অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৯
Maha Aarat
সকালে নামাজ পড়ে তিলাওয়াতের ক্লাস শেষেই কিচেনে এসেছে আইরা, মাইমুনা।হাফসা রুমে।ভাইয়ের সাথে বেশ কয়েক দিন পর আলাপ তাঁর।মাহের বরাবরই বলছেন বাসায় যেতে।কিন্তু হাফসা কীভাবে বলবে আরহামকে।সেদিনই তো বাড়ি থেকে আসলো সে আবার যাওয়ার আবদার করলে কেমন দেখায়!কিন্তু ভাইকে দেখা হয় অনেকদিন।
কিচেনে এসে দেখলো এখানে গল্পে মত্ত সবাই।হাফসা গরম পানি করে জার’টা সহ কফির ট্রে মাইমুনার হাতে দিয়ে ইশারা করলো,কফি বানিয়ে ড্রয়িং এ নিয়ে যেতে।ওই যে আরহাম নামছেন।
হাফসার এমন সৌহার্দ্যতায় মাইমুনা কিছুটা সংকোচ করলেন।হাফসা কাপল কাপটা এগিয়ে দিয়ে তাঁর গালে আদূরে ভালোবাসা মেখে নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
কফি তৈরি করে ড্রয়িং এ আসতেই আরহাম ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।কফির কাপটা উনার হাতে তুলে দিলে চমৎকার হাসি দিয়ে শুকরিয়া আদায় করলেও জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কেন কিচেনে গেলেন?’
‘আপনার জন্য এটুক করতে পারি না?’
‘অবশ্যই।তবে মাঝে মাঝে।
অসাবধানতায় কোনো দূর্ঘটনা ঘটুক চাই না।’
কথা শেষ করে কফিতে লম্বা চুমুক বসিয়ে বললেন, ‘মাশাআল্লাহ খুব ভালো হয়েছে।’
মাইমুনাও কফিতে চুমুক বসালেন।উনি আনমনে ভাবছিলেন, হাফসার কথা।আরহামের সাথে তাঁর সান্নিধ্যে মাইমুনা তো জেলাস হোন।তবে সে কেন হয় না?আড়চোখে সে আরহামের দিকে তাকালো।তিনি ফোনে কিছু একটা করছেন মনোযোগ দিয়ে।সে পুনরায় কিচেনে ফিরে যেতে চাইলে আরহাম বাঁধ সেধে বললেন, ‘চলুন বাগানের দিকটায় যাই?’
এমন প্রস্তাবে কি নাকোচ করা যায়!তবুও সে ভাবলো হাফসার কথা।
‘হাফসাকেও ডেকে আনি?’
‘উনি মনে হয় ব্যস্ত।উনাকে নিয়ে অন্যসময় বেরোবো।আপনি আসুন এখন।’
‘নাস্তা করার জন্য ডাকবে তো।’
‘এখনো দেরি আছে।এরমধ্যে গিয়ে ফিরে আসতে পারবো ইন শা আল্লাহ।’
‘মিসেস এশা!আসসালামু আলাইকুম।’
বিকেলে বাসায় ফিরার কয়েক কদম পূর্বেই রায়ানকে দেখে সে চমকালো ভীষণ।
এশা আশেপাশে তাকিয়ে নিচু আওয়াজে উত্তর দিলো,
‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম।’
‘একটু কথা বলতে চাই।খুব ইমার্জেন্সী।’
‘বলুন।’
‘আমাকে এভাবে ঝুলিয়ে রাখার মানে কি।রাতদিন ফোন হাতে নিয়ে বসে অপেক্ষায় থাকি এই বুঝি আপনি টেক্সট করে জানালেন, মিস্টার রায়ান আমি রাজি।’
‘আমি তো আপনাকে ঝুলে থাকতে বলিনি।আপনি বিয়ে করলে করুন আমার তো আপত্তি নেই।’
‘সত্যি? আপত্তি নেই?আসলে আমারও ভালো লাগছিলো না এভাবে হারাম ওয়েতে কথাবার্তা কন্টিনিউ করা আমি তো..
‘আমাকে নয়।অন্য যে কাউকে।’
রায়ান একদম শান্ত হয়ে গেলেন হঠাৎ।উৎফুল্লতা ছেড়ে গম্ভীর সুরে বললেন, ‘বিয়ে করলে আমি আপনাকেই করবো।আই নো,এটা আমি কোনো ভুল ডিশিসন নিইনি।আপনার ফ্যামিলির অবাধ্য হয়ে কতদিন থাকবেন আর।আপনি আপনার ফ্যামিলির খোঁজ নেন না,বাট আমি ঠিকই নেই।এ মাসের ২৫ তারিখ আপনার ভাইয়া চলে যাচ্ছেন বিদেশে।আপনার বাবার সিকনেস বেড়েছে মাঝে তিনদিন হসপিটালে এডমিট ছিলেন।আপনার মা আপনার জন্য সবসময় কাঁদেন।আপনি যে একা আছেন সেই টেনশনে নয়,আপনি যে তাদের ধোঁকা দিলেন সেজন্য।’
এশা বিস্ফোরিত চোখে তাকালো।সত্যিই তাঁর মা এতো আঘাত পেয়েছেন!বাবা অসুস্থ হলে তো সে নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিত আর এখন বাবা অসুস্থ হয়ে হসপিটালে পড়ে আছেন সে খোঁজ অব্দি নেয়নি।জীবনের তিক্ততা আর কতটুকু গাঢ় হয়!
‘মেয়ের জামাই হিসেবে আমাকে এখনও তাদের পছন্দ।আসলে আমিই তাদের কনভিন্স করেছি এবং করছি মিথ্যে বলবো না।এশা সবকিছুর পর আপনি তো নিজের মতো নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখলেন।কিন্তু উনি তো আপনাকে নিয়ে ভাবেন নি আপনার ডাকে সাড়া দেননি।এর পরেও উনার আশায় পড়ে থাকা বোকামি,উনার পিছনে ছুটা মরীচিকা।আই নো,আপনি কষ্ট পেয়েছেন হয়তো পাচ্ছেন বাট উনি তো পাচ্ছেন না।উনি ঠিকই উনার মতো আছেন।
একটা হালাল পবিএ সম্পর্ক সত্যিকারের হ্যাপিনেস এনে দিতে পারে।আমি জানি এভাবে আপনার পিছু নেওয়া বা আপনাকে বিরক্ত করা আপনারও গুনাহ আমারও গুনাহ।তবুও আমি একটা আশা নিয়ে আসি প্রতিবার।আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না প্লিজ।আমার বাবা যতই শক্ত খোলসে থাকেন না কেন,আমার ক্ষেত্রে একদম সফট্।আমাকে নিয়ে অনেক ভাবেন আমার বাবা।আমি যে আপনার পিছু নেই বা আপনাকে এখনও চাই উনি স্পাই লাগিয়ে সেটা খবরও পেয়ে গেছেন।তাই সব ভুলে আজকে সকালেই বলেছেন আপনাকে তাঁর ছেলের বউ মানে আমার বউ করে নিতে উনার আর কোনো আপত্তি থাকবে না।’
এশা রায়ানের দিকে আড়চোখে তাকালো।বিয়ের কথা বলতে ছেলেটা লজ্জ্বায় লাল হয়ে যাচ্ছে।মাএ কয়েক সেকেন্ড এর ব্যবধানে এশা তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো।তবে সেটা অপকাশিত রেখে বলল, ‘কালকে বাড়িতে যাবো।আমি তো পালিয়েছি সবার আমার ওপর রাগ।আপনি যদি এই রাগ মিটিয়ে দিতে পারেন,তবে আপনাকে নিয়ে শেষবারের মতো ভাববো ইন শা আল্লাহ।’
রায়ান চোয়াল ঝুলিয়ে অসহায় মুখে বললেন, ‘এখনো ভাববেন?ডিশিসন কবে নিবেন?’
‘দেখা যাক।কাল যাচ্ছি ইন শা আল্লাহ।’
‘ওকে।আই হোপ আপনার রেজাল্ট পজিটিভ আসবে,আর যদি নাও আসে আমার ধৈর্য্যে আর কুলাবে না।জোর করে বিয়ে করে নিবো।এতদিন থেকে পিছে পিছে ঘুরছি।এই স্ট্রাগল বৃথা যেতে দিব না।’
এশাকে আর প্রত্যুত্তর করার সুযোগ না দিয়ে রায়ান প্রস্থান করলেন।এশা মনে মনে হাসলো,লোকটার পাগলামি তাঁর মনকে মানিয়েই ছাড়বে কি শেষ পর্যন্ত?
সন্ধ্যার পরপর আরহাম হাফসাকে নিয়েই মাইমুনার রুমে আসলেন।কিন্তু কারন না জানায় দূজনই কিংকর্তব্যবিমূঢ়।এ কয়দিনের সংসারে হাফসা এটা বুঝে গিয়েছে যে,তিনি হাফসার সামনে মাইমুনা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেন না বা মাইমুনার সামনেও হাফসা প্রসঙ্গের কোনো কথায় সায় দেন না।মাঝে মাঝে আরহাম তাকে খাবার খাইয়ে দেন।হয়তো আপুকেও দেন তবে সেটা হাফসার অজ্ঞাতে।এছাড়া কখনো যদি মাইমুনার কক্ষে কোনো কারনবশত একনাগাড়ে দূইদিন থাকেন,তবে হাফসার ক্ষেএেও পরবর্তীতে সেটা সমতা করে দেন।
হাফসাকে বসার ইশারা করে তিনি দরজাটা লক করে এসে বসলেন।তাদের দূজনকেই ভীত অবস্থায় দেখে মুচকি হেসে বললেন, ‘আপনাদের বিচার করতে ডাকিনি।ভয় পাবেন না।’
দূজনে দূজনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।আরহাম বলতে শুরু করলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ শোকরান লাক আল্লাহর কাছে।আমি আপনাদের দূজনকে ফলো করছিলাম বেশ কয়েকদিন থেকে।স্পেশিয়ালে যখন একসাথে থাকেন।জানিনা কতটুকু নোট করেছি বা কতটুকু সত্য, বাট এটা বুঝেছি আপনাদের বন্ডিং ভালো।জেলাসি দেখিনি এখনও।এবং যেকোনো কিছু একসাথে শেয়ার করেন।
আপনারা দূজন আমার দূটো জান্নাত।তবে আপনাদের অনেক বিষয়ে কঠোর বাধ্যবাধকতা রেখেছি এগুলো শাসন নয়।আমি চাইনা আপনারা বাইরের পরিবেশে অভ্যস্ত হোন।গায়রে মাহরামের ছায়াটা অব্দি আপনাদের ওপর পড়ে সেটা চাই না।এদিক দিয়ে আমি খুব জেলাস।এজন্য হয়তো মনে করেন আমি একদম স্ট্রিক্ট, কাঠখোট্টা।বাট এটা ভাবলে এটাই।আল্লাহ এতো সুন্দর জান্নাত বানিয়েছেন আমাদের জন্য।এমনি এমনি কি সেটা পাওয়া যাবে?একটু স্যাকরিফাইস তো করতে হবেই।ফিরদাউসেও আমি আপনাদের নিয়েই থাকতে চাই ইন শা আল্লাহ।এখন যেটা বলবো,আমার হাতে দূটো টচ আছে।এখানে দূটো উইস লিখা আছে।আপনারা চোখ বন্ধ করে নিবেন।যার ভাগে যেটা পড়বে আমি সেটা পূরণ করার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ।যাস্ট চোজ করে আমাকে দিবেন।’
কথামতো দূজনে দূটো টোকা তুলে নিতেই আরহাম মুচকি হেসে বেরিয়ে গেলেন।
তালিমে জয়েন করার সে একটা জিনিস খুব করে অনুভব করছে যে প্রতি আলোচনাতেই একটু হলেই ফিকহী বিষয় আলোচনা করা হয়।এক্ষেত্রে তাঁর অনেক এুটি নোট করেছে যা সে ইতোপূর্বে অহরহ করে এসেছে।বাবার শেয়ার ব্যবসায় একটু হলেও সুদ এর আনাগোনা আছে।এ নিয়েই সন্ধ্যার পর যখন বাবাকে সরাসরি বলছিলো,বাবা তখন ক্ষেপে গেলেন।উচ্চ আওয়াজে ঘোষণা দিয়ে দিলেন, সুদ-ঘোষের সাথে উনার কোনো লেনদেন নেই।আদওয়া এটা বেশ বুঝতে পেরেছে,হারাম খেলে ইবাদত কবুল হয় না।বাবাকে বুঝিয়ে বলতে সে অপারগ কিন্তু দোয়া করতে তো নয়।
তবে আরেকটা বিষয় তাকে ভাবাচ্ছে।গত কয়েকদিনের তালিমের ক্লাসে জয়েন হয়ে জানতে পেরেছে এই বড়োসড়ো প্রতিষ্ঠানের ওউনার আব্দুল্লাহ।পুরো নামটা তাঁর মনে পড়ছে না।একজনের কাছ থেকে জেনেছে উনার দূজন ওয়াইফ।এটা অবশ্যই বলো বেড়াবার মতো কথা নয়।তালিম ক্লাসেরই একজনের বাসা লোকটার বাসার কাছেই।গোপন সূএে হয়তো কোনোভাবে জানা তাঁর।নয়তো এটা জানা কষ্টসাধ্য কারন তিনি প্রতিষ্ঠানে কখনো কোনোসময় তাঁর পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন না।কথাটা শুনে প্রথম প্রথম আদওয়া ভীষণ অবাক হয়েছিলো। এ যুগে দূজন ওয়াইফ নিয়েও শান্তশিষ্টভাবে থাকা যায়?
ইউটিউব ঘেটে সে এ সম্পকে কিছুটা অবগত হলো।মাসনা করতে হলে করতে হবে কোনো বিধবা/তালাকপ্রাপ্ত/অক্ষম বা সমাজের হেয় নারীকে।এর মধ্যে কোনোটা কি উনার মাসনায় আছে!
ইসস কি ভাবছে সে।যতই হোক,গায়রে মাহরামকে নিয়ে পুর্নবার সে ভাবতে চায় না।এসব তাঁর বিষয় নয়।
ডিনার শেষে রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ালো সে।নিঁখুতভাবে নিজের অবয়ব পর্যবেক্ষণ করে বুঝলো সে একটু একটু করে মোটা হয়ে যাচ্ছে।গাল গুলো আগের থেকে তুলতুলে আর ভরে গেছে।বাড়িতে সে সকালে নাস্তা খেলে বিকেলের শেষ প্রান্তে খাবার খেতো।রাতে অল্প কিছু খাবার বা কখনো ফ্রুটস বা খেজুর খেয়ে নিলেই হতো।ঘন ঘন রোযা রাখা হতো।কিন্তু এখানে একদম টাইম টু টাইম ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার।ফরমালিনমুক্ত,সুস্থ সবজির সাথে বাজারবাছা মাছ-মাংস।কখনো না খেতে চাইলেও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।এভাবে হয় নাকি।এভাবে খেলে তো তাঁর মেদ বেড়ে যাবে।হাফসা মনে মনে একটা নিঁখুত প্ল্যান করছিলো কীভাবে তাঁর খাদ্যাভ্যাসের মেনুটা বদলে নিবে।ভাবুক হয়ে আয়নার সামনে চুপচাপ বসেছে সে।সকালে যাস্ট রং চায়ের সাথে পরোটা খাবে।আর কিছু খাওয়া যাবে না।আর দূপুরে অল্প খাবার,রাতে অল্প খাবার।সন্ধ্যার নাস্তায় অল্প কিছু।এরপরেও না হলে ডিনারটা স্কিপ করবে সে।এরপরেও না হলে সন্ধ্যার নাস্তাটাও কমিয়ে আনবে।
আরহাম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আয়নায় তাঁর রিয়েকশন দেখছিলেন।এই যে ভ্রু কুঁচকে কপালে ভাঁজ ফেলা,গাল ফুলানো, ঠোঁট টা দাঁত দিয়ে কামড়ে ভাবুক হয়ে থাকা বা নাকতুলে ঠোঁট নাড়ানো তাঁর এইসব অভিব্যক্তিতে তাকে অন্যরকম সুন্দর লাগে এটা সে বুঝে?
অথচ আরহামের সামনে সে একদম সরল সোজা।মুখের চেহারাটার অব্দি নড়চড় হয় না।আরহাম তাঁর অভিব্যক্তি দেখে বেশ বুঝতে পেরেছেন তাঁর হাওয়ার মতো শরীরটা নিয়ে হয়তো চিন্তিত সে।
দরজায় ঠকঠক নক হতেই সে ভয় পেয়ে উঠলো।আরহামকে দেখো মাথা দিয়ে হ্যাঁ বোধক ইশারা করতেই তিনি রুমে আসলেন।ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি নিয়ে এত ভাবছে সে।
হাফসা মাথা নাড়াতেই আরহাম কপালে ভাঁজ ফেললেন।বুঝাতে চাইলেন, কথা লুকানো উনার পছন্দ নয়।
সত্যিটা বলতেই হবে তাঁর।ইশারায় বুঝালো সে মোটা হয়ে গেছে আর এজন্য তাকে ব্যালেন্স ডায়েট করতে হবে।
আরহাম তাঁর আপাদমস্তক নজরে এনে বললেন, ‘এতটুক শরীরে ডায়েট করলে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না উমায়ের।’
আরহামের স্পষ্ট খোঁচানিতে মুখ ভার হলো তাঁর।আইরাকে সে জিজ্ঞেস করছিলো সে কি মোটূ হয়েছে।আইরা হেসে বলেছে, না তবে একটু গুলুমুলু হয়েছো।গুলুমুলু মানেই তো মোটা।সে তো মিথ্যা বলেনি।এখন থেকে খাবারে কন্ট্রোল না করলে সে সত্যিকাররে মোটু হয়ে যাবে।
আরহাম তাঁর গালে ঠোকা মেরে বললেন, ‘এই গুলুমুলু লুকে আপনাকে মারাত্মক সুন্দর লাগে উমায়ের।এসব ডায়েট করার চিন্তাও করবেন না যাই হোক আমি এসছিলাম আপনাকে বলতে যে,আপনি কালকে বাসায় যাচ্ছেন মাহেেরর কাছে।সকালে যাবেন।বিকেলে নিয়ে আসবো।’
হাফসা বিস্ফোরিত চোখে তাকালো আরহামের দিকে।সত্যিই কি সে যাবে।আরহাম তাঁর চোখের ভাষা হয়তো বুঝে ফেললেন।যাওয়ার আগে মুচকি হেসে বলে গেলেন, ‘সত্যিই যাবেন।দিনে থাকবেন কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগেই নিয়ে আসবো।’
রুমে এসে মাইমুনাকে ঘুমের তাড়া দিয়ে বললেন, ‘ঘুমিয়ে পড়ুন হানি।কাল সকালে আমরা বাইরে যাবো।’
‘কোথায়?’
‘আমার একটা পছন্দের জায়গা।এই শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে।যেখানে রোদ মিশে যায় গোধূলির আবছায়ায়।’
‘সত্যি?হঠাৎ? হঠাৎ কেন?’
‘টোকা তে এটাই লিখেছিলাম।উমায়েরকে নিয়ে আমি কখনোই বেরোইনি।ভেবেছিলাম একটা অপশন থাকবে ঘুরতে যাওয়ার আর আরেকটা কিছুক্ষণ পরিবারের সাথে সময় কাটানো।উমায়ের ওটা পেয়েছেন আর এটা আপনি।’
মাইমুনা খুশিতে গদগদ হয়ে বললেন, ‘আই এম লাকি।আপনার সাথে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ টা আবার হলো!’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৮
‘হুমম।বাট যাস্ট ফর থার্টি মিনিটস।নামাজ পড়ে বেরোব আর আটটার মধ্যেই ফিরে আসবো।’
‘এত কম সময়?’
‘মানুষ বেরিয়ে পড়ে আস্তে আস্তে।এটা অস্বস্তিজনক।তবে যে কিছুসময়ই থাকবেন আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ।ভেরী চার্মফুল এনভায়রনমেন্ট।’
