধুরী বেশির ভাগ সময়ই অসুস্থ থাকেন। তীব্র ডায়াবেটিসের কারণে শরীরটা বেশ ভারী হয়ে গেছে, চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তাই তিনি সংসারের এই কাদা-ছোড়াছুড়ির মধ্যে থাকেন না। আর সেই সুযোগেই পুরো বাড়ির ওপর রাজত্ব চালান রিমা চৌধুরী।
রিদি যখন আপনমনে রুটি বেলছিল, ঠিক তখন রান্নাঘরে ঢুকল সাথী। সাথী হলো রিমা বেগমের পুত্রবধূ, আরহান চৌধুরীর স্ত্রী। তবে শাশুড়ির মতো সে কুটিল নয়, বরং অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের শান্ত, মায়াবী একটা মেয়ে। রিদিকে সে নিজের আপন বোনের মতোই ভালোবাসে।
সাথী মুখে একটা ম্লান হাসি টেনে বলল, “আজকে একটু দেরি হয়ে গেল রে রিদি। সবাই উঠে পড়ছে প্রায়। তোর কতদূর হলো? চল, ভাজিটা আমি করে ফেলি।”
রুটি বেলতে বেলতেই রিদি আলতো হেসে বলল, “এইতো ভাবি, প্রায় হয়ে গেছে। ভাজি আমি সকালে উঠেই করে রেখেছি। তুমি বাচ্চাদের দেখো, ওরা উঠছে?”
”নারে, ঘুমাচ্ছে। সারা রাত একটুও ঘুমাতে দেয় নাই, খুব জ্বালিয়েছে। তাই তো আমারও উঠতে দেরি হয়ে গেল।” তোহা আর যোহা—সাথীর দেড় বছরের দুটো জমজ কন্যাসন্তান। ওদের কথা মনে পড়তেই রিদির চোখেমুখে মাতৃত্বের এক অদ্ভুত মায়া ফুটে উঠল। সে মুচকি হেসে বলল,
“তুমি গিয়ে ওদের জন্য খাবার বানিয়ে নাও ভাবি, আমি এদিকটা সামলে নিচ্ছি।”
সাথী জোর করে রিদির হাত থেকে বেলনটা কেড়ে নিয়ে বলল,
“ধুর, তুই যা তো! টেবিলে নাস্তা দিয়ে আয়। বাকিগুলো আমি করে নিচ্ছি। আর তোর তো আবার কলেজ আছে, লেইট হয়ে যাবে না?”
সাথীর জোরাজুরিতে রিদি আর না করতে পারল না। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, সত্যিই অনেকটা দেরি হয়ে গেছে।
নাস্তার প্লেটগুলো হাতে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে আসার সময় রিদির বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুরুদুরু করছিল। বুক চিরে একটা অজানা আশঙ্কা জাগছে—এই বুঝি আবার সৌহার্দ্যর সামনে পড়ে যায়! প্রবাদেই তো আছে, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়।
প্লেটগুলো টেবিলে সাজিয়ে রেখে রিদি যেই না দ্রুত পায়ে চলে যেতে যাবে, অমনি পেছন থেকে সৌহার্দ্যর সেই গম্ভীর, গমগমে কণ্ঠস্বর তীরের মতো এসে বিঁধল তার পিঠে—
“হেই স্টুপিড ঘোমটাওলী! তোমাকে বলছিলাম না কফি দিতে?”
হঠাৎ এই মেঘগম্ভীর আওয়াজে রিদি চমকে উঠল। ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে এল তার। সে চটজলদি মাথার ঘোমটাটা টেনে মুখটা আরও আড়াল করে নিল। যে মানুষটা প্রথম দেখাতেই তাকে বাড়ির কাজের লোক ভেবে নিয়েছে, তার সামনে কোনোভাবেই সে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চায় না। কিন্তু নিয়তি বড় নিষ্ঠুর!
রিদি পাশ কেটে চলে যেতে নিলে সৌহার্দ্য চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে রুক্ষ স্বরে বলল,
“হেই, হোয়াটস ইয়োর প্রবলেম? হোয়াই আরেন্ট ইউ স্পিকিং? আর ইউ মিউট?”
রিদির ঠোঁট দুটো ভয়ে জমে বরফ হয়ে গেল। সে যদি এখন একটা শব্দও উচ্চারণ করে, আর সৌহার্দ্য যদি তার কণ্ঠ চিনে ফেলে? যদি জেনে যায় যে কাল ক্লাসে যে মেয়েটাকে সে এত অপমান করেছিল, সে-ই তার ঘরের বউ? রিদি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। কোনো উত্তর না দিয়ে, ঝড়ের বেগে পাশ কেটে চলে গেল।
সৌহার্দ্য চরম বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল। বিড়বিড় করে বলল, “মিউট মেবি! বোবা একটা মেয়েকে বাড়িতে রেখেছে নাকি?”
নাস্তা আর খাওয়া দাওয়ার পাট চুকাতে গিয়ে আজ অনেকটা লেইট হয়ে গেছে! তাই তাড়াহুড়ো করে
মেডিকেল কলেজের মেইন গেট দিয়ে করে ঢুকছিল রিদি। মাথা নিচু করে হাঁটার কারণে হুট করেই সামনে থাকা শক্তপোক্ত, চওড়া একটা দেয়ালের মতো শরীরের সাথে তার জোর ধাক্কা লাগল। ভারসাম্য হারিয়ে রিদি যখন ছিটকে পড়ে যেতে নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দুটি বলিষ্ঠ, শক্ত হাত অতীব শক্তিতে তার কোমর জড়িয়ে ধরে পতন থেকে রক্ষা করল।
ধক করে ওঠা বুকে রিদি যখন চোখ তুলে তাকাল, তার নিশ্বাস যেন আটকে গেল। সৌহার্দ্য কপাল কুঁচকে, তীব্র চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই চেনা গম্ভীর, গমগমে স্বরে সে বলে উঠল,
“হেই ইউ লিটল ট্রাবল কুইন! চোখ কোথায় রেখে হাঁটো?”
কথাটা কানে যেতেই রিদির শ্যাম বর্ণ মুখটা রাগে ও অপমানে লাল হয়ে উঠল। গত দুদিনের জমানো সব রাগ যেন বাাঁধ ভেঙে উপচে পড়তে চাইল। এই লোকটা নিজেকে কী ভাবে? কাল থেকে কখনো ‘বোঁচা নাক’, কখনো ‘দেড় ব্যাটারি’, আর এখন ‘ট্রাবল কুইন’! এমনকি নিজের ঘরে নিজের স্ত্রীকে ‘সারভেন্ট’ বানাতেও যার বাধেনি, সেই নাক-উঁচু, বেয়াদব লোকটার ওপর রিদির আর কোনো নিয়ন্ত্রণ রইল না।
সে দাঁতে দাঁত চেপে, রাগি চোখে তাকিয়ে কিড়মিড় করে বলে উঠল,
“আপনি ট্রাবল কুইন! নিজে দেখে হাঁটতে পারেন না?”
সৌহার্দ্য কিছুক্ষণ অবাক হয়ে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইল। চোখে মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে গমগমে স্বরে বলল,
“স্টুপিড! ওটা ‘নট ট্রাবল কুইন’, ওটা ‘ট্রাবল কিং’ হবে! এই ভাঙা মাথা নিয়ে কে বলছে তোমাকে ডাক্তারি পড়তে?”
সৌহার্দ্যর এমন ঠাণ্ডা মাথার তীব্র অপমানে রিদি এক মুহূর্তের জন্য লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। নিজের ব্যাকরণগত ভুলটা বুঝতে পেরে রাগে চোখ-মুখ খিঁচে বলল,
“আপনাকে কেন বলতে হবে?”
সৌহার্দ্য এবার সত্যি প্রচুর বিরক্ত হলো। তার শান্ত, নিয়মতান্ত্রিক জীবনে মুখে মুখে তর্ক করা বা বেশি কথা বলা মানুষ সে একদম সহ্য করতে পারে না। সে এবার বেশ কড়া আর রাগান্বিত স্বরে শাসন করার ভঙ্গিতে বলল,
“স্টুপিড! শিক্ষক বাবার সমান হয়। মুখে মুখে তর্ক করবে না!”
বলেই সে রিদির দিকে আর এক পলকও না তাকিয়ে গটগট করে করিডোর দিয়ে হেঁটে চলে গেল।
ওর যাওয়ার পথের দিকে রিদি একদম আকাশ থেকে পড়ার মতো হাঁ করে তাকিয়ে রইল। মনে মনে ভাবল, ‘কী অদ্ভুত লোক রে বাবা! ভালো করে জামাই হয়ে উঠতে পারল না, তার আগেই সোজা বাবার আসনে চলে গেল!’ সে বিরক্তি আর ক্ষোভে নাক-মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে বলল, “নাক-উঁচু বেয়াদব একটা লোক!”
”কী রে জানেমান! কী এত গভীর চিন্তা করছিস?”
হঠাৎ সায়েম, পৃথা আর সুমি এসে রিদিকে চারপাশ থেকে জড়িয়ে ধরতেই রিদি তার ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে এল। সায়েম পৃথার কাঁধে হাত রেখে রিদির মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করেছিল।
রিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মন খারাপ করে বলল,
“আমি আজকে অ্যাসাইনমেন্টটা করতে পারি নাই রে। কালকে একদম সময় পাইনি।”
সুমি সান্ত্বনা দেওয়ার ভঙ্গিতে রিদির হাতটা চেপে ধরে বলল,
“কী আর করবি বল! তোর যা পরিস্থিতি, আমরা তো সব জানিই। এক কাজ করি চল, আজকে আমরা চারজন মিলেই স্যারের ঝাড়ি খাই। কপালে আজ নির্ঘাত ক্লাস থেকে বের হওয়া আর জিরো অ্যাটেনডেন্স আছে!”
পৃথা ভয় পাওয়া গলায় বলল, “ওই নতুন প্রফেসর যা স্ট্রিক্ট, আমাদের সহজে ছাড় দেবে বলে তো মনে হয় না!”
সুমির কথার মাঝে সায়েম একটু বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে ফোড়ন কাটল,
“আরে ব্যাটা কেমন যেন! সারাক্ষণ বউ-মরা বিধবাদের মতো মুখটা কালো করে রাখে।”
সায়েমের মুখে সৌহার্দ্যর এমন নিখুঁত বর্ণনা শুনে রিদি না হেসে পারল না, তবে গলায় খাবার আটকে যাওয়ার মতো করে হালকা কেশে উঠল। পৃথা সায়েমের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলল,
“আরে গাধা, ওটা বিধবা হবে না, ওটা বিপত্নীক হবে! পুরুষদের ক্ষেত্রে বিপত্নীক বলে।”
সায়েম মাথায় হাত দিয়ে ভাবার ভং ধরে বলল,
“বাপরে বাপ! আমার মাথায় এত বড় বড় শুদ্ধ বাংলা শব্দ আসে না। চল তো ক্লাসে যাই, নয়তো কালকের মতো আবার কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখবে।”
চার বন্ধু মিলে হাসাহাসি আর টুকটাক কথা বলতে বলতে ক্লাস রুমের দিকে এগিয়ে গেল। এই বিষাক্ত, দমবন্ধ করা দিনগুলোর মাঝে এই বন্ধুতাই হলো রিদির বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ, তার পরম শান্তির জায়গা।
নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে সৌহার্দ্য বেশ মনোযোগ দিয়ে একজন ক্রিটিক্যাল রোগীর কেস ফাইল স্টাডি করছিল। ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে একটা অতি পরিচিত, চঞ্চল কণ্ঠস্বর ভেসে এল
—”আসবো ব্রো?”
সৌহার্দ্য ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
“ইয়েস, কামিং।”
অনুমতি পেতেই এক যুবক ঘরে ঢুকে সৌহার্দ্যকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। উৎফুল্ল গলায় বলল,
“ব্রো! আই মিস ইউ সো মাচ! চার বছর পর অবশেষে তুমি বাড়ি ফিরলা?”
সৌহার্দ্য আরবানকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হালকা হেসে বলল,
“ইটস ওকে, তুই আগে বোস।”
আরবান ভাইয়ের সামনের চেয়ারটা টেনে বসতে বসতে বলল,
“এই যে তুমি এক সপ্তাহ ধরে বাড়ি আসো নি, এটা নিয়ে বড় আব্বু কিন্তু অনেক রাগারাগি করছে।”
সারবান চৌধুরীর ছোট ছেলে আরবান চৌধুরী। সেও একই মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন ডাক্তার হিসেবে কর্মরত। সৌহার্দ্য ফাইলটা টেবিলের একপাশে সরিয়ে রেখে ছোট ভাইয়ের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“গত কাল থেকে তুই কোথায় ছিলি? তোকে তো বাড়িতে দেখলাম না।”
আরবান মাথা চুলকে কিছুটা আমতা আমতা করে বলল,
“ইয়ে মানে ব্রো… বন্ধুদের সাথে একটু হ্যাংআউটে গিয়েছিলাম।”
সৌহার্দ্য কিছু সময় ভাইয়ের অপরাধী আর অপ্রস্তুত মুখখানার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বেশ গম্ভীর গলায় বলল,
“এই টাইমটা তোর ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ আরবান। এখন এইসবে সময় নষ্ট না করাই বেটার, আই থিঙ্ক!”
আরবান ভাইয়ের সিরিয়াস চেহারার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে মাথা নাড়ল, “ওকে ব্রো, আর হবে না।” হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই সে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
“আচ্ছা ব্রো, তুমি জানো আমাদের রিদুও কিন্তু এবার এখানে অ্যাডমিশন নিয়েছে? তুমি বোধহয় ওর ক্লা…”
আরবানের কথা শেষ হওয়ার আগেই সৌহার্দ্যর জোড়া ভ্রু কুঁচকে গেল। সে অত্যন্ত নিস্পৃহ গলায় প্রশ্ন করল,
“হু ইজ রিদু?”
আরবান এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, তার এই কাঠখোট্টা ভাইটি এখনো নিজের বিবাহিত স্ত্রীর নাম পর্যন্ত জানে না! আরবান রিদিকে নিজের ছোট বোনের মতো ভালোবাসে, আগলে রাখে। সে তাড়াহুড়ো করে সৌহার্দ্যর ভুল ভাঙাতে চাইল,
অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ১
“আরে ব্রো! রিদু মানে তোমার বউ, রি…”
কিন্তু বাক্যটি সম্পূর্ণ করার সুযোগ আর আরবান পেল না। তার আগেই সৌহার্দ্যর গমগমে, বরফশীতল কণ্ঠস্বর পুরো চেম্বারে প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল—
”আই’ম নট ইন্টারেস্টেড ইন হার!”
