Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৭

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৭

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৭
রুপা

– “উমম… উমম, সরকার সাহেব, ছাড়ুন!”
রমণীর কথা যেন আর্যর কানেই গেল না! সে তো এই মুহূর্তে পুষ্পর ঠোঁটে নিজের রাগ ঝাড়তে ব্যস্ত। এদিকে পুষ্প নিঃশ্বাস নিতে না পেরে ছটপট করছে, তবুও আর্যর মধ্যে কোনো হেলদোল নেই। সে এই মুহূর্তে ভীষণ রেগে আছে, আর সেই রাগ উগরে দিচ্ছে রমণীর অধরযুগলে—চুমুর চেয়ে বেশি যেন কামড় বসাচ্ছে! পুষ্প আর্যর দাঁতের দংশন সহ্য করতে পারছে না, তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে, ঠোঁট দুটো ভীষণ জ্বলছে, তবুও আর্যর ছাড়ার নাম নেই। পুষ্প বুঝতেই পারেনি এমন কিছু হবে!

কোনো রকম সতর্কতা ছাড়াই আর্য পুষ্পকে নিয়ে রুমে ঢুকে স্নিগ্ধর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। রমণী কিছু বলবে, তার আগেই আর্য রমণীর ওষ্ঠাধর নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিল। ভীষণ আগ্রাসী হয়ে উঠল সে! প্রথমবার যতটা না সফট ছিল, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রাফলি কিস করা শুরু করল। আর্যর কামড়ে পুষ্পর ঠোঁট থেকে রক্ত বের হতে শুরু করেছে! জিভে নুনতা স্বাদ পেতেই আলগোছে ছেড়ে দিল সে।
আর্য ছেড়ে দিতেই পুষ্প বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে লাগল। আর কিছুক্ষণ হলে নিশ্চয়ই দমবন্ধ হয়ে মারা যেত সে! আর্য নিজেও বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে, যেগুলো রমণীর মুখে গিয়ে আঁচড়ে পড়ছে। পুষ্প নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে অশ্রুসিক্ত আঁকি যুগল তুলে তাকাল ক্রূর মানবের দিকে। কিন্তু রমণীর অশ্রুসিক্ত চোখ দুটো যেন আজকে ওই মানবের মনে ঝড় তুলতে সক্ষম হলো না—হবে কী করে, যেখানে আগেই ঝড়ের তাণ্ডব চলছে? রমণী কিছু বুঝে ওঠার আগেই আর্য পুষ্পর চোয়াল চেপে ধরল। খুব জোরে ধরল না, আলগোছে ধরল যেন মেয়েটা বেশি ব্যথা না পায়। তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বলল—

– “আমি দূরত্ব বাড়িয়েছি তুমি কাছে আসার জন্য! এই জন্য নয় যে, আমার দূরত্বে তুমি কাছে আসার পরিবর্তে অন্য কারো সাথে হেসে হেসে কথা বলবে।”
আর্যর কথা শুনেও পুষ্প কিছু বলল না, হুট করে আর্যকে জাপটে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল। আর্যর চওড়া বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগল পুষ্প। রমণীর কান্না দেখে আর্য আজকে আর বিচলিত হলো না, অদ্ভুতভাবে স্থির হয়ে রইল। প্রতিবারের মতো এবার আর কাছে টেনে নিয়ে পাল্টা জড়িয়ে ধরে আগলে নিল না। এদিকে আর্যকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুষ্পর কান্না বাড়ল বই কমল না! কাঁদতে কাঁদতে একসময় রমণী হেঁচকি তুলতে লাগল—একটু হলে যেন নিঃশ্বাস আটকে আসবে!
আর্য এবার বাধ্য হয়ে পুষ্পর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। আর্যর ছোঁয়া পেয়ে আস্তে আস্তে রমণী শান্ত হতে লাগল। এর মধ্যেই শোনা গেল পুরুষালি, রাশভারী, গম্ভীর কণ্ঠস্বর—

– “এখন কাঁদছ কেন?”
সবসময় চুপ করে থাকা পুষ্প আর চুপ করে রইল না। নাক টানতে টানতে সে বলে উঠল—
– “আপনি আমার থেকে দূরে দূরে কেন থাকছেন?”
– “এই কারণে কাঁদছ?”
রমণী উত্তর দিল না, হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আর্যর কোমর। পুষ্পর চুপ থাকা আর্যর সহ্য হলো না। আবারও সে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
– “হোয়াই আর ইউ ক্রায়িং?”
পুষ্প এবারেও চুপ রইল, কিছু বলল না। শুধু আর্যর বুকে লেপ্টে রইল। কিন্তু পুষ্পর চুপ করে থাকা যেন আর্যর পছন্দ হচ্ছে না। তাই তো নিজের কন্ঠ আরও কয়েক ধাপ গম্ভীর করে বলে উঠল—
– “চুপ করে আছো কেন? উত্তর দাও।”
আর্যর গম্ভীর কণ্ঠ শুনে রমণী আবারও ঝরঝর করে কেঁদে উঠল। সেভাবেই কাঁদতে কাঁদতে ধরা গলায় বলল—

– “আমার কান্না পাচ্ছে, তাই কাঁদছি।”
– “কান্না পাওয়ার কারণ?”
– “জানি না!”
– “না জানলে সরো, ছাড়ো আমাকে! আমি শাওয়ার নেবো।”
আর্যর কথা শুনে পুষ্প এবার আর্যকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
– “আপনি আবার আগের মতো দূরে চলে যাবেন?”
পুষ্পর কথা শুনে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল আর্য। কণ্ঠ আরও গম্ভীর করে বলল—
– “হ্যাঁ, যাবো তো!”
আর্যর কথা শুনে রমণীর মনে আবারও অভিমানের পাহাড় জমে উঠল, তবুও সে আর্যকে ছাড়ল না। অভিমানী সুরে অভিযোগ করে বসল—
– “দূরে যাওয়ার হলে আমার কাছে কেন এসেছেন? আর কাছে এসেছেন যখন, আবার দূরে কেন যেতে চাইছেন?”
পুষ্পর কথার কোনো জবাব দিল না আর্য। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে পুষ্প আবারও বলে উঠল—

– “বলছেন না কেন, কেন দূরে যাবেন?”
– “আমি দূরে গেলে তোমার কী আসে-যায়? তুমি তো দিব্যি ভালো আছো—শাশুড়ির সাথে কলেজে যাচ্ছ, ফ্রেন্ডের সাথে কলেজে আড্ডা দিচ্ছ। এখন আবার তোমার ফেভারিট সিমরানের বিয়ে হবে, সেখানে আনন্দ করবে! সবাই তো তোমার কাছে আসে, আমি দূরে গেলে বরং তোমার খুশি হওয়ার কথা!”
আর্যর কথার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত অভিমানের ছোঁয়া বুঝতে পারল কি না কে জানে পুষ্প! কথাগুলোর গভীরতা কতটা আঁচ করতে পারল রমণী, তা বোঝা গেল না; বরং সে আবারও কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতেই বলতে লাগল—
– “খুশি হওয়ার কথা হলে খুশি হতে পারছি না কেন? ফুফুমণির সাথে কলেজে যাওয়ার সময় আগে কত গল্প করতাম, এখন শুধু আপনার কথাই মনে পড়ে! আগে কলেজে সারার সাথে গল্প করার সময় কারও কথা মনে পড়ত না, এখন ওর সাথে গল্প করতে গেলেও আপনার কথা মনে পড়ে, আপনার মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। খেতে গেলে খাবার গলা দিয়ে নামতে চায় না, আপনার হাতে খাওয়ার ইচ্ছে হয়! ফুফুমণির হাতে খেলে পেট ভরলেও মন ভরে তৃপ্তি পায় না। ঘুমাতে গেলে ঘুম আসে না, অস্থির লাগে, বিছানায় এপাশ-ওপাশ করা লাগে—আপনার বুকে ঘুমানোর শখ জাগে কেন আমার?”

পুষ্পর এত এত অভিযোগ শুনে আর্যর ঠোঁট প্রসারিত হলো। সে তো এটাই চেয়েছিল! তার ফ্লাওয়ার তার কথা ভেবে ছটফট করুক, তাকে ছাড়া আর কিছুই যেন না বোঝে, যেখানেই থাকুক সবসময় যেন তার ভাবনাতেই বিভোর থাকে এবং নিজে থেকেই তার কাছে ছুটে আসুক—সে সফল হয়েছে। গত তিন দিন সে পুষ্পর সামনে না এলেও, পুষ্প ঘুমোনোর পরে প্রতিদিন সে পুষ্পকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছে, আবার সে ওঠার আগেই অফিসের উদ্দেশ্যে চলে গেছে।
কয়েক দিন অফিসে না যাওয়ার কারণে অনেক কাজ জমে গিয়েছিল, মিটিং পেন্ডিং ছিল—সেগুলো সামলেছে। তবুও ড্রাইভারকে দিয়ে পুষ্পর ওপর নজর রেখেছে। আজ মিটিং না থাকায় সে তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসেছিল মায়ের কথায় সিমরানের বিয়ের কেনাকাটায় যাওয়ার জন্য। প্রথমে তাকে জানালে সে আসতে না চাইলেও পরে ঠিকই চলে এসেছে কারণ তার বউকে নিয়ে যাবে শপিং এ। নিজের বউকে কি আর অন্য কারো সাথে ছেড়ে দেওয়া যায়? সে ছাড়া তার বউ কেনই বা যাবে? কিন্তু এসে দেখল, স্নিগ্ধর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে পুষ্প! ব্যস, অমনি রাগ চড়ে বসল মাথায়। সে তিন দিন বউয়ের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে শুধু দূরত্বটা বোঝানোর জন্য, যাতে বউ তার গুরুত্ব বুঝে নিজে থেকে তার কাছে আসে। কিন্তু তার সেই দূরত্বে বউ অন্য কারো সাথে হেসে হেসে কথা বলবে—এটা তার সহ্যের বাইরে! তাই তো ওভাবে মেয়েটার ওপর রাগ ঝেড়েছে সে।
এবার সে মৃদু কণ্ঠে বলল—

– “আমার বুকে ঘুমানোর শখ জাগে? আমার হাতে খাওয়ার ইচ্ছে হয়? বাকিদের সাথে থাকলেও আমার কথা মনে পড়ে? তাহলে আমার কাছে আসোনি কেন? এখনো তো আমি এসেছি দেখেই তুমি আমার কাছে এলে!”
– “আপনি তো আমি ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে যেতেন, আবার রাতেও আমি ঘুমোনোর পরে বাড়িতে আসতেন! তাহলে আমি আপনার কাছে কীভাবে যাবো?”
– “কেন, ফোন করা যেত না?”
– “আমার কাছে তো ফোন নেই!”
– “বাড়িতে কি ফোনের অভাব পড়েছে?”
পুষ্প চুপ করে রইল। কী জবাব দেবে সে? ওটা তো সে ভেবেই দেখেনি! ভাবলেও কোথাও একটা ভয় কাজ করত—যদি সরকার সাহেব রাগ করেন!
পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে আর্য আবার গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “শুধু আমি কাছে গেলেই যদি তুমি কাছে আসো, তাহলে তোমার কাছে আমার গুরুত্ব কোথায়?”
– “আপনিই তো বলতেন, আমি যেন আপনার থেকে দূরে দূরে থাকি! আমি কাছে গেলে যদি আপনি আবার রেগে যান?”
– “আমি রাগ না করলে আমার কাছে আসবে?”
পুষ্প কোনো উত্তর দিল না মাঝে মাঝে নাক টানছে। আর্যও উত্তরের আশায় থাকল না, নিজেই বলে উঠল—
– “আচ্ছা, আমি আর রাগ করব না। তোমার থেকে দূরেও যাবো না। এখন কান্না বন্ধ করো।”

আর্য গোসল সেরে রেডি হচ্ছে, একটু পরে সবাই শপিংয়ে যাবে। আজকে ফরমাল ড্রেস-আপ চেঞ্জ করে ক্যাজুয়াল ড্রেস পরেছে সে—সাদা কাংকি প্যান্টের সাথে বটল গ্রিন শার্ট; বলিষ্ঠ পেটানো শরীরে বেশ মানিয়েছে তাকে! পুষ্প নিজেও গোসল করে বেরিয়ে এসেছে, তার পরনে বটল গ্রিন কাজ করা থ্রি-পিস। বারান্দায় গিয়ে নিজের এবং আর্যর ভেজা কাপড়গুলো মেলে দিয়ে এল সে।
পুষ্প আসতেই আর্য টাওয়েল নিয়ে পুষ্পর মাথা মুছে দিতে লাগল। পুষ্প আড়চোখে আর্যর দিকে তাকিয়ে দুই হাত কচলাতে লাগল, যেন কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। আর্য সেটা খেয়াল করেও কিছু বলল না। পুষ্পর চুল মোছা শেষ করে তাকে খাটে বসাল আর্য, তারপর ফার্স্ট এইড বক্স বের করে সেখান থেকে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম নিয়ে পুষ্পর ঠোঁটে লাগিয়ে দিতে লাগল। কাটা জায়গায় ঔষধি লাগতেই জ্বলে উঠল! রমণী ‘আহ!’ করে ব্যথাতুর ক্ষীণ শব্দে আর্তনাদ করে উঠল এবং চোখ খিচে বন্ধ করে ফেলল, মুখের মাঝে ব্যথার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রমণীর ব্যথাতুর আর্তনাদে আর্য অস্থির হয়ে উঠল—

– “সরি, ফ্লাওয়ার, সরি! আর এরকম হবে না।”
আর্যর মুখের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জ্বালাটা পুষ্পর ঠোঁটে নয়, আর্যর নিজের ঠোঁটে হচ্ছে এবং সেই ব্যথা সে নিজেই অনুভব করছে! আর্যর এখন নিজের ওপরই রাগ হচ্ছে—সে কেন নিজের রাগ কন্ট্রোল করল না? এখন কী রকম কষ্ট পাচ্ছে তার ফ্লাওয়ার! পুষ্পর ঠোঁট ফুলে লাল হয়ে গেছে, আর্যর দাঁতের দংশনে অনেকটাই কেটে গেছে। আর্য ফুঁ দিতে দিতে ওষুধ লাগানো শেষ করে সেই ঠোঁটে আদুরে চুমু দিল শব্দ করে।
– “সরি, ফ্লাওয়ার।”
– “আপনি বারবার ক্ষমা চাইছেন কেন?”
রমণীর কথার কোনো উত্তর দিল না আর্য, বরং অদ্ভুতভাবে বলল—
– “সামনে এর চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট দেবো, আবার সেই কষ্ট নিবারণও করব আমি।”

আর্য আর পুষ্প বসে আছে গাড়ির সামনের সিটে, আর পেছনের সিটে বসে আছে সারা। পুষ্প আর্যকে বলেছিল সে সিমরানের বিয়েতে সারাকে আমন্ত্রণ জানাতে চায়। বউ প্রথমবার তার কাছে কিছু চেয়েছে, আর আর্য সেটা রাখবে না—তা কি করে সম্ভব? তাই তো আর্য নিজে তার ফ্লাওয়ারকে নিয়ে সারাকে আনতে গেছে। সারা যদিও আসতে চায়নি, তবুও পুষ্প জোর করায় পরে সে রাজি হয়েছে।
কিছুক্ষণের মাঝেই আর্যর গাড়ি এসে থামল সরকার বাড়ির মূল ফটকে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আর্য অপর পাশের দরজা খুলে একটু ঝুঁকে নিজে পুষ্পর সিট বেল্ট খুলে দিল এবং পুষ্পের বের হওয়ার জন্য এক পাশে দাঁড়িয়ে রইল। সারা অবাক হয়ে দেখছে শুধু আর্যর কাজকর্ম! একটা পুরুষ একটা মেয়েকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে এমন হতে পারে, তা তার বোধগম্য হলো না। সে শুরু থেকেই দেখছে—পুষ্পর পানির তৃষ্ণা পাওয়ার আগেই সে পানির বোতল এগিয়ে দিচ্ছে, কপালে এক বিন্দু ঘাম জমার আগেই সযত্নে তা মুছে দিচ্ছে, গাড়িতে ওঠার আগে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকছে, নিজে সিট বেল্ট বেঁধে দিচ্ছে এবং নেমেও আবার নিজে দরজা খুলে সিট বেল্ট খুলে দিচ্ছে! সারা ভীষণ খুশি হলো বান্ধবীর এমন সুখ দেখে।
পুষ্প বেরোতেই সারাও বেরিয়ে এল, দুজনে আগে আগে হাঁটতে লাগল। আর্যর ফোনে কল আসায় সে কথা বলতে বলতে তাদের পেছন পেছন হাঁটতে লাগল। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই সারার নজর গিয়ে আটকাল সোফায় বসা স্নিগ্ধর ওপর! সে যেন এতক্ষণ ধরেই তার অপেক্ষাতেই ছিল, চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে সদর দরজার দিকে।
সরকার বাড়িতে স্নিগ্ধকে একদমই আশা করেনি সারা, সে যেন অবাক হতেই ভুলে গেল! সে কি কোনোভাবে ভুল দেখছে না তো? সারার হাঁ হয়ে যাওয়ার মতো চেহারাটা দেখে স্নিগ্ধ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।

– “পুষ্প, স্নিগ্ধ স্যার এখানে কী করছে?”
সারার প্রশ্নে পুষ্প মৃদু হেসে বলল—
– “সারা, আমি তো তোকেই বলতেই ভুলে গেছি! সিমরান আপুর বিয়ে হচ্ছে স্নিগ্ধ স্যারের সাথে।”
কথাটা শুনে যেন সারার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল! বুকে যেন কেউ খামচে ধরল, তীব্র যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল ভেতরটা। অজান্তেই চোখের কোণ ভিজে উঠল তার—বিয়ে? এই লোকের বিয়ের দাওয়াতে খেতে এসেছে সে! হঠাৎ রমণী তাচ্ছিল্য করে হাসল। এই লোক সাত দিন আগেও তার পেছনে ঘুরঘুর করেছে, বউ বউ বলে তার মাথা খারাপ করেছে, আর এখন সে বিয়ে করছে! রমণী অনুভব করল, তার এই মুহূর্তে ভীষণ কান্না পাচ্ছে। নিজের কান্না আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল সে, ঢোক গিলে কান্নার কুন্ডলীটাকে নিজের ভেতরে গলাধঃকরণ করতে চাইল। ভীষণ কষ্টে ঢোক গিলল সে, গলায় যেন কাটার মতো বিঁধছে! মনে ঝড় উঠলেও বাইরে তা প্রকাশ করল না। চোখের জল আড়াল করে ছোট করে সে শুধু বলল—

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৬

– “ওহ!”
পুষ্প সারাকে নিয়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। সারা সবাইকে সালাম দিয়ে কোশল বিনিময় করল। শেহনাজ সরকার এবার সবাইকে তাড়া দিলেন বেরোনোর জন্য, এতক্ষণ পুষ্পর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন ওনারা। সবাই মিলে ঠিক করল তিনটা গাড়িতে যাবে—একটাতে সিমরান, স্নিগ্ধ, শিফা, নিশি, আহনাফ যাবে; আরেকটাতে যাবে বাড়ির বড়রা; আর পুষ্প ও সারা যাবে আর্যর সাথে। কিন্তু স্নিগ্ধ আর্যর সাথে কথা বলে সারাকে নিজের গাড়িতে বসাল!

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here