Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫১

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫১

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫১
সুরভী আক্তার

ঠক করে বেড সাইট টেবিলের উপর চায়ের কাপ টা রাখলো ইকরা । ঠোকা খেয়ে ঝংকার উঠলো কাঁচে । উক্ত ঝংকারে চমকায় আবিদ । আলতো করে চোখ খিচে নড়েচড়ে বসে । পিটপিট করে চোখ খোলে সেকেন্ড কয়েক বাদ । ইকরার ভাবসাব বোঝা মুশকিল । চটে আছে কাল থেকে । বেশি রাত হয়ে গেছিলো বিধায় আবিদের সাথে কথা বলে নি আর ।
এখন সকাল আটটা । উঠতে উঠতে লেট হয়ে গেছে । অফিসে ছুটি আছে বেশ কদিন । দৈনিক রুটিনে এখন থেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে আবিদ । এই লোকের জন্য এক কাপ চা করে নিয়ে আসলো সবে । কাপটা রেখেই লেগে পড়লো বিছানা গোছাতে । মুখো ভঙ্গিমা নিরেট । তাকাচ্ছে না । আবিদ ওর এহেন ভাবসাব দেখে গলা ভিজিয়ে মোলায়েম কন্ঠে ডাকলো….

” ইকরা ??
” হয়েছে কি ?
চটচটে স্বর রমনীর । মিনমিন করলো আবিদ…
” না মানে , চা টা খুব সুন্দর হয়েছে ।
” আপনি তো এখনো খান নি । না খেয়েই বুঝলেন কি করে ?
” না মানে ,,
” কি না মানে,না মানে করছেন ?
” না মানে ,,,
” আবার ?
” উফফফ , আপনি বসুন না আমার পাশে ! কাল থেকেই রেগে আছেন । কথা বলছেন চটচট করে । ভালো লাগছে না এভাবে । আপনি না আমার মিষ্টি বউ । কোথায় একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবেন , তা নয় , আপনি পাত্তাই দিচ্ছেন না আমায় ।
ইকরা হাতের কাজ ফেলে ধপ করে বসলো আবিদের পাশে । ভরা কন্ঠে বললো….
” মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনতে চান , তো তেঁতো কাজ করেন কেনো ? এবার যা যা প্রশ্ন করবো , ঠিকঠাক উত্তর দেবেন । নয়তো ভালো হবে না বলে রাখলাম ।

” আচ্ছা ,, বলুন ম্যাডাম ! কি কি জানার আছে আপনার ? সব বলবো আমি ।
” আদ্র স্যার হঠাৎ করে এভাবে শিশির কে বিয়ে করলো কেনো ? বিয়ে করার কোনো কারণ ছিলো না ।
” কারন ছিলো !
” কি কারণ ?
” যে কারনে আমি আপনাকে বিয়ে করেছি !
আদ্র শিশির কে পছন্দ করতো । ট্রুলি বলতে গেলে,, ও ভালোবাসতো শিশির কে ।
” হোয়াট ?
ইকরার চমকিত স্বর । বিষ্ময়ে মুখ ফাঁক । আবিদ ধীরে ওর এক হাত টেনে নেয় নিজের দিকে । শান্ত কন্ঠে বলে….
” হুম । আর সবচেয়ে বড় কথা ,, আদ্র কে আমি চিনতাম না । ও আমার কোনো পরিচিত ফ্রেন্ড নয় । ওর সাথে আমার পরিচয় এই কদিন আগ থেকে । শিশির কে ঘিরে ।
” কি বলছেন ? উনি আপনার পরিচিত নয় ?
” উঁহু । তবে ওকে চিনে ফেলেছি ভালো মতো ।
আমার মতোই একজন ও । প্রেমিক পুরুষ । হুট করে প্রেমে পড়ে ফ্ল্যাট হয়ে গেছে ।
ইকরা উতলা হয়ে উঠে । হাঁসফাঁস করে বলে…

” আবিদ ,,, একটু খোলসা করে বলবেন প্লিজ । মাথা ঘুরছে আমার !
” ওমা ,,, মাথা ঘুরছে কেনো ? আমাদের বিয়ের সবে একদিন । আমি এখনো কিছুই করিনি ।
আবিদের টিটকারী স্বর । ঠোঁট কামড়ে হাসছে । লজ্জা পেলেও তৎক্ষণাৎ সামলে নিলো ইকরা । লোকটার উদরে আলতো আঘাত করে বললো….
” মজা করবেন না । প্লিজ বলুন সবটা ।
হাসলো আবিদ । রমনীকে টেনে পিছু ফেরালো । নিজের প্রসস্থ বুকের সাথে হেলান দিয়ে বসালো তাকে । ইকরার পিঠ ঠেকলো আবিদের বুকে । লোকটা ওকে আরো আলগোছে আগলে নেয় । মেয়েটার মাথার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলে হীম স্বরে….
” মাথা ঘোরাচ্ছে ? তো আমার বুকে থাকুন । এ বুকটা তো আপনার নামেই জারি করা । টলে পড়লে এখানেই পড়বেন প্লিজ । আপনার ভার বহনের বড্ড সাধ আমার ।
ইকরা মাথা কাত করে মুচকি হাসে । প্রসঙ্গে ফিরে বলতে আড়ম্ভ করে আবিদ….

” শুনুন তবে ,, আমার ভাই আয়ান ভালো ছেলে নয় । আমি কক্ষনো চাই নি শিশিরের সাথে ওর বিয়েটা হোক । শিশির কে বুঝিয়েছিলাম আমি । কিন্তু ও বুঝতে চায় নি । ও চেয়েছিলো আপনার সাথে যেনো আমার বিয়েটা হয় । তাই মায়ের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী এই বিয়েতে বিনা বাক্যে রাজি হয়ে গেছিলো ও । আমি আয়ানের বিষয়ে আপনাকে সবকিছু বলতে চেয়েছিলাম । কিন্তু সাহস পাই নি কখনো । যদি আপনি ভুল বুঝতেন আমায় , তখন ? তখন আপনাকে হারাতাম আমি ! এই ভয়ে বারবার চেষ্টা করেও কিচ্ছুটি বলতে পারিনি । যেদিন ভয় কাটলো , সবটা আপনাকে বলার সিদ্ধান্ত নিলাম । সেদিন আদ্রের সাথে আমার দেখা । অনেক কিছু জানলাম সেদিন । শিশির কে ও কখনো আলাদা চোখে দেখেনি । তবুও কবে ফেঁসে গেছে , ও নিজেও জানে না । ইনফ্যাক্ট আদ্র নিজে আয়ানের সব খুঁটিনাটি খোঁজ নিয়েছিলো । শিশির কে বুঝিয়েছিলো সবটা ।‌ কিন্তু আপনার বোন বড্ড একরোখা । ওর থেকেও কিছুই বুঝতে চায় নি ।
তাই বাধ্য হয়ে আমার সাথে প্লান করে এসব করিয়েছে সে । ইউ নো , শিশিরের বিয়ের শাড়ি, গহনা, সব আদ্র নিজে পছন্দ করেছে । সেদিন ছাদে নামের পরিবর্তে শুধু A লিখতে বলেছিলো এই কারনেই । আর কাল বিয়ে হলো , এসব প্লানিং করা আগে থেকেই । সব চেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো , আদ্রের পরিবার বিনা দ্বিধায় সবটা মেনে নিয়েছেন । একটা ফোন কল , এই ফোন কলেই সব মেনে নিয়েছেন তারা । কোনো আপত্তি করেননি । দেখেছেন তো কাল ?
ইকরা আশ্চর্য বনে যায় ‌। বাকরুদ্ধ হয়ে থম মেরে বসে রয় । মন দিয়ে শোনে সবটা । বিষ্ময় গিলে প্রশ্ন করে পরক্ষনে….

” এসব প্লানিং করে করা হয় কি করে ? শিশিরের সাথে তো আয়ানের বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো । আয়ান আসে নি । তাই এসব হলো । যদি আসতো , তাহলে ?
” আসতো না ?
” এতোটা জোর দিয়ে বলছেন কি করে ?
” কারন আয়ানকে সরিয়েছি আমরা । এক কথায় বলতে গেলে কিডন্যাপ করিয়েছি ।
” হোয়াট ?
চমকে সরে আসলো ইকরা । দ্বিগুণ হতবাক হয়ে চাইলো বড় বড় চোখে । আবিদ আবার ওকে টেনে বুকের সাথে লেপ্টে নেয় । চুলের ভাঁজে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে…
” হুম । আদ্রের প্লান ছিলো এটাও । ও আসলেই একটা মাস্টারপিস । আয়ান কে সরিয়েছে ও । কিভাবে সরিয়েছে সেটা না বলি । কিডন্যাপ করিয়েছিলো । আজ সন্ধ্যার মধ্যে ছেড়ে দেবে ।
” কিন্তু আয়ান আপনার ভাই , আপনি সবটা হতে দিলেন ?
” হু , অবশ্যই হতে দিলাম । শিশিরের জীবন টা তো বাঁচাতে হতো । নয়তো আপনি আমায় ক্ষমা করতেন না ।
” এসব করে কি হলো ?
” আপনি আমার হলেন । আর শিশির হলো আদ্রের !
ইকরা হাঁফ ছেড়ে বলে….
” এতো নাটকের কি প্রয়োজন ছিলো ? আদ্র যদি স্বাভাবিক ভাবে বলতো , তাহলে স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যেতো সবটা ।

” খুব হতো ? আপনি যেনো খুব স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছিলেন আমায় ! দেড় বছর ঘুরেছি আপনার পিছু পিছু । দেড় বছরে কতদিন হয় হিসেব আছে ? তবুও পাত্তা পাই নি । বিয়ে করলাম , তবুও পাত্তা পাচ্ছি না । আপনার বোন তো আপনার মতোই হয়েছে । পুরো খড়ের মতো খড়খড়ে মন । অনুভুতির ছিটেফোঁটাও প্রকাশ করেন না আপনারা । শিশির কখনো নরমালি আদ্র কে মেনে নিতো না । এভাবে আকস্মিক বিয়েটা না হলে কক্ষনো আদ্র কে বিয়ে করতো না ও । কাল আপনি ওকে ভয় দেখিয়েছিলেন, তাই বিয়ে করেছে । নয়তো করতো না কখনো । তাই এতো সবের আয়োজন । আদ্র বেশ ভালো চিনেছে আপনার বোনকে । মানতেই হবে , আপনার বোন খুব লাকি…?
ইকরা তাকায় পূর্ণ দৃষ্টিতে । কিছুটা কপোল ফুলিয়ে বলে…

” আর আমি ? আমি বুঝি লাকি নই ? এই গোটা আপনি টাকে পেয়ে খুব লাকি আমি ।
” আচ্ছা ? তাহলে কষ্ট দিলেন কেনো কাল ?
” কি করলাম ?
” দূরে ছিলেন ! কথা বলেন নি ‌।
ইকরার মুখ রাঙা হয়ে ওঠে । চোখ নামিয়ে বুকের কাছে সেপ্টে যায় । মুখ লুকিয়ে বলে নোয়ানো স্বরে….
” সরি !
” শুধু সরি ?
” তাহলে ?
” অন্যকিছু চাই । আজ সুদে আসলে পুষিয়ে নেবো । ওকে ?
আকস্মিক লজ্জা লজ্জা ভাবে মুড়িয়ে যায় মেয়েটা । আরো বেশি গুটিয়ে যায় লোকটার বুকের মাঝে ।

বাড়িতে নেই বেপরোয়া রৌদ্র ।
সকাল থেকে নাগাল নেই তার ‌। রাতে তো দেখলো , সকাল হতে না হতেই হাওয়া হলো কোথায় ?
আদ্র ও নেই । দুপুরের রান্নার আয়োজন চলছে । মেঘা, শাফাহ্ আর শিশির এক ঘরে ছিলো এতক্ষণ ।
ক্ষণিকের মধ্যে খাবারের টেবিলে হাজির বাড়ির সকলে । তিন রমনীও এক সাথে নিচে নামলো । তোফায়েল কাবির, তৌসিফ কাবির আগে থেকেই বসে আছেন । মেঘা আর শাফাহ্’র সাথে শিশির কে দেখে মুচকি হাসলেন উভয়েই । বললেন তোফায়েল কাবির….
” বসো মা ।
শিশির বসতে ইতস্তত বোধ করে । মেহের টুকটাক কাজ করছে গিন্নিদের সাথে । আর ও এভাবে শুরু থেকেই হাত গুটিয়ে বসে আছে । সেভাবে কথাও বলে নি কারোর সাথে । এখন কেমন অপ্রস্তুত লাগলো । রুবিনা কাবির একে একে তরকারির বাটি গুলো এনে রাখছেন টেবিলের উপর । শিশির সব ভুলে পিছু নিতে নিতে মুখ খোলে নরম কন্ঠে…

” আন্টি , সাহায্য করবো আমি ?
তৎক্ষণাৎ থামেন ভদ্রমহিলা । মৃদু হেসে বলেন….
” দরকার নেই । বসো তুমি । আমরা করে নিতে পারবো ।
পাশাপাশি বসলো তিন রমনী । আদ্র কখন এসেছে জানা নেই । নিচে নেমে সোজা চেয়ার টেনে বসলো সে । বাকিরাও বসে পড়েছে । আড়চোখ তোলে আদ্র । দেখতে পায় শ্যামলিনী কে । টুকটুকে লাল একখানা শাড়ি পড়নে । আঁচল টেনে রাখা সিঁথির মাঝ অবধি । স্নিগ্ধ শোভন সে । প্রসাধনী বিহীন কোমল রমনী । চোখ নত তার ।
দৃষ্টি সরায় আদ্র । ডেকে বলে….
” মেঘ ,, পরশু থেকে ক্লাস শুরু ভার্সিটিতে । মনে থাকে যেনো । আর এই টুকটুকির বাচ্চাাাাা ,, তোরও যেনো মনে থাকে ।

” এহহহ্ , আদ্র ভাইয়ার বাচ্চাাাা , মনে আছে আমার । তুমি মনে রেখো ভালো করে । বিয়ে করেছো , সেই চক্করে আবার ভুলে যেওনা যেনো ।
কটমট করে তাকাতেই ভেংচি কাটলো শাফাহ্ । চোখ উল্টিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখালো ।
বিকেলের দিকে বাড়িতে মেহমান এসেছেন গুটিকয়েক । আদ্রের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়েছে রাত পেরোতেই । আদ্রের নানু বাড়ি থেকে ওর মামারা এসেছেন বউ দেখতে । শিকদার বাড়ি থেকেও এসেছেন সবাই ।
পুরো বাড়ি গমগমে অনেকের আবির্ভাবে । হইহই পড়েছে পুরো । খোশ মেজাজে ড্রয়িং রুমে আড্ডা বসেছে । তবে আদ্রের ঘরে ভিড় ছিলো এতক্ষণ । শিশিরকে পুরো ননীর পুতুল সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিলো । সবাই দেখেছে ওকে । এখন ঘর ফাঁকা । স্বস্তি পেয়েছে মেয়েটা । কতগুলো অচেনা অজানা মানুষের সামনে ইতস্ততায় জড়িয়ে যাচ্ছিলো । বিরক্তি লাগছিলো ভীষণ ।
এখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো । ঘর ফাঁকা হতেই শাড়ির আঁচল টেনে সরালো মাথা থেকে । অভ্যাস নেই শাড়ি পড়া । তার উপর কাল থেকে শাড়ি পড়েই থাকতে হচ্ছে ।
গা ম্যাজ ম্যাজ করছে । বিরক্তি এসে যাচ্ছে শাড়ি সামলাতে গিয়ে । মুখ কুঁচকানো ওর । বিছানা থেকে নেমে এলোমেলো কুঁচি ঠিক করে নিলো । আঁচল ভাঁজ করে কাঁধে তুললো ।
একগ্লাস পানি ঢেলে এক চুমুকে খালি করলো পুরো গ্লাস ।
আদ্র ঘরে ঢোকে এমতসময় । আভাস পেয়ে চকিতে চায় শিশির । তৎক্ষণাৎ চোখাচোখি হয় । আদ্র বেরিয়েছিলো বোধহয় । অনেকক্ষণ ধরে দেখা মেলেনি ।
দুহাত জুড়ে বেশ কতকগুলো শপিং ব্যাগ ‌। শিশির চোখ সরু করে তাকায় । এগিয়ে গিয়ে ব্যাগগুলো বিছানার উপর রাখে আদ্র । বলে গম্ভীর গলায়….

” কিছু ড্রেস আছে এখানে । সবসময় শাড়ি পরে থাকতে হবে না । আপাতত এগুলো দিয়ে চালিয়ে নাও । পরে সাথে নিয়ে গিয়ে শপিং করিয়ে আনবো ।
ব্যাগগুলোর দিকে তাকায় শিশির । মুখশ্রী শিথিল হয়ে আসে । তবে কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে যায় । লোকটার সাথে কথা বলে নি কাল থেকে । এখনো অপ্রস্তুত সে ‌। ওর না বলা কথাটা যেনো বাঁকা চোখে তাকিয়েই বুঝে নিলো আদ্র । বললো একই স্বরে….
” বউ হয়েছো বলে সবসময় শাড়ি পরে থাকতে হবে , তা নয় । বাধ্যবাধকতা নেই কোনো । কম্ফোরটেবল থাকো । কেউ কিছু বলবে না । মেহের, মেঘ , ওরা নরমালি থাকে । মানিয়ে নিতে শেখো । তার আগে আমাকে মানো , আমাকে মানলে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে কম ।
বলেই ঘর থেকে বেরোতে চায় সে । কিছু একটা মনে পড়তেই আবারো থমকায় । পকেটের উপর হাত রাখে । আরো কিছু একটা আছে । আসার আগে হঠাৎ চোখে পড়লো । কেনো যেনো মনে হলো নিয়ে আসা প্রয়োজন । তাই নিয়ে আসলো ।

খেয়াল আসতেই পিছু ফিরলো আদ্র । ধুপধাপ করে সোজা গিয়ে থামলো শিশিরের সামনে । আকস্মিক আদ্র এমন করে কাছে আসতেই বেখেয়ালে পিছিয়ে যায় শিশির । তড়াক চোখ তুলে তাকায় লম্বাটে লোকটার মুখ বরাবর । চোখাচোখি হয় ‌পুনরায় । আদ্রের চাহনি গাঢ় তীক্ষ্ণ ।
অস্বস্তি হয় । কালকের কথা মনে পড়ে । কাল সে ব্যালকনিতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো । অথচ সকালে নিজেকে আবিষ্কার করেছে বিছানায় । কি করে আসলো , কে আনলো, তা বুঝতে বাকি রয় নি ।
মনে পড়তেই চোখ নামায় মেয়েটা । তিরষ্কারে ফিরিয়ে নেয় মুখ । হাত দুখানা খচখচ করছে শাড়ির আঁচলের এক কোণা চেপে ধরে ।
আদ্র হাত বাড়িয়ে ওর ডান হাত টেনে ধরলো নিজের দিকে । আকস্মিক স্পর্শে ছলকায় রমনী । সজ্ঞানে প্রথম ছোঁয়া পেলো । ভড়কে তাকালো দৃষ্টি বৃহৎ করে । বললো তাৎক্ষণিক….
” কি করছেন ?
আদ্র উত্তর করে না । ওর হাতের মুঠোয় গুজে দেয় কাগজ মতো কিছু একটা । আপন হাত পানে চোখ নামায় রমনী । লোকটা ছেড়ে দেয় ওর হাত । কাগজের গোটানো ঠোঙা ধরিয়ে দিয়েছে একটা ।
শিশির কপাল কুঁচকালো । ঠাহর করলো , খুলে দেখলো ভেতরে বাদাম ভাজা । বিস্মিত হলো সে । মুখ ফাঁক করে চোখ তুলে বললো….

” বাদাম ?
” হু ,, পছন্দ তোমার ?
” আপনি জানলেন কি করে ?
” জিজ্ঞেস করেছি !
” একটু আধটু !
” তাই নিয়ে এসেছি । রাস্তায় দেখলাম , ভাবলাম তোমার জন্য নিয়ে আসলে মন্দ হয় না । খেও ।
কথাটা শেষ করে ঠোঁট ঠেলে মুচকি হাসলো আদ্র । অতঃপর পিছু ঘুরে সেভাবেই ধুপধাপ পা ফেলে বেরিয়ে আসলো রুম থেকে । শিশির আহম্মক বনে রয় । লোকটাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না । এমন কেনো করছেন এই লোক ? বিয়েটাই বা কেনো করলেন ? এখনো জানা বাকি আছে । কাল রাতে হেঁয়ালি করেছেন উনি । তবে হেঁয়ালি পনায় গা ভাসালে চলবে না । সবটা জেনে ছাড়বে শিশির ।
বাদামের ঠোঙাটা মুঠোয় পিষে মুখ শক্ত করলো সে । তবে সমান ভাবে শক্ত করতে পারলো না নিজেকে । কেনো যেনো মন শক্ত হলো না ।

অতিথিরা যারা এসেছিলেন , চলে যাবেন তারা । ডিনার শেষেই বেরিয়ে পড়বেন । সন্ধ্যা সাতটা বাজে । এখনই খেতে বসেছেন সকলে । একদলের খাওয়া শেষ । বাকিরা বসেছেন । রুবিনা কাবির, শাহিনা কাবির ব্যাস্ত পরিবেশনে । শিকদার বাড়ি থেকে সবার সাথে সাথে ইভাও এসেছে । এসেছে ওর স্বামীও । ওদের সম্পর্কে টানাপোড়েন হয় হাজার বার । বারবার ডিভোর্সের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় ওরা । তবে একবার ও সম্পর্কটা ভাঙ্গে নি । ওখানেই গড়মিল , আবার ওখানেই ঠিকঠাক হয়ে যায় সব । কারনটা মূলত জাবির । ছেলেটার কথা ভেবে ইভার সব বেলেল্লাপনা মেনে নেয় ওর স্বামী । মেনে নেয় সবকিছু । তবে ইভা ওর শশুর বাড়িতে থাকে না । ঝগড়া হয় প্রত্যেক দিন ।
তবে আজ ইভা নিজে ওর স্বামী কে ডেকেছে । এ বাড়িতে আসার কথা শুনে আগ বাড়িয়ে ডেকে এনেছে #মাহবুব কে । লোকটাও এসে গেছে সব ভুলে ।

ইভার চাল মেঘা কে জ্বালানো । সে কি একা একাই জ্বলবে নাকি ? মেঘা, রৌদ্র কে একসাথে দেখে দেখে মাথায় আগুন ধরেছে । এখন সে দেখতে এসেছে রৌদ্রের প্রতিক্রিয়া । রৌদ্র তো ওকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো । মাহবুবের সাথে ওকে সহ্য করতে পারবে না নিশ্চয়ই ! যেভাবে ইভা ফুঁসছে , সেভাবে রৌদ্রও ফুঁসবে ।
কিন্তু সেই বেপরোয়া ছেলে নেই বাড়িতে । কাল থেকেই নেই । মেঘা, সারা, শাফাহ্, আর শিশির, ওরা চারটে বসে আছে একপাশে । মিনমিন করে টুকটাক গল্প করছে । মেঘার কোলে রামিশা ।
এর মধ্যেই পুরো ঊনিশ ঘন্টা বাদ বাড়ি ফিরলো রৌদ্র । টালমাটাল হয়ে ভেতরে ঢুকলো সে । এতো সব মানুষজন দেখে বিব্রত হয়ে মুখ কুঁচকে ফেললো । মাথা ঝাকালো দুদিকে । আসার আগে দু পেগ মেরেছে । চরেছে মাথায় । বেশি খেলে নেশা হয় না । উল্টে কম খেলে মাথা ধরে যায় । ঘোলাটে হয়ে আসে দুচোখ । রৌদ্র আধো ঝাঁপসা চোখে সবাইকে পরখ করলো । সিঁড়ি ওঠার শক্তি পেলো না । ধপ করে বসলো সোফায় । অতঃপর সেখানেই শুয়ে পড়লো লম্বাটে হয়ে । রুবিনা কাবির ছেলেকে দেখে রেগে মেগে এগিয়ে আসেন । ঝাঁজ দেখিয়ে ধমকান….

” এতক্ষণে আসার সময় হলো তোর ? কোথায় ছিলি কাল থেকে আজ অবধি ?
কথাটা কানে বাজে রৌদ্রের । কান চুলকে বলে….
” ওওও মম , চেঁচিও না তো । এক গ্লাস পানি দাও ।
” পারবো না দিতে , নিয়ে নিয়ে খা । তোদের এতো জ্বালাতন আর সহ্য হচ্ছে না আমার । দেখবি , একদিন এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবো আমি ।
ঝাইঝাই করে আবার আগের জায়গায় এসে দাঁড়ালেন তিনি । রৌদ্র শুয়ে থেকেই চোখ তাক করে মেঘার দিকে । চেঁচিয়ে বলে…
” ওও সুইটহার্ট ,, এক গ্লাস পানি দে না !
মেঘা মুখ ঝামটায় । কথাটা মেঘার উদ্দেশ্যে , এটা বোঝা মাত্রই ভ্রু গুটিয়ে আসে শিশিরের । মেঘা আর রৌদ্রের সম্পর্ক তার জানা নেই । সে কেবলই জানে মেঘা এ বাড়ির মেয়ে ।
মুহুর্ত কয়েক বাদ রৌদ্রের দিকে এক গ্লাস পানি বাড়িয়ে দেয় কেউ , বলে…
” রৌদ্র ভাইয়া ,, এই যে পানি ।

না তাকিয়েই উঠে বসলো রৌদ্র । খুশি হয়ে গ্লাস হাতে নিলো । চুমুক বসিয়ে এক ঢোক মুখে নিলো । গেলার আগেই দৃষ্টি পড়লো পায়ের দিকে । চট করে তাকালো মুখের দিকে । অমনি দাঁত কেলিয়ে হাসলো ইভা । মুখের পানি টুকু আর গেলা হলো না রৌদ্রের । পিক করে ছিটকে বের করে দিলো । মুখের এঁটো পানি টুকু গিয়ে পড়লো ইভার উপর । এতে মুখ সিঁটকায় সে । রৌদ্র তেঁতে ওঠে…
” এই নাগিন , তোর সাহস কি করে হলো আমাকে পানি দেওয়ার ?
ইভা মুখ ঝামটায় । গা ঝেড়ে বলে….
” আমার হাসবেন্ডের জন্য জুস আনতে গেছিলাম । তুমি পানি চাইলে , তাই তোমাকেও এনে দিলাম । কেউ তো পাত্তাই দিচ্ছিলো না তোমায় ।
বলতে বলতে মাহবুবের পাশে গিয়ে বসলো ইভা । রৌদ্র মুখ সিঁটকায় । মাহবুব কে তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করে । লোকটাকে চেনে সে । তবে দেখলো অনেক বছর পর । বেশ পরিবর্তন এসেছে মাহবুবের মাঝে । বয়স প্রায় চল্লিশ
। অনেকটা টাক পড়েছে মাথায় । চুল পাতলা । নিশ্চয়ই এই নাগিনের জ্বালাতনে সব চুল উঠে গেছে । রৌদ্র ফিক করে হেসে ওঠে । চোখ টিপে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে ব্যাজ্ঞ করে….
” কি রে নাগিন ,,, তোর জামাই তো দেখি টাকা কামাইতে কামাইতে টাকলা হয়ে গেছে ! চুল কই টাকে ?
বলেই হো হো করে হেসে উঠলো ।
চোখ মুখ খিচে ফেললো ইভা । কেবলই রৌদ্রের হাসি শোনা যায় । কারোর কোনো ভাবাবেগ না দেখে আপনা আপনি চুপসে গিয়ে হাসি থামায় সে ।
এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে প্রস্থান করে মেঘা ‌। দপাদপ পা ফেলে সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে ওঠে । সেকেন্ডের মাথায় ওর পিছু নেয় রৌদ্র ,, পায়ে পা মিলতেই হাস্কিটোনে ডাকে…

” ওয়াইফি…?
ডেকেই থামে না , মেয়েটার গোছানো চুলের কাঁটা টা এক টানে খুলে নেয় অভ্যাসবশত । বিরক্ত হয় মেঘা ।
সিঁড়ি পেরিয়ে ঘরে ঢোকে । রৌদ্র পিছু পিছু । মেঘা ওকে পিছু ছাড়াতে চুপচাপ বারান্দায় গিয়ে থামলো । সেখানেও পিছু ছাড়লো না লোকটা ।
দাঁড়ালো রমনীর কাছ ঘেঁষে । রেলিংয়ে হেলান দিয়ে আবার ডাকলো…
” রৌদ্রময়ী ?
মেয়েটা চোখ সরিয়ে নেয় ‌। এই প্রথম বাংলা এই সম্বোধনে ডাক শুনলো । অভিমানে গাল ফোলায় সে ।
” ওও বউ , রাগ করেছিস ? রাগলে তোকে হেব্বি লাগে সুইটহার্ট !
” খাতির জমাতে আসবেন না । চলে যান ।
” কোথায় যাবো তোকে ছেড়ে ?
” যেখানে ছিলেন সেখানে, এক ফোন কলেই দুরাত যার টানে যার কাছে ছুটে গেছিলেন , সেখানে যান ।
” তুই ছাড়া আমার আর কোনো টান নেই জান পাখি । কারোর প্রতি টান নেই ।
” মিথ্যে !
” সত্যিই ! তোর কসম ।
” চাইছেন মরে যাই ?
” চাইছি বেঁচে থাক । আমার হয়ে বেঁচে থাক ।
মনে মনে ভেংচি কাটলো মেঘা । আরো বেশি মুখ ফিরিয়ে নিলো । নাক টেনে বললো….

” থাকবো না আপনার হয়ে ।
যার মনে অন্যকেউ , তার হয়ে থাকার সাধ নেই আমার । যে মনে অন্য কারোর নেই বিচরন , আমার সেই মনের প্রয়োজন !
” ধরনী খুঁজে দেখ , আমি ব্যাতীত সেই মনের অধিকারী অন্য কাউকে খুঁজে পাস কি-না আমিও দেখি ।
মেঘা পৃষ্ঠে আর কিছু বললো না । রৌদ্র আরেকটু কাছে আসে । রমনীর খোলামেলা এক গোছা কুন্তল টেনে নাকের ডগায় চেপে ধরে । দীর্ঘ ঘ্রাণ টেনে চুমু আঁকে আলগা চুলে । বলে…
” ওও সুইটহার্ট ,, কি হয়েছে ?
” কোথায় ছিলেন দু – রাত ? কে ফোন করেছিলো সেদিন ? সত্যি বলবেন ! মিথ্যে বললে জানে মেরে ফেলবো একদম ।
রৌদ্র হাসে নিঃশব্দে । হীম শীতল কন্ঠে প্রত্যুত্তর করে সোজাসুজি…

” রোহানের এপার্টমেন্টে ছিলাম ।
সৌভিকের এক্সিডেন্ট হয়েছে দুদিন আগে । হসপিটালাইজড ও । প্রথম দিন ওখানেই গেছে । ওখান থেকেই ফোন এসেছিলো সেদিন । আর কাল এমনি এমনি বাড়ি ছিলাম না । বাড়িতে থাকলে তোকে লাগতো । তোকে ছাড়া থাকতে পারতাম না । তাই থাকি নি ! আর কিছু ?
মেঘা ফিরে তাকায় । ছলছল পানি দু চোখে । আঁখি কোটর ভরাট । ঠোঁট কাঁপছে ,, কেমন কেঁপে কেঁপে শুধালো অবান্তর এক প্রশ্ন …
” ইভা আপু কে ভালোবাসেন আপনি ?
রৌদ্রের মুখ কুঁচকে আসে সহসা । নেশার টাল উবে যায় । জড়ো করে ফেলে চোখ মুখ । খাদে নামানো নরম কন্ঠ চড়ে যায়…
” হোয়াট দ্যা ফা*ক । কিসব বলছিস ?
” ঠিক বলছি আমি ! ইভা আপুকে এখনো ভুলতে পারেন নি,তাই না ? মনে পড়ে তার কথা ?
” যাকে কখনো মনেই করিনি , তাকে ভোলার প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে ? আর আলাদা করে মনে পড়বেই বা কেনো ! উল্টো পাল্টা বকবি না একদম ।
” আমি বকছি না উল্টো পাল্টা । যা বলছি একদম ঠিক বলছি । আপনি চলে যান আমার কাছ থেকে । কক্ষনো আসবেন না আমার কাছে ! ঐ ইভা আপুর কাছে যান আপনি । আপু যদি ডিভোর্স দেয় , তাহলে তো সুবিধা আপনার । চান্স পাবেন একটা । প্রথম প্রেম সে আপনার ! বড্ড জ্বালা দেয় প্রথম প্রেম ‌। যান , জ্বালা মেটান গিয়ে ।
মেঘার কাঁদো কাঁদো জেদি স্বর । কন্ঠ কাঁপছে অনবরত । রৌদ্র রেগে যায় ‌। কনুই চেপে ওকে টেনে আনে নিজের দিকে । নমনীয় ললিতাঙ্গ আছড়ে পড়ে রমনীর । চিবিয়ে হিসহিসিয়ে ওঠে রৌদ্র….

” ইভারা ,, রাগাবি না আমায় । আর একবার উল্টো পাল্টা কথা বললে থাপ্পর খাবি বলে রাখলাম ।
ওষ্ঠ উল্টায় একবিংশী । ভেজা চোখ নামায় । গাল বেয়ে পানি গড়ায় টপাটপ । কেনো যেনো কষ্ট হচ্ছে বুকে । হাহাকার লাগছে । রৌদ্র কে সহ্য হচ্ছে না অন্যের সাথে । আজগুবি চিন্তা হানছে মস্তিষ্কে ।
ওকে এভাবে কাঁদতে দেখে ছটফট করে ওঠে রৌদ্র । সোজা হয়ে দাঁড়ায় । কোমর বাঁকিয়ে ঝুঁকে আসে । রমনীর উচ্চতা বররার ঝুঁকে মুখ পানে গাঢ় দৃষ্টি পাত করে । বিচলিত হয়ে দুহাতের আজলে মুখশ্রী আগলে নেয় । বলে উদ্বিগ্ন স্বরে…
” এইই ইভারা , কি হয়েছে জান ? ভুল বুঝছো আমায় ? কে কি বলেছে,শুনি ? আমার সুইটহার্ট হঠাৎ এসব বলছে কেনো ?
মেঘা নাক ফুলিয়ে অভিমানী কন্ঠে অভিযোগ করে….
” কেউ কিছু বলেনি । আমি সব জানি । বউ পালিয়ে গেছিলো বলে আপনি নেশার ঘোরে বিয়ে করেছেন আমায় । বিয়ে তো করতে চেয়েছিলেন ঐ ইভা আপুকে । এখনো টান আছে ইভা আপুর উপর ,, তাই না ?
রমনীর অভিযোগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভাব টুকু বুঝলো বেপরোয়া যুবক । আলগোছে চোখের কার্নিশ মুছিয়ে দিলো । মুচকি হাসলো । সন্তর্পণে রমনী কে নিজ বক্ষের আবডালে টেনে নিয়ে বললো….
” ইভা নয় ,, আমি আমার ইভারা কে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম । তোমাকে চেয়েছিলাম আমি ‌। ইউ নো , ইভারা মিন’স গিফট অফ গড । এন্ড ইউ আর মাই গিফট অফ গড । মাই ইভারা…মাই ফার্স্ট লাভ ।
” মিথ্যে বলছেন , আমি আপনার প্রথম ভালোবাসা হতে পারি না । আপনার প্রথম ভালোবাসা তো আপনার ঐ খালাতো বোন ।

” উঁহু ,‌তুমিই আমার প্রথম ভালোবাসা । আমার ইভারা । আমার জান । আমার প্রাণ পাখি । আমার সবকিছু তুমি । শুধু তুমিই , সুইটহার্ট । কেবলই তুমি আর তুমি । তুমিতেই আমার সব । এই রৌদ্রের রৌদ্রময়ী তুমি । আমার অবাধ্যতাকে রুখে দেওয়ার হাতিয়ার তুমি ‌। সুইটহার্ট তুমি আমার । প্রপার্টি তুমি আমার । আমার মিষ্টি বউজান । ভালোবাসি বউ । শুরু থেকেই ভীষণ ভালোবাসি ।
আহ্লাদ পায় একবিংশী । বাচ্চাদের ন্যায় আদুরে হয়ে ওঠে আদুরে আলিঙ্গনে । নিমিষেই ভুলে যায় সব অবাধ্যতা । লোকটার বুকের সাথে লেপ্টে গিয়ে জ্যাকেটের একাংশ খামচে ধরে । বলে মিনমিন করে…

” আপনি জোর করে বিয়ে করেছেন আমায় ?
” জোর করে বিয়ে না করলে তোকে এভাবে নিজের করে পেতাম না !
তৎক্ষণাৎ কোমল প্রত্যুত্তর । মেঘা বোঝে না মানে । আবার বলে একই টোনে….
” আমাকে তো চিনতেন না । নেশায় ছিলেন ।
” উঁহু , চিনতাম ‌। নেশায় ছিলাম না ।
” বিয়ে করলেন কেনো ?
” ভালো লেগেছিলো তোকে !
” শুধু ভালো লেগেছিলো ?
” নাহ , ভালোও বেসেছিলাম ।
” কি করে ? কবে ?
” তা তো জানি না । শুধু জানি ভালোবাসি ! ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি । ভীষণ ভালোবাসি আমি আমার ইভারা’কে । সেই শুরু থেকেই ভালোবাসি । যবে থেকে দেখেছি তবে থেকেই ভালোবাসি । খুব বেশি ভালোবাসি । আই লাভ ইউ, ইয়ার । একটু বোঝার চেষ্টা কর । অনেক বেশি ভালোবাসি তোকে ।

” নাটক করছেন ?
” উঁহু । সত্যিই ! ট্রাস্ট মি…
” তাহলে, পাঁচ বছর আগে আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছিলেন কেনো ? এই পাঁচ বছরে একবারও মনে পড়েনি আমার কথা..? এখন ফিরে এসে সত্যিই নাটক করছেন ?
ওকে জড়ানোর গভীরতা বাড়ালো রৌদ্র । দু’হাতে যতটা সম্ভব শক্ত করে জড়ালো । চোখ বুজে তপ্ত শ্বাস ফেললো । ঠান্ডা উত্তর করলো ….
” আমার মনটাই তো ফেলে রেখে গেছিলাম তোর কাছে । আলাদা করে আর কি মনে করবো ? যদি জানতিস কতটা ছটফট করে কাটিয়েছি এই পাঁচ বছর , তাহলে এখন ফিরে আসার পর এভাবে আর কষ্ট দিতিস না আমায় !
” আমি আপনাকে কষ্ট দিয়েছি , না-কি আপনি আমাকে দিয়েছেন ? তছনছ করে দিয়েছেন আমার জীবনটা ! আপনি জানেন আমার বিষয়ে কিছু ? নাকি চেনেন আমায় ? এই এতো গুলো বছর ধরে কেনো পড়ে আছি আপনাদের বাড়িতে , তা জানেন ? জানার চেষ্টা করেছেন কখনো ? ফিরে এসেও কষ্ট দিয়েছেন আমায় । বারবার আঘাত করেছেন ।

আপনি জানেন , এ জগতে আমার কেউ নেই । আব্বু নেই , আম্মু নেই , বড় ভাইয়া নেই , ভাইয়া নেই । সবাইকে হারিয়েছি ছোট বেলায় । আগুনে পুড়ে মরেছে সকলে । একলা করে রেখে গেছে আমায় । কেউ নেই আমার । সবাই আমাকে রেখে চলে যায় শুধু । ভাইয়াও চলে গেছে , আর শেষে দাদু মনিও ।
থাকার জন্য একটা বাড়ি নেই । একটা ছিলো , আমি আর দাদু মনি থাকতাম ওখানে । কিন্তু যেদিন আপনি আমার জীবনে আসলেন , সবটা এলোমেলো হয়ে গেলো সেদিনের পর । খোঁজ নিয়েছেন আর ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০ (২)

সেদিনের পর দুদিনের মাথায় দাদু মনিও চলে যায় । আমি একলা হয়ে গেছিলাম পুরো । কই, আপনাকে তো পাশে পাইনি । আপনিও আমাকে একলা রেখে চলে গেছিলেন । কেনো গেছিলেন আপনি ? গেছিলেন যখন, তখন ফিরে আসলেন কেনো ? কেনো এভাবে দূর্বল করে দিলেন আমায় ? কেনো ? আমি তো ঘৃণা করতাম আপনাকে । তাহলে কেনো এতো কষ্ট হয় আমার ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫২