অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৩
রুপা
পুষ্প নিখোঁজ হওয়ার চব্বিশ ঘন্টা পুরো একদিন পেরিয়ে গেছে, কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে আবার সকাল হয়েছে—তবুও পুষ্পর কোনো সন্ধান নেই। সরকার বাড়ির সবাই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে পথের দিকে চেয়ে বসে আছে পুষ্পর খোঁজে, কিন্তু সব দিক থেকেই তারা হতাশ। শেহনাজ সরকার, আমজাদ সরকার, আহমেদ সরকার আর আহনাফ—এই চারজন সারারাত বাড়ির বাইরে ছিলেন পুলিশের সঙ্গে। আহনাফ সবাইকে জোর করে কিছুটা খাবার খাইয়েছে এই বলে যে, না খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে পুষ্পকে খুঁজবে কীভাবে?
সবাই দু-এক গ্রাস খেলেও মুখে কিছু তোলেননি শেহনাজ সরকার। তিনি ভেবে পাচ্ছেন না, পুষ্প গেল তো গেল কোথায়! সারারাত তাঁরা থানায় ছিলেন। এদের অবস্থা দেখে অনেক পুলিশ বিরক্ত—একটা মেয়ের জন্য তাদের রাতে ডিউটি করতে হচ্ছে! দিনে কত মিসিং কেস হয়, এমন মাতামাতি কে করে? কিন্তু ভয়ে মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস কারও নেই। ওপর থেকে এমপির কড়া অর্ডার আছে; আমজাদ সরকারের বন্ধু এলাকার এমপি, তাই বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পুষ্পর খোঁজে যেন কোনো গাফিলতি না হয়, তা না হলে তাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে। তাই বাধ্য হয়ে চোখ ডলে ডলে হলেও পুরো পুলিশ টিম কাজ করছে। আমজাদ সরকারের লোকজনের সঙ্গে পুলিশ ফোর্স পুরো ঢাকা উত্তরা আশেপাশের এলাকায় তন্ন তন্ন করে খুঁজছে।
নিষিদ্ধ গলিতে কোনো নতুন মেয়েকে আনা হয়েছে কিনা—সব তল্লাশি করা হয়েছে, কিন্তু সবদিক থেকেই তারা ব্যর্থ। সরকার বাড়ির সবাই যখন পুলিশের সঙ্গে পুষ্পর খোঁজে ব্যস্ত, ঠিক এমন সময় ঝড়ের গতিতে থানায় প্রবেশ করলেন স্বয়ং আব্রাহাম আর্য সরকার। আর্যকে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দেখে অবাক হলো বাড়ির সবাই। তার চেয়েও বেশি অবাক হলো আর্যর অবস্থা দেখে। সাদা শার্টের ওপরের বোতাম দুটো খোলা, সারাক্ষণ জেল দিয়ে সেট করে রাখা চুলগুলো উসকোখুসকো হয়ে আছে। চোখ দুটো টকটকে লাল, যেন একটু এদিক-ওদিক হলেই রক্ত গড়িয়ে পড়বে। কপালে শিরাগুলো রাগে ফুলে উঠেছে। আর্য ভেতরে এসেই শেহনাজ সরকারের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের রাগ চেপে রেখে গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়ল—
– “ও নিখোঁজ হয়েছে, আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করোনি আম্মু?”
আর্যর কথার বিপরীতে কিছুই বললেন না শেহনাজ সরকার। চোখ তুলে একবার তাকালেন নিজের ছেলের দিকে। ওনার চোখও আর্যর মতো টকটকে লাল হয়ে আছে। নিজের কান্না আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি অত্যন্ত শক্ত ধাঁচের মানুষ, কান্না তাঁর সাথে যায় না; কিন্তু এখন তাঁরও কান্না আসছে। নিজের পুষ্পকে নিজের কলিজার টুকরোর মতো আগলে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। কলেজের সময় ছাড়া বাড়িতে থাকাকালীন প্রতি ঘণ্টা অন্তর মেয়েটাকে তিনি দেখে রাখতেন। মেয়েটা কী করছে, খেয়েছে কিনা, মন খারাপ করে বসে আছে কিনা—সবকিছুর খেয়াল রাখতেন। আর এখন পুরো একদিন হয়ে গেছে মেয়েটা নিখোঁজ। শুধু তিনি-ই জানেন তাঁর ভেতরে কী চলছে। এই মুহূর্তে আর্যর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অবস্থায় তিনি নেই। তিনি কী উত্তর দেবেন? তিনি তো আর্যকে খবর দেওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। ওনার মনে ছিল শুধু একটাই কথা—যে কোনো মূল্যে পুষ্পকে খুঁজে পেতে হবে। মেয়েটা কেমন আছে? ভালো আছে তো? দেশের যে অবস্থা, অহরহ খারাপ ঘটনা ঘটছে মেয়েদের সাথে। শত শত কেস ওনাদের কাছে আসে; ওনার মেয়েটা কেমন আছে, কে জানে? মেয়েটা যে বড্ড নাজুক, এখনও তাঁকে ছাড়া চলতে শেখেনি! সবেমাত্র মেয়েটার মন থেকে ভয় কাটাতে শুরু করেছিলেন তিনি। এখন যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাহলে তাঁর ফুলের মতো মেয়েটা যে অকালেই ঝরে যাবে!
শেহনাজ সরকারকে চুপ করে থাকতে দেখে আর্য এবার চিৎকার করে উঠল—
– “চুপ করে আছ কেন আম্মু? একবার খবর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করোনি যে ও নিখোঁজ? গতকাল দুপুর থেকে ও নিখোঁজ, আর আমি খবর পাইনি কেন? ড্যাম ইট!”
– “গলার আওয়াজ নিচে নামাও আর্য! ভুলে যেও না, তুমি তোমার মায়ের সাথে কথা বলছ।”
আর্যর চিৎকার শুনে আমজাদ সরকার গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন। ওনার সামনে ওনার স্ত্রীর সাথে কেউ উঁচু গলায় কথা বলবে এটা উনি বরদাস্ত করবেন না সে ওনার ছেলেই হোক না কেন? বাবার কথা শুনে আর্য বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে নিজের রাগ সংবরণের আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। দুই হাতে নিজের চুল খামচে ধরল সে। আর্য যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। পুষ্পর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে, হোটেল রুমে অস্থিরতায় কিছুতেই শান্ত হতে পারছিল না সে। ড্রাইভারকে বারবার কল করেছে, রিসিভও হয়নি। অনেকবার কল করার পর যখন খবর পেল যে পুষ্প নিখোঁজ, আর্য আর কিছু না ভেবেই জরুরি ফ্লাইট বুক করে। ভাগ্য ভালো থাকায় ফ্লাইট পেয়েও যায়। সতেরো-আঠারো ঘণ্টা জার্নি করে সে সোজা এসেছে থানায়।
আর্য পাশের চেয়ারে সজোরে লাথি দিল। পাশের পুলিশরা কেঁপে উঠল। এমনিতেই গতকাল থেকে থানায় ঝড় বইছে, একটু এদিক-ওদিক হলেই হুঙ্কার ছাড়ছেন শেহনাজ সরকার। এর ওপর আর্যর আগমন! পুলিশ কনস্টেবলরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বিরবির করছে—এতজন কি কম ছিল যে এখন আবার আরেকজন এসেছে? কিন্তু কারও মুখ খোলার সাহস নেই।
আর্যর এই রুদ্রমূর্তি দেখে পুলিশ অফিসার বলে উঠলেন—
– “স্যার, শান্ত হন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন তাড়াতাড়ি মেয়েটিকে খুঁজে পাই।”
আর্য এবার ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ অফিসারের দিকে তেড়ে গিয়ে কলার চেপে ধরে গর্জে উঠল—
– “চেষ্টা? কী চেষ্টা করছিস তোরা? চব্বিশ ঘণ্টা হয়ে গেছে আমার বউ নিখোঁজ! এই তোদের চেষ্টা? তোদের এই ব্যর্থতার কারণে যদি আমার বউয়ের কিছু হয়, তবে আই সয়্যার, তোদের কাউকে আমি অক্ষত রাখব না!”
আর্যর মুখে ‘বউ’ শব্দটা শুনে সবাই অবাক হলো। অন্য সময় হলে হয়তো তারা ভীষণ খুশিই হতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম। যাকে আর্য বউ স্বীকার করছে, সেই তো নেই! আমজাদ সরকার এগিয়ে এসে ছেলের হাত থেকে পুলিশের কলার ছাড়িয়ে নিলেন। তারপর শান্ত কণ্ঠে বললেন—
– “আর্য, রাগ কমাও। এখন রাগ করার সময় নেই, আমাদের হাতে সময় কম। আগে পুষ্পমাকে খুঁজতে হবে।”
– “রাগ করব না তো কী করব? চব্বিশ ঘণ্টা হয়ে গেছে আমার বউ নিখোঁজ! তোমরা কেউ আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করোনি? আমার কি জানার অধিকার ছিল না যে আমার বউ নিখোঁজ?”
আর্যর কথার বিপরীতে আমজাদ সরকারও চুপ করে গেলেন। আসলে তাঁরা ভুল করেছেন। আর্যকে না জানিয়ে তাঁরা পুষ্পকে খোঁজার কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, আর্যকে জানানোর কথা মাথায় আসেনি। মাথায় আসবেই বা কীভাবে? যে ছেলে সবসময় বলে—‘ও আমার বউ নয়’, ‘এই বিয়ে মানি না’—তাঁরা ভেবেছিলেন জানালে বা কী হবে? হয়তো বলবে, ‘তোমাদের মেয়ে হারিয়েছে, আমি কী করব? তোমরা খোঁজো।’ অবচেতন মনে এই ভাবনা থেকেই হয়তো তাঁরা জানাননি। কিন্তু আর্য তাঁদের ভাবনা ভুল প্রমাণ করল। আর্য খবরটা জানল কীভাবে? বাড়ির কেউ বলেছে কি?
এদিকে আর্যর কথার বিপরীতে এবার শেহনাজ সরকার চুপ করে থাকলেন না। তিনি আর্যর মতোই রাগী গলায় বললেন—
– “প্রয়োজন মনে করিনি তোমাকে জানানোর। কে তুমি? তোমাকে কেন জানাব? ও আমার মেয়ে। আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না, আমিই খুঁজব। মনে আছে? বলেছিলে না—ও তোমার বউ নয়, তুমি ওকে বউ মানো না? এখন কোন অধিকারের প্রশ্ন করছ তুমি? কোনো অধিকার নেই তোমার ওর ওপর! যেখান থেকে এসেছ, সেখানে যাও। আমার মেয়েকে আমি ঠিকই খুঁজে বের করব!”
কথাগুলো বলেই পুলিশদের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন—
– “আপনারা যা করার করুন, যত ফোর্স লাগে লাগান—কিন্তু আমার মেয়ের খোঁজ বের করুন।”
বলেই আর কোনো কথা না বলে রাজকীয় ভঙ্গিতে প্রস্থান করলেন শেহনাজ সরকার। আমজাদ সরকারের ইশারায় আহনাফও বেরিয়ে গেল বড় মায়ের সঙ্গে যাওয়ার জন্য। এদিকে আর্য বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার অপরাধ কি এতটাই বেশি ছিল যে তার ‘ফ্লাওয়ার’-এর নিখোঁজ হওয়ার খবরটা পর্যন্ত জানাল না? হ্যাঁ, অপরাধ তো বেশিই ছিল! তার মা তো ঠিকই বলেছেন, তার তো কোনো অধিকারই নেই। তবে আর্যর ভাবনায় সেই প্রশ্ন বেশিক্ষণ জায়গা পেল না। অধিকার নেই বললেই হলো নাকি? অধিকার আছে, বরং সবচেয়ে বেশি আছে! একবার শুধু তার ফ্লাওয়ারকে খুঁজে পাক, তারপর পুরো দুনিয়া দেখবে তার ফ্লাওয়ারের প্রতি তার অধিকার কত বেশি ও কতটা তীব্র!
আর্য গম্ভীর মুখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল—
– “আব্বু, তোমার বউকে বলে দিও—দ্বিতীয়বার যেন আমার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। ভুলে যেও না, তোমার বউয়ের চেয়ে আমার অধিকার বেশি ওর ওপর। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি আমার বউকে নিয়ে আলাদা হয়ে যাব, আর তোমার বউকে আমার বউয়ের আশেপাশেও ঘেঁষতে দেব না।”
এমন সিরিয়াস মুহূর্তে ছেলের এমন কথা মোটেও পছন্দ হলো না আমজাদ সরকারের। এমনিতেই কাল থেকে মেয়েটার টেনশনে ওনার স্ত্রী নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি এবার দাঁতে দাঁত চেপে বললেন—
– “তার আগে তোমার ‘না-মানা’ বউকে খুঁজে বের করো। তারপর দেখা যাবে কে কার বউকে কার কাছে না ঘেঁষতে দেয়!”
– “তো তুমি কী ভেবেছ, আমি আমার বউকে খুঁজে বের করতে পারব না?”
– “খুঁজতে পারলে যাও না, খুঁজছ না কেন? আমার মাথা কেন খারাপ করছ?”
আর্য সত্যি সত্যি আর কিছু বলল না, থানা থেকে বেরিয়ে যেতে লাগল। সে আগে তার ছোট্ট পিচ্চি বউটাকে খুঁজে বের করবে, তারপর সব কটাকে দেখে নেবে। সব কটা মীরজাফর! সে না হয় কাজের প্রয়োজনে বিদেশে গিয়েছিল, তাই বলে বউটাকে একটু দেখে রাখবে না? তার বউয়ের কিছু হলে সে কাউকে ছাড়বে না!
এদিকে আমজাদ সরকার অবাক না হয়ে পারছেন না। যে ছেলে শুরু থেকে বিয়ে মানে না, বউ মানে না করে আসছে; সেই ছেলেই এখন এমন ‘বউ-বউ’ করছে! তিনি মাথা ঝেড়ে সব ভাবনা ফেলে পুলিশ অফিসারদের আবারও তাড়া দিতে লাগলেন। তারপর পুলিশদের নিয়ে পুষ্পর খোঁজে বেরিয়ে গেলেন।
শেহনাজ সরকার বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। গোসল সেরে, পরনের শাড়ি পাল্টে ওযু করে নামাজে দাঁড়ালেন। দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাইতে লাগলেন—নিজের পুত্রবধূরূপী মেয়েটির সুস্থতা ও অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানাতে লাগলেন। সব রাস্তা যেখান থেকে বন্ধ হয়, ওপরওয়ালা সেখান থেকেই নতুন রাস্তা তৈরি করে দেন। শেহনাজ সরকারও আল্লাহর শরণাপন্ন হয়েছেন। ওপরওয়ালাই একমাত্র ওনার মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারেন। ওনার মতো শক্ত মানুষের চোখ ছাপিয়েও বেরিয়ে এল তপ্ত অশ্রু।
যেদিকে পুলিশ অফিসার আর আমজাদ সরকারের লোকেরা পুষ্পর কোনো খোঁজ বের করতে পারল না, সেখানে আর্য মাত্র তিন ঘণ্টায় পুষ্পর লোকেশন বের করে ফেলল। লোকেশন দেখে আর্য ভীষণ অবাক হলো—তার ‘ফ্লাওয়ার’ এমন জায়গায় কী করছে? আর্য যেখান থেকে ঘটনার শুরু, সেখান থেকেই আবার তদন্ত শুরু করল। কোর্টের যেদিক থেকে পুষ্প নিখোঁজ হয়েছে, সেই পাশে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকলেও, যেদিকে ক্যামেরা ছিল—সেই ফুটেজগুলো সে শুরু থেকে আবার জুম করে দেখতে লাগল।
অনেক খেয়াল করার পর সে দেখতে পেল, একটা লোক বারবার এক জায়গায় ঘুরঘুর করছে। বারবার সেদিকে তাকাচ্ছে, যেদিকে শেহনাজ সরকারের গাড়ি পার্ক করা ছিল। কিছুক্ষণ পর সে কাউকে ফোন করে কিছু একটা বলল এবং যেদিকে সিসিটিভি ফুটেজ নেই, সেদিকে চলে গেল। তার কিছুক্ষণ পরই শেহনাজ সরকার ফাইল নিয়ে কোর্ট থেকে বের হয়ে পুষ্পকে খুঁজতে শুরু করলেন। আর্যর খটকা লাগল; সন্দেহ নেই, এই লোকটাই তার ‘ফ্লাওয়ার’-এর সাথে কিছু করেছে। আর্য একবার তার ‘ফ্লাওয়ার’-এর খোঁজ পেয়ে গেলে সব কটাকে জাহান্নাম দেখাবে!
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩২
সিসিটিভি ফুটেজ জুম করে লোকটার চেহারার ছবি নিয়ে আর্য তার পরিচিত নিউজ চ্যানেলে পাঠিয়ে দিল। ঘোষণা দিল, সেই লোকের খোঁজ দিতে পারলে তাকে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। সাথে সাথে আর্যর ফোনে এদিক-সেদিক থেকে কল আসছে, কিন্তু একটাও কাজের কল নয়। যখন চারদিক থেকে হতাশায় ঘিরে ধরেছিল, এমন সময় আর্যর মনে পড়ল পুষ্পর নূপুরের কথা—যাতে সে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে রেখেছিল। পুষ্পর পায়ে নূপুর ছিল, পুষ্প নুপুর পরে বুঝতে পেরে আর্য তার জন্য একজোড়া নূপুর কাস্টমাইজ করে বানিয়েছিল। তাতে ডায়মন্ডের ভেতর জিপিএস ট্র্যাকার সেট করা ছিল। কারণ, আর্য সবসময় পুষ্পকে নিজের নজরে রাখতে চেয়েছিল; সে আশেপাশে না থাকলে যেন তার লোকেশন দেখতে পারে। আজ সেটাই আর্যকে সাহায্য করল তার ‘ফ্লাওয়ার’-এর লোকেশন খুঁজে পেতে।
