ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৫
মেহজাবিন নাদিয়া
গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে শক্ত হাত রেখে গভীর মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করছে সারিম।তার পাশে বসা অরির বুকের ভেতর তখন চলছে অন্যরকম এক তোলপাড়। সে অনবরত নিজের দুহাত কচলাচ্ছে, টেনশনে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের রেখা জমে উঠেছে। মেয়েটা কিছুক্ষণ পরপরই আড়চোখে সারিমের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু সারিমের সম্পূর্ণ মনোযোগ রাস্তায়। দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে যাওয়ার পরও যখন সারিম একটা কথাও বলল না, তখন অরি আর নিজের কৌতুহল চেপে রাখতে পারল না। সে নিজেই নীরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করে উঠল,
_”সারিম, আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?”
সারিম সামনের দিকে তাকিয়েই খুব সংক্ষেপে ছোট উত্তর দিল,
_”বাড়িতে।”
অরি যেন আকাশ থেকে পড়ল। কিছুটা আঁতকে উঠে বলল,
_”বাড়িতে মানে?”
সারিম শান্ত গলায় বলল,
_”তোমাকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে আমি অফিস চলে যাবো।”
কথাটা শোনামাত্রই অরি ভীষণ ঘাবড়ে গেল। ও প্রায় চিৎকার করে বলে উঠল,
_”না! আমি বাড়ি যাবো না।”
সারিম এবার সামান্য ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
_”কেন?কি সমস্যা।”
_”আমার একদম ইচ্ছে করছে না বাড়ি যেতে। আমাকে প্লিজ আপনার সঙ্গে নিয়ে চলুন না!”
অরি দুই হাত জোড় করার ভঙ্গিতে অনুনয় করল।
সারিম মুখ ঘুরিয়ে এবার বউয়ের দিকে তাকাল। মেয়েটার চোখে-মুখে স্পষ্ট এক ভীতি কাজ করছে। অরির মনের এই দোলাচল আর অস্থিরতা বুঝতে সারিমের এক মুহূর্তও সময় লাগল না। ও হালকা হেসে বলল,
_”এত ভয় পাচ্ছো কেন, জান? কিছুই হবে না তোমার। রেজাল্ট অলরেডি চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন আর বাবার কাছে বকা খাওয়ার কোনো চান্স নেই।”
অরি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়িয়ে বলল,
_”কিন্তু আমার ভয় তো অন্যটা নিয়ে, সারিম!”
কথাটা শুনে সারিম গাড়িটা রাস্তার একপাশে নির্জন জায়গায় এনে ব্রেক চেপে থামাল। তারপর পুরো শরীরটা অরির দিকে ঘুরিয়ে বসে কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞাসা করল,
_”কী সেটা? আমাকে খুলে বলো।”
অরি মুখটা নিচু করে আঙুল নাচাতে নাচাতে বলল,
_”বাবা এখন নিশ্চয়ই চাইবে আমি মেডিকেল নিয়ে পড়াশোনা করি, কিন্তু…”
সারিম তাড়া দিয়ে বলল,
_”কিন্তু কী?”
_”আমি ডাক্তার হতে চাই, তবে…” অরি আমতা আমতা করতে লাগল।
সারিম একটু হেসে বলল,
_”তাহলে তো হলোই! এত ভয় পাওয়ার কী আছে? তুমিও ডাক্তার হতে চাও, বাবাও সেটাই চান।”
অরি তড়িঘড়ি করে বলে উঠল,
_”আগে আমার পুরো কথাটা তো শুনুন! আমি ডাক্তার হতে চাই ঠিকই, কিন্তু হিউম্যান না… অ্যানিমেল ডাক্তার।”
একটু দম নিয়ে অরি আবার বলল,
_”এখন এই কথা আমি বাবাকে কী করে বোঝাই বলুন তো?”
অরির মুখে অ্যানিমেল ডাক্তার’হতে চায় শুনে সারিম কিছুক্ষণের জন্য পুরো বোবা হয়ে গেল। কথা বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলল সে।তার মাথায় হুট করে একটা কাল্পনিক দৃশ্যপট ভেসে উঠল-শিক্ষামন্ত্রী মৃধা আবরার সারিমের শিক্ষিতা বউ, ওরফে গরুর ডাক্তার অরিয়া ইবনাত অদ্রিজা!
ভাবতেই সারিমের পুরো শরীর কেমন যেন ‘ছেহ’ করে উঠল। ওর চেনা জানা দুনিয়ায় অ্যানিমেল ডাক্তার মানেই সহজ ভাষায় গরুর ডাক্তার। আর শেষমেষ কিনা তার এতো রূপবতী, আদুরে বউয়ের জীবনের ড্রিম এটা! তবে মনে মনে যতই খটকা লাগুক না কেন, বউয়ের ইচ্ছেকে সারিম কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেবে না। আফটারঅল, চারটা না পাঁচটা না, তার একটা মাত্র বউ! তবে এই মুহূর্তে নিজের ভেতরের এই দ্বিধাটা ও অরির সামনে প্রকাশ করতে চাইল না।
সারিমকে এভাবে হা করে চুপ হয়ে থাকতে দেখে অরি বেশ ঘাবড়ে গেল। ও আস্তে করে ডাকল,
_”সারিম… আপনার কী হয়েছে, জান?”
বউয়ের মুখে হুট করে এই ‘জান’ সম্বোধনটা শুনে বেচারা সারিমের আরেকদফা বিষম খাওয়ার দশা হলো! সে শুকনো মুখে জোরে জোরে কাশতে লাগল। অরি মুহূর্ত দেরি না করে একটু এগিয়ে গিয়ে নিজের নরম দুহাতে সারিমের মুখটা তুলে ধরল। ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করল,
_”কী হয়েছে আপনার? এভাবে কাশছেন কেন?”
সারিম নিজের কাশিটা কোনোমতে সামলে নিয়ে সোজা অরির চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
_”বউ, তুমি কি কোনোভাবে ডেড ফিল গাজা খেয়েছো? হঠাৎ জান ডাকছ যে!”
মুহূর্তের মধ্যে সারিমের এই কথায় অরির মারাত্মক রাগ উঠে গেল। ও এক ঝটকায় সারিমের মুখ থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে একদম দূরত্বের শেষ সীমানায় গিয়ে বসল। মুখটা ঘুরিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল।
সারিম বুঝতে পারল বউকে এই সিরিয়াস মুহূর্তে এসব বলা একদমই ঠিক হয়নি। অভিমানী বউকে মানাতে সে নিজেই সিট বেল্ট খুলে অরির দিকে এগিয়ে গেল। অরিকে কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়েই ও এক টানে মেয়েটাকে নিজের কোলে বসিয়ে নিল। অরি শক্ত হয়ে রইল, কোনো কথা বলল না, শুধু মুখটা ফুলিয়ে রাখল।
বউয়ের এমন অভিমান দেখে সারিমের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।সে আর দেরি না করে টুপ করে অরির দুই গালে দুটো গভীর চুমু খেয়ে অত্যন্ত নরম গলায় বলল,
_”আই অ্যাম সরি, জান।”
সারিমের এমন আদুরে ব্যবহারে অরি মুহূর্তেই গলে যেন জল হয়ে গেল। কিন্তু সে নিজের ভেতরের সেই ভালোলাগাটা সারিমকে একদমই বুঝতে দিল না। শক্ত ভাব ধরে রাখার চেষ্টা করল।
সারিম অরির কোমরে হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গভীর গলায় বলল,
_”তোমার স্বামী তোমাকে প্রমিস করছে চন্দ্রিমা, যেকোনো মূল্যে তোমাকে ওই কী যেন বললে… গরুর ডাক্তার নাকি অ্যানিমেল ডাক্তার,যাই হোক!ওটাই বানিয়ে ছাড়ব। দুনিয়ার কেউ আটকাতে পারবে না।”
সারিমের কথায় অরি আর নিজের খুশি চেপে রাখতে পারল না।সে এক মুখ হেসে সারিমের চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
_”সত্যি বলছেন? আপনি সত্যিই আমাকে সাহায্য করবেন?”
সারিম ওর নাকের ডগায় নিজের নাকটা ঘষে দিয়ে বলল,
_”বউয়ের জন্য করব না তো কার জন্য করব, বলো?”
অরি খুশিতে একদম আত্মহারা হয়ে সারিমের গলা জড়িয়ে ধরল এবং ওর গালে টপাটপ কয়েকটা অনাকাঙ্ক্ষিত চুমু দিয়ে দিল। বেচারা সারিম বউয়ের কাছ থেকে সকাল সকাল এমন অভাবনীয় উপচে পড়া আদর পেয়ে ভেতরে ভেতরে যেন ফেটে পড়ার উপক্রম হলো। অরি পরম আবেশে সারিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।সারিম অরির চোখের দিকে তাকিয়ে ওর চেনা সেই বাঁকা হাসিটা হাসল। তারপর বলল,
_”তবে এর জন্য একটা সত্য আছে, বউ।”
অরি কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করল,
_”কী সত্য! আবার?”
সারিম অরির বুক বরাবর তাকালো,গভীর নজর ফেলে ফিসফিস স্বরে বলল,
_”এখন থেকে সারাজীবন তোমাকে আমার ‘লালী’ হয়ে থাকতে হবে। আমার যখনই ক্রেভিংস জাগবে, তখনই যেন আমি ওটা পাই। এই শর্তে রাজি থাকলে বলো, নয়তো আমি কিন্তু এসবের মধ্যে নেই।”
সারিমের এমন খোলামেলা লজ্জাকর কথা শুনে অরি মুহূর্তে পুরো লাল-নীল হয়ে গেল। লোকটা যে তার কাছে এমন একটা আবদার করে বসবে, তা সে কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি। লজ্জায় এখন সারিমের দিকে মাথা তুলে তাকানোর বিন্দুমাত্র সাহস ওর নেই।সারিম বউয়ের এই লাল হয়ে যাওয়া লজ্জা মাখা মুখটা দেখে আরও একটু বাঁকা হেসে জিজ্ঞেস করল,
_”আমি কিন্তু এখনো আমার উত্তর পাইনি, চন্দ্রিমা।”
অরি একদম মিনমিন করে সারিমের বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে বলল,
_”রাজি… তবে আমারও একটা সত্য আছে।”
সারিম শব্দ করে হেসে ফেলল। মনে মনে ভাবল, ওর বউটা দিন দিন একদম ওর মতোই তৈরি হচ্ছে!অরি এবার সারিমের দিকে তাকিয়ে আবদারের সুরে বলল,
_”আমাকে এখন আপনার সঙ্গেই অফিসে নিয়ে চলুন, আমি প্লিজ বাড়ি যাবো না। বাড়িতে আমার ভীষণ বোরিং লাগে। তার ওপর… আপনার মাকে আমার ভীষণ ভয় করে।”
নিজের মায়ের কথা শুনতেই সারিমের এতক্ষণের হাসিখুশি মুখটা মুহূর্তেই বদলে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে ঝুলে পড়ল তার। চোখের কোণে ভেসে উঠল জিঘাংসা। মনে মনে ভাবল, ওই মহিলার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা এবার দ্রুত করতেই হবে। ওর নিষ্পাপ বউকে ‘অনাথ’ বলে অপমান করার উসুল নেওয়া এখনো সারিমের বাকি আছে। সেই হিসেব ও কড়ায়-গণ্ডায় চুকিয়ে ছাড়বে।
তবে অরির সামনে নিজের সেই হিংস্র রূপটা আনল না সারিম।অরির কথায় রাজি হয়ে আলতো করে মাথা দোলাল। অরি খুশিতে আবারও সারিমের গলা জড়িয়ে ধরে তার বুকে মিশে গেল। সারিম আর অরিকে নিজের কোল থেকে নামাল না, ঐ অবস্থাতেই বউকে শক্ত বাহুডোরে আগলে নিয়ে একহাতে পুনরায় গাড়ির গিয়ার শিফট করে ড্রাইভ করতে শুরু করল।
সারিম অরিকে নিয়ে অবশেষে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের সামনে এসে পৌঁছাল। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি আসা মাত্রই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঝটপট মেইন গেট খুলে দিল। গাড়ি ভেতরে ঢুকতেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই মন্ত্রীকে স্যালুট ঠুকল।
গাড়ি থামলে অরি আর সারিম দরজা খুলে নিচে নামল। অরি বেশ কৌতূহল নিয়ে চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। এর আগে সে কখনো শিক্ষামন্ত্রনালয় সামনাসামনি দেখেনি। অথচ তার নিজের জামাই-ই শিক্ষামন্ত্রী, ভাবতেই অরির ভেতর একটা অন্যরকম অনুভূতি হলো। এদিকে আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই মন্ত্রীর গাড়ি থেকে এত কম বয়সী একটা মেয়েকে নামতে দেখে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। চারদিকে মৃদু ফিসফিসানি শুরু হয়ে গেল।
অরি চারপাশের চাকচিক্য দেখায় এতটাই বিভোর ছিল যে, সারিম গাড়ি থেকে নেমে যে হনহন করে আগে আগে হেঁটে চলে যাচ্ছে, তা ওর খেয়ালই ছিল না। কিছুক্ষণ পর যখন সে সম্বিৎ ফিরে পেল এবং পাশে সারিমকে দেখতে পেল না, তখন হঠাৎ করেই ওর বুকটা কেঁপে উঠল। তার ওপর আবার আশেপাশের পুলিশের লোকগুলো একদৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। অরি একটু দূরে চোখ যেতেই দেখল, সারিম বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন অফিসারের সাথে কথা বলতে বলতে হেঁটে চলেছে।
অরি বেচারি একা দাঁড়িয়ে বড্ড নার্ভাস হয়ে পড়ল। আর সেই নার্ভাসনেসের চোটে ও কিছু না ভেবেই আচমকা সবার সামনে বেশ জোরে সারিমকে ডেকে উঠল,
_”সারিমের বাচ্চা, দাঁড়ান!”
অরির মুখে এই ডাক শোনা মাত্রই আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক লোকজন চরম অবাকে পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল! মন্ত্রীকে এভাবে কেউ নাম ধরে, তা-ও আবার ভরা মজলিশে ‘বাচ্চা’ বলে ডাকতে পারে-এটা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল।সারিম অরির গলার আওয়াজ পেয়ে থমকে দাঁড়াল। পেছনে তাকিয়ে বউয়ের চেহারা দেখেই ও পরিস্থিতি বুঝতে পারল। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত পায়ে অরির দিকে এগিয়ে এল। অরির খুব কাছে এসে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
_”কী হয়েছে জান? এনি প্রবলেম?”
অরি সারিমকে সামনে পেয়ে নিজের ভেতরের ভয়টা আড়াল করতে একটু রাগ দেখিয়ে বলল,
_”আমাকে এভাবে একা ফেলে চলে যাচ্ছিলেন কেন?”
সারিম সবার সামনেই একদম অপরাধী কণ্ঠে নিজের দুই কান ধরে আলতো করে টানল। তারপর বলল,
_”সরি বউ! আর হবে না।”
অরি তার চুলে হাত বুলিয়ে বেশ একটু ভাব নিয়ে বলল,
_”ইটস ওকে। নেক্সট টাইম এমন ভুল যেন আর না হয়, মনে থাকে যেন!”
সারিম বাধ্য ছেলের মতো মাথা নেড়ে সায় দিল। এরপর মৃদু হেসে অরির হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে মন্ত্রনালয়ের ভেতরে নিয়ে যেতে লাগল।ওরা ভেতরে চলে যেতেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুই উচ্চপদস্থ শিক্ষা অফিসার নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু করলেন। একজন অফিসার মৃদু হেসে বললেন,
_”দেখলেন ভাই? সব পুরুষই আসলে বউয়ের সামনে ভেজা বেড়াল!হোক সে যত মন্ত্রী মিনিস্টার।”
পাশের জন একটু ভালো করে তাকিয়ে বললেন,
_”মেয়েটার বয়স তো খুব কম মনে হচ্ছে।”
প্রথমজন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
_”আরে ভাই, এটাই তো সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি! এই কমবয়সী মেয়েদের হাতেই আজকাল এই ভেজা বেড়াল বানানোর আসল পাওয়ারটা থাকে।”
ওদিকে সারিম অরির হাত ধরে সোজা নিজের পার্সোনাল কেবিনে নিয়ে এল। অরি কেবিনে ঢুকেই স্বস্তির একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। তারপর কোনো রকম দ্বিধা না করে ডাইরেক্ট গিয়ে সারিমের সেই বিশাল ভিআইপি চেয়ারটাতে ধপাস করে বসে পড়ল।নিজের পা দুটো তুলে দিল টেবিলের ওপর! যেখানে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অনেক ইম্পরট্যান্ট সব ফাইল আর কাগজপত্র রাখা ছিল, যা অরির পায়ের ধাক্কায় একদম লন্ডভন্ড হয়ে গেল।
সারিম নিজের ফাইলপত্রের এই দশা দেখেও বউকে কিচ্ছু বলল না। উল্টো হাসিমুখে এগিয়ে এসে পরম যত্নে অরির পা থেকে জুতোজোড়া সুন্দর করে খুলে নিচে রাখল। তারপর পকেট থেকে নিজের রুমালটা বের করে অরির কপালের জমে থাকা ঘামগুলো আলতো করে মুছে দিল। ঘাম মোছা শেষে ঝুঁকে এসে অরির কপালে একটা ভালোবাসার গভীর পরশ এঁকে দিল। অরি চোখ দুটো বন্ধ করে মনে মনে একটা মুচকি হাসি হাসল।
সারিম অরির দিকে তাকিয়ে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
_”কিছু খাবে বউ? খিদে পেয়েছে?”
অরি চোখ বন্ধ রেখেই মাথা নেড়ে সায় জানাল। সারিম টেবিলের একপাশে থাকা একটা সুইচ টিপতেই,দরজায় নক করে সেখানকার এক পিয়ন রুমে এসে দাঁড়াল। সারিম অরিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
_”কী খাবে,বলো?”
অরি চোখ বন্ধ রেখেই একনাগাড়ে মুখস্থ বলার মতো বলে উঠল,
_”পিজ্জা, বার্গার, পাস্তা,নুডুলস,লেইজ চিপস, ফুচকা, আমের আচার,তেঁতুলের আচার, নাটি বিস্কুট, চকোলেট কেক, সিঙাড়া, সমোসা… আর সাথে একটা ফান্টা আর দুটো স্প্রাইট!”
অরির এই এলাহী খাবারের লিস্ট শুনে সারিম চোখ গোল গোল করে হা হয়ে বউয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। মনে হচ্ছে বউ ওর কাছে কোনো রেস্টুরেন্ট বা মুদির দোকান চাইছে! ওদিকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পিয়নটার অবস্থা আরও খারাপ। অরি যা যা বলছে, তা যেন তার এক কান দিয়ে ঢুকছে আর অপর কান দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এত খাবার একজন মানুষ একসাথে কীভাবে অর্ডার করে, সে ভেবেই আকুল।
অরি এবার চোখ খুলে দুজনকে এভাবে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রচন্ড বিরক্ত হলো। মুখ কুঁচকে বলল,
_”কী হলো? আমার খাবার কই? দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”
অরির ধমকে সারিমের হোঁশ ফিরল। ও ঝটপট পিয়নের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠল,
_”হা করে কী দেখছ? তোমার ম্যাডাম যা যা বলল, জলদি সব এনে হাজির করো। কুইক, ফাস্ট!”
পিয়নটা ভয়ে একটা ঢোক গিলে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,
_”যাচ্ছি স্যার, এখনই আসছি।” বলেই সে কেবিন থেকে প্রায় দৌড়ে পালাল।
লোকটা চলে যাওয়ার পর সারিম অরির পেছনের দিকে গিয়ে আলতো হাতে ওর মাথাটা ম্যাসাজ করে দিতে লাগল।অরির এতে বেশ আরাম লাগলো।সারিম ম্যাসাজ করতে করতেই একটু কৌতুহলী গলায় অরিকে জিজ্ঞেস করল,
_”বউ, এত খাবার তুমি একসাথে সত্যি খেতে পারবে? না মানে… তোমার এই পুঁচকে স্বাস্থ্য দেখে তো বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় নেই যে তুমি এত রাক্ষসের মতো খেতে পারো!”
অরি খিলখিল করে হেসে উঠে বলল,
_”এই অরি ভাত ছাড়া পৃথিবীর সকল জাঙ্ক ফুড আর চটপটা খাবার খেতে অত্যন্ত অভ্যস্ত, বুঝলেন?”
সারিম মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল,
_”হ্যাঁ, তা তো দেখতেই পাচ্ছি। এসব আনহাইজেনিক খাবার খাও দেখেই তো স্বাস্থ্যের এই শুকনো অবস্থা।”
অরি ঠোঁট উল্টে বলল,
_”আপনাকে আমার স্বাস্থ্য নিয়ে একদমই ভাবতে হবে না। ওটার খেয়াল রাখার জন্য আমি একাই একশ।”
সারিম অরির ম্যাসাজ করা থামিয়ে অরির সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর এক হাত কোমরে রেখে বলল,
_”ভাবব না মানে? দুদিন পর এই শরীর নিয়ে তুমি আমার বাচ্চার জন্ম দেবে। আর এখন আমাকেই বলছো আমি যেন না ভাবি? এটা কেমন কথা!”
অরি সারিমের কথা শুনে একটুও লজ্জা পেল না। উল্টো দুষ্টুমির ছলে বলে উঠল,
_”তাতে কী সমস্যা? আপনি আছেন কী জন্য? দরকার পড়লে বাচ্চা আপনার পেটে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসব! তিন মাস আমার পেটে রেখে বাকি সময়টা আপনার পেটে দিয়ে দেব।”
সারিম বউয়ের মুখে এমন অবৈজ্ঞানিক আর অদ্ভুত কথা শুনে অরির কপালে মৃদু একটা ঠুয়া মেরে হেসে ফেলে বলল,
_”একেবারে লজিকলেস একটা বউ পেয়েছি আমি!”
অরিও মিষ্টি করে হেসে সারিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
_”ঠিক আপনার মতো!”
বউয়ের মুখে পাল্টা জবাব শুনে সারিম নিজেও আর হাসি চেপে রাখতে পারল না, শব্দ করে হেসে দিল।
ঠিক তখনি সেই পিয়নটা বড় একটা ট্রলি সাজিয়ে অরির বলা সকল খাবার রুমে এনে হাজির করল। সে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে টেবিলের ওপর পিজ্জা, বার্গার, পাস্তা থেকে শুরু করে আচার, কোল্ড ড্রিংকস সব সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে রুম থেকে চলে গেল।অরি নিজের চোখের সামনে সব পছন্দের খাবার একসাথে দেখে আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ও যেন হাতে চাঁদ পেয়ে গেছে! সে একটা একটা করে খাবার প্লেটে তুলে বেশ আয়েশ করে গুসগাস করে খেতে শুরু করল। ওদিকে সারিম পাশের একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে একদম হা করে বউয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর এইটুকু বউ যে এত স্পিডে আর এতগুলো খাবার একসাথে সাবাড় করতে পারে, তা বেচারার ধারণার বাইরে ছিল।
তবে এভাবে গাল ফুলিয়ে খেতে থাকা বউটাকে দেখতে মারাত্মক কিউট লাগছিল। সারিম অরির সেই মায়াবী মুখের দিক থেকে নিজের চোখের পলক পর্যন্ত ফেলছিল না।ওভাবেই চুপচাপ বসে বউয়ের খাওয়াটা মন ভরে এনজয় করছিল।সারিমকে এভাবে একদৃষ্টিতে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে,অরি একটু সৌজন্যতা দেখিয়ে একটা চিপস তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“নিন,হা করুন?”
সারিম আলতো হেসে মাথা নেড়ে মানা করে দিল। সে মুখ টিপে হেসে পুনরায় নিজের চেয়ারে হেলান দিয়ে বউয়ের এই রাক্ষুসে খাওয়া দেখার উৎসবে মগ্ন হয়ে রইল।
কিছুক্ষন পর সারিমের কেবিনের দরজায় মৃদু নক হলো। অরির খাওয়া শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সে এখন পেট পুরে খেয়ে বেশ আরাম করে সারিমের কেবিনের নরম সোফাটায় শুয়ে শুয়ে ফোনে ক্যান্ডি ক্র্যাশ গেম খেলায় মগ্ন। আর সারিম নিজের ডেস্কে বসে মনোযোগ দিয়ে জরুরি কিছু ফাইলে চোখ বুলাচ্ছিল। দরজায় আওয়াজ পেয়ে সারিম ফাইল থেকে চোখ না তুলেই গম্ভীর গলায় বলল,
_”কাম ইন।”
অনুমতি পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করল আলভি। আলভিকে এতদিন পর দেখে সারিম বেশ খুশি হলো। সে ফাইলের পাতা উল্টানো থামিয়ে আলভির দিকে তাকিয়ে ওর হাতের খবরাখবর নিল। আলভি হাত এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং সে কাজে ফেরার জন্য একদম ফিট। সারিম আলভিকে নওমির ব্যাপারে কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে গিয়েও হঠাৎ সোফায় শুয়ে থাকা অরির দিকে চোখ পড়তেই আর কথা বাড়াল না, চুপ করে গেল। তবে আলভির মলিন মুখ আর চোখের চাউনি স্পষ্ট বলে দিচ্ছে-বেচারা ভেতর থেকে একটুও সুখে নেই,আলভি সারিমের টেবিলের ওপর একটা ফাইল এগিয়ে দিয়ে পেশাদারী গলায় বলল,
_”আজকে বারোটার দিকে আপনার একটা ইম্পরট্যান্ট মিটিং আছে স্যার। আমি বেশ কয়েকবার আপনার সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আপনি ফোন তোলেননি।”
আলভির কথা শুনে সারিম নিজের হাতের ঘড়ির দিকে তাকাল। ঘড়ির কাঁটা এখন এগারোটা পঁচিশ ছুঁইছুঁই। তার মানে মিটিং শুরু হতে হাতে এখনো আরও পঁয়ত্রিশ মিনিট সময় বাকি আছে। সে ফাইলটা টেনে নিয়ে আলভিকে বলল,
_”ঠিক আছে, তুমি গাড়ি রেডি করো। আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি।”
আলভি মাথা নিচু করে,
_”জী স্যার” বলে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
আলভি চলে যেতেই সারিম চেয়ার ছেড়ে উঠে সোফায় শুয়ে থাকা অরির দিকে এগিয়ে গেল। অরি এতক্ষণ গেম খেলার পাশাপাশি তাদের দুজনের সব কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। সারিমকে কাছে আসতে দেখে সে সোজা হয়ে বসে হাতের ফোনটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
_”নিন আপনার ফোন, মিটিংয়ে তো লাগবে।”
সারিম হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিল না। ওটা অরির হাতের মুঠোয় আবার পুশ করে দিয়ে মৃদু হেসে বলল,
_”না, ফোনটা তোমার কাছেই রাখো। ওটা দিয়ে গেম খেলো, নয়তো এখানে একা একা তোমার বড্ড বোরিং লাগবে।”
এরপর সারিম একটু ঝুঁকে পরম আদরে অরির কপালে একটা চুমু খেল। ওর উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়া পেতেই অরি চোখ বুজল। সারিম ওর গালটা আলতো করে ছুঁয়ে বলল,
_”মিটিং শেষ করে আমার আসতে একটু লেট হতে পারে, জান। তুমি সময়মতো দুপুরের লাঞ্চটা করে নিও। আমি বাইরে পিয়নকে সব বলে রেখে যাচ্ছি, ও তোমার পছন্দের খাবার এনে দেবে।”
অরি লক্ষ্মী মেয়ের মতো মাথা নেড়ে সায় জানাল। একটু আবদারের সুরে বলল,
_”ঠিক আছে, তবে কাজ শেষ করে জলদি চলে আসবেন কিন্তু!”
সারিম অরির মুখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল। বলল,
_”চেষ্টা করব জলদি ফেরার। বিকেলে তোমাকে একটা সুন্দর জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাব।”
ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে অরি খুশিতে একদম চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল,
_”সত্যি? কোথায় নিয়ে যাবেন বলুন না!”
সারিম এবার একটু হেসে বলল,
_”উঁহু, ওটা এখন বলা যাবে না। ওটা সারপ্রাইজ, সিক্রেট থাক।”
অরি ঠোঁট উল্টে বলল,
_”তার মানে জায়গাটা অনেক বেশি স্পেশাল, তাই তো?”
সারিম ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
_”সেটা ওখানে গেলেই নিজে চোখে দেখতে পাবে। এখন আমি আসি,কেমন?”
কথাটা বলেই সারিম অরির মাথায় আরেকবার আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল এবং দ্রুত পায়ে কেবিন ছেড়ে মিটিংয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল। সারিম চলে যাওয়ার পর অরি কেবিনের দরজাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলে আবার সোফায় আরাম করে শুয়ে পড়ল এবং ফোনের স্ক্রিনে ধুমধাম ক্যান্ডি ফাটাতে শুরু করল।
বিকেল তিনটের দিকে মিটিং শেষ করে সারিম আলভির সঙ্গে রেস্তোরাঁ থেকে বের হচ্ছিল। ঠিক তখনি অসাবধানতাবশত একজনের সঙ্গে সারিমের জোরে ধাক্কা লাগে। সারিম বিরক্তিতে একটা ‘চ’ শব্দ উচ্চারণ করে। তারপর পাশে ফিরতেই থমকে গেল সারিম। এত বছর পর এই মানুষটাকে এভাবে হঠাৎ চোখের সামনে দেখে সে বিস্ময়ে একদম কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল।
ওদিকে আলভি নিজেও মেয়েটাকে দেখে চিনে ফেলল এবং অবাক হয়ে পাশে থাকা সারিমকে কনুই দিয়ে একটা গুতা মেরে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,
_”স্যার, এটা সেই চুন্নি না? যে কিনা এক রাতে আপনার সবকিছু লুটপাট করে ভেগেছিল?”
সারিম মুখে কিছুই বলতে পারল না, শুধু চোখ দুটো সরু করে তাকিয়ে রইল। এদিকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনুপমা সারিমকে এতোবছর পর সামনাসামনি দেখে ভয়ে পুরো জমে গেল। ওর হাত-পা কাঁপতে শুরু করল।একটা শুকনো ঢোক গিলে ওখান থেকে কোনোমতে পালাতে চাইল। কিন্তু সে এক পা বাড়ানোর আগেই পেছন থেকে আলভি ক্ষিপ্র গতিতে গিয়ে ওর চুলের বেনুনিটা শক্ত করে খপ করে ধরে ফেলল। তারপর চেঁচিয়ে বলে উঠল,
_”স্যার, ধরছি বেটিকে! এই চুন্নি সেদিন আপনার এত সুন্দর গোল্ডের ওয়াচটা নিয়ে ভেগেছিল। এখন দেখুন কেমন সাধু সেজে পালাতে চাচ্ছে!”
আলভির কথায় সারিমের মনে হঠাৎ পাঁচ বছর আগের সেই পুরনো ঘটনাটা ভেসে উঠল। তখন বড়ই অসহায় ভেবে অনুপমাকে নিজের বাড়ির কাজের লোক হিসেবে রেখেছিল সারিম। ভেবেছিল মেয়েটা অনাথ, থাকার বা খাওয়ার কোনো জায়গা নেই, তাই দয়া করে আশ্রয় দিয়েছিল। তবে বেডি ছিল আস্ত একটা কুফা! কাজ তো ঠিকমতো পারতোই না, উল্টো সারাদিন ভুলভাল কাজের জন্য সারিমের কড়া কড়া গালি খেত।তবে হঠাৎ কী যে হলো, চাকরি করার এক বছরের মাথায় একদিন সারিম বাড়িতে ছিল না। আর এই সুযোগে মেয়েটা সেদিন তার ঘর থেকে সমস্ত দামি দামি পারফিউম, চুলের জেল, ব্র্যান্ডেড ড্রেস থেকে শুরু করে ওয়াশরুমের দামি সাবানটাও চুরি করে চম্পট দিয়েছিল! তবে সেসবে সারিমের ততটা গায়ে লাগেনি, যতটা কষ্ট লেগেছিল নিজের প্রিয় গোল্ডের ওয়াচটা চুরি হওয়ায়। পরে সারিম বাড়ি ফিরে সিসিটিভি ফুটেজে অনুপমার সেই চুরির সমস্ত ভিডিও নিখুঁতভাবে দেখতে পেয়েছিল।পুরনো রাগটা মাথায় চাড়া দিয়ে উঠতেই সারিম তেড়ে এসে অনুপমার উদ্দেশ্যে রেগেমেগে বলে উঠল,
_”তুই আজ শেষ কাজের ঝি! এই আলভি, এটাকে একদম ছাড়বি না!”
আলভি পেছন থেকে বেনুনি আরও শক্ত করে টেনে ধরে বলল,
_”জী বস, একদম টাইট দিয়ে ধরেছি।”
সারিম রেস্তোরাঁর স্টাফদের কাছ থেকে চেয়ে একটা চিকন লোহার লাঠির মতো কিছু একটা নিজের হাতে তুলে নিল। ওর হাতে লোহার লাঠি দেখে অনুপমা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে কেঁদে ফেলার মতো হয়ে বলল,
_”প্লিজ সারিম ভাই, আমাকে ছেড়ে দিন! দয়া করুন।”
সারিম লাঠিটা বাতাসে ঘুরিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে উঠল,
_”তোকে আজকে ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না! এক্ষুনি আমার সবকিছু যা যা চুরি করেছিলি, তার সব ফেরত দে চুন্নি!”
অনুপমা ভয়ে একটা বড় ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,
_”ঐগুলো… ঐগুলো তো এখন আর আমার কাছে নেই, সারিম ভাই।”
সারিম অনুপমার দিকে রাগে লাঠিটা তেড়ে নিয়ে যেতে যেতে চিৎকার করে বলল,
_”কস কী তুই! ঐ নডি, তুই আমার লাখ টাকার ঘড়ি বেচে খেয়ে নিলি? তুই আজ শেষ, তোকে আস্ত রাখব না!”
অনুপমা দুই হাত জোড় করে বলল,
_”সারিম ভাই, প্লিজ মারবেন না! আপনার সব জিনিস আমি কষ্ট করে হলেও ফেরত দেব, আমাকে শুধু একটু সময় দিন।”
সারিম লাঠি দিয়ে ওর দিকে ইশারা করে বলল,
ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৪
_”তোকে খুব ভালো করে চেনা আছে আমার! সময়ের নাম করে এখান থেকে আবার ভেগে যাওয়ার প্ল্যান করছিস, তাই না ফকিন্নি ঝি?”
পাশ থেকে আলভিও ফোড়ন কেটে বলে উঠল,
_”স্যার, একদম একে বিশ্বাস করবেন না! আপনার জিনিসের সঙ্গে সঙ্গে আমার এক্সের দেওয়া প্রিয় ব্র্যান্ডেড জুতো জোড়াও এই চুন্নি চুরি করেছিল। আজ এর একদিন কি আমার একদিন!”
