আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ১২
সাবিলা সাবি
লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্ট। আকাশটা আজ বেশ ধূসর, ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে। আয়মান খান যখন ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে বেরিয়ে এল, তখন তার চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও দৃষ্টিতে জ্বলছে শিকারি বাঘের মতো উত্তেজনা। ব্লু স্টার ডায়মন্ড পুনরুদ্ধারের নেশা আর হিয়াকে—অর্থাৎ ভাইপারকে—মাটির নিচ থেকে খুঁজে বের করার জেদ তাকে লন্ডনের এই হিমেল বাতাসে টেনে এনেছে।
এয়ারপোর্টের বাইরে অপেক্ষা করছিল তাদের স্থানীয় আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন। গাড়িতে ওঠার সময় আয়মান নিজের ফোনে একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজ পাঠাল, যেখানে লেখা ছিল: ‘টার্গেট ইন লন্ডন। সার্চ অপারেশন স্টার্ট।’
কিন্তু আয়মান জানত না, সে যে মুহূর্তটিতে লন্ডনের মাটিতে পা রেখেছে, ঠিক সেই সেকেন্ডেই একটি অগোচরে থাকা চোখের ইশারায় খবর পৌঁছে গেছে ভাইপারের কাছে।
টাউন হাউসেএর বারান্দায় দাঁড়িয়ে হিয়া। তার হাতে ওয়াইনের গ্লাস আর ঠোঁটে জলন্ত সিগার কিন্তু তার চোখজোড়া নিবদ্ধ ল্যাপটপের স্ক্রিনে। এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি সার্ভারে হিয়া অনেক আগেই ব্যাকডোর এন্ট্রি তৈরি করে রেখেছিল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল আয়মান খানের একদম ক্লিয়ার ছবি। হিয়া এক মুহূর্তের জন্য আয়মানের সেই উদ্ধত চেহারার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল একটা শীতল ধারালো হাসি।
ইভানা তখন পাশে দাঁড়িয়ে মৃদু স্বরে বলল, “আয়মান পৌঁছে গেছে। তার সাথে দশজন সুদক্ষ বডিগার্ড।”
হিয়া ওয়াইনের গ্লাসটা টেবিলে রেখে ধীরে ধীরে জানালার পর্দা টেনে দিল। তার কণ্ঠে কোনো উত্তেজনা নেই, আছে শুধু জমাটবাঁধা স্থিরতা। “আসতে দে। শিকারি যখন নিজে থেকেই ফাঁদে পা রাখে, তখন শিকারীর কাজ অর্ধেক সহজ হয়ে যায়।”
হিয়ার হাতের মুঠোয় তখনো ব্লু স্টার ডায়মন্ডটি। সে ডায়মন্ডের ওপর আলো পড়তেই তা থেকে প্রতিফলিত হলো নীল আভা। হিয়া জানল, আয়মানের লন্ডনে পা রাখা মানেই তার আর তার বাবার সাম্রাজ্য পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাওয়া। সে
আয়মান হয়তো ভাবছে সে ভাইপারের পিছু ধাওয়া করছে, কিন্তু সে জানে না—সে আসলে ভাইপারের তৈরি করা এক গোলকধাঁধায় বন্দি হতে চলেছে।
লন্ডনের মেঘলা আবহাওয়া আজ হোটেলটির চারপাশকে ঘিরে ফেলেছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্যে। আয়মান খান তার সুইটের ভেতর বৃত্তাকারে হাঁটছে; তার পায়ের শব্দ ছাড়া ঘরের নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে। হঠাৎ জানালার কাঁচের ওপর হালকা টোকা পড়ার শব্দ হলো। আয়মান দ্রুত পিস্তল হাতে নিয়ে জানালার দিকে এগোতেই দেখল, বাইরে এক রাজকীয় সোনালী ঈগল ঠোঁটে করে একটি কালো খাম নিয়ে বসে আছে। আয়মান জানালার পাল্লা খুলতেই ভাইপারের শ্যালো খামটি রেখে নিঃশব্দে রাতের কুয়াশায় মিলিয়ে গেল।
আয়মান কিছুটা অবাক হয়ে খামটি খুলে ভেতরে সেই অভিজাত কার্ডটি বের করল সে। ভারী পার্চমেন্ট কাগজের ওপর রক্তাভ কালিতে লেখা—দেখা করার স্থান ও সময়: লন্ডনের সবচেয়ে অভিজাত হোটেল ‘দ্য স্যাভয়’ (The Savoy), কালকে রাত ১২টা।
আয়মানের ভ্রু কুঁচকে গেল। সে এসেছে ভাইপারকে শিকারে, আর ভাইপার কি না নিজেই তাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে? বিষয়টা তার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকলো, কিছুটা আতঙ্কেরও। সে ভাইপারকে একজন দুর্ধর্ষ পুরুষ অপরাধী হিসেবেই গণ্য করে আসছে, তাই সেই অনুযায়ী সে নিজেকে প্রস্তুত করল। বডিগার্ডদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে আয়মান আয়নার সামনে দাঁড়াল। তার লক্ষ্য স্পষ্ট: আজ রাতেই ভাইপারকে খতম করবে এবং ব্লু স্টার ডায়মন্ডটা উদ্ধার করে তবেই সে এখান থেকে যাবে।
পরের দিন রাত ঠিক ১২টায় লন্ডনের ‘দ্য স্যাভয়’ হোটেলের সুইটে একা বসে আছে আয়মান। তার হাতের মুঠোয় ভাইপারের পাঠানো সেই ইধভিটিশন কার্ড। সে দ্রুত আসাদ খানকে ভিডিও কল করলো। স্ক্রিনে আসাদ খানের মুখটা ভেসে উঠলো গেল। তিনি তখন তার স্টাডিতে বসে আরামসে চুরুট টানছেন। আয়মান পুরো বিষয়টি সংক্ষেপে জানাল নিজের বাবাকে “বাবা, ভাইপার আমাকে সশরীরে ‘দ্য স্যাভয়’ এ দেখা করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সে নিজেই তার লোকেশন দিয়ে দিয়েছে। এটা কি কোনো ফাঁদ?”
আসাদ খান তার চুরুটের ছাই ঝেড়ে ফেললেন অ্যাস্ট্রেতে। তার চোখের দৃষ্টিতে ফুটে উঠল নিষ্ঠুর অবজ্ঞা। তিনি ম্লান হেসে বললেন, “বাহ! নিজের মৃত্যুর জন্য নিজেই কাফনের কাপড় পরে যমের দুয়ারে হাজির হতে চাইছে? এটা কোনো ফাঁদ নয় আয়মান, এটা ভাইপারের চরম ঔদ্ধত্য। সে বোধহয় আমাদের শক্তিকে এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।”
আয়মান দৃঢ় কণ্ঠে বলল, “আমি অলরেডি বসে আছি লোকেশনে। সাথে আমার সেরা বডিগার্ড টিম আছে। ডায়মন্ড আর ভাইপার—দুটোকেই আজ রাতে চিরতরে শেষ করে আসব।”
আসাদ খান ঝুঁকে এলেন ল্যাপটপের ক্যামেরার দিকে। তার গলার স্বর এবার একদম বরফের মতো ঠান্ডা। “মনে রাখবে আয়মান, শিকার যখন নিজেই নিজের মরণফাঁদে পা দেয়, তখন তাকে গু*লি করার চেয়েও তিলে তিলে মারা বেশি আনন্দদায়ক। ভাইপারকে জীবিত চাই নাযমের দুয়ারে যাওয়ার পথে তাকে শেষ বিদায়টা এমনভাবে দেবে, যেন পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড জানে—খান পরিবারের সাথে খেলার পরিণতি কী হয়।”
আয়মান মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। ফোনের ওপার থেকে আসাদ খানের এই অভয়বাণী তার মনে আগুনের জন্ম দিল। সে জানে, এই রাতের পর লন্ডনের এই হোটেলে আর কোনো ভাইপার থাকবে না, থাকবে শুধু রক্ত আর ছাই।
আয়মান ফোন রেখে পিস্তলটা নিজের হোলস্টারে ঢোকাল। আসাদ খানের সেই অমোঘ কথাগুলো তার কানে তখনো বাজছে। আয়মান হাসল। ভাইপার আজ নিজেই তার কবর খুঁড়ে রেখেছে।
‘দ্য স্যাভয়’-এর বিলাসবহুল বলরুমটা হঠাৎ থমকে গেল। ঠিক ১২টা বাজার মুহূর্তে হোটেলের বিশাল কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল দুজন। সামনে হিয়া—অর্থাৎ ভাইপার, আর তার ঠিক পেছনে ছায়ার মতো ইভানা। হিয়ার পরনে ছিল কালো রঙের একটি সিল্কের বডিকন ড্রেস, যা তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে নিখুঁতভাবে জড়িয়ে ছিল। হাঁটুর ঠিক ওপর পর্যন্ত ঝোলানো সেই ড্রেসটি তার ব্যক্তিত্বে এক আভিজাত্য যোগ করেছে। কাঁধ ছাড়িয়ে নেমে আসা তার নকল দীর্ঘ, রেশমি চুলগুলো আলোর ঝিলিক খেয়ে মায়াবী আভা তৈরি করছিল। মুখে পাতলা একটি কালো মাস্ক, যা কেবল তার চোখ দুটিকে খোলা রেখেছে। সেই চোখে আগুনের মতো তীব্রতা, কিন্তু পরক্ষণেই এক গভীর শূন্যতা—যা যে কাউকে সম্মোহনের মতো টেনে নিতে পারে।
বার কাউন্টারের দিকে এগিয়ে আসা আয়মান খান মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে গেল। সে তো আশা করেছিল কোনো রুক্ষ, পেশাদার খু*নিকে দেখবে! তার পুরো পরিকল্পনা ছিল এক পুরুষ শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার। কিন্তু চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারীমূর্তিটি তার ভাবনার জগতটাই ওলটপালট করে দিল।
আয়মান পা থেকে মাথা পর্যন্ত হিয়াকে পরখ করল। এমন আকর্ষণীয় কোনো অপরাধী হতে পারে তার কল্পনার বাইরে ছিল। হিয়া ধীরপায়ে আয়মানের সামনে এসে দাঁড়াল। তার চলনে কোনো ভয় নেই, বরং বিজয়ী এক নারী শিকারিকে সামনে পেয়ে যে তৃপ্তি পায়, সেটাই স্পষ্ট তার পদক্ষেপে। হিয়া তার ডান হাতটি আয়মানের দিকে বাড়িয়ে দিল।
আয়মান হতভম্ব। তার পিস্তল ধরা হাতটা তখনো জ্যাকেটের ভেতর লুকানো। সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে হিয়ার হাতটি ধরল। স্পর্শটা ছিল বরফের মতো শীতল, কিন্তু হিয়ার চোখের দিকে তাকাতেই আয়মানের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সেই চোখের মণিতে এমন কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে যা আয়মানকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করছে। এটা ক্ষোভ, নাকি অন্য কোনো অজানা নেশা?
হিয়া মাস্কের আড়াল থেকে মৃদু হাসল, যদিও আয়মান কেবল তার চোখ দেখে সেটুকু অনুভব করতে পারল।
গম্ভীর, অথচ রেশমি স্বরে হিয়াই প্রথমে মুখ খুললো, “খুব অবাক হচ্ছেন, মিস্টার আয়মান? শিকারির কল্পনা সবসময় শিকারের আসল রূপ ধরতে পারে না।”
আয়মানের হাত হিয়ার হাতের ওপর চেপে বসল। সে জবাব দিল না, শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার ভেতরে তখন যুদ্ধ চলছে—একদিকে বাবার দেওয়া নির্দয় নির্দেশ, অন্যদিকে এই রহস্যময়ী নারীর সম্মোহনী টান। সে বুঝতে পারল না, এই মুহূর্তে সে ভাইপারকে বন্দি করতে যাচ্ছে, নাকি নিজেই তার পাতানো কোনো মায়ার জালে বন্দি হয়ে যাচ্ছে।
হিয়া আয়মানকে হোটেলের সুসজ্জিত এক স্পেশাল গেস্ট রুমের দিকে ইশারা করল। রুমের ভেতরটা মৃদু নীল আলোয় আচ্ছন্ন,। আয়মান আল হিয়া সেই রুমে প্রবেশ করলো, ইভানা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে সে কাউন্টারের দিকে চলে গেলো।
কক্ষের মাঝখানে আরামদায়ক সোফায় বসে হিয়া ধীরস্থিরভাবে তার মুখের কালো মাস্কটি খুলে ফেলল। আয়মানের হাতে তখন ওয়াইন গ্লাস ধরা ছিলো। মাস্কের আড়ালে থাকা মুখটা প্রকাশ পেতেই আয়মানের হাত থেকে গ্লাসটি মেঝেতে পড়ে চুরমার হয়ে গেল। কাঁচের ভাঙা টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে, কিন্তু আয়মান সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করল না। তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।
আয়মানের কণ্ঠস্বর ভাঙা ভাঙা, “হিয়া? তুই? তুই এখানে কিভাবে? এটা কি কোনো হ্যালুসিনেশন?”
হিয়া খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সে আয়মানের দিকে এক ধাপ এগিয়ে এল। তার চোখেমুখে কোনো বিস্ময় নেই, আছে কেবল এক হিমশীতল নির্বিকার ভাব। সে শান্ত স্বরে প্রশ্ন করল, “হু ইজ হিয়া?”
আয়মান সোফায় নড়েচড়ে বসলো। তার স্মৃতি তাকে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সে খুব শান্ত স্বরে বললো “সরি… আই থিংক মিস্টেক। আসলে আপনাকে দেখতে হুবহু আমার পরিচিত একজনের মতো। যদিও সে অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। নিজের চোখে আমি তার দাফন দেখেছি, সে কিভাবে ফিরে আসতে পারে?”
হিয়া আয়মানের একেবারে কাছাকাছি এসে বসলো। তার চোখে এমন এক তীক্ষ্ণতা, যা আয়মানের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। হিয়া নির্বিকার কণ্ঠে বলল, “সরি মিস্টার আয়মান, আমি কারোর মতো দেখতে নই। আমি আমার মতো।”
আয়মান নিজের বিভ্রান্তি কাটাতে জোর করে একটা শুকনো হাসি হাসল। সে হিয়াকে অর্থাৎ ভাইপারকে—ভালো করে খুঁটিয়ে দেখল। তারপর একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলল, “হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। আসলে আমারই ভুল ছিল। আপনি কখনোই ওর মতো হতে পারেন না। ও ছিল দুর্বল, ভীতু আর সাধারণ। আর আপনি.. আপনি তো অবিশ্বাস্যভাবে অ্যাট্রাক্টিভ, আপনার তেজ, আপনার এই চাহনি—ওর সাথে আপনার কোনো মিলই নেই। আসলে অন্ধকার আর এই নীল আলোয় আমার ভুল হয়ে গিয়েছিল।”
হিয়া হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে উষ্ণতা নেই, আছে এক ধারালো ধার। সে আয়মানের একদম কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “ভুল মানুষেরই হয়, আয়মান খান। কিন্তু বড় ভুলগুলোর মাশুল দিতে হয় অনেক বড় করে।”
আয়মান তখনো তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, অদ্ভুত এক সম্মোহনে সে বন্দী।
আয়মান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল, “এত ঝক্কি পোহালেন কেন? ডায়মন্ডটা ছিনতাই করার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল?”
হিয়া টেবিলের ওপর রাখা ওয়াইন গ্লাসে চুমুক দিয়ে ধীরস্থির কণ্ঠে বলল, “আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য। আর কি কোনো ভালো অজুহাত থাকতে পারে?”
আয়মান অবাক হয়ে তাকাল, “আপনি আমাকে চেনেন?”
হিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল, “না চেনার কী আছে? টিভি নিউজে আপনি সবসময় ফেমাস, নামকরা ফিল্ম ডিরেক্টর। আপনার ওপর নজর রাখা কি খুব কঠিন কাজ?”
আয়মান মাথা নাড়ল, “আচ্ছা, বুঝলাম। তাহলে ডায়মন্ডটা ফিরিয়ে দেবেন কবে?”
হিয়া শান্তভাবে বলল, “সেটা আপনি পেয়ে যাবেন। কোনো সমস্যা হবে না।”
আয়মান কিছুটা ইতস্তত করে বলল, “ওকে। কিন্তু বিনিময়ে ঠিক কত টাকা চাই আপনার? কত অংকের চেক লিখলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন?”
হিয়া আরেক ধাপ এগিয়ে এলো। তার প্রতিটা নাড়াচড়ায় ছিলো সম্মোহনী মাদকতা। সে আয়মানের গালে আলতো করে আঙুলের ডগা দিয়ে স্লাইড করল। আয়মানের নিঃশ্বাস এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। হিয়া নিচু স্বরে বলল, “আমার কাছে এত টাকা আছে যে, অর্থের কোনো প্রয়োজনই আমার নেই। তবে আপনি যদি পেমেন্ট করতে চান, তবে জেনে রাখুনআমি অন্য কিছু চাই। সেটা আমি সময়মতো আপনার কাছ থেকেই নিয়ে নেব।”
আয়মানের হৃৎপিণ্ড তখনো দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে। সে ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করে বলল, “ওকে, তাহলে নেক্সট কবে দেখা হচ্ছে আমাদের আর কোথায়?”
হিয়া মৃদু হেসে উত্তর দিল, “আপনার প্লেসে।”
“ওকে, ডান।” আয়মান সম্মতি জানাল। ঠিক সেই মুহূর্তে আয়মানের ফোনে একটি কল এল। জরুরি কোনো প্রয়োজনে সে হিয়াকে বসিয়ে রেখে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে এল।
হিয়া একা বসে থাকতে পারল না। সে সন্তর্পণে আয়মানের পিছু নিয়ে হোটেলের করিডোরে এল। আয়মান করিডোরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন লোকের সাথে ফিসফিস করে কথা বলছে। আয়মানের ছায়ায় ঢাকা পড়ে আছে লোকটির অবয়ব। হিয়া এগিয়ে গিয়ে আড়াল থেকে লোকটির দিকে তাকাতেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রক্তের প্রবাহ হঠাৎ হিম হয়ে এল তার। লোকটির চেহারা স্পষ্ট হতেই হিয়ার হাতের মুঠো শক্ত হয়ে উঠল। সে বাংলাদেশের জার্নালিস্ট এহসান চৌধুরী! সেই ধূর্ত সাংবাদিক, যে ৭ বছর আগে তার পরিবারের সমস্ত নিউজ পেপারের রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়েছিল, ভুল তথ্য দিয়েছিলো তার পরিবারের মৃত্যুর বিষয়ে। হিয়ার চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরনো ভয়াবহ দিনটা। সে বুঝতে পারল, এটা কেবল ব্যবসায়িক লড়াই নয়, এটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিশোধের মঞ্চ।
হিয়ার মনে হলো, আগ্নেয়গিরিটা আজই বুঝি ফেটে পড়বে। সে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল, “তুই! তুই তো সেই নরকের কীট, যার কলমের কালিতে আমার পরিবারের অস্তিত্ব মুছে গিয়েছিল তোকেও আমি এই দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করবো।”
হিয়া দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। সে চলে গেলো কাউন্টারে কাছে যেখানে ইভানা বসে ছিলো । ইভানার সাথে কথা শেষ করে সে যখন রুমের দিকে যাবে, ঠিক তখনই হোটেলের প্রবেশপথে লিওনকে দেখে তার হৃৎপিণ্ড এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। লিওন এখানে?
কোনো একটা মিসিং কেসের তদন্তে লিওন এখানে এসেছিলো তার চোখে চোখ পড়লো লিওনের। লিওন হিয়াকে এভাবে এই সাহসী বডিকন ড্রেসে দেখে বিস্ময়ে পাথর হয়ে গেল। হিয়া বুঝতে পারল, ধরা পড়ে যাওয়ার দারুণ ঝুঁকি। সে কোনো দ্বিধা না করে নিজেই হাসিমুখে লিওনের সামনে এগিয়ে গেল। “হায় সিনিয়র! আপনি এখানে?”
লিওন ভ্রু কুঁচকে, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে হিয়াকে আপাদমস্তক পরখ করল। “তুমি? এই জায়গায়? তাও এমন সাজপোশাকে?”
হিয়া মুহূর্তের মধ্যে তার মুখে এক সাবলীল মিথ্যের আবরণ জড়িয়ে নিল। “আসলে আমার এক বন্ধুর এনগেজমেন্ট পার্টি চলছে এখানে, তাই সবাই একটু জমকালো সেজেছি। ও ট্রিট দিচ্ছে, তাই চলে এলাম।”
লিওন কোনো উত্তর দিল না, তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। ঠিক তখনই হিয়া দেখল, আয়মান তাকে খুঁজছে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই হিয়া লিওনের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে আয়মানের দিকে এগিয়ে গেল। আয়মানকে কাছে পেয়েই সে তাকে নিয়ে হোটেলের লবিতে থাকা একটি সোফায় গিয়ে বসল। ইভানা পাশেই ছিলো।
আয়মান হিয়ার পাশে বসে তার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে কথা বলছে, যা দেখে দূর থেকে লিওনের বুকের ভেতরটা হঠাৎ আগুনের মতো জ্বলে উঠল। লিওন বার কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছিল। তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে—’বন্ধুর এনগেজমেন্ট পার্টিতে এসে বন্ধুর ফিয়ন্সির সাথে হিয়া কেন এতটা ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে আছে?’
আয়মান হিয়াকে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু বলছে আর হিয়াও এমনভাবে হাসছে, যা লিওনের কাছে অসহ্য ঠেকছে। লিওনের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে উঠল। সে নিজের মনের অস্থিরতা বুঝতে পারছে না। এটি কি তার পেশাদার সন্দেহ, নাকি এর পেছনে অন্য কিছু? হিয়াকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে এভাবে দেখে তার কেন এত রাগ হচ্ছে? তার কি হিয়াকে নিয়ে অন্য কোনো আবেগ কাজ করছে?
লিওন আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে পারল না। আয়মান খান আর হিয়ার সেই অসংলগ্ন ঘনিষ্ঠতা, হিয়ার সাজপোশাক, আর আয়মানের চোখে ফুটে ওঠা সেই দখলদারিত্বের দৃষ্টি সব মিলিয়ে লিওনের বুকের ভেতরটা আগুনের গোলার মতো জ্বলছে। তার পেশাদার গোয়েন্দাসুলভ ঠান্ডা মেজাজ আজ কোনো এক অদৃশ্য ঝড়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। লিওন এক ঝটকায় পিঠ ফিরিয়ে হোটেলের গেটের দিকে পা বাড়াল। মিসিং কেসের ফাইল, তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সব আজ তার কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে। হিয়া যে মিথ্যা বলছে, তা তার চোখের চাহনিতেই ধরা পড়েছিল, আর আয়মান খানের মতো ধূর্ত একজন মানুষের সাথে হিয়ার এই সখ্যতা তাকে মানসিকভাবে বিষিয়ে তুলছে।
হোটেলের বাইরের হিমেল বাতাসে বেরিয়ে এসে সে জোরে একটা নিশ্বাস ফেলল, কিন্তু মনের ভেতরের অস্থিরতা কমল না। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সে তীব্র গতিতে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলল। স্টিয়ারিং হুইলে তার হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আছে। সে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করছে—‘কেন? হিয়া আমার কে হয় যে তাকে অন্য কারো সাথে দেখলে আমার এত রাগ হবে? এটা কি নিছকই জুনিয়র হিসেবে তার প্রতি উদ্বেগ, নাকি এর গভীরে অন্য কোনো ব্যক্তিগত টান কাজ করছে?’
লন্ডনের রাতের শহরটা এখন তার চোখে ঝাপসা লাগছে। তদন্ত ছেড়ে আসার এই কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের কথা ভেবে লিওন নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছে। কিন্তু হিয়ার সেই অবাধ্য হাসি আর আয়মানের সাথে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো তার চোখের সামনে থেকে সরছেই না। সে বুঝতে পারছে, এই লন্ডন শহর তাকে কেবল একটি কেস নয়, বরং আবেগের এক জটিল গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে হোটেলের মূল ফটকের সামনে আয়মান খান বিদায় নেওয়ার আগে এক পলক হিয়াকে দেখে নিয়ে বলল, “আপনাকে ড্রপ করে দিতে পারি,ভাইপার?”
হিয়া একটু হেসে মৃদু মাথা নাড়ল, “ধন্যবাদ মিস্টার আয়মান, কিন্তু আমার গাড়ি ওখানেই পার্ক করা আছে।”
আয়মান বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পর হিয়ার চোখের চাহনি মুহূর্তেই বদলে গেল। সে ইভানাকে ইশারা করল। ঠিক সেই মুহূর্তেই পার্কিং লট থেকে এহসান চৌধুরী তার দামি সেডান গাড়িটি বের করার জন্য ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। হিয়া নিজের গাড়িটি নিয়ে আগে থেকেই ছায়ার আড়ালে ওত পেতে ছিল। এহসান গাড়িটি নিয়ে গেট দিয়ে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, হিয়া তার গাড়ির তীব্র গতিতে এহসানের গাড়ির পেছনে সজোরে একটি ধাক্কা দিল।
ধাক্কার চোটে এহসানের গাড়িটি কেঁপে উঠল। এহসান রাগে ফেটে পড়ে চিৎকার করে উঠল, “হু দ্য হেল আর ইউ? চোখে কি জলপট্টি বেঁধে গাড়ি চালাচ্ছিস?”
গাড়ি থেকে বেরিয়ে এহসান মারমুখী ভঙ্গিতে হিয়ার গাড়ির দিকে এগিয়ে এল। ঠিক তখনই হিয়া তার গাড়ির দরজা খুলে ধীরপায়ে নিচে নেমে এল। তার মুখ মাস্কে ঢাকা, কিন্তু চাহনিতে আগ্নেয়গিরির উত্তাপ ছিলো। এহসান কাছে আসতেই হিয়া কণ্ঠে এক ধরনের কৃত্রিম অসহায়ত্ব মিশিয়ে বলল, “আই এম সো সরি… আমার গাড়ির ইঞ্জিনটা হঠাতই খারাপ হয়ে গেছে, ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছিল না। আপনি কি দয়া করে আমাকে কিছুটা পথ লিফট দেবেন?”
এহসান চৌধুরী মেয়েটির সাজপোশাক আর তার কণ্ঠস্বরের নমনীয়তায় কিছুটা শান্ত হলো। সে হিয়াকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত জরিপ করল—এই সুন্দরী তরুণীটি তাকে কোনো ক্ষতি করবে, তা তার কল্পনারও বাইরে। এহসানের মনে এক বিকৃত অহংকার ভর করল। সে একটা বাঁকা হাসি দিয়ে গাড়ির পেছনের লক খুলে দিল।
হিয়া কোনো কথা না বলে গাড়ির পাশের সিটে গিয়ে বসল। এহসান ড্রাইভিং সিটে বসে ইঞ্জিন চালু করল। গাড়ি যখন অন্ধকার হাইওয়ের দিকে মোড় নিল, এহসান আয়নায় একবার হিয়াকে দেখে নিল, কিন্তু সে জানে না—সে এক জলজ্যান্ত আজরাইলকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
হিয়া সিটে গা এলিয়ে বসল, তার হাতের মুঠোয় থাকা ছোট ছুরিটি এখন তার হাতের আস্তিনে লুকানো। সে শীতল কণ্ঠে বলল, “গাড়িটা একটু দ্রুত চালান মিস্টার চৌধুরী, আমার কাছে বেদি সময় নেই ওয়েস্ট করার মতো।”
গাড়ি ছুটতে ছুটতে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে নির্জন এক জঙ্গলের সামনে এসে থামল। হিয়া ইশারা করতেই এহসান ব্রেক চাপল। চারিদিকে ঘন অন্ধকার, শুকনো পাতার খসখস শব্দ ছাড়া আর কোনো প্রাণের চিহ্ন নেই।
এহসান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “এটা কোন জায়গা? জঙ্গলে তোমার বাড়ি নাকি।”
হিয়া গাড়ির ভেতর থেকেই এহসানের দিকে ঝুঁকে এল। হালকা সুগন্ধি আর তার মায়াবী চাহনিতে এহসান মুহূর্তের জন্য সম্মোহিত হয়ে গেল। হিয়া মৃদু স্বরে বলল, “বাড়ি নয়, অন্য একটি কারণে এখানে এসেছি।” তার স্পর্শ আর চোখের চাহনিতে এহসান তখন দিশেহারা। হিয়া দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল।
এহসান নিজেকে সামলাতে না পেরে গাড়ি থেকে নেমে হিয়ার পিছু নিল। অন্ধকার জঙ্গলের ভেতর হিয়াকে দ্রুত হাঁটতে দেখে সে চিৎকার করে উঠল, “এই মেয়ে, দাঁড়াও! আমাকে সিডিউস করে এভাবে পালিয়ে যাচ্ছ কেন?”
জঙ্গলের গভীরতম অংশে পৌঁছে হিয়া হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। সে ধীরে ধীরে তার মুখের মাস্কটি খুলে ফেলল। চাঁদের আবছা আলোয় তার মুখটা স্পষ্ট হতেই এহসানের মুখ থেকে রক্ত সরে গেল। সে থরথর করে কাঁপতে লাগল। তার মনে পড়ে গেল সেই পুরোনো ফাইল—যে পরিবারের ধ্বংসের মিথ্যা খবর সে নিজের হাতে খবরের কাগজে ছাপিয়েছিল।
এহসানের গলায় আওয়াজ বেরোচ্ছিল না, “তুমি… তুমি কে?”
এহসান কিছু বোঝার আগেই আশেপাশে থাকা একটি ধারালো কুঠার হাতে তুলে নিল হিয়া। সে আঘাত করতেই এহসান কোনোমতে সরে গেল। এহসান প্রাণপণে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ঝোপের আড়াল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এল ইভানা। ইভানার হাতে পিস্তল দেখে এহসান পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
দুই নারী এবার তাদের সবটুকু ঘৃণা নিয়ে এহসানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কুঠারের আঘাতে এহসানের আর্তনাদ বনের নিস্তব্ধতা চিরে দিল। কয়েক মুহূর্তের বীভৎসতায় এহসানের নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। হিয়া আর ইভানা মিলে এহসানের ভারী লা/শটি টেনে নিয়ে গেল সেই কুখ্যাত দানিয়েলের কুমিরের খালের কাছে।
হিয়া একবার মৃ/ত এহসানের মুখের দিকে তাকাল। তার চোখে কোনো অনুশোচনা নেই, আছে শুধু এক গভীর তৃপ্তি। সে দেহটি খালের অতল জলে ফেলে দিল। জলের ভেতরে কুমিরের ওলটপালট করার শব্দ আর আবছা রক্তের ছোপ দেখে হিয়া শীতল কণ্ঠে বলল, “আজকের এই নিউজটা অন্তত কেউ ছাপাতে পারবে না, এহসান চৌধুরী।”
রাত তখন গভীর। হিয়া নিজের কক্ষের বাথরুমে দাঁড়িয়ে আছে। ট্যাপের জল তীব্র গতিতে পড়ছে, আর সে বারবার হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ঘষছে। তার ত্বকের ভেতর দিয়ে ওই নোংরা মানুষগুলোর স্পর্শ মিশে আছে। এহসান চৌধুরীর সেই অভিশপ্ত রক্তের গন্ধ এখনো তার হাতে লেগে আছে। ঘৃণা আর বমিভাব তাকে অস্থির করে তুলছে। আয়মানের গালে সেই স্লাইড করা কিংবা এহসানকে স্পর্শ করা প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে অ্যাসিডের মতো দাহ্য মনে হচ্ছে।
সে পাগলপ্রায় হয়ে হাত ধুতে লাগল। তার চোখ আয়নায় প্রতিফলিত। সেখানে কোনো করুণা নেই, আছে কেবল এক ধ্বংসাত্মক জেদ। অনেকক্ষণ পর জল বন্ধ করে সে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছল, কিন্তু মনের অস্বস্তি কাটল না।
হঠাৎ করেই তার চেহারার কাঠিন্য বদলে গেল। বাথরুমের নিস্তব্ধতায় তার মনে পড়ে গেল আজকের দিনের সেই বিশৃঙ্খল মুহূর্তটা লিওনের সাথে সেই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ। আর থাইল্যান্ডের জঙ্গলে লিওনকে জড়িয়ে ধরেছিল, সেই মুহূর্তে তার নিজের অগোচরেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করেছিল। আয়মান বা এহসানের ছোঁয়া যেখানে তাকে বিষাক্ত করেছে, লিওনের সান্নিধ্য সেখানে কেন যেন এক শীতল বাতাসের মতো কাজ করেছিল।
আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ১১
হিয়ার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে অমলিন হাসি ফুটে উঠল। বাথরুমের আবছা আলোয় তার চুলের নিচে মুখটা মায়াবী দেখাচ্ছে। সে বিড়বিড় করে বলল, “আয়মান আর এহসান তো কেবল ধ্বংসের উপকরণ… কিন্তু তুমি, লিওন? তুমি আমার এই অন্ধকার জগতের একমাত্র আলো, নাকি সবচেয়ে বড় বিপদ বলো তো?”
