Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০
সুরভী আক্তার

মেঘা নেমে তড়িঘড়ি করে এক গ্লাস ঢেলে পানি এগিয়ে দিলো । আদ্রের হাত কাঁপছে ঠকঠক করে । কোনো রকমে গ্লাসের পানি টুকু ঢকঢক করে শেষ করলো সে । আর চোখ তুললো না । তুললেই বিপদ । এই সাধারণ মেয়েটা খুব ভয়ংকর । নাজেহাল করে ছাড়লো সটান আদ্রকে । আরো কত কি বাকি আছে কে জানে ! গ্লাস রেখে ধুপধাপ পা ফেলে বাইরের দিকে হন্তদন্ত হয়ে এগোয় আদ্র । মেঘা ডেকে বলে….
” ভাইয়া ,, শিশিরের বর আসেনি এখনো ?
” এসেছে ।
ছোট্ট উত্তর । বলেই বেরোলো ঘর থেকে ।
ফোন বের করে কাউকে কল করলো । মুখ গোল করে শ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বললো…..
” আমি খুব বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি ভাইয়া । তোমাকে পাশে চাই এই মুহূর্তে । চলে এসো প্লিজ ,,, বাকিটা পরে সামলে নেবো ।
অতঃপর ফোন কেটে দ্বিতীয় আরেকটা নাম্বারে ডায়াল করে….! রিসিভ হতেই নরম কন্ঠে ডাকে….
” আব্বু …..

এদিকে ধপ করে খাটে বসে মেঘা । এসে গেছে ঐ উশৃঙ্খল বখাটে ছেলেটা । বিয়ে হবে ক্ষণিকের মধ্যে । শিশির বন্দিনী হয়ে যাবে তার ।
অনেক হয়েছে । আর পারা যাচ্ছে না । অধৈর্য হয়ে এবার ঘর ছাড়লো ইকরা । শক্ত ভঙ্গিমায় বসার ঘরের সবার সামনে এসে থামলো । বিয়ে পড়ানোর আগে নতুন বউকে এভাবে দেখে চোখ কুঁচকে তাকালেন সকলে । ইকরা দ্বিধা হীন সোজাসুজি আবিদের সামনে এসে থামে । অগত্যা উঠে দাঁড়ায় আবিদ । বরাবরের ন্যায় চোখ থমকায় । এই মেয়েকে সে যতবার দেখে , ততবার প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়
। আজও মারাত্মক ভাবে প্রেমে পড়লো ।
এই প্রেমের হালাল বন্ধন হবে আজ ।
বউ সাজে ইকরা কে দেখে মুচকি হাসে আবিদ । মুখ খোলার আগে ইকরা ভারী গলায় জানতে চায়…
” এসব কি হচ্ছে আবিদ ? আপনার ভাই কোথায় ?
” নেই !
” মানে ? আপনারা এসেছেন ঘন্টা দুয়েক হলো । আপনার ভাই আসছে না কেনো এখনো । কানাঘুষো চলছে আশেপাশে । আর কতক্ষন এভাবে অপেক্ষা করবো ?

” অপেক্ষা করতে হবে না । এক্ষুনি বিয়ে হবে ।
” কিন্তু আপনার ভাই ?
” ও আসবে না ।
” মানে ? হেয়ালি করবেন না প্লিজ ।
ভড়কানো স্বর ইকরার । আবিদের ঠান্ডা স্বর প্রত্যুত্তরে…
” ইকরা ,, আমার কথা শুনুন মন দিয়ে । আয়ান আসবে না মানে আসবে না । আমার ভাই ভালো নয় ইকরা । নেশাখোর ও । বখাটে, উশৃঙ্খল, জেল খাটা আসামী । ওর সাথে শিশিরের বিয়ে হতে পারে না । শিশিরের জীবন টা নষ্ট হতে পারে না এভাবে । আপনি ভুল বুঝবেন না প্লিজ । আমার কথাটা ঠান্ডা মাথায় শুনুন আগে ।
ইকরা বুঝলো না । হতবাকের ন্যায় পিছিয়ে গেলো । পেছন থেকে আবিদ কে ধমকালেন মার্জিয়া বেগম…
” আবিদ ,,, কি হচ্ছে কি এসব ? কি উল্টো পাল্টা বকছিস ?
” চুপ করো আম্মু । উল্টো পাল্টা বকছি না আমি । দেখো গিয়ে ,, তোমার ছোট ছেলে মদ খেয়ে টাল হয়ে পড়ে আছে কোথাও । টেনশন করছো কেনো ওকে নিয়ে বলতো ? তুমি জানো না তোমার ছোট ছেলে কেমন ?
এহেন কথায় চোখ রাঙানি দেন মার্জিয়া বেগম । আবিদ থোরিই না কেয়ার করে । ইকরার দিকে ফিরে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে…

” ইকরা ,,, শিশিরের সাথে আয়ানের বিয়ে হবে না ।
কাজি সাহেব ,, আপনি আমাদের বিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা করুন আগে ।
পুরো বাড়ি থম মেরে রইলো । আজমিরা বেগম হতবাক হয়ে চেয়ে রয়েছেন । বুক দূরু দূরু । ইকরা বলে…..
” বিয়ে মানে ? কার বিয়ে পড়াবে…
” আমাদের ।
” আর আমার বোন ?
” শিশির কে নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই । বরং ও বেঁচে গেছে । আয়ানের মতো উশৃঙ্খল ছেলের সাথে বিয়ে হচ্ছে না ওর ।
” আপনার ভাই নেশাখোর, উশৃঙ্খল , এটা আগে বলেন নি কেনো আপনি ?
মেয়েটার কন্ঠ কাঁপে । মনের দোটানায় ভোগে ।
” ইকরা ,,, আমি আয়ানের বিষয়ে কোনো কিছু বলার মতো পরিস্থিতিতে ছিলাম না । আপনি আগে বুঝুন আমার কথাটা….
” তাহলে, এখন বলছেন কেনো এসব । এই অন্তিম মুহূর্তে ?
” আয়ান আসে নি তাই । শিশির রক্ষা পেয়েছে ।

” আর যদি আয়ান আসতো , তখন ? তখন আপনার ঐ বখাটে ভাইয়ের সাথে আমার বোনকে জুড়ে দিতেন ? আবিদ ,,, আই কান্ট বিলিভ ! আমি তো আপনাকে ভরসা করেছিলাম । আপনার ভরসায় আমার বোনকে আয়ানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম । আর এখন , এখন এসব কি শুনছি আমি ?
আমার বোনের জীবন টা জেনে শুনে নষ্ট করার পথে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন আপনি ? আজ বউ সেজেছে আমার বোন ! আর আজ এসব…..
আর কিছু বলতে পারে না । কন্ঠ ধরে আসে । আবিদ শান্তনা দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই হাত উঁচিয়ে বাঁধ সাধে…
” প্লিজ ,, কাছে আসবেন না আমার । ছিঃ ,,, আপনি এতোটা স্বার্থপর ? আমি ভুল চিনেছি আপনাকে !
” ইকরা ,, আমার কথা পুরোটা শুনুন আগে । আপনি ভুল বুঝছেন আমায় ‌।
” কি ভুল বুঝছি ? আজ আয়ান আসে নি বলে এসব খোলসা হলো ? আর যদি আসতো , তাহলে আমার বোনের কি হতো ?
আবিদ কিছু বলতে উদ্যত হয় । এর মধ্যেই কাছাকাছি কোথাও থেকে পুরুষালি কন্ঠ ভেসে আসে…..

” হেয়য়য় গাইসস ,,, আমার সুইটহার্ট কোথায় ?
চকিতে সদরের দিকে তাকায় সকলে । আদ্র ছ্যাত করে ওঠে রৌদ্র কে দেখে । লোকেশন ট্রাক করে এসেছে ও । বাড়ির ভেতর ঢুকেই মেঘা কে খুঁজলো । এতো সব নতুন মুখের ভিড়ে খুঁজে না পেয়ে চোখ কুচকালো । সবার দৃষ্টি নিজের দিকে বুঝে বললো হাত নেড়ে….
” আ’ম ইনভাইটেড । এভাবে দেখার কিছু নেই । এটা ঐ কুয়াশার বাড়ি, এখানেই বিয়ে , তাই তো ? আমার বউ এসেছে ওর বিয়েতে । আমি কিন্তু বিয়েতে আসিনি , আমি আমার বউয়ের কাছে এসেছি । কোথায় আমার বউ পাখি ?
আদ্র চোখ বড় বড় করে দ্রুত এগিয়ে যায় । এখানকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল । রৌদ্রের কনুই ঠেনে ধরে ও । চাপা স্বরে বলে….

” রুডি ,কাম উইথ মি ।
রৌদ্র কে টেনে নিয়ে গেলো সে ।
ইকরা বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানে । চোখ ছলছল । সেদিক থেকে মনযোগ সরিয়ে আবিদ ধীরে বলে….
” ইকরা ,, শিশিরের কিছু হবে না । আমার কথাটা আগে শুনুন । এখন এখানে দুটো বিয়েই হবে । দ্বিতীয় টা হতে সময় লাগবে একটু । আমাদের বিয়েটা হোক আগে ! অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি । প্লিজ ইকরা ,, ভরসা রাখুন আমার উপর ।
” এর পরেও ভরসা রাখবো ? আমাকে এভাবে বোকা বানালেন আবিদ ? আমার বোনের জীবন টা এভাবে অগোছালো করে দিলেন । আমাকে তো এসব আগেও বলতে পারতেন আপনি ! ভেবে দেখেছেন , শিশিরের কানে এসব পৌঁছালে কি হবে ? আমাদের সমাজ ভালো নয় ‌। অল্পতেই কালি ছেটায় মেয়েদের শরীরে । আমার বোনের কি হবে এখন ?
” বলেছি তো শিশিরের কিচ্ছু হবে না ।
” কি কিচ্ছু হবে না ? যা হবার তা হয়ে গেছে । আর কি বাকি আছে বলুন তো ? প্রথমত আপনার ঐ ভাইয়ের থেকে মুক্তি পেয়েছে আমার বোন । আর দ্বিতীয়ত একটা তকমা জুটিয়েছে কপালে । আমার এসবে বড্ড ভয় আবিদ । কেউ নেই আমার । বাপ নেই । সমাজ আমাদের সাথে মেশে না । আমরা নিম্নবিত্ত । কটু কথা বলবে সকলে । আপনি কি করলেন এটা ?

ইকরা কেমন কেঁদে ওঠে । শক্ত আবরণ এই প্রথম ভাঙলো । প্রথম থেকেই শিশির কে নিয়ে ভয়ে ছিলো ।
এদিকে ঘরের চৌকাঠে শিশির দাঁড়িয়ে । পাশে মেঘা,শাফাহ্ । সব কানে পৌঁছেছে । তবুও অনুভুতি হীন কিংকর্তব্য বিমূঢ় শিশির । আদ্র রৌদ্র কে ঠেলে এদিকে পাঠিয়েছে । রৌদ্র কিছু বুঝলো না । তবে পরিস্থিতি বেগতিক , তা আন্দাজ করলো । ওকে দেখেও মেঘার প্রতিক্রিয়া নেই । রৌদ্র একে একে তিন রমনী কে পরখ করে ‌। অতঃপর মেঘার পেছনে দাঁড়ায় । কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে….
” সানি ,, এসব কি হচ্ছে এখানে ? বিয়ে হবে না ? খাওয়া দাওয়া হবে না ? বিয়েতে খাবো বলে সেই দুপুর থেকে খাইনি । খিদে জমিয়েছি । এখন খিদে পেয়েছে ভীষণ , খাইয়ে দিবি কিন্তু !
কটমট করে তাকালো মেঘা । অমনি চুপসে গেলো রৌদ্র । ঢোক গিলে ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে আবার বললো….
” সত্যিই খিদে পেয়েছে । পেটে ট্রাক্টর চলছে ,, কান পেতে শোন ।
” চুপ করুন রাইনো মুখো । আর একবার কথা বলেছেন তো , ঠোঁট সেলাই করে দেবো একদম ।
আরো বেশি চুপসে যায় রৌদ্র ।
আদ্র ইকরার দিকে এগোয় । বোঝানোর চেষ্টা করে….

” ইকরা ,, আপনি আমাদের কথাটা শুনুন ।
” কি শুনবো আমি ? আপনি তো শিশিরের প্রফেসর । সব জানতেন আপনি ? তবুও এমনটা হতে দিলেন ? একটুও খারাপ লাগলো না । একজন শিক্ষক আপনি । আপনার এটুকু জ্ঞান বোধ নেই । নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এসব দেখে গেলেন ? আয়ানের বিষয়ে আপনার জানার কথা । তবুও আটকালেন না এসব ? এতোটা হীন মনের আপনি ? ছিঃ…
” ইকরা ?
ধমকায় আবিদ ।
পাশ থেকে গর্জে ওঠেন মার্জিয়া বেগম….
” এই মেয়ে ,, তখন থেকে শুনে যাচ্ছি তোমার বকবক । আমার এক ছেলেকেও ছাড়ছো না তুমি । আয়ান কে নিয়ে কথা বলছো , আয়ান তো এই বিয়েতেই রাজি ছিলো না । তাই আসেনি বোধহয় ।
আর এখন আবিদের উপর জবান উঁচাও তুমি ? এতো বড় সাহস ? আরে আমার ছেলে তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে , এটা তোমার সৌভাগ্য ।
” চাই না আমার এই সৌভাগ্য !
মেয়েটার চোখ থেকে টুপ করে পানি ঝড়ে । কথাটার অর্থ বুঝে ছলকে ওঠে আবিদ । জানতো এমন ভুল বোঝাবুঝি হবেই । সে বিচলিত হয়ে পড়ে….

” ইকরা ,,, প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন ।
” আমাকে আর আমার বোনকে , দুজনকেই ঠকালেন আপনি । অথচ আমি আপনাকে ভরসা করেছিলাম । প্রথম কোনো পুরুষকে ভরসা করেছিলাম, আবিদ । অথচ আপনি কি করলেন ?
আদ্র এবার চুপ করে থাকলো না । সুযোগ পাচ্ছে না কথা বলার । এবার সুযোগ ছিনিয়ে নিলো….
” ব্যসসস , অনেক হয়েছে ।
কাজি সাহেব , বিয়ের ব্যবস্থা করুন । এই মুহূর্তে বিয়ে হবে । দুটো বিয়েই হবে । দু’জন পাত্রই উপস্থিত এখানে । একজন #সালভিন_আদনান_আবিদ , আর অন্যজন….
সে কথা শেষ করতে পারলো না । তার আগেই গম্ভীর একটা পুরুষালি কন্ঠ ভেসে আসলো….
” আর অন্যজন #আদ্রিয়ান_কাবির_আদ্র । কাবির পরিবারের মেঝো ছেলে ।
বাজ পড়লো পুরো বাড়িতে । ধক্ করে দ্বিতীয় বার সদরের দিকে চাইলেন সকলে । তোফায়েল কাবির, তৌসিফ কাবির,আর সাফওয়ান কাবির শুভ্র । সটান দাঁড়িয়ে তারা ।
কথাটা বলেছেন তোফায়েল কাবির । কানে পৌঁছানো মাত্রই মেঘা শাফাহ্ আর রৌদ্রের মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠলো । চোখ বড় বড় করে তাকালো ওরা । মেঘা তাদের দেখে আর এমন কথা শুনে ছলকে ওঠে । রৌদ্র কে নিজের কাছাকাছি দেখে বিপত্তি এড়াতে চায় । শাফাহ্’র কনুই টেনে ওকে দাঁড় করায় নিজের জায়গায় । আর নিজে দাঁড়ায় ওর জায়গায় । অর্থাৎ জায়গা বদল করে । তা দেখে চোখ সরু করে রৌদ্র । নির্লজ্জের মতো আবারো মেঘার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় । ঝুঁকে মাথার কাছে নাক ডুবিয়ে ঘ্রাণ টেনে ফিসফিস করে বলে….

” সুইটহার্ট , আমি কি ভুল শুনলাম ?
এদিকে তোফায়েল কাবিরের আকস্মিক কথায় বাজ পড়লো শিশিরের মাথায় । তবুও নড়লো না মেয়েটা । কেবলই পলক পড়লো চোখে ।
আদ্র সচকিতে তাকায় । পরিচিত মুখাবয়ব দেখে শুল্ক ঢোক গেলে । ওনারা এগিয়ে আসেন । ছেলের পানে সোজাসুজি দৃষ্টি গেড়ে দাম্ভিক ভঙ্গিতে পা বাড়ান তোফায়েল কাবির । হাত পেছনে গোটানো । আকস্মিক অস্বস্তিতে দৃষ্টি নামায় আদ্র । এক হাত মুঠিয়ে নেয় ‌।তোফায়েল কাবির সম্মুখে এসে থামেন । অপরিবর্তনীয় হয়ে বলেন একই কাঠ স্বরে….
” আদ্রিয়ান কাবির আদ্র ,, আমার ছেলে । আর তার সাথেই বিয়ে হবে শিশিরের ‌‌।
রৌদ্রের মুখ কুঁচকে আসে । অস্ফুটে বেরোয় অবিশ্বাস্য এক শব্দ….
” হোয়াট ?
শিশির নড়েচড়ে ওঠে এবার । একটু পিছিয়ে মেঘার’র সাথে বাড়ি খায় । মাথা ভনভন করে ওঠে ,, চোখ নামায় । টলে পড়তে চায় দূর্বল দেহ খানা । ইকরা কাউকে চিনলো না । অবাক লোচনে চেয়ে বললো…
” আপনারা ?
” আমি আদ্রের বাবা ।
রাত নয়টা পেরিয়েছে সেই কখন । এখনো দেখি সব এলোমেলো ! বিয়ে হবে আর কখন ? সবাই এভাবে কি দেখছেন ? রাত গভীর হচ্ছে । বিয়ের ব্যবস্থা করুন । পাত্র দু’জনেই তৈরি । গার্ডিয়ান ও আছে । দেরি কেনো তাহলে ?

” আংকেল ,, এসব কি বলছেন ?
ইকরার অবাক প্রশ্ন । হেসে উত্তর করেন তোফায়েল কাবির….
” বিয়ের কথা বলছি । তোমার ছোট বোনকে আমাদের বাড়ির বউ করতে চাই আমরা । দেখো , আমাদের পরিবারের দুটো ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে অলরেডি । বাকি আছে একটা । ওর বউকে এখন ঘরে তুলতে চাই আমরা । আর আজকেই । তোমার ছোট বোনকে চাই আমার ছেলের বউ হিসেবে । আমার ছেলে খারাপ নয় , বরং ভালোর প্রশংসা করতে গেলে শব্দ কম পড়ে যাবে । বিশ্বাস রাখতে পারো । অসুখি হবে না তোমার বোন ।
ইকরার কাছে সবটা এলোমেলো লাগে । ঘোলাটে হয়ে আসে আশপাশ । কি হচ্ছে এসব ? কি বলছেন এই ভদ্রলোক ? তাও আবার এভাবে হঠাৎ করে ?
মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে ওর । একহাতে মাথা চেপে ধরে পেছায় এক কদম । এগিয়ে যায় আবিদ । ঝুঁকে ধীর কন্ঠে বলে আশ্বস্ত করে….

” ইকরা ,, আমি আপনার আবিদ ! অবিশ্বাস করেন আমায় ? এখানে যা হচ্ছে , কোনো কিছুই আকস্মিক নয় । আমি সবটা বুঝিয়ে বলবো আপনাকে । এখন যা হচ্ছে হতে দিন । আমি আছি তো , বিশ্বাস রাখুন । আদ্রের সাথে শিশিরের বিয়ে হবে । প্লিজ দ্বিমত করবেন না । প্লিজ ইকরা…
ছলছল চোখে তাকায় মেয়েটা ।
তোফায়েল কাবির গলা বাড়ান…..
” শিশিরের মা কে ?
এক কোণে সিফাতকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভীত আজমিরা বেগম । এবার নড়েচড়ে উঠলেন । এসব কোলাহল, সিদ্ধান্তহীনতায় বড্ড ভয় তার । তার দিকে সবার দৃষ্টি পড়তেই ঠাহর করে বললেন তোফায়েল কাবির….
” বেয়াইন সাহেবা , আপনার মেয়ে আজ থেকে আমার বাড়ির বউ হতে চলেছে । আপনার কোনো আপত্তি নেই তো ? প্রয়োজন হলে আমাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন ।
চোখ নামালেন ভদ্রমহিলা । কি বলবেন তিনি । নিজেই ইকরার ভরসায় থাকেন সর্বদা । তোফায়েল কাবির নীরব সায় পেয়ে বলেন…
” তাহলে আর অপেক্ষা কেনো ? শুরু করুন সবকিছু ।
শিশির পিছিয়ে গেলো পুরোপুরি । চোখ বেয়ে জল অনবরত গড়ায় । অবিশ্বাস্য লাগে সবটা । মাথা ঝাঁকিয়ে বিড়বিড় করে….

” নাহ,, এটা হতে পারে না । কিছুতেই না !
বলতে বলতে ঘরে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয় । চমকায় বাকিরা । ঘোর কাটে মেঘা আর শাফাহ্’র ।
রৌদ্র নিজেও চমকায় । দ্রুত পিছু ফিরে বন্ধ দরজার দিকে তাকায় । ছুটে যায় ইকরা….
” শিশির ,,, কি হলো ? এইই ,,, দরজা আটকালি কেনো ? দরজা খোল । শিশির ?
আদ্র ভড়কায় । চকিতে তাকালেও আবারো চোখ ফিরিয়ে বাপের দিকে চায় । অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে ভীষণ । এই ক্ষণিকের ব্যবধানে তোফায়েল কাবিরের এমন ঠান্ডা সিদ্ধান্ত মানতে বেগ পোহালো । বিনয়ী হয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে ধীরুজ স্বরে বললো…..
” থ্যাংক ইউ আব্বু । এন্ড আ’ম সরি….
হেসে চোখ ইশারা করলেন তোফায়েল কাবির ।
শুভ্র এগিয়ে ফিসফিস করে বলে…..
” ব্রাভো ভাইই , তোর বাপ যে হম্বিতম্বি করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে , আমি ভাবতেও পারিনি এখানে এসে এমন কিছু ঘটাবেন ।
শিশির দরজা খোলে না । আজমিরা বেগম ও ডাকেন । মেঘা নিজেকে ধাতস্থ করে । সবটা এখনো এলোমেলো ওর কাছে । তবুও শিশির কে ডাকে । সাঁড়া নেই ভেতর থেকে । আদ্র গিয়ে চড়া গলায় হুংকার ছাড়ে সবাইকে অগ্রাহ্য করে……

” এইই বেয়াদব ,,, ওপেন দ্যা ডোর !
রৌদ্র হিসেব মেলাতে ব্যাস্ত । যা মিললো , তাতে বুঝলো , মেঘার দিক থেকে আদ্র কে নিয়ে আর ঝঞ্ঝাট নেই । ঝামেলা পোহাতে হবে না । এই ঝামেলা গছবে অন্যের ঘাড়ে । সবসময় মেঘবুড়ি, মেঘবুড়ি করে মুখে ফেনা তোলাটা ঘুঁচবে এবার । রৌদ্র বড্ড জেলাস ওকে নিয়ে । মাত্রাতিরিক্ত যাকে বলে । এবার আর হতে হবে না । আদ্রকে এখন অন্যের পোঁটলায় পুড়তে পারলেই বাঁচা যায় । মুক্ত হওয়া যায় এই ঘর শত্রু বিভীষণের থেকে ।
ছক মিলতেই খুশিতে চিকচিক করে উঠলো রৌদ্র । সহসা হাতে তালি বাজিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো উচ্ছ্বাস সমেত….
” ওওও হোওওও ,,,, বিয়ে হবে ? আদ্র , বিয়ে হবে তোর ! জিও ব্রো , ব্রাভো । এতো দিনে বুঝলি তোর বিয়ের বয়স হয়েছে ? করে নে , ফটাফট বিয়ে করে নে ।
এই কুয়াশা, দরজা খোলো ? বিয়ে করবে না ? আরে আমার ভাইয়ের সাথে বিয়ে হবে তোমার । এ তো খুশির খবর । তোমার কি লজ্জা লাগছে ? আরে ঘোমটা দিয়ে বেরিয়ে এসো বাইরে ।
এই ডিজে লাগা কেউ , কাবির পরিবারের মেজো ছেলের বিয়ে হবে এখন । আমার ভাইয়ের বিয়ে হবে !
আদ্র তাজ্জব বনলো । রৌদ্র ওকে ভাই সম্বোধন করলো আজ কত বছর পর । বেশ খুশি রৌদ্র । কেনো খুশি , কোন দিক দিয়ে খুশি , তা বুঝতে বাকি রইলো না । ঠোঁট টিপে হেসে আবারো শিশিরের দিকে ধ্যান দিলো সে ।
তোফায়েল কাবির চোখ সরু করেন রৌদ্র কে এখানে দেখে ।
শিশির কে লাগাতার ডাকা হচ্ছে । অবশেষে মায়ের ডাকে দরজা খুললো সে । শুরুতেই মুখোমুখি হলো আদ্রের । চোখ তুললো না । পাশে ইকরার দিকে তাকলো । গাল বেয়ে পানি গড়ানোর ছাপ স্পষ্ট । কাজল ঘেঁটে গেছে । ভেজা চোখে মুখে হাসলো মেয়েটা ।

” তুমি বিয়ে করে নাও আপু ।
আবিদ বলে পাশ থেকে….
” বিয়ে দুটো হবে । আদ্রের সাথে…..
” প্লিজ ভাইয়া , চুপ করুন । এসব বলবেন না । অস্বস্তি লাগে শুনতে । দ্বিতীয় কোনো বিয়ে হবে না এখানে । আমার যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা , সে আসে নি । তাই, আর কোনো বিয়ে হবে না । সে যদি আসে , তবেই বিয়ে হবে । আমি এবাড়ির বোঝা নই । থেকে গেলে খুব ক্ষতি হবে না । তবুও অঘটন ঘটাবেন না এভাবে ।
কথার মাঝে আবিদ কে থামায় শিশির । চোখ মুখ বিকৃত ওর । গা রি রি করে ওঠে এসব চিন্তা করতে গেলে । ইকরা বলে…
” শিশির ,, অঘটন নয় । না করবি না তুই । যদি বিয়ে হয় , তাহলে দুটো হবে । তোর আদ্র স্যার….
এবার ক্রন্দনরত স্বরে চেঁচিয়ে ওঠে শ্যামলিনী….

” আপু , তুমিও ? আরে,, মাথা খারাপ হয়ে গেছে সবার ,,, উনি আমার টিচার ! ভাবতে পারছো ? ছেলে খেলা পেয়েছো আমার জীবন নিয়ে ? কোনো বিয়ে হবে না আর ! আমি এই বিয়ে করবো না কিছুতেই ! প্লিজ আমার সামনে এসব কথা বলবে না কেউ । অনেক সহ্য করেছি আমি । আর পারবো না । আয়ান কে মানতে কোনো অসুবিধা ছিলো না আমার । কিন্তু এখন ? নাহ,,, কিছুতেই না ।
গাল‌ বেয়ে গড়ানো পানি মুছে নেয় মেয়েটা ।
আজমিরা বেগম মুখ খোলেন হুমকি স্বরূপ……
” আজ যদি তুই এই বিয়ে না করিস , তাহলে এই অসুস্থ সমাজে তোর অবস্থান কোথায় নামবে ভেবে দেখেছিস ?
” করবো না আমি এই বিয়ে । থাকবো না আমি এই সমাজে । মরে যাবো । তবুও এই বিয়ে করবো না….
” এই বেয়াদব ,,, থাপ্পর মেরে গাল লাল করে দেবো , যদি আর একটা বাজে কথা বলেছো তো । তুমি বিয়ে করবে না তোমার ঘাড় বিয়ে করবে ।
আদ্রের ধমক । শিশির তাকায় ছলকে…..
তাল মেলায় রৌদ্র….

” অফকোর্স ,,, এই কুয়াশা ! তুমি বিয়ে করবে না তোমার ঘাড় বিয়ে করবে । তুমি জানো আমার ভাই কত ভালো ? চুপচাপ বিয়ে করে নাও । নয়তো তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে দেবো বলে রাখলাম । ইউ নো , এটার এক্সপেরিয়েন্স ভালো করেই আছে আমার । তাই না সুইটহার্ট ?
মেঘা কটমট করে চোখ পাকায় ।
শেষ বার বলে ইকরা…..
” আজ যদি এখানে দুটো বিয়ে না হয়‌ , তাহলে একটাও হবে না । সরি আবিদ । কোনো বিয়ে হবে না এখানে । শিশির , যা, খুলে ফেল সব সাজপোশাক । আমি ঘরে গেলাম ।
ইকরা পা বাড়ায় । কম্পিত স্বরে পিছু ডাকে শিশির…..
” আপু ?

রাত্রি এখন দশটা বেজে বিশ মিনিট ‌। আবিদ আর ইকরার বিবাহ সম্পন্ন । এখন পাশাপাশি বসে শিশির, আদ্র । বিবাহের জন্য কন্যার সম্মতি নেওয়া শেষ । পাথরের ন্যায় অনুভুতি হীন বসে আছে রমনী । ঠোঁট নাড়িয়ে তিনবার কবুল বলেছে । কোন খেয়ালে বলেছে , তা নিজেও জানেনা । এখন পালা আদ্রের । মৌলভী সাহেব এবার ওর দিকে ফিরলেন । বিবাহ নামা শুনিয়ে সম্মতি চাইলেন । বলতে বললেন সেই তিন অক্ষরের একটা শব্দ । তিনবার বলতে হবে ।
এ বেলায় বলতে গিয়ে গলা কাঁপে আদ্রের । খচখচ করে সে । হাত কচলায় । ধড়ফড় লাগে । কিছুতেই জবান খোলে না । চোখ বুজে নেয় ও । বন্ধ চোখের কার্নিশে ভাসে শ্যামলিনীর কান্না বিজরীত ভেজা মুখশ্রী । আজ যে নিজেকে কিভাবে সামলেছে , তা সে নিজেই জানে কেবল । মেয়েটা কেঁদেছে । অথচ নিজের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলো, ওর চোখে দ্বিতীয় বার আর পানি দেখবে না আদ্র । বুক চিরে নিঃশব্দে শ্বাস ফেলে মনে মনে আওড়ালো যুবক….

” আ’ম সরি শিশির । খুব করে সরি । এটা প্রয়োজন ছিলো । বলেছিলাম না তোমার সুখ হবে । হবে সুখ , আমি হবো তোমার সুখের ঠিকানা । সব অসুখ মুছে ফেলবো । আর কক্ষনো পানি আসতে দেবো না চোখে । শুধু ভুল বুঝোনা আমায় ।
চোখ খোলে সে । এক নিঃশ্বাসে উচ্চারণ করে ছয়টি শব্দ । ‘ আলহামদুলিল্লাহ কবুল ‘ ,,, মোটে তিনবার । কবুল বলার পর পরই কেমন মিইয়ে যায় আদ্র ।
হঠাৎ করেই তার বক্ষ শীতল করা এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগে । মনে হয় পুরো বিশ্ব জয় করে ফেলেছে সে , আর কিছু না হলেও চলবে ‌। তীব্র শীতেও শিরদাঁড়া বেয়ে উষ্ণ স্রোত গড়ালো তার । ঠোঁটে ফুটলো এক পশলা অপার্থিব প্রশান্ত হাসি ‌। অবাধ্য আড়চোখে দেখলো শিশির কে । মেয়েটার নড়চড় নেই ।
অতঃপর তারা আবদ্ধ হয় বিবাহ বন্ধনে । জুড়ে যায় হালাল ভাবে । এক জনের কাছে সব‌ শেষ , অন্যজনের কাছে সবে সবটা শুরুর পরিকল্পনা । চোখ বুজে নেয় শিশির । কান্না আসে বুক ফেটে । বারংবার ভিজে আসে অক্ষিপট । জীবন ওকে ঠিক কোথায় দাঁড় করালো ? কি ভাবলো , আর কি হলো ? অবশ্য এই জীবন নিয়ে মন্দ কিছুই ধারনায় ছিলো । ভালো আর হলো কই ?

কাবির ম্যানসন থমথমে ।
খানিক আগে ফিরেছে সকলে । ঘড়ির কাঁটা এখন বারোটার দোর পার হয়েছে । টিকটিক করে বয়ে চলেছে সময় । ড্রইং রুমে মাথা নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আদ্র । বসে আছেন চার কর্তা গিন্নি ।
রুবিনা কাবির শক্ত চোখে মুখে ছেলেকে পরখ করছেন । তার ছেলেরা হয়েছে এক জাতের । কেউ কারোর থেকে কম নয় ।
একটা বিয়ে করেছে নেশার ঘোরে জোর পূর্বক । এখন অন্যটা বিয়ে করলো হুটহাট । তাও আবার নিজের ছাত্রিকে । হুটহাট ফোন করে নির্লজ্জের মতো বাপকে নিজের বিয়ের খবর জানালো । বাপ গিয়ে বিয়ে পড়িয়ে একেবারে বউ সহ ছেলেকে নিয়ে আসলো বাড়িতে । বাহ্ , খুব ভালো ! রুবিনা কাবির কে আলাদা করে জানানো , বা তার সিদ্ধান্তের কোনো প্রয়োজন বোধ করলো না কেউ । তার কোনো মূল্য আছে কারোর কাছে ?
খিটখিটে স্বরে মুখ খুললেন তিনি…..

” এভাবে মাথা নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো এখন ?
” আ’ম সরি আম্মু !
” কিসের জন্য সরি ,, বিয়ে করেছো । ফরজ কাজ করেছো । ভুল কিছু করোনি , ঘরে যাও ।
তোফায়েল কাবিরের ভরাট কন্ঠ । আদ্র পিটপিট করে তাকায় । ফোঁস করে শ্বাস ফেলেন রুবিনা কাবির । তা দেখে ভদ্রলোক আবার বলেন…..
” তুমি রাগ দেখাচ্ছো কেনো, বলতো ? আমাদের বিয়েটা কিভাবে হয়েছিল ভুলে গেছো ? অনেকটা এভাবেই হয়েছিলো । আজ আমাদের ছেলের ও এভাবেই হলো । বাপ হিসেবে ওকে সাহায্য করেছি আমি । আমার বাপ তো আমাকে সাহায্য করে নি । আদ্রের প্রাউড ফিল করা উচিত আমাকে নিয়ে ।
আকস্মিক এমন কথায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা আদ্র, শুভ্র ফিক করে ঠোঁট কামড়ে হেসে উঠলো ।
তেতে উঠলেন রুবিনা কাবির । ঝট করে দাঁড়িয়ে প্রস্থান করতে করতে গিজগিজ করলেন…..
সিঁড়ির মাথায় রৌদ্রের মুখোমুখি হন তিনি । তর্জনীর ডগায় চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে নিচে নামছিলো । মাকে দেখে থেমে বললো….

” ইভারা কোথায় , মম ?
” আমি কি জানি , খুঁজে নে গিয়ে ।
” রেগে আছো কেনো ?
” তোরা আমাকে শান্তি তে থাকতে দিস ?
” ওওও মম , কাম অন । বিয়ে করেছে তোমার ছেলে , এতে রেগে যাওয়ার কি আছে ? রাগ ঝেড়ে ফেলো । ইভারা কোথায় ? বেরোবো আমরা ? অনেক রাত হয়েছে , ঘুম পাচ্ছে ।
” কোথায় যাবি আবার ?
চোখ সরু করে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করলেন ভদ্রমহিলা । রৌদ্রের গা ছাড়া জবাব…..
” যেখানে ছিলাম এই কদিন !
” ঢং করে আবার ওখানে গিয়ে কি করবি ?
” ঘুমাবো !
” ঘুমানোর জন্য ঘর নেই তোর ?
” আছে তো । কিন্তু আমার এই ঘরে আমার বউ নেই । ইউ নো , ওখানে আছে । ইনফ্যাক্ট থাকে আমার সাথে । ওখানে রুম শেয়ার করি আমরা ।
নির্লজ্জ উত্তর । চোখ মুখ পাকালেন রুবিনা কাবির ‌। পাশ কাটাতে কাটাতে রাগে হিসহিস করলেন…..

” যেযন বাপ , তেমন তার ছেলেরা । একটা তো হয়েছে ঠোঁট কাটা….
এদিকে মা ছেলের কথাবার্তা সবাই শুনলো । আদ্র আর শুভ্রের হাসির মাত্রা বাড়ে ।
আদ্রের ঘরে শিশির । ওকে কোনো কিছুর আভাস পেতে দেওয়া হয় নি । সোজা ঘরে তোলা হয়েছে ।
এখনো সেই বিয়ের সাজেই আছে ও । ঘেঁটে গেছিলো মেকআপ । ফ্রেশ হয়েছে । চেঞ্জ করে নি এখনো । মেহের নিজের ঘর থেকে নতুন একটা শাড়ি বের করে নিয়ে আসলো । বললো,,, যেনো চেঞ্জ করে এটা পড়ে নেয় । হালকা লাগবে তাহলে ।
শিশিরের ভাবাবেগ নেই । বাড়ি থেকেই পাথরের মূর্তিতে পরিনত হয়েছে । আসার আগে কাঁদে নি । চোখ শুকনো । এখনো পর্যন্ত টু শব্দও উচ্চারণ করে নি মুখে । চোখ তুলেও তাকায় নি কারোর পানে । মেঘা আর শাফাহ্ কথা বলার চেষ্টা করলো ওর সাথে । তবে পারলো না । মেহের বেরিয়ে গেছে । শিশিরের পাশে কাছ ঘেঁষে বসলো মেঘা , শান্ত কন্ঠে বললো…..

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৯

” শিশির ,,, তাকা আমার দিকে । দেখ , যা হয়েছে কোনো দিক থেকে খারাপ হয় নি । আমি জানি , হঠাৎ করে হয়ে গেছে এসব । তোর মানতে কষ্ট হচ্ছে । কিন্তু ভেবে দেখ , আয়ানের কবল থেকে বেঁচে গেছিস তুই । এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে ? আদ্র ভাইয়া….
” আমাকে একটু একলা থাকতে দিবি তোরা,,, প্লিজ ? আমি একলা থাকতে চাই মেঘা । কথা বলতে , বা শুনতে ভালো লাগছে না । প্লিজ…..

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০ (২)