Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩
Maha Aarat

আরহামের ইনস্টিটিউশন থেকে এক ক্রোশ দূরে আজকে বাসা দেখতে গিয়েছিলেন তাঁরা।সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কিছু সমস্যা থেকে যায়।যেমন ছাদে সবসময় মানুষের আনাগোনা থাকে,বেলকনির ঠিক সামনে মেইন রোড।রাতেও বেশ যান্ত্রিক শব্দ সঙ্গ নিয়ে ঘুমাতে হবে।মাহেরের এসবে কোনো সমস্যা নেই।এমনকি উনার হসপিটালও এখান থেকে বেশ কাছে।বাসাটা ভাড়া নিলে বেশ ভালোই হতো।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে হাফসার ক্ষেএে।প্রথমত সে খোলামেলা শান্ত পরিবেশ পছন্দ করে।দ্বিতীয়ত ছাদে যাওয়া যাবে না,তৃতীয়ত বেলকনিতে দাঁড়ালেই লোকচক্ষুর দৃষ্টির আড়ালে থাকা যাবে না।এগুলো সে মানতে পারবে না।

ঠিক দূইটা থেকে মাহেরের এপোয়েনমেন্ট।অন্তত আধঘন্টা আগে তাকে পৌঁছাতে হবে হসপিটালে।যোহরের আযান পড়তেই কাছাকাছি এক মসজিদে গাড়ি পার্ক করলেন আরহাম।
গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের উদ্দেশ্যে এগোতেই গোটাকয়েক মসজিদ কমিটির লোকের সঙ্গে দেখা।ভূত দেখার মতো আচমকা মিডিয়া পার্সনের সাক্ষাতে তারা চমকালেও আরহামকে ধরে বেঁধে ইমাম বানিয়ে দিলেন।পিছুপিছু মাহের এগোলেন।পকেট থেকে টুপি মাথায় পড়তে পড়তে ভাবলেন, এই সেলিব্রিটি বন্ধুকে নিয়ে আর কোথায়ও বের হওয়া যাবে না।হলেও মাস্ক চশমা পরিয়ে বের করবেন।জামাআত শুরুর এখনও মিনিট পাঁচেক বাকি।মাহের মসজিদের মধ্যে পায়চারি করে আশপাশ দেখছেন।এখানে এর আগেও আসা হয়েছে।তবে ব্যস্ত সময়ে।আচমকা উনার মনে পড়লো, ভাইয়া যখন নামাজ পড়াবে তখন আপনি বইগুলো কিনে গাড়ির পিছনে রেখে দিবেন!
মেয়েটার কথা মনে হতেই কপাল কুঁচকে আসলো মাহেরের।ব্রেইন কে রিফ্রেশ করে দ্রুত অন্যদিক মনোযোগ দিলেন।

নামাজ শেষ করে বেরিয়েছেন তাঁরা।মাহেরকে চুপচাপ দেখে আরহাম জিজ্ঞেস করলেন,
‘কি নিয়ে এতো চিন্তিত?’
মাহের দম ফেলে বললেন, ‘হাফসাকে নিয়ে।’
‘কেনো?কোনো সমস্যা?’
মাহের ধীরসুরে বললেন, ‘বিয়ে দিতে তো চাই।কিন্তু মনমতো পাএ খুঁজে পাচ্ছি না।আর খুঁজে পেলেও ওর যে সমস্যাটা….
মাহেরের কথা শেষ করতে না দিয়েই আরহাম ঠান্ডাস্বরে বললেন, ‘এত তাড়া কেন?এতো ছোট মানুষের বিয়ে দেবে কেন?’
মাহের হালকা হেসে উত্তর দিলেন, ‘ও এখনো আগের পিচ্চি নেই। এখন ও বিবাহযোগ্য।’
‘……
‘তোমার কাছে কোনো ভালো পাএের সন্ধান…
‘নেই।আমার কাছে নেই।’
মাহের আরহামের হঠাৎ এমন অস্থিরতা পরখ করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর ইউ ওকে?’
‘ঠিক আছি।’

ঘোর বর্ষার দিনে এক টুকরো সূর্য যেন ধূসর আকাশে এক চিলতে রংধনু।রুমের জানালায় চোখ রাখলে দীর্ঘ সবুজ অংশ।যখন ঝুম বৃষ্টি পড়ে তখন এপাশের জমিগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে পানিতে।আশেপাশের লোক এসে বাঁধ ফেলে মাছ ধরে।সেই মাছগুলো কাঁচাবাজারে বাজারে নেওয়া হয়।দূর-দূরান্তের মানুষ এসে নিয়ে যায় টাটকা মাছ।গ্রামীণ বাজারে মহিলাদের আনাগোনাই যেন বেশী।পুরুষরা সারাদিন কর্মস্থলে থাকে।সংসারের আর যাবতীয় কাজ সামলাতে হয় নারীদের।তাঁরা ঘর ছাড়ে অনায়াসে।হাফসা বহুদূর ভ্রুক্ষেপহীন তাকিয়ে থাকে।মেয়েদের পর্দার হুকুমগুলো তাদের হয়তো কেউ শিখিয়ে দেয় না।বা দিলেও তাঁরা গায়ে মাখে না।বাজার হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম স্থান।অথচ এই সময়ে বাজারে নারীদের আনাগোনাই বেশী।মনে মনে তাদের হিদায়াত চায় সে।
খানিকক্ষণ পেরোয়।হাফসা ঘন শ্বাস ছেড়ে উঠে আসে জানালার কাছ থেকে।রুম পেরিয়ে লম্বা করিডোরে পা রাখতেই গা ছমছম করে উঠে ওর।এতো বড়ো একটা বাড়িতে একলা থাকে সে।মানুষ কীভাবে একা থাকে?সবারও কি হাফসার মতো অস্বস্তি হয়?ভয় হয়!

বাবা থাকতে সে মোটেও ভয় পেতো না।এমনকি বাবা বাড়িতে না থাকলেও সে ভয় পেতো না।বাবার রুমেই ঘুরঘুর করতো।বাবার জুব্বাগুলো গুছিয়ে রাখতো।বাবার শেলফ টা ঠিক করে রাখতো।বাবার তসবিহগুলো হাতে নিয়ে ছোট্ট দোয়াগুলো আওড়াতো।বাবার আতরগুলো নিজের হিজাবে মাখতো।অদ্ভুত সুন্দর ঘ্রাণ সেগুলোর!
নি:শব্দ ঘরে ঘড়ির কাঁটার আওয়াজ কেমন ভয়ংকর শোনায়।মাঝে মাঝে হঠাৎ ঘড়ির বেল বাজতেই ভয়ে চমকে উঠে সে।ঘরের যে দিকে চোখ যায় অদৃশ্য কিছু মনে আসে।হাফসা দ্রুত রুম ছাড়ে।ধপধপ শব্দ করে ছাদে উঠে।ছাদে উঠে কবুতর নিয়ে ব্যস্ত হয়ে বেমালুম সব ভয়ডর ভুলে যায়।খই ছিটিয়ে ডিভাবে পা ঝুলিয়ে বসে প্রকৃতি দেখে।ছাদে সে সবসময়ই নিকাব পড়ে আসে।যদিও এখানে ছাদের চারদিকে অর্ধেক প্রাচীর দেয়া আছে,পুরুষের দৃষ্টিতে পড়ার ভয় নেই তবুও নিজেকে গুটিয়ে রাখে সে।ছাদের সীমানা পেরোলেই মেঝো আংকেলের বাসা।সেখানে লাউড স্পিকারে গান বাজছে।হাফসা শুনেছে তাঁর রিত্তি আপুর কোলে ছোট্ট একটা চাঁদ আসছে।সেই জন্যই সকাল থেকে বেশ ধুমধাম চলছে।হাফসার মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়,যদি তাদের বিবাদ থাকতো না তবে সে হয়তো তাদের ঘরে যেত এই উপলক্ষ্যে।ছোট্ট পুতুলটাকে কোলে নিয়ে আহ্লাদীসুরে কথা বলতো।ছোট্ট ছোট্ট হাত পা আলতো করে ছুঁয়ে দিত।ভাবনাগুলো ভাবতেই মুচকি হাসে সে।ভাবতেই এত ভালো লাগছে আঙ্গুলগুলো ছুঁয়ে দিতে না জানি কেমন লাগতো!বাবুটার কাতুকুতু লাগতো?

হাফসা আরও ভাবতে থাকে।কিছু কিছু জিনিস কল্পনাতেই বাস্তবের চেয়েও বেশী সুন্দর।হাফসা বাস্তবে না হোক,কল্পনায় সেই চাঁদের সাথে আধোবুলিতে কথা বলতে ব্যস্ত।এমন সময় আচমকা ধপ করে আওয়াজ হয়।হাফসা তড়িৎ ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকায়।মুহুর্তেই ওর গা হিম হয়ে যায়।দেহ যেনো অসার হয়ে আসে।নিউরনের তাঁরগুলো ছোটাছুটি করতে থাকে দ্রুতবেগে।ছেলেটা যত এগিয়ে আসে ওর কাঁপুনি তাঁর চেয়েও দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে।পুরো শরীরটা যেন অদৃশ্য কোনো চুম্বকের টানে মেঝের সাথে লেগে আছে।চাইলেই ছুটতে পারছে না।আর চিৎকার?সে তো চিৎকার করার ক্ষমতাও হারিয়েছে অনেক আগে!

হড়হিম শীতের সময়!গেলো শীতে সাইমুমের সাইকেল থেকে পড়ে হাত ভেঙেছিলো ওর।রাত একটায় হিম শীতল বাতাস গায়ে মাখাতে মাখাতে তাকে নিয়ে আসা হয় হসপিটালে।ততক্ষণে মোটামোটি সব ডাক্তারদের ডিউটি শেষ।রিসিপশনার জানালেন, একজন ডক্টর ছাড়া কেউ ডিউটিতে নেই।উনিও অপারেশন থিয়েটারে আছেন নার্স নিয়ে।অপারেশন শেষ হলে একটু পর হয়তো উনিও বেরিয়ে পড়বেন।এশার মা মিসেস মাইশা রিসিপশনারের এসব কথা গায়ে না মেখে তাকে নিয়ে দ্রুত ছুটলেন ডক্টরের কেবিনে।অমি তাদের ভেতরে ঢুকতে এলাউ করলো না।বললো স্যার মাএ অপারেশন শেষ করে ফিরেছেন। এখন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিবেন।তারপর বাসায় যাবেন।এখন কোনো পেশেন্ট দেখতে পারবেন না।মিসেস মাইশা খুব করে অনুনয় বিনুনয় করছেন ডক্টরের পি.এ. অমিকে।কিন্তু সে টলছেই না।ব্যাথায় চোখমুখ কুঁচকে রাখা এশার রাগ লাগাতার বাড়ছেই।এমনিতেও ব্যথার ছুটে তাঁর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।লোকটার কি একটুও কান্ডজ্ঞান নেই?একসময় রেগে বামহাতে দিয়ে ঘুষি দিলো অমির পেটে।আচমকা আক্রমণে অমি দূরে সরে গেল।এশা মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠলো।ভাঙ্গা ডানহাতে ব্যথা পেয়েছে সে।
চিৎকার শুনে ভেতর থেকে ছুটে আসলেন ডাক্তার।মাথায় সার্জারি ক্যাপ,হাতে গ্লাভস।মুখে মাস্ক।সবুজ অ্যাপ্রোন পড়া।উনি এসেই অমিক জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি হয়েছে?’
অমি ভীত নজরে সামনে থাকা রাগিণীর দিকে তাকালো।ইচ্ছে হলো বলতে মেয়েটা আমাকে ঘুষি মেরেছে স্যার।তবে এটা বললে সে নিজেই কাপুরুষ হয়ে যাবে।মিসেস মাইশা নির্বিকার ভঙ্গিতে একবার মাহেরর দিকে তো একবার অমির দিকে তাকাচ্ছেন।উনি কি শকে চলে গেলেন নাকি।
‘স্যার উনারা আপনার কাছে আসছে।’
‘আমার ডিউটি শেষ।’
‘আমার হাত ভেঙে গেছে দেখছেন না।ভাঙ্গা হাত নিয়ে বাড়িতে গেলে বাবা আমার ভালো হাতটাও ভেঙে দিবেন।কোনোরকম ঠিক করে দিন।হাতের পেইন কমছে না।’
মাহের অদ্ভুত দৃষ্টিতে মেয়েটার হাতের দিকে তাকালেন।এত বড় মেয়ের হাত ভাঙ্গে কীভাবে!

পেশেন্টের চেয়ারে চুপচাপ বসে আছে এশা।তবে একদম চুপচাপ বলা যায় না।সে বরং মায়ের বোরকা চিপে ধরে গুনগুনিয়ে আর্তনাদ করছে।হাতের ব্যাথাটা সময়ের সাথে বাড়ছেই।ডাক্তারটা গেলেন কোথায়।দৃষ্টি ঘুরিয়ে অন্যপাশে তাকিয়েই সে শক খেলো।
এপ্রোন আর মাস্ক খুলতেই দৃশ্যমান হলো একজন সুদর্শন সুপুরুষ।তারপর টান দিয়ে খুলে ফেললেন সার্জারি ক্যাপটাও।একগাছি ঘুন চুল ছড়িয়ে পড়লো মাথায়।
শার্টের হাতা গুটিয়ে বেসিনে হাত ধুয়ে মাহের যতক্ষনে ফিরলেন এশা তখন হা করে তাকিয়ে আছে।আশ্চর্য্য হলেও ব্যাথাটা এখন খুব বেশী অনুভূত হচ্ছে না।কিন্তু কেন!
মাহের হাত দেখে বললেন, ‘হাড় তো পুরো বেঁকে গেছে।কতক্ষণ আগে এক্সিডেন্ট ঘটেছে? ‘
‘সকালে।’
‘ডাক্তারে আসছেন মাঝরাএে?’
মিসেস মাইশা কড়া দৃষ্টিতে একনজর এশার দিকে তাকালেন।অতপর বললেন, ‘প্রথম প্রথম ব্যাথা কম ছিল।সহ্যের ভেতরে।সকালে অনেক জোর করেছি ডাক্তারে যাই ডাক্তারে যাই পাত্তা দেয় নি।এখন ব্যাথা বেড়েছে।এখন আসতে হয়েছে।’

মাহের আরও কিছু জিজ্ঞেস করলেন।কিন্তু এশার হলো কি।লোকটাকে তাঁর ভালো লেগেছে।সে চোখ সরাতে পারছেই না।মায়ের সাথে কথা বলছে লোকটার দিকে তাকিয়ে।ব্যাথায় চিৎকার দিচ্ছে লোকটার দিকে তাকিয়েই।লোকটার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে লোকটার দিকেই তাকিয়ে।
ডাক্তার স্প্লিন্ট সম্পন্ন করে হাতে প্লাস্টার ব্যাগ লাগিয়ে দিলেন।
‘আমার হাত যে ব্যাগে ঢুকিয়ে দিলেন আমি খাবো কী করে?’
এমন বেমক্কা প্রশ্নে মাহের ভড়কে গেলেও উত্তর দিলেন না।
এশা তো প্রশ্ন করেই বসল, ‘বাসায় কি ঝগড়া হয়েছে?আপনি এমন কঠিন একটা ভাবভঙ্গি নিয়ে আছেন কেন?আমি কি চুরি করতে গিয়ে হাত ভেঙেছি?’
মিসেস মাইশা তাকে উঠিয়ে নিতে নিতে বললেন, ‘চুপ কর।তর জায়গায় অন্য কেউ হলে এত কথা বলতো না।আজকে মুখের ব্যালেন্স ছুটে যাচ্ছে।’
‘আমি কি ভুল প্রশ্ন করলাম মা?’
ততক্ষণে মেয়েকে নিয়ে তিনি বেরিয়ে গেলেন।মাহের স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে না ফেলতেই খানিক পর ভদ্রমহিলা ভেতরে প্রবেশ করে বললেন, ‘ওর কথায় কিছু মনে করো না বাবা।ও এমনিই।পাগল টাইপের।’
মাহের হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে উনাকে বিদায় দিলেন।
তাঁরা চলে যেতেই অমি এসে বলল, ‘কি ডেন্জারাস মেয়ে রে বাবা।মেয়েটা যে সাইকেল থেকে পড়েছে এখন বিশ্বাস হচ্ছে।’

মাহের চমকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সাইকেল থেকে?’
‘জ্বী স্যার।বাইকে থেকে যে পড়েনি তাও ভালো।’
‘গাড়ি কি আসছে?’
‘জ্বী।আপনি বেরিয়ে পড়ুন স্যার।কাল দূপুর থেকে আপনার এপোয়েনমেন্ট।’
পুরনো ভাবনা ছেড়ে মলিন হাসলো এশা।শুনতে অদ্ভুত লাগলেও মাহেরের সাথে তাঁর প্রথম দেখা এভাবেই।তারপর কোনো কারন ব্যাতীত সে দূদিন পরে পরে ডক্টরের সাথে মিট করতো।যেখানে দূ সপ্তাহে দূবার আসলেই কেস মিটমাট সেখানে একমাস জুড়ে সে দশ থেকে বারেবার আসলো।শেষের দিন ক্লান্ত হয়ে মাহের যখন বলেই ফেললেন, ‘আপনার হাত তো এখন ঠিক আছে।রেস্ট নিলে আর সতর্ক থাকলে ঠিক হয়ে যাবে।এতবার আসা লাগবে না।’
উত্তরে এশা চট করে উত্তর দিল, ‘আমি আপনাকে দেখতে আসি।’
‘মানে?’
‘আমি আপনাকে পছন্দ করি।আপনি আমাকে বিয়ে করবেন?’
এশার একেকবার একেক কথায় মাহের বিস্ময়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলেন।এ মেয়ে বলে কী।
‘হাতের ইফেক্ট মাথায় পড়েনি তো?’

‘না।মাথা ঠিক আছে।এখন আপনার আন্সার বলুন।শুনতে চাই।’
এশা খুব বেশি সময় মাহেরের উত্তরের অপেক্ষা করে নি।সে ভেবেই নিয়েছে মাহেরের উত্তরের পজিটিভ।মাহের যেনো তাকে বলছেন, ‘এশা!আমিও আপনাকে পছন্দ করি।’
‘আচ্ছা আচ্ছা বুঝে গেছি।এত লজ্জা পেতে হবে না।সো মিস্টার মাহের,আমাদের রাতে কথা হচ্ছে।ঠিক ন’টায় কল দিব।আপনার নাম্বার আমি দ্বিতীয় দিনই কালেক্ট করেছি আপনার এসিস্ট্যান্ট কে ঘুষি দিয়ে ম্ মানে ঘুষ খাইয়ে।আজকে আসি।’
নিশাত আনান এশা।পেশায় সে একজন নিউলি ফ্যাশন ডিজাইনার।ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে শেষ সেমিস্টার পড়ছে।স্বভাববশত সে একটু পাগল টাইপের।এ কথা তাঁর মা বলে।যদিও এশা নিজেও সেটা বিশ্বাস করে।
তাদের কথা বলাকে প্রেম বলা যায় না।সেদিনের পর গোটা এক সপ্তাহে ১২৩ টা কল দিয়েছে সে।কলটা কাটাই হয়েছে পঞ্চান্নবার।ধরা হয়েছে মাএ চারবার।প্রতিবার ধরেই মাহের বিরক্তঝরা কন্ঠে বলতেন, ‘হ্যালো কে বলছেন?’
এশা আহত হতো মাহেরের এমন নির্লিপ্ততায়।লোকটা এমন কেন?
‘আমাকে চিনতে পারছেন না?’

‘না।পরিচয় দিন।’
‘এশা।’
‘সরি।রং ডায়ালিং।’
‘আরে আরে ওই যে হাত ভেঙেছিলো।আমিই সেই।’
মাহের তখন চিনেন।
‘বলুন কি বলবেন?’
‘আপনি কি বিজি।’
‘জ্বি।’
‘আচ্ছা, তাহলে রাখি।’
মাহেরও এর পর আর কল দেন না।
সবসময়ই এমন করেন।লোকটা তো বুড়ো হয়ে যান নি যে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পাবে।তাহলে কেন পরিচিত নাম্বার বারবার ভুলে যান আর এশা নামটাও চিনতে পারেন না!

শেষবার সে খুব আকুতি মিশিয়ে বলেছিল, ‘আপনি আমাকে নিয়ে একটু সিরিয়াস হোন।’
মাহের সোজাসাপটা বলে দিয়েছেন, ‘আপনার এসব পাগলামি আপনার মাঝেই রাখুন।আমার জীবনের সাথে জড়ানোর কোনো মানে হয় না।আর আমিও চাইছি না।’
‘কেন?কারনটা বলুন।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২

‘সেটাও চাইছি না।আপনি শুধু শুধু আমার পিছনে পড়ে থাকবেন না।আমাকে কল দিয়ে বিরক্তও করবেন না।আপনার সাথে আমার কিছু ছিল নাই,আর নেই ও।’
এশা এসব কথা গায়ে মাখে না।প্রথম প্রথম ওর কষ্ট লাগতো।এখন সয়ে গেছে।শেষবার অমিকে দিয়ে ওর নাম্বারটা সেইভ করিয়ে নিয়েছিলো।এজন্যই বোধহয় লোকটা নাম্বার চিনে ব্লক করে রেখেছেন।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪