অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৮
রুপা
এই সময়ে শেহনাজ সরকারকে রুমে আশা করেনি পুষ্প। সে তড়িঘড়ি করে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে, যেই না কিছু বলবে তার আগেই শেহনাজ সরকার হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিলেন। তিনি এগিয়ে এসে পুষ্পকে নিজের কাছে নিয়ে এলেন, এক পলক তার মুখের দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল পুষ্পর ফর্সা গালে আর্যর পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে লাল হয়ে গেছে।
সেদিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। এবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আর্যর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—
– “কোন সাহসে পুষ্পর গায়ে হাত তুলেছ?”
আর্য মাথা নিচু করে চুপ করে রইল। আর্যকে চুপ করে থাকতে দেখে শেহনাজ সরকার আর নিজের রাগ সামলাতে পারলেন না, আর্যর গালে চড় মারার জন্য হাত তুললেন, কিন্তু মাঝপথেই হাত থেমে গেল পুষ্পর গলার স্বরে—
– “ফুফু-মনি, প্লিজ!”
পুষ্পর কান্নারত গলায় শেহনাজ সরকারের হাত থেমে গেল। আর্য অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকাল—কোনোদিন তার মা তার গায়ে হাত তোলেননি, আজকে মারতে যাচ্ছিলেন! শেহনাজ সরকার পুষ্পর দিকে তাকিয়ে বললেন—
– “এখনও চুপ করে থাকবি? ও তোর গায়ে হাত তুলেছে, রাগ উঠছে না? কোন মাটি দিয়ে তৈরি তুই? এত কিছুর পরেও একে বাঁচাতে চাইছিস! শুরু থেকে এই রুমে কী হয় না জানলেও আমি আন্দাজ করতে পারি। তবুও তোর মুখ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করেছি, তুই একবার বলবি সবকিছু। কিন্তু তুই শুরু থেকে সবকিছু সহ্য করছিস কেন? তোকে তো আমি বলেছি, আর্যর সাথে ছাড়াছাড়ি হলেও তোকে আমার সাথে রাখব। তাহলে কেন চুপচাপ সহ্য করছিস?”
শেহনাজ সরকারের কথায় পুষ্প কিছু বলল না, শুধু নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগল। এদিকে আর্য অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকায়, আবার পুষ্পর দিকে তাকাতেই তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল—পাঁচ আঙুলের লাল ছাপ ফুলে উঠেছে। এই আঘাত তারই দেওয়া! সে মেরেছে তার ফ্লাওয়ার কে। রাগের মাথায় আবারো আঘাত করেছে সে! আর্যর বুকে তীব্র হাহাকার করে উঠল—সে কেন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করল না?
অফিসে ডিজাইনের সমস্যা হয়েছিল, সেটা নিয়ে সে এমনিতেই বিরক্ত ছিল। অফিসের সবার ওপর রাগ ঝেড়ে ডিজাইন আবারো করতে বলেছিল। এমন সময় ফোনে আননোন নাম্বার থেকে সেই ছবিগুলো দেখে আর্য। এমনিতেই মেজাজ খারাপ ছিল, ছবিগুলো দেখে রাগ আরো বেড়ে যায়। তবুও আর্যর মনে পুষ্পকে নিয়ে ভুল ধারণা আসেনি, সে তড়িঘড়ি করে বাড়িতে এসেছিল শুধু পুষ্পকে ইভানের কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য। কিন্তু বাড়িতে ঢুকতেই কানে এল ইভানের সাথে পুষ্পর বিয়ের কথা বলছে ইভানের মা—সেটাতে যেন তার রাগের আগুন দ্বিগুণ হয়ে জ্বলে উঠল। তারপর বন্ধুর শেষ স্মৃতি—ডায়েরিটা পুষ্পর হাতে দেখে যেন অতীতটা সামনে এসে দাঁড়াল। আবারো মনে পড়ল ইভানের সাথে পুষ্পর ছবিগুলো। নারীদের প্রতি জমে থাকা ঘৃণা সবটুকু উগরে দিল পুষ্পর ওপর। এখন তার নিজের ভেতরেই সব দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। নিজেকেই নিজের মারতে ইচ্ছে করছে। কেন সে নিজের রাগ টা কান্ট্রোল করলো না? আর্যর ভাবনার মাঝেই শোনা গেল শেহনাজ সরকারের কণ্ঠ—
– “অনেক সহ্য করেছিস তুই, আর না! এতদিন আমি চেয়েছিলাম তুই যেন আর্যর সাথে থাকিস, কিন্তু আজ আমিই চাইছি—তুই চাইলেও আর আর্যর সাথে তোকে আমি রাখব না। তোদের ডিভোর্স হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তোদের ডিভোর্স হবে।”
শেহনাজ সরকারের কথা শুনে আর্যর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সে এতক্ষণ মাথা নিচু করে থাকা পুষ্পর দিকে তাকিয়ে ছিল, এবার চমকে মায়ের দিকে তাকাল। শেহনাজ সরকারের চোখ-মুখ শক্ত হয়ে আছে। আর্য কিছু বলবে, তার আগেই শেহনাজ সরকার বলে উঠলেন—
– “চুপ! আমি আর একটা কথাও শুনতে চাই না তোমার থেকে। তোমাকে অনেক সময় দিয়েছি, আর না। এবার যা করার আমি করব। আগামীকাল প্যারিস যাওয়ার আগে তুমি ডিভোর্স পেপারে সাইন করবে। ডিভোর্স পেপার রেডি আছে। সাইন করে দিয়ে যেখানে খুশি যাও, আমার কোনো মাথাব্যথা নেই!”
শেহনাজ সরকারের এত কথা শুনেও পুষ্পর মধ্যে কোনো হেলদোল নেই। সে একইভাবে অনুভূতিশূন্য হয়ে নিস্তেজ দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো নিচু করে আছে মেঝের দিকে, অবিরাম ধারায় গড়িয়ে পড়ছে নোনা পানি। শেহনাজ সরকারের মুখে ডিভোর্সের কথা শুনে পুষ্প আজ আর কিছু বলল না; সে আর কিছু বলবেও না। সে বুঝে গেছে, সে যতই যা-ই করুক না কেন, আর্য কোনোদিনও তাকে মেনে নেবে না। চাপে পড়ে হয়তো কয়েক দিন ভালো ব্যবহার করবে, কিন্তু মনমতো না হলেই আবারো তার ওপর রাগ ঝাড়বে—ঠিক যেভাবে এখন ঝাড়ছে।
অন্যদিকে, ‘ডিভোর্স’ শব্দটা বিষের মতো শোনাল আর্যর কাছে। ডিভোর্স? সে কিছুতেই ডিভোর্স দেবে না! তার ফ্লাওয়ার তারই থাকবে, সারা জীবন তারই থাকবে। সে রাগের মাথায় মেরেছে, সে আবার সবকিছু ঠিক করবে; কিন্তু ডিভোর্স—সেটা এই জীবনে দেবে না আর্য। সে এবার শেহনাজ সরকারের দিকে শান্ত কণ্ঠে বলল—
– “আমি ডিভোর্স দেব না, আম্মু!”
আর্যর কথা শুনে শেহনাজ সরকারের রাগের ওপর যেন ঘি পড়ল। তিনি চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন—
– “তোমার অনুমতি চাইনি আমি, সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। আর এটাই ফাইনাল। তুমি চাও বা না চাও, ডিভোর্স কালকেই হবে!”
– “সবসময় তোমার ডিসিশন হবে না, আম্মু!”
– “এটাই শেষবার। আর কোনোদিন তোমার জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত আমি নেব না। মা হিসেবে আমার এই শেষ সিদ্ধান্তটা মেনে নিয়ে শুধু ডিভোর্স পেপারে সাইন করে দাও। তারপর তোমার কোনো বিষয়ে আমি আর কথা বলব না।”
আর্য কিছু বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই শেহনাজ সরকার পুষ্পর হাত ধরে টেনে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। আর্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিজের মায়ের যাওয়ার দিকে। এই কি সে মা, যে জোর করে তাকে বিয়ে দিয়েছিল? যে সবসময় চেয়েছিল সে যাতে বিয়েটা মেনে নেয়? আর আজ সেই মা-ই নিজের শেষ দাবি হিসেবে নিজের ছেলের ডিভোর্স চাইছে! রাগের মাথায় করা একটা ভুলের জন্য কি ডিভোর্স করিয়ে দেবে? হঠাৎ আর্যর পুষ্পর কথা মনে পড়ল। তার ফ্লাওয়ারও কিছু বলছে না! তার মানে সে-ও কি ডিভোর্সের পক্ষে? সে না হয় রাগের মাথায় একটা ভুল করেছে!
হঠাৎ ভেতর থেকে যেন আর্যর আরেক সত্তা চিৎকার দিয়ে বলে উঠল—‘একটা ভুল? আর ইউ আউট অফ ইউর মাইন্ড? কিসের একটা ভুল? ভালো করে মনে করে দেখ, বিয়ের শুরু থেকে যা করে আসছিস সব অন্যাই। তুই ওই ছোট মেয়েটাকে মেন্টাল ও ফিজিকাল টর্চার করেছিস। ও কি এসব ডিজার্ভ করত? তোর মেয়েদের প্রতি ঘৃণা ছিল, তোর প্রবলেম। মেয়েদের প্রতি ট্রাস্ট ছিল না, তোর প্রবলেম। কিন্তু তুই শুরু থেকে ওই ছোট মেয়েটাকে ব্লেম করে এসেছিস। এখানে ওর কী দোষ ছিল? তোর মা বিয়ে দিয়েছে, ওই মেয়ে তো তোকে জোর করে বিয়ে করেনি। তাহলে ও কেন সাফার করবে? একদম ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তোর তো খুশি হওয়ার কথা! কোনো মেয়ে আর তোর আশেপাশে আসবে না, তুই সেলিব্রেট কর!’
– “নাহ!
হঠাৎ আর্য চিৎকার করে উঠল। নিজে নিজে বিড়বিড় করে বলতে লাগল—
– “নাহ, নাহ! সে খুশি না। হ্যাঁ, সে ভুল করেছে—শুরু থেকে ভুল করেছে। কিন্তু সে ওই মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারবে না! ডিভোর্স সে কিছুতেই দেবে না। আম্মু বললেই হলো নাকি? সে তার ফ্লাওয়ারকে তার করেই রাখবে। সে ছাড়বে না—তার ফ্লাওয়ারকে কিছুতেই ছাড়বে না!”
আর্য আর কিছু না ভেবে তাড়াহুড়ো করে ডায়েরিটা লকারে লক করে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তাকে আম্মুর সাথে কথা বলতে হবে, সে কিছুতেই ডিভোর্স দেবে না।
নিচে ইভানের মা-বাবা সবার সাথে কথা বলছেন। জেনিফার সরকার আর রেশমা, শেহনাজ সরকারের ওপরে যাওয়ার পরেও ওনারা সবার সাথে গল্প করছিলেন। সেখানে যোগ দিয়েছেন আমজাদ সরকার আর আহমেদ সরকার। হঠাৎ সেখানে ইভান নেমে আসে। সে একবার সবার দিকে তাকিয়ে মা-বাবাকে কিছু না বলেই বেরিয়ে গেল। ইভানের মা-বাবা কিছু জিজ্ঞেস করলে সে পরে আসবে বলে আগেই বেরিয়ে যায়।
ইভান বাইরে এসে নিজের বাইকে উঠে তীব্র গতিতে বেরিয়ে গেল। সরকার বাড়ির মেইন গেট দিয়ে সে কোথায় যাচ্ছে, তা সে নিজেও জানে না। হঠাৎ পরিষ্কার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেল। শুরু হলো তীব্র বর্ষণ। বৃষ্টির তোপে বাইক চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে, তবুও ইভান থামল না। সে বাইক চালিয়েই যাচ্ছে। হঠাৎ গাড়ির তীব্র হর্নের শব্দে ইভানের ঘোর কাটে। সে দ্রুত বাইক রাস্তার এক সাইডে নিয়ে দাঁড় করায়।
বাইক থেকে নেমে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে নিজের ওপর তাচ্ছিল্য করে হাসল। তার মনে পড়ছে শেহনাজ সরকারের বলা কথাগুলো। তখন শেহনাজ সরকারের পিছু পিছু ইভানও এসেছিল। সব কথা সে-ও শুনেছিল। পরে শেহনাজ সরকার তাকে আলাদা করে ডেকে বলেছিলেন—
– “ইভান, তুমি আমার আরেক ছেলের মতো। তুমি সব দেখেছ, শুনেছ। আমি এটাও জানি তুমি পুষ্পকে পছন্দ করো। কিন্তু পুষ্প আর্যর বিবাহিত স্ত্রী। হ্যাঁ, তুমি যদি বলো আর্য তো বিয়ে মানে না, তবুও পুষ্পর সাথে তোমার বিয়ে আমি দিতে পারব না। আমি এই মুহূর্তে পুষ্পর সাথে আর কারো বিয়েই দিতে চাই না। ও এইটুকু একটা মেয়ে, তাকে আর ভয়াবহ কিছুর সম্মুখীন করাতে চাই না। বিয়ের আগের জীবনও তার কষ্টে ভরা ছিল, বিয়ের পরের জীবনও কষ্টে ভরিয়ে দিয়েছে আমার ছেলে। তাই আমি দ্বিতীয়বার আর কিছু করতে চাই না, নতুন কিছুর অভিজ্ঞতা তাকে দিতে চাই না। এবার সে নিজের মতো করে বেড়ে উঠবে। বড় হয়ে, পূর্ণ ম্যাচিউর হয়ে সে নিজের জীবনের যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই সিদ্ধান্তের পাশে আমি থাকব। এর আগে আমি তার জীবনের সঙ্গে দ্বিতীয়বার অন্য কারো নাম জড়াব না। ও ভবিষ্যতে মনে করুক আমার সিদ্ধান্তে কিছু কমতি ছিল—আমি চাই ও বড় হয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুক, আমি শুধু ওর পাশে থাকব। ও যেটা করতে চাইবে, সেটাই করবে।”
ইভান কিছু বলেনি, চুপচাপ ‘ঠিক আছে’ বলে চলে এসেছে। নিজের ওপর করুণা হচ্ছে তার—একটা মেয়েকে প্রথম দেখায় ভালো লেগেছিল। স্কুল ড্রেস পরিহিত অবস্থায় কী মাসুম লেগেছিল সেই চেহারা! কত মায়াবী তার ওই দুটি চোখ! তার ভাগ্য কেন এরকম হলো? যাকে কপালে লিখল না, তাকেই কেন মনে ধরল?
বৃষ্টির পানি ইভানের পুরো শরীর ভিজিয়ে দিয়েছে। বেবি পিংক শার্ট শরীরে লেপ্টে গেছে। বৃষ্টির পানি কপাল ছুঁয়ে মুখ দিয়ে গড়িয়ে, থুতনি দিয়ে সোজা বুকে পড়ছে, ইভানের সেদিকে খেয়াল নেই। সে ভিজতে ভিজতে ভাবছে তার জন্য নিষিদ্ধ এক ফুলের কথা। ব্যবসার কাজে গিয়েছিল পুষ্পদের গ্রামে। সেখানে একটা স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। স্কুল ছুটির পর বেশিরভাগ স্টুডেন্ট চলে যাওয়ার পরে সবার শেষে দুটি মেয়ে বেরিয়েছিল। একটা মেয়ে চঞ্চল, আর একটা মেয়ে ভীতু। সেই ভীতু চোখ দুটো তার নজর কেড়েছিল। হঠাৎ ফোনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল বলেই হয়তো মায়াবিনীকে হারিয়ে ফেলেছিল। তারপর ভাগ্য তাকে আবার দেখা করাল বন্ধুর বউরূপে! কী নিষ্ঠুর তার ভাগ্য!
আর্য অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে শেহনাজ সরকারের রুমের বাইরে, কিন্তু রুমের দরজা খুলছে না। ভেতর থেকে দরজা নক করলে শেহনাজ সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দরজা খুলবেন না; অযথা বিরক্ত না করে নিজের রুমে গিয়ে নিজের ডিভোর্সের উদযাপন করতে। তবুও আর্য নড়ছে না। সে একইভাবে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, মাঝে মাঝেই নক করছে। শেহনাজ সরকার এবার বিরক্ত হয়ে দরজা খুললেন। আর্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—
– “সমস্যা কী তোমার? এভাবে দরজা নক করছ কেন?”
আর্য মায়ের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল—
– “তোমার সাথে কথা আছে আমার।”
– “আর্য, এখন আমি তোমার কোনো কথা শুনতে ইচ্ছুক নই। যা বলার কালকে ডিভোর্স পেপারে সাইন করার সময় বলো, তখন শুনব।”
– “আম্মু, আমি ডিভোর্স দেব না বলছি তো!”
– “তা ডিভোর্স কেন দেবে না শুনি? ওহ, বুঝতে পারছি! তখন রাগ ঝাড়ার মতো কাউকে পাবে না, যখন-তখন মারার মতো কাউকে পাবে না, কটু কথা শোনানোর জন্য কাউকে পাবে না—এই কারণেই ডিভোর্স দেবে না, তাই তো?”
শেহনাজ সরকার একটু থেমে চোয়াল শক্ত করে বললেন—
– “তুমি যদি ভেবে থাকো তোমার এই নাটকে আমি গলে গিয়ে ডিভোর্স কেনসেল করব, তাহলে তুমি ভুল। আমি আর কোনোভাবেই পুষ্পকে তোমার সাথে থাকতে দেব না, যে ওকে কথায় কথায় মেন্টালি ও ফিজিক্যালি টর্চার করবে।”
শেহনাজ সরকারের কথার বিপরীতে আর্য কিছু বলতে পারল না। বলবে কী করে? একটাও তো মিথ্যা কথা নয়, সব তো সত্যি। কিন্তু সে ভুল করেছে না অন্যায় করেছে—তাই বলে ডিভোর্স? সে মায়ের দিকে তাকিয়ে যেই না কিছু বলতে যাবে, শেহনাজ সরকার গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৭
– “গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। তোমার ফ্লাইট আছে কাল। সকালে ডিভোর্স পেপারে সাইন করে চলে যেও।”
বলেই তিনি দরজা বন্ধ করে দিলেন। আর্য অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল বন্ধ দরজার দিকে। তার কোনো কথাই শুনছে না তার মা। সে অন্যায় করেছে, সেটা মানছে; কিন্তু একটা সুযোগ তো দেওয়া উচিত। তার মা সত্যিই রেগে গেছেন। কিন্তু তাই বলে ডিভোর্স? বিয়ে করিয়েছেন বলে ডিভোর্সও করিয়ে দেবেন? এটা কোন ধরনের নিয়ম? তার মা জেদি হলে সেও তার মায়েরই ছেলে। সে কিছুতেই ডিভোর্স দেবে না তার ফ্লাওয়ারকে! তার ফ্লাওয়ার এখন রেগে আছে, আগে সেই রাগ ভাঙাতে হবে। কিন্তু রাগ ভাঙাবে কী করে? পুষ্পর কাছেই তো যেতে দিচ্ছে না তার মা!
