Home অস্তরাগের রঙ অস্তরাগের রঙ পর্ব ২৭ (২)

অস্তরাগের রঙ পর্ব ২৭ (২)

অস্তরাগের রঙ পর্ব ২৭ (২)
তেজরিন উম্মীদ

— “তুমি তো দিন দিন রোমান্টিক হয়ে যাচ্ছ বউ!”
রুশদীর বুকের ভেতরটা তখন অদ্ভুত এক লজ্জায় তোলপাড় হচ্ছে। ফারাজকে হঠাৎ এভাবে সামনে দেখে ফেলার আকস্মিকতায় নিজের আবেগকে সে বাঁধ দিয়ে রাখতে পারেনি। হুট করেই ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল মানুষটাকে। এখন ঘোর কাটতেই নিজের চপলতায় তার মগজজুড়ে লজ্জার নীল বিষাদ খেলা করছে। উত্তেজনার বশে একি করে ফেলল সে! না পারছে ফারাজকে ছেড়ে দূরে সরতে, না পারছে এই উষ্ণতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে।
শেষমেশ লাজুকতা এড়াতে ফারাজের চওড়া বুক থেকে মাথা তুলল রুশদী। কাজলমাখা দুই চোখে একরাশ কৃত্রিম অভিমান নিয়ে ফারাজের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “মিথ্যা বললেন কেন তবে? বললেন তো আজ আসবেন না?”

ফারাজ কোনো উত্তর দিল না। হাতের আড়ালে রাখা রক্তবর্ণ গোলাপের তোড়াটা রুশদীর চোখের সামনে মেলে ধরল সে। মৃদু হেসে ধীর গলায় বলল, “তোমাকে সারপ্রাইজ দেব বলেই তো অতটুকু লুকোচুরি।”
রুশদী এবার হালকা মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, “আপনার সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে আমার সারপ্রাইজটা তো পুরো জলেই গেল! আপনাকে চমকে দেব বলে কত শখ করে শাড়িটা পরেছিলাম, অথচ আপনি আসবেন না দেখে সব খুলে ফেললাম। উফ! কী যে সুন্দর লাগছিল আমাকে,মিস করলেন!”
“ইস! আগে কেন বললে না? মিস মানে তো একেবারেই লস প্রজেক্ট। এখন তবে কী করা?”

খান বাড়ির সুপ্রশস্ত বারান্দায় বিকেলের মরা রোদে বসে কফি খাচ্ছিলেন শানজানা খান। তাঁর আভিজাত্যমাখা ব্যক্তিত্বে একটা গম্ভীর আবেশ সব সময়ই থাকে। রুশদী তাঁর সামনে বসতেই তিনি কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়ে সরাসরি কাজের কথায় এলেন। কুশল বিনিময়ের পালাটা খুব একটা দীর্ঘ হলো না। শানজানা খান হঠাৎ রুশদীর চোখে চোখ রেখে বললেন, “তোমার সঙ্গে কিছু জরুরি কথা ছিল রুশদী।”
রুশদী সোজা হয়ে বসে বিনীতভাবে বলল, “জি ফুপি, বলুন।”
শানজানা খান একটু সময় নিয়ে বললেন, “তোমার ছোট বোন মিতু মেয়েটাকে আমার বড় পছন্দ হয়েছে। এই যুগে এমন শান্ত আর স্নিগ্ধ স্বভাবের মেয়ে মেলা ভার। গত কয়েকদিন ওর সাথে যতবার কথা হয়েছে, প্রতিবারই আমি ওর সারল্যে মুগ্ধ হয়েছি।”
রুশদী একটা ছোট নিঃশ্বাস ফেলে হাসল। বোনকে নিয়ে গর্ব করে বলল, “ও তো আমাদের সব বোনদের মধ্যে একদমই আলাদা, ফুপি। বড্ড শান্ত আর একটু ভিতু প্রকৃতির। দুনিয়াদারির ঘোরপ্যাঁচ ও একদম বোঝে না।”
মুহূর্তেই শানজানা খানের কণ্ঠস্বর স্থির হয়ে এল। তিনি সরাসরি প্রস্তাবটা ছুড়ে দিলেন— “আমি মিতুর সঙ্গে সিফাতের বিয়ে দিতে চাই।”
কথাটা যেন রুশদীর কানে বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ল। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে সে প্রায় চিৎকার করে উঠল, “কী বলছেন ফুপি! অসম্ভব! সিফাত ভাইয়া আর মিতু—দুজন সম্পূর্ণ আলাদা জগতের মানুষ। এটা কোনোভাবেই সম্ভব না।”

শানজানা খান দমে গেলেন না। নিজের যুক্তি সাজিয়ে তিনি ঠান্ডা গলায় বললেন, “আমাদের কোনো কিছুর অভাব নেই রুশদী। উল্টো বলতে গেলে সবকিছুই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত আছে। আর এসবের একমাত্র উত্তরাধিকারী সিফাত। মিতু ওখানে রাজকন্যের মতো থাকবে। এছাড়া সিফাত একটু অন্যরকম, সেটা তো তোমার অজানা নয়। সেই কারণেই আমি এত দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্তটা নিচ্ছি। পুরুষ মানুষ তো বিয়ের পরেই বদলে যায়, দায়িত্ব কাঁধে পড়লে মিতুকে সে আগলে রাখবে।”
রুশদী এবার আর নিজেকে সংবরণ করতে পারল না। কণ্ঠে কাঠিন্য মেখে সে সোজাসুজি উত্তর দিল, “বেয়াদবি নেবেন না ফুপি, কিন্তু আপনি হয়তো আমার আর মিতুর মাঝে পার্থক্য করতে ভুল করছেন।আমার নানা বাড়ির সম্পদের কোনো অভাব নেই যে, টাকার চাকচিক্য দেখে আমরা বোনকে বিয়ে দেব। আর মিতু এখনও ছোট, কিন্তু ওর বোধশক্তি বয়সের চেয়েও ছোট। ও আমাদের মতো অতটা শক্ত কিংবা চতুর নয়। সিফাত ভাইয়ার মতো মানুষের সাথে আমার বোনকে বিয়ে দেওয়ার কথা আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারি না।”

রুশদীর সোজাসাপ্টা অস্বীকৃতিতে শানজানা খানের ভুরু কুঁচকে এল।তীক্ষ্ণ চোখে রুশদীর দিকে তাকিয়ে তিনি প্রশ্ন করলেন, “কেন রুশদী? সিফাতের কিসের কমতি আছে যে তুমি এত জোর দিয়ে না বলছ?”
রুশদী এবার কোনো রাখঢাক করল না। বরং ধীরস্থির কিন্তু কঠোর গলায় সিফাতের চারিত্রিক দিকগুলো তুলে ধরল, “সিফাত ভাইয়াকে আমি যতটুকু চিনি, তাতে এটুকু বলতে পারি তিনি বড্ড উশৃঙ্খল। রাত বিরেতে নাইট ক্লাব আর বেপরোয়া জীবনই তার আসল পরিচয়। এছাড়া তিনি সবসময় বাহ্যিক সৌন্দর্য খোঁজেন, অথচ আমার মিতু মেয়েটা মায়াবী হলেও শ্যামলা। সিফাত ভাইয়া কোনোদিন মিতুকে মন থেকে গ্রহণ করবেন না। শুধু শুধু আমার বোনটাকে অসম্মানিত করার কোনো মানে হয় না। দয়া করে ফুপি, এই বিয়ের কথা আর তুলবেন না।”
রুশদীর কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই শানজানা খান ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে তুললেন। কফির কাপটা টেবিলে রেখে খুব শান্ত স্বরে বললেন, “কিন্তু মিতু তো সিফাতকে পছন্দ করে!”
কথাটা যেন রুশদীর কানে তপ্ত সিসার মতো বিঁধল। বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে সে অস্ফুট স্বরে কেবল বলতে পারল, “কী?”
শানজানা খান এবার রুশদীর চোখের মণি বরাবর তাকিয়ে বললেন “হ্যাঁ রুশদী, ঠিকই শুনেছ। আমি মিতুর সাথে কথা বলেছি। ও নিজেই আমাকে বলেছে ও সিফাতকে পছন্দ করে। এই বিয়েতে মিতুর পূর্ণ সম্মতি আছে!”

শানজানা খানের রুম থেকে বেরিয়ে রুশদী সোজা গেস্ট রুমে মিতুর কাছে চলে গেল। মিতু তখন বিছানায় আপনমনে বসে ছিল। রুশদী ওর সামনে দাঁড়িয়ে খুব শান্ত কিন্তু কাঠিন্যমাখা স্বরে বলল, “ব্যাগ গুছিয়ে নে মিতু, এই বাড়িতে তোকে আর থাকতে হবে না ।”
মিতু অবাক হলেও কোনো পাল্টা প্রশ্ন করল না। বড় বোনের চোখের ভাষা সে চেনে। নিচু স্বরে শুধু বলল, “আচ্ছা আপু।”
রুশদী দাঁড়িয়ে মিতুর ব্যাগ গোছানো দেখছিল। ওর বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে। সিফাতকে ও খুব কাছ থেকে দেখেছে। ওই ছেলেটা একটা চোরাবালি, যার ওপর পা রাখলে তলিয়ে যাওয়া নিশ্চিত। মিতু নিতান্তই সরল, সে হয়তো সিফাতের বাহ্যিক চাকচিক্য আর চপলতায় মুগ্ধ হয়েছে, কিন্তু রুশদী তো জানে এই আকর্ষণের শেষ গন্তব্য হলো এক টুকরো জাহান্নাম। সে কোনোভাবেই নিজের আদরের বোনটাকে জেনেশুনে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারবে না।

রুশদী আবার বলল, “আমি তোর ভাইয়াকে (ফারাজকে)বলে তোর ফ্লাইটের টিকিট কেটে দিচ্ছি। আমি নিজে তোকে এয়ারপোর্টে দিয়ে আসব। চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর উজান তোকে পিক করে নেবে।”
মিতু বাধ্য মেয়ের মতো ব্যাগ গোছাতে শুরু করল। রুশদী দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিতুর কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ওর মাথায় হাত রেখে খুব নরম গলায় বলল, “মিতু শোন!”
মিতু মুখ তুলে তাকাল, “হুম বলো।”
“তুই এখন টিনএজার। এই বয়সে সামান্য অ্যাটেনশন বা কারও ব্যবহারে আকর্ষণ বোধ করাটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু ভুল মানুষের মোহে পড়ে জীবনটা নষ্ট করার চেয়ে সত্যিটা জেনে আগেভাগেই দূরে সরে যাওয়া ভালো। সিফাত ভাইয়া একজন প্লেবয় ছাড়া আর কিছুই না। মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করা তাঁর নেশা। তোর সাথেও হয়তো তেমনই কিছু করেছেন যা তুই সত্যি মনে করে বসে আছিস। তুই তাঁকে চিনিস না মিতু; বড়লোক বাবার বখে যাওয়া সন্তান তিনি। প্রতিদিন নেশা করা, রাত বিরেতে ক্লাবে পড়ে থাকা—এসবই তাঁর জীবন। আরও এমন সব কাজ তিনি করেন যা মুখে আনাই পাপ…!”

রুশদীর প্রতিটি শব্দ যেন ধারালো তীরের মতো মিতুর নরম হৃদয়ে বিঁধতে লাগল। বেশিরভাগ মেয়েরাই ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে—এই রূঢ় সত্যটা মিতু আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সে ভেবেছিল সিফাত হয়তো অন্যদের চেয়ে আলাদা,কিন্তু রুশদীর বর্ণনা সিফাতের যে বীভৎস রূপটা তার সামনে তুলে ধরল, তাতে মিতুর সাজানো স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।
প্রথম ভালোবাসার অঙ্কুরটা যে এত যন্ত্রণাদায়ক হবে, তা মিতু কল্পনাও করেনি। বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে তার, গলা ঠেলে কান্না আসছে, কিন্তু সে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সেদিন বিকেলেই মিতু চট্টগ্রাম চলে গেল। যে একরাশ মুগ্ধতা, প্রেম আর উড়ন্ত মন নিয়ে সে এই বাড়িতে পা রেখেছিল, ফেরার পথে তার ঝুলিতে রইল কেবল এক বুক হাহাকার আর ভাঙা হৃদয়ের টুকরো। মিতু অন্তত সিফাতের মতো বিষাক্ত মানুষ থেকে বেঁচে গেল। শুরুতে কয়েকদিন খুব কষ্ট হবে ঠিকই, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মিতু নিজেকে সামলে নেবে—এই ভেবেই রুশদী এক দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

বারান্দার বসে রুশদী একটা উপন্যাস পড়ছিল। কিন্তু বইয়ের সাদা পাতায় কালো হরফগুলো কেন যেন বারবার ঝাপসা হয়ে আসছিল। চোখের সামনে ভাসছে মিতুর সেই বিষাদমাখা মুখটা। মেয়েটা আজ যাওয়ার সময় নিজেকে যতটা স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছিল, আদেও কি সে ততটা স্বাভাবিক আছে? প্রথম প্রেমে বড় কোনো আঘাত পেলে মনটা যে আয়নার মতো ভেঙে যায়, তা রুশদী খুব ভালো করেই জানে।
রুশদীর নিজের মনটাও আজ খুব একটা ভালো নেই। সকালে ফারাজের সঙ্গে একচোট কথা-কাটাকাটি হয়েছে। ঝগড়ার কারণ সেই পুরোনো—ফারাজের কাজের চাপ। মানুষটা একজন দক্ষ পাইলট, আকাশে ডানা মেলাই যার নেশা। কিন্তু সেই পেশার পাশাপাশি আবার বিজনেস নিয়েও তাকে মাথা ঘামাতে হয় কেন? একটা মানুষ আর কত করবে?একটা মানুষ দুইটা প্রফেশন কিভাবে সামলায়? ছুটির দিনগুলোতে যখন বাড়িতে সবার সাথে সময় কাটানোর কথা, তখন তাকে ফাইলপত্র নিয়ে অফিস করতে হয়। ডাবল চাপের কোনো মানে হয় না। যদিও এত ব্যস্ততার মাঝেও ফারাজ রুশদী আর শের-কে সর্বোচ্চ সময় দেওয়ার চেষ্টা করে, তবুও রুশদীর অভিযোগ শেষ হয় না।
হাতের উপন্যাসটা টেবিলের ওপর রেখে রুশদী ফারাজকে কল করল। ফোনটা কয়েকবার বাজার পর ওপাশ থেকে ফারাজের সংক্ষিপ্ত উত্তর এল—সে খুব ব্যস্ত, কথা বলবে পরে। রুশদী আর কথা বাড়াল না, লাইনটা কেটে দিল। মাঝেমধ্যে ফারাজের এই ব্যস্ততাগুলো তার ভীষণ অসহ্য লাগে।
নিজের অস্থিরতা কাটাতে রুশদী শের-কে খুঁজে বের করল। সামনে ওর পরীক্ষা, অথচ ছেলেটার পড়ার চেয়ে খেলার দিকেই ঝোঁক বেশি। রুশদী কড়া গলায় শের-কে ডেকে পড়ার টেবিলে বসাল। মনে মনে ঠিক করল, এবার আর কোনো ছাড় নয়। পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায় যে শেষ পর্যন্ত তার ওপরই আসবে।

শানের অস্থিরতা আজ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তিথি হুট করে এভাবে লাপাত্তা হয়ে যাবে, তা সে কল্পনাও করতে পারেনি। ক্লাবে গিয়ে কতবার যে ফোন বের করে ডায়াল করেছে তার ইয়ত্তা নেই, কিন্তু ওপাশ থেকে কেবল যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর ভেসে আসে—ফোনটি বন্ধ। অন্যের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে, ওর বাসার খোঁজ নিতে চেয়েছে, কিন্তু তিথি যেন কর্পূরের মতো বাতাসে মিলিয়ে গেছে। সিফাতের বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করে উঠছে। শেষবার যখন তিথির সঙ্গে দেখা হয়েছিল, মেয়েটার কথাবার্তা কেমন যেন অসংলগ্ন আর রহস্যময় ঠেকেছিল তার কাছে।
পাগলের মতো শহর চষে বেরিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো কূল না পেয়ে শান সোজা এসে হাজির হলো রুশদীর কাছে। রুশদী তখন ভ্রু কুঁচকে শেরকে পড়াতে ব্যস্ত। শানের বিধ্বস্ত চেহারা আর উদভ্রান্ত দৃষ্টি দেখে সে কিছুটা অবাক হলো। সিফাত কোনো ভূমিকা না করেই বলে উঠল, “ভাবি, তিথির কোনো খবর জানো?”
রুশদী পড়ার বই থেকে চোখ সরিয়ে শান্ত গলায় পালটা প্রশ্ন করল, “খবর বলতে? কী হয়েছে?”
“তিথির ফোন কেন বন্ধ? কতদিন ধরে ওকে পাচ্ছি না আমি। কোনোভাবেই ওর সাথে কন্টাক্ট করা যাচ্ছে না।” শানের কণ্ঠে এক অদ্ভুত আতঙ্ক।

“অনেকদিন ধরে বন্ধ মানে? আমি তো সেদিনও ওর সাথে কথা বললাম।”
শান এবার যেন ভেঙে পড়ল। বিছানায় গিয়ে ধপাস করে বসে পড়ে বলল, “জানি না ভাবি। ইদানীং ও কেমন যেন হয়ে গেছে। আগামাথা ছাড়া কথা বলে, শুধু কাঁদে। কী হয়েছে ওর আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কার কাছে গিয়ে ওর খোঁজ নেব? ও তো মামার কাছে থাকত, তাই না? আমাকে ওর মামার নাম্বার বা বাসার ঠিকানা—যা পারো দাও। আমি এখনই ওর কাছে যাব। এই অনিশ্চয়তা আর সহ্য হচ্ছে না আমার!”

প্রথম প্রেম বলে কথা, একটু পাগলামি তো থাকবেই এ প্রেমে।এছাড়াও শান তিথির প্রতি সিরায়াস।সে সিফাত নয় যে হাজারটা মেয়ের সাথে ঘুরবে,সে শান—শানান খান তার শুধু ওই একটা তিথিকেই আজীবনের জন্য লাগবে।ভালোবাসে যে তাকে।শানের এমন অস্থিরতা দেখে রুশদী নিজেকে সামলে নিয়ে একটু হেসে বলল, “এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন ভাইয়া? তিথি তো আমাকে বলল ওর মামাতো ভাইয়ের বিয়ে, তাই খুব ব্যস্ত। হয়তো সেই কারণেই তোমার সাথে কথা বলতে পারছে না। কয়েকটা দিন যেতে দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

অস্তরাগের রঙ পর্ব ২৭

শান গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রুশদীর কথায় মন শান্ত না হলেও আপাতত তর্কের শক্তি নেই তার শরীরে। নিচু স্বরে কেবল বলল, “আচ্ছা!”
সেখান থেকে উঠে যাওয়ার সময়ও শানের মাথায় কেবল তিথির সেই বিষাদমাখা মুখটাই ঘুরপাক খাচ্ছিল।কি কারনে মেয়াটা সেদিন এমন করে কথা বলছিল?

অস্তরাগের রঙ পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here